এক.
ভূমিকা
দাসপ্রথা ইসলাম প্রবর্তিত কোন ব্যবস্থা নয়। আজ হতে প্রায় পৌনে ৪০০০ বছর আগের ব্যবলনিয় Code of Hammurabi-তেও দাসপ্রথার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। কিন্তু কেন যেন ইসলামের সমালোচনায় দাসপ্রথা একটি বেশ মুখরোচক বিষয়বস্তুতে পরিণয় হয়, আর আলোচনার ভঙ্গিটাও এমন থাকে যাতে পাঠকের কাছে মনে হতে থাকবে দাসপ্রথার মত ঘৃণ্য একটি ব্যবস্থাকে ইসলাম জন্ম দিয়েছে বা উন্নীত করেছে। অথচ আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ইসলাম দাসপ্রথার মতো একটি বর্বর প্রথার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছিল, ক্রীতদাসকে ভাতৃত্বের যে মর্যাদা দিয়েছিল, নেতৃত্বের যে সুযোগ দিয়েছিল, যে কোন নিরপেক্ষ বিশ্লেষক তার প্রশংসা না করে পারবে না।
দুই.
কুরআন এবং হাদিসে দাস-দাসি ও দাসপ্রথার অবস্থান
মূল আলোচনায় যাবার আগে আসুন কুরআনের কিছু আয়াত এবং কিছু হাদিস থেকে দাস-দাসি ও দাসপ্রথার ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝবার চেষ্টা করি।
কুরআনের কিছু আয়াত:
আয়াত-১: দাসমুক্তকরণ ধর্মের ঘাঁটি
অতঃপর সে ধর্মের ঘাঁটিতে প্রবেশ করেনি। আপনি জানেন, সে ঘাঁটি কি? তা হচ্ছে দাসমুক্তি অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান- এতীম আত্মীয়কে অথবা ধুলি-ধুসরিত মিসকীনকে, অতঃপর তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, যারা ঈমান আনে এবং পরস্পরকে উপদেশ দেয় সবরের ও উপদেশ দেয় দয়ার। [৯০:১১-১৭]
আয়াত-২: মুক্তিকামি ক্রীতদাসের জন্য সম্পদ ব্যয় করা বড় সৎকাজ
সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। [২:১৭৭, প্রাসঙ্গিক অংশ]
আয়াত-৩: নিজেদের সমান হয়ে যাবার ভয়ে দাস-দাসীদের দান না করা আল্লাহর নেয়ামতকে অস্বীকার করার নামান্তর
আল্লাহ তাআলা জীবনোপকরণে তোমাদের একজনকে অন্যজনের চাইতে শ্রেষ্টত্ব দিয়েছেন। অতএব যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে, তারা তাদের অধীনস্থ দাস-দাসীদেরকে স্বীয় জীবিকা থেকে এমন কিছু দেয় না, যাতে তারা এ বিষয়ে তাদের সমান হয়ে যাবে। তবে কি তারা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করে। [১৬:৭১]
আয়াত-৪: নিঃস্ব হলেও সৎকর্মপরায়ণ দাস-দাসীদের বিবাহ দিয়ে দিতে হবে
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। [২৪:৩২]
দাসদাসি ও দাসপ্রথা সম্পর্কিত কিছু হাদিস:
হাদিস-১: স্বাধীন ব্যক্তিকে কেনাবেচা নিষিদ্ধকরণ
আবু হুরাইরা(রা.) হতে বর্ণিত:
নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ[তায়ালা] বলেন:
আমি কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির বিরূদ্ধে হবো,
[১] যে আমার নামে শপথ করে অত:পর বিশ্বাসঘাতকতা করে,
[২] যে কোন স্বাধীন ব্যক্তিকে (ক্রীতদাস হিসেবে) বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করে,
[৩] যে কোন মজুরকে নিযুক্ত করে তার থেকে পরিপূর্ণ কাজ গ্রহণ করে অথচ তার পারশ্রমিক প্রদান করে না।
[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২২২৭; ইংরেজি অনুবাদ: ভলি ৩, বুক ৩৪, নম্বর ৪৩০; http://sunnah.com/urn/20920]
হাদিস-২: দাস-দাসির অধিকার
আল-মা’রুর বিন সুওয়াইদ(রা.) হতে বর্ণিত:
[রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] বললেন:
তোমাদের দাসেরা তোমারদের ভাই যাদের ওপর আল্লাহ তোমাদের ক্ষমতা দিয়েছেন। কাজেই কারো নিয়ন্ত্রণে যদি তার ভাই থাকে, তবে সে যা খাবে তাকেও তাই খাওয়াবে, সে যা পরবে তাকেও তাই পরাবে। তাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপাবে না যা তারা বহন করতে অক্ষম। যদি তা করো, তবে তাদেরকে সাহায্য কর।
[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৫৪৫ (প্রাসঙ্গিক অংশ); ইংরেজি অনুবাদ: ভলি ৩, বুক ৪৬, নম্বর ৭২১; http://sunnah.com/bukhari/49#2]
হাদিস-৩: দাস-দাসিকে সম্মানজনকভাবে সম্বোধন করা
আবু হুরাইরা(রা.) হতে বর্ণিত:
নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “তোমাদের কেউ যেন [এভাবে সম্বোধন করে] না বলে, ‘তোমার প্রভুকে খাওয়াও’, ‘তোমার প্র্রভুকে অযু করাও’, ‘তোমার প্রভুকে পান করাও’; বরং বলবে, ‘আমার মুনিব (সাইয়্যিদ)’ বা ‘আমার অভিভাবক (মাওলা)’। আর তোমাদের কেউ যেন না বলে ‘আমার দাস/বান্দা (আবদ)’ বা ‘আমার দাসী/বান্দী (আমাত)’; বরং বলবে ‘আমার বালিকা (ফাতাত)’ এবং ‘আমর বালক (গুলাম)’।
[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৫৫২; ইংরেজি অনুবাদ: ভলি ৩, বুক ৪৬, নম্বর ৭২৮; http://sunnah.com/urn/23920]
হাদিস-৪: দাস-দাসির ন্যায়বিচার লাভের অধিকার
সামুরাহ(রা.) হতে বর্ণিত:
রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: যদি কেউ তার ক্রীতদাসকে হত্যা করে আমরা তাঁকে হত্যা করবো, আর কেউ যদি তার ক্রীতদাসের নাক কেটে দেয়, আমরাও তার নাক কেটে দেবো।
[সুনান আবু দাউদ, হাদিস নম্বর ৪৫১৫; ইংরেজি অনুবাদ: বুক ৩৯, নম্বর ৪৫০১; http://sunnah.com/abudawud/41#22]
হাদিস-৫: দাস-দাসির ওপর অপবাদ আরোপের পরিণাম
আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত:
আমি আবুল ক্বসিম(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে বলতে শুনেছি, কেউ যদি তার ক্রীতদাসকে অপবাদ দেয় আর সেই ক্রীতদাস যদি সে যা বলছে তা হতে মুক্ত হয়, তবে তাকে (অপবাদ আরোপকারিকে) কিয়ামতের দিনে বেত্রাঘাত করা হতে থাকবে যতক্ষণ না সেই ক্রীতদাস তাই হয় যা সে বর্ণনা করেছে।
[সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৬৯৪৩, ইংরেজি অনুবাদ: ভলি ৮, বুক ৮২, নম্বর ৮৪১; http://sunnah.com/urn/64520]
হাদিস-৬: দাস/দাসিকে চপেটাঘাত করার শাস্তি
মুআবিয়া বিন সুওয়াইদ হতে বর্ণিত:
আমি আমাদের এক ক্রীতদাসকে চপেটাঘাত করি, অত:পর পলায়ন করি। আমি ঠিক মধ্যাহ্নের আগে ফিরে এলাম এবং আমার পিতার পেছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি তাকে (ঐ ক্রীতদাসকে) এবং আমাকে ডাকলেন এবং বললেন: সে তোমার প্রতি যা করেছে, তুমিও তেমন করো. সে [ক্রীতদাস] আমাকে মাফ করে দিল। তখন তিনি (আমার পিতা) বললেন, রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবদ্দশায় আমরা মুকাররিনের পরিবারভুক্ত ছিলাম এবং আমাদের একজন মাত্র ক্রীতদাসি ছিল। আমাদের একজন তাকে চড় মারলো। এই খবর রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে পৌঁছল এবং তিনি বললেন: তাকে মুক্ত করে দাও। তারা (পরিবারের লোকজন) বললেন: সে ছাড়া আমাদের আর কোন সাহায্যকারি নেই। কাজেই তিনি বললেন: তাহলে তাকে কাজে নিযুক্ত করো, আর যখনই তোমরা তাকে কাজ হতে অব্যাহতি দিতে সমর্থ হও, তাকে মুক্ত করে দাও।
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ৪৩৯১; ইংরেজি অনুবাদ: বুক ১৫, নম্বর ৪০৮১; http://sunnah.com/urn/240810]
হাদিস-৭: দাসিকে বিবাহে উৎসাহ প্রদান
আবু মুসা(রা.) হতে বর্ণিত:
রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
যার একটি ক্রীসদাসি আছে আর সে তাকে শিক্ষাদীক্ষা দান করে, তার সাথে সদয় ব্যবহার করে, অত:পর তাকে মুক্ত করে বিবাহ করে সে দ্বিগুণ সওয়াব পাবে। [সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৫৮৪; ইংরেজি অনুবাদ: ভলি. ৩, বুক ৪৬, নম্বর ৭২০; http://sunnah.com/urn/23840]
তিন.
দাসত্বের পথ এবং ইসলাম
সর্বশেষ আসমানী কিতাব কুরআন যখন নাযিল হচ্ছিল তখন শুধু আরবে নয় বরং সারা দুনিয়ায় ক্রীতদাসপ্রথার ব্যাপক প্রচলন ছিল। স্বাধীন মানুষ দাসত্ব বরণ করত প্রধানত দুটি উপায়ে:
১. স্বাধীন ব্যক্তিকে বেচাকেনার মাধ্যমে ক্রীতদাস বানানো: এই পথটি ইসলামে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইসলামে কোন স্বাধীন ব্যক্তিকে কেনাবেচা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। [দ্রষ্টব্য: হাদিস-১]
২. যুদ্ধবন্দীদের ক্রীতদাস বানানো:
যুদ্ধবন্দীদের ক্রীতদাস বানানো সেই সময় একটি স্বাভাবিক রীতি ছিল। কোন মুসলিম যদি যুদ্ধে অমুসলিমদের হাতে বন্দী হতো তাকেও এই পরিণতি বরণ করতে হতো। ইসলামে যুদ্ধবন্দীদের ক্রীতদাস বানানো কোন জরুরী বিষয় নয়। ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধান যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিপণ নিয়ে মুক্ত করতে পারে, বিনা মুক্তিপণেও মুক্ত করতে পারে, যুদ্ধবন্দি বিনিময় করতে পারে বা প্রয়োজনবোধে অন্যান্য রাষ্ট্রসমূহের রীতি অনুসারে দাস-দাসীও বানাতে পারে। তবে কোন রাষ্ট্রের সাথে মুসলিমদের যদি এমন কোন চুক্তি থাকে যে তারা তাদের যুদ্ধবন্দীদের দাস বানাতে পারবে না, তবে সেই চুক্তি রক্ষা করা মুসলিমদের জন্য জরুরি।
২.১ কেন ইসলামে এই সুযোগ রহিত করা হলো না?
ইসলাম একটি বাস্তব ধর্ম। ইসলাম এমন কোন ধর্ম না যে কেউ এক গালে চড় মারলে আরেকটা গাল পেতে দিতে বলবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিজ অনুসারিদের বিপদ বা অস্তিত্ব সংকটের মুখে ফেলে দেবার ধর্ম ইসলাম নয়। যেখানে মুসলিমরা অমুসলিমদের হাতে যুদ্ধবন্দী হলে তাদেরকেও দাসত্ব বরণ করতে হতো, সেখানে ইসলাম যদি একই সুযোগ না রাখতো তবে তা হতো শত্রুর হাতে এক বিরাট মারণাস্ত্র তুলে দেওয়ার নামান্তর। কাজেই যতদিন মুসলিমদের জন্য এই নিশ্চয়তা না আসে যে তাদের যুদ্ধবন্দীদের দাসদাসী বানানো হবে না, ততদিন পর্যন্ত মুসলিমদের জন্যও এই সুযোগ রহিত করার কোন যুক্তি থাকতে পারে না।
২.২ দাসত্বের এই পথ বন্ধ করার উপায়
ইসলামে দাসত্ব বরণের এই পথটি যদিও খোলা রয়েছে তবে একটি বন্ধযোগ্য পথ, যা বন্ধ করার চাবি অমুসলিম রাষ্টসমূহের হাতেই দেওয়া আছে। যে কোন অমুসলিম রাষ্ট্র মুসলিম রাষ্ট্রের সাথে এই ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যে ‘আমরা একে অপরের যুদ্ধবন্দীদের দাস-দাসী বানাবো না’, দাসত্বে প্রবেশের এই উন্মুক্ত পথটি বন্ধ করে দিতে পারে।
চার.
ইসলামে দাসমুক্তির পথসমূহ
১. যাকাত: ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ যাকাত। আর এই যাকাতের একটা খাত নির্ধারণ করা হয়েছে দাসমুক্তির জন্য। [দ্রষ্টব্য ৯:৬০]
২. কাফফারা: বিভিন্ন গুনাহ বা ভুলের কাফফারা নির্ধারণ করা হয়েছে দাস মুক্তকরণকে। [দ্রষ্টব্য ৫:৮৯, ৫৮:৩, ৪:৯২]
৩. লিখিত চুক্তি: ইসলাম দাস-দাসিদের তার মালিকের সাথে মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তির অনুমতি প্রদান করেছে।
তোমাদের অধিকারভুক্তদের মধ্যে যারা মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চায়, তাদের সাথে তোমরা লিখিত চুক্তি কর যদি জান যে, তাদের মধ্যে কল্যাণ আছে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে অর্থ-কড়ি দিয়েছেন, তা থেকে তাদেরকে দান কর। [২৪:৩৩, প্রাসঙ্গিক অংশ]
৪. ক্ষতিপূরণ: কোন দাস/দাসিকে চপেটাঘাত করা হলে তার শাস্তি হিসেবে উক্ত দাস/দাসিকে মুক্ত করে দিতে হবে। [দ্রষ্টব্য: হাদিস-৬]
৫. দাসমুক্তকরণে উৎসাহ প্রদান:
৫.১ দাসমুক্তিকে একটি বিরাট সওয়াবের কাজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। [দ্রষ্টব্য: আয়াত-২]
৫.২ বিভিন্ন প্রাকৃতিক নির্দশনের সময় দাসমুক্তির নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, যেমন; চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ কালে। [দ্রষ্টব্য: সহিহ বুখারি, ইংরেজি অনুবাদ: ভলি.২, বুক ১৮, নম্বর ১৬৩; ভলি.৩, বুক ৪৬, নম্বর ৬৯৫; ভলি.৩, বুক ৪৬, নম্বর ৬৯৬]
৫.৩ মুক্তিকামি দাসদাসীদের অর্থকড়ি প্রদান করে সাহায্য করতে বলা হয়েছে। [দ্রষ্টব্য ২৪:৩৩]
৫.৪ মালিকের অধিক পছন্দনীয় এবং অধিক দামী দাস-দাসীর মুক্তিপ্রাপ্তির সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবে কম থাকে। তাই ঘোষণা করা হয়েছে যে, সর্বোত্তম দাসমুক্তি হচ্ছে সবচেয়ে দামী এবং মালিকের অধিক পছন্দনীয় দাসকে মুক্ত করা। [দ্রষ্টব্য: সহিহ বুখারি, ইংরেজি অনুবাদ: ভলি ৩, বুক ৪৬, নম্বর ৬৯৪]
৫.৫ দাস-দাসি নিজের সমান হয়ে যাবে এমন আশঙ্কায় যারা তাদের দান করা থেকে বিরত থাকে তাদের তিরস্কার করা হয়েছে। [দ্রষ্টব্য ১৬:৭১]
৫.৬ কোন ক্রীতদাস যদি একাধিক মালিকের আয়ত্বাধীনে থাকে এবং কোন একজন মালিক তার অংশ হতে ঐ দাসকে মুক্ত করে দেয় তবে উক্ত মালিকের জন্য ঐ ক্রীতদাসকে অপর অংশীদারদের হতেও মুক্ত করে দেওয়াকে জরুরী করে দেওয়া হয়েছে। মালিক তাতে অসমর্থ হলে, উক্ত ক্রীতদাসকে মুক্তি লাভের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করার নিমিত্তে কাজ করার অনুমতি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। [দ্রষ্টব্য: সহিহ বুখারি, ইংরেজি অনুবাদ ভলি. ৩, বুক ৪৪, নম্বর ৬৭২]
৫.৭ দাসিকে শিক্ষাদীক্ষা দিয়ে মুক্ত করে বিবাহকারীকে দ্বিগুণ সওয়াবের অধিকারী বলা হয়েছে। [দ্রষ্টব্য: হাদিস-৭]
পাঁচ.
ইসলামে দাস/দাসী'র অধিকার ও মর্যাদা
১. ভ্রাতৃত্বের মর্যাদা:
ইসলাম দাসদের ভাইয়ের মর্যাদায় উন্নীত করেছে। [দ্রষ্টব্য: হাদিস-২]
২. নেতৃত্বের অধিকার:
ইসলামে দাসও আমীর হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে তাকে মান্য করা সকলের জন্য জরুরি। [দ্রষ্টব্য: সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৭২২৯; ইংরেজি অনুবাদ: ভলি ৯, বুক ৮৯, নম্বর ২৫৬; http://sunnah.com/urn/67120]
৩. অন্ন-বস্ত্রের সমানাধিকার:
৩.১ মুনিব যা খাবে দাসকেও তাই খাওয়াতে হবে। [দ্রষ্টব্য: হাদিস-২]
৩.২ মুনিব যা পরবে দাসকেও তা-ই পরাতে হবে। [দ্রষ্টব্য: হাদিস-২]
৪. কাজ-কর্মে সহানুভূতি লাভের অধিকার:
৪.১ দাসের ওপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত কোন কাজের বোঝা চাপানো যাবে না। [দ্রষ্টব্য: হাদিস-২]
৪.২. দাসের ওপর অতিরিক্ত কোন কাজের বোঝা দিতে হলে নিজেকেও তাতে সাহায্য করতে হবে। [দ্রষ্টব্য: হাদিস-২]
৫. সম্মান লাভের অধিকার:
৫.১ দাস-দাসীদের ‘আমার বান্দা/দাস’ ‘আমার বান্দি/দাসী’ বলা যাবে না, বলতে হবে ‘আমার বালক’, 'আমার বালিকা'। [দ্রষ্টব্য: হাদিস-৩]
৫.২ দাস-দাসীদের চপেটাঘাত পর্যন্ত করা যাবে না। তাদেরকে চপেটাঘাত করা হলে এর শাস্তিস্বরূপ তাদেরকে মুক্ত করে দিতে হবে। [দ্রষ্টব্য: হাদিস-৬]
৫.৩ দাস-দাসীদের ওপর কোন অপবাদ আরোপ করা যাবে না। [দ্রষ্টব্য: হাদিস-৫]
৬. ধর্মীয় মর্যাদা:
ইসলামে একজন দাসের ধর্মীয় মর্যাদা একজন স্বাধীন মুসলিমের চেয়ে কোন অংশে কম নয় বরং বেশি। কেননা, যদি কোন দাস তার মালিকের প্রতি সৎ এবং বিশ্বস্ত থাকে এবং তার প্রভুর (আল্লাহর) ইবাদতও যথাযথভাবে করে তবে সে দ্বিগুণ সওয়াব পাবে। [দ্রষ্টব্য: সহিহ বুখারি, ইংরেজি অনুবাদ ভলি ৩, বুক ৪৬, নম্বর ৭২২]
৭. ন্যায়বিচার লাভের অধিকার:
ইসলাম ক্রীতদাসের ন্যায়বিচার লাভের অধিকারকে নিশ্চিত করে। বিশ্বে যেখানে দাসদের ওপর চলছিল ইচ্ছামত অত্যাচার, নিপীড়ণ; দাসদের হত্যা করাও যখন ছিল আইনসিদ্ধ, সেই সময় ইসলাম ঘোষণা করে কঠোরতম সতর্কবাণী, কেউ কোন ক্রীতদাসকে হত্যা করলে তাকেও হত্যা করা হবে, কেউ কোন ক্রীতদাসের অঙ্গহানি ঘটালে তারও অঙ্গহানি ঘটানো হবে। [দ্রষ্টব্য: হাদিস-৪]
৮. জৈবিক চাহিদা পূরণের অধিকার:
ইসলাম দাস-দাসীদের জৈবিক চাহিদা পূরণের অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং নিজের দাস-দাসীদের বিবাহ দিয়ে দেওয়াকে মুনিবের জন্য দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করেছে। [দ্রষ্টব্য ২৪:৩২]
৯. পবিত্র জীবন যাপনের অধিকার:
ইসলামে দাসীদের পতিতাবৃত্তিতে নিযুক্ত করা কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
তোমাদের দাসীরা নিজেদের পবিত্রতা রক্ষা করতে চাইলে তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদের লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য কারো না। [২৪:৩৩, প্রাসঙ্গিক অংশ]
১০. বিবাহের ক্ষেত্রে মতামত প্রদানের অধিকার:
কোন মুনিব তার ক্রীতদাসির সাথে আলোচনা না করে তাকে কারো সাথে বিবাহ দিতে পারবে না। [দ্রষ্টব্য: বুখারি, হাদিস নম্বর ৭০৫৬; ইংরেজি অনুবাদ: ভলি ৯, বুক ৮৬, নম্বর ১০০; http://sunnah.com/urn/65560]
১১. ক্রীতদাসি এবং তার শিশুর একত্রিত থাকার অধিকার:
কোন ক্রীতদাসীকে ভিন্ন কোথাও বিক্রি করে তার থেকে তার শিশুকে বিচ্ছিন্ন করার কোন অনুমতি ইসলামে নেই, এবং এই ধরণের বেচাকেনা নিষিদ্ধ। [দ্রষ্টব্য: সুনান আবু দাউদ, ইংরেজি অনুবাদ: বুক ১৪, নম্বর ২৬৯০]
ছয়.
শেষের কথা
এতক্ষণ তো দেখলেন প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ইসলামে দাস/দাসীদের অবস্থান কোথায় ছিল। এবার মাত্র কয়েক শতক আগে পাশ্চাত্যের Slave code-এ দাস/দাসীদের আইনসিদ্ধ অবস্থান কোথায় ছিল তার একটু নমুনা দেখা যাক:
Virginia, 1705 – "If any slave resists his master…correcting such a slave, and shall happen to be killed in such correction…the master shall be free of all punishment…as if such accident never happened."
Alabama, 1833, section 31 - "Any person or persons who attempt to teach any free person of color, or slave, to spell, read, or write, shall, upon conviction thereof by indictment, be fined in a sum not less than two hundred and fifty dollars, nor more than five hundred dollars."
Alabama, 1833, section 32 - "Any free person of color who shall write for any slave a pass or free paper, on conviction thereof, shall receive for every such offense, thirty-nine lashes on the bare back, and leave the state of Alabama within thirty days thereafter…"
Alabama, 1833, section 33 - "Any slave who shall write for any other slave, any pass or free-paper, upon conviction, shall receive, on his or her back, one hundred lashes for the first offence, and seven hundred lashes for every offence thereafter…"
South Carolina, 1712-No slave shall be allowed to work for pay, or to plant corn, peas or rice; or to keep hogs, cattle, or horses; or to own or operate a boat; to buy or sell; or to wear clothes finer than 'Negro cloth'
[সূত্র এখানে: http://en.wikipedia.org/wiki/Slave_codes]
অর্থাৎ দাসদের পড়া-লেখা শেখার, মজুরি খাটার, কিছু উৎপাদন করার, গবাদি পশু রাখার, নৌকা রাখা/চালানোর, কেনা-বেচা করার, ভালো কাপড় পরিধান করার অধিকারই শুধু হরণ করা হয় নাই, মালিককে এতটুকু অধিকারও দেওয়া হয়েছিল যে যদি ক্রীতদাসকে সংশোধন করতে গিয়ে সে তাকে মেরেও ফেলে, তবু তার কোন শাস্তি হবে না, যেন এমন কোন ঘটনাই ঘটে নাই!
এরপরও যদি কেউ দাসপ্রথার কথা এলেই ইসলামের দিকে আঙুল উঁচু করতে চান, তবে বলতেই হবে, যারা চোখ বন্ধ করে ঘুমান তাদের জাগাবার সাধ্য কারো নেই।
[নোট: এই লেখায় দাস-দাসীদের সাধারণ বিষয়গুলো নিয়েই মূলত আলোচনা করা হয়েছে। অনেকক্ষেত্রেই দাস বলতে দাস-দাসী উভয়কে বুঝানো হয়েছে। লেখার কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় একটি প্রসঙ্গ ইচ্ছা করেই আলোচনায় আনা হয় নাই, সেটি হচ্ছে- দাসীদের সাথে শারীরিক সম্পর্কের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী? এই বিষয় নিয়ে একটি স্বতন্ত্র লেখা ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।]
*************************
আরো দেখুনঃ
ইসলামে ক্রীতদাসি ও যুদ্ধবন্দিনীর সাথে যৌন সম্পর্কের বৈধতার স্বরূপ


এম_আহমদ
মে ২৭, ২০১২ at ৪:৫৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
খুব ভাল একটি পোস্ট হয়েছে এবং presentation-ও সুন্দর হয়েছে।
মুনিম সিদ্দিকী
মে ২৭, ২০১২ at ৫:৫৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই ধরণের লেখার প্রয়োজনীয়তা ছিল। আপনার এই লেখা অপুর্ণতা পুর্ণ করেছে। এর জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আসলে দাস প্রথা নিয়ে মুসলিমদের অযথা লজ্জিত হবার দরকার নাই। কারণ এই প্রবন্ধে পরিস্কার হয়েছে যে, ভারত বা ইউরোপের দাস প্রথার সাথে ইসলামী দাস প্রথার আকাশ পাতাল ব্যবধান ছিল। নামে কিছু আসে যায় না । আসে যায় কোন অধিকার প্রাপ্তি আর অনধিকার প্রাপ্তির দ্বারা।
ইমরান হাসান
মে ২৯, ২০১২ at ১২:০৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অসাধারণ একটা লেখা হয়েছে সাদাত ভাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এরকম একটা সুন্দর লেখা আমাদের কে উপহার দেবার জন্য।
এস. এম. রায়হান
মে ২৯, ২০১২ at ১২:৪৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
একটু দেরিতে হলেও এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম। দারুণ হয়েছে
আপনি কুরআন-হাদিস থেকে সরাসরি রেফারেন্স দিয়ে এতকিছু বললেন, অন্যদিকে বর্ণমনা ব্লগে কী প্রচার করা হচ্ছে দেখুন। ইসলাম-ওয়াচ সাইটের 'এম এ খান' নামে এক ভারতীয় 'এক্স-মুসলিম' দাবিদার ও হিন্দুত্ববাদীদের ক্রীতদাস এর লিখা বই তারা অনেকদিন ধরেই অনুবাদ করে প্রমোট করছে। হিন্দুত্ববাদীরা ছাড়া সভ্য কেউ এই বই অনুবাদ বা প্রমোট করার কথা ভাবতেও পারবে না। মজার ব্যাপার হচ্ছে 'এক্স-মুসলিম' পরিচালিত ইসলাম-ওয়াচ সাইটে হিন্দুত্ববাদ প্রচার করা হয়, এমনকি মুসলিমদেরকে হিন্দুত্ববাদে ধর্মান্তরিত হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। তবে সব কিছুই বিখ্যাত-মনা বিপ্লব পাল ও তার বাংলাদেশি সহোদর স্ট্যাইলে -- চরম মিথ্যাচার ও ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক।
এস. এম. রায়হান
মে ২৯, ২০১২ at ১২:৫৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বাইবেলের আলোকে দাস-দাসী
দাস-দাসী'রা তাদের প্রভুদের প্রতি ভয়ে আত্মসমর্পণ করবে, এমনকি প্রভুরা দুর্ব্যবহার করলেও:
দাস-দাসী যদি কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে কঠোরভাবে শাস্তি দিতে হবে:
কোন পুরুষ যদি তার দাস-দাসীকে রড দিয়ে এমনভাবে আঘাত করে যাতে দাস-দাসী সাথে সাথে মারা যায় তাহলে সেই পুরুষের শাস্তি হবে। কিন্তু দাস-দাসী যদি দু-এক দিনের জন্য জীবিত থাকে তাহলে সেই পুরুষের কোন শাস্তি হবে না, যেহেতু দাস-দাসী তার নিজস্ব সম্পত্তি:
ক্রীতদাস প্রথার উপর আরো ভার্স:
নোট: সনাতন ধর্মে শূদ্ররা জন্মসূত্রেই ব্রাহ্মণদের দাস-দাসী হিসেবে বিবেচিত হয়। শূদ্রদের সাথে কেমন আচরণ করতে হবে আর তাদের 'অপরাধ' এর জন্য শাস্তিই বা কেমন হবে তার বিষদ বর্ণনা মনুসংহিতাতে পাওয়া যাবে, অন্যান্য ধর্মগ্রন্থেও কিছু নমুনা আছে।
এম ইউ আমান
মে ২৯, ২০১২ at ৩:৩৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভ্রাতৃত্বের মর্যাদা, নেতৃত্বের অধিকার, অন্ন-বস্ত্রের সমানাধিকার, কাজ-কর্মে সহানুভূতি লাভের অধিকার, সম্মান লাভের অধিকার, ধর্মীয় মর্যাদা, ন্যায়বিচার লাভের অধিকার, জৈবিক চাহিদা পূরণের অধিকার, পবিত্র জীবন যাপনের অধিকার, বিবাহের ক্ষেত্রে মতামত প্রদানের অধিকার, ক্রীতদাসি এবং তার শিশুর একত্রিত থাকার অধিকার।
এতসবঅধিকার যাদের আছে তারাতো ভাগ্যবান বলেই মনে হয়। কারণ বাংলামিয়ার টাকা নেই বলে সৌদিখান তারে ভাই মনে না করে মিসকিন মনে করে। সারকোজি সিটিজেন না হওয়ার ফলে মার্কিন মুল্লুকে প্রেসিডেন্ট –নেতার প্রতিযোগিতা করার অধিকার হারিয়েছেন। রহিমার মা কি আর টেবিলে বসে, জামদানী পরে মৌসুমি ম্যাডামের সাথে ডিনার করতে পারবে? কাজ-কর্মে সহানুভূতির অধিকার?- যাকে যতটা পারো খাটিয়ে নাও তবেই না প্রতিষ্ঠানের উন্নতি! সম্মান লাভের অধিকার?- তা আব্দুল কাদের কিছুটা পায় বটে, চৌধুরি সাহেবের কাছে না হোক, রাস্তার পাশে বসা মেসকান্দর মিয়ার ভাঙ্গা থালায় পয়সা ফেললে মেসকান্দর মিয়া আব্দুল কাদেরকে সালাম দেয়। মুসলিমরা ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় নাম বলতে কাচুমাচু হয়ে যাবে, তাদেরকে আলাদা করে দুএক ঘন্টা জেরা না করতে পারলে, এই চাকরী করে মজা কোথায়? ধর্মীয় স্বাধীনতা তো আছে, নুরুল ইসলামকে তো আমরা নুরুল খ্রীষ্টান লিখতে বাধ্য করছি না।
দাস-দাসীদের যে অধিকারগুলি ইসলামে আছে সেগুলি পাওয়ার নিশ্চয়তায় আমি যদি দাস-দাসীহতে চাই, তার কোন উপায় আপনার জানা আছে?
সাদাত
মে ৩০, ২০১২ at ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভালো বলেছেন। ইসলাম দাসদেরকে যে অধিকারটুকু দিয়েছিল, আজ আমরা স্বাধীন মানুষদের জন্যও সেই অধিকারটুকু নিশ্চিত করতে পারছি না।
করিম
মার্চ ৩০, ২০১৬ at ১:৫৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
দেখেন ভাই সাদাত, আপনি লিখেছেন ভালই। কিতাবী কথাবার্তা, মোলায়েম, একটা প্রসাদ লাভ করা যায় এই কথা ভেবে যে 'দেখেছো ভাইয়েরা, ইসলামে দাস-দাসীদের কতটা সুন্দর, মর্যাদাপূর্ণ ব্যাবস্থা রেখেছে' … ইত্যাদি।
কিন্তু ভাই, বাস্তবে কি এইটা প্রযোজ্য? উদাহরন স্বরূপ বলা যায়, ধরুন, আপনার বাসায় যে কাজের বুয়াটি এসে কাজ করে দিয়ে যান, তার সাথে আপনি অবশ্যই ভাল ব্যবহার করবেন, এটা জানি। কিন্তু সেই ভাল কতটুকু ভাল? সেটা কি কুরান/হাদিস এর আলোকে যথেষ্ট ভাল? (যেমন, আপনি তার সাথে উচ্চ স্বরে কথা বলবেন না, তাকে ভাল বেতন দিবেন, ঈদের সময় তাকে কাপড় কিনে দিবেন… এই গুল বেশ ভাল ব্যবহার, নয় কি?)। কিন্তু আপনি কি তাকে স্বীয় জীবিকা থেকে এমন কিছু দেন না যাতে এ বিষয়ে তারা আপনার সমান হয়ে যাবে? (১৬ঃ৭১)। এছাড়াও ধরেন, আপনি কি তাকে আপনার সাথে এক টেবিলে বসে খাওয়ার জন্য আহবান করেন? উত্তর যদি না-বোধক হয়, আপনাকে খুব একটা দোষারোপ করা যায় কি? (যেহেতু আপনি তাহলে কোরআন-হাদিস এর নির্দেশ মোতাবেক চলছেন না, সেই কারনে?)। কিন্তু এটাই তো বাস্তব, সেই ১৪০০ সাল আগের নিয়ম কি এখনকার দিনে আপনি প্রয়োগ করতে পারবেন? আবার এইদিকে ব্যাপার হোল যে, কুরান ত একটি জীবনদর্শন, তাই না? এবং তা সর্বকালের জন্যই প্রজোয্য, নাকি? তো তাহলে সেটা যদি আপনি বাস্তবে প্রয়োগ না করেন (মানে আংশিক করলেন আর আংশিক করলেন না, যেমন উপরের উদাহরনে বলেছি), তাহলে ত আপনি কুরান কেই অগ্রাহ্য করছেন, ঠিক বললাম কি?
একটু ব্যাখ্যা করবেন কি?
ধন্যবাদ।
সাদাত
মার্চ ৩০, ২০১৬ at ১১:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জ্বী আমাদের উচিত ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করা, এতে দ্বিমত করার কী আছে? আমরা সাধ্যমতো যতটুকু পারি করতে চেষ্টা করবো, যতটুকু পারছি না সেজন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবো।
শামস
মে ২৯, ২০১২ at ৬:২৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই সহজ সুত্র না বুঝে শুধুমাত্র বিদ্বেষের কারণে কিছু লোক ইসলামের বিরুদ্ধে এ ধরণের অপবাদ দেয়। ইউরোপিয়ান ও আমেরিকানরা দাসমুক্তি দিয়া কতবড় মহৎ কাজ করছে এইটার স্তুতি গাইয়া যায়। কিন্তু কেন তারা দাসব্যবসা বন্ধ করছিল (আসলে করতে বাধ্য হয়েছিল!) সেটা একবার উল্লেখেরও দরকার মনে করে না। একটু পড়ালেখা করা ও মাথা খাটাতেতো হবে, ইসলাম বিদ্বেষী মিশনারী সাইটগুলো থেকে কপিপেস্ট করতে পারলে অবশ্য এত কষ্ট করার কি দরকার। তবে এসব করতে গিয়ে তাদের প্রায়ই দৌড়ের উপর থাকতে হয়!
হাবীবুর রাহমান
মার্চ ২৬, ২০১৬ at ২:৪৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই দাস ব্যবস্থা যে বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং কারা বাধ্য করেছিল, এই বিষয়ে কি কো রেফারেন্স আছে? যদি থাকে দিলে খুব খুশি হইতাম। ধন্যবাদ
শামস
মে ২৯, ২০১২ at ৭:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সাদাত ভাই, আমারও এ নিয়ে লেখার ইচ্ছে আছে, তখন আপনার এই লেখাটি কাজে দিবে। আমার লেখাটি হবে ঐতিহাসিক পর্যালোচনা। আজ যারা ইসলামের দাসত্ব নিয়ে ইসলাম বিদ্বেষ করছে তাদের দুনম্বরীও খোলাসা হবে আশা করি। তবে সংক্ষেপে ইসলামের সাথে অন্য দাসব্যবসাঁর (বিশেষত ইউরোপিয়ানদের ট্রান্স আটলান্টিক দাসব্যবসার) তুলনামূলক পর্যালোচনাঃ
১. আটলান্টিক দাস ব্যবসা ১৫০০ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত বিরাজমান ছিল, যেখানে ইসলামিক শাসন ব্যবস্থায় দাসপ্রথা ৭ম বা ৯ম শতক থেকে 1963 সাল পর্যন্ত বিরাজমান ছিল।
২. ইসলামিক ব্যবস্থায় দাসরা প্রথমে মানুষ তারপর সম্পত্তি, সেখানে আটলান্টিক দাস ব্যবসায় দাসরা শুধু সম্পত্তি মানুষ নয়, অথবা তারা শুধুমাত্র উৎপাদনকারী শ্রমিক
৩. ইসলামিক দাসপ্রথায় দাসদের নিরাপত্তা বিদ্যমান, কিন্তু আট্লান্টিক দাসব্যবসায় দাসদের সে সুবিধা নেই।
৪. ইসলামিক দাসপ্রথায় দাস করা যায় শুধুমাত্র তাদের যারা ধর্মযুদ্ধে পরাজিত হয় তাদের। কিন্তু আটলান্টিক দাস ব্যবসায় যে কাউকে দাস করা যায় যদি তার উৎপাদন মূল্য থাকে।
৫. ইসলামিক দাসপ্রথায় কোন দাসকে তার মাতার কাছ থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়াকে নিষিদ্ধ করেছে, কিন্তু আটলান্টিক দাসপ্রথায় এটা ছিল খুব সাধারণ।
৬. ইসলামী ব্যবস্থায় দাসদের সাথে মালিকে সম্পর্ক ব্যক্তিগত, কিন্তু আটলান্টিক দাস ব্যবসায় সেরকম কিছু নেই।
৭. ইসলামে দাসমুক্তি ও দাসদের প্রতি সদয় হওয়াতে ধর্মীয়ভাবে উচ্চাসন দেয়া হয়েছে, রাষ্ট্রের জাকাত ব্যবহার করা হয়েছে তাদের মুক্ত করাতে। ফলে অনেক দাস মুক্তও হয়েছে, কিন্তু সে তুলনায় আটলান্টিক দাস ব্যবসা অনেক পিছিয়ে।
৮. দাসরা চাইলে তাদের মালিকদের বিরুদ্ধে ইসলামিক আদালাতের সন্মূখীন করতে পারে। বিচারক চাইলে সেই দাসকে তার মালিকের কাছ থেকে মুক্ত করে দিতে পারে। কিন্তু আটলান্টিক দাস ব্যবসায় তার সুযোগ নেই।
৯. দাসরা চাইলে সম্পত্তির অধিকারী হতে পারে, নিজেরাও দাস রাখতে পারে ও উচ্চপদে আসীন হতে পারে।
১০. ইসলামে দাসীদের সঙ্গে যৌনসম্পর্কে বৈধ, কিন্তু তাদের পতিতাবৃত্তিতে নিযুক্ত করা অবৈধ
১১. আটলান্টিক দাস ব্যবসা ছিল বর্ণবাদী, শুধু আফ্রিকার কালোদেরকেই করা হয়েছে, সেখানে ইসলামীক দাসব্যবসায় অনেক নির্দিষ্ট কোন বর্ণকে করা হয়নি
১২. আটলান্টিক ট্রেড যেখানে দাসদের কৃ্ষিকাজে জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করেছে, সেখানে ইসলামী ব্যবস্থায় সেরকম কিছুর অস্তিত্ব নেই। তবে কিছু আরব আটলান্টিক দাস ব্যবসা থেকে লাভবান হয়েছে। তারাও পাশ্চাত্যের সাথে দাস ব্যবসাঁর জন্য দাসদের যোগান দিত।
১৩. ইসলামী ব্যবস্থায় দাসরা উচ্চপদে যেতে পারে। মিশরের মামলূকরা মামূলুক সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করে, ভারতীয় উপমহাদেশে কুতুবুদ্দিন আইবেকদের দাস সাম্রাজ্য উল্লেখযোগ্য।
শাহবাজ নজরুল
মে ২৯, ২০১২ at ৯:৪১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
লিখুন শামস … এই পয়েন্টগুলোকে পোস্ট আকারে অবশ্যই রাখা উচিত …
সাদাত
মে ৩০, ২০১২ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
লিখুন। ভালোই হবে।
তবে 'ইসলামি/ইসলামিক দাসপ্রথা' টার্মটা কিন্তু ব্যবহার করা ঠিক হবে না। দাসপ্রথা একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান ছিল, এটা কোনভাবেই ইসলামি কিছু না। ইসলাম নিজ নিয়ন্ত্রণের ভেতরে প্রচলিত দাসপ্রথার ওপর কিছু মানবিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মাত্র।
আর "যেখানে ইসলামিক শাসন ব্যবস্থায় তা ৭ম বা ৯ম শতক থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বিরাজমান ছিল।" -- ২০০০ সাল(?)টা কিভাবেএলো? টাইপো নাকি?
শামস
মে ৩০, ২০১২ at ১২:২৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সাদাত ভাই, ঠিক আছে. তারাহুরা করে লিখতে গিয়ে কিছু উল্টা-পাল্টা হয়ে গেছে. আসলে ইসলামিক কোনো দাসপ্রথা নাই. ইসলাম চলমান দাস প্রথাতে মানবিকতা দিছে. তবে একে তখনকার সময়ের বাস্তবতায় নিষিদ্ধ করে নাই. তবে দাস্মুক্তিকে উত্সাহিত করছে. সেটাই যৌক্তিক আর সেটাই আপনার লেখায় উঠে আসছে. একমত. আর সালটা ২০০০ হবে না হবে ১৯৬৩ পর্যন্ত (চেক করতে হবে), কারণ পুরো middle east থেকে সে সময়ে সরকারীভাবে নিষিদ্ধ হয়.
শাহবাজ নজরুল
মে ২৯, ২০১২ at ৯:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সাদাত ভাই, সালাম; অনেকদিন পরে এসে অসাধারণ পোস্ট দেয়ার জন্যে মোবারকবাদ। দাসপ্রথা নিয়ে মূল যে পয়েন্টগুলো তুলে বিদ্বেষীরা পানি ঘোলা করতে চায় তার প্রায় সবগুলোই এখানে এসেছে। আর যেটা বাকি থাকলো (দাসী'র সাথে যৌন সমপর্ক স্থাপনের অনুমতি) তার সম্পর্কে লেখা পড়ার অপেক্ষাতে রইলাম। যথারীতি নিয়মমাফিক ভাবে লিখেছেন বলে একটানে পরা যায়। শামসের দেয়া পয়েন্টগুলো ভালো। বিশেষত ইসলামে দাস প্রথার সাথে বর্ণবাদ জড়িত নয় এই ব্যপারটি। প্রাশ্চাত্যের দাসপ্রথা কেবল কালোদের জন্যে ছিল। কোনো সাদা চামড়ার লোককে কখনো দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হতে হয়েছিল কিনা জানা নেই। কিন্তু এর মুহুর্তেই কৃষাঙ্গ নন কিন্তু দাস ছিলেন, ইসলামের ইতিহাস থেকে অন্তত ২ টা উদাহরণ মনে পড়ছে; ১. সালমান আল ফার্সি ও ২. সুয়াইব বিন সিনান।
সাদাত
মে ৩০, ২০১২ at ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওয়া আলাইকুমুস সালাম। পরবর্তী লেখাটা মোটামুটি তৈরিই আছে। তারপরও একটু বিরতি দিয়েই প্রকাশ করছি ইনশাআল্লাহ।
এস. এম. রায়হান
মে ৩০, ২০১২ at ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এর অন্তর্নিহিত কারণ ৫ নং মন্তব্যে পাওয়া যাবে। এই দুই ধর্মাবলম্বীরাই কিন্তু দাসপ্রথাকে ইসলামের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে অপপ্রচার আর বিষোদগার করছে।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ইসলামে দাসপ্রথা বলে কিছু নেই। ইসলামে দাসপ্রথার নামে যা বলা হচ্ছে তা হচ্ছে যুদ্ধবন্দীদেরকে নিজ তত্তাবধানে নেয়া -- যেটি একটি মানবিক দিক যার পক্ষে অনেক প্রমাণ এই লেখাতে আছে। সেই সময় যুদ্ধবন্দীদেরকে নিজ তত্তাবধানে নেয়া ছাড়া অন্য কোন উপায়ও ছিল না।
কিংশুক
জুলাই ২৫, ২০১৩ at ১১:১৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অসাধারন লেখা।
শাফিউর রহমান ফারাবী
ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৪ at ১২:৩১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইসলামী শরীয়তে যুদ্ধে পরাজিত নাগরিকদের কে দাস দাসী বানানো কোন ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত বা নফলও নয়। আর কোরআন, হাদীস কোথাও লেখা নাই যে যুদ্ধে পরাজিত নাগরিকদের কে দাস দাসী বানাতে হবে। আর ইসলামী শরীয়তে কোন স্বাধীন নাগরিককে কখনই দাস দাসী বানানো যায় না। সাহাবীরা কি কখন যুদ্ধে পরাজিত কোন জাতিকে দাস দাসী বানিয়েছিলেন? হযরত ওমর রাযিআল্লাহু আনহুর সময় এই যে মুসলমানরা সিরিয়া ইরাক, ইরান/পূর্ব নাম পারস্য, তুরস্ক, সাইপ্রাস এত দেশ জয় করেছিলেন কোন দেশের নাগরিক কেই সাহাবীরা দাস দাসীতে রূপান্তরিত করেন নি। উল্টা ঐ সব দেশের আগে থেকে থাকা সব দাস দাসীদের কে সাহাবীরা মুক্ত করে দিয়েছিলেন।
মোঃ ওয়ালিউল হক
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৪ at ১০:২২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আরবে আগে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্হা ছিল না গোত্রীয় ব্যবস্হা ছিল । সাধারণত যুদ্ধবন্ধীদের উপর মুক্তিপণ হিসাবে মূল্য নির্ধারণ করা হত । সে হিসাবে দাসে পরিনত হত । কিন্তু সেই দাসদের উপর অনেক ভাল ব্যাবহার করা হত । নবী তো বলেছেন দাস হল তোমাদের ভাই, তোমরা যা খাবে দাসদের তা খাওয়াবে । এখন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্হা চলে এসেছে, দাসপ্রথার অবসান হয়েছে । সেই বিবেচনার দিক দিয়ে দাস প্রথা নাই । তবে বর্তমানে আমরা যুদ্ধবন্ধিদের নির্যাতন দেখি তা কতই না লজ্জাজনক ।
দাস সাধারনত যুদ্ধবন্ধি হতে সৃষ্টি হয়েছিল । এগুলো কোন কেনা দাস ছিল না । তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ হল বিয়ের পর নবীকে যখন খাদিজা রাঃ যায়েদকে দাস হিসাবে দিয়েছিল তখন তিনি তাকে পালক পুত্র হিসাবে গ্রহণ করেছিল । দাসের হাতে দেখা যায় ইসলামের কর্তৃত্ব আসে ।
তাছাড়া সবচেয়ে উৎকৃষ্ট প্রমাণ হল বেলাল রাঃ । যাকে দাসত্ব থেকে রক্ষা করে ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন বানান হয় । অবশ্য কিছু আরব তখন বেলালকে মেনে নিতে চেয়েছিল না তবুও মহানবী তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন ।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল আমেরিকাতে ইসলামের প্রচার হয়েছিল দাসের মাধ্যমে। আফ্রিকার মুসলিমদের ধরে দাসে পরিণত করে আমেরিকায় নিয়ে যেত শেতাঙ্গরা ।
ইসলাম দাস প্রথাকে সমর্থন করবে না কেননা যুদ্ধবন্ধিদের ব্যবস্হা রাষ্ট্রের হাতে । রাষ্ট্রই যুদ্ধবন্ধিদের ব্যবস্হা নিবে । আর যদি বর্তমান বিশ্বের দাসপ্রথা সম্বন্ধে জানতে হয় তাহলে নিচের লিঙ্কটি থেকে জানতে পারবেন ।
http://www.antislavery.org/english/slavery_today/what_is_modern_slavery.aspx
এই সুন্দর তথ্যবহুল আলোচনার জন্য সাদাত ভাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ।
স্পিড ব্রেকার
এপ্রিল ২৮, ২০১৪ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
দাসীদের সাথে শারীরিক সম্পর্কের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কী? এ ব্যাপারে পোস্ট পাবো কিনা??
সাদাত
এপ্রিল ২৮, ২০১৪ at ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইনশাআল্লাহ খুব শীঘ্রই। এ বিষয়ে প্রায় রেডি পোস্টটা সম্পাদনা করছি…
স্পিড ব্রেকার
এপ্রিল ২৮, ২০১৪ at ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার এই লেখাটা পড়ে ভালো লেগেছে। অনেক কিছু জানলাম।
Towfiq
মে ২৯, ২০১৪ at ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অসাধারন
rashed
মার্চ ৩০, ২০১৫ at ৩:৫৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
masallha good post
Mohammad Sakib Omar
অক্টোবর ২, ২০১৫ at ৮:৪৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Salam Sadat vai! Bangla ashe na tai english r banglish e bolchi !
Kew jodi tar slave ba bondinir sathe jor purbok songom kore monib houar por tar ichchar biruddhe tobe shata ki islame jaej? r na hole tar shasti ki? janale khub upkrito hobo!
সাদাত
অক্টোবর ৩, ২০১৫ at ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নিচের লেখাটা আগে পড়েন, তারপরও যদি প্রশ্নটা মনে আসে, তখন উত্তর দেবো ইনশাআল্লাহ। খুব মনযোগ দিয়ে পড়বেন কিন্তু..
http://www.shodalap.org/bngsadat/25753/
Mohammad Sakib Omar
অক্টোবর ৩, ২০১৫ at ২:০৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
vai sadat ami bujhi nai pls amake ektu bujhan details! Amar jana dorkar.
সাদাত
অক্টোবর ৩, ২০১৫ at ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
প্রথম কথা, কাজের বুয়া বা মহিলা কর্মচারী এদের কিন্তু দাসী মনে করবেন না। দাস বা দাসী হচ্ছে যাদের কিনে নেওয়া হয়েছে। প্রথমত ইসলামে কোন স্বাধীন নারী/পুরুষকে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। কাজেই দাস-দাসী বানানোর মূল প্রক্রিয়া ইসলামে নিষিদ্ধ। যারা অলরেডি দাস-দাসী হয়ে ছিল তাদের ব্যাপারে ইসলামের মূল নীতি ছিল তাদের মুক্ত করা। কিন্তু ইসলাম চাইলেই তা করতে পারতো না। কারণ কাফেরদের হাতেও দাস-দাসী ছিল, এমম কি মুসলিম দাস-দাসীও ছিল। কাজেই যতদিন মুক্ত করা না হচ্ছে ততদিন দাস-দাসীদের সাথে কী আচরণ করা হবে ইসলাম এর কিছু বিধি বিধান আরোপ করেছে। দ্বিতীয়ত যারা অনেকদিন যাবত দাসত্বে আবদ্ধ ছিল তাদের হঠাৎ করে মুক্ত করে দেওয়াও সম্ভব ছিল না, কেননা সেটা উক্ত দাস-দাসীর নিরাপত্তা ও জীবন-জীবিকার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতো। ফলে ইসলাম কিছু বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল যার ফলে দাসপ্রথা ধীরে ধীরে উঠে গিয়েছিল কোন সামাজিক বা অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করা ব্যতিরেকেই।
ইসলামে দাস/দাসী বানানোর একটাই পথ খোলা রেখেছে, সেটা হচ্ছে যুদ্ধবন্দিদের দাসদাসী বানানো। কেন এই পথ খোলা রেখেছে?
২.১ কেন ইসলামে এই সুযোগ রহিত করা হলো না?
ইসলাম একটি বাস্তব ধর্ম। ইসলাম এমন কোন ধর্ম না যে কেউ এক গালে চড় মারলে আরেকটা গাল পেতে দিতে বলবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিজ অনুসারিদের বিপদ বা অস্তিত্ব সংকটের মুখে ফেলে দেবার ধর্ম ইসলাম নয়। যেখানে মুসলিমরা অমুসলিমদের হাতে যুদ্ধবন্দী হলে তাদেরকেও দাসত্ব বরণ করতে হতো, সেখানে ইসলাম যদি একই সুযোগ না রাখতো তবে তা হতো শত্রুর হাতে এক বিরাট মারণাস্ত্র তুলে দেওয়ার নামান্তর। কাজেই যতদিন মুসলিমদের জন্য এই নিশ্চয়তা না আসে যে তাদের যুদ্ধবন্দীদের দাসদাসী বানানো হবে না, ততদিন পর্যন্ত মুসলিমদের জন্যও এই সুযোগ রহিত করার কোন যুক্তি থাকতে পারে না।
২.২ দাসত্বের এই পথ বন্ধ করার উপায়
ইসলামে দাসত্ব বরণের এই পথটি যদিও খোলা রয়েছে তবে একটি বন্ধযোগ্য পথ, যা বন্ধ করার চাবি অমুসলিম রাষ্টসমূহের হাতেই দেওয়া আছে। যে কোন অমুসলিম রাষ্ট্র মুসলিম রাষ্ট্রের সাথে এই ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যে ‘আমরা একে অপরের যুদ্ধবন্দীদের দাস-দাসী বানাবো না’, দাসত্বে প্রবেশের এই উন্মুক্ত পথটি বন্ধ করে দিতে পারে।
সাদাত
অক্টোবর ৩, ২০১৫ at ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার মূল প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আপনাকে দুটো বিষয় আলাদা করতে হবেঃ
১. দাসপ্রথা ২. দাসপ্রথায় ইসলামের ভূমিকা
দাসপ্রথায় দাস দাসী ক্রীতবস্তু হিসেবে গণ্য হতো। তাদের মানুষ হিসেবে গণ্য করা হতো না। ক্রীতদাসীর গর্ভে মুনিব ব্যতিত কোন কারো সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সেই সন্তানকেও মুনিবের দাস গণ্য করা হতো। কিন্তু মুনিবের ঔরসে যদি কোন সন্তান জন্ম নিত সে মুনিবের সন্তান হিসেবেই গণ্য হতো।
এখন আপনি বলেন, কোন মুসলিম ক্রীতদাসির সাথে যদি কোন অমুসলিম মুনিব মিলিত হতো এবং সন্তান জন্ম নিতো, যাকে দাসপ্রথা অনুসারেও মুনিবের বৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য করা হতো, ইসলামের জন্ম কি উচিত হতো সেই সন্তানকে অবৈধ সন্তান ঘোষণা করা। হতো না। ইসলাম সেটা করে নাই। ইসলাম দাসপ্রথায় প্রচলিত সেই নিয়মকে অক্ষুন্ন রেখেই এধরণের ক্রীতদাসীর মর্যাদাকে স্ত্রী প্রায় সম পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে তার একটি স্হায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করে তাকে পর্যায়ক্রমে মুক্ত করেছে।
মাহফুজ
অক্টোবর ১৪, ২০১৬ at ৪:৫৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
(আমার বক্তব্য মুছে দেয়া হতে পারে জেনেও কিছু বলার চেষ্টা করলাম। বাকিটা মহান স্রষ্টার কাছেই ন্যাস্ত করতে চাই-)
আপনি বলেছেন- //ইসলাম একটি বাস্তব ধর্ম। ইসলাম এমন কোন ধর্ম না যে কেউ এক গালে চড় মারলে আরেকটা গাল পেতে দিতে বলবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিজ অনুসারিদের বিপদ বা অস্তিত্ব সংকটের মুখে ফেলে দেবার ধর্ম ইসলাম নয়। যেখানে মুসলিমরা অমুসলিমদের হাতে যুদ্ধবন্দী হলে তাদেরকেও দাসত্ব বরণ করতে হতো, সেখানে ইসলাম যদি একই সুযোগ না রাখতো তবে তা হতো শত্রুর হাতে এক বিরাট মারণাস্ত্র তুলে দেওয়ার নামান্তর। কাজেই যতদিন মুসলিমদের জন্য এই নিশ্চয়তা না আসে যে তাদের যুদ্ধবন্দীদের দাসদাসী বানানো হবে না, ততদিন পর্যন্ত মুসলিমদের জন্যও এই সুযোগ রহিত করার কোন যুক্তি থাকতে পারে না। ইসলামে দাসত্ব বরণের এই পথটি যদিও খোলা রয়েছে তবে একটি বন্ধযোগ্য পথ, যা বন্ধ করার চাবি অমুসলিম রাষ্টসমূহের হাতেই দেওয়া আছে। যে কোন অমুসলিম রাষ্ট্র মুসলিম রাষ্ট্রের সাথে এই ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যে ‘আমরা একে অপরের যুদ্ধবন্দীদের দাস-দাসী বানাবো না’, দাসত্বে প্রবেশের এই উন্মুক্ত পথটি বন্ধ করে দিতে পারে।//
……………………………………
হাঁ, ইসলাম অবশ্যই কোন অবাস্তব ধর্ম নয়। (৫:৪৫, ৪২:৩৯ -- ৪৩) কেউ এক গালে চড় মারলে তাকেও চড় মারার অধিকার ইসলামে আছে। কিন্তু তারপরও ধৈর্যশীলতা ও ক্ষমা প্রদর্শনকেই উত্তম বলা হয়েছে এবং তাতে পাপ মোচনের আভাসও রয়েছে। তবে বিপদ বা অস্তিত্ব সংকটের সময় কি ব্যবস্থা নিতে হবে সেই নির্দেশনাও স্পষ্টভাবেই দেয়া আছে। আর আক্রান্ত হলে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্রধারণ করাও বৈধ। ইসলাম নিশ্চয় কোন অযৌক্তিক ধর্ম নয়। কিন্তু এটি এমন কোন যুক্তি নির্ভর ধর্মও নয় যে, অমুসলিমদের যুক্তির উপর ভর করে মুসলিমদেরকে চলতে হবে। যদি তাই হত তাহলে তো সকল যুক্তিবাদী নাস্তিকরাই ইসলাম গ্রহণ করত।
অমুসলিমরা কিরূপ আচরণ করলে সেই আঙ্গিকে ইসলামের নির্দেশনা কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে তা খুবই স্পষ্ট। কিন্তু তাই বলে অমুসলিমরা যা যা করবে, মুসলিমদেরকেও যে তাইই অনুসরণ করতে হবে- বিষয়টি এমন নয়। অমুসলিমরা মুসলিম যুদ্ধবন্দীদের বিনা বিচারে হত্যা করুক বা নির্যাতন ও ধর্ষন করুক কিংবা যৌনসুখ ভোগের জন্য যুদ্ধবন্দীদের সাথে ক্ষণিকের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলুক; সেই অযুহাতে মুসলিমদের হাতে যারা যুদ্ধবন্দী হবে এবং কোনরূপ বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত হবে না, তাদেরকে হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষন করার কিংবা অবৈধ যৌনসুখ দেয়া নেয়ার জন্য তাদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলার কোন অধিকারই কোন মুসলিমকে দেয়া হয় নাই। কিন্তু যুদ্ধবন্দী হওয়ার পরও যদি কেউ বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত হয়, তাহলে বিচারের মাধ্যমেই তাকে উপযুক্ত সাজা দিতে হবে। যুদ্ধবন্দীকে দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে সেই দাসকে আবার যৌনসুখ দেয়ার নামে নিজেরাই অবৈধ সুখ ভোগ করার লোভ সামলাতে না পারাটা কোন পরহেযগার মুসলিমের জন্য মোটেই শোভা পায়না। কেবলমাত্র জাহেলিয়াতের যুগে ও জগতেই অমুসলিমদের ন্যায় এরূপ নির্লজ্জ আচরণ মানানসই হতে পারে। অনেক মুসলিমের ঘরেই তো এমন অনেক নারী থাকতেই পারেন যাদের বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পরও বিয়ে হয়না। আবার তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা মা-বোনেরাও থাকতে পারেন, বিশেষ কারণে যাদের আর বিয়ে হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে তাদের যৌনসুখ দেয়ার জন্যও কি তাহলে জাহেলিয়াতের এমন সস্তা পথটি অনুসরণ করার মত বদবুদ্ধি দিতে চান? আল-কোরআনে স্পষ্টভাবেই দাসমুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুতরাং কেউ যদি মনে করেন যে, ইসলামে দাসত্বের পথটি এখনো খোলা রাখা হয়েছে এবং যা বন্ধ করার চাবি অমুসলিম রাষ্টসমূহের হাতেই দেয়া আছে (নাউযুবিল্লাহ), তাহলে নিশ্চয় এই মতবাদ আল-কোরআনের শিক্ষা ও রাসূলের (সাঃ) আদর্শর সম্পূর্ণ পরিপন্থি। সুতরাং মুসলিমদের পক্ষ থেকেই মানবতা রক্ষার জন্য অমুসলিমদের কাছে দাসত্ব নয় বরং দাসমুক্তির আহ্বান জানানোর পাশাপাশি যুদ্ধবন্দীদের অধিকার সংরক্ষণের প্রস্তাব রাখা যেতে পারে। তারা মানতে চাইলে উভয়ের জন্যই ভাল। আর না মানলে অস্ত্রের ভাষাতেই তাদেরকে সময়মত সেই প্রস্তাব অগ্রাহ্য করার সমুচিত জবাব এবং (মুসলিম যুদ্ধবন্দীদেরকে খুন, নির্যাতন ও ধর্ষন করার) সাজা দিতে হবে। অমুসলিমরা যেন মুসলিমদের কোন ন্যায্য প্রস্তাবকে অগ্রাহ্য করার সাহস না পায়, সে কারণেই তো মহান স্রষ্টা তাঁর কিতাবে যুদ্ধের জন্য সব সময় যুগপোযগী রশদ, অস্ত্র, যানবাহন ও জানবাজ সেনাদল প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। অথচ এই নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন না করার কারণে কোন ন্যায় সঙ্গত নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য আমাদেরকে আজ অমুসলিমদের সিদ্ধান্তের উপর কতটাই না নির্ভর করতে হচ্ছে।
সাদাত
অক্টোবর ৩, ২০১৫ at ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নিজের স্ত্রীর সাথে কেউ যদি তার অসম্মতিতে মিলিত হয় তাহলে কী হবে? ক্রীতদাসির ক্ষেত্রেও তাই হবে।
আমার ধারণা আপনি আমার লিংকে গিয়ে পোস্টটা পড়েন নাই। একটু কষ্ট করে লেখাটা পড়েনঃ
http://www.shodalap.org/bngsadat/25753/
দুই চার লাইনে কোন পরিষ্কার ধারণা পাবেন না।
Mohammad Sakib Omar
অক্টোবর ৩, ২০১৫ at ১২:৪৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Vai sadat ami puropuri bujhi nai ! Apni shudhu amake ha ki na eta janan r sheta ektu bujhie bolen! Ekta kotha chilo slave to malik holeo oporichito thake tai tar osommoti thakte pare! Vai apnare ektu request kortesi!
সাদাত
অক্টোবর ৩, ২০১৫ at ১১:০৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনাকে আমি যে লিংকটা দিচ্ছি সেই পোস্টে যান এবং সেখানে কমেন্ট করেন। বলেন যে কোন্ অংশটা বুঝতেছেন না। এমদদ সরাসরি উত্তর হচ্ছে মুনিবের জন্য কৃতদাসীর সাথে মিলিত হওয়ার অনুমতি আছে, যেমনভাবে নিজ স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়ার অনুমতি আছে, সেটা সম্মতিতে হোক বা অসম্মতিতে।
Mohammad Sakib Omar
অক্টোবর ৩, ২০১৫ at ৯:৩৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Khub sundor likhechen vai! Question chilo
1.jodi kew tar dashir sathe tar (dashi) osommotite songom kore tobe shata ki islam er dristite jaej hobe? Jodi hoy tobe kivabe?
2. Munib er ouroshe dashir kono sontan na hole tokhon sha dashi ki munib er mrittur pore mukto hobe? Jodi hoi kmne ektu details bolun
সাদাত
অক্টোবর ৭, ২০১৫ at ৬:৫১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
1.jodi kew tar dashir sathe tar (dashi) osommotite songom kore tobe shata ki islam er dristite jaej hobe? Jodi hoy tobe kivabe?
জায়েজ হবে। তবে সেই ক্রীতদাসি আর সাধারণ ক্রীতদাসি থাবে না, সে উপপত্নীর ন্যায় হয়ে যাবে। তার সাথে সেই মুনিবের কোন সন্তান কোনদিন মিলিত হতে পারবে বা তাকে বিয়ে করতে পারবে না। যদি না সেই মুনিব তাকে মুক্ত করে দিচ্ছে বা বিক্রি করে দিচ্ছে ততদিন আর কোন পুরুষ তার সাথে মিলিত হতে পারবে না।
যদি ক্রীতদাসির গর্ভে সন্তান আসে, তাহলে তাকে আর বিক্রি করা যাবে না, সে মুনিবের পরিবারের স্থায়ী সদস্যে পরিণত হবে।
যদি সে মুনিবের সন্তান প্রসব করে, যদিও তা মৃত হয়, সে "সন্তানের মা" হিসেবে গণ্য হবে; এবং মুনিবের মৃত্যু পরে সে মুক্ত হয়ে যাবে।
মুনিবের ঔরসজাত ক্রীতদাসির সন্তান বৈধ সন্তান হিসেবে পরিগণিত হবে এবং অন্যান্য সন্তানের মতো সমভাবে পিতার উত্তারাধিকারী হবে।
সাদাত
অক্টোবর ৭, ২০১৫ at ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
2. Munib er ouroshe dashir kono sontan na hole tokhon sha dashi ki munib er mrittur pore mukto hobe? Jodi hoi kmne ektu details bolun
না মুক্ত হবে না।
Mohammad Sakib Omar
অক্টোবর ৫, ২০১৫ at ৭:৩৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Thnx sadat vai koekta question chilo !
1. Kono dashi ki moniber mrittur por shadhin hote parbe jodi tar kono(dashir) kono sontan na hoy?
2. Juddher somoy kokhon bondider dashi banano muslim imamer jonno thik hobe? R kokhon banano thik hobe na?
3. Kokhon islame dash-dashi rakha thik hobe na?
Sadat vai pls janan! Thnx in advance!
সাদাত
অক্টোবর ৭, ২০১৫ at ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
1. Kono dashi ki moniber mrittur por shadhin hote parbe jodi tar kono(dashir) kono sontan na hoy?
না পারবে না। সে একজন ক্রীতদাসি হিসেবে পিতার সন্তানদের মধ্যে বণ্টিত হবে। তবে পিতা তার সাথে মিলিত হয়ে থাকলে কোন সন্তান তার সাথে মিলিত হতে পারেব না।
2. Juddher somoy kokhon bondider dashi banano muslim imamer jonno thik hobe? R kokhon banano thik hobe na?
এটা ঠিক করবেন মুসলিম খলিফা। যেমন যদি তিনি দেখেন যে কাফের মুশরিকরা আমাদের বন্দিদের দাস-দাসি বানাচ্ছে বা দাস-দাসির চেয়েও নিকৃষ্ট আচরণ করছে, তাহলে তিনিও কাফের মুশরিক বন্দিদের দাস-দাসী বানাতে পারনে। তবে যদি কাফের মুশরিকরা মুসলিমদের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ থাকে যে আমরা একে অপরকে দাস-দাসি বানাবো না, তাহলে দাস-দাসি বানানো যাবে না।
3. Kokhon islame dash-dashi rakha thik hobe na?
স্বাধিন মানুষকে কেনাবেচার মাধ্যমে যখন দাস-দাসী বানানো হয়, তখন দাস-দাসী রাখা ঠিক হবে না।
Mohammad Sakib Omar
অক্টোবর ৬, ২০১৫ at ১০:৫৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Sadat vai ektu jene boln na!
২. যুদ্ধবন্দীদের কখন দাসী বানানো জায়েজ বলে মনে করবেন ইমাম আর এ ক্ষেত্রে শরীয়াত কি বলে?
৩.মুনিব এর মারা যাওয়ার পরে যদি কোন সন্তান না হয় তবে কি সেই দাসী মুক্ত হবে
হাবীবুর রাহমান
মার্চ ২৬, ২০১৬ at ৪:১৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই sadat, আপনার লেখাটা পড়ে আমার এই বিষয়ে মোটামুটি সকল confusion-ই দূর হয়েছে কিন্তু দুইটা প্রশ্নের সমাধান বের করার অনেক চেষ্টা করেও পারলাম না। যদি উত্তর দিতেন তাহলে মাথাটা হালকা হত।
প্রশ্নগুলি হল:-
১. কেন দাসীদের সাথে সরাসরি(বিয়ে ছাড়াই) যৌনকাজের অনুমতি দেয়া হয়েছে?, দাসীদের যৌন আকাঙ্ক্ষা থাকবে এটাই স্বাভাবিক এজন্য তো কোন এক দাসের সাথে তার বিয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারতো।আর যদি কোন দাস না থাকে তাহলে তো দাসীকে নিজে বিয়ে করতে পারতো, নিজে বিয়ে করার পরও যদি দাসী আরোও থেকে থাকে তাহলে তাদেরকে তো নিজের কারো সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারতো।কেন করা হলোনা?
২.দাস-দাসী ক্রয় বিক্রয় কেন বৈধ?
১নাম্বারে কয়েক টা প্রশ্ন আছে, আশাকরি একটা একটা করে সব কয়টার উত্তর দিবেন।
সাদাত
মার্চ ২৭, ২০১৬ at ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার মন্তব্যের পয়েন্ট বাই পয়েন্ট উত্তর তৈরি করছিলাম, হঠাৎ কীভাবে যেন মুছে গেল? এখন আবার লিখতে কষ্ট হচ্ছে। আপনি অনুগ্রহ করে নিচের পোস্টটা আগা থেকে গোড়া সম্পূর্ণ একটু পড়ে আসুন। তারপরও প্রশ্ন থাকলে আবার প্রশ্ন করুন।
http://www.shodalap.org/bngsadat/25753/
হাবীবুর রাহমান
মার্চ ২৭, ২০১৬ at ২:৫৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
its ok! ভাই আমি আপনার এই দ্বিতীয় আর্টিকেল পড়ার আগেই প্রশ্নগুলো করেছিলাম। কমেণ্টস করার কিছুক্ষন পর এই আর্টিকেল টা পাই, তারপর পড়েছিলামও। উত্তর মোটামুটি পেয়েছি, তবে দাস ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে আমার প্রশ্নের কোন উত্তর বের করতে পারিনাই। যদি সু্যোগ পান তাহলে দাস ক্রয়-বিক্রয় বিষয়ে কিছু বললে খুশি হব। আসলে কেন যেন দাস ক্রয়-বিক্রয় বিষয়টা ভাল শোনায় না বলে মনে হয়।
সাদাত
মার্চ ২৮, ২০১৬ at ৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
প্রথমতঃ ইসলামে স্বাধীন ব্যক্তিকে ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। এটা কিন্তু অনেক বড় একটি বিষয়। ইসলাম যদি দাসপ্রথাকে প্রমোট করতে চাইতো তাহলে কখনো এই কাজটি করতো না। দাসপ্রথার বিপরীতে নিজ গণ্ডির ভেতরে সবচেয়ে বড় যে কাজটি ইসলাম করতে পারতো, সেটা হচ্ছে এই যে কোন মুসলিমের জন্য স্বাধীন কোন ব্যক্তিকে বেচা কেনা নিষিদ্ধ করবে; আর সেই কাজ ইসলাম করেছে, কঠোরভাবেই করেছে।
দ্বিতীয়তঃ কথা হতে পারে, তাহলে কি ইসলাম পারতো না যে কোন প্রকার দাস ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করতে? না পারতো না। ধরুন, যে লোকগুলো কাফেরদের হাতে দাস হয়ে আছে, তাদের মুক্তির কী উপায় হবে? তাদেরকে মুক্ত করতে হলে তো ক্রয় করতেই হবে, আর ক্রয় বৈধ হলে বিক্রয়ও বৈধ হবে। কাজেই যারা আগে থেকেই দাস-দাসী হয়ে ছিল, তাদের ক্রয়-বিক্রয়কে ইসলাম নিষিদ্ধ করে নাই এবং সেটা করা বাস্তবসম্মতও ছিল না।
হাবীবুর রাহমান
মার্চ ২৮, ২০১৬ at ৩:১২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ক্রয় বৈধ হলে বিক্রয় বৈধ কথাটা বাস্তব সম্মত সত্য, কিন্তু দাস ক্রয় বিক্রয়ে অনুৎসাহিত করার প্রয়োজনে মুসলমানদের মধ্য ক্রয় বৈধ রেখে বিক্রয় অবৈধ করা যেত না কি? কারন একজন দাসকে মুসলমান যে সুভিদা দিবে তাতে তাকে কোন মতেই দাস বলা যায় না বরং তা তার মুক্তির পথ বলা বলা যায়। কিন্তু যখন একজন মুসলমানের হাত থেকে অন্য অমুসলিমের কাছে বিক্রি হবে তখন সে পুনরায় পুর্বেকার দাসে পরিনত হবে। আর একটা বিষয় হতে পারত কিনা? যে, বিক্রয়টা মুসলমানদের মধ্য সীমাবদ্ধ রাখা( কথাটা silly কিন্তু আমি এজন্য বলছি যে একমাত্র মুসলমানই হতে পারে দাসদের মুক্তির পথে অগ্রগন্য।)
হাবীবুর রাহমান
মার্চ ২৮, ২০১৬ at ৪:২১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ক্রয় বৈধ হলে বিক্রয় বৈধ কথাটা বাস্তব সম্মত সত্য, কিন্তু দাস ক্রয় বিক্রয়ে অনুৎসাহিত করার প্রয়োজনে মুসলমানদের মধ্য ক্রয় বৈধ রেখে বিক্রয় অবৈধ করা যেত না কি? কারন একজন দাসকে মুসলমান যে সুভিদা দিবে তাতে তাকে কোন মতেই দাস বলা যায় না বরং তা তার মুক্তির পথ বলা বলা যায়। কিন্তু যখন একজন মুসলমানের হাত থেকে অন্য অমুসলিমের কাছে বিক্রি হবে তখন সে পুনরায় পুর্বেকার দাসে পরিনত হবে। আর একটা বিষয় হতে পারত কিনা? যে, বিক্রয়টা মুসলমানদের মধ্য সীমাবদ্ধ রাখা( কথাটা silly কিন্তু আমি এজন্য বলছি যে একমাত্র মুসলমানই হতে পারে দাসদের মুক্তির পথে অগ্রগন্য।)
সাদাত
মার্চ ২৯, ২০১৬ at ৭:১৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মাহফুজ ভাই,
আগেও একবার আপনাকে বলেছিলাম, আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আপনি আমার পোস্টে অংশগ্রহণ না করলে ভালো হয়, কারণ আপনার সাথে পোস্টে পোস্টে তর্ক করার মতো সময় আমার হাতে নাই; পূর্বে এই কাজে যথেষ্ট সময় ব্যয় হয়েছে। তারপরও যদি কোন স্পেসিফিক বিষয়ে তর্ক করতে চান, আমাকে জানাবেন; আলাদা পোস্টে কেবল আপনার সাথেই তর্ক-বিতর্ক হবে। কিন্তু আমার পোস্টে পোস্টে গিয়ে আপনার মতবাদ প্রচারের চেষ্টা করবেন না। আমি আপনার মতবাদগুলোকে বিভ্রান্তিকর বলে মনে করি। পোস্টে পোস্টে আপনার সাথে আমি তর্ক করতে পারবো না।
দ্বিতীয় আপনি সদালাপের অন্য যে কাউরো পোস্টে আপনার স্প্যামিং মার্কা (এখানে আমন্ত্রণ, ওখানে আমন্ত্রণ) কমেন্ট করতে পারেন, কিন্তু আমার পোস্টে না। এগুলোকে আমি স্প্যাম হিসেবে গণ্য করি। ধন্যবাদ।
মাহফুজ
মার্চ ২৯, ২০১৬ at ১০:১১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সালামুন আলাইকুম
সাদাত ভাইজান!
আপনাকে না, আমি হাবীবুর রহমান ভাইকে আমার লিংকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। কিন্তু আপনার সংকীর্ণ মনে তা সহ্য হলো না। তাই মুছে দিলেন।
আপনার মন্তব্যেই আপনার মানসিকতা প্রকাশ পাচ্ছে। আপনার সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন শত্রুতা নেই। আর আমার নিজস্ব কোন মতবাদও নেই। আপনি মূলত হাদিছের রেফারেন্সে বক্তব্য রাখেন, অপরদিকে মহান স্রষ্টার কিতাব আল-কোরআনের রেফারেন্সই আমার বক্তব্যের মূল বিষয়, এরপর অন্যকিছু। তাই আপনার/ আপনাদের সংকীর্ণ মতবাদ অনুসারে আমার বক্তব্য বিভ্রান্তিকরই ঠেকবে।
আমার কমেন্ট মুছেও আপনার ভয় কাটছে না। আবার আমাকে অহেতুক তর্ক বিতর্কের গান শোনাচ্ছেন! আপনার ও আমার পথের মাঝে যে ফারাক তা নামমাত্র তর্ক বিতর্ক দিয়ে মিটবে না। এর জন্য প্রয়োজন কেবলমাত্র পবিত্র কোরআন মুখি চেতনা ও উদার মানসিকতার।
সৎ সাহস থাকলে আমার কমেন্ট ও লিংক না মুছে বরং সম্মানিত পাঠকদের বিবেচনার জন্য রেখে দিতেন। তাহলে তারাই তাদের বোধ ও বিবেক দিয়ে সত্যটা খুঁজে নেয়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু আপনি সে সুযোগ দিতেও রাজি নন।
সাদাত
মার্চ ৩০, ২০১৬ at ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
আমি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বক্তব্য রাখি, যা ১৪০০ বছর ধরে চলে এসেছে, যেভাবে সাহাবায়ে কিরাম(রা.) বুঝেছেন, মুজতাহিদ ইমামগণগণ বুঝেছেন, উলামায়ে কিরাম বুঝেছেন, সেভাবে। আপনার মতো "ভাসা ভাসা" জ্ঞান নিয়ে "মুজতাহিদ"সুলভ বক্তব্য দেই না। আপনার মূলনীতি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, ইসলামের ইতিহাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আপনি মূলত "কুরআন+সিলেকটিভ হাদিস অনলি"।
আমাদের এই দেশে এবং এই সাইটে যারা আসেন তারা মূলধারার মুসলিম, আপনার মতামতের দিকে তাদেরকে ডাকবার আগে আপনার মূলনীতি কী সেটা তাদেরকে জানিয়ে দেবেন। নয়তো সেটা হবে এক ধরণের প্রতারণা।
আপনার আপনার মত আপনার পোস্টে প্রকাশ করুন। আমার পোস্টে না।
সত্যসন্ধানী
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৬ at ২:৪৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পুরা লেখাটাই পড়লাম। কিন্তু আমি একটামাত্র লাইন খুঁজছিলাম লেখাটায়, যেখানে বলা আছে "দাস = স্বাধীন মানুষ", এই লাইনটা খুঁজে পেলাম না। তার মানে দাসকে যত অধিকারই দাও না কেন, সে দাসই থাকে। আর দাসকে "অধিকার দেওয়া"র মানেই হচ্ছে তাকে ছোট করা, কেননা তার মানে দাঁড়ায় তাকে অধিকার দেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে।
যা হোক, দাসপ্রথার জন্য ব্যাবলনীয় সভ্যতাকে দোষারোপ করে লেখা শুরু করা হয়েছে। হয়ত শুনে অবাক হবেন, পশ্চিমা ইহুদি-নাসারারাই দাসপ্রথা বিলোপ করেছে, যা ইসলামেরই করা উচিত ছিলো। অথচ লেখাটির কোথাও ইহুদি-নাসারাদের মানবিকতার প্রশংসা খুঁজে পেলাম না।
মাহফুজ
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬ at ১১:৫৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই সত্যসন্ধানী,
আল- কোরআনে যেহেতু দাসপ্রথা বিলুপ্তির লক্ষ্যে দাস মুক্তির কথা বলা হয়েছে, তাই ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় নুতন কোরে দাসপ্রথা চালু করার কোনই অবকাশ নেই। এ পৃথিবীর কোন প্রান্তে কখনো যদি কোন মানবগোষ্ঠী দ্বারা পুনরায় দাসপ্রথা চালু করা হয়, তাহলে এর বিরোধীতা করার সাথে সাথে সেখান থেকে প্রথমত দাস-দাসীদের ক্রয় কোরে হলেও তাদেরকে মুক্ত করা শুরু করতে হবে এবং একইসাথে দাসপ্রথা বন্ধের জন্য সেই জনগোষ্ঠীর শাসকশ্রেণী বা কর্তাব্যক্তিদের বোঝাতে হবে। তারা রাজি না হলে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা মুসলমানদের ইমানী দায়িত্ব বলে আমি বিশ্বাস করি। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করে হলেও সেই অত্যাচারীদের হাত থেকে অসহায় দাস-দাসীদের মুক্ত করতে হবে
আল-কোরআনে ইসলাম পূর্ব অধিকারভুক্ত ক্রীতদাসী এবং যুদ্ধবন্দী নারীদেরকে مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ/ ma malakat aymanuhkum/ মা- মালাকাত আইমানুকুম অর্থাৎ 'ডান হাতের অধিকারভুক্ত' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাহেলি যুগে দাসপ্রথার ব্যাপক প্রচলন ছিল। তাই ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলাম পূর্ব অধিকারভুক্ত দাসীদের সাথে শুধুমাত্র তাদের মালিকদের যৌন সম্পর্কের বিষয়টি সরাসরি নিষিদ্ধ করার ব্যপারে আল-কোরআনে হঠাৎ করে কোন বিধান দেয়া হয় নাই। কারণ হঠাৎ করে এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা তৎকালিন সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে মোটেই যুক্তিযুক্ত হত না। বরং দাসমুক্তির নামে কোনরূপ হটকারী সিদ্ধান্ত দেয়া হলে এবং হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক দাস-দাসীকে রাস্তায় বের করে দিলে নব্য ও উদিয়মান রাষ্ট্রের মাঝে ব্যপক বিপর্যয় ঘটে যাওয়াটা মোটেই অস্বাভাবিক ছিলনা। এরূপ হটকারী সিদ্ধান্তের ফলে যে সমাজে নানামুখি সমস্যার সৃষ্টি হয়েিছিল এবং দাসমুক্তির নামে হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক নারীকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়ায় তারা যে পতিতা বৃত্তিতে বাধ্য হয়েছিল, পৃথিবীর ইতিহাসের পাতা ঘাটলে সেই প্রমাণই মেলে। তাই ইসলামে দাসপ্রথাকে নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে তখনকার দাসপ্রথায় অভ্যস্ত সমাজ থেকে ধীরে ধীরে তা বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়াটি যে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ ছিল, তা একটু চিন্তা করলেই বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
সুতরাং ইসলাম প্রথম থেকেই একদিকে যেমন দাসপ্রথাকে নিরুৎসাহিত করেছে, অপরদিকে তেমনি দাস মুক্তিকে ধর্মীয়ভাবে উৎসাহিত কোরে প্রকৃত অর্থে ধীরে ধীরে ক্রীতদাস প্রথা বিলুপ্তির পক্ষেই দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
তবে ইসলামের পক্ষে যুদ্ধ অর্থাৎ 'জিহাদ/ কিতাল' সংঘটিত হলে বর্তমান ও ভবিষ্যতে সব সময়ই যুদ্ধবন্দী হতে পারে। সাধারণত অমুসলিমরাই যুদ্ধবন্দী হয়। এই অমুসলিম যুদ্ধবন্দীনিদেরকে কিন্তু পবিত্র কোরআনে একটি বারও "দাস-দাসী" হিসেবে উল্লেখ করা হয় নাই। বরং তাদেরকে "মা-মালাকাত-আইমানুকুম" অর্থাৎ "ডান হাতের অধিকারভূক্ত" হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে। যুদ্ধবন্দী হলেও তারাও মানুষ। কিন্তু তারপরও একটি পর্যায় পর্যন্ত স্বাধীন ব্যক্তির সাথে যুদ্ধবন্দীদের কিছুটা পার্থক্য থাকেই যায়। তাই বন্দী হলেও তাদের সাথে যেন অমানবিক আচরণ করা না হয়, বরং তাদের অধীকার সংরক্ষণ এবং তাদের সাথে কিরূপ আচরণ করতে হবে সেই দিকনির্দেশনাই দেয়া হয়েছে।
যেহেতু এ বিষয়ে আপনার জানার আগ্রহ আছে। তাই এই লিংকে (দাসপ্রথা এবং আল-কোরআন) আমন্ত্রণ রইল। হাতে খানিকটা সময় নিয়ে পড়ে দেখতে পারেন। বিশেষ করে মন্তব্য ও জবাবগুলো পড়লে হয়ত আপনার প্রশ্নের উত্তরও পেয়ে যেতে পারেন।
অক্টোবর ৬, ২০১৬ at ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সত্যসন্ধানী: একান্তভাবে ইয়াহুদী নাসারারা আবার কবে দাস-প্রথা নির্মূল করল? আমেরিকায় যে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দাস-প্রথা বিলুপ্তির আইন প্রণীত হয়েছিল সেটির মূলে ছিল ডেইস্টদের (deists) অবদান। আমেরিকার কনস্টিটিউশন প্রণেতাদের প্রধানরা ছিলেন ডেইস্ট (টমাস জেফারসনসহ), নাসারা নয়। আর ওখানে ইয়াদী আসল কীভাবে? অধিকন্তু এই বিলুপ্তির জন্য যদি ধর্মকে জড়াতে করতে হয় তবে তা প্রথমে হবে ইসলাম এবং তারপর ডেইস্ট তারপর খৃষ্টিয়ানিটি। সামাজিক পরিবর্তন বিবর্তন হঠাৎ করে হয় না। ইসলাম দাসের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাউকে ছোট করার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সেদিন হাজার বছর ধরে চলে আসা একটি আর্থ-সামাজিক প্রথা হঠাৎ বিলীন হয়ে যায় নি বরং প্রেক্ষিত ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইউরোপে ইসলাম আসার পরে ইসলামের জীবন পদ্ধতি, রাষ্ট্রীয় আচরণ এবং দাসের প্রতি শাসক ও সাধারণ মুসলিমদের আচরণ তাদের নজরে পড়ে। ভাল জিনিস গ্রহণ করার মানুষ সব দেশে সব সমাজে কিছু থাকে। ইসলামী প্রথার প্রভাব ইউরোপে অনেক। এক সময় আমেরিকায় আইন করে এই প্রথা বিলোপ করা হলে দ্বিতীয় স্তরে খৃষ্টিয়ানিটির অবদান বলা যায়। তবে দাসপ্রথা যে এখনো যে ইউরোপ আমেরিকায় শেষ হয়ে যায় নি তা যাদের চোখ আছে তা দেখতে পাবেন। দাসত্বের চাক্ষুষ রূপ পরিবর্তিত হয়েছে মাত্র। তারপর যায়োনবাদী অর্থব্যবস্থায় অসংখ্য মানুষ অতীতের দাসত্বের চাউতে ভাল অবস্থান নয়। আজকে এদের জীবন ও মানসিক সত্তা চরমভাবে বিপর্যস্ত। আপনি একটা লাইন খুঁজতে এসেছিলেন, সেটা পান নি, এজন্য আপনার মনটা হয়ত ভারি দুঃখিত। কী আর করবেন। এই ব্লগের মালিক এসে আপনার দুঃখ নিয়ে কিছু বললেই হয়ত ভাল হত। দেখেন কী হয়।
সত্য সন্ধানী
অক্টোবর ৭, ২০১৬ at ২:৪১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সত্যসন্ধানী, জনাবের আগমন কি মুক্ত মনা থেকে হয়েছে? হুবহু এই নিকেই একজন কে দেখেছিলাম আর সেখানে আমিও মন্তব্য করেছিলাম ৪ টা, সব গুলাই রিজেক্ট হয়েছে। যাক মুল কথায় আসি
ইহুদী নাসারা রা কবে দাস প্রথা উচ্ছেদ করল সেটা প্রমান সহ জানিয়ে বাধিত করবেন।
উপরে এম আহমদ ভাইও একই প্রশ্ন করেছেন। ওখানে জবাব দিলেই জবাব পেয়ে যাব। ধন্যবাদ।
সত্য সন্ধানী
অক্টোবর ১০, ২০১৬ at ১১:৩২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জনাব সত্যসন্ধানী, আরেকটা বাস্তব কথা বলি যেটা আপনার সত্য খোজার (?!) মনে তিক্ততার জন্ম দিতে পারে।
দুনিয়াতে দাস প্রথা আদৌ বিলুপ্ত হয়নি বরং সেটা অন্য রুপে ফিরে এসেছে।
সারা দুনিয়াতে মডেলিং এর নামে যে মাল্টি বিলিওন ডলারের ব্যবসা হয় সেগুলি দাস প্রথার চেয়েও বেশি মারাত্বক।
এখানে সেইসব নারীদের মগজ ধোলাই করে শেখানো হয়েছে যে তোমার শরীর তুমি নিজের ইচ্ছামত সেটা ব্যবহার করবে আর সাজাবে।
এর ফল কি হয়েছে? ২য় বিশ্বযুদ্ধের আগে আমেরিকান মহিলাদের গৃহ বধু হিসাবে যে সুখ্যাতি ছিল সেটা আজ মারা গেছে।
চিরকাল সামাজিক নর্ম ছিল এই যে মেয়েরা শালীন পোষাক পরবে। আজ ওইসব দেশের নর্ম হল মেয়েরা পড়বে শর্টস আর পুরুষরা পরবে স্যুট টাই। বিশ্বাস না হয় গুগলে সার্চ দিন। কোরা (quora) ডট কম এর প্রশ্নোত্তরে এগুলো পাবেন।
এখন মুসলিম দেশেও সব ধর্মীয় আচার ভেঙে মহিলাদের স্বল্প বসনা করে সেটাকে নর্ম বানাবার প্রচেষ্টা চলছে। এতে তারা আংশিক সফল।
কিন্তু কিয়ামাতের আগ পর্যন্ত তারা সফল হবে না কারন আল্লাহ ইসলামের হেফাজত কারী, আর আল্লাহ সেটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আর সে জন্যেই এখনো মুসলিম দেশ গুলো পশ্চিমের দেশ গুলোর ধারে কাছে যায় নি আর ইনশাল্লাহ যাবেও না। কারন আল্লাহ স্বয়ং হিফাজত করবেন।
যাই হোক আধুনিক দাস বৃত্তিতে নারীকে শেখানো হয় যে সে স্বাধীন ( যদিও নারী কোনদিন পরাধীন ছিল না!) তাই যা ইচ্ছা করো।
আজকাল ন্যুড বিচে মেয়েরা নগ্ন হচ্ছে আর বলা হচ্ছে যে নগ্নতা মানে যৌনিতা নয়।
আজ বন্ধুত্বের নামে মেয়ে পুরুষ জড়া জড়ি করে গালে চুমু দেয়া হচ্ছে পশ্চিমে।
দুই ছেলে বন্ধু দিচ্ছে না কেন এগুলি? তার মানেই এখানেই বন্ধুত্বের আড়ালে আসলে চলছে যৌন সুড়সুড়ির বেসাতি। খারাপ লাগে শুনতে? লাগাই স্বাভাবিক।
কারন শিয়াল ( নারীবাদী) মুরগীকে (মগজ ধোলাই হওয়া ননারী)বের করে আনছে রসালো খাবারের লোভে। আর বর্বর মুসিলম রা সেটা প্রতিহত করার চেষ্টা করে সেই বোন টিকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে, কাজেই এহেন বর্বর ম্লেচ্ছ জাতের মুখোষ উন্মচন করা লাগবে না?
তার পর নারীবাদ ভোগ আর ডাম্প, অবশেষে হে নারী ডাম্প হলে কি হয়, একটা যাবে আরেকটা আসবে। ডাম্প হয়েছ এ দোষ তোমার না তার।দেখবে তুমি যোগ্য মানুষ পাবেই। এর পর আবার সেম প্রক্রিয়া।
জনাব এগুলো কি দাস প্রথার চেয়ে কম না বেশি?
দাস দের বাধ্য করা হত চাবুক মেরে। আর বর্তমান যৌন দাসী ( শরীর দেখিয়ে যারা টাকা আয় করে) দের দাসবৃত্তি করানো হচ্ছে মন্ত্র বলে এটাকে সম্মান হিসাবে চালিয়ে দিয়ে। আপনার প্রানের ইয়াহুদী নাসারা রা চুপ কেন?
কেন পোপ সমকামীদের স্যালভেশন অফার করে ভ্যাটিকানে বিভক্তি জন্ম দিয়েছে?
এটাই আপনার নাসারাদের স্বরুপ।
আচ্ছা নিজের মা বোন দের এই শরীর দেখান পেশা বেছে নিতে উতসাহ দেবেন কি আপনারা? বউকে দেবেন পর পুরুষের সাথে ঢলাঢলি করতে? দেবেন না তাই না?
তাহলে অন্যের মা বোন দের নষ্ট করার মিশন নিয়ে যারা উঠে পড়ে লেগেছে তাদের বিরোধিতা করুন। এতেই দাস বৃত্তির বিরোধিতা করা হবে।
সাদাত
অক্টোবর ১৪, ২০১৬ at ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সত্যসন্ধানী,
আপনি পুরো লেখায় দাস=স্বাধীন মানুষ এই ধরণের কিছু খুঁজেছেন। এটা আপনার সমস্যা। গণিতে কাঁচা ছিলেন নাকি! আপনার ইকুয়েশন মেলাতে গেলে স্বাধীনতা=পরাধীনতা প্রমাণ করতে হবে এবং সকল স্বাধীন মানুষকেই দাস বলতে হবে। কারণ দাস=স্বাধীন মানুষ হলে, স্বাধীন মানুষ=দাস হতে হবে।
পশ্চিমা ইহুদি নাসারাদের মানবিকতার কথা বলি কীভাবে বলেন? বিবর্তনবাদি মুক্তমনারা বলেন মানুষ ও এক প্রকার পশু। কাজেই বলতেই যদি হয়, তাদের পাশবিকতার কথাই তো বলতে হবে, তাই নয় কি?