
Posts by 55muslim:
ফ্যশনের কথা বাদ দাও, ঢেকে চলাতেই মুক্তি
March 12th, 2010
এমনকি অমুসলিম মেয়েদেরও পর্দা করা উচিত…..
মুসলিমদের নিকাব ফ্রান্সে একটা গরম রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিয়েছে – কিন্তু স্টেলা হোয়াইট বুঝতে পারেন না এ নিয়ে এত কথা বলার কি আছে? ইংলন্ডের কেন্টে বসবাসকারী এই ক্যাথলিক ক্রিশ্চিয়ান সম্পূর্ণ ঢেকে চলার আনন্দ ব্যাখ্যা করেন:
অবমুক্ত পশ্চিমাদের কাছে হিজাব অথবা নিকাব হচ্ছে নারীত্বের উপর আরোপিত এক কলঙ্ক। এটা হচ্ছে নারীসত্ত্বাকে পিষে মারার এবং দাসত্বের শৃঙ্খলে শৃঙ্খলিত করার একটা প্রতীক – যা কিনা নারীকে এমন এক নিষ্ক্রিয় মাংসপিন্ডে পরিণত করে, যাকে কেবল তার স্বামীর জন্য খাবার কিনতে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ইংরেজ নারীরা যখন এরকম সব-ঢেকে-চলা কোন নারীর মুখোমুখি হন, তখন তারা তার দিকে এক করুণা ও দুঃখের দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখেন। তাদের জন্য নিকাব হচ্ছে এক জীবিত মরণ। ফ্রেঞ্চ কর্তৃপক্ষ, যারা স্কুলসমূহে হিজাব নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের দৃষ্টিভঙ্গীটাও হয়তো এরকমই যে: স্বল্পবয়সী কোন মেয়েকেই যেন তার তারুণ্যের মাথায় অবদমনের এই বোঝা বয়ে বেড়াতে না হয়।
আমিনাহ্ আস-সিলমির ধর্মান্তরিত হবার কাহিনী
March 8th, 2010ব্লগের এক ভাই আমিনাহ্ আস-সিলমি সম্বন্ধে জানতে চাইলেন বলে লেখাটা তুলে দিলাম। দুঃখিত লেখাটা ইংরেজিতে । আমার হাতে অনুবাদ করে দেয়ার মত সময় নেই । লেখাটা বড় – চাইলে ডাউনলোড করে পরেও পড়তে পারেন ! কাহিনীটা খুবই সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী – আশাকরি পড়ে দেখবেন সবাই !!
The Introduction and Decision
by Aminah Assilmi
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন!
March 8th, 2010بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
السلام عليكم ورحمة الله و بركاته
আমেরিকান ধর্মান্তরিত মুসলিমাহ্ ও প্রখ্যাত “দায়ী” আমিনাহ্ আস সিলমীহ আজ এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন! আল্লাহ্ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন এবং তাঁর পরিবারকে তাঁর মৃত্যুর ক্ষতি ও শোক কাটিয়ে ওঠার সামর্থ দান করুন। আমীন! তাঁর অমূল্য কাজ বিশ্বের শত সহস্র মুসলিমকে অনুপ্রেরণা যোগাতো – যার মাঝে আমার মত সাধারণ মানুষও একজন। তাঁর সম্বন্ধে আরো জানতে দেখুন: ১, ২।
জিহবার রক্ষণাবেক্ষণ করা – ১
March 7th, 2010বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আস সালামু আলাইকুম!
