Shodalap

An inclusive e-journal for Bangladeshis for home and abroad
Subscribe

Posts by এস.এম. রায়হান:

    ইসলাম ও কোরআনে বিশ্বাসের ভিত্তি

    March 17th, 2010

    প্রত্যেক ধর্মে বিশ্বাসীরাই যেহেতু এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে সেহেতু এটি একটি কমন বিশ্বাস। অধিকন্তু, এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের স্বপক্ষে ইতোমধ্যে তিনটি স্বতন্ত্র প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে “সৃষ্টিকর্তা আছেন” ধরে নিয়ে যৌক্তিক ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে এই লেখাটিকে বিবেচনা করতে হবে। একটি গ্রন্থ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার বাণী বা রেভিলেশন কি-না- সেটা বিবেচনায় নেয়ার আগে নিদেনপক্ষে দুটি শর্ত পূরণ করতেই হবে:

    শর্ত-১: গ্রন্থটিকে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে দাবি করতে হবে। অর্থাৎ গ্রন্থটি যে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার বাণী- সেটা গ্রন্থের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে লিখা থাকতে হবে। দাবি করাটা কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে গ্রন্থকে সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে দাবিই করা হয়নি সেই গ্রন্থকে আবার সৃষ্টিকর্তার বাণী হিসেবে বিশ্বাস করাটাই তো বোকামি। আগে তো দাবি করতে হবে- তারপরই না কেবল দাবিটা সত্য নাকি মিথ্যা এবং সেই সাথে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন আসবে।

    15 Comments "

    বাইবেলের আলোকে নারী ও দাস-দাসী

    March 13th, 2010

    মিশন্যারিদের মতো প্রতারণা ও ছল-চাতুরির আশ্রয় নিয়ে বাইবেলকে হেয় করার কোন ইচ্ছা নাই। লেখাটিতে বাইবেলের বাস্তবতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র। ইসলামে নারীদের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে মূলত দুটি ধর্মের ক্ষুদ্র কিছু গ্রুপ থেকে অপপ্রচার চালানো হয়। তাদের মধ্যে একটি হচ্ছে ক্রিশ্চিয়ান মিশন্যারিজ গ্রুপ, যারা বিভিন্ন প্রতারণা ও কলাকৌশলের আশ্রয় নিয়ে গরীব ও অজ্ঞ লোকজনকে ধর্মান্তরিত করার জন্য সদা-সর্বদা তৎপর থাকে। এরা ইসলামের অতি তুচ্ছ কিছু বিষয় যেগুলোকে যুক্তি দিয়ে সহজেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব সেগুলোকে রঙ-চং দিয়ে হাইলাইট করে তার সাথে মুসলিম পরিবারে সংঘটিত বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে যোগ করে ইসলামের নামে মিডিয়াতে বারবার প্রচার করে। হাতিকে ছেড়ে তার লেজের কিছু চুল নিয়ে এমনভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে যে, অনেকেই তাদের অপপ্রচারের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়েছেন। কারণ বেশীরভাগ মানুষ হলিউড মুভি আর পশ্চিমা বিশ্বের স্বল্প-বসনা নারীদেরকে দেখে বাইবেলকে বিচার করেন। কিন্তু বাস্তবতা যে ঠিক তার বিপরীত সেটা বাইবেল না পড়লে কারো পক্ষেই অনুমান করা সম্ভব নয়।

