Shodalap http://shodalap.com An inclusive e-journal for Bangladeshis for home and abroad Fri, 03 Sep 2010 08:00:40 +0000 http://wordpress.org/?v=2.9.2 en hourly 1 এই “কেন” এর জবাব কী? http://shodalap.com/tusharzia/7656 http://shodalap.com/tusharzia/7656#comments Thu, 02 Sep 2010 19:03:02 +0000 তুষার http://shodalap.com/?p=7656 কেন একজন ইহুদী, খৃষ্টান কিংবা বিধর্মী দাঁড়ি রাখলে সে তার ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছে বলা হয় অথচ একজন মুসলমান একই করলে সে একজন চরমপন্থী এবং উগ্রপন্থী কিংবা মধ্যযুগীয় মনমানসিকতা সম্পন্ন লোক বলে সম্বোধন করা হয়? কেন একজন নান তার ধর্মীয় পোশাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢেকে রাখলে বলা হয় সে ঈশ্বরের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করছে কিন্তু একজন মুসলমান নারী পর্দা করার জন্য বোরকা কিংবা হিজাব পরিধান করলে বলা হয় তিনি নির্যাতিত কিংবা সেকেলে? কেন একজন পশ্চিমা অমুসলিম নারী তখন ঘর-সংসার ও সন্তানদের দেখাশুনা করার জন্য ঘরে অবস্থান করলে বলা হয় সে একজন আদর্শ নারী কারণ সে তার পরিবারের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিচ্ছে কিন্তু একজন মুসলিম নারী যখন একই কাজটি করলে বলা হয় তার স্বাধীনতা প্রয়োজন কিংবা নারী মুক্তি ব্যহত হচ্ছে?

কেন একজন সাধারণ মেয়ে যে কোন পোশাক (হোক সেটা শালীন কিংবা অশালীন) পরে যেকোন স্থানে বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে কোন বাধা দেয়া হয়না না কিন্তু একজন মুসলিম মেয়ে হিজাব পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেলে তাকে বাধা দেয়া হয়? কেন কোনো ইহুদী কিংবা খৃষ্টান কিংবা বিধর্মী কাউকে বিনা অপরাধে হত্যা করলে সে খুনী বা সস্ত্রাসী হয়না কিন্তু কোন মুসলমান অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই তাকে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, মৌলবাদী ইত্যাদি বলে অভিহিত করা হয়?

]]>
http://shodalap.com/tusharzia/7656/feed 4
এক তাবলীগি ভাই এর আত্মপোলব্ধি – ২ http://shodalap.com/abdullahbd2008/7647 http://shodalap.com/abdullahbd2008/7647#comments Thu, 02 Sep 2010 13:51:14 +0000 abdullahbd2008 http://shodalap.com/?p=7647 শিরক: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর ব্যাপারে আরো পড়ে দেখলাম, আল্লাহ বলেছেন,

“তাদের অধিকাংশ আল্লাহর উপর ঈমান আনায়ন করে, তবে (ইবাদতে) শিরক করা অবস্থায়। – সূরা ইউসুফ: ১০৬

আবার আল্লাহ বলেছেন, ”আমি তোমার কাছে এবং যারা তোমার পূর্বে ছিলো তাদের কাছে এই ওহী পাঠিয়েছি যে, যদি কোন শিরক করো, তবে অবশ্যই তোমার আমল নস্ট হয়ে যাবে আর অবশ্যই তুমি খতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে।” – সূরা যুমার:৬৫

“যদি তারা শিরক করে, তবে তারা যত আমলই করুক না কেন তা নস্ট হয়ে যাবে।” – সূরা আন আম: ৮৮

“তারা তাদের আলেম ও দরবেশদেরকে আল্লাহর পাশাপাশি রব হিসেবে গ্রহন করেছে।”  -সূরা তাওবা:৩১

“আর তারা উপাসনা করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর, যা না তাদের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে, না উপকার এবং বলে, ‘এরা তো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী’। তুমি বলো, তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয়ে অবহিত করছো, যে বিষয়ে তিনি অবহিত নন আসমান ও যমীনের মাঝে ? তিনি পুতঃ পবিত্র ও মহান সে সমস্ত থেকে, যা কিছু তোমরা শরীক করছো।” – সুরা ইউনুস: ১৮

চিন্তা করে দেখলাম, শিরক সম্পর্কে আমার জানাশুনা ভাসাভাসা। অথচ সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। পাশাপাশি আমি যাদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দেই তাদেরকে শিরক সম্পর্কে না জানানো মানে আসলে তাদেরকে পরিপূর্ণ ঈমানের দাওয়াত না দিয়ে অনেক কিছু গোপন করার মতো।

চিন্তা – ৫। তাই চিন্তা করেছি এখন হতে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার সময় “১ম উসুল: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর বর্ননা দেয়ার সময় শিরক এর বিস্তারির আলোচনা করবো। এজন্য কোরআন হাদীসের আলোকে “ছয় উসুল”কে সুন্দরভাবে সাজাবো সাজাবো ইনশাআল্লাহ।

কুফর: জানতে পারলাম, বড় কুফর করলে ঈমান নস্ট হয়ে যায়। আল্লাহ বলেছেন, “না কখনো না, তোমার রবের কসম, তারা কখনই ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্খন পর্যন্ত তাদের মধ্যে যে বিবাদ হয় তা মীমাংসার ভার তোমার উপর অর্পন না করে, তারপর তাতে নিজেদের মনে কোনরূপ অসন্তুষ্টি প্রকাশ না পায়, এবং তাকে পুরোপুরি গ্রহন করে।”  – সূরা নিসা:৬৫

চিন্তা করে দেখলাম, আমি নিজে এবং আমার আশে-পাশের অনেক ভাইরা বিবাদ মীমাংসার সময় সে বিষয়ে রাসুল (সা:) এর ফায়সালা যে কি, তা জানতাম না, না জানলে সেটা মানবো কিভাবে?

“তবে কি তোমরা কিতাবের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।  -  সূরা বাকারা: ৮৫
    
চিন্তা করে দেখলাম, আমি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে কিতাবের সকল অংশ মানলেও সামাজিক, অর্থনৈতিক  ও রাস্ট্রীয় জীবনে  কিতাবের কিয়দংশ মানি  এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস করি।  অর্থাত সুদ ভিত্তিক ব্যাংক এ আমার একাউন্ট ছিলো, আমাদের প্রচলিত কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী ব্রিটিশ  আইনকে আমি বেশ মান্য ও শ্রদ্ধা করতাম ইত্যাদি। নিজের অজান্তেই আল্লাহর আইন হতে মানুষের আইনকে বেশী পছন্দ করতাম।  

“আল্লাহ ও তার রাসূল কোন নির্দেশ দিলে, কোন মুমিন পুরুষ বা কোন মুমিন নারী সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অধিকারী ঠাকবে না। যে কেউ আল্লাহ  ও তার রাসূলকে অমান্য করলো সে তো পথভ্রস্ট হবে।”   – সূরা আহ্ যাব:৩৬

চিন্তা – ৬।    তাই চিন্তা করেছি এখন হতে নিজে সকল ধরনের কুফর হতে বেচে থাকবো ও দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার সময় “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর বর্ননা দেয়ার সময় কুফর এর বিস্তারির আলোচনা করবো। যাতে ঐ ভাই যাকে দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছি তিনি নিজের ঈমান রক্খা করতে পারেন।

“মুহাম্মাদুর রাসুলাল্লাহ”
 
আল্লাহর রাসুলকে আমি ভালোবসি নিজের থেকে এবং নিজের পরিবার থেকে। কিন্তু দেখলাম আল্লাহ বলেছেন, রসুল(সা:) কে নিজের গোস্টী তথা  নিজের জাতি তথা নিজের পছন্দনীয় মত, পথ, তরীকা, নিজের উস্তাদ, নিজের পীর, নিজের মুরব্বী, নিজের শাইখ হতেও বেশী ভালোবাসতে হবে।  নিজের পছন্দনীয় মত, পথ, তরীকা, নিজের উস্তাদ, নিজের পীর, নিজের মুরব্বী, নিজের শাইখ এর মত যদি একদিকে হয় কিন্তু যদি রাসুল (সা:) এর মত ওন্যদিকে হয়, তবে সেটাই মানতে হবে। 

“বলুন, যদি আল্লাহ, তার রাসূল এবং আল্লাহর পথে জিহাদ থেকে তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোস্টী, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বানিজ্য যার মন্দার আশংকা করো, তোমাদের বাসস্থান যা ভালোবাসো – বেশী প্রিয় হয়, তবে অপেক্খা করো আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত।”  – সূরা তাওবা: ২৪
      
“বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালোবাসবেন আর তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন …..:   -সূরা আলে ইমরান: ৩১      

আর রাসুল (সা:) বলেছেন: ”আমি শপথ করে বলছি যে, তোমাদের মাঝে আমিই আল্লাহর ভয়ে সবচেয়ে ভীত এবং আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে সচেতন। কিন্তু আমি রোযা রাখি এবং তা ভাংগি, সালাত আদায় করি এবং ঘুমাই এবং আমি নারীদের বিবাহ ও করি। আমার সুন্নাহ থেকে যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার কেউ নয়।  – বুখারী।

“… যদি তোমাদের মধ্যে  কেউ  বেশীদিন বেচে থাকে, সে তবে সে নানারকম মতবিরোধ দেখবে। তখন তোমার উপর ওবশ্য কর্তব্য এই যে, আমার সুন্নাতকে এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদিন এর সুন্নতকে শক্তভাবে দি্য়ে আকড়ে ধরবে … ” – আবু দাউদ।
    
আল্লাহ বলেছেন, আল্লাহকে ভালোবাসলে রাসুলের অনুসরণ করতে। রাসুল (সা:) বলেছেন, তার অনুসরণ না করলে, তার উম্মত থাকা যাবে না।
 
চিন্তা -৭। এখন থেকে নিয়্যত করেছি, নিজে জীবনের সকল ব্যাপারে রাসুল (সা:) এর আদর্শ মেনে চলবো, তা ইবাদতে হোক বা ব্যক্তিগত বা পারিবারিক হোক অথবা অর্থনৈতিক, রাস্ট্রীয় হোক। এবং যাকেই দ্বীনের দাওয়াত দিবো, তাকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবো, নাহলে সে আল্লাহর কথা অনুযায়ী গুমরাহ হয়ে যাবে।

বিদয়াত: দেখলাম আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং আনুগত্য করো রাসুলের এবং তোমাদের দায়িত্বশীলদের। আর কোন ব্যাপারে মতবিরোধ হলে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও। যদি তোমরা আল্লাহ ও বিচার দিবসে বিশ্বাসী  থাকো।”  – সূরা আন্ নিসাঃ ৫৯।
    
তাই কোরাআন ও হাদীস সম্পূর্ণ মেনে চলবো। যে কোন ব্যাপারে আলেমগণের মতভেদ পেলে, সেটা যথাসম্ভব কোরান-হাদীসের মাধ্যমে যাচাই করতে চেস্টা করবো অথবা যে আলিমের মত কোরান-হাদীসের বেশী কাছে, তার মত গ্রহণ করবো।

“জান্নাতের কাছে নিয়ে যায় অথবা জাহান্নাম হতে দূরে নিয়ে যায়, এমন কোন বিষয়ই আমি পরিস্কারভাবে বর্ণনা করতে বাকী রাখিনি।”   – আল মুজাম আল কবীর, আত্ তাবরাণী, আলবানীর মতে সহীহ।

“আমার সমস্ত উম্মতই জান্নাতে যাবে, শুধু যারা অস্বীকার করবে তারা ব্যতীত। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, কে অস্বীকার করবে ?  তিনি বললেন, যে আমার আনুগত্য করেছে সে জান্নাতে যাবে, যে আমার আনুগত্য করলো না, সে অস্বীকার করলো।” - বুখারী ও অন্যান্য।

চিন্তা – ৮। যেহেতু জান্নাতের কাছে নিয়ে যায় অথবা জাহান্নাম হতে দূরে নিয়ে যায় এমন কোন জিনিস বর্ণনা করা বাকী নেই, তাই রাসুল (সা:) যে আমল করেন নি অথবা করতে বলেন নি কিংবা যে আমলের ব্যাপারে সাহাবীদেরকে তিনি নিরব সম্মতি দেননি, ঐ সমস্ত আমল সারা জীবনেও করতে যাবো না, আমি কেন নিজেকে অকারণে  বিপদে ফেলবো আর বিদয়াত করে রাসুল (সা:) এর হাতে কিয়ামতের দিন হাউসে কাউসার এর পানি পান করা হতে মাহরুম হবো। আমার দাওয়াতে বিদয়াত এর ব্যাপারে ও বিস্তারিত আলোচনা করবো।