মহান আল্লাহ তা’আলা বলেন:
“মানুষ যে কথাই উচচারণ করে, তার জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে৷” (সূরা কাফ:১৮)
এবং তিনি বলেন:
“অবশ্যই তোমার প্রতিপালক সতর্ক দৃষ্টি রাখেন৷” (সূরা আল-ফজর:১৪)
আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি, আল্লাহকে স্মরণ করার গ্রহণযোগ্য জিকিরের সে সমস্ত পদ্ধতি – যেগুলো আল্লাহ আমার জন্য সহজ করেছেন৷ আমি সেই সাথে একজন মানুষের বক্তব্যের বা কথাবার্তার নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয় দিকগুলো তুলে ধরতে চাচ্ছি৷ সুতরাং, সেগুলোর কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরবো, যা সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলিমের সচেতন থাকা উচিত৷
ইসলামে নারীর অধিকার ও মর্যাদা
February 23rd, 2010মূল বক্তব্যে যাবার আগে অধিকার ও মর্যাদা শব্দ দুটিকে একটু ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন৷ ‘অধিকার’ শব্দটিকে ইসলামী স্কলাররা সবসময় আরেকটি শব্দের সাথে সম্পৃক্ত বলে সনাক্ত করেছেন – সেটা হচ্ছে ‘দায়িত্ব’৷ ইসলামী জীবনবিধান ও worldview-তে তাই যেখানেই অধিকারের প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই দায়-দায়িত্বের কথাও এসেছে! উদাহরণস্বরূপ – একজন পুরুষকে ইসলাম, তার মৃত পিতার সম্পত্তিতে, তার বোনের প্রাপ্য উত্তরাধিকারের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ করার ‘অধিকার’ দিয়েছে – কিন্তু সেই সঙ্গে, ঐ বোন বা মা-কে আমৃত্যু দেখাশোনা করার দায়-দায়িত্বও সেই পুরুষের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে৷ আবার দেখুন, সন্তানের উপর বাবা-মায়ের মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত অধিকার বা হক থাকে, ইসলামী বিশ্বাস মতে বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের যে ঋণ, তা কখনোই শোধ হবার নয় – কিন্তু, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এই অধিকার অর্জিত হয়, সন্তান প্রতিপালনের কঠোর দায়-দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে৷
আন্তঃধর্ম সংলাপ – ২
February 22nd, 2010বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম – আস সালামু ‘আলাইকুম
পশ্চিমা বিশ্বের বস্তুবাদী নাস্তিকরা, তাদের বিশ্বাস হারিয়ে এখন অন্তঃসারশূন্যতার এমন এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, ডুবন্ত মানুষের মত যে কোন খড়কুটা দেখলেই তা আঁকড়ে ধরে ভেসে থাকার জন্য হাত বাড়াতে দ্বিধাবোধ করে না তারা৷ যুক্তরাষ্ট্রের বা যুক্তরাজ্যের বইয়ের দোকানে তাই তান্ত্রিক যৌনলীলা থেকে শুরু করে “লর্ড শিবার” গুণকীর্তন করা বইয়ের ছড়া-ছড়ি৷ যুক্তরাষ্ট্রের একটি টিভি চ্যানেলের খবরে দেখছিলাম: হিন্দুদের দ্বারা পরিচালিত একটি স্কুলে তারা শিক্ষককে “নমস্তে” বলে সম্বোধন করে যে ক্লাস শুরু করে থাকে – এই ধারণাটা ঐ অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা কর্তৃপক্ষের খুব মনে ধরেছে – তারা অন্যান্য স্কুলেও ঐ অভিবাদন রীতি চালু করার কথা ভাবছে৷ “ডমিনেন্ট কালচারের” দাবিদার ‘সাদা-চামড়া’ বস্তুবাদীদের কী করুণ পরিণতি – যিশু খৃষ্টের শিক্ষার চেয়ে পৌত্তলিকদের “নমস্তে” এখন তাদের কাছে অধিকতর মানবিক ও মধুর বলে বোধ হচ্ছে – অথচ, স্বাভাবকি ভাবে আহলে কিতাব হিসেবে, মুসলিমদের অতুলনীয় সুন্দর “আস সালামু ‘আলাইকুম” সম্বোধন তাদের কাছে ভালো লাগবে, এটাই স্বাভাবকি ছিল৷
আন্তঃধর্ম সংলাপ – ১
February 18th, 2010আজকাল পৃথিবী জুড়ে একটা প্রেমময় বাণী প্রায়ই উচ্চারিত হয়ে থাকে – সেটা হচ্ছে: “সকল ধর্মই মানুষকে এক অভিন্ন গন্তব্যের দিকে পরিচালিত করে অর্থাৎ – এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা যিনি – তাঁর দিকেই মানবকুলকে নিয়ে যেতে চায় সকল ধর্ম।” এধরনের বক্তব্যের নিহিতার্থ হচেছ: সব ধর্মের সারকথা একই৷ আমি যখনই কোন বিধর্মীর সাথে ধর্ম নিয়ে আলাপ করতে চেয়েছি, তখনই দেখেছি সত্যি সত্যি বিশ্বাস করেই হোক অথবা peaceful coexistence-এর জন্যই হোক, তারা আলোচনার পরিবেশকে হালকা করতে সব সময় এ ধরনের একটা কথা বলতে চেয়েছে যে, “আসলে সকল ধর্মের মর্মকথা একই – পার্থক্য শুধু অভিব্যক্তিতে বা বাহ্যিক প্রকাশে বা rituals-এ৷” অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, উচ্চশিক্ষিত এক শ্রেণীর মুসলিমও, জেনে হোক বা না জেনে হোক, এ ধরনের ফাঁদে পা দিয়ে থাকেন – বিশেষত সেপ্টেম্বর ১১-র পরে, পশ্চিমা-স্বর্গ থেকে বহিষ্কৃত হবার ভয়ে, পশ্চিমা সামরিক শক্তির ভয়ে, হালুয়া রুটি থেকে বঞ্চিত হবার ভয়ে, অথবা ইসলামের যে ‘স্বাতন্ত্র্য’ আমাদের কাছে নিজের অস্তিত্বের চেয়েও সত্যি হবার কথা, সেটাকে “শান্তির খাতিরে” বুঝেও না বোঝার ভান করতে চেয়ে – অনেকেই এ ধরনের “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই” ধাঁচের মর্মবাণী আওড়েছেন৷
সঠিক পথ কি একটা না অনেকগুলো?
