কেন একজন ইহুদী, খৃষ্টান কিংবা বিধর্মী দাঁড়ি রাখলে সে তার ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছে বলা হয় অথচ একজন মুসলমান একই করলে সে একজন চরমপন্থী এবং উগ্রপন্থী কিংবা মধ্যযুগীয় মনমানসিকতা সম্পন্ন লোক বলে সম্বোধন করা হয়? কেন একজন নান তার ধর্মীয় পোশাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢেকে রাখলে বলা হয় সে ঈশ্বরের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করছে কিন্তু একজন মুসলমান নারী পর্দা করার জন্য বোরকা কিংবা হিজাব পরিধান করলে বলা হয় তিনি নির্যাতিত কিংবা সেকেলে? কেন একজন পশ্চিমা অমুসলিম নারী তখন ঘর-সংসার ও সন্তানদের দেখাশুনা করার জন্য ঘরে অবস্থান করলে বলা হয় সে একজন আদর্শ নারী কারণ সে তার পরিবারের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিচ্ছে কিন্তু একজন মুসলিম নারী যখন একই কাজটি করলে বলা হয় তার স্বাধীনতা প্রয়োজন কিংবা নারী মুক্তি ব্যহত হচ্ছে?
যারা ফ্র্যান্স ও মালয়েশিয়াতে গেছেন তারা হয়তো আইফেল ও পেট্রোনাস টাওয়ার দেখে থাকবেন। উপর থেকে টাওয়ার দুটোর “বার্ড’স আই ভিউ” দেখলে অত্যন্ত চমৎকার লাগে। ভূমি থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে দেখলে অন্যরকম ভাল লাগে – বিশেষ করে রাতের বেলা। আবার টাওয়ারের ভেতরে ঘুরেফিরে দেখলে আরো ভিন্নরকম অনুভূতি হয়। যদিও সেরকম কিছু আমার নজরে পড়েনি তথাপি টাওয়ার দুটোর আশেপাশে খোঁজ করলে হয়তো ময়লা-আবর্জনা ও বস্তির মতো কিছু ঘর-বাড়ি পাওয়া যেতে পারে – যেগুলো মূল টাওয়ারের অংশ নয়। এখন কেউ যদি টাওয়ার দুটোকে দেখে বা না দেখে টাওয়ারের আশেপাশের ময়লা-আবর্জনা ও বস্তির মতো ঘর-বাড়িকেই ‘আইফেল টাওয়ার’ বা ‘পেট্রোনাস টাওয়ার’ হিসেবে প্রচার করে তাহলে যারা টাওয়ার দুটোকে স্বচক্ষে দেখেছেন তাদের কাছে কেমন লাগতে পারে?
কোরআনকে যারা মিথ্যা – তথা স্রষ্টার বাণী নয় – প্রমাণ করার চেষ্টা করে তাদের লেখাতে যে যুক্তি বা বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয় সেগুলো মোটামুটি নিম্নরূপ:
- ৯/১১ এর পর থেকে এটি অনেকের কাছেই বেশ জোরালো বা প্রিয় যুক্তি। কোন না কোন পর্যায়ে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার কথা অবধারিতভাবে চলে আসবেই। তাদের যুক্তিটা এরকম: (১) বিন লাদেনের নেতৃত্বে আল-কায়েদা জিহাদীরা এরোপ্লেন দিয়ে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার উড়িয়ে দেয়া সহ প্রায় তিন হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে; (২) আল-কায়েদা জিহাদীরা সবায় পাক্কা মুসলিম ছিল; (৩) অতএব কোরআন কোনভাবেই এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার বাণী হতে পারে না।
