<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Shodalap</title>
	<atom:link href="http://shodalap.com/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://shodalap.com</link>
	<description>An inclusive e-journal for Bangladeshis for home and abroad</description>
	<lastBuildDate>Mon, 22 Mar 2010 11:58:34 +0000</lastBuildDate>
	<generator>http://wordpress.org/?v=2.9.2</generator>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিনঃ শহীদ আবু তাহের পাঠান</title>
		<link>http://shodalap.com/2010/03/22/ff/</link>
		<comments>http://shodalap.com/2010/03/22/ff/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 22 Mar 2010 11:08:43 +0000</pubDate>
		<dc:creator>নুর মোহাম্মদ কাজী</dc:creator>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ-Bangladesh]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shodalap.com/?p=3744</guid>
		<description><![CDATA[মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি লেখা শুরু করলে লেখা আগাতে চায় না। লিখতে চাই অর্জিত বাংলাদেশের সুখ গাঁথা। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা। তা আর লেখা হয় না। ছোট ছোট অনেক দুঃখের স্মৃতি মনের কোনে এসে জমা হয়। মন ভার হয়ে উঠে। অজান্তে চোখে পানি এসে যায়। বুকে পাষাণ ভার অনুভব করি। গলার কাছে কান্নার পাথর এসে জমা হয়। মনে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি লেখা শুরু করলে লেখা আগাতে চায় না। লিখতে চাই অর্জিত বাংলাদেশের সুখ গাঁথা। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা। তা আর লেখা হয় না। ছোট ছোট অনেক দুঃখের স্মৃতি মনের কোনে এসে জমা হয়। মন ভার হয়ে উঠে। অজান্তে চোখে পানি এসে যায়। বুকে পাষাণ ভার অনুভব করি। গলার কাছে কান্নার পাথর এসে জমা হয়। মনে হয় অনেকক্ষন কাঁদতে পারলে বুকের ভার লাগব হবে। কিন্তু কাঁদতে পারিনা। আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। ঘুমঘুম লাগে। চিন্তা করতে থাকি এতসব টুকরা টুকরা ঘটনা কোনটি দিয়ে শুরু করব। চিন্তা করতে গিয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ি, জানি না।</p>
<p>অথচ ২০০৬ সালে আমি যখন দেশে যাই তখনই আমাদের কমান্ডার মাননীয় জহিরুল হক পাঠান আমাকে বলেছেন, “কাজী কখন যে এ দুনিয়া থেকে চলে যাই, বলতে পারি না। আমাদের যুদ্ধস্মৃতি নিয়ে একটা বই বের করতে চাই। আপানি একটি স্মৃতি লেখা পাঠিয়ে দেবেন। যত তাড়াতাড়ি পারেন পাঠাবেন কিন্তু।” দেশ থেকে কানাডায় এসেই আমি আমার স্মৃতিটুকু লেখার জন্য বসি। এক বার, দু’বার, তিনবার, কত বার যে লিখতে বসেছি তার কোন ইয়ত্তা নাই। এদিকে আমাদের ডেপুটি কমান্ডার মোহাম্মদ শাহ জাহান কয়েক বার আমাকে তাগাদা দিয়ে দিয়ে হয়রান হয়ে, এখন আর এ বিষয়ে কিছু বলে না। ইতিমধ্যে আমাদের আরেকজন মুক্তিযোদ্ধা ভাই আহম্মদ উল্লাহ আমাকে বলল, “কাজী, এবার স্বাধীনতা দিবস-২০১০ উপলক্ষ্যে আমাদের কমান্ডার জহুরুল হক পাঠানের উদ্যগে  বই বের হচ্ছে। এবার তুমি স্মৃতি লেখা না দিলে ভুল করবা। ইতিপুর্বে ডাঃ দেলোয়ার হোসেন খানসহ আমরা যখন চাঁদপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখা শুরু করলাম তখন ও তোমাকে অনেক অনুরোধ করেছিলাম। তুমি লেখ নাই। তোমার লেখা ছাড়াই আমাদেরকে ‘মুক্তিযুদ্ধে চাদপুর’ বই বের করতে হয়েছিল”। আমি তাকে আমার মানসিক অবস্থার কথা বললাম। সে আমাকে কিছুক্ষন গালিগালাজ করে বলল, “তোমার লেখা প্রবন্ধ আমি কমপক্ষে পাঁচটি ওয়েব ম্যাগাজিনে পড়েছি। যত সমস্যা হয় তোমার মূক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কথা লিখতে। আচ্ছা, এক কাজ কর, তুমি আমাদের বন্ধু আবু তাহের পাঠানের কথা লিখে পাঠিয়ে দাও।” আমি তাকে তাহেরের কথা লিখে পাঠানোর ওয়াদা করেছি।</p>
<p><strong>শহীদ আবু তাহের পাঠান</strong></p>
<p>আবু তাহের পাঠানের কথা আজ আর কারো মনে নেই। এমন কি তার আত্মীয় স্বজনরাও জানে না যে, আবু তাহের পাঠান হলো ফরিদগঞ্জ এলাকার মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ। আবু তাহের পাঠান আমার বন্ধু ছিলেন। আমরা ফরিদ গঞ্জ এ, আর, হাই স্কুলে একই সাথে লেখা পড়া লেখা করছি। তিনি আমার দু’ ক্লাশ সিনিয়র ছিলেন।আমার চাইতে লম্বা ছিলেন। চেহারা পাঠানের মতই ফর্সা এবং লাল বর্নের ছিলেন। কাচিয়াড়া পাঠান বাড়ির ছেলে। আমার বাড়ী পাশের গ্রাম। চর সাফুয়া। আমি সমাজ কল্যানে অনার্স ক্লাসে ১৯৬৯-১৯৭০ সেশনে ভর্তি হই। যখন ১৯৭০-১৯৭১ সালে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে উঠেছি, তখন আবু তাহের পাঠান মাস্টার্স প্রোগামে ভর্তি হন। তিনি পড়াশুনার সাথে সাথে সেক্রেটারিয়েটে একটা ভালো চাকুরিও করতেন। লেখা পড়া এবং চাকুরীই ছিল তার কাজ। মুল হলে সিট না পেয়ে থাকতেন ইকবাল হল-বর্তমানের সার্জেন্ট জহিরুল হক হলের পিছনে সার্ভেন্ট কোয়ার্টারে। অল্প ভাড়ার বিনিময়ে হলের কর্ম চারীরা নিজেদের সিট ভাড়া দিতেন। আর নিজেরা এখানে ওখানে  থাকতেন। আমি থাকতাম সামাজ কল্যান ইনস্টিটিউট হোস্টেল-এটাস্ট মহসিন হল। নিউমার্কেটের পিছনে ছিল আমাদের ইনস্টিটিউট। পিল খানা বিডি আর গেটের কাছে। আর্টস ফ্যাকাল্টিতে আমাদের আসতে হত। বিশেষ করে মধুর ক্যান্টিনে তো আমকে এ সময় প্রতিদিন ক্লাশ শেষে যেতে হতই। মিছিল তো সে নিত্য দিনের ব্যাপারছিল।</p>
<p>সময়টা মনে হয় ১৯৭১ সালের ২০ মার্চ মার্চ হবে। ইয়াহিয়া খান হঠাত্ করে পার্লামেণ্ট বৈঠক অনিদৃষ্ট কালের জন্য স্থগিত ঘোষনা করেছেন। আমরা শুনতে পেলাম যে কোন সময় পাকিস্তানি জান্তা বাংগালীদের উপর ক্রাকডাউন করবে। পাকিস্তান থেকে এ জন্য জাহাজ বোঝাই করে অস্ত্র আনা হয়েছে। চট্টগ্রামে অস্ত্রবাহী জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করা প্রায় শেষ। এ নিয়ে ঢাকা শহরসহ সারা দেশে প্রতিদিন হরতাল, মিছিল ও প্রতিবাদ হচ্ছে। আমি ইউনিভার্সিটির একটি মিছিল শেষ করে হলে ফিরছিলাম। বেলা তখন তিনটা হবে। হলে গিয়ে খাব এবং রেষ্ট নেব। পথিমধ্যে পাঠানের সাথে দেখা। আমাকে দেখেই আমার হাত ধরে তার রুমে নিয়ে গেল। এবং বলল, “চল খেয়ে নেই।” শুনেছি তোরা যারা ছাত্ররাজনীতি করস, তোরা বল্লে খাওয়ার কথা ভুলে যাস। যখনই খাওয়ার কথা মনে পড়বে, এখানে এসে খেয়ে যাবি। আমাকে না পেলে সিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী ভাইয়ের কাছে যেয়ে খেয়ে নিবি। সে মেইন হলের ৭০ নং রুমে থাকে। তোর জন্য আমরা দু’জনেই চিন্তা করি। সারাদিন তুই ইউনিভার্সিটির গন্ডোগোলের মধ্যে থাকস।” এ সব কথা বলতে বলতে পাঠান ভাই দু’থালায় ইলিশ মাছ ভাজা সহ গরম ভাত নিয়ে এলেন। সেদিন দু’জনে মিলে অনেক ভাত খেলাম। এবং দু’জনে অনেকক্ষন গল্প করেছিলাম। আমাদের আলোচনার বিষয় বস্তু ছিল ফরিদগঞ্জ থানা সমিতি। আমরা ১৯৭০ সালের জুন্ মাসের দিকে ফরিদগঞ্জ থানা সমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করি। এ জন্য আমাকে আহবায়ক করে যে কমিটি গঠন করা হয় তার প্রস্তাবক ছিলেন তাহের পাঠান। প্রথম সভা হয় সমাজ কল্যান ইনস্টীটিউটে। আমি ফরিদগঞ্জ থানার ঢাকার বিভিন্ন কলেজ ও ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীদের এ সভায় আহবান করি। এ সভা থেকেই ফরিদগঞ্জ থানা সমিতি গড়ে তোলার তিল তিল প্রচেষ্টা শুরু হয়। এ সংঠন গড়ার ক্ষেত্রে তাহের পাঠানের উদ্যেগী ভূমিকার কথা আজও আমি ভুলতে পারি না। তবে তিনি ছাত্র রাজনীতি পছন্দ করতেন না। আমাকে বলতেন, “রাজনীতি করিছ না, কি লাভ রাজনীতি করে। আজাইরা কাম। তোরা যারা ছাত্র রাজনীতি করছ, তারা হ’লি পাগল। ঘরের খাই বনের মইষ তাড়াস, একটা চাকুরি কর, মা’র জন্য টাকা পাঠা”। আমি হাসতাম, কিছু বলতাম না। আমার সিনিয়র ভাই। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র। আমি তাকে বুঝাই কি করে। এ জন্য তিনি যখন বলতেন, আমি তখন চুপ থাকতাম। তর্কে উপনীত হতাম না। এর মধ্যে আসরের নামাজের সময় হয়েছে। পাঞ্জেগানা নামাজী পাঠান বললেন, তুমি বস আমি নামাজটা পড়ে নেই। আমি তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আবার মধুর কেন্টিনে এলাম। ইতিমধ্যে পুর্ব বাংলা ছাত্র ইউনিয়নের কর্মিরা মধুর কেন্টিনে এসে গেছে। সেদিন কর্মি সভা শেষে আমরা শহরে মিছিল বের করেছিলাম।</p>
<p>আমরা যারা সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলুর রেসিডেন্ট ছিলাম তারা সব সময় আতংকে থাকতাম-এই বুঝি হলগুলু আক্রান্ত হল! ২৫শে মার্চ পযন্ত আমরা বুঝে ফেললাম আজ রাতে পাক বাহিনী হলগুলু আক্রমন করবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারা শহরে কার্ফিউ জারী করা হয়েছে। দিনভর ছাত্র-জনতা মিলে বড় বড় গাছ কেটে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান প্রবেশ পথগুলুতে ব্যারিকেড রচনা করি, যাতে পাক বাহিনী ট্যাংক নিয়ে ভিতরে ঢুকতে না পারে। পিলখানা বি, ডি, আর গেট থেকে নিউমার্কেট পযন্ত রাস্তার দু’পাশে সে সময় বড় বড় গাছ ছিল। সে গাছগুলুর বড় বড় ডাল কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড দেবার কাজ়ে আমরা সারাদিন ব্যস্ত ছিলাম। এখানে গাছ কাটার কাজে আমাদেরকে সিভিল পোষাকে বি,ডি,আর সেনারা ও সহযোগীতা করেছে। রাতে হোষ্টেলে গিয়ে দেখি কেহ হোস্টেল ত্যাগ করে নাই। তারা বলেছে,“এমনটি প্রতিদিনই হয়”। আমি হোষ্টেলের সবাইকে বললাম, “পাকবাহিনী হলগুলু আক্রমন করবেই। তদুপরি, আমরা বি,ডি,আর গেইটের কাছে। বি,‌ডি,আর সেনাদের উপর জয়দেবপুরে আক্রমন হয়েছে। পিলখানায় এ রাতে আক্রমন হবেই। প্রতিরোধের জন্য তারা প্রস্তুত। তারা পাকবাহিনীকে মোকাবিলা করবেই। আমরা এখানে থাকলে ক্রস-ফায়ারিং এ পড়ব। জানে বাঁচব না। চল আমরা হোষ্টেল ছেড়ে দেই।” আমার কথা কেহ শুনল না। হোষ্টেলের কোন ছাত্র হোষ্টেল ছাড়ল না। আমাকেও কোথাও যেতে দিল না। বলল, “মরলে সকলেই এক সাথে মরব। আল্লাহ আছেন, তুমিও থেকে যাও।” আমিই কেবল সমাজ কল্যান ইনস্টিটিউটের ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত একমাত্র সার্বক্ষনিক কর্মি। ছাত্র ইউনিয়নের শাখা সভাপতি। ইয়াহিয়া খান ছাত্রলীগ ছেড়ে বামতাত্তিক লাইনে চলে এসেছেন। ছাত্রলীগের হুমায়ুন কবির হিরু সহ সকলেই হোষ্টেলে থাকার পক্ষে মত দিলেন। সবাইকে রেখে আমার একলা হল ত্যাগ করাটা স্বার্থপরতা হয়ে যায়। শেষ পযন্ত আমিও রয়ে গেলাম। শেষ রাতে গুলির আওয়াজে আমাদের সকলের ঘুম ভেংগে গেল।</p>
<p>আমাদের হোষ্টেল উত্তরমুখি এবং কোনাকুনি। আমাদের পশ্চিমে পিলখানা। পুর্বদিকে নিউ মার্কেট। পাকবাহিনী নিউ মার্কেট এলাকা থেকে যে সবগুলি ছুড়ছিল তার অধিকাংশই আমদের হোষ্টেলের সামনের কাঁচ ভেদ করে বের হয়ে যাচ্ছিল। আবার পিলখানা থেকে যে সবগুলি ছোড়া হচ্ছিল তা আমাদের পিছনের কাচের জানালা ভেদ করে যাচ্ছিল। সকাল পযন্ত এত সব গোলাগুলি হয়েছিল যার ফলে আমাদের দোতালা হোষ্টেলের কোন জানালা আর অক্ষত থাকেনি। আমরা ফ্লোরে শুয়ে আত্ম-রক্ষা করেছিলাম। মাথা জানালা লেভেলে উঠালেই গুলি লেগে যাবার সম্ভাবনা ছিল। আমরা সকলকে উচ্চস্বরে বলে দিয়েছি কেহ যেন মাথা জানাল লেভেলে না তোলে। এ অবস্থায় আমরা ২৬শে মার্চ সারাদিন ক্ষনে ক্ষেন উভয় পক্ষ্যের গোলাগুলির মধ্যে কাটালাম। কারফিউর মধ্যে বাহিরে যাবার কোন উপায় ছিল না। সারাদিন কেহ কিছু খাই নাই। আর একটি কালো রাত এসে গেল। সিনিয়র ভাই ওয়াজিউল্লাহ সাহসে ভর করে পিছনের বস্তিতে গিয়ে আমাদের জন্য স্বল্প চিড়ামুড়ি সংগ্রহ করে আনলেন। একদিন এক রাত আমরা কোন কিছু না খাওয়া। পর দিন ২৭ শে মার্চ কারফিউ কয়েক ঘন্টার জন্য তুলে নেয়া হল। এ দুদিনের ভয়াবহ দুঃসময়ে আল্লাহর রহমতে হোষ্টেলের আমাদের কারো কোণ ক্ষতি হয় নাই। অত্যন্ত অল্প সময়ের জন্য কারফিউ তুলে নেয়ায় অতি দ্রুত আমাদেরকে হল ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। একটা ছোট হাতব্যাগে কিছু প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় নিয়ে সকাল ৭টায় হোষ্টেল থেকে যে যারমত বের হয়ে পড়লাম।</p>
<p>আপাততঃ আশ্রয় নেব স্বামীবাগে খালার বাসায়। রাস্তায় কোন রিকশা বা যানবাহন নাই। হেটে যেতে হবে। রাস্তায় বের হয়ে প্রথমেই মনে পড়ল আবু তাহের পাঠানের কথা, ছিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফীর ও আহাম্মদ উল্লাহর কথা। আহাম্মদ উল্লাহ ইউনিভার্সিটিতে ঢুকার ডান হাতের কোয়ার্টারে তার খালার বাসায় থাকে। দোতালায় বাসার ফ্লাটে থাকে। নীচ থেকে ডাক দিলাম। তার খালা বলল সে রাতে তার চাচার বাসায় চলে গেছে। এরপর ইউনিভার্সিটির দিকে যত ঢুকতে লাগলাম এখানে ওখানে ছড়ানো ছিটানো একটার পর একটা লাশ পড়ে থাকতে দেখলাম। এসব লাশ সার্জেন্ট জহূরুল হক হল ও মহসিন হলের ছাত্রদের লাশ। এতো লাশ দেখে আমি বিশ্বাস হারিয়ে ফেললাম, মনে হলো আমিও মারা গেছি। চিন্তা করতে করতে জহূরুল হক হলের গেটে এসে গেছি। পিছনে থেকে যেন কে আমাকে ডাকছে, “কাজী ভাই, ও কাজী ভাই”। ফিরে দেখি আমার পাশের গ্রামের আব্দুল খালেক। সে হলের নাইট গার্ড। সে আমাকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠে বলল, “তাহের ভাই আর নাই। পাকবাহিনীগুলি করে তাকে মেরে ফেলেছে।” আমি জিজ্ঞাসা করলাম, “তাহের ভাইর লাশ কই”। সে বলল, “তাহের ভাইকে তার রুমেই গুলি করেছে। পঁচিশ তারিখ সন্ধায় এসে তাহের ভাইকে আমার কামরাংগীর চরের বাসায় চলে যাবার অনুরোধ করেছিলাম। কত বুঝালাম অন্ততঃ একটা রাত বাইরে কাটান। কিন্তু শুনলো না।” এতক্ষনে আব্দুল খালেকসহ আমি তাহের ভাইর রুমের সামনে এসে হাজির। দরজা খোলা ছিল। তাহের ভাই সেজদারত অবস্থায় আছেন। পিছন থেকে স্টেনগানের গুলি তাকে ঝাঝরা করে ফেলেছে। তাঁর সাদা পাঞ্জাবী লালে লাল হয়ে গেছে। খালেক বলল, “পাকবাহিনী যখন হল আক্রমন করে, সর্বশেষ আমি তাকে নিতে এসে দেখি তিনি এশার নামাজে দাঁড়িয়ে সুরা আর রাহমান থেকে পাঠ করছেন, “পাবে আইয়ে আলায়ে রাব্বিকুমা তু কাজ্জেবান” (তোমার প্রভুর কোন নেয়ামতকে তুমি অস্বীকার করবে?)। আমি ডাকছি, “তাহের ভাই, ও তাহের ভাই, পাকবাহিনী এসে গেছে, আপনি এখনি আমার সাথে আসেন।” আমার ডাকাডাকিতে সুরা পাঠে তার ভুল হচ্ছিল, বার বার তিনি পড়ছেন, “পাবে আইয়ে আলায়ে রাব্বিকুমা তু কাজ্জেবান”। তিনি আমার সাথে এলেন না। আমি কোন মতে দেয়াল ডিংগিয়েছি, এমন সময় ভারী বুটের আওয়াজ কানে এল। আমি দেয়ালের পাশে মরার মত পড়ে রইলাম। কিছু ক্ষনের মধ্যেই পাঠান ভাইকে যে গুলি করেছে তা বুঝতে পারলাম। আমি পাশের বিল্ডিং এ এক শিক্ষকের বাসায় গত দু’দিন ছিলাম”। আমার আর খালেকের ঢুকরে কান্না এলো। একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষন কাঁদলাম।</p>