জানতে পারলাম: আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বললেন যে, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের রাতের বেলায় মসজিদে যেতে দিও”। একথা শুনে তাঁর এক ছেলে বললেন যে, তিনি তার স্ত্রীকে রাত্রে মসজিদে যেতে দিবেন না। একথা শুনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) তাকে শক্তভাবে ভৎর্সনা করলেন এবং তার বুকে ধাক্কা দিয়ে বললেন, ‘আমি তোমাকে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর হাদিস শুনালাম, আর তুমি বললে “না”। এরপর তিনি ঐ ছেলের সাথে আমৃত্যু কথা বলেন নি। - আহমদ; মুসলিম অধ্যায়ঃ ৪ হাদিসঃ ৮৮৮; আবু দাউদ। 
  
একবার আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) কয়েকজন সাহাবীর সামনে রাসুল (সাঃ) এর একটি হাদিস বর্ণনা করেন। উপস্থিত সাহাবীরা এ ব্যাপারে আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) যা যা বলেছেন তা বলতে লাগলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) সাথে সাথে তাঁদের দিক হতে মুখ ফিরিয়ে বিপরীত দিকে মুখ করে ফেলেন এবং বললেন “আমার ভয় হয়, আল্লাহ আপনাদেরকে আকাশ হতে পাথর বর্ষণ করে শাস্তি দিবেন। আমি বলছি আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এটা বলছেন আর আপনারা বলছেন, ‘আবু বকর (রাঃ) এই বলেছেন, উমর (রাঃ) এই বলেছেন’।”  – মুসনাদে আহমদ। 

চিন্তা-৯। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আল্লাহ কিংবা রাসুল (সা) কথার বিরুদ্ধে যায় এমন সকল কথাকে বিনা দ্বিধায় ত্যাগ করবো তা সে যে কোন আলেম, বুজুর্গ, ইমাম কিংবা আউলিয়ার কথা হোক না কেন। এ ব্যাপারে দেখলাম আমাদের ইমাম আবু হানিফা (র:) থেকে শুরু করে সকল ইমামই একমত। যেমন:

ইমাম আবু হানিফা (র:) বলেছেন:
“তোমরা যদি আমার কোন উক্তি প্রকাশ্য কোরআন ও সুন্নাহর প্রতিকুল দেখতে পাও তাহলে কোর’আন ও সুন্নাহর নির্দেশ পালন করিও। এবং আমার উক্তি প্রাচীরের উপর ফেলিয়া দিও।” – ইবনে আবেদীন, রুদ্দুল মুহ্তার ১/৪৬২ পৃঃ; ময়মনীয়া।

“ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করা হ’লো, আপনার কোন সিদ্ধান্ত রাসুল (সাঃ) নির্দেশের বিপরীত পাইলে আমরা কি করবো ? তিনি বললেন, রাসুল (সাঃ) এর হাদিসের মোকাবেলায় আমার উক্তি ফেলে দিও। আবার জিজ্ঞেস করা হইলো, আপনার কোন সিদ্ধান্ত সাহাবাগণের সিদ্ধান্তের বিপরীত পাইলে আমরা কি করবো ? তিনি বললেন, সাহাবাগণের উক্তির প্রতিকুল আমার কথা প্রত্যাখ্যান করবে।” – ইরশাদ পৃঃ ২৬; ইকদুলজিদ পৃঃ ৫৪।

“আলেমগণের ব্যক্তিগত অভিমতের তুলনায় আমার নিকট দুর্বল হাদিসও অধিক প্রিয়।” – ইবনে আবেদিন ইকদুর জওয়াহের গ্রন্থের উল্লেখে স্বীয় ফতোয়ায় এ উক্তি উল্লেখ করেছেন।

“এমন অনেক কিয়াস আছে যেগুলির তুলনায় মসজিদে প্রস্রাব করা ভালো”  – মনাকিব ১/৯১ পৃঃ।

“যে ব্যক্তি আমার দলীল অবগত নয়, তার পক্ষে আমার উক্তির সুত্রে ফতোয়া দেয়া উচিৎ নয়।” – ইমাম শারাণী; ইয়াওয়াকীৎ ও জওয়াহের ২/২৪৩ পৃঃ; হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা ১৬২ পৃঃ; ইকদুলজিদ ৮০ পৃঃ; ইকামুল হিমাম ৭২ পৃঃ।
 
“আমি কোর’আন এ হাদীসের ফতোয়া কোন দলীল বলে দিয়াছি, এটা যে ব্যক্তি জানেনা, তার জন্য আমার ফতোয়া অনুসরণ করা হালাল নয়।”  – বহরুর রায়েক ৬/২৯৩ পৃঃ; মিনহাতুল খালেক ২/২৯৩ পৃঃ; উমদাতুর রিআয়া ৯ পৃঃ। 

 ইমাম শাফেয়ী (র:) বলেন:
 একবার এক ব্যক্তি ইমাম শাফেয়ীকে একটি মাসয়ালা জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, এ ব্যাপারে রাসুল (সাঃ) এর এই নির্দেশ রয়েছে । ঐ ব্যাক্তি বললো, আপনার ফায়সালা কি এটাই ? তিনি একথা শুনে চমকে উঠলেন এবং বিবর্ণ হয়ে গেলেন, যেন শরীরের রক্ত শুকিয়ে গেছে। তিনি বললেন, “ওরে হতভাগা,  রাসুল (সাঃ) এর হাদিস বলার পর যদি আমি সে অনুসারে ফতোয়া না দেই তবে কোন জমীন আমার ভার বহন করবে ? কোন আকাশ আমাকে ছায়া দিবে ? হ্যাঁ, হ্যাঁ রাসুল (সাঃ) এর হাদিস আমার মাথা ও চোখের উপর, এটাই আমার মাযহাব।” - ইকাযুল হিমম ১০০ পৃঃ।

 এছাড়া ও আমাদের মাজ হাবের ওন্যান্য বড় ইমামরা ও এ ব্যাপারে একমত:
ইমাম আত্ ত্বাহাবী (রহঃ) বলেন, “অন্ধ-ভক্ত ও নির্বোধ ছাড়া কেউ তাক্বলীদ (অন্ধ আনুগত্য অর্থাৎ দ্বীনী ব্যাপারে বিনা দলিলে কারো কথা মেনে নেয়া) করতে পারে না।” – রাসমুল মুফতী ১ম খন্ড ৩২ পৃঃ।

শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলবী (রহঃ) বলেন, “যখন আমাদের কাছে সেই নিস্পাপ রাসুল (সাঃ) এর হাদীস নির্ভরযোগ্য সুত্র থাকে আসে, যার অনুসরণ করা আল্লাহ কর্তৃক আমাদের উপর ফরজ, আর সেই হাদীস যদি আমাদের মাযহাবের বিপরীত হয়, তখন যদি আমরা হাদীস ছেড়ে দিয়ে ধারনাপ্রসুত বিষয়ের (মাযহাবের) অনুসরণ করি, তাহলে আমাদের থেকে বড় জালিম আর কে হবে ? আর ক্বিয়ামতের দিন, যেদিন মানব জাতি আল্লাহর কাঠগড়ায় দন্ডায়মান হবে সেদিন আমাদের উযর (জবাব) কি হবে ? – হুজ্জতুল্লাহিল বালিগা ১/১৫৫, দেওবন্দ হিন্দুস্থানী ছাপা।

চিন্তা- ১০। এখন থেকে “আল্লাহর হুকুম মানা ও রাসুল (সা:) এর তরীকা” নিজে মানবো এবং নিম্নলিখিত ব্যাপারে সবাইকে তা মানার দাওয়াত দিবো :
“আল্লাহর হুকুম মানা ও রাসুল (সা:) এর তরীকা” মানতে হবে:
- কি কি আক্বীদা রাখবো, সে ব্যাপারে – আল্লাহ সম্পর্কে, রাসুল(সা:) সম্পর্কে, নবীগণ , ফেরেস্তা , কিয়ামত, জান্নাত, জাহান্নাম, ইলমে গায়েব ইত্যাদি সকল ব্যাপারে।
- শিরক, কুফর, বিদয়াত এর ব্যাপারে। 
- ইবাদত কি করবো, কিভাবে করবো, সে ব্যাপারে।
- ব্যাক্তিগত জীবনে।
- পারিবারিক জীবনে ।   
- সামাজিক জীবনে।   
- ওর্থনৈতিক জীবনে।
- রাজনীতি জীবনে।
- আন্তর্জাতিক জীবনে।
 আল্লাহ আমাকে  ও সকল মুমিনকে তওফীক দিন, আমীন।

———————– ইনশাআল্লাহ চলবে  ————————

]]>
http://shodalap.com/abdullahbd2008/7647/feed 5
মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিয়ে ব্লগ http://shodalap.com/smraihan/7616 http://shodalap.com/smraihan/7616#comments Tue, 31 Aug 2010 19:05:25 +0000 এস.এম. রায়হান http://shodalap.com/?p=7616 বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশী ভক্তি-শ্রদ্ধার সাথে যাঁর নাম স্মরণ করা হয় – তিনি হচ্ছেন মুহাম্মদ (সাঃ)। প্রায় দেড়-দুই বিলিয়ন মানুষ প্রতিদিন নিদেনপক্ষে কয়েকবার তাঁর নাম অত্যন্ত ভক্তি-শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে থাকে। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশী ঘৃণা ও অশ্রদ্ধার সাথে যাঁর নাম উচ্চারণ করা হয় – তিনিও হচ্ছেন মুহাম্মদ (সাঃ)। এমনকি বর্তমান বিশ্বে ‘প্রফেট’ বা ‘নাবী’ শব্দটি উচ্চারণের সাথে সাথে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে প্রায় সবার সামনে যাঁর নাম ভেসে ওঠে – তিনিও হচ্ছেন মুহাম্মদ (সাঃ)। মানব জাতির ইতিহাসে এমন ব্যতিক্রমমূলক ব্যক্তিত্ব আর দ্বিতীয়টি নেই। ইসলামের প্রত্যেকটি বিষয়ই যেন একেকটি মিরাকলের মতো। আল-কোরআন নামক মহা-গ্রন্থটি হচ্ছে তাঁর মুখনিঃসৃত বাণী – তাঁর দাবি এবং প্রায় দেড় বিলিয়ন মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ তথা এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার বাণী – যে বাণীকে নূর তথা আলোর তৈরী অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাধ্যম (জীব্রাঈল ফেরেশতা)-এর সাহায্যে তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছে।

“Great minds have always encountered violent opposition from mediocre minds.” – Albert Einstein

 

What they say about Muhammad?

If greatness of purpose, smallness of means, and astounding results are the three criteria of human genius, who could dare to compare any great man in modern history with Muhammad? Mohammad established a system based upon true and immortal ideology. Is there any like he? – (Alphonse Lamartine, French historian and philosopher)

Philosopher, Orator, Apostle, Legislator, Warrior, Conqueror of ideas, the Restorer of rational beliefs, the Preacher of a religion without images, the Founder of twenty terrestrial empires and of one heavenly Empire, that is Muhammad. As regards all standards [I repeat, “ALL”] by which human greatness may be measured, we may well ask, “Is there any man greater than he?” – (Alphonse Lamartine)

My choice of Muhammad to lead the list of the world’s most influential persons may surprise some readers and may be questioned by others, but he was the only man in history who was supremely successful on both the secular and religious level….It is probable that the relative influence of Muhammad on Islam has been larger than the combined influence of Jesus Christ and St. Paul on Christianity….It is this unparalleled combination of secular and religious influence which I feel entitles Muhammad to be considered the most influential single figure in human history. – (Michael H. Hart, American Astrophysicist)

I have studied him – the wonderful man – and in my opinion far from being anti-Christ he must be called the savior of humanity. – (George Bernard Shaw)

Leaders must fulfill three functions – provide for the well-being of the led, provide a social organization in which people feel relatively secure, provide them with one set of beliefs. People like Pasteur and Salk are leaders in the first sense. People like Gandhi and Confucius, on one hand, and Alexander, Caesar and Hitler on the other, are leaders in the second and perhaps the third sense. Jesus and Buddha belong in the third category alone. Perhaps the greatest leader of all times was Mohammed, who combined all three functions. To a lesser degree, Moses did the same. – (Jules Masserman, Professor of History and Psychoanalyst)

He was Caesar and Pope in one; but he was Pop without Pope’s pretensions, Caesar without the legions of Caesar: without a standing army, without a bodyguard, without a palace, without a fixed revenue; if ever any man had the right to say that he ruled by the right divine, it was Mohammad, for he had all the power without its instruments and without its supports. – (Reverend B. Smith)