    8 Comments "

    নাস্তিকতা একটি অমানবিক বিশ্বাস

    March 8th, 2010

    এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার অনস্তিত্ব যেহেতু কোনকালেই কেউ প্রমাণ করতে সক্ষম হবে না, এবং বেশীরভাগ মানুষ যেহেতু স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসী, এবং তাদের বিশ্বাসের স্বপক্ষে যেহেতু শক্তিশালী যুক্তিও আছে সেহেতু স্রষ্টাকে একটি “প্রতিষ্ঠিত সত্য” হিসেবে ধরে নেয়া যায়। তাছাড়া যৌক্তিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই মহাবিশ্বের যে একজন স্বজ্ঞাত ও বুদ্ধিমান স্রষ্টা থাকতেই হবে তাতে মনে হয় সংশয়-সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। বুদ্ধিমান স্রষ্টার উপর নাস্তিকদের আবার বেশ ক্ষোভ! ঘর পোড়া গরুর মত ‘বুদ্ধিমান’ শব্দটা শুনলেই তারা আঁতকে ওঠেন! তার কারণ হচ্ছে বুদ্ধিমান স্রষ্টা যেমন ন্যায়-অন্যায়ের হিসাব-নিকাস রাখতে সক্ষম তেমনি আবার অপরাধীদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থাও থাকতে পারে। অন্যদিকে বোবা-কালা-অন্ধ-অচেতন প্রকৃতি যেহেতু ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম সেহেতু এই ধরণের প্রকৃতি গডে বিশ্বাসের মজাই আলাদা! চুরি-চামারি-হত্যা-ধর্ষণ সহ যে কোন ধরণের অপরাধ করে সহজেই পার পাওয়া যাবে! বুদ্ধিমান স্রষ্টাকে ভয় পাওয়ার গুরু রহস্য এবার নিশ্চয় পরিস্কার!

    10 Comments "

    নাস্তিকতা একটি অবৈজ্ঞানিক বিশ্বাস

    March 6th, 2010

    সংজ্ঞা অনুযায়ী “গড” বলতে এমন একজন স্বজ্ঞাত ও বুদ্ধিমান সত্তাকে বুঝানো হয়, যিনি এই প্রাকৃতিক মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি এই মহাবিশ্বের ঊর্ধ্বে (Transcendent)। গডের অস্তিত্বে বিশ্বাসীকে বলা হয় আস্তিক, আর গডের অনস্তিত্বে বিশ্বাসীকে বলা হয় নাস্তিক। উদাহরণস্বরূপ, যদিও এই প্রাকৃতিক মহাবিশ্বকে বাস্তবে কোন কিছুর সাথেই তুলনা করা সম্ভব নয় তথাপি যদি একটি ঘড়ির সাথে তুলনা করা হয় তাহলে যারা ঘড়ির নির্মাণকারীর অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন তারা আস্তিক, আর যাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ঘড়ির কোন নির্মাণকারী নাই (!) বা থাকার দরকার নাই (!) তারা নাস্তিক।

    3 Comments "

    ‘বিশ্বাস’ নামক ‘অচ্ছুৎ’ থেকে পরিত্রাণের বৃথা চেষ্টা!

    March 5th, 2010

    কিছু উটকো বিজ্ঞানমনা নাস্তিকদের সুবাদে ‘বিশ্বাস’ নামক শব্দটা হঠাৎ করেই যেন ‘অচ্ছুৎ’ এর মতো কিছু একটা হয়ে গেছে! একদিকে যেমন এই ‘অচ্ছুৎ’ থেকে পরিত্রাণের প্রাণপন চেষ্টা চালানো হচ্ছে, এবং সেটি করতে যেয়ে এমনকি নাস্তিকতাকেও পুনঃসংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে, অন্যদিকে আবার এই শব্দটাকে আস্তিকদের দিকে ঠেলে দিয়ে তাদেরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্রাও কম হচ্ছে না। কিন্তু চাইলেই কি আর সবকিছু থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়! মোটেও না। প্রকৃতপক্ষে সবকিছুই বিশ্বাস-এর উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বাস ছাড়া মানুষ এক ধাপও নড়তে পারে না। এমন ‘উদ্ভট’ কথা শুনে উটকো বিজ্ঞানমনাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো তেড়ে আসবেন। কিন্তু তাতে কোন লাভ হবে না। তেড়ে আসাটা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হবে। সবকিছুই যে বিশ্বাস-এর উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে- তার স্বপক্ষে কোন উদাহরণ দেয়ার দরকার আছে বলে মনে হয় না। কারণ দিনের আলোর মতো সত্যকে যুক্তিবাদী মাত্রই বুঝা উচিত।