‘ফরহাদ’ নিকের এক ব্লগারের কাহিনী থেকে যা জানা যায় তা হচ্ছে ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকি সৈন্যরা নাকি তাকে ধর্ষণ করেছিল। তখন সে ক্লাস টেনের ছাত্র। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। একদিকে নিজে ধর্ষণের শিকার অন্যদিকে চারিদিকে হত্যা, লুটতরাজ, আর ধর্ষণ দেখে তার ইসলামে বিশ্বাসের ভিত টলে গেল। সাথে সাথে কোরানের অনুবাদ পড়া শুরু হয়ে গেল। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ক্লাস টেনের ছাত্র নাকি কোরানের অনুবাদ পড়া শুরু করলো! মিস্টার আদিলের জন্য ব্যাপক বিনোদন! পড়া শুরু করেই বুঝতে পারলো কোরানে যুদ্ধের সময় শত্রু পক্ষকে ধর্ষণের অধিকার দেয়া হয়েছে। তারপর এক রোজার দিনে দুপুরে এক রেস্টুরেন্ট-এ খাওয়ার অপরাধে হুজুরদের কাছে ব্যাপক মার খেল। ইসলাম সম্পর্কে সমস্ত মোহ কেটে গেল। তারপর ব্যাপক পড়াশুনার পর যা বুঝতে পারলো তা হচ্ছে কোরানের পাতায় পাতায় শুধু ঘৃণা, ভয়, লোভ, অন্য ধর্মের মানুষকে কী ভয়ঙ্কর ভাবে ঘৃণা করা যায় তার বর্ণনা পাতায় পাতায়, আর হাদিসগুলো উদ্ভট, ঘৃণ্য, বমন উদ্রেককারী। অতঃপর পুরোপুরি নাস্তিক হয়ে গেল। বিশ্বাস হচ্ছে না? নীচে দেখুন। স্বাধীনতা যুদ্ধকে অত্যন্ত নোংরাভাবে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। বলাই বাহুল্য, সে এগুলো জানতে পেরেছে কিছুদিন আগে – বিশেষ কিছু লেখার সংস্পর্শে এসে। একদিকে কোরান, হাদিস, এবং মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বিরুদ্ধে ডাহা মিথ্যাচার – অন্যদিকে ধার্মিক মুসলিমদের বিরুদ্ধে কুরুচিকর কাহিনী ফেঁদে চরম ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো দেখে তাকে ভণ্ড ছাড়া অন্য কিছু কেউ ভাবতেই পারবে না। ইন্টারনেটের যুগে এরকম ভণ্ড অনেক আছে।
নাম এবং লেখা দেখে স্বাভাবিকভাবেই ‘মুসলিম’ বা ‘এক্স-মুসলিম’ ভেবে যে কেউ বিভ্রান্ত হবেন। অথচ এরা হচ্ছে বিশেষ এক প্রজাতি। এই বিশেষ প্রজাতির ধর্মগুরু ‘রফিক’-কে দিয়েই শুরু করা যাক – যে কি-না এই ‘অভিনব’ কৌশলের উদ্ভাবক এবং ‘রুদ্র মোহাম্মদ’ ছদ্মনামে নন্দিনী হোসেনকে অসভ্য ও কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করে যার যাত্রা শুরু।
ইসলামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কারো কারো মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা বা বিদ্বেষ আছে বলে মনে হয়। ভ্রান্ত ধারণার উদাহরণ: একটি দেশের প্রেসিডেন্ট যেমন সেই দেশের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয় – কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির মৃত্যুর পর যেমন তাদেরকে মানুষরূপী গড বানিয়ে তাদের নামে ধর্মগ্রন্থ লিখে তাদেরকে ওয়ার্শিপ করা হয় – নবী-রাসূলও তেমনি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয় অথবা কারো মৃত্যুর পর তাকে নবী-রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করা শুরু হয়। প্রকৃতপক্ষে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোন নবী-রাসূলকে জনগণ যেমন নির্বাচিত করেনি তেমনি আবার কারো মৃত্যুর পর তাকে নবী-রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করাও শুরু হয়নি। একমাত্র তাঁদেরকেই নবী-রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করা হয় যাঁরা তাঁদের জীবদ্বশায় গডের মেসেজ পেয়ে নিজেদেরকে গডের মেসেঞ্জার বলে দাবি করেছেন। অর্থাৎ সর্বপ্রথম দাবিটা এসেছে তাঁদের পক্ষ থেকে। ফলে নবী-রাসূলের ক্ষেত্রে জনগণের দ্বারা নির্বাচন বা নিজে দাবি না করা সত্ত্বেও এমনি এমনি বিশ্বাসের কোন স্থান নেই।