Mohammad never assigned himself a status more than a common man and a messenger of God. People had faith in him when he was surrounded by poverty and adversity and trusted him while he was the ruler of a great Empire. He was a man of spotless character who always had confidence in himself and in God’s help. No aspect of his life remained hidden nor was his death a mysterious event. – (M.H. Hyndman)

I become more than ever convinced that it was not the sword that won a place for Islam in those days in the scheme for life. It was the rigid simplicity, the utter self-effacement of the Prophet, the scrupulous regard for his pledges, his intense devotion to his friends and followers, his intrepidity, his fearlessness, his absolute trust in God and his own mission. These and not the sword, carried everything before them and surmounted every trouble. The sayings of Muhammad are a treasure of wisdom not only for Muslims but for all mankind. – (Mahatma Gandhi)

The personality of Muhammad, it is most difficult to get into the whole truth of it. Only a glimpse of it I can catch. What a dramatic succession of picturesque scenes! There is Muhammad, the Prophet; there is Muhammad, the Warrior; Muhammad, the Businessman; Muhammad, the Statesman; Muhammad, the Orator; Muhammad, the Reformer; Muhammad, the Refuge of Orphans; Muhammad, the Protector of Slaves; Muhammad, the Emancipator of Women; Muhammad, the Judge; Muhammad, the Saint. All in all these magnificent roles, in all these departments of human activities, he is like a hero. – (K. S. Ramakrishna Rao, Professor of Philosophy)

Mohammad was the greatest Executive Officer for implementation of the Divine Will. Like other prophets he knew that time will come when all mankind will become one community. – (H.N. Spalding)

If the object of religion be the inculcation of morals, the diminution of evil, the promotion of human happiness, the expansion of the human intellect, if the performance of good works will avail in the great day when mankind shall be summoned to its final reckoning it is neither irreverent nor unreasonable to admit that Muhammad was indeed an Apostle of God. – (S. P. Scott, History of the Moorish Empire in Europe)

Muhammad adhered meticulously to the charter he forged for Medina, which – grounded as it was in the Qur’anic injunction, “Let there be no compulsion in religion” (2:256) – is arguably the first mandate for religious tolerance in human history. – (Huston Smith)

Mohammad introduced the concept of such Glorious and Omnipotent God in Whose eyes all worldly systems are pieces of straw. Islamic equality of mankind is no fiction as it is in Christianity. No human mind has ever thought of such total freedom as established by Mohammad. – (Dr. Mawde Royden)

The Book revealed to Muhammad is one and unique of its kind. It has left indelible impression on the hearts of humanity. Nothing can overcome its majesty. The Qur’an has given new dimensions to human thinking – Surprising reforms, stunning success! The power that created in Muslims a ravenous appetite for knowledge sprung from the Qur’an. – (Rev. B. Margoliouth, Biographies of Mohammad)

Of all the world’s greatest men none has been so much maligned as Muhammad. It is easy to see how this has come about. For centuries Islam was the great enemy of Christendom, for Christendom was in direct contact with no other organized states comparable in power to the Muslims. – (William Montgomery Watt)

It was the West, not Islam, which forbade the open discussion of religious matters. At the time of the Crusades, Europe seemed obsessed by a craving for intellectual conformity and punished its deviants with a zeal that has been unique in the history of religion. The witch-hunts of the inquisitors and the persecution of Protestants by the Catholics and vice versa were inspired by abstruse theological opinions which in both Judaism and Islam were seen as private and optional matters. Neither Judaism nor Islam share the Christian conception of heresy, which raises human ideas about the divine to an unacceptably high level and almost makes them a form of idolatry. The period of the Crusades, when the fictional Mahound was established, was also a time of the great strain and denial in Europe. This is graphically expressed in the phobia about Islam. – (Karen Armstrong)

 

The Prophet Muhammad’s Last Sermon

 

 

Muhammad: Legacy of a Prophet

 

 

The Prophet Muhammad’s 40 Hadiths

 

 

Inspired By Muhammad

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Was Muhammad Merciful?

 

Nasheed about Muhammad

 ————————————————————

নবী-রাসূল নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভ্রান্তি আর বিদ্বেষ

মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর সুন্নাহ নিয়ে বিভ্রান্তি

বদর যুদ্ধের কারণ

Teachings of the Qur’an

Debunking The Slander Against Prophet’s Marriage

]]>
http://shodalap.com/smraihan/7616/feed 6
কোরআনের কথা – ১ http://shodalap.com/samad/7621 http://shodalap.com/samad/7621#comments Tue, 31 Aug 2010 17:58:51 +0000 samad http://shodalap.com/?p=7621 পরম করুনাময়, অতিশয় দয়াবান আল্লার নামে আরম্ভ করছি। আল-কোরান এক মহা-গ্রন্থ। বিশ্ব মানবের পথ প্রদর্শক, গাইড লাইন, যা অতি পবিত্র উচ্চ মর্যাদাশীল কিতাবে, পূত পবিত্র্র লীপিকারের হাতে লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত রয়েছে। কোরান আল্লার বাণী, মোত্তাকি গনের পথনির্দেশক। আকাশ ও পৃথিবীতে এমন কোন রহস্য নেই যা এই সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা নেই। (২৭/৭৫) কোরান বিশ্ব জগতের জন্য উপদেশ গ্রন্থ, কোরান সৎ পথের দিশারী ও অবিশ্বাসীগনের জন্য ভয়াবহ বার্তা। কোরান হাবলুল্লাহিল মতিন অর্থাৎ আল্লার দেওয়া মজবুত রশি – যার এক প্রান্ত আল্লার কাছে অন্য প্রান্ত মানুষের কাছে।

কোরান বিজ্ঞান ময় গ্রন্থ। (৩৬/২) কোরান বিশ্ববাসীর সংবিধান। কোরান সংখ্যা তত্বের এক বিষ্ময়কর অবিচ্ছেদ্য নিপুন বাঁধনে রচিত গ্রন্থ। সর্বোপরি কোরান বিশ্ব নবীর শ্রেষ্ঠ অলৌকিক চ্যালঞ্জিং মোজেযা বা হাতিয়ার। মোজেযা তাই যাদিয়ে প্রতি পক্ষকে চ্যালেঞ্জ করে পরাজিত করা যায়। হজরত মূসা আঃ এর ছিল প্রাধান দুটি মোজেযা-হাতের লাঠির কেরামতি ও হাতের তালু নির্গত শুভ্র রশ্মি, যাকে লেসার রশ্মি বলে ধারণা করা হয়। হজরত ঈশা আঃ এর ছিল একাধিক মোজেযা। আল্লার অনুমতি ক্রমে, মৃতকে জীবিত, অন্ধকে চক্ষুস্মান, অসুস্থকে সুস্থতা দান ইত্যাদি।

বিশ্ব নবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মোজেযা আল কোরান যা ১৪০০ বছর যাবৎ চ্যালেঞ্জ দিয়ে রেখেছে, রচনা কর এমন একটি সুরা কোরানের মত; আল্লা ছাড়া যাকে খুশী সাথে নিয়ে ২/২৩, আজও চ্যালেঞ্জ হয়েই রয়েছে। অথচ মাত্র তিন আয়াতেই সুরা হতে পারে।

কোরানে রয়েছে ১১৪টি সুরা। “ইকরা বিসমে রাব্বিকা” এর মাধ্যমে কোরান নাজিল শুরু হয়,শেষ হয়, “আল ইয়ামা আকমালতো——–অ রাজিতো লাকুমুল ইসলামা দীনা” এর মাধ্যমে। দীর্ঘ ২৩ বছর যাবৎ অল্প অল্প করে, কখনও কয়েকটি আয়াত, কখনও পূর্ণ সুরা হজরত জীবরাঈ আঃ এর মারফত  নবীর অন্তরে অবতীর্ণ হতে থাকে। খণ্ড খণ্ড আয়াত গুলি আল্লার নির্দেশে জীবরাঈ আঃ এর পরামর্শ মত সঠিক যায়গায় সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ সুরা গঠিত হয়। রসুলের দঃ মক্কা বাসের কালে অবতীর্ণ সুরা গুলিকে মক্কী আর মদিনা বাসের কালে অবতীর্ণ সুরা গুলিকে মাদানী সুরা বলা হয়।

সুরা বা আয়াত অবতীর্ণের যথা সম্ভব শীঘ্র রসুল সঃ তা ওহী লেখক গনের দ্বারা লিখিয়ে নিতেন। ওহী নবীর অন্তরে গাঁথা হয়ে যেত অতএব ভুল বা উলটা পালটা হওয়ার অবকাশ ছিলনা। নবীর সঃ বিস্মৃত হওয়ার ব্যাকুলতায় আল্লা সুখবর জানালেন- “হে নবী আয়াত স্মরণে রাখতে তোমা জিহবাকে কষ্ট দেবার প্রয়োজন নেই, আমি কোরান নাজিল করাচ্ছি, একে সংকলনন ও আবৃত্তি করানোর দায়িত্ব ও আমার। (৭৫/১৬)

উল্লেখ করা যেতে পারে কোরান নাজিলের ধারা ও বর্তমান কোরান গ্রন্থের ধারা এক নয়। আল্লাহরই নির্দেশ মত আয়াত ও সুরাগুলি সঠিক ভাবে সাজিয়ে কোরানকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয় এবং এই ধারা মোতাবেক হাফেজগন কোরান অন্তরে ধারণ করেন। নবীর জীব্দশায় কোরান গ্রন্থাকারে ছিলনা কিন্তু অসংখ্য হাফেজ তা বর্তমান ধারা মোতাবেক অন্তরে ধারণ করে রেখেছিলেন। এ হেন হাফেজ গন বিভিন্ন যুদ্ধে শহীদ হতে থাকলে কোরান সংরক্ষনের প্রয়োজনিয়তা সবার খেয়ালে আসে। প্রথমে অমত করলেও অধিকাংশ সাহাবী গনের মতের প্রাধান্য দিয়ে ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবুবকর সিদ্দীক, ওহী লেখক ও হাফেজ গনের সমন্নয়ে গঠিত কমিটির দ্বারা গ্রন্থাকারে কোরান লীপি বদ্ধ করান। কোন নিয়মানু বর্তিতা বা বাধ্যবাধকতা না থাকায় কোরান নকলে ক্রমে ক্রমে আঞ্চলীকতার প্রভাব পড়তে থাকে। পরবর্ত্তীতে এ সমস্যা রোধ কল্পে ইসলামের ৩য় খলিফা হজরত ওসমান রাঃ অবশীষ্ট হাফেজ ও ওহী লেখক গন দ্বারা কোরানের কয়েকটি অফিসিয়াল কপি প্রস্তুত করান, নিজেরর কাছে এক কপি রেখে বিভিন্ন শহরে কপি পাঠিয়ে নতুন কপি অনুযায়ী অনুলীপি তৈরী ও পুরাতন কপিগুলি বাজেয়াপ্ত করার ফরমান জারী করেন। হজরত ওসমান রাঃ এর ব্যবহৃত কোরান খানি বর্তমানে ইস্তামবুলের যাদু ঘরে রক্ষিত আছে বলে বলা হয়েছে। বর্তমানের কোরান গুলি উল্লেখিত কোরানেরই অনুলীপি, তাই একে মোসহাফে ওসমানী বলা হয়। গর্বের সাথে দাবী করা যেতে পারে-পৃথিবীর দুই প্রান্তের দুটি কোরানের মাঝে বিন্দু মাত্র গরমিল নেই।   

চলবে-

(ডাঃ ইসরার আহমদ সাহেবের “বয়ানুল কোরআন” এর আলোকে)

]]>
http://shodalap.com/samad/7621/feed 6
কতটুকু, কতক্ষণ… http://shodalap.com/mariner/7602 http://shodalap.com/mariner/7602#comments Mon, 30 Aug 2010 18:06:20 +0000 mariner http://shodalap.com/?p=7602 বেঁচে থাকা হয়তো জরুরী – তবে কতটুকু?
মরে যাওয়া হয়তো ভয়ের – তবে কতটুকু?
প্রতিদিন দানবের হাতে মানবের
নিগৃহীত হবার ছবি, অথবা খবর৷
প্রতিদিন বান্দরের হাতে সুন্দরের
অপমানিত হবার ছবি, অথবা খবর৷
তারপরও বেঁচে থাকা কি এতটা জরুরী?
তারপরও মরে যাওয়া কি এতটা ভয়ের?

