
Posts by mariner:
এই হাত দু’টো কবিতা লেখার জন্য সৃষ্টি হয়নি
March 14th, 2010এই হাত দু’টো কবিতা লেখার জন্য সৃষ্টি হয়নি।
এই মস্তিষ্ক কখনো বুদ্ধিবিক্রীর বেশ্যাবৃত্তি করতে চায়নি।
এই মনটা চেয়েছিল নির্ঝঞ্জাট একটা কর্মজীবী জীবন।
হাতুড়ী-বাটাল বা অতি সাধারণ আর কোন যন্ত্রপাতি
ব্যবহারে, নিতান্তই ছা-পোষা জীবিকার কোন আয়োজন।
মনটা চেয়েছিল, প্রকৃতির মাঝে একাকী, নিভৃত, একটা জীবন।
নারীর কোন বিকল্প নেই
March 10th, 2010কেউ কেউ প্রশ্ন করেন: নারী – তোমার প্রতিশব্দ কী?
আসলেই, “নারী”র কি কোন প্রতিশব্দ হয়?
শব্দের বিকল্প প্রতিশব্দ – অনেকের মাঝে এক।
বিধাতার সৃষ্ট জীবনের নিয়মে নারীর তো কোন বিকল্প থাকার কথা নয়-
কথা নয় কোন প্রতিশব্দ থাকার।
তবে এটা ঠিক, চেষ্টা চলছে নারীর বিকল্প দাঁড় করানোর।
পর্ণোগ্রাফি, সিনেমা, গান, নাটক, বিজ্ঞাপনের ছায়া-চিত্রকে
রক্তমাংসের প্রকৃত নারীর বিকল্প হিসাবেই নিবেদন করা হয়।
বললেই হলো? আসলেই নারীর কি কোন বিকল্প হয়??
কেউ কেউ কাব্য করে বলেন নারীর প্রতিশব্দ “শক্তি” ও “সুন্দর”!
আমিও বলি: “তুমি আছো বলেই পৃথিবী এত সুন্দর!”
কিন্তু তাই বলে কি “বিশেষণ” আর “বিশেষ্য” এক হয়ে গেলো??
নারীর তাই কোন বিকল্প নেই, নেই কোন প্রতিশব্দও।
যদি বলতেই হয়, তবে বলবো: শুধু “নারী”ই হতে পারে নারীর প্রতিশব্দ!!
বাঁধ ভাঙার আওয়াজ
March 7th, 2010তোমরা কি জানো শব্দের চেয়ে নৈঃশব্দ হতে পারে
অনেক বেশী শক্তিধর? নৈঃশব্দ ধরে রাখতে পারে
অনেক বেশী কথা – যা শব্দেরা কখনোই পারে না?
বাঁধ ভাঙার সবটুকু আওয়াজই জমা থাকে,
বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা স্থির, নিঃশব্দ পানির বুকে!
সেই পানির তোড়ে হঠাৎ যখন বাঁধ ভেঙে যায়,
শতধা বিভক্ত শব্দ শুনে চমকে উঠি আমরা।
ভুলে যাই, এতদিন নৈঃশব্দের বুকেই, একসাথে,
সঞ্চিত ছিল সকল শব্দ। স্থিরতার মাঝেই বাঁধা পড়ে
সঞ্চিত ছিল সকল গতি। আমরা সচরাচর মুখ খুলতে চাই না বলে,
আমাদের মৌনতাকে তোমরা দুর্বলতা ভেবো না।
হে ঘাতক! (কবিতা)
February 28th, 2010হে ঘাতক! ভেবো না তুমি আমায় কথার মায়াজালে ভুলিয়ে রাখবে।
আমি ঠিকই আমার ভাইয়ের প্রতি বিন্দু রক্তের বদলা চাইবো-
চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত, নাকের বদলে নাক।
তা সে যতদনিই লাগুক! ভেবো না তুমি জনতার একজন হয়ে যাবে-
সময়ের ব্যাবধানে, মিশে যাবে আর সকলের সাথে, সকলের মাঝে।
ঘাতক! আর হুকুমের আসামী ছায়া-ঘাতক! হ্যাঁ তোমাকেও বলছি,
শুনে রাখো: ভেবো না ভাইয়ের সমাধিতে ফুল দিলেই ভুলে যাবো
আমি সব! আর অনায়াসে তুমি আমার ভাই-বন্ধু কিছু হয়ে যাবে!