    8 Comments "

    “বিশ্বনবীর ডাক্তারী” প্রবন্ধের লেখক আনাসকে খোলা চিঠি

    March 2nd, 2010

    আল মোর্শেদ সাহেবের লেখার সূত্র ধরে ‘আনাস’ নামের এক ব্লগারের “বিশ্বনবীর ডাক্তারী” লেখাটি পড়লাম। সেখানে তার এক ‘তাবলীগী বড় ভাই’ এর নামে একটি কাহিনী ফেঁদে বা অসততার আশ্রয় নিয়ে তাকে না জানিয়ে তার লেখাকে ব্লগে প্রকাশ করে দুটি কাজ করা হয়েছে: (১) তার ‘তাবলীগী বড় ভাই’ এর ঘাড়ে বন্দুক রেখে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে হেয় করা হয়েছে, এবং (২) মুসলিমদেরকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন, পশ্চাৎপদ, ও সেক্স-পার্ভার্ট প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে- বিশেষ করে মন্তব্যগুলোতে। অথচ আনাস নাকি মাদ্রাসার ছাত্র! বাংলাদেশের একজন মাদ্রাসার ছাত্রের কাছেই যদি মুসলিমরা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও পশ্চাৎপদ হয় তাহলে তো পশ্চিমা বিশ্বের মিলিয়ন মিলিয়ন ধর্মান্তরিত মুসলিম সহ দেড় বিলিয়ন মুসলিমদের উচিত হবে এই মুহুর্তে গায়ে গ্যাসোলিন ঢেলে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মাহুতি দেয়া! কারণ সবায় তো এতদিন ধরে বিপরীতটাই জেনে এসেছে!

    4 Comments "

    অজ্ঞতা ও অভিযোগের জবাব-৭

    February 28th, 2010

    প্রশ্ন: ধরা যাক কোথাও কোরআনে নারীদের মর্যাদা ও অধিকার অথবা বৈজ্ঞানিক তথ্য নিয়ে ইসলামে বিশ্বাসী ও অ্যান্টি-ইসলামিক মৌলবাদীদের মধ্যে বিতর্ক হচ্ছে। অ্যান্টি-ইসলামিক মৌলবাদীরা কোরআনের বিরুদ্ধে ইনিয়ে-বিনিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করছেন আর ইসলামে বিশ্বাসীরা কোরআনের আলোকে যৌক্তিক জবাব দিচ্ছেন। একটা পর্যায়ে যেয়ে অ্যান্টি-ইসলামিক মৌলবাদীদের মধ্যে কেউ কেউ এক দৌড়ে পাকিস্তান অথবা আফগানিস্তানে যেয়ে মিডিয়া থেকে দু-একটি অপ্রীতিকর ঘটনা উল্লেখ করে বলবে, “এই দেখুন! ইসলামে নারীদের এই হচ্ছে বাস্তব অবস্থা!” অথবা হয়তো বলবে, “নিদেনপক্ষে একটি দেশের নাম বলুন, যেখানে শতভাগ ইসলাম পালন করা হয়।” আর বৈজ্ঞানিক তথ্যের ক্ষেত্রে বলবে, “কোরানে বৈজ্ঞানিক তথ্য থাকলে মোসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে এত পিছিয়ে আছে কেন! তারা এতদিনে কিছু আবিষ্কার করতে পারেনি কেন! ইহুদী বিজ্ঞানীদের তুলনায় তাদের বিজ্ঞানীদের সংখ্যা এত কম কেন! তারা ইহুদী-নাসারা-কাফেরদের আবিষ্কারের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে কেন!” এই অবস্থায় কী করা উচিত?

