সদালাপ: দেশী-বিদেশী বাংলাদেশীদের -জার্নাল

Shodalap: An inclusive e-journal for Bangladeshis at home and abroad
 

 

 

 

 

মডারেটরের ভ্রান্তিবিলাস

এম ইউ আমান

কয়েকটি ওয়েব সাইটে মুক্তমনার লেখা বিনা অনুমতিতে প্রকাশ করার ব্যাপারে ফরিদ আহমেদ তার 'বাসভূমির চৌর্যবৃত্তি' লেখাটিতে যে কথাগুলি বলেছেন, সেগুলি মনযোগের দাবিদার।  এ বিষয়ে আগেও বেশ কিছু আলোচনা নেটে হয়েছিল (সদালাপ বনাম ভিন্নমত)। বাংলা ভাষা ও বাংলা কম্পিউটিং এর প্রসারের পক্ষে অনেকগুলি ওয়েব পত্রিকা কাজ করে। এটি আনন্দের ব্যাপার কিন্তু অন্য ওয়েব সাইটে প্রকাশিত লেখা না বলে বা রেফারেঞ্চ না দিয়ে নিজের পত্রিকায় ছাপিয়ে পত্রিকার কলেবর বৃদ্ধি করা কোন কাজের কথা নয়। এতে না পাঠক নতুন কিছু জানতে পারেন, না হয় বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি, না হয় সেই পত্রিকাটির সুখ্যাতি। যাহোক, ফরিদ আহমেদ তার লেখায় সদালাপকেও নিয়ে এসেছেন। তার ভাষায়ঃ

এতো গেল বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লেখা না বলে নেওয়ার কাহিনী এর বাইরেও ওয়েবসাইটগুলোর আরেক কাহিনী আছে আপনার লেখা ছাপায়নি তারা, অথবা আপনিই সেখানে পাঠাননি কিন্তু অন্য কোন একজন অন্য কোথাও প্রকাশিত আপনার কোন লেখা নিয়ে আপনাকে মনের সুখে ধোলাই করছে সেখানে একবার হঠা করে দেখি সদালাপে মোঃ মোস্তফা কামাল নামে এক ভদ্রলোক আমার কোন এক লেখার বিষয়বস্তু নিয়ে আমাকে বাকশালী, ইসলাম বিদ্বেষী, ভারতের দালাল, এবং এর পেইড এজেন্ট বানিয়ে আচ্ছামত গালমন্দ করে চলেছেন আমি কিভাবে বাকশালী হলাম তা অবশ্য আমি নিজেও জানিনা বাকশাল কি জিনিষ সেটা আমার স্মৃতিতে পর্যন্ত নেই বাকশালের জন্ম এবং তার অকাল মৃত্যুর সময়কালীন সময়ে আমি যে নিতান্তই দুগ্ধপোষ্য বালক ছিলাম সেটা বোধহয় মোস্তফা কামাল সাহেবের জানা ছিল না এর এজেন্টের মতো এতো গোপনীয় বিষয়ও বা তিনি জানলেন কি করে সেটাও এক বিস্ময় বটে যাই হোক, আমি মেইল করে সম্পাদক মোহাম্মদ আমান উল্লাহ সাহেবকে জানালাম যে, যে লেখার ভিত্তিতে কামাল সাহেব আমার জাত পাত উদ্ধার করছেন সেই লেখাটা কিন্তু আমি সদালাপে পাঠাইনি কাজেই আপনি দয়া করে নৈতিকতার খাতিরে ওই সমালোচনাটি আপনার ওয়েবসাইট থেকে তুলে নিন আমার মেইল পেয়ে তিনি মনে হয় আকাশ থেকে পড়লেন জানালেন, আপনার লেখা আমরা ছাপি নাই তাতো জানি না সমালোচনা যেহেতু ছাপা হয়েই গেছে ওটা আর তুলে নিতে পারবো না আপনি বরং আপনার লেখাটা তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দিন বুঝুন ঠেলা! আগে লেখক তার প্রকাশিত না হওয়া লেখার জন্য পিটুনি খাবেন, তারপর তিনি কেন পিটুনি খেলেন সেটা জায়েজ করার জন্য লেখাটা সেখানে পাঠাবেন এর আগ পর্যন্ত পাঠকরা জানবেনই যে কি কারণে ওই বেচারাকে এভাবে লেংগি মারা হচ্ছে বলিহারি বুদ্ধি বটে! তবে আমান উল্লাহ সাহেব যে কাজটি করেছিলেন সেটার জন্য উনাকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতেই হয় উনি মোস্তফা কামালের সমালোচনাটির উপর একটা নোট দিয়েছিলেন উনাকে সতর্ক করে দিয়ে তবে সেই লেখাতে সূক্ষ্ণ একটা চালাকি করেছিলেন এই বলে যে, আমরা জানতাম না যে মূল লেখাটি সদালাপে ছাপা হয় নাই (কেমন আলাভোলা সম্পাদকরে বাবা! কে জানো? নিজের পত্রিকায় কি ছাপা হয় তাই তিনি জানেন না) জানার সাথে সাথেই লেখককে অনুরোধ করেছিলাম লেখাটি পাঠানোর জন্য, কিন্তু তিনি তা পাঠাতে রাজী হননি আজকেও সদালাপে দেখলাম মুক্তমনায় পোষ্ট হওয়া অভিজি এর এক লেখাকে আচ্ছামত দলাই মলাই করেছে রায়হান নামের এক ভদ্রলোক আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে, আলাভোলা টাইপের আমান উল্লাহ সাহেব এবারো জানেন না যে অভিজি এর লেখাটি সদালাপে আদৌ ছাপাই হয়নি