বাইবেল অনুসারে ইসহাক (আঃ)-কে কুরবানী দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু ইসলামে পরিষ্কারভাবে ইসমাইল (আঃ)-কে কুরবানী দেয়ার কথা বলা হয়। মেরিনার ভাইয়ের এই পোস্টটিতে তাফসিরসহ কোরানের বিভিন্ন আয়াত ও হাদীস একসাথে করে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, বাইবেল আসমানী কিতাবের অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ, গ্রন্থটির মূল/আদি-রূপটি আল্লাহ প্রদত্ত। তবে বাইবেলের অনেক বাণী/ভার্স কালেক্রমে সুবিধাবাদী লোকজন বদলে দিয়েছেন বলে কোরান/হাদীসে উল্লেখ আছে। আর এই কারণেই আল্লাহ সুবহানা-তায়ালা কোরানকে প্রামাণ্য/কর্তৃত্ব-বাহী গ্রন্থ ঘোষণা করে আগের কিতাবগুলোর কর্তৃত্ব লুপ্ত করেছেন। এই লেখাতে আমি দেখাতে চাই যে, বাইবেল অনুসারে যেভাবে হযরত ইসহাক (আঃ)-কে কুরবানী দেয়ার কথা বলা হয়, সেটি সহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক ঘটনাবলী স্ববিরোধী ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইউরোপকে মুক্তবুদ্ধি বা চেতনার আলোকিত কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করে ইউরোপিয়ানরা বেশ গর্ববোধ করেন। ক্রমে ক্রমে সেই তকমা খসে পড়ছে এবং আসল রূপ উন্মোচিত হচ্ছে। মুসলিম মেয়েদের ড্রেস কোড (হিজাব/বোরকা) নাকি তাদের ইউরোপিয়ান ভ্যালুকে বাধা-গ্রস্থ করছে! এজন্য নারী স্বাধীনতার দিশারী হিসেবে নিজেদেরকে পরিচয় দিতে আত্নতৃপ্তিতে ভোগা ইউরোপিয়ান দেশসমূহে বোরকা/হিজাব নিধন প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে গণতন্ত্র নামক অস্ত্র। বোরকা নিধন অভিযানে নের্তৃত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স, যা কিনা মুক্তচেতনার কেন্দ্র-বিন্দু হিসেবে পরিগণিত করা হয়। ফ্রান্সের নীতিকে অনুসরণ করে ইউরোপের অন্যান্য দেশে বোরকা পরাকে আইনগতভাবে ক্রিমিনালাইজড করা হয়। বেলজিয়াম ও ইতালী বোরকা পরিধানের অপরাধে দুজনকে জরিমানা করেছে। নেদারল্যান্ড ও স্পেনও বোরকা ব্যান প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়েছে। ইউরোপের আরো অন্যান্য দেশও একই নীতি অনুসরণ করতে যাচ্ছে।
[পর্ব-১, পর্ব-২, পর্ব-৩, পর্ব-৪, পর্ব-৫, পর্ব-৬] আগের পর্বগুলোতে আমরা কোরান, হাদীস, তাফসির ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে প্রাক-বদর ও বদর যুদ্ধের কারণ সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আজকে চিরায়ত সীরাত ও ইতিহাস-বই গুলোতে যেভাবে বদরপ্রান্তে মুসলিম ও কোরাইশ-দল উপস্থিত হন বলে বলা হয়, তা নিয়ে আলোচনা করবো ও বর্ণিত ঘটনাক্রম যে ভৌগলিক, বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক প্রেক্ষাপট থেকে একেবারে অসম্ভব, তা প্রমাণের চেষ্টা করবো। শেষে উপসংহার দেবো পুরো সিরিজটার।