তারাবীর জামাতে দাঁড়ানোর জায়গা পাওয়া ভার -
অথচ মিডিয়ায়, পত্রিকায়, নাস্তিকের হাতে বিশ্বাসীর
সকাল-বিকাল নিগৃহীত হবার, অথবা, মিথ্যার
কাছে সত্যের পরাজিত হবার কত সমাচার!
এখনকার দুঃসময়ে বুঝেও না বোঝার
ভান করা হয়তো জরুরী – তবে কতক্ষণ?
স্বাধীনতার গান গাইতে গাইতে, শৃঙখলিত
হওয়াও হয়তো কৌশল – তবে কতক্ষণ?
“টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়” জেনেও
হয়তো টিকে থাকাটা জরুরী – কিন্তু কতটুকু?
আজকের বিপরীত স্রোতে কেবল ভেসে
থাকাটাই হয়তো জরুরী – কিন্তু কতক্ষণ?

]]>
http://shodalap.com/mariner/7602/feed 0
আমাদের চাঁদ ছোট হয়ে চলেছে! http://shodalap.com/panjeri/7590 http://shodalap.com/panjeri/7590#comments Sun, 29 Aug 2010 18:09:18 +0000 Panjeri http://shodalap.com/?p=7590 মস্করা নয়, চাঁদ সত্যি ছোট হয়ে যাচ্ছে৷ মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা’র বিজ্ঞানীরা মাপজোক করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছেন৷ চাঁদের আয়তনের এই পরিবর্তন আচমকা ঘটছে না – বহুকাল ধরেই নাকি ঘটে চলেছে৷ তবে সম্প্রতি যেন এই পরিবর্তনের গতি কিছুটা বেড়ে গেছে৷ আসলে জন্মের পর থেকে চাঁদের তাপমাত্রা কমে চলেছে৷ শীতে চাঁদ কুঁকড়ে যাচ্ছে৷ প্রথমে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, যে চাঁদের ভূ-তাত্ত্বিক কার্যকলাপ বহুকাল আগেই বন্ধ হয়ে গেছে৷ কোটি কোটি বছর আগে যা হয়েছিল, তার পর নতুন করে আর কিছু ঘটছে না৷ কিন্তু বাস্তবে চাঁদ আজও সক্রিয় রয়েছে৷

নাসার ‘লুনার রিকনোসেন্স অর্বিটার’ এই মুহূর্তে চাঁদের মানচিত্র তৈরি করছে৷ সেই ছবি থেকে দেখা যাচ্ছে, যে চাঁদের বুকে নতুন করে কিছু টিলা জেগে উঠছে৷ কয়েক মিটার উঁচু এই সব টিলা কয়েক জায়গায় এমনকি কয়েক কিলোমিটার চওড়া৷ মাটির তলা থেকে চাপের ফলেই এদের জন্ম হচ্ছে৷ এর মধ্যে সবচেয়ে বড় টিলার উচ্চতা ৯১ মিটার৷ মানুষ যখন থেকে চাঁদে যান পাঠানো শুরু করেছে, তখন থেকেই এই ধরণের টিলার অস্তিত্ব জানা ছিলো বটে৷ কিন্তু ইদানিং অনেক অজানা টিলার সন্ধান পাওয়া গেছে৷

প্রশ্ন উঠতে পারে, এদের বয়স কীভাবে জানা যেতে পারে? চাঁদের বুকে প্রায় সর্বত্র উল্কাপাতের চিহ্ন দেখা যায়৷ অথচ বেশ কয়েকটি টিলা সেই সব চিহ্নের কিছুটা উপরেই তৈরি হয়েছে৷ অর্থাৎ উল্কাপাতের পর টিলা সৃষ্টি হয়েছে৷ সাধারণত উল্কাপাতের চিহ্ন বেশিকাল অক্ষত থাকে না৷ ফলে বোঝা যাচ্ছে, টিলা বেশ দ্রুত তৈরি হয়েছে৷ তবে চিন্তার কারণ নেই – কয়েকদিন পর চাঁদ মোটেই লোপ পাবে না৷ এই প্রক্রিয়া এতই সূক্ষ্ম, যে কোটি কোটি বছর পর আয়তন কয়েক মিটার কমতে পারে৷ [সূত্র]

]]>
http://shodalap.com/panjeri/7590/feed 5
নাস্তিকতাবাদের একটি বড় সমস্যা http://shodalap.com/fuad/7585 http://shodalap.com/fuad/7585#comments Sun, 29 Aug 2010 14:43:56 +0000 Fuad http://shodalap.com/?p=7585 অনেক নাস্তিক ফিলসফার বলে থাকেন,

১. ঈশ্বর আছেন এর সপক্ষে কোন প্রমান নেই।
২. ঈশ্বর নেই এর সপক্ষেও কোন প্রমান নেই।

উভয় কথাই তারা মেনে নেন। এখন ধরুন, আপনি একটি বলের বাক্স আনলেন। বক্সটি এরকম যে এর ভিতরে কি আছে দেখা যায় না। এখন, দুই জন মানুষ পাওয়া গেল। একজন বললঃ বক্সের ভিতরে বল আছে, আমি বিশ্বাস করি। আরেকজন বলল, না এখানে বল নেই, আমি বিশ্বাস করি। ভাল করে চিন্তা করে দেখুন, বল না থাকলে এর পক্ষে প্রমান থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বল থাকার ক্ষেত্রে আন্দাজ করে বলা যায়, বল থাকলেও থাকতে পারে যেহেতু বল নেই এমন কোন প্রমান নেই। তার মানে না-থাকার চেয়ে থাকার পক্ষের যুক্তিই জোরালো। (ব্যাপারটি বুঝাতে পারলাম কি না কি জানি)

বুঝার জন্য আবার ট্রাই করি, আব্দুলের কাছে ৫ টাকা আছে কি নেই?

১. আব্দুলের কাছে ৫ টাকা থাকতে পারে।
২. আব্দুলের কাছে ৫ টাকা নাও থাকতে পারে।

(১*১) ৫ টাকা থাকার পক্ষে কোন প্রমান নেই, এর মানে তার কাছে ৫ টাকা থাকলেও থাকতে পারে।
(২*১) ৫ টাকা না থাকার পক্ষে কোন প্রমান নেই, তার মানে তার কাছে ৫ টাকা থাকলেও থাকতে পারে।

এই পয়েন্ট গুলি বিবেচনায় আনলে দেখা যায়, বিশ্বাসীদের পক্ষের যুক্তিগুলিই জোরালো।

বিশ্বাস কোন খারাপ জিনিস না। বিশ্বাস আছে বলেই আপনি ভালবাসতে পারেন আপনার বাবা-মা কে। বিশ্বাস আছে বলেই, আপনি আপনার ভাইকে লক্ষ টাকা দিতে পারেন। আর ভালবাসতে পারেন এই পৃথিবীকে আর এর মানুষ কে। আর বিশ্বাস না থাকাই অশান্তি। চরম অশান্তি। যারা তাদের ভাই কিংবা বোন অথবা ভালবাসার মানুষকে বিশ্বাস করতে পারে না, তাদের জীবন যে কত অসহ্য, তাদের দেখলেই বুঝবেন। বিশ্বাস আছে বলেই, আপনি একজন সম্মানিত শিক্ষক কে সম্মান করেন, এই বিশ্বাস না থাকলেই আপনি তা করতেন না। বিশ্বাসের উপর ভর করেই এই পৃথিবী চলে। তাই চলুন, বিশ্বের স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, আমাদের সৃষ্টি করার জন্য। যদি আপনি সাধারন বিষয় বিশ্বাস করতে পারেন, তাহলে স্রষ্ঠাকে বিশ্বাস করায় দোষ কোথায়।

কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ
১ ফরিদ আহমেদ, মুক্তমনার মডারেটর। (উনার একটি অনুবাদ আমাকে এ ব্যাপারটি বুঝতে সহায়তা করেছে)
২ নাম না জানা এক লেখক (বিশ্বাসের গুরুত্ব বুঝতে আমাকে সহায়তা করেছে)
]]>
http://shodalap.com/fuad/7585/feed 4
বহু দিন পর ঘরে ইফতারী করলাম http://shodalap.com/fuad/7569 http://shodalap.com/fuad/7569#comments Sat, 28 Aug 2010 16:02:25 +0000 Fuad http://shodalap.com/?p=7569 সকাল বেলায় ক্লাসে দৌড়াও, বাসায় আসার সুযোগ নেই, জবে যেতে হবে, তাই কোন রকম একটি কোক কিংবা ফিস বার্গার দিয়ে প্রতিদিন ইফতারী করা হয়, তবে ছুটির দিনগুলিতে মসজিদে ইফতারী করি, এভাবেই রোজার দিনগুলি চলছে। খারাপ না, ভালই দিনকাল চলছে। মসজিদের সবার সাথে ইফতারী করার মজাই আলাদা। কিন্তু তবুও কী জানি মিস করছিলাম। আহা-রে কত দিন বাসায় ইফতারী করা হয়নি!

আজকে শনিবার, ছুটির দিন, পড়াশুনা কিছুই নেই, থাকলেও আলসামীর কারনে আর পড়া হয়ে উঠেনি। হঠাত মনে পড়ল, আজকে বাসায় ইফতারী করলে কেমন হয়? যেই বলা সেই কাজ। চিন্তা করলাম, বেগুনী, ছানা, ডাইলের বড়া(পিয়াজু) আর ডিজার্ট বানানোর চিন্তা করলাম। কিন্তু সমস্যায় পরলাম, বাসায় কিছু নেই। বেসন না কি জানি লাগে। কিন্তু আমার হাউজ মেইট রা খুব চালু। ঢাকার ছেলে, তাই বুদ্ধিমান হবে এটাই স্বাভাবিক। খুব সহজেই তারা দুই জন প্লেন করে ফেলল কিভাবে কি করবে। আমি আর আরেকজন বাজারে বের হলাম। তারা ঝাল আইটেমের বাজার বুঝিয়ে দিয়ে আমি চলে গেলাম ডিজার্ট জাতীয় কিছু যোগার করতে। আমার কাজ মুটামুটি সহজ, রেডিমেট কাটার্ড, চকলেট কেইক আর বেশ কিছু ফ্রুট নিয়ে নিলাম সাথে প্রিন্সের শ্যামাই। বাসায় এসে দেখি দুম ধাম রান্না চলছে। তবে বেসনে যে লবল দিতে হয়, এই খবর কাউরো নেই, তার উপর ছানাকে তো পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। তাই যা হবার তাই হল, খাবরে লবণ নেই, ছানা শক্ত পাত্থর হয়ে গেছে। পরে লবণ টবন দিয়ে আয়েশী ভাব নিয়ে খাওয়া শুরু করলাম। নাহ মন্দ হল না, তবে জোর করে পাথরের কণা মানে ছানা বুট গুলি খেতে চেষ্টা করলাম। হল না, সব ছানা বুট ফেলে দিতে হল।

তবে আমার করা অংশ গুলি অসাধারন হল, (আমার কোন ক্রেডিট নেই, সব রেডিমেইট) কাস্টর্ড এর সাথে ফ্রুট পিস করে মিশিয়ে দিলাম। আর কেইক শুধু কষ্ট করে পিস করলাম। আর শ্যামাই বানানো সহজ কাজ দুধ, শ্যামাই আর চিনি মিশিয়ে দিলেই হয়। নিজের বানানো ইফতার করতে, আলাদা মজাই লাগল। আরেক বার একটি কবিতা লিখার চেষ্টা করলাম। কেন জানি আমার কবিতা গুলির কোন নাম ঠিক করতে পারি না। কবিতা নাকি গদ্য হল বুঝতে পারলাম না।

রাতের আকাশের ওই আলোকিত চাঁদ,
আমি আর আব্বু মিলে চেয়ে নিতাম,
তিনি বলতেন, ঐ যে চাঁদের আলো তা কিন্তু তার নিজের নয়,
সূর্যের আলো, সে ধার করে নিয়ে এসেছে,
আর চাঁদের যে ঐ বড় দাগ, তাও একটি গর্ত; বিশাল গর্ত,
কিন্তু পারার ছেলেরা অন্য কাহিনী নিয়ে এসেছিল,
ওই গর্ত নাকি গর্ত নয়,
তা একটি বুড়ি যে সুতা বানায়,
পূর্নিমার রাতে সুতা গুলি ছড়িয়ে দেয়,
কিছু দিন পরে নিজেই সুতা গুলি পেলাম,
আর মনে মনে হাসলাম,
সুতার উতস খুজে খুজে কিছু বের করতে পারলাম না,
কিছু দিন পরেই নদীর পারের কার্পাশ তুলার গাছ গুলি চোখে পড়ল,
এগুলো কেউ ফলায় না, আপনা আপনি হয়,
বুঝলাম ঐ তুলা গুলিই আসলে বাতাসে ভেসে বেড়ায়,
আর মানুষ কত রকমের কাহীনি বানায়।

চাঁদের ধার করা আলো দেখে আশ্চর্য হই না,
আমাদের সব কিছুই তো ধার করা,
পরিবেশের কত কিছুই ধার করে নেই,
কিছু স্বীকার করি কিংবা নাই করি।

]]>
http://shodalap.com/fuad/7569/feed 8
বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত আমাদের এই পৃথিবী- উদ্দেশ্যহীন নয়তো! – ২ http://shodalap.com/shams/7542 http://shodalap.com/shams/7542#comments Sat, 28 Aug 2010 06:38:23 +0000 Shams http://shodalap.com/?p=7542 চারদিকে বিরাজমান আপাতদৃষ্টিতে দেখা অসীম এই বিশ্বব্রহ্মান্ডে প্রাণের সম্ভবনা আসলেই কতটুকু! যতটুকু জানা গেছে তাতে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত প্রায় পুরোটাই ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত। পাশ্চাত্য সভ্যতার মধ্যে প্রাচীন গ্রীকরাই প্রথম পৃথিবীর বাইরে অগণিত গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের ধারণা দেন। এর অনেক পরে ষোলশতকে, পূর্বে ধারণাকৃত পৃথিবী-কেন্দ্রিক বিশ্বের বিপরীতে সূর্য-কেন্দ্রিক সিস্টেম ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের ব্যাপারে নতুন গবেষণার দ্বার খুলে দেয়। পরবর্তীতে রাশিয়ার স্পুটনিক ১৯৫৭-১৯৫৮ সালের দিকে মহাশুন্যে অভিযান চালিয়ে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করে। মহাবিশ্ব সম্পর্কে কার্যকরভাবে আমাদের ধারণায় ব্যাপক পরিবর্তন আসতে শুরু করে তখন থেকেই।

মহাবিশ্বে এই প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে বিজ্ঞানমহলে উৎসাহের সীমা পরিসীমা নেই। তবে তাদের মধ্যে কার্ল স্যাগানের নাম এসে পড়ে বিশেষভাবে। অত্যন্ত মেধাবী এই বিজ্ঞানীর মহাকাশ গবেষণায় অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর প্রকাশিত বই এর সংখ্যা ২০ এবং জার্নাল পেপার ৬০০-র অধিক। মহাবিশ্বে আমাদের এই পৃথিবীর বিশেষ সুবিধাজনক অবস্হাকে তিনি গুরুত্বহীন হিসাবে দেখেছিলেন। অবশ্য এর পরে অনেক জল গড়িয়েছে। মহাকাশে প্রাণের ব্যাপারে তাঁর বেশ কিছু মন্তব্য সুধীমহলে অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন তাঁর বিশেষ উক্তির জন্য: “অসাধারণ দাবীর প্রয়োজন অসাধারণ প্রমাণ।” তবে মজার ব্যাপার হল, যারা মহাবিশ্বের এই বিশালতাকে নাস্তিক্যবাদের সহায়ক ভেবে প্রচার চালাচ্ছেন তাদের থেকে কার্ল স্যাগান বিপরীত অবস্হানেই ছিলেন। বিশ্বাসের নিরিখে তিনি নিজেকে নাস্তিক না বলে সংশয়বাদী বলেই পরিচয় দিতেন এবং একজন নাস্তিককে তাঁর থেকে বেশী জানতে হবে বলে মত দেন। তিনি মনে করতেন একজন নাস্তিককে নিশ্চিতভাবে জানতে হবে যে ঈশ্বর নেই! তার মতে এটা অসম্ভব এবং এধারণা পোষণকারীরা ‘গন্ডমূর্খ’ এর সমতুল্য। তাঁর নিজের উক্তিতে: “An atheist has to know a lot more than I know. An atheist is someone who knows there is no God. By some definitions atheism is very stupid.” ভাবা যায়, আজ যারা স্বগর্ভে নিজেদের নাস্তিক বলে পরিচয় দেয় তারা কার্ল স্যাগান থেকে কতইনা জ্ঞানী!!! তবে নিয়মিত মারিজুয়ানা নেয়া কার্ল স্যাগান অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের ব্যাপারে একটু বেশীই বাড়িয়ে বলে ফেলেছিলেন। অবশ্য এরজন্য তাকে সমালোচনার মুখাপেক্ষীও হতে হয়েছিল অনেক।

শুধু কার্ল স্যাগানই নয়, অন্যান্য নামী-দামী বিজ্ঞানীদের সাথে যোগ দিয়েছেন বর্তমান সময়ের সেরা পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং। ডিসকভারী চ্যানেলের ধারণকৃত এক তথ্যচিত্রে তাঁর এলিয়েনদের এই পৃথিবীতে আগমনকে কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের সাথে তুলনা করাকে অতিরন্জিত হিসাবে দেখছেন অনেকেই। ভিনগ্রহে প্রাণের উৎসের খোঁজে নিবেদিতপ্রাণ প্রতিষ্ঠান ‘সেটি’ (SETI)’র সিনিয়র জোতির্বিদ সেথ শোসটাক একে শ্রেফ অপ্রয়োজনীয় ভয় বলে অভিহিত করেছেন। কারণ পৃথিবী থেকে বিবিসি, সিএনএন, বিমানবন্দেরর রাডার ইত্যাদির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই অনেক ‘সিগন্যাল’ মহাশুন্যে ছড়িয়ে পড়েছে যা এতোদিনে ৮০ আলোকবর্ষ দূরে পৌছে যাবার কথা। কিন্তু প্রত্যুত্তরে এখন পর্যন্ত সেরকম কিছুই ধরা পড়েনি! (চলবে…)

]]>
http://shodalap.com/shams/7542/feed 8
জেনে রাখা ভাল – ২ http://shodalap.com/smraihan/7538 http://shodalap.com/smraihan/7538#comments Sat, 28 Aug 2010 03:14:07 +0000 এস.এম. রায়হান http://shodalap.com/?p=7538 [পর্ব-১] বিগত চৌদ্দশ’ বছরের ইতিহাসে বড় বড় অমুসলিম বিজ্ঞানী, দার্শনিক, ও কবি-সাহিত্যিক যেমন গ্যালিলিও, নিউটন, আইনস্টাইন, বার্ট্রান্ড রাসেল, লুই পাস্তুর, মার্কোনি, নীলস বোর, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক, থমাস এডিসন, লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি, কার্ল মার্ক্স, চার্লস ডারউইন, জগদিশ চন্দ্র বসু, উইলিয়াম সেক্সপীয়ার, বার্নার্ড শ্য, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ও স্টিফেন হকিং-দের মধ্যে কেউই মুহাম্মদ (সাঃ) বা কোরআনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক কোন বই-পুস্তক বা প্রবন্ধ লিখা তো দূরে থাক সেরকম কোন উক্তিও হয়তো নেই। এমনকি আমগো ইসলাম-প্রেমী আদিল মাহমুদের নামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঘা-বাঘা অধ্যাপক ও নবেল লরিয়েটদের মধ্যেও উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু শোনা যায় না। তাঁরা যে অন্যান্য ধর্মের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার বা ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার চালিয়েছেন – তাও কিন্তু না।

এই যখন দিনের আলোর মতো বাস্তবতা তখন আপনারা কি এঁদের পথ অনুসরণ করতে চান – নাকি সালমান রুশদী, তসলিমা নাসরিন, ইবনে ওয়ারাক, আবুল কাশেম, কামরান মির্জা, ফেইথফ্রীডমের আলী সিনা, ইসলাম-ওয়াচের এমএ খান, ওয়াফা সুলতান, আয়ান হিরসি আলী, ননী দারউইশ, এবং তাদের বর্ণবাদী ও জাতিবিদ্বেষী ধর্মগুরু যেমন গীয়ার্ট ওয়াইল্ডার্স, প্যাট রবার্টসন, ও রবার্ট স্পিনসারদের মতো লোকজনের পথ অনুসরণ করতে চান? দ্যা চয়েস ইজ ইয়োরস। তবে দ্বিতীয় পথ অনুসরণ করে নিজেকে যুক্তিবাদী, সংশয়বাদী, মানবতাবাদী, মুক্তচিন্তক, বিজ্ঞানমনষ্ক, ইত্যাদি দাবি করলে কিন্তু বস্তির লোকজনও অপরিষ্কার ঝাড়ু নিয়ে তেড়ে আসবে! গাছেরও খাব আবার তলারও কুড়াব – তা হবে না (One can’t have his/her cake and eat it too)।

 

]]>
http://shodalap.com/smraihan/7538/feed 4
এক তাবলীগি ভাই এর আত্মপোলব্ধি! http://shodalap.com/abdullahbd2008/7505 http://shodalap.com/abdullahbd2008/7505#comments Thu, 26 Aug 2010 09:37:51 +0000 abdullahbd2008 http://shodalap.com/?p=7505 সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহর যে তিনি আমাকে তাঁর দ্বীন শিক্ষা দিয়েছেন এবং আমাকে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত বানিয়েছেন। আমিতো এক সাধারণ মানুষ ছিলাম, হয়তো অন্য অনেকের মতো এই দুনিয়ায় লিপ্ত থেকে আল্লাহ ও তাঁর দ্বীনকে না জেনেই মারা যেতে পারতাম। আল্লাহ তা থেকে আমাকে রক্ষা করেছেন। আলহামদু লিল্লাহ। বিশ্বব্যাপী দাওয়াতের যে মেহনত চলছে, তার মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে হেদায়েতের রাস্তা চিনিয়েছেন। আল্লাহ ঐ ভাইদেরকে কবুল করুন। অন্য কেউ স্বীকার করবে কিনা জানিনা, দাওয়াতের মেহনতের সাথে লেগে থাকা ভাইদের আন্তরিকতা, পরিশ্রম ও ইখলাস বা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য কাজ করার গুণটা যে কতটা গভীর, তা আল্লাহই জানেন। তারা টাকা-পয়সার অহঙ্কার ভুলে এক মুসলিম ভাই অন্য মুসলিম ভাইদের ইকরাম করছেন। এক্ষেত্রে কোন বংশ, আভিযাত্য বা অন্য কোন দুনিয়াবী স্ট্যাটাস বাধাঁ সৃস্টি করতে পারেনি। আল্লাহ তাদেরকে কবুল করুন। আমীন।

আমলদার ব্যাক্তি যখন কাউকে দাওয়াত দেয়, তখন যাকে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে তার উপর তাছীর অনেক বেশী হয়। তাছাড়া নিজে আমল না শুধু করে অন্যকে দাওয়াত দেয়ার ব্যাপারে কুরয়ানে এসেছে,

“হে মুমিনগণ, তোমরা যা করো না, তা কেন বলো? তোমরা যা করোনা, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক।” – সুরা সফঃ ২-৩

তাই আমি চিন্তা করেছি, আমি মানুষকে যে দাওয়াত দিচ্ছি, তার উপর আমল না করলে, আমি আলাহর দরবারে অপরাধী হয়ে যাবো। খেয়াল করে দেখলাম, ৩য় উসুল “ইল্ম ও জিকির” এর ব্যাপারে আমি বেশ উদাসীন। বিশেষতঃ শুধুমাত্র দুই বেলা “ফাজায়েলে আমল” অধ্যয়ন ছাড়া তেমন কোন ইলম চর্চা হচ্ছে না। তাই আমি দাওয়াতের মেহনতের পাশাপাশি ইলম চর্চার কথা চিন্তা করলাম। তাছাড়া ইলম চর্চার অসংখ্য ফজীলত আমি নিজেই বয়ান করেছি, পাঠকরা ইলম এর ফজীলত যথেস্ট জানেন বলে, আমি সেদিকে যাচ্ছি না। ছয় উসুলের প্রথম উসুল “কলিমা শাহাদাত – আশহাদুআল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু” সমপর্কে ইলম হাসিল করতে গিয়ে আমি নিম্ন লিখিত কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি। অন্যান্য দ্বীনি ভাই-বোনরা যাতে ঐ প্রশ্নগুলো নিয়ে চিন্তা করেন এবং তা হতে কিছু উপকৃত হতে পারেন, তাই তাদের সামনে সেগুলি তুলে ধরলামঃ

আমি চিন্তা করে দেখলাম, আমাকে যদি ইলম হাসিল করতে হয়, তবে অবশ্যই কুরাআন-হাদীস ভিত্তিক ইলম হাসিল করতে হবে কারণ রাসুল (সাঃ) বলেছেন,

“আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যদি তোমরা তা আকড়ে ধরো, তবে তোমরা পথভ্রস্ট হবেন – তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাঃ) সুন্নাহ।”

তাছাড়া মুরব্বীদের মুখে একটি আয়াত শুনেছি, “অতএব জ্ঞানীদেরকে (আহলে জিকির) জিজ্ঞেস করো, যদি তোমাদের জানা না থাকে।” – আন নাহলঃ ৪৩

