
Posts by :
প্রকৃত আলেমের পরিচয়-১
February 21st, 2010আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ কেয়ামতে সকল মানুষের তুলনায় কঠোর আযাব সেই আলেমের হবে, যাকে আল্লাহ তায়ালা এলেম দ্বারা কোন উপকার দেননি। তিনি আরও বলেনঃ এলেম অনুযায়ী আমল না করা পর্যন্ত মানুষ আলেম হয়না।
অন্য এক হাদিসে আছেঃ এলেম দুই প্রকারঃ এক মৌখিক এলেম। এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা মানুষকে জব্দ করবেন। দুই, অন্তরস্হিত এলেম। এটাই উপকারী এলেম।
আরও বলেন- শেষ যমানায় এবাদতকারী মুর্খ হবে এবং আলেম পাপাচারী হবে। আরও বলেনঃ আলেমদের সাথে গর্ব করা, বোকাদের সাথে তর্ক করা এবং মানুষের দৃষ্টি নিজের দিকে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে এলেম শিক্ষা করো না। যে এরূপ উদ্দেশ্যে এলেম শিখবে, সে দোযখে যাবে।
জ্ঞান, জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানদানের মাহাত্ম্য-২
February 17th, 2010আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।
জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ নিম্নরূপঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও ঈমানদার সেই জ্ঞানী ব্যক্তি, যার কাছে মানুষ প্রয়োজন নিয়ে আগমন করলে সে তাদের উপকার করে এবং মানুষ তার প্রতি বিমুখতা প্রদর্শন করলে সে নিজেকে বিমুখ করে দেয়।”
তিনি আরও বলেছেনঃ “ঈমান নারাভরণ। তার পোশাক হচ্ছে তাকওয়া (খাদাভীতি), তার মজ্জা হচ্ছে লজ্জা এবং ফল হচ্ছে জ্ঞান।”
এক হাদীসে আছেঃ “মানুষের মধ্যে নবুওয়াতের মর্তবার নিকটতম হচ্ছে জ্ঞানী ও জেহাদকারী সম্প্রদায়।” জ্ঞানী সম্প্রদায় এই কারনে যে, তারা মানুষকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক আনিত কথাবার্তা বলে এবং জেহাদকারীগণ এ কারণে যে, তারা পয়গাম্বরগণের আনীত শরীয়তের জন্যে অশ্বের সাহায্যে জেহাদ করে।
প্রসিদ্ধ কয়েকটি জাল হাদিস – ৫
February 15th, 2010আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
জাল হাদিস- ১২: “দারিদ্র আমার গর্ব, এতেই আমি গর্ববোধ করি।”
দারিদ্রতার ফযীলত সম্পর্কে অনেক হাদিস আছে। কিন্তু এটি নবীর হাদিস নয়। যেমন হাফেজ ইবনে হাজার আসাকালানী রঃ এ হাদিসটিকে মিথ্যা বলেছেন। আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রঃ বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা হাদিস, হাদিসের বিশ্বস্ত কিতাবগুলোতে এর কোন প্রমাণ নেই। আল্লামা সাগানী বলেন, এ হাদিসটি মওযু এবং তিনিতার মওযুআত গ্রন্হে এ হাদিসটিকে উল্লেখ করেছেন। আল্লামী সাখাবী ও মুহাদ্দিস আজলুনী রঃবলেন, ইবনে আদীর বর্ণনায় এটি আব্দুর রহমান ইবনে যিয়াদের বানী বলে প্রসিদ্ধ। (আল-মাকাসিদুল হাসাসন ৪৮০, কাশফুল খাফা ২/৮৭, মওযুআতে সাগানী ৫২)
জ্ঞান, জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানদানের মাহাত্ম্য-১
February 13th, 2010আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।
সুত্রঃ এহইয়াউ উলুমুদ্দিন (১ম খন্ড)। ইমাম গাজ্জালী (রহঃ)
অনুবাদঃ মাওলানা মুহিউদ্দিন খান। মদিনা পাবলিকেশন্স।
কোরআন মজীদে জ্ঞানের মাহাত্ম্য সম্পর্কিত আয়াতসমুহ এইঃ
“ফেরেশতাকুল ও মধ্যপন্হী আলেমগণ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই।”
এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা প্রথম পর্যায়ে নিজের সত্তা, দ্বিতীয় পর্যায়ে ফেরেশতাকুল এবং তৃতীয় পর্যায়ে জ্ঞানীদের কথা উল্লেখ করেছেন। জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব, মাহাত্ম্য ও মৌলিকতা বুঝার জন্যে এতটুকুই যথেষ্ট। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ
“যারা বিশ্বাসী এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা তাদের মর্তবা অনেক উচু করে দেন।”
প্রসিদ্ধ কয়েকটি জাল হাদিস – ৪
February 10th, 2010আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
জাল হাদিস- ১০: “যে ব্যক্তি আশুরার দিন সুরমা ব্যবহার করবে, তার চোখে কোন সময় ব্যথা হবেনা।”
মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী বলেন, মুহাদ্দিস জাকেম হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাঃ থেকে এ হাদীসটিকে রেওয়াত করেচেন এবং তিনি এটিকে মুনকার (মন্দ) বলেছেন। তিনি আরো বলেন, আশুরার দিন সুরমা ব্যবহার সম্পর্কে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোন হাদীস বর্ণনা হয় নাই। বরং এটি হযরত হুসাইন রাঃ এর হত্যাকারীদের আবিষ্কৃত একটি বিদআত। এভাবে এ হাদিসটিকে আল্লামা সাখাবী ও আল্লামা সুয়ুতী মওজু বলেছেন। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন, মানবসমাজে আশুরার দিন ভিত্তিক প্রচলিত সকল কাজ বিদআত। সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদিস দ্বারা এর কোন একটিও প্রমানিত নয়। সাহাবায়ে-কেরাম ও তাবেয়ীনদের যুগে এগুলোর প্রচলন ছিল না। আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলী বলেন, আশুরার দিন সুরমা ব্যবহার করা, দাড়িতে কলপ লাগানো ও গোসল করার হাদীস সমুহ সহীহ নয়। (মাওযুআতে কবির ৬৮, আল-ফতওয়া আল কুবরা ২/২৯৫-৩০১, কাশফুল খাফা ২/২৩৪)
প্রসিদ্ধ কয়েকটি জাল হাদিস – ৩
February 2nd, 2010জাল হাদিস- ৭: “উম্মতের মধ্যে নবীর যে মর্যাদা, কোন জাতি বা সম্প্রদায় তাদের বয়োবৃদ্ধ মুরব্বীরও সেই মর্যাদা।”
আল্লামা সাবায়ী রঃ বলেন, যে হাদিসটি মুহাদ্দিস ইবনে হিব্বান হযরত ইবনে ওমর রাঃ থেকে মারফু হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ হাদীসটি সহীহ নয়। বরং জাল হাদীস। ইমাম ইবনে তাইমিয়া রঃ এ হাদীসের উপর আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস নয়, বরং এটি কোন ব্যক্তির বানী। তেমনিভাবে আল্লাম ইবনে হাজার আসকালানী রঃ এটিকে বানোয়াট বলেছেন। (আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ৪১২, আল-ফাওয়াইদুল মাজমুআহ ২৫৬, কাশফুল খাফা ২/১৭৯)
জাল হাদিস- ৮: ”প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা, তবে ইবাদত সংক্রান্ত হলে আলাদা কথা।”
প্রসিদ্ধ কয়েকটি জাল হাদিস – ২
January 29th, 2010আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
জাল হাদিস- ৪: “সূর্য কিংবা চন্দ্রের আলোতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ছায়া দেখ যেত না।”
বিজ্ঞ রিজাল শাস্ত্রবিদ আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী ও ইমাম আবু যুরআ উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারী আব্দুর রহমান ইবনে কাইস যাফরানীকে মিথ্যুক বলেছেন। ইমাম আবু আলী বরৈন, আব্দুর রহমান মনগড়া হাদীস বর্ণনা করে। ইমাম আবু রঈম ইসফাহানী বলেন, তিনি তো একজন পাত্তাহীন লোক। তাছাড়া তার সম্পর্কে ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম নাসায়ী ও ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রঃ প্রমুখ প্রখ্যাত ইমামগণের কঠোর উক্তি রয়েছে। (তারিখে বাগদাদ, ১০/২৫১-২৫২; মজমুআহ পৃ. ২৩১, ও তাহযীবুত-তাহযীব ৬/২৫৮)
প্রসিদ্ধ কয়েকটি জাল হাদিস – ১
January 26th, 2010জাল হাদিস-১: “স্বদেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ।”