আগের পর্বগুলোতে আমরা প্রাক-বদর আবহ/প্রসঙ্গ থেকে শুরু করে বদরের যুদ্ধের মূল কারণগুলো কোরান, হাদীস ও সাধারণ ইতিহাস থেকে জানার চেষ্টা করেছি। আজকে আরো ২-টি হাদীস নিয়ে আমরা আলোচনা করবো যেখানে বদর যুদ্ধের কারণ সম্পর্কে তথ্য আছে। প্রথম হাদীসটা কাব-বিন-মালিকের(রাঃ) ছেলে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করছেন; তাতে তাঁর পিতার কাছ থেকে শোনা তাবুক যুদ্ধে কাব-বিন-মালিক(রাঃ) কেনো যেতে পারেননি, তার কারণ ও পরিণতিতে কী হয়েছিলো, তার বিশদ বিবরণ আছে। নীচে বাংলা অনুবাদের অভাবে ইংরেজীতে অনলাইন বোখারী থেকে হাদিসের শুরুটা দিলাম।
যেখানে পশ্চিমা বিশ্বের সবকিছুকে ‘ধ্রুব আদর্শ’ ধরে নিয়ে মেকি ‘নারীবাদী’ সেজে ইসলাম ও মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নারী-বিদ্বেষী বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে – সেখানে প্রতি বছর পশ্চিমা বিশ্বেরই হাজার হাজার শিক্ষিত নারী ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। একে লিভিং মিরাকল ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়! ইসলাম যেন তাদের কাছে সোনার হরিণের চেয়েও মহা-মূল্যবান কিছু একটা। বিশ্বাস না হলে তাদের মুখ থেকেই সরাসরি শোনা যেতে পারে।
সুরা আনফালের ৫-৭ নং আয়াতে আমাদের আলোচ্য বিষয় ‘বদর যুদ্ধের কারণ’ মনে হয় সবচেয়ে পরিষ্কার করে দেয়া আছে; যদিও আয়াতগুলো পুরোটা সঠিক ব্যাখ্যাসহ আত্মস্থ করা একটু কঠিন। আমিও পুরোপুরি বোঝাতে পারব কিনা জানিনা, তবে চেষ্টা করা যাক। নীচে আনফাল সুরার ৫ থেকে ৭ পর্যন্ত আয়াতের মূল আরবী ও বাংলা অনুবাদ দিলাম।
৫. যেমন করে তোমাকে তোমার পরওয়ারদেগার ঘর থেকে বের করেছেন ন্যায় ও সৎকাজের জন্য, অথচ ঈমানদারদের একটি দল (তাতে) সম্মত ছিল না।
৬. তারা তোমার সাথে বিবাদ করছিল সত্য ও ন্যায় বিষয়ে, তা প্রকাশিত হবার পর; তারা যেন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে দেখতে দেখতে।
পর্ব-১, পর্ব-২, পর্ব-৩ আগের পর্বগুলোতে প্রাক-বদর ঘটনাবলীর বিবরণ দিয়েছিলাম যাতে পাঠকরা বদরের আবহ ও প্রসংগ জানতে পারেন। পর্বগুলোতে দেখানো হয়েছে কীভাবে প্রাচীন সীরাত লেখকরা অনুমানের উপর নির্ভর করে ভুলবশত প্রাক বদর মিশনগুলোকে ‘কাফেলা আক্রমণের’ অভিযান হিসেবে দেখিয়েছেন। একইভাবে বদর যুদ্ধের ক্ষেত্রেও উনারা গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়েছেন ও বলেছেন, মুসলিমরা আবু-সুফিয়ানের কাফেলা লুট করার জন্যে মদিনা থেকে বের হলেন; অতঃপর আবু-সুফিয়ান এই বৃত্তান্ত জেনে মক্কাতে খবর দেন এবং নিজে সফলভাবে বিকল্প পথে মক্কার দিকে গিয়ে মুসলিমদের হাত থেকে কাফেলা রক্ষা করেন। ঐদিকে কাফেলা আক্রান্ত হবার সম্ভবনার কথা জেনে মক্কাবাসীরা দলে বলে মদিনার দিকে অগ্রসর হয়। আবু-সুফিয়ানতো তার কাফেলা নিয়ে পালিয়ে গেলো, কিন্তু মধ্যে বদর প্রান্তরে কোরাইশ বাহিনীর সাথে মুসলিমদের সাক্ষাত ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এই বিবরণটা Orientalist