<p>খালেকের কাছে বিদায় নিয়ে আমি আমার খালার বাসায় গিয়ে উঠলাম। তিন চারদিন পর কার্ফু শিথিল হলে পায়ে হেটে ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জ হয়ে হাজার হাজার শ হ র ছাড়া মানুষের সাথে তিনদিনে ফরিদগঞ্জ পৌছলাম। সে সময়কার আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুল মাস্টারকে বাড়ী থেকে এনে মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক কাজ শুরু করলাম। উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সুচনা কাল পযন্ত যে সব চিঠিপত্র আমি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের লিখেছি এবং তারা আমাকে লিখেছে তার কিছু স্মৃতি আমার কাছে আজো রক্ষিত আছে।</p>
<p>যা’হোক, মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরনে এলে আজো আমার মনে পড়ে শহীদ আবু তাহের পাঠানের কথা। তার স্মৃতি বহন করে আমি আজীবন নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করেছি। লুটপাট করে ধনী হতে চাইনি। আল্লাহ এখনো আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।হাজারো শুকরিয়া। আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে আর কি নেয়ামত আশা করতে পারি!</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shodalap.com/2010/03/22/ff/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সুপরিকল্পিতভাবে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়: তদন্ত-প্রতিবেদন</title>
		<link>http://shodalap.com/2010/03/22/babri-mosque-demolision/</link>
		<comments>http://shodalap.com/2010/03/22/babri-mosque-demolision/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 22 Mar 2010 08:41:07 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Panjeri</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রতিবেশী রাষ্ট্র- Neighbours]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shodalap.com/?p=3736</guid>
		<description><![CDATA[নিছক ধর্মীয় উন্মাদনার বশে নয় বরং দীর্ঘ-সময় নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বাবরী মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিলো। আর এ-ব্যাপারে ভালোভাবেই অবগত ছিলেন হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শীর্ষ দুই নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আদভানী। বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ১০ দিনের মাথায় বিচারপতি মনমোহন সিং লিবারহান-এর [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><img class="alignleft" src="http://img413.imageshack.us/img413/2652/babrimosquedemolition.jpg" alt="" width="245" height="175" />নিছক ধর্মীয় উন্মাদনার বশে নয় বরং দীর্ঘ-সময় নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বাবরী মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিলো। আর এ-ব্যাপারে ভালোভাবেই অবগত ছিলেন হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শীর্ষ দুই নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আদভানী। বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ১০ দিনের মাথায় বিচারপতি মনমোহন সিং লিবারহান-এর নেতৃত্বে গঠিত সরকারী তদন্ত কমিশনের সদ্য-প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এ-তথ্য। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভারতের পার্লামেন্টে লিবারহান-প্রতিবেদন উত্থাপন করেছে সরকার। ১৭ বছর সময় নিয়ে তৈরী হওয়া প্রতিবেদনটির কিছু অংশ সোমবার একটি দৈনিক পত্রিকাতে ফাঁস হয়ে যাবার ফলে ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে যায় কংগ্রেস পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রায় পাঁচ-মাস আগে স্বরাষ্ট্র-মন্ত্রনালয়ের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হয়েছিলো বলে জানা গেছে।</p>
<p>প্রতিবেদনে বাবরী মসজিদ ধ্বংসের সাথে সর্বমোট ৬৮ জন ব্যক্তিকে সুর্নিদিষ্টভাবে দায়ী হিসাবে চিহ্নিত করার সাথে-সাথে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করা হয়েছে উত্তর প্রদেশের সে-সময়কার মুখ্যমন্ত্রী কল্যান সিং এর। প্রতিবেদনে বলা হয় সিং দেখে-দেখে এমন সব প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে রেখেছিলেন যারা অযোধ্যার মসজিদটি ধ্বংস করার সময় সচেতনভাবে নীরব-দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়াও কল্যান সিংয়ের সরকার হিন্দু-জঙ্গী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এর হাতে সরাসরি সরকারী ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। কল্যান সিং ছাড়াও উমা ভারতী, গোবিন্দ আচারিয়া, শঙ্কর সিং এর মত বিজেপি নেতারা বাবরী মসজিদ ধ্বংসের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। লিবারহান-প্রতিবেদনমতে, এরা চাইলে মসজিদ ধ্বংসের উন্মত্ততা বন্ধ করা সম্ভব ছিলো।</p>
<p>এদিকে, বাজপেয়ী ও আদভানীর ব্যাপারেও অত্যন্ত কড়া মন্তব্য করা হয়ছে প্রতিবেদনে। বিজেপির এই দুই শীর্ষ নেতাকে দলের ভেতরের &#8216;ভূয়া মধ্যপন্থী&#8217; হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বিজেপি মসজিদ ধ্বংসের ঠিক আগের দিন অযোধ্যা থেকে নয়াদিল্লী চলে আসেন। ঘটনার ব্যাপারে হাত না থাকার দাবী করলেও, কমিশনের সামনে বক্তব্য দেয়ার ব্যাপারে কখনোই সম্মত হননি বাজপেয়ী। অপরদিকে, বাবরী মসজিদ ধ্বংসের দিন অযোধ্যাতেই ছিলেন আদভানী। দায়-অস্বীকার করে কমিশনের সামনে বক্তব্যও দেন পরবর্তীকালে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্মীয় ভাবাবেগ চাঙ্গা করে দেয়ার লক্ষ্য থেকেই সে-সময় অযোধ্যা অভিমুখে রামরথ যাত্রা পরিচালনা করেছিলেন আদভানী।</p>
<p>উল্লেখ্য, এই দুই নেতা মসজিদ ধ্বংসের ব্যাপারে তাদের কোন ধরনের ভূমিকা না থাকার দাবী করছিলেন এতদিন পর্যন্ত। এরা নানান সময় বাবরী মসজিদ ধ্বংসের জন্য &#8216;দুঃখ-প্রকাশ&#8217; করেছিলেন। বিজেপির অপর এক শীর্ষ-নেতা মুরলী মনোহর যোশীকেও ঘটনার সাথে যুক্ত থাকার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই তিন নেতা বাবরী মসজিদ ধ্বংস হবে না মর্মে বিচার বিভাগ, জনগন তথা জাতিকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিলেন। মসজিদ ধ্বংসের ব্যাপারে সংঘ-পরিবারের বিস্তৃত প্রস্তুতির ব্যাপারে বাজপেয়ী-আদভানী-যোশী কিছু জানতেন বলে বিজেপির পক্ষ থেকে যে দাবী করা হয় তা আমলে নেয়নি তদন্ত-কমিশন। বাবরী মসজিদ ধ্বংসকে জাতির ইতিহাসে জঘন্যতম ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত করে লিবারহান-প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার জন্য বিজেপির মধ্যে কখনোই কোন অনুতাপ কাজ করেনি।</p>
<p>বাবরী মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে আকস্মিক ও স্বতঃস্ফূর্ত একটা ঘটনা হিসাবে চিত্রিত করার যে চেষ্টা বিজেপির পক্ষ থেকে করা হয় তা পুরোপুরি প্রত্যাখান করা হয়েছে লিবারহান-প্রতিবেদনে। মাদ্রাজ হাইকৌর্টে সাবেক বিচারপতি মনমোহন সিং লিবারহানের নেতৃত্বে পরিচালিত কমিশনের ১০০০-পৃষ্ঠা দীর্ঘ প্রতিবেদনে বলা হয় দীর্ঘ-প্রস্তুতি নিয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবেই বাবরী মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিলো। এ-প্রসঙ্গে আগে থেকেই অযোধ্যা ও ফৈজাবাদ থেকে লোকজন জড়ো করা, মসজিদ ভাঙার যন্ত্রপাতির যোগান, অস্থায়ী মন্দির স্থাপন, করার মত প্রসঙ্গগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে &#8216;রাম জন্মভূমি আন্দোলন&#8217; নামধারী সংগঠন কর্তৃক সমর্থকদের কাছে থেকে আসা বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যাঙ্কে জমা রাখার প্রসঙ্গটি। তদন্তকারীদের মতে কোন ধরনের প্রস্তুতি ছাড়া এসব কাজ ঠিকঠাক মত হয়ে যাওয়াটা কোনভাবেই সম্ভব ছিলোনা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতা আর সম্পদের আগ্রহ থেকেই বাবরী মসজিদ ধ্বংসের আন্দোলন শুরু করেছিলো বিজেপি ও আরএসএস।</p>
<p style="text-align: center;"><a href="http://portal.ukbengali.com/?q=node/370">http://portal.ukbengali.com/?q=node/370</a></p>
<p style="text-align: center;"><object classid="clsid:d27cdb6e-ae6d-11cf-96b8-444553540000" width="425" height="350" codebase="http://download.macromedia.com/pub/shockwave/cabs/flash/swflash.cab#version=6,0,40,0"><param name="src" value="http://www.youtube.com/v/5AhbyGeTIbQ" /><embed type="application/x-shockwave-flash" width="425" height="350" src="http://www.youtube.com/v/5AhbyGeTIbQ"></embed></object></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shodalap.com/2010/03/22/babri-mosque-demolision/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>আমার ছোট্ট এক টুকরো জমিন</title>
		<link>http://shodalap.com/2010/03/21/a-piece-of-land/</link>
		<comments>http://shodalap.com/2010/03/21/a-piece-of-land/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 21 Mar 2010 09:09:47 +0000</pubDate>
		<dc:creator>mariner</dc:creator>
				<category><![CDATA[সাহিত্য-Literature]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shodalap.com/?p=3728</guid>
		<description><![CDATA[আমার এই ছোট্ট এক টুকরো জমিন-
কি এমন মধু রয়েছে তাতে?
সেই কবে থেকে বর্গীরা আসছে তো আসছেই
হাড় জিরজিরে অবোধ মানুষের সব লুটে পুটে খেতে।
আমার এই এক টুকরো ছোট্ট জমিন,
ঠিক কবে প্রথম তস্করদের নজরে পড়েছিল?
মনে করতে চেষ্টা করি &#8211; সে এক বিশাল ধারাবাহিকতা:
পলাশী থেকে মাগুরছড়া, টেংরাটিলা কিংবা মন্দিরটিলা
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লুটপাটের উপাখ্যান-
কখনো বন্ধুবেশে, কখনো বণিকের বেশে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আমার এই ছোট্ট এক টুকরো জমিন-<br />
কি এমন মধু রয়েছে তাতে?<br />
সেই কবে থেকে বর্গীরা আসছে তো আসছেই<br />
হাড় জিরজিরে অবোধ মানুষের সব লুটে পুটে খেতে।<br />
আমার এই এক টুকরো ছোট্ট জমিন,<br />
ঠিক কবে প্রথম তস্করদের নজরে পড়েছিল?<br />
মনে করতে চেষ্টা করি &#8211; সে এক বিশাল ধারাবাহিকতা:<br />
পলাশী থেকে মাগুরছড়া, টেংরাটিলা কিংবা মন্দিরটিলা<br />
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লুটপাটের উপাখ্যান-<br />
কখনো বন্ধুবেশে, কখনো বণিকের বেশে এসেছে লুটেরারা-<br />
কখনো ত্রাণকর্তা হিসেবে, আমায় উদ্ধার করতে।</p>
<p>আমি সরল মনে বসতে দিয়েছি তাদের-<br />
আমার কাচারী ঘরে বা উঠানে জলচৌকি পেতে।<br />
অথচ, সুযোগ পেলে মুহূর্তেই আমাকে পরাতে চেয়েছে<br />
দাসত্বের হ্যান্ডকাফ &#8211; একবার নয &#8211; বার বার, কতবার!<br />
এই তো মাত্র ক’দিন হলো পত্রিকায় দেখলাম, আমার<br />
জলসীমায় “বন্ধুদেশের” আধুনিক রণতরী এসেছে!<br />
ঘরপোড়া গরুর মতই, ভয় পাই আমি লালচে মেঘ দেখলে।<br />
ভাবি, আমার এই ছোট্ট এক টুকরা জমিন-<br />
কি এমন মধু রয়েছে তাতে?</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shodalap.com/2010/03/21/a-piece-of-land/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>@আইভি আপা এবং ফারুকভাই</title>
		<link>http://shodalap.com/2010/03/21/at-ivy-and-faruk/</link>
		<comments>http://shodalap.com/2010/03/21/at-ivy-and-faruk/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 21 Mar 2010 09:05:32 +0000</pubDate>
		<dc:creator>antibhondo</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইসলাম-Islam]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shodalap.com/?p=3724</guid>
		<description><![CDATA[ইন্টার্নেট থেকে সঙগৃহিত কোনো এক্টা লেখায় আইভি আপা এক্টা কমেন্ট করেন। আমি তার জবাব সেখানে দিয়েছি, তবে জরূরি মনে হওয়ায় আলাদা পোস্ট দিচ্ছি।
আইভি says:
“But the Quran was written down as soon as the Prophet died.”