অপমানে হতে হবে একদিন তাদেরই সমান
February 24th, 2010দেখতে না দেখতেই চলে গেলো একটি বছর।
একে একে ক্যালেন্ডরের বারোটা পাতা ছেড়া হয়ে গেছে।
মনে হচ্ছে এই তো সেদিন, সারা দুনিয়া চেয়ে দেখলো-
বনানীর কবরস্থানে খোঁড়া হলো সারিবদ্ধ কবর।
কেবল দেশকে ভলোবাসার কি চরম মূল্য দিতে হলো,
দেশের জন্য “সব-দিতে-পারা” শ্রেষ্ঠ সন্তানদের।
চাটুকার বুদ্ধিজীবীর দল – যারা কেবল “ড্রয়িংরুম-যুদ্ধে”
মুক্ত দেশকে বার বার মুক্ত করে পদক লাভ করে-
মুখ টিপে হাসলো তারা, আমার ভাইয়ের গলিত লাশের দিকে
বিদ্রুপভরে তাকিয়ে – চাটুকার হতে না পারার পরিণতি দেখে।
খবর বাণিজ্যের বণিকেরা – শোকের নির্লজ্জ ফটো-বাণিজ্য করলো,
আমার ভাইয়ের পিতৃহীন মেয়েদের কবর আঁকড়ে ধরে কান্নার
ছবি ছেপে। আমার ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীকে বার বার ডাকা হলো-
পৃথিবীতে কোথাও তার আর কিছুই নেই, তা মনে করিয়ে দিতে।
মৌসুমী ভালবাসা
February 20th, 2010সারা বছর সময় কাটলো হিন্দি সিনেমা দেখে,
অথবা ভুল শুদ্ধ উচ্চারণে হিন্দি গান গেয়ে।
কখনো কিছুটা বুঝে, কখনো বা না বুঝেই-
ম্যাডোনা, শাকিরা বা মারাইয়া ক্যারির গানে,
মাথা দোলানো বা শাখামৃগসুলভ লাফ-ঝাপ দিয়ে।
হাই, হ্যালো, ওয়াও বলে স্মার্ট হবার চেষ্টা করে,
অথবা লিভাইস ৫০১ আর ৫০৫-এর গল্প করে।
সারা বছর সময় কাটলো হ্যারি পটার পড়ে,
অথবা সাইবার ক্যাফের নিভৃত কোণে বসে,
শয়তানের চিরন্তন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।
এমনকি এই ফেব্রুয়ারীরও প্রথমার্ধও কাটলো
বিজাতীয় কোন এক ভ্যালেন্টাইনের স্তব-স্তুতি গেয়ে।
তারপর হঠাৎ একটা সময় আসে, খোঁজ পড়ে কালো শাড়ী,
কালো শেমিজ কিংবা কালো স্লিভলেস, লিপস্টিকের।
তুমি আর আমি কিছুতেই এক নই
February 19th, 2010তুমি আর আমি কিছুতেই এক নই
যেমন অবিশ্বাস আর বিশ্বাস এক নয়,
আঁধার আর আলো যেমন এক নয়,
অসুন্দর আর সুন্দর যেমন এক নয়।
শোষক আর শোষিত কখনো এক নয়,
যেমন জালিম আর মজলুম এক নয়।
তেমনি শাসক আর শাসিত এক নয়-
অথবা আমলা আর পাবলিকও এক নয়।
সাম্যবাদের পুস্তিকা যাই বলুক না কেন-
নেতা আর গণসাধারণ এক নয়।
“গ্রেট লিডার” অথবা “ডিয়ার লিডার”,
কখনো সাধারণ কমরেডের সমান নয়।
মিথ্যা আর সত্য যেমন এক নয়,
তেমনি সাদা আর কালোও এক নয়।
জোর করে বোঝাতে চাইলে কি হবে,
নারী আর পুরুষ কখনো এক নয়।
কথা ছিল
February 18th, 2010[“এমন তো কথা ছিল না” পড়ে একজন ব্লগার জিজ্ঞেস করেন, “কেমন কথা ছিল?"]
কথা ছিল, তুমি হবে আমার দু’চোখ শীতল করা প্রশান্তি।
তুমি হবে গভীর বনের মাঝখানের ছায়াঘেরা কালো-জল দীঘি
চৈত্রের নির্জন জনশূন্য দুপুরে, নিস্তরঙ্গ কালো জলরাশি যার-
আমি তার শান বাঁধানো ঘাটে বসে, একদৃষ্টে শুধু চেয়ে দেখবো তাকে।
কথা ছিল, কোন কথা না বলেই তোমার সাথে আমার হবে
এক জীবনের ভাব বিনিময় – তুমি আর আমি, পাহাড়ের
পাদদেশে বসে নীরবে চেয়ে থাকবো পাহাড়ের পানে, দেখবো
কি করে মেঘেরা পাহাড়ের কানে কানে বাক্যহীন কথা কয়।
রুখবে আমায় কে?
February 16th, 2010“রুখবে আমায় কে?” – বিজ্ঞাপনে বলা একটা ডাহা মিথ্যা কথা৷
মানুষকে তার সীমাবদ্ধতাই রুখে দেয়, আকাশ দূরে থাক,
ছয়ফুট মানুষ, কিছুতেই নিজগুণে ছুঁতে পারে না দশফুট কার্নিশ!
তবু, এমন মিথ্যা বলেই মিথ্যার বেসাতীর ফাঁদ পাতে বেনিয়ারা-
স্বপ্নের রাজ্যে নিয়ে যায় স্বপ্নহীন মানুষকে, মিথ্যা গল্প ফেঁদে৷
তারপর স্বপ্ন খেয়ে, স্বপ্ন পরেই কেটে যায় – “স্বপ্ন-বন্দীর”
বাকী জীবন৷ এ যেন আফিম, হেরোইন, হ্যাশিসের মতই – মিথ্যা সুখে
চুর হয়ে থাকার আরকেটি শয়তানী আয়োজন৷ মিথ্যা বোধ,
মিথ্যা আশা, মিথ্যা শত্রু, মিথ্যা ভালোবাসা – মিথ্যা প্রেমের
প্রেম-প্রেম খেলা৷ আকন্ঠ মিথ্যা প্রাপ্তি আর মিথ্যা খেতাবের মাঝে
ডুবে থাকা মানুষের তবু কত দম্ভ! নিজের পিঠ চুলকাতে না পারা মানুষেরও
ঈশ্বরের সাথে লড়বার, ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী হবার কি দারুন স্পর্ধা৷
দিবস দিয়ে কি ভালোবাসা হয়
February 14th, 2010দিবস দিয়ে কি ভালোবাসা হয়, নাকি ভালোবাসার কোন দিবস হয়!
তাহলে সবাই ঐ এক দিবসের আয়ুই চাইতো – এক জীবনের নয়।
খুঁজে পেতে কি ভালোবাসা হয়? তাহলে অনেকেই “হিলারী-তেনজিং” হয়ে
এভারেস্টে যেতেও রাজী হতো – প্রেম ভালোবাসা বয়ে নিয়ে আসতে।
ভালোবাসা কি ফুলের তোড়া বা কাঁচের বাক্সে সাজানো কোন কেক/চকোলেট?
অথবা বিজ্ঞাপনের কোন পণ্য, যা পয়সা থাকলেই যে কারো হতে পারে?
তাহলে তো “বিল-গেটস” আর “সরোস”রাই পৃথিবীর সব ভালোবাসা কিনে নিতো!
আর কারও জন্য কি একফোঁটা ভালোবাসা কোথাও পাবার উপায় থাকতো?