খৃষ্টান লেখকদের জন্যে বেশ আনন্দের হবে পাঠকরা নিশ্চয়ই তা অনুমান করতে পারছেন। ঐ অসাধু Orientalist লেখকরা ভালোভাবে এটাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে উপসংহারে গম্ভীরভাবে বলছেন, “মুহাম্মাদ (সাঃ) কোরাইশদের কাফেলা লুট করার চেষ্টা করাতেই অন্যায়ভাবে যুদ্ধ-বিগ্রহের সূচনা করলেন; আবু-সুফিয়ানের কাফেলা লুট করার সংকল্প না করলে বদর যুদ্ধও ঘটতো না, এমনকি ভবিষ্যতের অন্যান্য যুদ্ধও আর ঘটতোনা।”
যেখানে পশ্চিমা বিশ্বের সবকিছুকে ‘ধ্রুব আদর্শ’ ধরে নিয়ে নাস্তিকতা, বিজ্ঞানমনষ্কতা, ও যুক্তিবাদের আড়ালে ইসলাম, মুসলিম, ও মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত ঘৃণা-বিদ্বেষ ও মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে – সেখানে প্রতি বছর পশ্চিমা বিশ্বেরই হাজার হাজার শিক্ষিত নারী-পুরুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। একে লিভিং মিরাকল ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়! ইসলাম যেন তাদের কাছে সোনার হরিণের চেয়েও মহা-মূল্যবান কিছু একটা। বিশ্বাস না হলে তাদের মুখ থেকেই সরাসরি শোনা যেতে পারে।
আগের পর্বের শেষে আমি আবওয়া, ওশায়রা ও বোয়াত অভিযানের কথা বলেছি। প্রাক-বদর সর্বমোট ৮ টি অভিযানের কথা আমরা প্রাচীন সব সীরাত এক করলে দেখতে পাই। The Sealed Necter বইতে জনাব মবারকপুরী এই ৮ টি অভিযানেরই কথা বলেছেন। আর এই অভিযান গুলোকেই প্রাচীন সীরাত লেখকেরা (ইবন ইসহাক, ওয়াকেদী, ইবন হিশাম … প্রমুখ) কাফেলা আক্রমনের উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন, এবং এই অভিযান গুলোর উপর ভিত্তি করেই Orientalist লেখকেরা ও হালের পরজীবি স্বঘোষিত ইসলাম বিশেষজ্ঞ্ররা মোহাম্মাদ (সঃ) এর উপর ‘কাফেলা লুটেরা’-র চিরস্থায়ী-সীল লাগিয়ে দিলেন। পাঠকরা নিজেরাই পড়ে দেখুন, অত্যুৎসাহী প্রাচীণ সীরাত লেখকরা উদ্দেশ্য হিসেবে ‘কাফেলা আক্রমন’ বলা সত্ত্বেও, তাঁদেরই লেখা অনুসারেই ‘নাখলা অভিযান’ ব্যাতিরেকে কোন অভিযানেই কখনোই কোরায়েশ কাফেলার সাথে দেখা হয়নি, এবং কাফেলা আক্রমনের শতকরা সাফল্য ‘বিশাল শুন্য’ বা BIG ZERO. নাখলা অভিযানে আপাত সাফল্য এলেও, মুহাম্মাদ (সাঃ) যে কোনোভাবেই কাফেলা আক্রমণ করতে বলেননি ও ফলত কাফেলার সামগ্রী গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান তা সব সীরাত বই-ই একযোগে সাক্ষী দিচ্ছে।
যেখানে পশ্চিমা বিশ্বের সবকিছুকে ‘ধ্রুব আদর্শ’ ধরে নিয়ে নাস্তিকতা, বিজ্ঞানমনষ্কতা, ও যুক্তিবাদের আড়ালে ইসলাম, মুসলিম, ও মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত ঘৃণা-বিদ্বেষ ও মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে – সেখানে প্রতি বছর পশ্চিমা বিশ্বেরই হাজার হাজার শিক্ষিত নারী-পুরুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। একে লিভিং মিরাকল ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়! ইসলাম যেন তাদের কাছে সোনার হরিণের চেয়েও মহা-মূল্যবান কিছু একটা। বিশ্বাস না হলে তাদের মুখ থেকেই সরাসরি শোনা যেতে পারে।