তাই যে কোন ব্যাপারে না জানলে, আল্লাহ আহলে জিকিরকে অর্থাৎ যারা জিকিরের বা কোরয়ান-হাদীসের জ্ঞান রাখেন, তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে বলেছেন। তাই আমি কোরয়ান-হাদীস অনুযায়ী ছয় উসুল এর উপর জ্ঞান অর্জন করার নিয়্যত করলাম।

১। ১ম উসুল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (পর্ব ১)। কলিমা সম্পর্কে ইলম হাসিল করতে গিয়ে দেখলাম বদরের যুদ্ধের আগে নাকি আবু জেহেল কেঁদে কেটে আল্লাহর কাছে দুয়া করেছিলো, হে আল্লাহ আমাদের এবং তাদের মাঝে যারা সত্যের উপর আছে, তাদের তুমি বিজয় দান করো। মক্কার মুশরিকরা নাকি আল্লাহর উপরও কিছু কিছু ব্যাপারে ঈমান রাখতো। পবিত্র কুরয়ানে এসেছে,

“যদি তাদেরকে প্রশ্ন করো, কে তাদের সৃস্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে – আল্লাহ।” সূরা যুখরুফঃ ৮৭

“তুমি জিজ্ঞাসা করো, কে তোমাদেরকে আসমান থেকে ও জমিন থেকে রুযী দান করেন, কিংবা কে তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তির মালিক? তাছাড়া কে জীবিতকে মৄতের ভিতর থেকে বের করেন এবং কেইবা মৄতকে জীবিতের মধ্য থেকে বের করেন? কে করেন কর্ম সম্পাদনের ব্যবস্থা? তখন তারা বলে উঠবে, আল্লাহ। তখন তুমি বলো, তারপরেও তোমরা ভয় করছো না?” – সুরা ইউনুস : ৩১

“তুমি বলো এ পৄথিবী এবং এতে যা কিছু আছে এসব কার? যদি তোমরা জানো। তারা বলবে, আল্লাহর। বলো, তবে তোমরা কেন স্বরণ রাখোনা? বলো, কে সাত আসমানের মালিক এবং কে আরশের মালিক? তারা সাথে সাথে বলবে, আল্লাহ। বলো, তবে কেন তোমরা মেনে চলোনা? বলো, কে তিনি, যার হাতে সবকিছুর কতৃত্ব রয়েছে, আর কে নিরাপত্তা প্রদান করেন অথচ যাকে নিরপত্তা পেতে হয় না, যদি তোমরা জানো? তারা সাথে সাথে বলবে, আল্লাহ। বলো, তবে কেমন করে তোমাদের সম্মোহন করা হয়েছে?” – সুরা আল মুমিনুন ২৩:৮৪-৮৯

চিন্তা – ১: তাই আমি চিন্তা করেছি, এখন থেকে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকার সময় মক্কার কাফিরদের এ ধরনের ঈমান থাকার কথা জানাবো যাতে তারা বুঝতে পারেন, আল্লাহকে শুধু রিযিকদাতা, পালনকর্তা মানলেই যথেস্ট হবেনা বরং এ ধরনের ঈমান মক্কার কাফিরদের ও ছিলো। আল্লাহ প্রত্যেক নবীকে পাঠিয়ে একই দাওয়াত দিয়েছেন, তা হচ্ছে এই যে, আল্লাহর ইবাদত করো আর সকল মিথ্যা মাবুদদের কে অস্বীকার করো। তাইতো মক্কার কাফিররা রাসুল (সাঃ) এর উপর এতো ক্ষেপে গিয়েছিলো।

“তোমাদের পূর্বে যত রাসুলদের আমি পাঠিয়েছি তাদের সকল্কে ওহী মারফত জানিয়েছিযে, আমি ছাড়া সত্যিকার কোন উপাস্য নেই, তাই তোমরা সকলে একমাত্র আমারই ইবাদত করো।” – সূরা আম্বিয়াঃ ২৫

কাফিররা বলেছিলো, এই লোক কি আমাদের সকল মাবুদদেরকে বাদ দিতে বলছে আর একমাত্র তার ইলাহকে মেনে নিতে বলছে? কুরয়ানে এসেছে,

সে কি আমাদের সমস্ত মাবুদদের এক মাবুদ বানিয়ে ফেলতে চায়, এ তো বড়ই অবাক হওয়ার কথা।” – সূরা ছোয়াদঃ ৪-৫ 

“হে আমার জেলের সাথীদ্বয়! ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপালক ভালো, না কি এক আল্লাহ যিনি একক ও প্রচন্ড শক্তিধর? তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যে সমস্ত জিনিসের ইবাদত করছো তারা শুধু নাম মাত্র,  যাদেরকে তোমরা আর তোমাদের বাপ-দাদারা নামকরণ করেছো।” সূরা ইউসুফঃ ৩৯-৪০

চিন্তা – ২: তাই আমি চিন্তা করেছি, এখন থেকে মানুষকে আল্লাহ ছাড়া সকল মিথ্যা উপাস্যদেরকে অস্বীকার ও পরিত্যাগ করতে বলবো। এছাড়া নিজের মনগড়া ভাবে এসব মিথ্যা মাবুদের বর্ণনা দিবোনা, বরং কুরান-হাদীস হতে এসব মিথ্যা মাবুদদের বর্ণনা দিবো। আর তাদের অস্বীকার করার উপায় খুঁজবো। আমি দেখলাম রাসুল (সাঃ) এর জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে প্রথম উসুল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর দাওয়াত দিয়ে অর্থাৎ মিথ্যা মাবুদদের অস্বীকার করা আর এক আল্লাহর উপর ঈমান আনার উপর দাওয়াত দিয়ে।

চিন্তা – ৩: তাই আমি চিন্তা করেছি, মিথ্যা মাবুদদেরকে অস্বীকার করার পর সবাইকে কুরয়ান-হাদীস অনুযায়ী আল্লাহর উপর ঈমান আনতে বলবো। নিজেদের মনগড়া ভাবে নয়। কুরয়ানের কোন কোন আয়াতে দেখলাম, “যারা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে …” এই কথা বলে শুরু হয়েছে। আলিমদের থেকে বুঝলাম, ওযু, গোসল, নামাযের যেভাবে পূর্বশর্ত আছে, তেমনি ঈমান আনারও কিছু পূর্বশর্ত আছে। যেভাবে বিভিন্ন কারণে ওযু, গোসল নস্ট হয়, সেভাবে ঈমানও নস্ট হয়, তাই ঈমান নস্ট হওয়ার কারণগুলি ভালোভাবে জানবো ও সবাইকে জানাবো।

চিন্তা – ৪: তাই আমি চিন্তা করেছি, ঈমান আনার পূর্বশর্তগুলি ও ঈমান নস্ট হওয়ার কারণগুলি কুরান-হাদীস থেকে জানবো ও সবাইকে জানানোর চেস্টা করবো।

(ইনশাআল্লাহ চলবে)

]]>
http://shodalap.com/abdullahbd2008/7505/feed 2
জীবনের Countdown http://shodalap.com/mariner/7503 http://shodalap.com/mariner/7503#comments Wed, 25 Aug 2010 23:00:54 +0000 mariner http://shodalap.com/?p=7503 প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা!

আমরা হয়তো খেয়াল করি না বা ভেবে দেখার অবকাশ নিই না যে, জন্মলগ্ন থেকে আমাদের জীবনে এক ধরণের countdown শুরু হয়ে যায়। যার আয়ু ৬০ বছর, তার জীবন “রাফ” হিসাবে ১৮৯,২১,৬০,০০০ সেকেন্ডের সমষ্টি। সুতরাং ব্যাপারটা এরকম যে, অদৃশ্য কোন ডিজিটাল ঘড়িতে বুঝিবা তার জীবনের countdown শুরু হয়েছিল ১৮৯,২১,৬০,০০০ থেকে – এখন হয়তো ৯,২১,৬০,০০০-তে পৌঁছেছে – তার অজান্তে কমতে কমতে ‘০’-তে পৌঁছালেই সবশেষ! NASA-র মহাকাশযানের launchpad থেকে মহাকাশযানগুলোর যেমন উৎক্ষেপন হয়, তেমনি আমাদের দেহের launchpad থেকে প্রাণগুলো যাত্রা করবে অসীমের পানে – one way journey! এভাবে ভাবলে, কোন মুসলিম তার জীবনের সাধারণ দিনরাতগুলোও হেলা ফেলায় কাটাতে পারে না! আর রামাদান মাস হচ্ছে বিশেষ একটা সময় – অন্য সময় কেউ যদি তার জীবনের সময়রূপ নিয়ামত হেলা-ফেলায় নষ্ট করেও থাকে, তবে তা compensate-করার একটা চমৎকার সুযোগ আসে এসময়ে। অথচ, এই ব্লগের কত মুসলিম ভাই-বোনেরা কত তুচ্ছ ও অর্থহীন বাক-বিতন্ডায় এই পবিত্র রামাদান মাসের অমূল্য সময়গুলো কাটিয়ে দিচ্ছেন।

নীচে উদ্ধৃত হাদীসটা একটু খেয়াল করে পড়ুন:

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল(সা.) “আমীন! আমীন!! আমীন!!!” বলে মিম্বরে উঠলেন। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, “হে আল্লার রাসূল! আপনি কেন এমন করলেন (বললেন)?” তিনি (সা.) বললেন: “জিব্রীল আমার কাছে আসলেন এবং বললেন, ‘যে রামাদান পেল অথচ তাকে ক্ষমা করা হলো না – সে লাঞ্ছিত হোক!’ তাই আমি বললাম, ‘আমীন!’ তারপর তিনি (জিব্রীল) বললেন, “যে তার মা-বাবার দুজনকে অথবা এমনি কি একজনকেও তাদের বৃদ্ধ অবস্থায় পেল – অথচ [তাদের খুশী করে] জান্নাতে প্রবেশ করতে পারলো না – সে লাঞ্ছিত হোক!’ তাই আমি বললাম, ‘আমীন!’ তারপর তিনি (জিব্রীল) বললেন, ‘যার সামনে আপনার নাম নেয়া হয়, অথচ সে আপনার উদ্দেশ্যে দরুদ (সালাহ্) পড়ে না – সে লাঞ্ছিত হোক!’ তাই আমি বললাম, ‘আমীন!’” (বুখারী, ইবন আবি আসীম, ইবন খুজাইমা ইত্যাদি)

আসুন, আমরা রামাদানের বাকী দিনগুলোকে, বেশী বেশী ইবাদাত ও “আল্লাহ্-নির্ধারিত ভালো কাজ করে” maximum utilize করার চেষ্টা করি। আমাদের বয়স ১৮ বা ৮১ যাই হোক না কেন – আমরা কি জানি আমাদের জীবনের অদৃশ্য countdown কখন শেষ হয়ে যাবে? কে জানে আমরা আর একটা রামাদান পাবো কি না!!

]]>
http://shodalap.com/mariner/7503/feed 5
ইসলাম: চূড়া নাকি তলদেশ থেকে শুরু করবেন http://shodalap.com/smraihan/7463 http://shodalap.com/smraihan/7463#comments Tue, 24 Aug 2010 17:35:10 +0000 এস.এম. রায়হান http://shodalap.com/?p=7463 যারা ফ্র্যান্স ও মালয়েশিয়াতে গেছেন তারা হয়তো আইফেল ও পেট্রোনাস টাওয়ার দেখে থাকবেন। উপর থেকে টাওয়ার দুটোর “বার্ড’স আই ভিউ” দেখলে অত্যন্ত চমৎকার লাগে। ভূমি থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে দেখলে অন্যরকম ভাল লাগে – বিশেষ করে রাতের বেলা। আবার টাওয়ারের ভেতরে ঘুরেফিরে দেখলে আরো ভিন্নরকম অনুভূতি হয়। যদিও সেরকম কিছু আমার নজরে পড়েনি তথাপি টাওয়ার দুটোর আশেপাশে খোঁজ করলে হয়তো ময়লা-আবর্জনা ও বস্তির মতো কিছু ঘর-বাড়ি পাওয়া যেতে পারে – যেগুলো মূল টাওয়ারের অংশ নয়। এখন কেউ যদি টাওয়ার দুটোকে দেখে বা না দেখে টাওয়ারের আশেপাশের ময়লা-আবর্জনা ও বস্তির মতো ঘর-বাড়িকেই ‘আইফেল টাওয়ার’ বা ‘পেট্রোনাস টাওয়ার’ হিসেবে প্রচার করে তাহলে যারা টাওয়ার দুটোকে স্বচক্ষে দেখেছেন তাদের কাছে কেমন লাগতে পারে?