    3 Comments "

    লেখার মানোন্নয়নের জন্য কিছু টিপস

    February 27th, 2010

    লেখার উপস্থাপনার উপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। একটি লেখার গুণগত মান ভাল হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র বাজে উপস্থাপনার কারণে পাঠকদের জন্য বিরক্তিকর হতে পারে। এই লেখাতে নিয়ম-কানুন ও সাধারণ ভুল-ভ্রান্তি নিয়ে কিছু টিপস দেয়া হবে, যেগুলো অনুসরণ করলে নিজের লেখার মানোন্নয়নের পাশাপাশি ব্লগের মান এবং সেই সাথে পাঠকদের জন্যও সুবিধা হবে বলেই বিশ্বাস।

    ১। লেখার বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে সুন্দর একটি শিরোনাম নির্বাচন করুন। শিরোনাম যেন এক লাইনের বেশী না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। শিরোনামের শেষে কখনো দাঁড়ি চিহ্ন (।) হয় না। তবে প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?) বা বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) হতে পারে।

    7 Comments "

    কোরআনের আয়াতের অপব্যাখ্যা – (আয়াত ২:১৯১)

    February 25th, 2010

    ৯/১১ নাটকের পর থেকে কোরআনের ২:১৯১ আয়াতের একদম প্রথমাংশের উদ্ধৃতি দিয়ে নিয়মিত দাবি করা হচ্ছে যে, কোরআনে অমুসলিমদেরকে দেখামাত্র হত্যার কথা লিখা আছে। অতএব ইসলাম একটি বর্বর ও সন্ত্রাসী ধর্ম:

    “And kill them wherever ye find them.” (2:191)

    প্রথমত, কোরআনের এই আয়াতে অমুসলিমদের কথা বলা হয়নি। কোরআনে আসলে ‘অমুসলিম’ বলে কোন শব্দই নেই। প্রকৃতপক্ষে এই আয়াতে বিশেষ কোন ধর্মাবলম্বী বা জাতিকেও বুঝানো হয়নি। দ্বিতীয়ত, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে যে অংশটুকু বারবার উদ্ধৃত করা হয় সেটিই এই আয়াতের শেষ নয়। যে কেউ নিরপেক্ষ মনে পুরো আয়াতটি পড়লে সেখানে আত্মরক্ষা ছাড়া অন্য কিছু খুঁজে পাবেন না। তৃতীয়ত, এই আয়াতের প্রসঙ্গ শুরু হয়েছে তার আগের আয়াতে এবং শেষ হয়েছে দুই আয়াত পরে:

    1 Comment "

    অজ্ঞতা ও অভিযোগের জবাব-৬

    February 24th, 2010

    অভিযোগ: হিন্দুরা যেখানে তাদের ধর্মকে সংস্কার করে অনেক আগেই সভ্য, মানবিক, ও কুসংস্কারমুক্ত সেজে বসে আছে সেখানে মুসলিমরা চৌদ্দশ’ বছর আগের অসভ্য, বর্বর, অমানবিক, ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্ম নিয়েই পড়ে আছে কেন!

    জবাব: প্রথমত, যে কোন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মকে সংস্কার করে সভ্য, মানবিক, ও কুসংস্কারমুক্ত সাজলে সেটা তাদের জন্য এবং সবার জন্যই ভাল। দ্বিতীয়ত, এই ধরণের অভিযোগ আসে মূলতঃ কিছু বর্ণবাদী হিন্দু পুরুষদের থেকে। হিন্দু নারীরা সাধারণভাবে এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা বিশেষভাবে যেখানে মানুষ হিসেবে অধিকার ও মর্যাদা পাওয়ার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে নিয়ে ভাবার মতো সময় তাদের কোথায়! তৃতীয়ত, তাদের ধর্মের কোন্ কোন্ কুসংস্কার ও অমানবিক প্রথাকে সংস্কার করা হয়েছে – কীভাবে সংস্কার করা হয়েছে – এবং সেগুলো বা সেরকম কিছু কোরআনে আছে কি-না। যেমন:

    3 Comments "