অন্য পত্রিকায় প্রকাশিত লেখার সমালোচনা সদালাপ ছাপতে পারবেনা সেটা ফরিদ আহমেদকে কে বলেছে? একটি লেখা যখন প্রকাশিত হয় তখন সেটি আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। যে কেউ সেটির ক্রিটিক করতে পারে এবং যিনি ক্রিটিক করছেন তিনি তার লেখাটি তার পছন্দের পত্রিকায় পাঠাতে পারেন। যার লেখার পর্যালোচনা করা হলো, তিনিও ডিফেন্ড করতে পারেন। সদালাপ যদি তখন সেটি প্রকাশ না করে, তখন তিনি প্রতিবাদ করতে পারেন এবং সদালাপের বিরুদ্ধে পার্শিয়ালিটির অভিযোগ উঠতে পারে। সেরকম অভিযোগ কখনো ওঠেনি। বরং সদালাপ মাঝে মাঝে আপন রুচির সাথে কিছুটা কম্প্রমাইজ করে হলেও লেখকের 'রাইট টু ডিফেন্ড' কে ডিফেন্ড করে তাদের লেখা প্রকাশ করেছে।

ফরিদ আহমেদের একটি লেখার সমালোচনা করে মোস্তফা কামালের লেখা একটি আর্টিকেল সদালাপ ছেপেছে।

ফরিদ আহমেদ তখন সদালাপ সম্পাদককে জানালেন যে তার একটি লেখা, যেটি সদালাপে প্রকাশিত হয়নি, মোস্তফা কামালের লেখা সেটির একটি উত্তর সদালাপে প্রকাশিত দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তিনি ধারণা করছেন এটি অসতর্কতার জন্যে হয়েছে এবং এই ইস্যুটি টেক কেয়ার করার জন্য তিনি অনুরোধ জানাচ্ছেন।

 

Farid Ahmed wrote:
Dear Editor,
I got surprized to see that a reply of my recent write-up which is not published in Shodalap  by Mr. Mostafa Kamal is posted today. I assume this happened due to a bit of carelessness. May I request you to take care care of this issue? Wish you and Shodalap a happy time.
Thanks,
Farid

সদালাপে অনেক লেখা আসে এবং দু'একটি লেখা ওভারলুক হয়ে যাওয়া বিচিত্র নয়। সম্পাদক ভাবলেন, হয়তো সেরকম কিছু হয়েছে, তিনি ফরিদ আহমেদকে লিখলেনঃ

অনুগ্রহ করে আপনার লেখার একটি কপি দ্রুত পাঠিয়ে দিন। আমি সামান্য ডিজঅর্গানাইজড হয়ে পড়েছিলাম। এটির জন্য দুঃখিত।

On 12/19/06, Editor, Shodalap wrote:
Dear Mr Ahmed
Please send a copy as soon as possible. I got little disorganized. Soory for that.
Regards

এই নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশের পর ফরিদ আহমেদ কি তার লেখাটা পাঠিয়ে দিলেন? অথচ সদালাপ সেটি প্রকাশ করলোনা? জ্বি না, ঘটনা সেরকম না। তিনি লিখলেন যে:

এখন তিনি তার আর্টিকেলটি পাঠাতে আগ্রহী নন। তিনি এপ্রিসিয়েট করবেন মোস্তফা কামালের লেখাটি নামিয়ে নিলে। তিনি মনে করছেন, সদালাপের পাঠকেরা একপেশে ধারণা পাচ্ছে যেহেতু তার লেখা মূল আর্টিকেলটি সদালাপে নেই।

 

Farid Ahmed wrote:
Dear Mr. Aman,
I am not interested to send my article right now. I would appreciate if you please take down Mr. Mostafa Kamal's write-up. I believe Shodalap readers are getting one sided story since the original article are not there.
Have a nice time.
Farid

আবদার দেখুন! সদালাপের সম্পাদক যেন তার মামা লাগে! তার লেখা এখন পাঠাবেন না, কখন পাঠাবেন তাও বলবেন না অথচ সদালাপে অলরেডি প্রকাশিত একটি লেখা নামিয়ে নিতে হবে। ভাবখানা যেন সদালাপ সম্পাদক যা খুশী তাই করতে পারে, অলরেডি প্রকাশিত একটি লেখা নামিয়ে নিলে মোস্তফা কামাল তাকে প্রশ্ন করবেননা, কেন এমনটি করা হোল?