এমনকি ফ্র্যান্স বা মালয়েশিয়াতে যাওয়ারও দরকার নাই। বাংলাদেশের হোটেল শেরাটনের কথাই ধরা যাক। হোটেল শেরাটনের ভেতরে এক রকম পরিবেশ – অথচ তার পেছনেই নোংরা ও দূর্গন্ধময় বস্তি। এবার কোন বিদেশী যদি বাংলাদেশ সফরে এসে হোটেল শেরাটনে থেকে বা না থেকে পেছনের নোংরা ও দূর্গন্ধময় বস্তিকেই ‘হোটেল শেরাটন’ হিসেবে চালিয়ে দেয় সেক্ষেত্রে একজন বাংলাদেশী হিসেবে শুনতে কেমন লাগবে? আর সেই লোক সম্পর্কেই বা কেমন ধারণা হবে?

ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী লেখাগুলোতে ঘুরেফিরে এবং বারংবার যে বিষয়গুলো দেখা যায় সেগুলো মোটামুটি এরকম: ৯-১১, বিন লাদেন, আল-কায়েদা সন্ত্রাসী, বাংলাভাই, জেএমবি জঙ্গী, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সুইসাইড বোম্বিং ও পুরষ্কারস্বরূপ ৭২ জন হুর-পরী, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার কিছু কালো অধ্যায়, অনার কিলিং, পাথর মেরে হত্যা, আপাদমস্তক বোরকা পরিহিতা ও নির্যাতিতা নারী এবং সেই সাথে ফটোশপে তৈরী করা কিছু অশালীন ছবি, সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িত টুপি-দাড়ি ওয়ালা লোকজন, কিছু হাদিসের বিকৃত ও কুরুচিকর ব্যাখ্যা, ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি।

ইসলামের আলোকে এবং প্রায় দেড় বিলিয়ন মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী এগুলো হচ্ছে সেই আইফেল বা পেট্রোনাস টাওয়ারের আশেপাশের ময়লা-আবর্জনা ও বস্তির মতো কিছু ঘর-বাড়ি। অথচ ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী মহল থেকে এগুলোকেই ‘প্রকৃত ইসলাম’ বা ‘প্রকৃত মুসলিম’ বলে প্রচার করা হচ্ছে – যদিও যুক্তিবাদী ও সচেতন মহলে তেমন একটা সুবিধা করতে পারছে না। মানুষ হিসেবে ন্যূনতম লজ্জাবোধ বা সেন্স থাকলে কারো মনে এই ধরণের নিকৃষ্ট চিন্তা-ভাবনার উদয় হওয়ার কথা না। কারণ এটি মোটেও কোন যৌক্তিক বা বৈজ্ঞানিক পন্থা নয়।

লক্ষ্যণীয় যে: (১) ৯-১১, বিন লাদেন, আল-কায়েদা, টেররিজম, সুইসাইড বোম্বিং, বাংলাভাই, জেএমবি, ইত্যাদি ফেনোমিননগুলো কিন্তু মাত্র আট-দশ বছর আগের। এগুলোর পেছনে যে কারা জড়িত – তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত আছে। ৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধও মাত্র চল্লিশ বছর আগের একটি স্থানীয় ঘটনা। অন্যদিকে কোরআন ও মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী মানব জাতির প্রারম্ভ থেকেই ইসলামের যাত্রা শুরু। এমনকি মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সময় থেকে ধরলেও প্রায় পনেরশ’ বছর হয়ে গেছে। বর্তমানে সারা পৃথিবী জুড়ে প্রায় দেড়-দুই বিলিয়ন ইসলামে বিশ্বাসী আছে। (২) পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বর্তমান বিশ্বে সাধারণভাবে এবং মুসলিম বিশ্বে বিশেষভাবে সবচেয়ে সমস্যা জর্জড়িত, যুদ্ধবিধ্বস্ত, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, ও দরিদ্র্য দেশগুলোর অন্যতম। (৩) বাংলাদেশ সহ অনেক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে পাথর মেরে হত্যার কোন নজির আছে বলে মনে হয় না। দু-চারটি দেশে খুবই সীমিত পরিসরে হঠাৎ দু-একটি ঘটনার কথা শোনা যায় – যদিও সতীদাহ বা ডাইনীদাহের মতো নিরীহ কাউকে যেমন হত্যা করা হয় না তেমনি আবার এটি নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অনার কিলিং এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অধিকন্তু, কোরআনে অনার কিলিং বা পাথর মেরে হত্যার মতো কিছু নেই। (৪) আর দশটা পোষাকের মতো বোরকাও কাপড়ের তৈরী স্রেফ একটি পোষাক। (৫) কার্ল মার্ক্স, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ও চার্লস ডারউইনের দাড়ি দেখলে বিন লাদেন ও বাংলাভাইও হয়তো লজ্জা পাবে!

যাহোক, ইসলামকে যদি আইফেল টাওয়ারের সাথে তুলনা করা হয় তাহলে কোরআন হচ্ছে মূল আইফেল টাওয়ার। টাওয়ারটির চূড়া হবে আল্লাহ তথা এই মহাবিশ্বের অদৃশ্য স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস। অন্যান্য সবগুলো ধর্মের মূল টাওয়ার বা এমনকি চূড়াতেই বড় ধরণের গলদ আছে। চূড়ার ঠিক নীচের অংশটিকে ইসলামের অন্যান্য মৌলিক বিশ্বাসের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। যেমন: সকল নবী-রাসূলগণের উপর বিশ্বাস, সকল ঐশী কিতাবের উপর বিশ্বাস, মৃত্যুপরবর্তী জীবন ও শেষ বিচার দিবসে বিশ্বাস, নূর তথা আলোর তৈরী ফেরেশতার অস্তিত্বে বিশ্বাস, ইত্যাদি। অন্যান্য সবগুলো ধর্মের মৌলিক বিশ্বাসে যৌক্তিক অথবা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বড় ধরণের সমস্যা আছে। যেমন: অরিজিনাল সিন, ট্রিনিটি, কর্মের উপর ভিত্তি করে জন্মান্তরবাদ, ইত্যাদি।

টাওয়ারের বাদবাকী অংশকে সালাত, সাওম, হজ্জ, যাকাত, দাস-দাসী মুক্তি, সৎ কাজ, চুক্তি পুরণ, সত্যের উপদেশ, বিপদে-আপদে ধৈর্যধারণ, ইত্যাদির সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এগুলো হচ্ছে ইসলামের একদম মৌলিক টিচিং ও রিচুয়াল (২:১৭৭ ও ১০৩:১-৩)। আর এগুলো সঠিকভাবে পালন করার জন্য আছে সুন্নাহ। সুন্নাহকে টাওয়ারের ভেতরের কারুকার্যের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।

]]>
http://shodalap.com/smraihan/7463/feed 7
নাস্তিকতার বিজ্ঞান ঠিকাদারি এবং বুদ্ধিজীবী ভাবনা http://shodalap.com/panjeri/7453 http://shodalap.com/panjeri/7453#comments Mon, 23 Aug 2010 18:05:53 +0000 Panjeri http://shodalap.com/?p=7453 বুদ্ধিজীবী শব্দটির অর্থ নির্ণয় করা বেশ কঠিন। শব্দটির ব্যবহার শুরু হয়েছে উনিশ শতকের শেষের দিকে। প্রাসঙ্গিক উদ্দেশ্যের কারণেই এখানে প্রত্যেক সংস্কৃতিবান বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিকে বুদ্ধিজীবী হিসাবে সংজ্ঞায়িত করার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে না বরং এটিকে আরবীতে আল-মুফাকিরুন এর মধ্যে দৃঢ়ভাবে সীমাবদ্ধ করে রাখার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে বর্তমান আলোচনা। যার অর্থ হলো বিশ্লেষণাত্বক মন ও মনন এর অধিকারী যিনি তার বাগ্মিতা বা ভাষণ অথবা লেখা প্রকাশনার মাধ্যেম কোন মতামত বিনিময়ের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম এবং এভাবে যোগাযোগ তার দক্ষতা প্রমাণ করে, শুধু ঘরে বসে চিন্তা ও সমালোচনায় নিজেকে আবদ্ধ করে রাখে না। কিন্তু আসলেই কি নাস্তিক দাবিদার এ ধরণের ব্যক্তির কোন উদাহরণ আমাদের সামনে আছে? এ কথাতো সবারই জানা যে, ইউরোপ এমনকি কামাল তুর্কীর এলিট সম্প্রদায়ও এই দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন যে, স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস বা আন্তরিকতা এবং বুদ্ধিমান হওযার মধ্যে একটি পারষ্পরিক বিরোধ আছে। সহজভাবে বলতে গেলে তারা মনে করেন যিনি ধর্মে বা স্রষ্টায় বিশ্বাস রাখেন তার মাথায় কোন বুদ্ধি নেই। আবার বুদ্ধিমান ব্যক্তিমাত্রই আল্লাহকে বা ধর্মকে অবিশ্বাস করেন না।

আসলে উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে বর্তমান সময় অবধি পাশ্চাত্য ও তুর্কী শিক্ষিত মহল জড়বাদী বা নাস্তিক হওয়াকে বুদ্ধিবৃত্তিক-শৈলির পরিচায়ক বিবেচনা করতেন। বিশেষতঃ কেউ যদি হন বামপন্থী তাহলে তো কথাই নাই, যেন বুদ্ধিবৃত্তি বামপন্থীদের একচেটিয়া অধিকার এবং রক্ষণশীলদের এতে কোন প্রবেশাধিকার নেই। এবং এজন্যই শুধু ধর্মকে আক্রমণ করেই একজন চটি বইয়ের লেখকও হতে পারেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী বা কলামিষ্ট, সাহিত্যিক। আমরা যাকে বলি বুদ্ধিবিক্রেতা।

সেই যুক্তি ও বিজ্ঞানের বিকাশকাল থেকে এখন পর্যন্ত এই দৃষ্টিভংগি লালন করা হয় যে ধার্মিক মানেই বিজ্ঞান-হারা আর বিজ্ঞান মানেই নাস্তিকতা। এর বীজ বপ্ত হয় ১৭ শতকে ডেসকটেসের মাধ্যমে, এর ফুল ফুটতে শুর করে ১৮ শতকে এবং পরিপূর্ণভাবে পত্র-পুষ্পে পল্লবিত হয়ে উঠে উনিশ শতকে। Project of Modernity ছিল মূল ইউরোপে খ্রীষ্টান যাজক সম্প্রদায়ের ক্রমাগত আধিপত্য থেকে দাসত্ব মোচনের আন্দোলন, এ আন্দোলন মানুষের যুক্তিকে যে কোন অন্তর্দৃষ্টি অন্তর্জ্ঞান বা উপলব্ধির উৎস থেকে শ্রেষ্ঠতর বিবেচনা করত। কিন্তু কার্ল মার্ক্স, ডারউইন, ফ্রয়েড, নিয়েৎজ এবং অন্যান্যদের কারণে এই দাসত্ব মোচন আন্দোলন স্থুল বস্তুবাদ এবং চর্চিত নাস্তিকতায় রূপ নিয়েছে। যুক্তিবাদের এহেন বিকাশ কি তার প্রতিশ্রুতি মাফিক শান্তি, সুখ, রাজনৈতিক উন্নয়ন আনতে পেরেছে পৃথিবীতে? বরং ধর্মচ্যুত এবং সংস্কারমুক্ত মানুষ একের পর এর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তথাকথিক যুক্তিবাদের এই আধিপত্যকালে অধার্মিক আধুনিক মানুষেরা বিচিত্র সব মতাদর্শের যাঁতাকলে নিস্পেষিত হয়েছে। এই নির্যাতন ধর্মীয় নিষ্পেশণের মাত্রাকে ভয়াবহ রকম ছাড়িয়ে গেছে। উদাহরণ হল নাৎসিবাদ, ফ্যাসিবাদ, কম্যুনিজম এবং শ্যেভিনিজম। লক্ষ লক্ষ মানুষকে কনসেন্ট্রেশণ ক্যাম্পে রাজনৈতিক অথবা জাতিগত ভিন্নতার জের ধরে হত্যা করা হয়েছে। ঔদ্ধত্য দিয়ে পারিপার্শ্বিক জগতটাকে ধ্বংস করেছে।

হ্যাঁ লক্ষণীয় যে, এসব ব্যর্থতা এবং অক্ষমতা পাশ্চাত্যে বিশাল সংখ্যক লোকজনের অহমিকাকে নাড়া দেয়নি। এরা বিভোর হয়ে আছে আমেরিকান জীবন যাত্রার সর্বাত্মক অনুকরণ এবং বুদ্ধিবর্জিত সমর্থনে। আরও লক্ষনীয় যে, কিছু মসলিম নামধারী এবং পাশ্চাত্যের তথাকথিত এলিট সম্প্রদায় এখনো উনিশ শতকে বেড়ে উঠা শিশুর মতই আচরণ করছে। তারা উপলব্ধি করতে পারছেনা যে বিজ্ঞান ও দর্শন ক্রমশই সরে যাচ্ছে বস্তুবাদ ও নাস্তিকতা থেকে। আসলে মুসলিম দেশগুলোর এলিট সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য আছেন যারা ধ্যান-ধারণায়, চলনে-বলনে পাশ্চাত্যের অনুকরণে বেশ গর্বিত বোধ করেন। এরা একটি ব্যাপরে পুরোপুরি অসচেতন হয়ে আছেন যে বাঘা বাঘা সব বুদ্ধিজীবি এবং নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীরাও স্রষ্টাকে ভয় করতেন। এসব গর্বিত এলিটবৃন্দ এটিও উপলব্দি করেত পারেন না যে, আধুনিক অনুবিজ্ঞানীদের কাছে শক্তির অস্তিত্ব এখন আর অবিশ্বাস্য নয়। সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বরং বস্তুর প্রতিষ্ঠা। অথবা তারা এটাও উপলব্ধি করতে পারে না যে একজন নাস্তিক হওয়াটা না যুক্তিযুক্ত না বিজ্ঞান-সম্মত। যেহেতু স্রষ্টার অস্তিত্ব নেই এটি যেমন প্রমাণিত নয় তেমনি আবার প্রমাণ করাও যাবে না। অন্যদিকে প্রকৃতি বিজ্ঞানী ও দার্শনিকবৃন্দ যেমন সুইনবার্ণ এখন উপসংহার টানছেন এই বলে যে স্রষ্টার অস্তিত্ব নেই এটি বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একেবারেই অসম্ভব একটি ধারণা।

কিন্তু আমাদের বস্তুবাদি নাস্তিকগণ এমন ভাব দেখাচ্ছেন যেন তারা দেশ এবং সমাজ থেকে ধর্মকে বেশ সফলভাবেই বিতাড়িত করতে পেরেছেন। বাস্তব ব্যাপার হচ্ছে আক্ষরিক অর্থে তারা এক ধর্মকে প্রতিস্থাপন করছেন অন্য ধর্ম দিয়ে। তাই মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের প্রথম কাজ হল দর্শন এবং বিজ্ঞানে যোগ্য হয়ে নাস্তিকতার থিওরীর ভিত্তিতেই নাস্তিকতাকে চ্যালেঞ্জ করা। এটি প্রমাণ করা যে, যে কেউ সু-শিক্ষিত এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দ্ক্ষ হয়েও একজন ভাল মসুলিমও হতে পারেন। শুধু মসলিম বুদ্ধিজীবীরাই এটি প্রমাণ করতে পারেন যে নিজেক নাস্তিক হিসাবে দাবি করা মানে বুদ্ধিবৃত্তির প্রাচুর্য নয় বরং এটি হলো বুদ্ধিহীনতা। একটি দুঃখজনক অবস্থা এই গুরু দায়িত্বের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে আছে। কুরআনে বারবার মানুষকে বলা হয়েছে তার যুক্তিকে কাজে লাগাতে, প্রকৃতির পর্যবেক্ষণ করতে। এটি খুব ভালোবাবেই জানা কথা যে এরই ফলশ্রুতিতে নবম থেকে পনের শতক পর্যন্ত মুসলিম সভ্যতা বাগদাদ থেকে আন্দালুসিয়া ফেজ থেকে সমরকন্দ জ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রে চমক সৃষ্টি করেছিল। অনেকেই ইসলামের সেই সোনালী যুগের কথা স্মরণ করে নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হন যেন আজকের এই দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটবে শুধু অলস স্মৃতিচারণেই, যেন যথেষ্ট প্রচেষ্টা ছাড়াই ইসলামের আল্লাহ সেই উৎকর্ষের গ্যারান্টি দিতে বাধ্য।

সেই মর্যাদাকর অবস্থান থেকে এক সময় ইউরোপীয় উপনিবেশে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে যে অধঃপতন ঘটে মুসলিম বিশ্বের তার পিছনে রয়েছে অনেক জটিল কারণ। কিন্তু অতীতের দিকে দৃষ্টিপাত না করলেও দেখা যায় উপনিবেশকতা থেকে মুক্ত মুসলিম বিশ্ব এখনও রয়েছে পাশ্চাত্যের কায়েমি আধিপত্যে। আধুনিক পরবর্তী বিশ্বের এটা এমন এক চিত্র, যেখানে আমেরিকার জীবনযাত্রা সর্বাত্মকভাবে প্লাবিত করেছে জনবীজনকে এভাবে যেন এটিই হল বাধ্যতামূলক এবং একমাত্র গ্রহণযোগ্য জীবনযাত্রা। হতাশাবাদীরা বলেন যে প্রযুক্তির অগ্রসতার বা আধুনিকায়ন কেবল অনস্বীকার্য নয়, উপরোক্ত পাশ্চাত্যকরণ থেকে একে কিছুতেই পৃথক করা যায় না। তারা মনে করেন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং পাশ্চাত্য সংস্কৃতি অবিচ্ছেদ্য। এ ধরণের কথা তারা কেন বলেন? কারণ প্রত্যেক প্রযুক্তিগত পদ্ধতি বা পণ্য এবং প‌্রত্যেক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানই এর পেছনে কার্যরত একটি মানষিক প্রক্রিয়ার ফসল। এর মানে যেমন কেউ যদি স্যাটেলাইট বা ক্যাবল টিভির প্রতি তর্জনী তুলে শাসায়, তাহলে তার পুরো হাতকেই সে খেয়ে নেবে, তার ক্ষমতাকে পুরোপুরি গলঃধকরণ করার মতো ক্ষমতা এই স্যাটেলাইট চ্যানেল বা ক্যাবল টিভি রাখে এবং এরই ফলস্বরূপ হতাশাবাদীরা মনে করেন একদিন সে নিজের টিভির স্ক্রীনে পর্ণোগ্রাফীর সামনে বসে থাকতে বাধ্য হবে।

মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের কাজ হল এই ক্ষেত্রে সরকারী কিংবা বেসরকারী সকল পর্যায়ে নীতিমালা তৈরী এবং প্রয়োগ ও মোটিভেশনের ব্যাপারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো। জনগণের কাছে আদর্শিক সুমহান রূপ তুলে ধরা এবং বাছাইকৃত মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের সহযোগীতা করা এবং তারাই আমাদের পথ দেখাবে। [লেখাটির সূত্র]

]]>
http://shodalap.com/panjeri/7453/feed 0
স্রষ্টার বাণী সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ধারণা http://shodalap.com/smraihan/7434 http://shodalap.com/smraihan/7434#comments Sat, 21 Aug 2010 20:27:31 +0000 এস.এম. রায়হান http://shodalap.com/?p=7434 কোরআনকে যারা মিথ্যা – তথা স্রষ্টার বাণী নয় – প্রমাণ করার চেষ্টা করে তাদের লেখাতে যে যুক্তি বা বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয় সেগুলো মোটামুটি নিম্নরূপ:

- ৯/১১ এর পর থেকে এটি অনেকের কাছেই বেশ জোরালো বা প্রিয় যুক্তি। কোন না কোন পর্যায়ে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার কথা অবধারিতভাবে চলে আসবেই। তাদের যুক্তিটা এরকম: (১) বিন লাদেনের নেতৃত্বে আল-কায়েদা জিহাদীরা এরোপ্লেন দিয়ে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার উড়িয়ে দেয়া সহ প্রায় তিন হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে; (২) আল-কায়েদা জিহাদীরা সবায় পাক্কা মুসলিম ছিল; (৩) অতএব কোরআন কোনভাবেই এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার বাণী হতে পারে না।

৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার জন্য কে বা কারা দায়ী – এই বিষয়টাকে এক পাশে রেখেও যা বলা যায় তা হচ্ছে মুসলিমদেরকে ‘ধরাশায়ী’ করার জন্য এই ধরণের ‘যুক্তি’ বেশ কার্যকর হলেও যৌক্তিক বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে যে সামান্যতমও কোন মূল্য নেই সেটা আজ মাদ্রাসার ছাত্ররাও মনে হয় বুঝে। মুসলিম বা মুসলিম নামধারীরা কোথাও কোন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা মানে কোনভাবেই প্রমাণ হয় না যে কোরআন স্রষ্টার বাণী নয়। অধিকন্তু, যারা এই ধরণের যুক্তি দেয় তাদের যুক্তি অনুযায়ীই ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার আগ পর্যন্ত কোরআন স্রষ্টার বাণী ছিল বলে প্রমাণ হয়। কিন্তু সেটাও তারা মেনে নেবে না। ফলে এগুলো হচ্ছে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী কু-যুক্তি। মুসলিমরা কখনোই এই ধরণের সন্ত্রাসী ঘটনা দিয়ে কোন ধর্মকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করে না। কারণ এভাবে সব কিছুকেই মিথ্যা প্রমাণ করা সম্ভব। কিন্তু সেটি মোটেও যৌক্তিক বা বৈজ্ঞানিক পন্থা হবে না।

- কোরআনের কিছু আয়াতের অংশবিশেষের উদ্ধৃতি দিয়ে বারংবার যা দাবি করা হয় তা ঘুরেফিরে মোটামুটি এরকম: কোরানে ইহুদী-নাসারা-কাফের-অবিশ্বাসীদের দেখা মাত্র হত্যার কথা লিখা আছে কেন? তাদেরকে ঘৃণা করার কথা লিখা আছে কেন? জাহান্নামের শাস্তির কথা লিখা আছে কেন? স্ত্রীকে আচ্ছামতো পেটানোর কথা লিখা আছে কেন? ইত্যাদি। ইত্যাদি। অতএব কোরআন কোনভাবেই স্রষ্টার বাণী হতে পারে না।

প্রথমত, এই ধরণের অপপ্রচার বা অপব্যাখ্যার জবাব অসংখ্যবার দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, কোরআনে যদি সত্যি সত্যি এভাবে লিখা থাকতো বা লিখা থাকলেও এগুলো যদি অবজেক্টিভ কোন ইস্যু হতো তাহলে প্রতি বছর হাজার হাজার ইহুদী-নাসারা-কাফের-অবিশ্বাসীরা ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামের জন্য জীবনের মূল্যবান একটি অংশ ব্যয় করবেন কেন? অতএব লক্ষ লক্ষ ইহুদী-নাসারা-কাফের-অবিশ্বাসীরাই এই অভিযোগকে মিথ্যা বা অসার প্রমাণ করেছেন। তৃতীয়ত, যারা এই ধরণের ‘যুক্তি’ দিয়ে কোরআনকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করে তাদেরকে আগে স্রষ্টার বাণী কেমন হওয়া উচিত সেটা বলতে হবে। স্রষ্টার বাণী সম্পর্কে যদি তাদের কোন ধারণাই না থাকে তাহলে তারা কীসের ভিত্তিতে কোরানকে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা করে সেটাও জানাতে হবে। অন্যথায় যুক্তিবাদী মহলে এই ধরণের ‘যুক্তি’ গার্বেজের চেয়ে বেশী কিছু নয়।

- কারো কারো বিশ্বাস অনুযায়ী স্রষ্টার বাণী এমন হতে হবে যা কোন মানুষের পক্ষে বলা সম্ভব নয় – অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন কিছু হতে হবে যা কেউ কখনো শোনেনি!

প্রথমত, স্রষ্টার বাণী যেহেতু মানুষেরই জন্য পাঠানো হয়েছে সেহেতু মানুষের কাছে পরিচিত হবে সেটাই তো স্বাভাবিক। মানুষ যেভাবে বুঝবে সেভাবেই তো পাঠানো হবে। স্রষ্টার বাণী যদি সম্পূর্ণ অপরিচিত হতো তাহলে সেই বাণী যতই মহা-মূল্যবান হোক না কেন মানুষের কাছে তার কোনই মূল্য থাকতো না – যেমন মূল্য নেই গরু-ছাগল-গাধা বা মূর্খ লোকজনের কাছে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্বের। দ্বিতীয়ত, যারা এমন আশা করেন তাদের জন্য কোরআনে সত্যি সত্যি কিছু বাণী আছে। প্রকৃতপক্ষে কোরআনের মতো একটি গ্রন্থ লিখা কোন মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। ইসলামে বিশ্বাসীরা বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি না খেলে অনেক যুক্তি-প্রমাণের সাহায্যে বেশ জোর দিয়েই তা বিশ্বাস করে।

]]>
http://shodalap.com/smraihan/7434/feed 2