জন্মভূমির প্রতি হৃদয়ের টান, মনের আকর্ষণ মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। এটি একটি মহৎ গুণ। এটি ঈমানের পরিপন্হি নয়। তবে ঈমান ও দেশের প্রশ্ন এলেই ঈমানকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবে উপর্যুক্ত বাক্যটি রাসুলের হাদীস নয়। এর অসারতার বর্ণনা দিতে গিয়ে মুহাদ্দিস ইসমাঈল আজলুনী উল্লেখ করেন যে, ইমাম সাগানী হাদীসটিকে মওজু বলেছেন, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী বলেন, হাফিজুল হাদীসগণের নিকট হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই। মুহাদ্দিস জরকশী বলেন, আমি এ হাদীসটির ব্যাপারে অবগত নই। মুহাদ্দিস মুঈনুদ্দীন শফবী বলেন, এ হাদীসটি আমার নিকট প্রমাণিত নয়, বরং এটা কোন পূর্ববর্তী বুজুর্গের উক্তি, আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানীও এ হাদীসটিকে মওজু বলেছেন। (মওজুআতে কুবরা পৃ. ১০৯, আল মাসনু- পৃ.৯১, কাশফুল খফা খন্ড-১, পৃ. ৩৪৫; মাওজুআতে সাগানী পৃ. ৫৩; আল-মাকাসেদুল হাসানাহ পৃ. ২৭৯)
আমি কেন আলিম মানব?
January 20th, 2010আস-সালামু আলাইকুম, সকল প্রশংসা আল্লাহ’র জন্য, শান্তি অবতীর্ণ হোক মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি। পরম করুণাময়-দয়াশীল আল্লাহ’র নামে শুরু করছি-
আমাদের দেশের ফতোয়া দেয়া কাঠমোল্লা, মিলাদজীবি হুজুর আর মুরিদচোষা পীরদের আধিক্যে আমাদের একটা বিরাট ক্ষতি হয়ে গিয়েছে – তা হল আমরা পুরো আলিমজাতির উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি। দেশের সাধারণ মাদ্রাসাগুলোতে যে অন্যায় হয় আর সেই অন্যায়ের যেই পরিমাণ ফলাও হয় (শয়তানের ফুয়েলে) তাতে খুব স্বাভাবিক যে সমাজের সবচেয়ে সম্মানী মানুষগুলোর সম্বন্ধে আমাদের কিছু ভাইয়েরা খুব নিচু ধারণা পোষণ করেন। (দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমিও আগে এই দলে ছিলাম এবং আল্লাহ আপন অনুগ্রহে আমাকে ঐ দল থেকে রক্ষা করেছেন) এখন একটু বলি কেন এই মানুষগুলোকে আমাদের দরকার।
অর্থোপার্জনে নারীর বাহিরে গমন: লাভ ও ক্ষতি
January 17th, 2010আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
বর্তমান যুগ অর্থনৈতিক যুগ, অর্থের প্রয়োজন আজ যেন পূর্বাপেক্ষা অনেক গুণ বেশি বেড়ে গেছে। অর্থ ছাড়া এ যুগের জীবন ধারণ তো দূরের কথা শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণও যেন সম্ভব নয় – এমনি এক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে জীবন ও সমাজের সর্বক্ষেত্রে। তাই পরিবারের একজন লোকের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা, এক ব্যক্তির উপার্জনে গোটা পরিবারের সব রকমের প্রয়োজন পূরণ করা আজ যেন সুদূরপরাহত ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। আজকের লোকদের মনোভাব এমনি। তারা মনে করে, জীবন বড় কঠিন, সংকটময়, সমস্যা সংকুল। তাই একজন পুরুষের উপার্জনের উপর নির্ভর না করে ঘরের মেয়েদের- স্ত্রীদের উচিত অর্থোপার্জনের জন্য বাইরে বেরিয়ে পড়া। এতে করে একদিকে পারিবারিক প্রয়োজন পূরণের ব্যাপারে স্বামীর সাথে সহযোগিতা করা হবে, জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে। অন্যথায় বেচারা স্বামীর একার পক্ষে সংসার সুষ্ঠভাবে চালিয়ে নেয়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। আর অন্যদিকে নারীরাও কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয় পড়ে নিজেদের কর্মক্ষমতার বিকাশ সাধনের সুযোগ পাবে। এ হচ্ছে আধুনিক সমাজের মনস্তত্ত্ব।