—– সূরা আত-তুরে বলা আছে ৫২:২-৩
And a well-scored Book it is.Written on fine parchment, unrolled, open for everyone to read, widely [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>ইন্টার্নেট থেকে সঙগৃহিত কোনো এক্টা লেখায় আইভি আপা এক্টা কমেন্ট করেন। আমি তার জবাব সেখানে দিয়েছি, তবে জরূরি মনে হওয়ায় আলাদা পোস্ট দিচ্ছি।</p>
<p>আইভি says:</p>
<p>“But the Quran was written down as soon as the Prophet died.”</p>
<p>—– সূরা আত-তুরে বলা আছে ৫২:২-৩<br />
And a well-scored Book it is.Written on fine parchment, unrolled, open for everyone to read, widely published.</p>
<p>হযরত মুহম্মদ (সাঃ) বিশ্বস্ততার সাথেই তাঁর কর্তব্য পালন করে গেছেন। সেখানে নবীর মৃত্যূর পর বিভিন্ন জায়গা থেক কোরানের আয়াত সংগ্রহ করে কোরান সংকলনের কথা বিশ্বাস যোগ্য নয়।</p>
<p>ড. মনসুর আলম এ প্রসঙ্গে বলেছেন যে, যেহেতু কোরান মানব জাতির গাইড বুক হিসেবে এসেছে, সেক্ষেত্রে অবশ্যই লিখিত ও সংকলিত অবস্হায় মুহম্মদ (সাঃ) জীবিত অবস্হায় সংরক্ষণ করেছেন। কেমন করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আয়াত সমূহ code of guidance হয়?<br />
______________________________________________</p>
<p>antibhondo says:</p>
<p>আইভি আপা, ইনভার্টেড কমার ভেতরের মন্তব্যটা কার? আপ্নার? আপ্নি কীভাবে জানেন এই কথা? কোনো লেখকের? তিনি কীভাবে জানেন এই কথা? কোরানে নাই, সেটা আমি জানি। আপ্নি ঠিক কোন সোর্স থেকে এটা জানলেন অনুগ্রহ করে জানাবেন।<br />
_______________________________________________<br />
[[[—– সূরা আত-তুরে বলা আছে৫২:২-৩<br />
And a well-scored Book it is.Written on fine parchment, unrolled, open for everyone to read, widely published. ]]]</p>
<p>এখানে কোন বইয়ের কথা বলা হচ্ছে? কোরান? আপ্নি সেটা কীভাবে জানলেন? আমি যতদূর জানি, এই অনুবাদটা ড. শাব্বির -এর। তিনি কীভাবে জানলেন যে এখানে কোরানের কথা হচ্ছে?<br />
_______________________________________________<br />
[[[হযরত মুহম্মদ (সাঃ) বিশ্বস্ততার সাথেই তাঁর কর্তব্য পালন করে গেছেন। সেখানে নবীর মৃত্যূর পর বিভিন্ন জায়গা থেক কোরানের আয়াত সংগ্রহ করে কোরান সংকলনের কথা বিশ্বাস যোগ্য নয়। ]]]</p>
<p>এইখানে কর্তব্য বল্তে আপ্নি কী বুঝাচ্ছেন? আর সেই কর্তব্যের সাথে [[[নবীর মৃত্যূর পর বিভিন্ন জায়গা থেক কোরানের আয়াত সংগ্রহ করে কোরান সংকলনের কথা বিশ্বাস যোগ্য নয়]]]-এর রিলেশন্টা কী???</p>
<p>কোরানের কোনো আয়াতে কি আপ্নি দেখাতে পার্বেন যে আল্লাহ রাসুল স.-কে এই কর্তব্য ঠিক করে দিয়েছেন যে মৃত্যুর আগেই তিনি যেন কোরান্কে এক্টা [[[well-scored Book it is.Written on fine parchment, unrolled, open for everyone to read, widely published]]]বই আকারে পাবলিশ করে যান?<br />
যদি না পারেন তাহলে এই কর্তব্য রাসুল স.-এর উপর কে বর্তালো? আপ্নি? নাকি ড. শাব্বির?<br />
_______________________________________________</p>
<p>antibhondo says:</p>
<p>আপা আপ্নাকে এটা আমি চিন্তা করার জন্য বল্তেছি</p>
<p>এক্টা ইতিহাস উড়ায় দিচ্ছেন এমন এক্টা আয়াতের উপরে যেখানে আয়াতটায় আসলে কী বলা হইছে সেটা নিশ্চিত না? ধারণা কর্তেছেন এখানে কোরান বলা হইতে পারে, আর সাথ সাথে ইতিহাস আর সেই ইতিহাসের সাথে রিলেটেড সমস্ত লোক মিথ্যাবাদি হয়ে গেল?</p>
<p>আপ্নারা, কোরান অনলিরা আমাকে সত্যিই খুব অবাক করে দিচ্ছেন।<br />
______________________________________________</p>
<p>antibhondo says:</p>
<p>আইভিআপা, আরো এক্টা কথা, ড. শাব্বির যেভাবে প্রথম আয়াত অনুবাদ করেছেন,<br />
Mount Sinai stands witness. [That this Qur’an is a Divine writ as was the Scripture of Law bestowed upon Moses]</p>
<p>দেখেন, যদি আসলেই وَالطُّورِ বল্তে Mount Sinai বুঝানো হয়ে থাকে, তাহলে Mount Sinai-এর কসম খাওয়ার সাথে রিলেশন তো থাকার কথা মুসা আ.-এর উপর নাজিল হওয়া গ্রন্থের। সেই হিসেবে দ্বিতীয়-তৃতীয় আয়াতে a well-scored Book বল্তে কি কোরান হবার কোনো চান্স আছে???</p>
<p>ফারুকভাই আপ্নার কাছেও আমি এক্টা জবাব আশা কর্ছি।<br />
____________________________________________________________</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shodalap.com/2010/03/21/at-ivy-and-faruk/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বৃক্ষের পরিচয় ফলে: তাই নাকি!</title>
		<link>http://shodalap.com/2010/03/20/tree-fruits/</link>
		<comments>http://shodalap.com/2010/03/20/tree-fruits/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 20 Mar 2010 20:42:36 +0000</pubDate>
		<dc:creator>এস.এম. রায়হান</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইসলাম-Islam]]></category>
		<category><![CDATA[বিশ্ব-World]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shodalap.com/?p=3720</guid>
		<description><![CDATA[৯-১১ নাটকের পর থেকে মুসলিমদেরকে উদ্দেশ্য করে “বৃক্ষের পরিচয় ফলে” প্রবাদ বাক্যটি হর-হামেশাই শোনা যায়। ৯-১১ নাটকের আগে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে এরকম কোন প্রবাদ বাক্য কেউ শুনেছেন বলে মনে হয় না। আর “ইসলাম” নামক বৃক্ষের “ফল” হিসেবে দেখানো হচ্ছে বিন লাদেন, তথাকথিত আল-কায়েদা সন্ত্রাসী, আত্মঘাতী হামলাকারী, নারী নির্যাতনকারী, খুনী, ধর্ষক, চোর-বাটপার, জেএমবি জঙ্গি, ও বাংলাভাই [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>৯-১১ নাটকের পর থেকে মুসলিমদেরকে উদ্দেশ্য করে “বৃক্ষের পরিচয় ফলে” প্রবাদ বাক্যটি হর-হামেশাই শোনা যায়। ৯-১১ নাটকের আগে তাদেরকে উদ্দেশ্য করে এরকম কোন প্রবাদ বাক্য কেউ শুনেছেন বলে মনে হয় না। আর “ইসলাম” নামক বৃক্ষের “ফল” হিসেবে দেখানো হচ্ছে বিন লাদেন, তথাকথিত আল-কায়েদা সন্ত্রাসী, আত্মঘাতী হামলাকারী, নারী নির্যাতনকারী, খুনী, ধর্ষক, চোর-বাটপার, জেএমবি জঙ্গি, ও বাংলাভাই ধরণের লোকজনকে। বিষয়টা নিয়ে সামান্য আলোকপাত করা যাক। প্রথমে প্রকৃতি থেকে একটি উদাহরণ হিসেবে অ্যাপেল গাছের কথাই ধরা যাক। একটি অ্যাপেল গাছে হাজার হাজার অ্যাপেল ধরে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়া, পোকা-মাকড়, দুষ্ট পোলাপান, ইত্যাদি বহিরাগত কারণে পোক্ত হওয়ার আগেই কিছু অ্যাপেল গাছ থেকে ঝড়ে পড়ে অথবা পচে নষ্ট হয়ে যায়। এই বহিরাগত উৎপাত এড়ানোর জন্য গাছের মালিক বিভিন্ন সতর্কতার আশ্রয় নেয়। যেমন পোকা-মাকড় থেকে রক্ষার জন্য কীটনাশক ব্যবহার করা হয়; দুষ্ট পোলাপানের হাত থেকে রক্ষার জন্য বেড়ার ব্যবস্থা করা হয়; ইত্যাদি। দিন শেষে প্রায় ৭০-৯০ ভাগ ভাল অ্যাপেল সংগ্রহ করা হয়। গাছের মালিক তাতেই খুশী।</p>
<p>প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে বহিরাগত কারণে কিছু অ্যাপেল পোক্ত হওয়ার আগেই গাছ থেকে ঝড়ে পড়ল অথবা পচে নষ্ট হয়ে গেল, তার জন্য কোন বিজ্ঞানী সেই অ্যাপেল গাছকে দোষ দেবেন কি-না। গাছটিকে বিষবৃক্ষ বলবেন কি-না। গাছটিকে কেটে ফেলার পরামর্শ দেবেন কি-না। সেই গাছের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ শুরু করবেন কি-না। গাছের মালিক-ই বা সেই গাছটিকে কেটে ফেলবেন কি-না। কোন সুস্থ মানুষকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বলে দেয়ার দরকার আছে বলে মনে হয় না। এমনকি একটি অ্যাপেল গাছ থেকে দশ ভাগ ভাল অ্যাপেল সংগ্রহ করা গেলেও কোন বিজ্ঞানী সেই গাছকে দোষ দেবেন না। এরকম আরো অনেক উদাহরণ দেয়া যায়। তবে যুক্তিবাদীদের জন্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট।</p>
<p>এবার “কোরআন” নামক বৃক্ষের কথায় আসা যাক। বর্তমানে সারা পৃথিবী জুড়ে ১.৫-১.৮ বিলিয়ন “মুসলিম” তথা কোরআন নামক বৃক্ষের ফল আছে, যারা কোরআনকে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার বাণী হিসেবে বিশ্বাস করে এবং যথাসাধ্য অনুসরণ করারও চেষ্টা করে। পঞ্চাশেরও বেশী মুসলিম অধ্যুষিত দেশ আছে। আমেরিকাতে প্রায় ৬-৮ মিলিয়ন মুসলিম আছে, যাদের মধ্যে প্রায় ১.৫-২.০ মিলিয়ন অন্যান্য ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত। ইউরোপে প্রায় ৫০ মিলিয়ন মুসলিম আছে যাদের মধ্যে অনেকেই অন্যান্য ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত। যাদেরকে জঙ্গী-সন্ত্রাসী বলে দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে তাদের সংখ্যা আর কতই হবে? শতকরা একজন হওয়াও কিন্তু খুবই কঠিন। এমনকি হাজারে একজন হবে কি-না সন্দেহ। কারণ শতকরা একভাগ হিসেবে বাংলাদেশে জঙ্গী-সন্ত্রাসী মুসলিমদের সংখ্যা হবে প্রায় পনের লক্ষ। বাংলাদেশে পনের লক্ষ জঙ্গী-সন্ত্রাসী মুসলিম আছে বলে মনে হয় না। মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, সিংগাপুর, ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে জঙ্গী-সন্ত্রাসী মুসলিম সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে না। মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, ও সিংগাপুরের মুসলিমরা কিন্তু বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, ও আফগানিস্তানের মুসলিমদের চেয়ে ইসলাম সম্পর্কে অনেক বেশী শিক্ষিত ও সচেতন।</p>
<p>মালয়েশিয়ার জনসংখ্যার প্রায় ৭০ ভাগ মুসলিম। বাদবাকি সবায় চাইনিজ, হিন্দু, ক্রিস্টিয়ান, ও বৌদ্ধ। উল্লেখ করার মতন এমন কোন প্রমাণ নাই যে, মালয়েশিয়ান মুসলিমরা অন্য কোন ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা বাধিয়ে তাদেরকে হত্যা করেছে অথবা তাদের ধর্মীয় উপসনালয় ধ্বংস করেছে। ব্রুনাই এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ইরানে দীর্ঘদিন ধরে ইহুদীদের একটি অংশ বাস করে আসছে। উল্লেখ করার মতন এমন কোন প্রমাণ নাই যে, ইরানিয়ান মুসলিমরা ইহুদিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা বাধিয়ে তাদেরকে হত্যা করেছে অথবা তাদের ধর্মীয় উপসনালয় ধ্বংস করেছে। ইরানিয়ান ইহুদীরা নাকি ইসরাইলের চেয়ে ইরানে থাকাটাই বেশী পছন্দ করে। প্যালেস্টাইন, কাতার, সিরিয়া, ও মিশরে প্রায় ১০-২০ ভাগ ক্রিস্টিয়ান আছে। উল্লেখ করার মতন এমন কোন প্রমাণ নাই যে, প্যালেস্টাইন, কাতার, সিরিয়া, ও মিশরের মুসলিমরা ক্রিস্টিয়ানদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা বাধিয়ে তাদেরকে হত্যা করেছে অথবা তাদের ধর্মীয় উপসনালয় ধ্বংস করেছে। এমনকি বাংলাদেশেও উল্লেখ করার মতন তেমন কোন নজির নেই। পাকিস্তানে শিয়া-সুন্নি দাঙ্গা কিন্তু একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়, যেখানে আবার বাহিরের মদদ থাকে। কারণ ইরানে শিয়া-সুন্নী থাকা সত্ত্বেও সেখানে কিন্তু কোনরকম দাঙ্গার কথা শোনা যায় না। অথচ পাকিস্তানে বার বার শিয়া-সুন্নি দাঙ্গা হয় কেন। এর পেছনে নিশ্চয় বাহিরের মদদ আছে।</p>
<p>প্রকৃতপক্ষে, বৃটিশ ক্রিস্টিয়ানদের সহায়তায় ইউরোপিয়ান জায়নিষ্ট সন্ত্রাসীদের দ্বারা প্যালেস্টাইন দখলের আগে মুসলিম বিশ্বে সন্ত্রাসী বা আত্মঘাতী হামলাকারী বলে উল্লেখ করার মতন কিছু ছিল না। ক্রিস্টিয়ান সন্ত্রাসীদের দ্বারা ইরাক আক্রমণের আগে ইরাকে সন্ত্রাসী বা আত্মঘাতী হামলাকারী বা তথাকথিত আল-কায়েদা বলে কিছু ছিল না। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দীর্ঘদিন ধরে রাহুগ্রাসে জর্জরিত। দেশ দুটিতে বিদেশী হায়েনাদের পদচারণা। আফ্রিকার কিছু দেশে সংখ্যাধিক্য মুসলিম ও সংখ্যালঘু ক্রিস্টিয়ানদের মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই চলছে। তেল ও খনিজ সম্পদের লোভে বাহির থেকে আমেরিকা ও বৃটেন তাতে মদদ দিচ্ছে। আর এই ‘সুবর্ণ’ সুযোগে মিশনারিজ গ্রুপ মুসলিম ও পেগানদেরকে ক্রিস্টিয়ানিটিতে ধর্মান্তরিত করারও চেষ্টা করছে। তারা ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ও ইন্ডিয়াতেও রীতিমত অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাছে যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দূর্যোগ মানেই হচ্ছে ‘সুবর্ণ’ সুযোগ!</p>
<p>কেউ কি বলতে পারেন, প্রায় নব্বই ভাগ মুসলিম প্রধান দেশে বোমাবাজি করে “ইসলামিক আইন ” চালু করতে হবে কেন। এ আবার কোন্ ধরণের মাতলামি। কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম এভাবে ভাবতে পারে না নিশ্চয়। ফলে এদেরকে পেছন থেকে কে বা কারা মদদ দিচ্ছে সেটা বুঝার জন্য আইনস্টাইন হওয়ার দরকার নাই। দেখতে হবে যে, এই বোমাবাজি ও সন্ত্রাস দ্বারা কে বা কারা লাভবান হচ্ছে। ইসলাম ও মুসলিমরা নয় নিশ্চয়! বরঞ্চ ইসলাম ও মুসলিমরা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ। এগুলো তো আজ দিনের আলোর মতই পরিষ্কার।</p>
<p>এই যখন বাস্তবতা তখন যারা কতিপয় সন্ত্রাসী বা আত্মঘাতী হামলাকারীকে ‘পাক্কা মুসলিম’ আখ্যা দিয়ে তাদেরকে দিয়েই ইসলাম ও দেড় বিলিয়ন মুসলিমকে বিচার করে তারা আর যা-ই হোক কোনভাবেই যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানবাদী, ও সভ্য হতে পারে না।</p>
<p>এবার বিষয়টাকে অন্যান্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যাক। মুসলিমদের স্বর্ণযুগ এবং কোরআনের আগের ও পরের সভ্যতা তুলনা করলে যে কারো পক্ষে কোরআনের বাস্তব অবদান বুঝতে পারার কথা। এ’কথাও আজ সর্বজনবিদিত যে, ইসলাম ও মুসলিমদের সংস্পর্শে আসার পরই কেবল ইউরোপ রেনেসাঁর মুখ দেখেছে। পশ্চিমা বিশ্বের স্কলাররাই স্বীকার করেন। অন্য কোন ধর্মগ্রন্থ এত অল্প সময়ে মানব জাতির উপর এভাবে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারেনি। কোরআনের বাস্তব কিছু অবদান এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরা হচ্ছে:</p>
<p>- কোরআন আসার পরেই অ্যারাব, ইহুদী, ও ক্রিস্টিয়ানদের স্বর্ণযুগ এসেছে, আগে নয়।</p>
<p>- ইসলাম ও মুসলিমদের সংস্পর্শে আসার পরই কেবল ইউরোপ রেনেসাঁর মুখ দেখেছে, আগে নয়।</p>
<p>- কোরআন আসার পরেই ডাইনীদাহের মতন চরম অমানবিক ও বর্বর প্রথা বন্ধ হয়েছে, আগে নয়।</p>
<p>- কোরআন আসার পরেই সতীদাহের মতন চরম অমানবিক ও বর্বর প্রথা প্রায় বন্ধ হয়েছে, আগে নয়।</p>
<p>- কোরআন আসার পরেই নারী শিশু হত্যার মতন চরম অমানবিক ও বর্বর প্রথার অবলুপ্তি ঘটেছে, আগে নয়, যদিও কিছু কিছু দেশে এই প্রথা এখনও রয়েই গেছে।</p>
<p>- কোরআন আসার পরেই ক্রীতদাস প্রথার অবলুপ্তি ঘটেছে, আগে নয়। সেই সাথে আরো কিছু অমানবিক প্রথারও অবলুপ্তি ঘটেছে বা ঘটতে যাচ্ছে।</p>
<p>- কোরআন আসার পরেই নারীদেরকে সম্পত্তির অধিকার দেয়া শুরু হয়েছে, আগে নয়।</p>
<p>- কোরআন আসার পরেই নারীদেরকে ভোটের অধিকার দেয়া হয়েছে, আগে নয়।</p>
<p>- কোরআন আসার পরেই নারীদের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রগতিশীল গ্রুপ জোরে-সোরে কথা বলা শুরু করেছে, আগে নয়।</p>
<p>- একমাত্র কোরআনের কারণে বিলিয়নেরও বেশী মানুষ অ্যালকোহল পান করা থেকে বিরত থাকার যথাসাধ্য চেষ্টা করে, যদিও অ্যালকোহল ব্যবসায়ীরা তাতে মনঃক্ষুণ্ণ!</p>
<p>- একমাত্র কোরআনের কারণে বিলিয়নেরও বেশী মানুষ জুয়া ও পর্ণগ্র্যাফী থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করে, যদিও জুয়া ও পর্ণগ্র্যাফী ব্যবসায়ীরা তাতে ক্ষুব্ধ!</p>
<p>- একমাত্র কোরআনের কারণে মুসলিমদের মধ্যে এইড্স্ রুগীর শতকরা হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বৌদ্ধ অধ্যুষিত থাইল্যান্ড ও মুসলিম অধ্যুষিত মালয়েশিয়া পাশাপাশি দুটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও মালয়েশিয়ার চেয়ে থাইল্যান্ডে এইড্স্ রুগীর শতকরা হার <a href="http://globalhealthreporting.org/countries.asp">অনেক বেশী</a>। এই এলাকাতে থাইল্যান্ড থেকেই মূলত এইড্স্ এর সূত্রপাত। বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, ও ক্যাম্বোডিয়ার অবস্থাও নাজুক। জাপানে পয়সা ও প্রযুক্তির জোরে এইড্স্ রুগীর সংখ্যা সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে, যদিও আত্মহত্যার হার কমাতে পারছে না। হিন্দু অধ্যুষিত ভারত ও মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ পাশাপাশি দুটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারতে এইড্স্ রুগীর শতকরা হার অস্বাভাবিক রকম বেশী- প্রায় পঁচিশ গুণ। আর ক্রিস্টিয়ান অধ্যুষিত দেশের কথা উল্লেখ করতে গেলে তো শেষ হবে না। একমাত্র ইরান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও এইড্স্ রুগীর শতকরা হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ইরানে কিছুটা বেশী হওয়ার পেছনে কারণও আছে। এটি যেমন কোন ‘ম্যাজিক পিল’ নয় তেমনি আবার নয় কোন কাকতালীয় ঘটনা- একদম বাস্তবিক ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ। উগ্র বস্তুবাদীদের মরিচা পড়া রেডার স্ক্রীনে তো আবার এগুলো ধরা পড়ে না। তারা বরঞ্চ নামাজ-রোজা-যাকাত-কে ‘অবৈজ্ঞানিক’ প্রমাণ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে!</p>
<p>- পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের যাত্রা শুরু হয়েছে মূলতঃ কোরআন আসার পর থেকে, আগে নয়। এমনকি কোরআন আসার পর মাত্র কয়েকশ’ বছরের মধ্যে সারা পৃথিবী জুড়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এক্সপোনেনশিয়াল হারে অভূতপূর্ব উন্নতিসাধন হয়েছে। কপার্নিকাস, গ্যালিলিও, ব্রুনো, নিউটন, ও আইনস্টাইনের আবির্ভাব হয়েছে কোরআন আসার পরে। কেউ কি বলতে পারেন, ইউরোপের সেই অন্ধকার থেকে হঠাৎ করে কীভাবে কপার্নিকাস, গ্যালিলিও, নিউটন, ও আইনস্টাইনের মতন বিজ্ঞানী সহ বড় বড় ম্যাথমেটিশিয়ানদের আবির্ভাব হল। বিজ্ঞান এরকম কোন কোয়ান্টাম জাম্প নয় নিশ্চয়। এর পেছনে অবশ্যই যৌক্তিক কারণ আছে- সে ইতিহাস অত্যন্ত নোংরা। এ বিষয়ে জার্মান ডকুমেন্টারি থেকে একটি নমুনা দেখা যেতে পারে।</p>
<p><span style="color: #800080;">&#8220;While Arabs mentioned the source and reference of their knowledge, the Christian Europe removed the sources easily.&#8221; (German documentary program)</span></p>
<p style="text-align: center;"><object classid="clsid:d27cdb6e-ae6d-11cf-96b8-444553540000" width="425" height="350" codebase="http://download.macromedia.com/pub/shockwave/cabs/flash/swflash.cab#version=6,0,40,0"><param name="src" value="http://www.youtube.com/v/s_j70bwkSqQ" /><embed type="application/x-shockwave-flash" width="425" height="350" src="http://www.youtube.com/v/s_j70bwkSqQ"> </embed></object></p>
<p style="text-align: center;"><object classid="clsid:d27cdb6e-ae6d-11cf-96b8-444553540000" width="425" height="350" codebase="http://download.macromedia.com/pub/shockwave/cabs/flash/swflash.cab#version=6,0,40,0"><param name="src" value="http://www.youtube.com/v/AJnc6lB6pts" /><embed type="application/x-shockwave-flash" width="425" height="350" src="http://www.youtube.com/v/AJnc6lB6pts"></embed></object></p>
<p>ইউরোপের বর্ণবাদী ক্রিস্টিয়ান চার্চের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পর থেকে তারা মুসলিমদের অবদানকে বিভিন্নভাবে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। এমনকি মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিকের নাম এমনভাবে বিকৃত করা হয়েছে যে, তাঁদের নাম দেখে সহজে কেউ বুঝতেই পারবেন না যে তাঁরা আসলে মুসলিম ছিলেন।</p>
<p>কোরআন পূর্ব মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উল্লেখ করার মতন তেমন কিছুই ছিল না। ইউরোপিয়ানদের মতন তারাও অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। কিন্তু কোরআন আসার ৩০০-৫০০ বছরের মধ্যে মুসলিমরা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে যথেষ্ট উন্নতি করেছে। আর তারই ব্যাপ্তি হচ্ছে ইউরোপের রেনেসাঁ, কপার্নিকাস, গ্যালিলিও, নিউটন, ও আইনস্টাইন সহ আজকের আধুনিক আমেরিকা ও ইউরোপ। এমন ‘উদ্ভট’ কথা শুনে অ্যান্টি-ইসলামিক গোঁড়া মৌলবাদীরা হয়তো হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খাবেন, যেহেতু মুসলিমরা বর্তমানে জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ও শক্তিতে পিছিয়ে আছে। কিন্তু তাতে দিনের আলোর মতন সত্য তো আর মিথ্যা হয়ে যাবে না। প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমা বিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদদের অনেকেই এই সত্যকে স্বীকার করেন।</p>
<p>যাহোক, ক্রিস্টিয়ানদের মধ্যে যেমন মাদার তেরেসা আছেন তেমনি আবার হিটলারও আছে। মুসলিমরা কিন্তু মাদার তেরেসা বা হিটলারকে দিয়ে ক্রিস্টিয়ানিটি ও প্রায় দুই বিলিয়ন ক্রিস্টিয়ানকে বিচার করে না। কারণ ক্রিস্টিয়ানদের মধ্যে সবায় যেমন হিটলার নয় তেমনি আবার সবাই মাদার তেরেসাও নয়। হিন্দুদের মধ্যে যেমন গান্ধী আছেন তেমনি আবার আদভানী-মোদীও আছে। মুসলিমরা কিন্তু গান্ধী বা আদভানী-মোদীকে দিয়ে হিন্দুইজম ও প্রায় এক বিলিয়ন হিন্দুকে বিচার করে না। কারণ হিন্দুদের মধ্যে সবায় যেমন আদভানী-মোদী নয় তেমনি আবার সবাই গান্ধীও নয়। মুসলিমরা লেনিন, স্ট্যালিন, মাও, ও পলপটের মতন গণহত্যাকারীদেরকে দিয়ে মার্ক্সিজমকেও বিচার করে না।</p>
<p>অনুরূপভাবে, মুসলিমদের মধ্যে যেমন ভাল-মন্দ আছে। অথচ ৯-১১ নাটকের পর থেকে ৯৯.৯ ভাগ ভালকে বাদ দিয়ে ০.১ ভাগকে দিয়ে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে বিচার করা হচ্ছে কেন। এ আবার ক্যামন (অ)সততা! এ আবার ক্যামন (কু)যুক্তি!এ আবার ক্যামন ভন্ডামি! এ আবার ক্যামন (অপ)বিজ্ঞান! আরো মজার বিষয় হচ্ছে ইঁদুরের গর্তে লুক্কায়িত যাকে দিয়ে ইসলাম ও দেড় বিলিয়ন মুসলিমকে বিচার করা হচ্ছে সেই বিন লাদেন যে অন্য একটি মহলের সৃষ্টি সেটা তো আজ দিনের আলোর মতই পরিষ্কার। তাছাড়া বিন লাদেন যেমন কোন মুসলিম প্রধান দেশের ক্ষমতাতে নেই তেমনি আবার অ্যান্টি-মুসলিম মিডিয়াতে তাকে ‘ইসলামিক টেররিষ্ট’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার আগে মুসলিমরা হয়তো তার নামই শোনেনি!</p>
<p>সর্বোপরি, ইসলাম বা কোরআন নামক বৃক্ষের ফল কেমন সেটা জানতে হলে অন্ধকার টিউব থেকে এলোপাথাড়ি কাদা না ছুঁড়ে ইসলাম ও মুসলিমদের সম্পর্কে জানাটাই মনে হয় বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উলুবনে আইনস্টাইনের তত্ত্বের যথার্থতা খুঁজে কোন লাভ নেই। তবে মতলববাজ ও ভীরু-কাপুরুষদের কথা অবশ্য আলাদা।</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shodalap.com/2010/03/20/tree-fruits/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>3</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে অনেক শিশু</title>
		<link>http://shodalap.com/2010/03/19/juvenile-crimes/</link>
		<comments>http://shodalap.com/2010/03/19/juvenile-crimes/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 19 Mar 2010 16:28:48 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Panjeri</dc:creator>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ-Bangladesh]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shodalap.com/?p=3710</guid>
		<description><![CDATA[বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশুদের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ক্রমশ:ই বাড়ছে বলে জানাচ্ছে দেশটির আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের কাছে এই তথ্য রয়েছে যে, মহানগরগুলোতে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই থেকে শুরু করে হত্যাকান্ডের মত ঘটনায় শিশুরা ব্যবহৃত হচ্ছে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা জানিয়েছেন এ সংখ্যা ক্রমশ:ই বাড়ছে। যদিও অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়া শিশুদের সংখ্যা ঠিক [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://shodalap.com/wp-content/uploads/2010/03/kids.bmp"><img class="size-full wp-image-3712 alignleft" title="kids" src="http://shodalap.com/wp-content/uploads/2010/03/kids.bmp" alt="" /></a>বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশুদের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ক্রমশ:ই বাড়ছে বলে জানাচ্ছে দেশটির আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের কাছে এই তথ্য রয়েছে যে, মহানগরগুলোতে চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই থেকে শুরু করে হত্যাকান্ডের মত ঘটনায় শিশুরা ব্যবহৃত হচ্ছে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা জানিয়েছেন এ সংখ্যা ক্রমশ:ই বাড়ছে। যদিও অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়া শিশুদের সংখ্যা ঠিক কত এবং এখন পর্যন্ত ঠিক কোন ধরনের শিশুরা এ ধরনের কাজে ব্যবহার হচ্ছে এবং কি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তার কোন সুনির্দিষ্ট এবং বিস্তারিত বিবরণ নেই আইন-শৃংখলা রক্ষাকারীদের হাতে। তবে সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর কিংবা জাতিসংঘ শিশু তহবিল বলছে প্রধাণত যেসব শিশুরা পরিবার থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে আসছে তারাই পড়ছে অপরাধী চক্রের খপ্পরে।</p>
<p>জাতিসংঘ শিশু তহবিলের কর্মকর্তা শাবনাজ জেহরিন বলছেন তারা দেখতে পাচ্ছেন মূলত: যেসব পরিবারে শিশুদের সৎ মা বা সৎ বাবা রয়েছে এবং দারিদ্র প্রকট তারাই বেরিয়ে আসছে রাস্তায়। প্রতিষ্ঠানটি আরো বলছে, সম্প্রতি সিডর ও আইলার কারণেও অনেক শিশু ঘরছাড়া হয়েছে।</p>
<p>বিভিন্ন পক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে আসলে শিশুরা খাবার জোটাতে গিয়েই জড়াচ্ছে অপরাধে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বস্ত্র বা বাসস্থানের অধিকারের কথা আইনে আছে বাস্তবে কার্যকারিতা নেই বললেই চলে।</p>
<p>কারওয়ানবাজারের কয়েকজন শিশু যারা চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে তারা বলছে, রাজধানীতে এসে প্রথমেই তারা ভীষণ খাবারের কষ্টে পড়ে এবং এর ফলশ্রুতিতেই তারা অপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে পড়ে।</p>
<p>এই শিশুদের পুনর্বাসনের সুযোগ সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সুরভীর শরণাপন্ন হই। এই স্কুলের ১০-১৫ ভাগ শিশু পথশিশু এবং এদের অনেকেই যৌনকর্মী হিসেবে ব্যবহার হয়।</p>
<p>তিনি জানিয়েছেন যদি বা স্বল্প সংখ্যায় শিশুদের ঘন্টা তিনেকের জন্য স্কুলে আনা সম্ভব হচ্ছে, তারপর আর পর্যবেক্ষণের কোন সুযোগ থাকছে না, স্কুল কম্পাউন্ডের বাইরেই শিশুরা আবারও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।</p>
<p>অপরাজেয় বাংলাদেশ নামের একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা যেটি পথশিশুদের নিয়েই কাজ করছে, সেই সংগঠনের তেজগাঁ শাখার তত্ত্বাবধায়ক সেলিনা আক্তার শেলী বলছিলেন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে শিশুদের বের করে নেবার জন্য সবসময় তৎপর থাকে অপরাধীরা।</p>
<p>সে কারণেই শিশুদের সচেতন করার কাজ করছে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো। আশ্রয়কেন্দ্রের শিশুরা জানিয়েছে তারা পাচার ও যৌন নির্যাতন সম্পর্কে শিখছে, পাশাপাশি হাতের কাজ শেখার চেষ্টা করছে।</p>
<p>সরকারী উদ্যোগ সম্পর্কে খোঁজ নিই। প্রথমত: অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়া শিশুরা জানিয়েছে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তাদের মারপিট দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কখনও নেওযা হয় ভবঘুরে কেন্দ্রে।</p>
<p>এই কেন্দ্রতেও শিশুরা নির্যাতিত হয়। শিশু ফাতেমা ভবঘুরে কেন্দ্রে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে ফিরেছে, রাজধানীর হাইকোর্ট মাজার সংলগ্ন এলাকায় একদল মাদকসেবী ও যৌনকর্মীদের সঙ্গে বসেছিল সে।</p>
<p>কোন কোন শিশুকে অপরাধ প্রমাণিত হলে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আইনগত বাধা থাকায় উন্নয়ন কেন্দ্রে শিশুদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।</p>
<p>তবে, সংশোধন কেন্দ্রের পরিবেশ অনেকটাই ভালো বলে মন্তব্য করেছে এখান থেকে বেরিয়ে আসা একজন মেয়ে শিশু। সমস্যা হয় তাদেরই যাদের জেলে থাকতে হচ্ছে। যদিও শিশুদের দাগী অপরাধীদের সাথে থাকার কথা নয়।</p>
<p>পুলিশ সংস্কার প্রোগ্রামের ভিকটিম সাপোর্ট স্পেশালিস্ট মুমিনুন্নিসা শিখা, শিশুদের এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলছিলেন বিক্ষিপ্তভাবে আইনগত ব্যবস্থা, খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষার ব্যবস্থা করে এই সমস্যার সমাধান হবে না, দারিদ্র দূর করতে হবে।</p>
<p>সমাজসেবা অধিদফতর এখন এ দিকেই বেশি নজর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক সীতাংশু সেন বলছেন। কিন্তু পুনর্বাসনের সুযোগ পাচ্ছে খুবই কম সংখ্যক শিশুরা।</p>
<p>সরকার ধারণা করছে এই শিশুদের সংখ্যা সাত থেকে সাড়ে সাত লক্ষের মত, কিন্তু সরকারের আশ্রয় কেন্দ্রে সুযোগ রয়েছে সবমিলিয়ে হাজার দুয়েকের মত। তাহলে উপায় কি?</p>
<p>সরকার এখন চাইছে শিশুদের অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখতে। যেহেতু আসনসংখ্যা কম আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে, তাই পরিবারে ফিরিয়ে দিতে, পারিবারিক পরিবেশে শিশু অদিকার নিশ্চিত করতে।</p>
<p><a href="http://www.bbc.co.uk/bengali/in_depth/2010/03/100305_kacriminalchildren.shtml">তথ্যসূত্র</a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shodalap.com/2010/03/19/juvenile-crimes/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>You might as well reject the Quran, too!</title>
		<link>http://shodalap.com/2010/03/19/you-might-as-well-reject-the-quran/</link>
		<comments>http://shodalap.com/2010/03/19/you-might-as-well-reject-the-quran/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 19 Mar 2010 12:13:50 +0000</pubDate>
		<dc:creator>antibhondo</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইসলাম-Islam]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shodalap.com/?p=3669</guid>
		<description><![CDATA[Here is how I would imagine myself debating with such a person.
ME: You might as well reject the Quran, too, then.
REJECTOR: Why?
ME: They come down to us by the same medium, that is, oral transmission, backed by a chain of narrators.
REJECTOR: But the Quran was written down as soon as the Prophet died. Hadith was [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>Here is how I would imagine myself debating with such a person.</p>
<p>ME: You might as well reject the Quran, too, then.<br />
REJECTOR: Why?</p>
<p>ME: They come down to us by the same medium, that is, oral transmission, backed by a chain of narrators.<br />
REJECTOR: But the Quran was written down as soon as the Prophet died. Hadith was not.</p>
<p>ME: Wrong. Manuscripts of Abu Hurairaih&#8217;s collection of ahadith exist in Samarkand, as do the earliest copies of the Quran. A lot of other Sahaba&#8217;s hadith works are available in manuscripts. One only has to have the will to seek them out. If you reject hadith because you think they might have been invented, think the same for the Quran. How would you know that the Quran we have today is the same as the Quran of 1400 years ago?<br />
REJECTOR: Manuscripts exist, as you said.</p>
<p>ME: Right, and what proof is there that these are the same manuscripts?<br />
REJECTOR: The manuscripts show the same text as we have. Nothing has been changed.</p>
<p>ME: Right, and the same is the case with the hadith. The Sahaba wrote them down, and the manuscripts exist. Check them and you will find them to be exactly the same. If the Quran was written down, so were the ahadith.<br />
REJECTOR: So why then do the hadith contradict the Quran?</p>
<p>ME: Do you know Arabic?<br />
REJECTOR: No.</p>
<p>ME: Then how do you know they contradict the Quran?<br />
REJECTOR: Well, people say&#8230;.</p>
<p>ME: Well people say all sorts of ****. Unless you know Arabic to a very, very high degree, you cannot really comment on whether the hadith contradicts the Quran. In most cases of apparent contradiction, you find that the hadith is applied to a <em>specific</em> situation, while the Quran gives a general command. An example would be the establishment of prayer. The Quran says pray, ahadith provide the specifics.<br />
REJECTOR: But isn&#8217;t prayer handed down to us generation to generation from Ibrahim (a.s.)</p>
<p>ME: Any proof? Any sanad? Any manuscript? Unless you provide a sanad to back your claim, I can&#8217;t really see how that is possible.<br />
REJECTOR: And what about the seafood contradiction. Why did Abu Hanifa oppose the Quran on this one.</p>
<p>ME: It&#8217;s IMAM Abu Hanifa. Have some respect. As for your query, how do you know the Quran says ALL seafood?<br />
REJECTOR: Here. (He shows me a text)</p>
<p>ME: And you think that has been translated correctly? It&#8217;s very simple. Say today a German, who does not know English comes to you. He wants to communicate with you. What would you do?<br />
REJECTOR: Either I learn German, or he learns English.</p>
<p>ME: Correct. So let&#8217;s assume you taught him English. He now knows English the way <em>you</em> understand it, simply because you taught it to him.<br />
REJECTOR: So what&#8217;s your point?</p>
<p>ME: Let me complete. Are we agreed on what I have said so far?<br />
REJECTOR: Yes.</p>
<p>ME: So now he understands English with <em>you</em> as a reference. Whenever he reads an English work, he will keep your reference in mind and try to understand the text he is reading that way. Now answer me this, who were the first ones to learn the Quran?<br />
REJECTOR: The Companions of the Prophet.</p>
<p>ME: Indeed. And what who taught it to them?<br />
REJECTOR: The Prophet.</p>
<p>ME: So their point of reference was the Prophet?<br />
REJECTOR: It certainly appears to be that way.</p>
<p>ME: So the Sahaba learnt it, making the Prophet a reference for themselves. How do you think the next generation took the Quran.<br />
REJECTOR: Logicly, by reference of the Sahaba.</p>
<p>ME: See now this is the basis of the sanad, or chain that links us to the tradition. Would it not make sense then to refer it back to this linked tradition?<br />
REJECTOR: Not when it contradicts the Quran. You still haven&#8217;t answered my question about he seafood contradiction.</p>
<p>ME: Okay, answer me one more question. What other point of reference did the Arabs have to understand the Quran?<br />
REJECTOR: Their language, Arabic?</p>
<p>ME: Precisely. And what reference did they have for Arabic.<br />
REJECTOR: Their Jahili poetry?</p>
<p>ME: Precisely. So to make sure that you understand the Quran the way the Sahaba under stood it, you would have to learn the Arabic that <em>they</em> knew. Do you claim to have that knowledge of Arabic?<br />
REJECTOR: No.</p>
<p>ME: So how can you say that the Quran says that ALL seafood is halaal. Is it not possible that Imam Abu Hanifa may have found a reference in Arabic to prove that ALL seafood was not intended by the verse. To him it is ALL seafood that lives ENTIRELY in water. He forbade those animals which live outside water too, like the Crustaceans. So for you the reference word &#8220;sea food&#8221; includes Crustaceans. It is quite possible that for Imam Abu Hanifa the word &#8220;seafood&#8221; as it is in Arabic excluded Crustaceans. Is that not the case?<br />
REJECTOR: I see where this is going.</p>
<p>ME: You better, because by consensus of the &#8216;ulama a hadith rejector is a kaafir.<br />
REJECTOR: Hmmm. How about the adultery punishment contradiction?</p>
<p>ME: Yes, this is the second point I wanted to mention. If it is possible that the Quran mentions a generality, and the hadith mentions its specifics, it is also quite possible that the Quran may not deal with a generality at all. Instead it may deal with a specific hukum, and a hadith might give another specific hukum. This goes for the case of the adultery punishment. You, as a layman, do not know the specifics of the ayah for adultery punishment. We, without knowledge of Arabic, do not know what the ayah entails. I am told however, that the ayah deals with a specific punishment, that is, punishment of <em>unmarried</em> adulterers. Whereas the ahadith deal with <em>married</em> adulterers.<br />
REJECTOR: I think the ayah is quite straight forward. It says&#8230;.</p>
<p>ME: You mean the translation is quite straight forward. A twisted, deliberately clear translation, a mistake no doubt, on the part of your leader. Try learning the translations from someone who knows Arabic.<br />
REJECTOR: I think Mr. Rashad knew Arabic quite well.</p>
<p>ME: Two things here: 1) If he did, he only knew Egyptian Arabic. As far as I know, he did not have ANY formal training in classical, ancient Arabic. 2) Even if he did, he went <em>against</em> what almost all Arab scholars have said. It does not make sense, that a guy today, with absolutely no knowledge of ancient classical Arabic is able to interpret ayahs more correctly than those, who knew classical Arabic in its entirety. So it really is a question of scholarship vs. stupidity.<br />
REJECTOR: But how can you be sure that the ahadith are Sahih?</p>
<p>ME: How can you be sure that the Quran is the same? If you want to disbelieve in Hadith, you might as well disbelieve in the Quran. The only difference is that no one bothered to play with the wordings of the Quran. No one tried to make Tahreef. While for ahadith, people made false statements. So it really became an issue of sorting out the liar muhadditheen and keep them clear of the true muhadditheen.<br />
REJECTOR: But wouldn&#8217;t that apply to the Quran too?</p>
<p>ME: Not exactly. The Quran was something that could not be played with. Simply because there was a tawatur established. There were just too many narrators of the Quran. A false statement passed off as a Quranic verse would immediately be caught. The same goes for 500 or so ahadith as well. Other ahadith however, were specific to the situation. So the tawatur ahadith cannot be rejected, either. Other ahadith become subject to criticism, however. It may be that only one or two companions were sitting while the Prophet said something. If a hadith goes against the tawatur ahadith, that has to be rejected as well. And ahad ahadith also have to be criticzed to very large extent before being accepted or rejected. Ilm ul Hadith is not child&#8217;s play that someone just throws it out the window.<br />
REJECTOR: I see.</p>
<p>ME: You better.</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shodalap.com/2010/03/19/you-might-as-well-reject-the-quran/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>12</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>এক পুরুষ = ২ মহিলা?</title>
		<link>http://shodalap.com/2010/03/19/men-women/</link>
		<comments>http://shodalap.com/2010/03/19/men-women/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 19 Mar 2010 12:02:16 +0000</pubDate>
		<dc:creator>ফারুক</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইসলাম-Islam]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shodalap.com/?p=3697</guid>
		<description><![CDATA[কয়েকদিন আগে একটা পোস্ট লিখেছিলাম শুধুমাত্র কোরান অনুসরন করলে মুশ্কিল কোথায় জানার জন্য। সেখানেও উঠে এসেছে এক পুরুষের সাক্ষ্যর সমান দুই মহিলার সাক্ষ্য। হাদীসের কথা বলতে পারিনা, তবে কোরানের আয়াত কে যে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এক পুরুষ = ২ মহিলা, এই প্রচার চালানো হচ্ছে তাতে কোন ভুল নেই।
মহিলাদের স্মৃতিশক্তি নিশ্চয় পুরুষের থেকে দুর্বল নয় যে, [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>কয়েকদিন আগে একটা পোস্ট লিখেছিলাম শুধুমাত্র কোরান অনুসরন করলে মুশ্কিল কোথায় জানার জন্য। সেখানেও উঠে এসেছে এক পুরুষের সাক্ষ্যর সমান দুই মহিলার সাক্ষ্য। হাদীসের কথা বলতে পারিনা, তবে কোরানের আয়াত কে যে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এক পুরুষ = ২ মহিলা, এই প্রচার চালানো হচ্ছে তাতে কোন ভুল নেই।</p>
<p>মহিলাদের স্মৃতিশক্তি নিশ্চয় পুরুষের থেকে দুর্বল নয় যে, দুইজন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান হবে!! এই অর্থে কোরান বিদ্বেষী বা স্কেপ্টিকদের সমালোচনা যৌক্তিক। এই সমালোচনার জবাব দেয়ার আগে, চলুন দেখা যাক কোরানে আসলেই কি বলা হয়েছে-</p>
<blockquote><p>&#8220;হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে ঋনের আদান-প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং তোমাদের মধ্যে কোন লেখক ন্যায়সঙ্গতভাবে তা লিখে দেবে; লেখক লিখতে অস্বীকার করবে না। আল্লাহ তাকে যেমন শিক্ষা দিয়েছেন, তার উচিত তা লিখে দেয়া। এবং ঋন গ্রহীতা যেন লেখার বিষয় বলে দেয় এবং সে যেন স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করে এবং লেখার মধ্যে বিন্দুমাত্রও বেশ কম না করে। অতঃপর ঋণগ্রহীতা যদি নির্বোধ হয় কিংবা দূর্বল হয় অথবা নিজে লেখার বিষয়বস্তু বলে দিতে অক্ষম হয়, তবে তার অভিভাবক ন্যায়সঙ্গতভাবে লিখাবে। দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়(&#8216;তাদিল্লা&#8217; تَضِلَّ), তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যখন ডাকা হয়, তখন সাক্ষীদের অস্বীকার করা উচিত নয়। তোমরা এটা লিখতে অলসতা করোনা, তা ছোট হোক কিংবা বড়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এ লিপিবদ্ধ করণ আল্লাহর কাছে সুবিচারকে অধিক কায়েম রাখে, সাক্ষ্যকে অধিক সুসংহত রাখে এবং তোমাদের সন্দেহে পতিত না হওয়ার পক্ষে অধিক উপযুক্ত।&#8230;..২:২৮২&#8221;</p></blockquote>
<p>কোরানে আরো দুটি আয়াত আছে , যেখানে বলা হয়েছে নারী ও পুরুষের সাক্ষ্য সমান , এমনকি নারীর সাক্ষ্যকে পুরুষের সাক্ষ্যের উপরে স্থান দেয়া হয়েছে।  ঐ আয়াতগুলোর উদ্ধৃতি দেয়ার আগে ২:২৮২ আয়াত বিশ্লেষন করা যাক। এই আয়াতের &#8216;তাদিল্লা&#8217; শব্দের ভুল মানে করার জন্যই যত বিপত্তি বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এই আয়াতে দেখুন &#8216;তাদিল্লা&#8217;র মানে করা হয়েছে &#8216;ভুলে যায়&#8217;। <strong>আমরা জানি ভুলে যাওয়ার আরবী হচ্ছে &#8216;তানসা/নাসি..&#8217;। </strong>সুতরাং প্রথমেই আমরা  &#8216;ভুলে যায়&#8217; কে বাদ দিতে পারি বা ভুলে যেতে পারি।</p>
<p>&#8216;দাল্লা&#8221; সঠিক পথ প্রদর্শন(হুদা) করার বিপরীত শব্দ। &#8216;দাল্লা&#8217; বলতে বিপথে যাওয়া বা ভুল পথে যাওয়াকেই বোঝায়। সুরা ফাতিহাতেও এই শব্দেরি ভিন্নরুপ পাওয়া যায় &#8211; দাল্লিন বা বিপথগামী।</p>
<p>&#8221; ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন বিপথগামী হয় &#8216;তাদিল্লা&#8217; تَضِلَّ, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।&#8221;  এই কথার মাধ্যমে কেনো দুইজন সাক্ষীর প্রয়োজন সেটা বোঝানো হয়েছে। পুরো আয়াতটি যদি ভালোভাবে পড়েন তাহলে দেখবেন , আয়াতটি টাকা ধার দেনার বিষয়ে জড়িত। টাকা লেন দেন একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। একটা কথা আছে , অর্থই অনিষ্টের মূল। সম্পর্ক নষ্ট বা মারামারি কাটাকাটির মূলেও ধার দেনা। একারনেই দুইজন সাক্ষীর প্রয়োজন , যাতে একজন সাক্ষী বিপথে গেলে বা কোন কারনে পক্ষপাতিত্ব করলে , অন্যজন স্মরন করিয়ে দিতে পারে। আয়াতে দেখুন প্রথমে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে দুজন পুরুষ সাক্ষীর। পুরুষ সাক্ষী না পাওয়া গেলেই কেবল একজন পুরুষ সাক্ষীর বদলে দুইজন নারী সাক্ষীর কথা বলা হয়েছে। দুই পুরুষের বদলে ৪জন নারী সাক্ষীর কথা কিন্তু বলা হয় নি। <strong>সাক্ষ্য দেয়ার সময়ে দুই সাক্ষীর উপস্থিতিই প্রয়োজন। একজনের সাক্ষ্য যথেষ্ট নয়।</strong> কারন আগেই বলা হয়েছে , যাতে একজন অন্যজনকে স্মরন করিয়ে দিতে পারে। এখন নারীর কিছু শারীরিক সীমাবদ্ধতা আছে(স্মরনশক্তি নয়) যা তাকে সাক্ষ্য দেয়ার সময় উপস্থিত হতে ব্যহত করে বা ভবিষ্যতে যদি পুরুষ ও নারী সাক্ষী যদি বিয়ে করে ফেলে তাহলে তাদের দুজনেরি একসাথে ভুল সাক্ষী দেয়ার সম্ভাবনা হতে পারে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা &#8211; নারীকে প্রসবকালীন দীর্ঘ  সময় বিশ্রামে থাকতে হয় , মেন্সের জন্য প্রতি মাসেই কয়েকদিনের জন্য ঘরবন্দি থাকা লাগে ( তখনকার দিনে প্যড পাওয়া যেত না), ছোট বাচ্চা থাকলে সময় মতো দুধ খাওয়ানোর জন্য সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার সমস্যা ইত্যাদি। এইসকল কারনে <strong>একজন পুরুষ সাক্ষী না পাওয়া গেলে</strong> দুই জন নারী সাক্ষী রাখার কথা বলার মধ্যে অযৌক্তিক কিছু আছে কি? </p>
<p>কোরানে সাক্ষীর সংখ্যা নির্ধারন করা হয়েছে বিষয়ের গুরুত্বের উপরে নির্ভর করে। যেমন দেখুন ব্যভিচারের শাস্তির জন্য সাক্ষী দরকার ৪ জন এবং এখানে নারী বা পুরুষ যে কেউ সাক্ষী হতে পারে এবং নারী পুরুষ ভেদাভেদ ছাড়াই প্রত্যেকের সাক্ষ্যের ওজন সমান।</p>
<blockquote><p>৪:১৫&#8221;আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারিণী তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য থেকে চার জনকে সাক্ষী হিসেবে তলব কর। অতঃপর যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে সংশ্লিষ্টদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখ, যে পর্যন্ত মৃত্যু তাদেরকে তুলে না নেয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোন পথ নির্দেশ না করেন।&#8221;<br />
২৪:৪&#8221;যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতঃপর স্বপক্ষে চার জন সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই না’ফারমান।&#8221;</p></blockquote>
<p>আবার দেখুন , একজন নারীর সাক্ষীই যথেষ্ট এবং যদি তার স্বামী বিপরীত সাক্ষ্য ও দেয় , তবুও নারীর সাক্ষ্যকে গ্রহন করতে বলা হয়েছে।</p>
<blockquote><p>২৪:৬-৯ &#8220;এবং যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাক্ষী নেই, এরূপ ব্যক্তির সাক্ষ্য এভাবে হবে যে, সে আল্লাহর কসম খেয়ে চারবার সাক্ষ্য দেবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। এবং পঞ্চমবার বলবে যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লানত। <strong>এবং স্ত্রীর শাস্তি রহিত হয়ে যাবে যদি সে আল্লাহর কসম খেয়ে চার বার সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী;   এবং পঞ্চমবার বলে যে, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয় তবে তার ওপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে।&#8221; </strong> </p></blockquote>
<p>তাহলে আমরা দেখতে পাই যে , শুধুমাত্র টাকা ধার দেনার সময়েই দুই জন পুরুষ সাক্ষীর প্রয়োজন এবং যদি পুরুষ একজন না পাওয়া যায় , কেবল তখনি দুইজন নারী সাক্ষী নেয়ার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং সর্বক্ষেত্রে একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান দুইজন নারীর সাক্ষ্য , এটা বলা যেমন যৌক্তিক নয় , তেমনি এই কথা বলে ইসলামকে কলুষতা করার চেষ্টা অনৈতিক।</p>
<p>(কোরানের মহত্ব- ২:২৮২ আয়াতে দেখুন , যে টাকা ধার নিচ্ছে , সেই ধারের টার্মস এবং কন্ডিশন ঠিক করে দিচ্ছে। সাধারনত এর উল্টোটাই ঘটে।)</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shodalap.com/2010/03/19/men-women/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ইসলাম ও কোরআনে বিশ্বাসের ভিত্তি</title>
		<link>http://shodalap.com/2010/03/17/the-basis-of-muslim-belief/</link>
		<comments>http://shodalap.com/2010/03/17/the-basis-of-muslim-belief/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 17 Mar 2010 18:45:15 +0000</pubDate>
		<dc:creator>এস.এম. রায়হান</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইসলাম-Islam]]></category>
		<category><![CDATA[বিশ্ব-World]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shodalap.com/?p=3679</guid>
		<description><![CDATA[প্রত্যেক ধর্মে বিশ্বাসীরাই যেহেতু এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে সেহেতু এটি একটি কমন বিশ্বাস। অধিকন্তু, এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের স্বপক্ষে ইতোমধ্যে তিনটি স্বতন্ত্র প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে “সৃষ্টিকর্তা আছেন” ধরে নিয়ে যৌক্তিক ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে এই লেখাটিকে বিবেচনা করতে হবে। একটি গ্রন্থ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার বাণী বা রেভিলেশন কি-না- সেটা বিবেচনায় নেয়ার [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>প্রত্যেক ধর্মে বিশ্বাসীরাই যেহেতু এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাস করে সেহেতু এটি একটি কমন বিশ্বাস। অধিকন্তু, এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের স্বপক্ষে ইতোমধ্যে <a href="http://shodalap.com/2009/10/11/evidence-of-creator/">তিনটি স্বতন্ত্র প্রমাণ</a> উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে “সৃষ্টিকর্তা আছেন” ধরে নিয়ে যৌক্তিক ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে এই লেখাটিকে বিবেচনা করতে হবে। একটি গ্রন্থ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার বাণী বা রেভিলেশন কি-না- সেটা বিবেচনায় নেয়ার আগে নিদেনপক্ষে দুটি শর্ত পূরণ করতেই হবে:</p>
<p><span style="color: #003366;">শর্ত-১:</span> গ্রন্থটিকে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে দাবি করতে হবে। অর্থাৎ গ্রন্থটি যে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার বাণী- সেটা গ্রন্থের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে লিখা থাকতে হবে। দাবি করাটা কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে গ্রন্থকে সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে দাবিই করা হয়নি সেই গ্রন্থকে আবার সৃষ্টিকর্তার বাণী হিসেবে বিশ্বাস করাটাই তো বোকামি। আগে তো দাবি করতে হবে- তারপরই না কেবল দাবিটা সত্য নাকি মিথ্যা এবং সেই সাথে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন আসবে।</p>
<p><span style="color: #003366;">শর্ত-২:</span> গ্রন্থটিকে ভুল-ভ্রান্তি ও অসঙ্গতি থেকে মুক্ত হতে হবে। একটি গ্রন্থকে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে দাবি করার পরও যদি তার মধ্যে সুস্পষ্ট ভুল-ভ্রান্তি বা অসঙ্গতি থাকে সেক্ষেত্রে সেই গ্রন্থটি স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।</p>
<p>এই দুটি শর্ত পূরণ করার পরই কেবল একটি গ্রন্থ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার বাণী কি-না- বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখা যেতে পারে। নিদেনপক্ষে শর্ত-১ পূরণ করতেই হবে। কারণ শর্ত-১ পূরণ করতে না পারলে সেই গ্রন্থ নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রশ্নই আসে না।</p>
<p>ইসলামে বিশ্বাসীদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় তারা কেন কোরআনে বিশ্বাস করে- অর্থাৎ তাদের বিশ্বাসের ভিত্তি কী? একেক জন হয়তো একেক ভাবে উত্তর দেবেন। তবে মোটামুটিভাবে নিম্নের যুক্তিগুলো চলে আসবে। কোরআন যে কোন মানুষের নিজস্ব বাণী হতে পারে না- তার স্বপক্ষে বেশ কিছু যৌক্তিক কেস দাঁড় করানো হয়েছে। যে কেউ নিরপেক্ষ মন-মানসিকতা নিয়ে কোরআন স্টাডি করলে এই সিদ্ধান্তে উপণীত হবেন যে, কোরআনের মতন একটি গ্রন্থ লিখা মানুষের পক্ষে সত্যি সত্যি অসম্ভব।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-১:</span> কোরআনই হচ্ছে একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেখানে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা নিজেই বক্তা এবং সেই সাথে বেশ কিছু আয়াতে কোরআনকে অত্যন্ত জোর দিয়ে সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে দাবি করা হয়েছে। অতএব কোরআন খুব ভালভাবেই শর্ত-১ পূরণ করে। কিছু নমুনা: ১৪:১, ১৬:১০২, ২০:৪, ২৬:১৯২-১৯৪, ২৭:৬, ৩২:২, ৪৫:২, ৭৬:২৩, ৯৭:১, ইত্যাদি।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-২:</span> কোরআনই হচ্ছে একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেখানে কোরআনের দাবিকে ভুল প্রমাণ করার জন্য পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু ফলসিফিকেশন টেস্ট ও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে। ফলসিফিকেশন টেস্ট (৪:৮২) অনুযায়ী কোরআনে সুস্পষ্ট ভুল-ভ্রান্তি বা অসঙ্গতি পাওয়া যায় না। অতএব অনেকটা জোর দিয়েই বলা যেতে পারে যে, কোরআন দ্বিতীয় শর্তও পূরণ করে। অধিকন্তু, নিজে গ্রন্থ লিখে এভাবে চ্যালেঞ্জ দেয়াটা আদৌ সম্ভব বা স্বাভাবিক না। মানব জাতির ইতিহাসে এমন চ্যালেঞ্জ কেউ কখনো দিয়েছেন বলেও মনে হয় না। মানুষ কখনো এই ধরণের চ্যালেঞ্জ দেয় না বা দেয়ার সাহস পায় না। তাও আবার বেশ কয়েকটি ধাপে চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে! কিছু নমুনা: ৪:৮২, ১৭:৮৮, ১১:১৩, ২:২৩-২৪, ৫২:৩৩-৩৪, ১০:৩৭, ইত্যাদি।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-৩:</span> কোরআনে বেশ কিছু ভবিষ্যদ্বাণী আছে। এ পর্যন্ত একটি ভবিষ্যদ্বাণীও ভুল প্রমাণিত হয়নি। ইতোমধ্যে কিছু ভবিষ্যদ্বাণী সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। অতএব সম্ভাবনার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ ভবিষ্যদ্বাণীগুলোও সঠিক হওয়ার কথা।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-৪:</span> কোরআনই হচ্ছে একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেখানে সেই ধর্মগ্রন্থের নাম (কোরআন), ধর্মের নাম (ইসলাম), ও অনুসারীদের নাম (মুসলিম) উল্লেখ করা হয়েছে (২:১৮৫, ৫:৩, ২:১২৮, ২:১৩১)। এই পৃথিবীর অন্য কোন ধর্মগ্রন্থে সেই ধর্মগ্রন্থের নাম, ধর্মের নাম, ও অনুসারীদের নাম পাওয়া যায় না। সবগুলো ধর্মগ্রন্থের বহিরাবরণ খুলে ফেলে ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে অজ্ঞ কাউকে যদি সনাক্ত করতে বলা হয় সেক্ষেত্রে একমাত্র কোরআনকেই সনাক্ত করতে সক্ষম হবে।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-৫:</span> কোরআনই হচ্ছে একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেখানে তার আগের রেভিলেশনকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে (৫:৪৮, ৩:৩, ৩৭:৩৭, ৩৫:৩১, ১৫:৯, ১০:৩৭)- প্রচলিত কিছু বিশ্বাসকে সংশোধন করা হয়েছে (৪:১৭১, ৫:৭৩, ২১:২২, ২:১১৬, ৪:১৫৭)- এবং সেই সাথে নিজেকে ফুরকান (Criterion) হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে (২৫:১, ২:১৮৫)। নিজে একটি গ্রন্থ লিখে এভাবে ঘোষণা দেয়াটা কি সম্ভব।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-৬:</span> কোরআনের দাবি অনুযায়ী কোরআনের পান্ডুলিপি এখন পর্যন্তও সংরক্ষিত আছে (১৫:৯)। এমনকি কোরআনের একটি আয়াতের উপর ভিত্তি করে একদম শুরু থেকে হাজার হাজার মানুষ সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্তও রেখে আসছে (৫৪:১৭)। আজ-ই যদি কোন দৈব দুর্বিপাকে পৃথিবীর বুক থেকে সবগুলো ধর্মগ্রন্থ নিশ্চিহ্ণ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে কোরআনই একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেটার প্রায় অবিকল অনুলিপি তৈরী করা সম্ভব। অবহেলা করার কোন উপায় নেই! সত্যিই একটি মিরাকল।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-৭:</span> কোরআনে প্রসঙ্গক্রমে “This is the Truth- wherein there is no doubt” কথাটি কয়েক জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে। এমনি এমনি কি কেউ এতটা জোর দিয়ে এমন কথা বলতে পারে।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-৮:</span> ভাষাসম্বন্ধীয় মিরাকল (Literary excellence and eloquence)। এমনকি কিছু ক্রিস্টিয়ান স্কলারও স্বীকার করেন। এমনও নজির আছে যে, শুধুমাত্র কোরআন তিলাওয়াত শুনেই কেউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ইউসুফ ইসলামের সবচেয়ে প্রিয় মিউজিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে উত্তরে বলেছিলেন ‘কোরআন তিলাওয়াত’!</p>
<p>&#8220;The Qur&#8217;an is a miracle of purity, of style, of wisdom and of truth.&#8221; – Rev. R. Bosworth-Smith</p>
<p>&#8220;Whenever I hear the Qur&#8217;an chanted, it is as though I am listening to music, underneath the flowing melody, there is sounding all the time the instant beat of a drum, it is like the beating of my heart.&#8221; – A. J. Arberry</p>
<p>&#8220;That inimitable symphony, the very sound of which move men to tears and ecstacy.&#8221; – Marmaduke Picktall</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-৯:</span> কোরআনে সালভেশনের ফিলোসফি একদম স্পষ্ট ও সার্বজনিন (২:৬২, ৫:৬৯, ২২:১৭, ১০৩:১-৩)। অমানবিক বলার যেমন কারো সাধ্য নেই তেমনি আবার অবৈজ্ঞানিক বা অস্পষ্ট বলারও কোন পথ খোলা নেই। কারণ কোরআনে যেমন “অরিজিনাল সিন” বলে কিছু নেই তেমনি আবার কর্মফলের উপর ভিত্তি করে পূর্ববর্তী জীবনের পাপের ফলস্বরূপ পুনঃ পুনঃ জন্ম-মৃত্যুও নেই। প্রত্যেক শিশু নিষ্পাপ হয়ে জন্মগ্রহণ করে। শিশুরা পাপ বা অভিশাপের বোঝা মাথায় নিয়ে জন্মায় না। এর যৌক্তিক বা বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তিও নেই। বরঞ্চ নবজাতক শিশুকে পাপী বা অভিশপ্ত ধরে নেয়াটা চরম অমানবিক। একটি শিশু ভাল-মন্দ বিচারের জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার আগেই যদি মারা যায় সেক্ষেত্রেও তাকে নিষ্পাপ ধরা হয়। এমনকি মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ পূর্ণবয়স্ক মানুষদেরও নিষ্পাপ ধরা হয় (২৪:৬১)। কোরআন অনুযায়ী এই পার্থিব জগৎ একটি পরীক্ষাক্ষেত্র (১৮:৭, ৬৭:২, ২:২১৪, ২:১৫৫)। প্রত্যেক বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ তার স্ব-স্ব বিশ্বাস ও কর্মের জন্য দায়ি থাকবে। এক জনকে অন্য জনের পাপের বোঝা বহন করতে হবে না (১৭:১৫, ৬:১৬৪)। বিশ্বাস-অবিশ্বাস এবং সেই সাথে নিজের ভাগ্য নিজে বেছে নেয়ার জন্য মানুষকে ফ্রী-চয়েস দেয়া হয়েছে (১৭:১৫, ১৮:২৯, ৭৬:৩, ১৩:১১)। এই জগতের ভাল-মন্দ কাজ ও ফ্রী-চয়েসের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী জগতের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। ভাগ্য তথা পরিণামও বলে দেয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সালভেশন হচ্ছে স্রষ্টার মহান একটি উপহার। তবে একদম ফ্রী-লাঞ্চ নয়! লাঞ্চের টোকেনস্বরূপ স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসের পাশাপাশি ভাল কাজও করতে হবে (৪:১২২, ৮৫:১১, ১৮:১০৭, ১৯:৬১, ৩২:১৯, ২৯:৯, ২:১১২, ২:১৭৭)। অন্যথায় ন্যায়-অন্যায় বা ভাল-মন্দের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না!</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-১০:</span> ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায় মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জন্মের আগেই পিতা মারা গেছেন। মাত্র ছয় বছর বয়সে মাতা মারা গেছেন। সবগুলো পুত্র সন্তান ছোট বেলায় মারা গেছেন। এমনকি একজন ছাড়া বাদবাকি কন্যা সন্তানরাও তাঁর আগে মারা গেছেন। প্রায় সারাটা জীবন সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার মধ্যে অতিবাহিত করতে হয়েছে। অথচ এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্যগুলোর কিছুই কোরআনে নেই! শুধু তা-ই নয়, তাঁর জীবনের সাথে জড়িত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তিত্ব যেমন হযরত খাদিজা, হযরত আয়েশা, হযরত আবু বকর, হযরত ওমর, হযরত ওসমান, ও হযরত আলী (রাঃ) সহ আরো অনেকের জীবন বৃত্তান্ত তো দূরে থাক তাঁদের নাম পর্যন্ত কোরআনে নেই! অথচ এক পালক পুত্রের নাম সহ নাম না-জানা অনেকের নাম কোরআনে এসেছে! অতীতের অনেক ঘটনাও কোরআনে এসেছে। এমনকি যীশুখ্রিস্টের মাতা মেরির নামে কোরআনে একটি পূর্ণাঙ্গ চ্যাপ্টার আছে এবং মাতা মেরিকে নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানও দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রফেট মুহাম্মদের মাতা-পিতা, স্ত্রী, ও ছেলে-মেয়েদের নাম পর্যন্ত কোরআনে স্থান পায়নি! বাস্তবে আদৌ কি সম্ভব! কোরআন প্রফেট মুহাম্মদের নিজস্ব বাণী হলে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই তাঁর জীবনের কিছু স্মৃতি, হৃদয়বিদারক দৃশ্য, ও কিছু নিকটতম ব্যক্তিত্ব কোরআনে স্থান পাওয়ার কথা। অধিকন্তু, কোরআনই একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেখানে সেই ধর্মগ্রন্থের মেসেঞ্জারের বিরুদ্ধে সমালোচকদের বিভিন্ন সমালোচনা ও অভিযোগের জবাব দেয়া হয়েছে। প্রফেট মুহাম্মদকে বিভিন্নভাবে উপহাস-বিদ্রূপ করে কোরআনে কিছু আয়াতও আছে। এমনকি প্রফেট মুহাম্মদের ব্যক্তিগত জীবনের দু-একটি তিক্ত ঘটনাও কোরআনে স্থান পেয়েছে (৬৬:১, ৮০:১-৪, ৮:৬৭, ৯:৮৪, ১৬:১২৬)। কোরআনের উপর প্রফেট মুহাম্মদের হাত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচকদের উপহাস-বিদ্রূপ, অভিযোগ, ও তিক্ত ঘটনাগুলো কিন্তু সহজেই এড়িয়ে যেতে পারতেন। ফলে যে কোন যুক্তিবাদী মানুষের এখানে থেমে গিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করার কথা।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-১১:</span> হাদিসকে বলা হয় প্রফেট মুহাম্মদের নিজস্ব বাণী। কোরআনও প্রফেট মুহাম্মদের বাণী হলে হাদিস ও কোরআনের মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য থাকার কথা না। কিন্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, হাদিস ও কোরআনের বাণীর মধ্যে রাত-দিন তফাৎ (Hadith books are a living witness, which proves that the Qur&#8217;an is not the word of Prophet Muhammad or any other human.) অধিকন্তু, কোরআন যদি প্রফেট মুহাম্মদের নিজস্ব বাণী হতো বা প্রফেট মুহাম্মদের নামে কেউ যদি লিখতেন সেক্ষেত্রে খুব স্বাভাবিকভাবেই কোরআনের “কেন্দ্রীয় চরিত্র” হতেন প্রফেট মুহাম্মদ। অথচ কোরানের “কেন্দ্রীয় চরিত্র” হচ্ছেন আল্লাহ। কোরআনে আসলে প্রফেট মুহাম্মদকে বিভিন্নভাবে আদেশ-উপদেশ দেয়া হয়েছে। তার ডজন ডজন প্রমাণ আছে। কে আদেশ-উপদেশ দিয়েছেন? আল্লাহ। কোরআনের মতন একটি গ্রন্থ লিখে কেউ কি কখনো কাল্পনিক কারো বাণী বলে চালিয়ে দিয়েছেন? ইতিহাসে এমন কোন নজির নেই! কোরআন যেভাবে লিখা হয়েছে সেভাবে আসলে সম্ভবও নয়।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-১২:</span> কোরআন যে প্রফেট মুহাম্মদ বা কোন মানুষের নিজস্ব বাণী হতে পারে না তার জ্বলন্ত একটি প্রমাণ হচ্ছে, কোরআনে যেখানে ইব্রাহীম (আঃ), ঈসা (আঃ), ও মূসা (আঃ) প্রমূখদের নাম ডজন ডজন বার উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে প্রফেট মুহাম্মদের নাম এসেছে মাত্র চার বার! প্রফেট মুহাম্মদ নিজে কোরআন লিখলে ডজনেরও বেশী নাম না-জানা ব্যক্তিত্বদের নাম ও তাঁদের বর্ণনা কোরআনে আসাটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক, যেখানে তাঁর নিজের সম্বন্ধেই তেমন কিছু নেই এবং তাঁর জীবনের সাথে জড়িত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের নাম পর্যন্তও কোরআনে স্থান পায়নি! অপরদিকে অন্য কোন মানুষ যদি মুহাম্মদকে আল্লাহর মেসেঞ্জার বানিয়ে কোরআন লিখতেন (যদিও অসম্ভব- কারণ প্রফেট মুহাম্মদ সেই সময় জীবিত ছিলেন এবং এই অভিযোগকে কবর দেয়ার জন্য কোরআনই যথেষ্ট) সেক্ষেত্রেও খুব স্বাভাবিকভাবেই কোরআনের “কেন্দ্রীয় চরিত্র” হতেন প্রফেট মুহাম্মদ। যেমন নিউ টেস্টামেন্ট ও গীতার “কেন্দ্রীয় চরিত্র” হচ্ছেন যথাক্রমে যীশুখ্রিস্ট ও শ্রীকৃষ্ণ।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-১৩:</span> কোরআনই হচ্ছে একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেটা সেই ধর্মের প্রচারক নিজের জীবদ্বশায় এবং নিজের তত্ত্বাবধানে লিখে সমাপ্ত করে গেছেন। অপরদিকে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ কিছুটা হাদিসের মতন। অন্যান্য ধর্মের প্রচারকদের মৃত্যুর অনেক পর তাঁদের নামে ধর্মগ্রন্থ লিখা হয়েছে। কোন কোন ধর্মগ্রন্থে আবার সেই ধর্মের প্রচারককে গড বা গডের পুত্র বানিয়ে দেয়া হয়েছে।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-১৪:</span> কোরআনের অসংখ্য আয়াতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এবং সরাসরি বিশ্বাস-অবিশ্বাস ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে (১৮:২৯, ৬:১০৪, ১০:৯৯, ১৭:১৫, ৪২:৪৮, ৬:১০৮, ৭৬:৩, ১০৯:৬, ২:২৫৬)। অন্য কোন ধর্মগ্রন্থে এভাবে সরাসরি বিশ্বাস-অবিশ্বাস ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে বলে মনে হয় না।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-১৫:</span> কোরআনে এমন কোন শিক্ষা নেই যেটা মানবতার বিরুদ্ধে যেতে পারে। কোরআনে এমন কোন মতবাদ বা বিশ্বাসও নেই যার দ্বারা পার্থিব জগতে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে ফায়দা লোটা সম্ভব। যেমন: জন্মান্তরবাদ ও অরিজিনাল সিন। কোরআনে এমনকি পৌরোহিত্যকেও বাতিল করা হয়েছে (৯:৩১, ৯:৩৪, ২:৪১, ২:১৭৪)। কোরআন অনুযায়ী স্রষ্টার সাথে মানুষের সরাসরি সম্পর্ক- কোনরকম মধ্যস্থতাকারী নেই।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-১৬:</span> কোরআনই সম্ভবত একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেখানে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাসীদের জন্য বেশ কিছু যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সেই সাথে সমালোচকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দেয়া হয়েছে। কোরআনের স্বর ও বাচনভঙ্গীও অন্য যে কোন গ্রন্থ বা ধর্মগ্রন্থ থেকে অসাধারণভাবে আলাদা। কোরআনে মাঝে-মধ্যেই পাঠকদের প্রতি প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোন একটি বিষয়ে বর্ণনা দেয়ার পর বিশ্বাসের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এভাবে: Think &#8230; Ponder &#8230; Reflect &#8230; Pay heed &#8230; the Quran is for those who possess intelligence &#8230; Will you not use your sense? &#8230; Do you not understand? &#8230; If you are in doubt, then consider this or that &#8230; Which of the favours of your Lord will you deny? &#8230; Will you not then believe? (২২:৫-৭, ৩:১৯০, ১০:২৪, ১৩:৩, ৩০:৮, ৩৯:২৭, ৭৫:৩-৪, ৬:৫০, ২১:১০, ২১:৩০, ২৩:১২-১৬, ৪১:৫৩, ৪৭:২৪, ৫২:৩৫-৩৬, ৫৫:১-৭৮)।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-১৭:</span> কোরআনের একটি সুরাতে সংক্ষেপে গডের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে- যাকে বলে টাচস্টোন-অফ-থিয়লজি (১১২:১-৪)। যে কোন গডের ক্ষেত্রে এই সংজ্ঞা প্রয়োগ করে দেখা যেতে পারে।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-১৮:</span> ক্রিস্টিয়ান স্কলাররা যেহেতু কোরআন নিয়ে গবেষণা করেন সেহেতু তারা কোরআন সম্পর্কে ভালভাবেই অবগত। তারা এমনকি প্রফেট মুহাম্মদকেও কোরআনের অথার মানতে নারাজ! অবস্থার উপর নির্ভর করে কখনো বলা হয় কোরআন হচ্ছে মুহাম্মদের বাণী। কখনো বলা হয় ইহুদি রাবাইদের বাণী! কখনো বলা হয় ক্রিস্টিয়ান পাদ্রীদের বাণী! কখনো বলা হয় স্যাটানের বাণী! কখনো বলা হয় ডেভিলের বাণী! কখনো বলা হয় মৃগী রোগীর বাণী! কখনো বা আবার বলা হয় মুহাম্মদের কোন এক সেক্রেটারির বাণী! তাহলে কোন্‌টি সত্য! সবগুলো তো আর সত্য হতে পারে না! মজার বিষয় হচ্ছে তারা একই সাথে সবগুলোকেই সত্য দেখতে চায়! প্রায় চল্লিশ জন অথার মিলে প্রায় পনেরশ’ বছর ধরে যেহেতু বাইবেল লিখা হয়েছে সেহেতু কোরআনের ক্ষেত্রে তারা এমনকি প্রফেট মুহাম্মদকেও একা ক্রেডিট দিতে লজ্জাবোধ করেন! মানব জাতির ইতিহাসে দ্বিতীয় কোন গ্রন্থের বিরুদ্ধে যেহেতু এরকম বিজেয়ার (Bizarre) ও র্যা ন্ডম (Random) মতামত নেই সেহেতু এ থেকে একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে, কোরআনে মানুষের চেয়ে বড় কোন শক্তি কাজ করেছে।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-১৯:</span> অন্যান্য ধর্ম এমন কিছু আলৌকিকতা ও বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে যেগুলো ধর্মগ্রন্থ দিয়ে কোনভাবেই প্রমাণ করা সম্ভব নয় বা এমনকি যৌক্তিক কোন ভিত্তিও নেই। অন্যদিকে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস দাঁড়িয়ে আছে কোরআনের উপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে কোরআন (২৯:৫১, ৩০:৫৮), যেটা যুক্তির দ্বারা খণ্ডনযোগ্য। প্রকৃতপক্ষে ইসলামের মৌলিক ভিত্তি হচ্ছে একক গড ও গডের মেসেঞ্জারে বিশ্বাস। একক গডের অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করার চেয়ে বড় বোকামি আর দ্বিতীয়টি নেই। এবার প্রশ্ন হচ্ছে, গড থেকে থাকলে তাঁর পক্ষে মানুষের সাথে যোগাযোগ করাটা স্বাভাবিক ও সম্ভব কি-না। উত্তর হচ্ছে, অবশ্যই স্বাভাবিক এবং বিষয়টি বিজ্ঞানসম্মতও বটে (যেমন: বেতার তরঙ্গ)। উদাহরণস্বরূপ, জাতিসংঘের মহাসচিব ইচ্ছে করলে জাতিসংঘে বসেই বাংলাদেশের একজন মানুষের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁর বাণী পৌঁছে দিতে পারেন। অতএব “গড ও গডের মেসেঞ্জার” সম্পূর্ণ যৌক্তিক একটি বিশ্বাস।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-২০:</span> কোরআনে মানুষকে নেচার পর্যবেক্ষণের জন্য যেভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে- এই পৃথিবীর অন্য কোন ধর্মগ্রন্থে সেভাবে উৎসাহিত করা হয়নি। কোরআনের বেশ কিছু বক্তব্য প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানের সাথে সহমতও পোষণ করে। তবে একটি গ্রন্থের কিছু বক্তব্য বিজ্ঞানের সাথে সহমত পোষণ করা মানেই কিন্তু সেই গ্রন্থটি এমনি এমনি গডের বাণী হয়ে যায় না। শর্ত-১ ও শর্ত-২ পূরণ করার পরই কেবল এই বিষয়টাকে একটি যুক্তি হিসেবে ধরা যেতে পারে।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-২১:</span> কোরআনের কিছু সাংখ্যিক মাহাত্ম্য সত্যিই আশ্চর্যজনক।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-২২:</span> কোরআন এমন একটি গ্রন্থ যেটি পড়তে গেলে পাঠকের মন কখনো স্রষ্টার দিকে&#8230;কখনো স্রষ্টার মেসেঞ্জারের দিকে&#8230;কখনো মহাবিশ্বের উৎপত্তির দিকে&#8230;কখনো মানুষের উৎপত্তির দিকে&#8230;কখনো মহাকাশ ও গ্রহ-নক্ষত্রের দিকে&#8230;কখনো আকাশ-বাতাস ও ঝড়-বৃষ্টির দিকে&#8230;কখনো নদ-নদীর দিকে&#8230;কখনো সমুদ্রের দিকে&#8230;কখনো পাহাড়-পর্বতের দিকে…কখনো গাছ-পালা-ফল-মূলের দিকে&#8230;কখনো পশু-পাখির দিকে&#8230;কখনো বিজ্ঞানের দিকে&#8230;কখনো দর্শনের দিকে&#8230;কখনো কবিতার দিকে&#8230;কখনো সাহিত্যের দিকে&#8230;কখনো ইতিহাসের দিকে&#8230;কখনো ইহুদীদের দিকে&#8230;কখনো ক্রিস্টিয়ানদের দিকে&#8230;কখনো সাবিয়ানদের দিকে&#8230;কখনো ম্যাজিয়ানদের দিকে&#8230;কখনো পেগানদের দিকে&#8230;কখনো মুসলিমদের দিকে&#8230;কখনো বিশ্বাসীদের দিকে&#8230;কখনো অবিশ্বাসীদের দিকে&#8230;কখনো সামাজিক আইন-কানুনের দিকে&#8230;কখনো অর্থনীতির দিকে&#8230;কখনো নৈতিকতার দিকে&#8230;কখনো যুদ্ধের দিকে&#8230;কখনো নামাজ-রোযার দিকে&#8230;কখনো চ্যারিটির দিকে&#8230;কখনো এতিম-বিধবাদের দিকে&#8230;কখনো মা-বাবা-ভাই-বোনের দিকে&#8230;কখনো প্রতিবেশীর দিকে&#8230;কখনো নারী-পুরুষের দিকে&#8230;কখনো বিয়ে-শাদীর দিকে&#8230;কখনো জান্নাত-জাহান্নামের দিকে&#8230;ইত্যাদি&#8230;ইত্যাদি&#8230;ইত্যাদির দিকে যাবে। অধিকন্তু, কোরআনই হচ্ছে একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যেটিকে দেড় বিলিয়নেরও বেশী মানুষ মনে-প্রাণে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার বাণী হিসেবে বিশ্বাস করে, যথাসাধ্য অনুসরণ করার চেষ্টা করে, এবং সেই সাথে ডিফেন্ডও করে। এমন গ্রন্থ পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি নেই!</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-২৩:</span> কোরআন যে সত্যি সত্যি একটি লিভিং মিরাকল তার জ্বলন্ত একটি প্রমাণ হচ্ছে ৯-১১ নাটক। ৯-১১ নাটককে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী ইসলাম, মুসলিম, ও প্রফেট মুহাম্মদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে যে ঘৃণা-বিদ্বেষ ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে তা চিন্তারও বাহিরে। অথচ ৯-১১ নাটকের পর খোদ আমেরিকাতেই ইসলাম গ্রহণের হার সবচেয়ে বেশী। পাশাপাশি বৃটেন, জার্মানি, ও ফ্রান্স তো আছেই। একে মিরাকল ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়! এর একমাত্র কারণ হচ্ছে কোরআন। ৯-১১ এর মতন ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্য কোন ধর্ম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ঘৃণা-বিদ্বেষ ও অপপ্রচার চালানো হলে অন্যান্য ধর্মের লোকজন কি সেই ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হবে। কোরআনের আরেকটি মিরাকল হচ্ছে, ইসলাম গ্রহণের পর অনেকেই আবার তাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ইসলাম প্রচারে ব্যয় করেন। ইসলাম প্রচারে তাদের অসাধারণ দৃঢ়তা ও আগ্রহ সত্যিই অবাক করার মতন। তারা এতটাই ডিভোটেড, এতটাই প্রাউড, ও এতটাই কনফিডেন্ট যে, তাদের দেখলে জন্মসূত্রে মুসলিমরা লজ্জা পাবে! কারো বিশ্বাস না হলে কোথাও না যেয়ে শুধুমাত্র ইউটিউবে Sheikh Yusuf Estes, Dr. Gary Miller, Abdur Raheem Green, Dr. Bilal Philips, Khalid Yasin, Yusuf Islam, Yusuf Chambers, Dr. Murad Hoffman, Prof. Jeffery Lang, Hamza Yusuf Hanson, Yassir Fazaga, Abdal-Hakim Murad, Idris Tawfiq, Abdullah Hakim Quick, Malcolm X, Michael Wolfe, Dr. Ingrid Mattson, Yvonne Ridley ইত্যাদি নাম লিখে সার্চ দিয়ে তাদের লেকচারগুলো শোনা যেতে পারে। এঁরা ছাড়াও ইউটিউবে আরো অনেকে আছেন। অন্যান্য ধর্মেও কম-বেশী ধর্মান্তরিত হয়। কিন্তু ধর্মান্তরিত হওয়ার পর সেই সকল ধর্ম প্রচারের জন্য তাদের মধ্যে তেমন কোন আগ্রহ দেখা যায় না। তার মানে তারা আবেগ অথবা কোন কিছুর ফাঁদে পড়ে ধর্মান্তরিত হয়।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-২৪:</span> কোরআন বহির্ভূত প্রমাণ। তৌরাত ও ইঞ্জিলে একজন প্রফেট সম্পর্কে কিছু ভবিষ্যদ্বাণী আছে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, সেই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো প্রফেট মুহাম্মদ ছাড়া অন্য কারো সাথে খাপ খায় না। এমনকি কোরআনেও দাবি করা হয়েছে যে, মুহাম্মদই হচ্ছেন তৌরাত ও ইঞ্জিলে উল্লেখিত প্রফেট (৭:১৫৭, ৬১:৬)। তৌরাত ও ইঞ্জিলে সত্যি সত্যি ভবিষ্যদ্বাণী না থাকলে কেউ এমনি এমনি এভাবে দাবি করতে পারেন না নিশ্চয়।</p>
<p><span style="color: #000080;">কেস-২৫:</span> কোরআন এমন একটি গ্রন্থ, যে গ্রন্থে অবিশ্বাস করা মানে প্রফেট মুহাম্মদকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী ও প্রতারক হিসেবে বিশ্বাস করা। কারণ প্রফেট মুহাম্মদ দীর্ঘ তেইশ বছরে কখনোই কোরআনকে নিজের বাণী বলে দাবি করেননি। তিনি একদম প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কোরআনকে এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার রেভিলেশন বলে দাবি করেছেন। ফলে কোরআনকে প্রফেট মুহাম্মদ বা অন্য কারো বাণী বলাটা অযৌক্তিক, অনৈতিক, এবং সেই সাথে অন্ধ-বিশ্বাসও বটে।</p>
<p>এবার নিরপেক্ষ ও মুক্তমনে উপরের সবগুলো কেস সার্বিকভাবে বিবেচনা করে দেখুন তো কোরআনকে কোন মানুষের বাণী হিসেবে আরোপ করা যায় কি-না।</p>
<p>কোরআনে বিশ্বাসের স্বপক্ষে বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে কেস দাঁড় করিয়েছেন। আগে তো কেস দাঁড় করাতে হবে- তারপরই না কেবল সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের প্রশ্ন আসবে। ইহাই যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক নিয়ম। ইচ্ছে করলে যে কেউ, যে কোন সময়, উপরোল্লেখিত কেসগুলো যাচাইও করতে পারেন। কেউ চাইলে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন তারা তাদের ধর্মে কেন বিশ্বাস করে। দেখুন যৌক্তিক কোন উত্তর পান কি-না। যারা কোরআন নিয়ে স্টাডি করেনি তাদের কথা আলাদা। কিন্তু যারা স্টাডি করেও বলে যে, কোরআন মানুষকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে বলেছে তাদের হেমায়েতপুরে ভর্তি হওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা আছে বলে মনে হয় না। একটি গ্রন্থে বিশ্বাসের স্বপক্ষে এতগুলো যৌক্তিক কেস দাঁড় করানোর পরও সেটা আবার অন্ধ-বিশ্বাস হয় কীভাবে! এমনকি বিজ্ঞানের অনেক তত্ত্বের স্বপক্ষেও এত বেশী যুক্তি-প্রমাণ নাই। অন্ধ-বিশ্বাসের অভিযোগকে কবর দেয়ার জন্য প্রথম দুটি কেস-ই তো যথেষ্ট। এখন কেউ যদি অন্ধভাবে বিশ্বাস করে সেক্ষেত্রে কোরআনের তো কিছু করার নাই! পৃথিবীর ঘূর্ণন ও গোলত্বকেও কিন্তু বেশীরভাগ মানুষ অন্ধভাবে বিশ্বাস করে। তবে কোরআন এমন একটি গ্রন্থ যেটা নিরপেক্ষ মন-মানসিকতা নিয়ে স্টাডি করার পর অবিশ্বাস করার মতন কারো সামনে বড় কোন যৌক্তিক ওজর থাকার কথা নয়।</p>
<p style="text-align: center;"><strong><span style="color: #333399;"> </span></strong></p>
<p style="text-align: center;"><strong><span style="color: #333399;">Is the Qur&#8217;an God&#8217;s Word – By Abdur Raheem Green</span></strong></p>
<p style="text-align: center;"><object classid="clsid:d27cdb6e-ae6d-11cf-96b8-444553540000" width="425" height="350" codebase="http://download.macromedia.com/pub/shockwave/cabs/flash/swflash.cab#version=6,0,40,0"><param name="src" value="http://www.youtube.com/v/PgyD2VHGavE" /><embed type="application/x-shockwave-flash" width="425" height="350" src="http://www.youtube.com/v/PgyD2VHGavE"> </embed></object></p>
<p style="text-align: center;"> </p>
<p style="text-align: center;"><strong><span style="color: #333399;">100% Proof the Qur&#8217;an is the Word of God – By an ex-Christian</span></strong></p>
<p style="text-align: center;"><object classid="clsid:d27cdb6e-ae6d-11cf-96b8-444553540000" width="425" height="350" codebase="http://download.macromedia.com/pub/shockwave/cabs/flash/swflash.cab#version=6,0,40,0"><param name="src" value="http://www.youtube.com/v/SW8aPcobIZA" /><embed type="application/x-shockwave-flash" width="425" height="350" src="http://www.youtube.com/v/SW8aPcobIZA"> </embed></object></p>
<p style="text-align: center;"> </p>
<p style="text-align: center;"><strong><span style="color: #333399;">The Basis of Muslim Belief – By Dr. Gary Miller</span></strong></p>
<p style="text-align: center;"><object classid="clsid:d27cdb6e-ae6d-11cf-96b8-444553540000" width="425" height="350" codebase="http://download.macromedia.com/pub/shockwave/cabs/flash/swflash.cab#version=6,0,40,0"><param name="src" value="http://www.youtube.com/v/muFJX880cOc" /><embed type="application/x-shockwave-flash" width="425" height="350" src="http://www.youtube.com/v/muFJX880cOc"> </embed></object></p>
<p style="text-align: center;"> </p>
<p style="text-align: center;"><strong><span style="color: #333399;">The Divine Qur&#8217;an – By Dr. Mamdouh Mohamed</span></strong></p>
<p style="text-align: center;"><object classid="clsid:d27cdb6e-ae6d-11cf-96b8-444553540000" width="425" height="350" codebase="http://download.macromedia.com/pub/shockwave/cabs/flash/swflash.cab#version=6,0,40,0"><param name="src" value="http://www.youtube.com/v/1K_O4MnNM1o" /><embed type="application/x-shockwave-flash" width="425" height="350" src="http://www.youtube.com/v/1K_O4MnNM1o"></embed></object></p>
<p style="text-align: center;"> </p>
<p style="text-align: center;"><strong><span style="color: #333399;">The Inimitable Qur&#8217;an &#8211; By Hamza Tzortzis</span></strong></p>
<p style="text-align: center;"><object classid="clsid:d27cdb6e-ae6d-11cf-96b8-444553540000" width="425" height="350" codebase="http://download.macromedia.com/pub/shockwave/cabs/flash/swflash.cab#version=6,0,40,0"><param name="src" value="http://www.youtube.com/v/zezBOtU2WGY" /><embed type="application/x-shockwave-flash" width="425" height="350" src="http://www.youtube.com/v/zezBOtU2WGY"></embed></object></p>
<p style="text-align: center;"> </p>
<p style="text-align: center;"><strong><span style="color: #333399;">Philosophy of Miracles and the Qur&#8217;an &#8211; By Adam Deen</span></strong></p>
<p style="text-align: center;"> <object classid="clsid:d27cdb6e-ae6d-11cf-96b8-444553540000" width="425" height="350" codebase="http://download.macromedia.com/pub/shockwave/cabs/flash/swflash.cab#version=6,0,40,0"><param name="src" value="http://www.youtube.com/v/gg8ybpeMlso" /><embed type="application/x-shockwave-flash" width="425" height="350" src="http://www.youtube.com/v/gg8ybpeMlso"></embed></object></p>
<p style="text-align: center;"> </p>
<p style="text-align: center;"><strong><span style="color: #333399;">Scientists Confirm the Scientific Facts in the Qur&#8217;an</span></strong></p>
<p style="text-align: center;"><a href="http://video.google.com/videoplay?docid=-1249101875004445252"><object classid="clsid:d27cdb6e-ae6d-11cf-96b8-444553540000" width="425" height="326" codebase="http://download.macromedia.com/pub/shockwave/cabs/flash/swflash.cab#version=6,0,40,0"><param name="src" value="http://video.google.com/googleplayer.swf?docId=-1249101875004445252&amp;hl=en" /><embed type="application/x-shockwave-flash" width="425" height="326" src="http://video.google.com/googleplayer.swf?docId=-1249101875004445252&amp;hl=en"></embed></object></a></p>
<p style="text-align: center;"><object classid="clsid:d27cdb6e-ae6d-11cf-96b8-444553540000" width="425" height="350" codebase="http://download.macromedia.com/pub/shockwave/cabs/flash/swflash.cab#version=6,0,40,0"><param name="src" value="http://www.youtube.com/v/FUUPYs0gElU" /><embed type="application/x-shockwave-flash" width="425" height="350" src="http://www.youtube.com/v/FUUPYs0gElU"></embed></object></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shodalap.com/2010/03/17/the-basis-of-muslim-belief/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>23</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>জিহ্বার রক্ষণাবেক্ষণ করা &#8211; ২</title>
		<link>http://shodalap.com/2010/03/17/tongue-control-2/</link>
		<comments>http://shodalap.com/2010/03/17/tongue-control-2/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 17 Mar 2010 17:13:04 +0000</pubDate>
		<dc:creator>55muslim</dc:creator>
				<category><![CDATA[ইসলাম-Islam]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shodalap.com/?p=3675</guid>
		<description><![CDATA[বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আস সালামু আলাইকুম!
গীবত ও পরচর্চার নিষিদ্ধকরণ
এ দু’টো জিনিস হচ্ছে সবচেয়ে গর্হিত ও ঘৃণ্য জিনিসগুলোর অন্যতম, তবুও মানবজাতির মধ্যে এগুলো এমনভাবে ছড়িয়ে রয়েছে যে, কোন ব্যক্তিই এর থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়, শুধুমাত্র কিছু লোক ছাড়া৷
গীবত বা পরনিন্দা তখনই করা হয়, যখন আপনি কোন ব্যক্তি সম্পর্কে এমন কিছু উল্লেখ করেন যা (তার অনুপস্থিতিতে, উল্লিখিত হলে) [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম<br />
আস সালামু আলাইকুম!</p>
<p><strong>গীবত ও পরচর্চার নিষিদ্ধকরণ</strong></p>
<p>এ দু’টো জিনিস হচ্ছে সবচেয়ে গর্হিত ও ঘৃণ্য জিনিসগুলোর অন্যতম, তবুও মানবজাতির মধ্যে এগুলো এমনভাবে ছড়িয়ে রয়েছে যে, কোন ব্যক্তিই এর থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়, শুধুমাত্র কিছু লোক ছাড়া৷</p>
<p>গীবত বা পরনিন্দা তখনই করা হয়, যখন আপনি কোন ব্যক্তি সম্পর্কে এমন কিছু উল্লেখ করেন যা (তার অনুপস্থিতিতে, উল্লিখিত হলে) সে ঘৃণা করতো বা শুনে কষ্ট পেতো; হোক তা তার শরীর সম্পর্কে, তার দ্বীনের আচরণাদি সম্পর্কে, তার দুনিয়াবী বিষয়াবলী সম্পর্কে, তার নিজের সম্পর্কে, তার শারীরিক গঠন সম্পর্কে, তার চরিত্র সম্পর্কে, তার সম্পদ সম্পর্কে অথবা তার সন্তান, তার বাবা, তার স্ত্রী, তার চাকর, তার গোলাম, তার পাগড়ী, তার পোশাক, তার হাঁটার ধরন, তার হাসি, তার অসচ্চরিত্রতা, তার ভ্রূকুটি করা, তার উৎফুল্লতা বা উপরোল্লিখিত যে কোন কিছুর সাথে সম্পর্কযুক্ত৷ তেমনিভাবে, তা গীবত হবে যদি আপনি ওরকম কিছু মুখে উচচারণ করেন, লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করেন বা আপনি তাকে চোখ, হাত বা মাথার ইশারায় নির্দেশ করেন৷</p>
<p>শরীরের ক্ষেত্রে তখনই গীবত হয়, যখন আপনি বলেন: &#8216;সে অন্ধ&#8217;, ‘সে খোঁড়ায়; ‘সে ঝাপসা চক্ষু বিশিষ্ট’, ‘সে টেকো; ‘সে খাটো, ‘সে লম্বা,’ ‘সে কালো’, ‘সে হলদেটে’৷ তার দ্বীনের বৈশিষ্ট্যাবলীতে গীবত হবে, যখন বলা হয়: ‘সে একটা পাপী’ ‘সে একজন চোর’, ‘সে প্রতারক,’ ‘সে জালিম’, ‘সে তার সালাতকে হালকাভাবে দেখে’, ‘সে অপবিত্রতার ব্যাপারে বেখেয়ালী’, ‘সে তার বাবা-মার সাথে ভাল আচরণ করেনা’, ‘সে নিয়মিত যাকাত আদায় করে না’, এবং ‘সে পরনিন্দা (গীবত) থেকে বেঁচে থাকে না’। পার্থিব বিষয়ের ক্ষেত্রে পরনিন্দা বা গীবত হয়, যখন আপনি বলেন, &#8216;তার আচরণ খুব খারাপ&#8217;, ‘সে লোকদের ব্যাপারে অমনোযোগী’, ‘সে বেশী কথা বলে’, ‘সে বেশী খায় এবং ঘুমায়’, ‘সে ভুল সময়ে ঘুমায়’, ‘সে এমন স্থানে বসে থাকে যেটা তার নয়’ ইত্যাদি৷</p>
<p>কারো বাবা-মার ক্ষেত্রে গীবত তখনই হবে, যখন আপনি বলেন, ‘তার বাবা একজন পাপী, ‘একজন ইন্ডিয়ান’, ‘একজন নাবাতিয়ান’, ‘একজন নিগ্রো’; ‘একটা লোফার’, ‘একজন বীজওয়ালা’, ‘একজন গরুর ব্যবসায়ী’, ‘একজন কাঠমিস্ত্রী’ ‘একজন কামার’, ‘একজন তাঁতী’; তার চরিত্র সম্পর্কে আপনি যখন উল্লেখ করেন, ‘তার আচরণ ভাল নয়’, ‘সে বদমেজাজী’, ‘সে ঝগড়াটে’, ‘সে খুব অপরিণামদর্শী ও অস্থির’, ‘সে জুলুমকারী,’ ‘সে দুর্বল’, ‘সে দুর্বল হৃদয়ধারী’, ‘সে দায়িত্বহীন’, ‘সে লম্পট’, ইত্যাদি৷ পোশাকের ক্ষেত্রে: ‘এর হাতাগুলো প্রশস্ত’, ‘এর সেলাইগুলো ছোট’, ‘কি বিশ্রী পোশাক’! ইত্যাদি এবং অন্যান্য বিষয় ইত্যাদি৷</p>
<p>অবশিষ্ট শ্রেণীগুলো সম্পর্কে উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে সহজেই অনুমান করা যায়, এ মূলনীতির ভিত্তিতে যে, <strong>কারো সম্পর্কে এমন কিছু উল্লেখ করা যা শুনতে সে অপছন্দ করে৷</strong></p>
<p>ইমাম আবু হামীদ আল-গাজ্জালী গীবত সম্পর্কে মতৈক্যকে এমনভাবে উল্লেখ করেছেন যে, &#8220;একজন ব্যক্তির অন্য লোকদের (তাদের অনুপস্থিতিতে) এমন কিছু উল্লেখ করা, যেটা উল্লিখিত হওয়া তাদের নিকট অপছন্দনীয়৷”</p>
<p><strong>পরচর্চা (নামিমাহ্‌)</strong> তখনই হয়, যখন কেউ একদল লোকের কথা অন্যদলের নিকট পৌঁছিয়ে দেয়, এই নিয়তে যে, তাদের মধ্যে ঝগড়া বা বিরোধের সৃষ্টি হোক৷</p>
<p>এ হচেছ এ দু’টোর সংজ্ঞা৷ এগুলোর ব্যাপারে ইসলামী বিধান হচ্ছে যে, এগুলো হারাম, যার ব্যাপারে আলেমগণের কোন দ্বিমত নেই৷ কুর’আন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট প্রমাণাদির ভিত্তিতে এবং উম্মতের ঐক্যমত এগুলোর নিষিদ্ধ হওয়াকে সুনিশ্চিত করে৷</p>
<p>আল্লাহ বলেন: <strong>&#8220;এবং তোমরা একে অপরের পিছনে নিন্দা করো না৷”</strong> (সূরা হুজুরাত, ৪৯:১২)</p>
<p>এবং তিনি বলেন: &#8220;দুর্ভোগ প্রত্যেক সামনে এবং পিছনে নিন্দাকারীর’৷ (সূরা আল-হুমাজাহ, ১০৪:১)</p>
<p>এবং তিনি বলেন: <strong>&#8220;পশ্চাতে নিন্দাকারী, যে একের কথা অপরের কাছে লাগিয়ে বেড়ায়৷”</strong> (সূরা কলম, ৬৮:১১)</p>
<p>হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন, <em>&#8220;যে ব্যক্তি পরচর্চা করে বেড়ায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না৷” </em>(সহীহ বুখারী, মুসলিম)</p>
<p>ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা.) একদা দু’টি কবরের পাশ দিয়ে গেলেন এবং বললেন: <em>&#8220;নিশ্চয়ই তারা (কবরবাসীগণ) নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছে এবং তারা কোন গুরুতর অপরাধের জন্য যন্ত্রণাভোগ করছে না৷”</em></p>
<p>আল-বুখারীতে উল্লেখ আছে: <em>&#8220;বরং এটি হচেছ বস্তুত একটি গুরুতর অপরাধ, প্রথমজনের ক্ষেত্রে, সে একের কথা অপরকে লাগিয়ে বেড়াতো এবং অপরজন, সে নিজেকে পেশাবের পবিত্রতা থেকে মুক্ত করতো না৷&#8221;</em> (সহীহ আল-বুখারী, মুসলিম)</p>
<p>আলেমগণ বলেন, &#8220;এবং তারা গুরুতর কিছুর জন্য নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছে না”-এর অর্থ হচেছ, তাদের মতে যা ‘গুরুতর কিছু’ ছিলনা, অথচ যেটা আসলে গুরুতর কিছু ছিল এবং তাদের সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করা উচিত ছিল৷</p>
<p>আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা (তাঁর সাহাবীগণকে) বললেন: <em>&#8220;তোমরা কি জান গীবত কি?”</em> তারা বললেন, <em>&#8220;আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সা.) সবচেয়ে ভাল জানেন৷&#8221;</em> তিনি বললেন: <em>&#8220;তোমার ভাই সম্পর্কে এমনকিছু উল্লেখ করা (তার অনুপস্থিতিতে), যেটা সে ঘৃণা করে (যে সেটা উল্লেখিত হোক)</em>”।</p>
<p>তাঁকে (সা.) জিজ্ঞাসা করা হল: <em>&#8220;যদি তার মধ্যে সেই দোষ থাকে, যেটা আমি তার সম্পর্কে উল্লেখ করলাম?”</em> তিনি (সা.) উত্তর দিলেন: <em>&#8220;তুমি তার সম্পর্কে যা বললে, সেটা যদি তার মধ্যে উপস্থিত থাকে, তবে তুমি তার গীবত করলে এবং তুমি তার সম্পর্কে যা বললে, তা যদি তার মধ্যে পাওয়া না যায়, তবে তুমি তার সম্পর্কে অপবাদ দিলে৷” </em>(সহীহ মুসলিম)</p>
<p>আবু বকর সিদ্দীক (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা) বিদায় হজ্বের ভাষণে বলেন, &#8220;বস্তুত, তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান তোমাদের জন্য পবিত্র, তেমনি এ দিনটি তোমাদের জন্য পবিত্র এ ভূমিতে, এ মাসে৷ আমি কি তা পৌঁছিয়ে দিইনি?” (সহীহ আল-বুখারী)</p>
<p>আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বললাম: <em>&#8220;আপনি সাফিয়্যা থেকে এই এই বেশী”</em>৷ [কোন কোন বর্ণনাকারী বলেছেন এটা বোঝাচ্ছে যে, তিনি ক্ষুদ্রাকৃতির ছিলেন], তো তিনি (সা.) বললেন: <em>&#8220;তুমি এমন একটি কথা উচচারণ করলে, সেটিকে যদি সমুদ্রের পানির সাথে মিশ্রিত করা হত, তবে তা সে পানিকেও বিবর্ণ করে দিত৷”</em> (সহীহ আবু দাউদ, আত-তিরমিযী এবং আহমদ)</p>
<p>আত-তিরমিযী এ হাদীসকে হাসান সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন৷ আমি(নববী) বলি যে, ‘বিবর্ণ’ (মাঝাজা) শব্দটির অর্থ হচেছ যে, &#8220;তা পানির সাথে এমনভাবে মিশ্রিত হত যে, তা পানির স্বাদ এবং গন্ধকে পরিবর্তন করে ফেলতো &#8211; এর দুর্গন্ধ ও বীভৎসতার কারণে৷ এ হাদীসটি গীবত হারাম হওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণগুলোর অন্যতম, যদি না এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়৷</p>
<p><em>&#8220;এবং তিনি (রাসূল) কোন মনগড়া কোন কথা বলেন না, বরং এটি হচেছ ওহী যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।”</em> (সূরা নজম, ৫৩:২-৩)</p>
<p>আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: &#8220;যখন আমি আকাশে আরোহণ করলাম, আমি দেখলাম একদল লোকের নখগুলো পিতলের তৈরী, যার দ্বারা তারা নিজেদের মুখ ও বুকগুলো খামচাচ্ছিল৷ ফলে আমি বললাম, <em>&#8220;হে জিব্রাইল, এ লোকগুলি কে?”</em> তিনি বললেন, <strong>&#8220;তারা হচ্ছে সে সমস্ত লোক যারা অন্যের গোশত খেতো অর্থাৎ গীবত করতো এবং তাদের অসম্মানিত করতো৷”</strong> (সহীহ আহমদ, আবু দাউদ)</p>
<p>মূল: <strong>ইমাম নববী</strong></p>
<p>[চলবে.... ইনশা'আল্লাহ্!]</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shodalap.com/2010/03/17/tongue-control-2/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>

<!-- Dynamic Page Served (once) in 1.319 seconds -->