পর্ব-১ ইবন ইসহাকের সীরাতের প্রাচীন বইটিকেই বেশীরভাগ হযরতের জীবন চরিতকাররা অনুসরণ করেছেন। The Sealed Necter বইটিতেও জনাব মোবারকপুরী ইবন ইসহাকের বিবরণই বদরের যুদ্ধের কারণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। অপরদিকে, তাবারী, বাইহাকী প্রমুখ চরিতকাররা, চিরায়ত ইবন ইসহাকের বিবরণ ছাড়াও হাদীস শাস্ত্র ঘেঁটেছেন ও অন্যান্য সূত্রগুলিও পর্যালোচনা করে গেছেন। সার্বিক বিষয়টি প্রচলিত ইতিহাস ছাড়াও কোরান ও হাদীসের আলোকে তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন ‘মোস্তফা চরিতের’ লেখক জনাব আকরাম খাঁ। উনি ক্লাসিক্যাল সূত্রগুলো ছাড়াও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন স্যার সৈয়দ আহমদ, সৈয়দ আমির আলী, মৌলভী চেরাগ আলী, মির্যা আবুল ফযল প্রমুখ লেখকদের কাছ থেকে। [1]
ইদানিং রাস্তা-ঘাটে, হাট-বাজারে, স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়ে বোরকা বা হিজাব পরিহিতাদের সংখ্যা চোখে পড়ার মত। ১০-১৫ বছর আগে এ ধরণের ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যায়নি (সূত্র)। তারও আগে (৭০ ও ৮০’র দশকে) শহর এলাকায় বোরকা বা হিজাব পরিধানকারী মহিলার সংখ্যা ছিল হাতে গোনার মত। সমাজের এই সামগ্রিক পট-পরিবর্তন প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবিদের জন্য হয়ে উঠেছে বড্ড মাথা ব্যথার কারণ। বিভিন্ন ভাবধারার বুদ্ধিজীবিরা যে যার দৃষ্টিকোণ থেকে এ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। সেক্যুলার ঘরানার বুদ্ধিজীবি/পলিটিশিয়ানরা অভ্যাসবশত এজন্য দায়ী করে জোট সরকারের নীতিকে। অন্যদিকে তথাকথিত অতিপ্রগতিশীল ও ধর্ম-বিদ্বেষী (মূলতঃ ইসলাম) মুক্তমনারা এ অবস্থাকে আফগানিস্থান বা পাকিস্থানের সাথে তুলনা করতে বিশেষ আকর্ষণবোধ করেন। ইন্টার্নেটে বাংলাদেশে ‘ইসলামিষ্ট’দের এই উত্থান নিয়ে রীতিমত হয় লংকাকান্ড ও অপপ্রচারণা। এ পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে পশ্চিমা বিশ্বের টনক নড়ার জন্য বিস্ময়কর পরিসংখ্যান হাজির করা হয়। এতে বলা হয় বাংলাদেশে বোরকা পড়ার হার নাকি ৫০০ গুণ বেড়ে গেছে!
গুগলে ‘উম্যান ইন ইসলাম’ দিয়ে সার্চ দিলে আপনারা পাবেন অসংখ্য ওয়েব সাইট। কিন্তু অত্যন্ত দু:খের সাথে বলতে হয় তার বেশীর ভাগই এন্টি ইসলামিক ওয়েব। এসব ওয়েব সাইট ইসলাম নিয়ে একের পর এক মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। কুরআনে ২৩:৬ আয়াত পড়ে নাকি একজন মহাধার্মিক মুসলিম ইসলাম ত্যাগ করেছে! ফেক এক্স-মুসলিম সম্পর্কে জানুন এই লিংক থেকে।
মুক্তমনায় দু:খিত বদ্ধমনায় ২৩:৬ আয়াত নিয়ে তো বিশাল সংগ্রহ। কী আছে এই আয়াতে!
‘সানসুরুজ’ (আনসেনসর্ড) নামক একটি অনুষ্ঠান যেটি ২০০৯ এর ১৪ই আগষ্ট প্রচারিত হয় সেখানে এ বিষয়টি আবার পরিস্কারভাবে দেখিয়ে দেয়া হয়েছে। যে ধারণাটি ডারউইনবাদীদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত করে ফেলেছে তা হল ‘আমাদের মস্তিষ্কের ভিতরের জগৎ’: