কোরানে ব্যবহৃত সাংকেতিক অক্ষর সমূহ অবোধ্য বিষয় নয়
আমার এই লেখাটি মূলত সর্বসাধারনের পাঠযোগ্য নহে। যাহারা একটি বিশেষ ভাবধারায় গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কোরান বুঝিতে চাহেন আমার এই লেখা তাহাদের জন্য অপাঠ্য। আমার লেখা মূলত আমাদের দলীয় লোকদের জন্য এবং যাহার উচ্চতর চিন্তা-চেতনায় উদ্বুদ্ধ সত্য সন্ধানী তাহাদের জন্য। কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলকে ইচ্ছা করে কোন কিছু লিখিতে চাহিনাই। কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন। কোরানে ব্যবহৃত সাংকেতিক অক্ষর সমুহ অবোধ্য বিষয় নয়ঃ
কোরানের দ্বিতীয় সুরা- সুরা বাকারা প্রথম অক্ষর আলিফ লাম মিম (الم)। এই বিচ্ছিন্ন অক্ষরগুলোকে ‘হরফে মোকাত্তায়াত’ বলা হয়। ‘হরফে মোকাত্তায়াত’ অর্থ, সাংকেতিক অক্ষর। কোরানের ১১৪ টি সুরার মধ্যে ২৯টি সুরার প্রারম্ভে এইরুপ সাংকেতিক অক্ষর বাবহৃত হইয়াছে। বলা হইয়া থাকে ইহা আল্লাহ ব্যতিত আর কেহ জানেনা। ইহা হতেই শুরু হইয়াছে মুসলমান জাতির গোমরাহী। মুসলমান জাতিকে জ্ঞান থেকে বহুদূরে সরিয়ে রাখা হইল। কিছুই জানার দরকার নাই, শুধু কোরান পড়ে যাও, ইহাতেই হাজার পূণ্য। অতিরিক্ত জানতে চাওয়া ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি, আর ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি আল্লাহ পছন্দ করেন না। ছোট থেকে সবাইকে এমনটি শিখানো হয়ে থাকে। তাই আর মুক্ত চিন্তা থেকেও দূরে সরে যেতে থাকে মুসলমান জাতি।
কিন্তু প্রশ্ন হল, কোরান যদি মানুষের জন্য হয় তাহলে কোরানে এমন কিছু কথা বা বানী কেন থাকবে যা মানুষ জানিবে না, বুঝিবেনা? কোরান বলছে কোরান বিজ্ঞানময়ী…শুধু বিজ্ঞানময়ী বলাটাও ভুল বরং মহা বিজ্ঞানময়ী (সুরা ইয়াসিন)। আর যাহা বিজ্ঞানময়ী তা অবশ্যই যুক্তি সম্পন্ন। আর এই যুক্তি খুজতে গেলেই পড়ে যত গালাগালি (ছেলে কাফের হয়ে গেছে, মুনাফিক), মিথ্যা অপবাদ, এমনকি ঘাড়ের উপর মাথাটা রাখাটাও অসম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ কোরান মানুষকে যুক্তি নির্ভর হতে বলছে (৬:১০৪-১০৫; ১৬:৪৪,৬৪ দ্রষ্টব্য)। মহানবী কর্তৃক ইসলাম প্রচারের চৌদ্দশ বছর পর, এখন আমরা যাহারা পৃথিবীতে বেঁচে আছি, আমাদের দূর্ভাগ্য এই যে, আমরা নবীজিকে দেখি নাই, সাহাবীদের দেখা সাক্ষাত পাই নাই, এমনকি তাবে-তাবেঈনদের দেখা সাক্ষাত ও তাঁহাদের কথা বার্তা শুনিতে পাই নাই। এখন ধর্মকে সঠিকভাবে বুঝিয়া তাহা সুষ্ঠভাবে পালন করার জন্য আমাদের সামনে রহিয়াছে একমাত্র অবলম্বন পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরান। সেই কোরানেই যদি এমন কিছু কথা থাকে বা বানী থাকে যাহা মানুষকে জানিতে বুঝিতে দেওয়া হল না-তবে এই দুঃখ রাখিব কোথায়? অথচ মহিমান্বিত আল্লাহ পাক মানুষের পথ প্রদর্শনের জন্য কোরান নাজেল করিয়াছেন এবং তাহাতে ঈমান রাখার আদেশ দিয়াছেন। কিন্তু কোন অবোধ্য বাক্যের উপর পরিপুর্ন ঈমান আনা বা যথার্থ সত্য বলিয়া বিশ্বাস করা কি সম্ভব?
অনেক আলেম সাহেবরা বলে থাকেন কোরান বুঝতে নবিজীর হাদিস দেখতে হবে, হাদীসকে অবলম্বন বা হাদীস থেকে তার ফয়সালা বের করতে হবে। কোরানের ব্যাখ্যা হাদীস। ইহা মারাত্নক এক ভূল। হাদীস কখনো করানের বুঝিবার মানদন্ড হতে পারেনা। বরং হাদীস কোনটা সত্য কিংবা মিথ্যা তা কোরান দ্বারা বিচার হবে। আবার হাদীস সংগ্রহ শুরু হওয়ার বিষয়টা এক বিশাল ব্যপার। হাদীস সংগ্রহ শুরু হয় নবিজীর ওফাতের ২০০ বছর পর থেকে। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে বসে আমরা ১৯৭১ সালের যুদ্ধের আসল ইতিহাস জানতে পারিনা। আর ভেবে দেখুনত সেই সময় ২০০ বছর পর যত সতর্কতার সাথেই হাদীস সংগ্রহ হোকনা কেন তার সত্যতা কতটুকু হতে পারে? যদিও এই সকল হাদীস সংগ্রহ বিষয়টা নিয়ে আলোকপাত পরে অন্য একটি লেখায় দিব আশা রাখি। তাহলে মিথ্যার যে আবরন আমরা পড়ে আছি হাজার রঙ চাকচিক্য দিয়ে তা উলংগ হয়ে যাবে। তবে সেই ক্ষেত্রে বলে রাখছি সত্য সহ্য করতে পারে এমন লোকই পড়বেন। কেননা দেখা যাবে আমরা যে ধর্ম ইসলাম বলে চালিয়ে যাচ্ছি আসলে তা মোহাম্মাদী ইসলাম নয় বরং তা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সৌদি শাসকদের ভাড়া করা আলেমদের দ্বারা লিখিত হাদিস, কোরানের তফসির ব্যতিত কিছুই নয়। সেই নবিজীর ওফাতের পর হতেই কিভাবে এই শিশু মোহাম্মাদী ইসলামকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করা হয়, কিভাবে এই ধর্মকে রাস্তায় সকলের ব্যবহৃত পন্যের মত করে আনা হয়। রাগ হবেননা। এই ইতিহাস সবার সামনে তুলে ধরব যদি আমার রব আমার উপর সহায় হন, এবং চিন্তাশীল সত্য সন্ধানী মানুষ জানতে চায়।
যাইহোক যা বলছিলাম, পাকিস্তান আমলের দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক, তুখোর সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবীদ মাওলানা আকরাম খাঁ সাহেব তাহার ‘কোরান শরীফ’ নামক তফসির গ্রন্থে লিখিয়াছেন, “এইখানে সংক্ষেপে এইটুকু জানাইয়া রাখিতেছি যে সাধারন তফসীরকারকগনের এই সিদ্ধান্ত ও দাবী সম্পুর্ন অযৌক্তিক ও অসমীচীন। মানুষকে বুঝাইবার জন্য আল্লাহ পাক কোরান নাজেল করিয়াছেন ও তাহাতে ঈমান রাখার আদেশ দিয়াছেন। কোন অবোধ্য বাক্যের উপর ঈমান আনা বা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করা মানুষের পক্ষে আদৌ সম্ভব হইতে পারেনা।”
মাওলানা আকরাম খাঁ সাহেবের অভিমত সুস্পষ্ট, যথার্থ ও যুক্তিপূর্ন। এই বিষয়ে আমরা জ্ঞানীদের নিকট হইতে যাহা জানতে পারিয়াছি তাহা হইলঃ এইগুলি লম্বা স্বরে টানিয়া টানিয়া সুর লয় দিয়া পড়িবার কোন বিষয় নয়, এইগুলোর প্রত্যেকটির এক একটি আপন বৈশিষ্টে বৈশিষ্টমুন্ডিত।
আলেফ-লাম-মীম শব্দ তিনটি, মদ আছে দুটি। আলিফ ও লামের উপর একটি বড় মদ এবং শুধু মীমের উপর আছে একটি মদ। এখন আমরা জানি যেই শব্দের উপর যত বড় মদ আছে সেই শব্দটি তত লম্বা করে পড়তে হবে। কিন্তু এখানে আমরা দেখতে পাই পড়ার সময় সবাই তিনটি শব্দ আলাদা আলাদা করে পড়ছে। কিন্তু এখানে দেয়া আছে আলিফ ও লামের একসাথে একটি বড় মদ এবং শুধু মীমের উপর একটি বড় মদ। তাহলে পড়া উচিত আলিফ আর লাম একসাথে মিলাইয়া পড়া। আর আলিফ ও লাম এক সাথে পড়লে যা দাঁড়ায় তা হল ‘আল’। ‘আল’ শব্দের বাংলা অর্থ বংশধর। মীম অক্ষরটি দ্বারা বুঝানো মোহাম্মাদ। তাহলে সম্পুর্ন দাঁড়ায় আলে মীম, বা মোহাম্মদের বংশধর। মোহাম্মাদের বংশধর বুঝাইতে বলা হয় মোহাম্মাদী গুনে গুনাম্বিত মানুষ। এখানে মীম মোহাম্মাদের প্রতিক। এখন কোরান পড়ে দেখুনত? পরবর্তি সকল কিছুই বিবেকে কিভাবে চপাঘাত করে। আমরা যা এতদিন শিখে এসেছি, জেনে এসেছি পালন করে এসেছি তা সবই ভুল বের হতে থাকবে। মোহাম্মাদ (সঃ) এর ধর্ম কি বলেছে আর আমরা কি করে আসছি। সবই একভুলের খাতা। কোরানের প্রথমেই আমরা ভুল দিয়ে শুরু করি। আমাদের মিথ্যার ভিতর জন্ম, মিথ্যাতেই জীবন অতিবাহিত করে থাকি, আর মিথ্যাতেই মৃত্যু মুখে পতিত হই।
যা বুঝাতে চেয়েছি তা হল কোরানের সকল কিছুই এই মানুষের জন্য, মানুষ মানুষকে চিনবে, জানবে তথা নিজেকে চিনবে জানবে, নিজের আত্নার উন্নতি সাধন করবে তাই এই কোরানের নাজিল। এখানে এমন কোন কথা বানী থাকতে পারেনা, যা মানুষের বোধগম্য হতে না পারে। ইয়াজিদের (কারবালার ময়দানে মাওলা ইমাম হোসাইন (আঃ) এর সাথে যুদ্ধকারী ও কতল কারী সেইসময়কার শাসক) আমল থেকে কোরানের সংকলন, সম্প্রসারন অধিক অধিক তফসীর করা হয়েছেত, তাই আজ মানুষ সত্য থেকেই বহু দূরে। মুসলমান ঘরে জন্মালেই মুসলমান হয়ে গেল, ইহা সম্পুর্ন রূপে বানোয়াট। একজন পরিপূর্ন হিন্দু হতে সাধনা চাই, একজন খৃষ্টান হতে সাধনার দরকার। তেমনই একজন মুসলমান হতে সাধনার প্রয়োজন। সাধনা দ্বারা অর্জন করতে হবে। সাধনার দ্বারা হিন্দু, মুসলমান, খৃষ্টান হতে হয়। সবই এক আল্লাহর প্রদত্ত ধর্ম। যাইহোক মানুষ আছে কোরান আছে, মানুষ নাই কোরান নামাজ রোজা কিছুই নাই। মানুষকে বুঝতেই কোরান। আর সেই মানুষ এর কাছে যদি এই কোরান বুঝতে যদি অক্ষম থাকে, তাহলে আর কোরান কেন?
ধরুন-কোন ব্যক্তি একটা লোককে একটা তরল পাত্রে কিছু তরল পদার্থ দিল, পানিও হতে পারে, বা তেলও হতে পারে। তাহলে আপনে কী করবেন, নিয়ে দাঁড়িয় থাকবেন? ায় দিবেন নাকি খাবেন? আল্লাহ কি তাঁর বান্দাদের সাথে এরূপ কাজ কি করতে পারেন? … চলবে

ইনি আরেক গবেষক, ভেজাল সৃষ্টিকারী। কই থিকা যে কী সব আজব জিনিস বার করে নিয়ে আসেন। কিছুটা (অনেকটা) শিয়া প্রভাবিত কিন্তু কাহীনি আবল-তাবল।
“তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।” (সূরা আল-ইমরান আয়াত-৭)
যাইহোক, তুষার সাহেবের মত, এই সাহেবের ব্যাপারে লেখকদের আমার পক্ষ থেকে সাবধান বানী, সতর্ক হন। রেফারেন্স সহ সব কিছু চেক করে নিয়েন।
1ধন্যবাদ। সুন্দর লেখা। সাথে আছি। আরো লিখুন। (F)
2আপনি কি সুফী, এই আপনাদের মত মানুষের জন্য-ই আজ সুফিজমের এই অবস্থা। তা আপনি কোন তরিকা ফলো করেন?
যে তরিকাই করেন না কেন আপনি যে বিপদগামী তা সহজেই বুঝা যায়।
_________________
3ফারুক ভাই যে কি জন্য আপনার পক্ষে গেলেন বুঝলাম না। উনি তো কুরান-আনলি।
“হাদীস কখনো করানের বুঝিবার মানদন্ড হতে পারেনা। বরং হাদীস কোনটা সত্য কিংবা মিথ্যা তা কোরান দ্বারা বিচার হবে। ”
সহমত।
4@Fuad,এখানে পক্ষ , বিপক্ষ নেই। এখানে সবাই হয় মুসলমান নয় মানুস। মুসলমান দাবী করলেই কিন্তু মুসলমান হওয়া যায় না। এখানে লেখক কোরানের কথা বলেছেন যুক্তি দিয়ে। যতটুকু বলেছেন , আমার ভালো লেগেছে। সেকারনেই সাপোর্ট দিয়েছি। আপনি ও যুক্তির কথা বলুন। আপনাকেও সাপোর্ট দেব।
5“তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।” (সূরা আল-ইমরান আয়াত-৭)
- হ্যলো মর্ডান ইসলামিক স্কলার, এই আয়াতকে কিভাবে ইগনর করবেন?
6@r_ramiha,
লেখক:”আমার লেখা মূলত আমাদের দলীয় লোকদের জন্য এবং যাহার উচ্চতর চিন্তা-চেতনায় উদ্বুদ্ধ সত্য সন্ধানী তাহাদের জন্য”
>>যতদূর জানি, কোরান অনুসারীদের তো কোরানে ‘মুসলিম’ ছাড়া আর কোনো দলভুক্ত হবার কথা বলা নেই!”আমাদের দলীয় লোকদের দ্বারা” আপনি কাদের বোঝাতে চেয়েছেন, খোলাস করা যায়?
বিশ্বাস আর জানা দুটি জিনিষের মধ্যে সবাই আস্তিক-নাস্তিক সবাই ঘোরপাক খায়। দুটি ভিন্ন জিনিষ।বিশ্বাসের ব্যাপারে আস্তিকরা সৎ একারণে যে তারা স্বীকার করে আর নাস্তিকদের মধ্যে বিশ্বাস জিনিষটা থাকা সত্বেও তারা অস্বীকার করে।আমরা যা জানি তা বিশ্বাস নয়, তবে জানা জিনিষগুলি বিশ্বাসের সহায়ক হিসাব কাজ করে।কোরানের আল্লাহকে না দেখেই বিশ্বাস করতে হয়।
“Say: He is Allah, the One and Only(112:1)”
“Allah, the Eternal, Absolute(112:2)”
“He begetteth not, nor is He begotten(112:3)”
“And there is none like unto Him(112:4)”
কোনো Natural Law একে সজ্ঞায়িত করতে পারে না। ঈমানের দূর্বলতার কারণে কিছু মানুষ তার অবয়ব দেয়, যেমন হিন্দু, বৌদ্ব, খৃষ্টান ও প্যাগানদের গড। কোরানকে বুঝে পড়ার প্রতি তাগিদ দেয়া হয়েছে:
“And We have indeed made the Qur’an easy to understand and remember: then is there any that will receive admonition?(54:17)”. এছাড়া (54:22, 54:32, 54:40).
“Surely We have revealed it– an Arabic Quran– that you may understand(12:2)”
“And if We had made it a Quran in a foreign tongue, they would certainly have said: Why have not its communications been made clear? What! a foreign (tongue) and an Arabian! Say: It is to those who believe a guidance and a healing; and (as for) those who do not believe, there is a heaviness in their ears and it is obscure to them; these shall be called to from a far-off place(41:44)”
“We sent not a messenger except (to teach) in the language of his (own) people, in order to make (things) clear to them. Now Allah leaves straying those whom He pleases and guides whom He pleases: and He is Exalted in power, full of Wisdom(14:04)”
“Do they not then earnestly seek to understand the Qur’an, or are their hearts locked up by them? (47:24)”
প্রথমত আল্লাহতে বিশ্বাস তাকে না দেখেই।আর আমাদেরকে জ্ঞান অর্জনের তাগিদ দেয়া হয়েছে এই বিশ্বাসের সহায়ক হিসাবে।কিন্তু এই জ্ঞান আমরা জানতে পারব যতটুকু আমাদের দেয়া হয়েছে।কোরান নাযিল হয়েছে কি শুধু মানুষের জন্য?এটা তো কোরানে বর্ণিত জ্বিনদের জন্যও।
“I have only created Jinns and men, that they may serve Me(51:56)”
তারা আমাদের কতটুকু জানে তা আমরা জানি না, তবে আমরাও তো তাদের ব্যাপারে তেমন কিছুই জানি না।আমাদের কি এই জ্ঞান দেয়া হয়েছে, অথবা কতটুকু দেয়া হয়েছে, messenger ছাড়া।
“He (alone) knows the Unseen, nor does He make any one acquainted with His Mysteries,(72:26)”
“Except a messenger whom He has chosen: and then He makes a band of watchers march before him and behind him(72:27)”
“He it is Who has sent down to thee the Book: In it are verses basic or fundamental (of established meaning); they are the foundation of the Book: others are allegorical. But those in whose hearts is perversity follow the part thereof that is allegorical, seeking discord, and searching for its hidden meanings, but no one knows its hidden meanings except Allah. And those who are firmly grounded in knowledge say: “We believe in the Book; the whole of it is from our Lord:” and none will grasp the Message except men of understanding. (03:07)”
লেখক: অথচ কোরান মানুষকে যুক্তি নির্ভর হতে বলছে (৬:১০৪-১০৫; ১৬:৪৪,৬৪ দ্রষ্টব্য)।
>>সহমত।
লেখক:হাদীস কখনো করানের বুঝিবার মানদন্ড হতে পারেনা। বরং হাদীস কোনটা সত্য কিংবা মিথ্যা তা কোরান দ্বারা বিচার হবে।
>> কোরানই প্রথমে আসে, এব্যাপারে মুসলিমদের মধ্যে কোনো তফাৎ আছে বলে তো মনে হয় না।হাদিস অথবা যা কিছুই কোরানের সাথে সাংঘর্ষিক হবে তাই বর্জনীয় হবে তাতে নতুন কি আছে!!
7এখানে নতুন; কিভাবে Reply দিতে হয় এখনো বুঝতেছিনা। যাইহোক- সুরা ইমরানের ৭ নং আয়াতের কথা অনেকেই বলেছেন, কিছুটা আলোচনা করব পরবর্তী লেখায় “ধর্ম ডাকাতি”। পড়বার নিমন্ত্রন রইল।
তবে যারা প্রথমেই সব বুঝে ফেলেছি, জেনে গেছি এই রকম একটা বিশ্বাস মনে ঢুকে গেছে, আর নতুন যাই আসুক গ্রহন করা যাবেনা, তারা দয়া করে পড়বেন না। কেননা আমার এই লেখা হয়ত একদম নতুন হবে। আবার যাদের ধর্ম নিয়ে অতি বাতিক আছে তারাও দয়া করে পড়বেন না। শুধু শুধু বিভ্রান্ত সৃষ্টি করবেন না। প্রথমেই বলে দিয়েছি ইহা সবার জন্য নয়।
তাও কিছু বলি: কোরানূল হাকীমের অনেক কথাই রুপক করে ব্যবহার করা হয়েছে। রুপক অর্থ বুঝে পাঠ করলে এর সৌন্দর্য ও গভীর জ্ঞান তত্ত্ব ফুটে উঠবে। রূপক কি আর সমূজ্জল অর্থ কি তা জানা চাই। ওহী কালাম প্রকাশ রুপক ভাবে- বাইরে একটি আবরন দিয়ে। একই আয়াতে দুই ধরনের অর্থ আছে- একটি আসল সত্য, অপরটি কাঠামোগত। আসলকে বলা হয় মোহকামাত, আর রুপক কে বলা হয় মোতাশাবেহাত। আয়াত ভাগ হবেনা, ভাগ হবে অর্থ। মানে যা আসল উহাতেই রপুকের আবরন। কিন্তু অবাক কান্ড হল তথা কথিত আলেমরা আয়াতকেই দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছে। আবার কেউ কেউ একটু অন্য ভাবে বুঝেন- “মদ মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এটা বুঝাতে এক বিশেষজ্ঞ দল বেশ পরীক্ষা নিরিক্ষা করে কিছু মদ্যপায়ী ব্যক্তিদের দেখালেন একটা পরীক্ষা দ্বারা। দুইটি গ্লাসে একটির ভিতর পানি রাখলেন, অপরটির ভিতর এসিড রাখলেন। তারপর দুইটি গ্লাসের ভিতর দুইটি কেচো ছেড়ে দিলেন। পানির কেচো স্বাভাবিক ত্থাকল, আর এসিডের ভিতর রাখা কেচো স্বাভাবিক ভাবেই পুড়ে শেষ হয়ে গেল। তারপর ডঃ সাহেব বললেন যে নিশ্চয়ই তোমরা বুঝেছ যে মদ আমাদের কিরকম ক্ষতি করে? তখন এক মদ্যপায়ী বলল হ্যা আমরা বুঝেছি- এখন থেকে বেশি বেশি মদ খেতে হবে তাহলে পেটের ভিতর যত কৃমি আছে তা নষ্ট হয়ে যাবে”। সুতরাং কেউ যদি রুপককে এই ভাবে বুঝেন তাহলে কিছু বলার নেই।
8Shams@ :অনেক কিছুই বলে গেলেন, ধন্যবাদ। জানিনা আমার লেখার সাথে সবগুলোর কেমন মিল আছে।
দলিয় লোক বলতে যারা মুলত যারা সত্য জানতে চায়, গবেষনায় আসতে চায়, যাদের খোদা মানুষের ভিতর, মানুষের সাথে, নিজের ভিতর খোদাকে চেনা ও জানার দূঃসাহস রাখে- তাদের কথা বলতে চেয়েছি। আরো আছে পড়তে থাকুন বুঝবেন হয়ত। এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান এর কথা বলিনি। সত্য সবার জন্য হবে।
আমি ঈমান নিয়ে আলোচনা করিনি। এখানে আপনে অনেক অফটপিক নিয়ে এসেছেন যদিও ঘুরিয়ে পেচিয়ে আমার টপিকে আনা যায়। তবে সেটা নিয়ে এখন কথা না বলি। এতে মূল আলোচনা থেকে ছিটকে যেতে হবে।
আমার টপিক হল: কোরানে যেই সাংকেতিক চিহ্ন দেয়া আছে তা মানুষও জানে, এবং তা জানার বিষয়। কেননা মানুষকে জানার জন্য কোরান, তাই যদি মানুষই না জানে তাহলে কিভাবে হবে? রুপক আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেনা, আর গ্যনীরা তা অনুধাবন করে, আমরা একটা হাদিস জানি: সেটা হল- মান আরাফা নাফসাহু, ফাকাদ আরাফা রাব্বাহু”-যে তার নিজেকে চিনল, সে তার রবকে চিনল। তাই কেউ যদি তার রবকে চিনতে পারে তার জন্য ঐ রুপক আয়াত জানা অসম্ভব কিছু না। যদিও একধরনের আলেমরা এই হাদিস কে জাল, বেদাত বলে ছুড়ে ফেলে দিতে চায়। কেননা মানুষকে তারা ঘৃনা করে খোদাকে পেতে চায়, মুলত তারা ভোগি, লোভি, কামুক-”নজরুল”।
আপনে আমার টপিক এর সাথে সহমত না হলে দু:খ নাই। আপনার স্বাধীনতা। আমার ইহা মনে হয়েছে, তাই লিখেছি। একান্ত আমার চিন্তা। কাউকে আঘাত দেয়া উদ্দেশ্য নয়। না মানলে পড়বেনা। তবে কথা হল এমন কোন শব্দ, বর্ণ কোরানে থাকতে পারেনা যা মানুষের বোঝার বাইরে হবে। তাহলে তা মানুষের জন্য প্রেরিত হতে পারেনা।
আর ভাই, জ্বীন এর কথা আনলাম না, তাদের কি হবে কি হবেনা, সেটা নিয়ে যাচ্ছিনা, আপনে যেতে চাইলে যেতে পারেন, অবশ্যই সাধুবাদ থাকবে। আমরাও জানব আপনার গবেষনা। আমি মানুষ তাই মানুষ নিয়ে কথা বলছি। ধন্যবাদ।
9ফারুক@:-ধন্যবাদ।
10