February 3rd, 2010আস সালামু আলাইকুম!
অনেকেই বলে থাকেন যে, যে কোন গন্তব্যে পৌঁছানোর যেমন নানা পথ থাকতে পারে তেমনি, আল্লাহর সন্তুষ্টি বা জান্নাত লাভের জন্য নানা পথ, মত এবং পন্থা থাকতে পারে! কিন্তু কথাটা কি ঠিক? প্রত্যেক মুসলিমের উচিত ব্যাপারটা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। কুর’আনের বহু আয়াতে আল্লাহ্ সিরাতুল মুস্তাকিম বা সরল [তথা সঠিক] পথের কথা বলেছেন এবং বর্ণনা করতে গিয়ে সব সময় এক বচন ব্যবহার করেছেন। যেমন ধরুন সূরা ইউসুফের ১০৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ বলছেন:
Say thou: “This is my Way: I do invite unto Allah – on evidence clear as the seeing with one’s eyes – I and whoever follows me. Glory to Allah! and never will I join gods with Allah!” (Quran 12:108)
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” ঘোষণার শর্ত – শেষ পর্ব
February 3rd, 2010بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
السلام عليكم ورحمة الله و بركاته
আমি বার বার মুসলিম ভাই-বোনদের কাছে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি যে, সাধারণভাবে যে কোন মানুষের, আর বিশেষভাবে “দ্বীন-ইসলামের” অনুসারীদের, অর্থাৎ আমাদের, মুসলিমদের, জন্য “বিশ্বাস” একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় – সব কিছুর আগে বিশ্বাসটা ঠিক করতে হবে। বিশ্বাস হতে হবে জ্ঞান-ভিত্তিক – যে জ্ঞানের ভিত্তি হবে “অহী’ তথা text বা “নস্” – সংস্কার বা উত্তরাধিকার ভিত্তিক নয়। আমি এও বলতে ও বোঝাতে চেষ্টা করেছি যে, বিশ্বাসের ব্যাপার হচ্ছে function-এর মত। আপনার সকল কর্ম-কান্ড হচ্ছে আপনার বিশ্বাসের function বা variable। যে ব্যক্তির সাপ সম্বন্ধে জ্ঞান নেই, যে কখনো সাপ দেখেনি বা আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে “যার মনে বিশ্বাস নেই যে, সাপ একটা বিষধর বা বিপজ্জনক প্রাণী” – সে সাপকে ঐ ধরনের গুরুত্ব দেবে না, যে ধরনের গুরুত্ব দেবে এমন মানুষ, যে কি না চোখের সামনে কাউকে সাপে কামড়ে দেবার পর মরতে দেখেছে!
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্” ঘোষণার শর্ত – ৪
January 30th, 2010পূর্বের আলোচনার ধারাবাহিকতায়…
সপ্তম শর্ত:
শাহাদার সপ্তম শর্ত হচ্ছে এই সাক্ষ্যকে মনে-প্রাণে ভালবাসা। যে শাহাদাকে ভালোবাসবে – সে, এই শাহাদা অনুসারে সব কিছুকে [মূল্যায়ন করবে বা] ভালবাসবে, এই শাহাদার নিহিতার্থ ও করণীয়সমূহকে ভালবাসবে এবং সেই সমস্ত মানুষকেও ভালবাসবে, যারা এই শাহাদা অনুযায়ী জীবনযাপন করেন এবং এর অর্থ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেন। এটা শাহাদার একটি পূরণীয় শর্ত। একজন মানুষ যদি শাহাদা উচ্চারণ করে, অথচ এই সাক্ষ্য যা কিছুর প্রতিনিধিত্ব করে সেসবকে ভাল না বাসে, তবে বলতে হবে যে, তার ঈমান অপূর্ণ এবং তাকে সত্যিকার বিশ্বাসী বলা যাবে না। সে যদি শাহাদা ভাল না বাসে, অথবা, যদি এর বক্তব্যের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে, তবে বলতে হবে যে, সে শাহাদাকে অস্বীকারই করলো। পবিত্র কুর’আনে আল্লাহ্ বলেন:
