[লেখাটিতে আমরা যা জানবো-
ইসলামের দৃষ্টিতে নারী কি পুরুষের উপভোগের যৌন মেশিন?
ইসলামে কি পুরুষকে স্ত্রীর ওপর যথেচ্ছ যৌনাচারের ফ্রি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে?
স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র – কেন এই আয়াত?
ইসলামে কি নারীদের যৌন চাহিদার কোন স্বীকৃতি নেই?
ইসলামে কি যৌন অধিকার একতরফাভাবে পুরুষকে দেওয়া হয়েছে?]
ভূমিকা
ইসলামের সমালোচকরা অনেকে বুঝাতে চান যে ইসলামে নারীদের যৌন চাহিদার কোন মূল্য নাই, বরং এই ব্যাপারে পুরুষকে একতরফা অধিকার দেওয়া হয়েছে, পুরুষ যখন ইচ্ছা তখন যৌন চাহিদা পূরণ করবে আর স্ত্রী সেই চাহিদা পূরণের জন্য সদা প্রস্তুত থাকবে। এই ধারণার পেছনে কুরআন আয়াত এবং হাদিসের অসম্পূর্ণ পাঠের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। বস্তুত কুরআনের কিছু আয়াত বা কিছু হাদিস দেখে কোন বিষয় সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষাকে পুরোপুরি উপলব্ধি করা সম্ভব নয়, বরং তা অনেক ক্ষেত্রেই পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে। কোন বিষয় সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষাকে সঠিকভাবে উপলদ্ধি করতে হলে সেই সংক্রান্ত কুরআনের সবগুলো আয়াত এবং সবগুলো হাদিসকে সামনে রাখতে হবে। যা হোক, আমার এই লেখার উদ্দেশ্য শুধু এতটুকু দেখানো ইসলামে নারীদের যৌন চাহিদার কোন স্বীকৃতি আছে কি-না। আসুন চলে যাই মূল আলোচনায়।
পরিচ্ছেদ ১
কেন এই দাবি?
সূরা বাকারার ২২৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ
Your wives are a tilth for you, so go to your tilth, when or how you will
তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। অতএব তোমরা তোমাদের শস্য-ক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন কর।
হঠাৎ করে এই আয়াতাংশ কারো সামনে পেশ করা হলে মনে হতে পারে যে এখানে পুরুষকে যখন ইচ্ছা তখন তার স্ত্রীর সাথে যৌনাচার অবাধ অনুমতি দেওয়া হচ্ছে- এমনকি স্ত্রীর সুবিধা-অসুবিধার দিকেও তাকানোর কোন প্রয়োজন যেন নেই। যারা এই ধরণের ধারণার প্রচারণা চালান তারা সাধারণত এই আয়াতটি উল্লেখ করার পর তাদের ধারণার সাপোর্টে কিছু হাদিসও পেশ করেন, যেমন-
কোন স্ত্রী যদি তার স্বামীর বিছানা পরিহার করে রাত কাটায় তবে ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত তাকে অভিশাপ দিতে থাকে। (মুসলিম, হাদিসের ইংরেজি অনুবাদ-৩৩৬৬)
উপরিউক্ত আয়াতাংশ এবং এই ধরণের কিছু হাদিস পেশ করে অনেকই এটা প্রমাণ করতে চান ইসলাম কেবল পুরুষের যৌন অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করেছে এবং নারীকে যৌন মেশিন হিসেবে যখন তখন ব্যবহারের ফ্রি লাইসেন্স দিয়ে রেখেছে। সোজা কথায় ইসলামে যৌন অধিকার যেন একতরফাভাবে পুরুষের! আসলেই কি তাই?