যাইহোক, সদালাপের একটি শিক্ষা সহনশীলতা। ফরিদ আহমেদকে বলা হলোঃ

একবার প্রকাশিত হলে ব্যাক-ট্রাক করা  কঠিন। সেটা যদি করি অনেককিছু ব্যাখ্যা করতে হবে। আপনার যদি খুব অসুবিধা না হয় তবে আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন। তাহলে এটি একটি ব্যালান্সড কাজ হবে (অর্থাৎ ব্যাপারটি আর একপেশে থাকলোনা)।

From: "Editor, Shodalap" Sent: December 20, 2006 7:07:31 AM
It's hard for me to back track - once I posted the article, now if I take it off, I have to explain a lot.
If you do not have much problem, please send yours'. That will be a balanced act for me.
Regards

ভাবছেন, এরপর ফরিদ আহমেদ নিশ্চয়ই লেখাটি পাঠিয়েছিলেন। আফটার অল, তিনি তার লেখায় বলছেনঃ

এই সুযোগে একটা জিনিষ পরিষ্কার করে যাই এখানে আমরা জ্ঞানকে কুক্ষিগত করে রাখতে চাই না মুক্তমনার জন্মই হয়েছে জ্ঞানকে মুক্ত এবং বিকশিত করার জন্য মুক্তমনায় প্রকাশিত যে কোন লেখা যে কেউ ইচ্ছা করলেই যে কোন সময় ব্যবহার করতে পারেন তবে পুনঃ প্রকাশের আগে দয়া করে লেখকের কাছ থেকে অথবা মুক্তমনার মডারেটরদের কাছ থেকে সৌজন্যতাটুকু দেখিয়ে অনুমতিটা চেয়ে নিন আর তাও যদি না করতে চান লেখা ছাপানোর পরে নিদেন পক্ষে ভদ্রতা করে এইটুকু লিখে দিন যে লেখাটি মুক্তমনা থেকে নেওয়া ওইটুকু হলেই চলবে আমাদের আর কিছু চাওয়া নেই আমাদের 

কি চমৎকার সব কথা! কি উদার মানসিকতা! কিন্তু মন মুক্ত করে ফেলাতে, কথায় ও কাজে মিল রাখার যে একটি সাধারণ দায়বদ্ধতা আছে সেটি থেকেও মনে হয় নিজেকে মুক্ত করে ফেলেছেন ফরিদ সাহেব। তার আর্টিকেলটি তিনি পাঠালেন না। তবুও সদালাপে মোস্তফা কামালের আর্টিকেলের নীচে আমরা নোট দিলাম। তিনি এই নোটের ভিতরে এখন প্রায় বছর দেড়েক পরে সুক্ষ চালাকি খুজে পেলেন কারন সম্পাদক নাকি বলেছেন আমরা জানতাম না যে মূল লেখাটি সদালাপে ছাপা হয় নাই…' সদালাপ সম্পাদকের মুখে তার মন গড়া কথা গুজে দিয়ে তাকে কিছুটা ব্যাঙ্গও করেছেন। তবে নোটটি দেয়ার জন্য তিনি সম্পাদককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মন মুক্ত হলেও সব সদগুণ এখনো যায়নি দেখছি। অভিজিৎ রায়ের যে লেখাটির বিষয়ে রায়হান লিখেছেন, সেটি যে সদালাপে ছাপা হয়নি সদালাপ সম্পাদক তা জানেন, কিন্ত সদালাপে অন্য লেখকদের লেখার সমালোচনা করা যাবে কি যাবেনা, সেটি মুক্তমনার ফরিদ আহমেদ আমাদের বলে দেবেন না।

সদালাপে আমরা কন্সট্রাক্টিভ ক্রিটিসিজমকে স্বাগত জানাই। আমরা যদি কোন ভুল করি, অন্যায় করি, পার্শিয়ালিটি করি, অবশ্যই আমাদের বিরুদ্ধে লিখবেন। তবে সদালাপের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কিছু লিখতে হলে অনুরোধ করবো উপযুক্ত প্রমান বা রেফারেঞ্চ দিতে। স্মৃতিনির্ভর তথ্যের উপর ভিত্তি করে, বিদ্বেষপ্রসূতভাবে সদালাপকে ত্যক্ত না করে অন্য কাজে মন দিলে ফরিদ সাহেবের শ্রম ও সময় উপযুক্ত উপযোগিতা পাবে বলে মনে হয়।

সবাই ভাল থাকবেন।

সম্পাদক, সদালাপ

 Your comments

সদালাপ পড়ুন, সদালাপে লিখুন

Published on: June 18, 2008   Cite as: www.shodalap.com/MAU_FA.htm