পরিচ্ছেদ ২
২.১ কুসংস্কারের মূলোচ্ছেদকারি কুরআনের ২:২২৩ আয়াত সংক্রান্ত বিভ্রান্তির নিরসন
মদিনার ইহুদিদের মধ্যে একটা কুসংস্কার এই ছিল যে, কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে পেছন দিক থেকে যোনিপথে সঙ্গম করত তবে বিশ্বাস করা হতো যে এর ফলে ট্যারা চোখবিশিষ্ট সন্তানের জন্ম হবে। মদিনার আনসাররা ইসলামপূর্ব যুগে ইহুদিদের দ্বারা যথেষ্ট প্রভাবিত ছিল। ফলে আনসারগণও এই কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিলেন। মক্কাবাসিদের ভেতর এই কুসংস্কার ছিল না। মক্কার মুহাজিররা হিজরত করে মদিনায় আসার পর, জনৈক মুহাজির যখন তার আনসার স্ত্রীর সাথে পেছন দিক থেকে সঙ্গম করতে গেলেন, তখন এক বিপত্তি দেখা দিল। আনসার স্ত্রী এই পদ্ধতিকে ভুল মনে করে জানিয়ে দিলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুমতি ব্যতিত এই কাজ তিনি কিছুতেই করবেন না। ফলে ঘটনাটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছে গেল। এ প্রসঙ্গেই কুরআনের আয়াত (২:২২৩) নাযিল হয়, যেখানে বুঝানো হচ্ছে- সামনে বা পেছনে যেদিক দিয়েই যোনিপথে গমন করা হোক না কেন, তাতে কোন সমস্যা নেই। শস্যক্ষেত্রে যেদিক দিয়ে বা যেভাবেই গমন করা হোক না কেন তাতে শস্য উত্পাদনে যেমন কোন সমস্যা হয় না, তেমনি স্বামী তার স্ত্রীর যোনিপথে যেদিক দিয়েই গমন করুক না কেন তাতে সন্তান উত্পাদনে কোন সমস্যা হয় না এবং এর সাথে ট্যারা চোখবিশিষ্ট সন্তান হবার কোন সম্পর্ক নেই। বিস্তারিত তাফসির পড়ে দেখতে পারেন।
কাজেই এই আয়াতের উদ্দেশ্য ইহুদিদের প্রচারিত একটি কুসংস্কারের মূলোত্পাটন, স্ত্রীর সুবিধা অসুবিধার প্রতি লক্ষ না রেখে যখন তখন অবাধ যৌনাচারের অনুমোদন নয়। যারা মনে করেন কুরআনে ইহুদি খৃষ্টানদের কিতাব থেকে ধার করা হয়েছে বা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহুদি খৃষ্টানদের থেকে শুনে শুনে কুরআন রচনা করেছেন, এই আয়াত তাদের জন্য বেশ অস্বস্তিকর বটে! প্রকৃত মুক্তচিন্তার অধিকারীদের বরং এই আয়াতের প্রশংসা করার কথা ছিল, কিন্তু প্রশাংসার যোগ্য আয়াতটিকে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।
২.২ ফেরেশতাদের অভিশাপ সংক্রান্ত হাদিসটির বিশ্লেষণ
এবার ফেরেশতাদের অভিশাপ করা সংক্রান্ত ওপরের হাদিসটার কথায় আসি। এই হাদিসটা বুখারিতেও এসেছে আরেকটু পূর্ণরূপে এভাবে:
যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে (যেমন- সঙ্গম করার জন্য), আর সে প্রত্যাখান করে ও তাকে রাগান্বিত অবস্থায় ঘুমাতে বাধ্য করে, ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত তাকে অভিশাপ করতে থাকে। [বুখারি, ইংরেজি অনুবাদ ভলি- ৪/বুক-৫৪/৪৬০]
একটু ভালো করে লক্ষ্য করুন,
স্ত্রী স্বামীর ডাকে সাড়া না দেওয়ায় স্বামী রাগান্বিত হয়ে কী করছে?
স্ত্রীর ওপর জোর-জবরদস্তি করে নিজের যৌন অধিকার আদায় করে নিচ্ছে?
নাকি ঘুমিয়ে পড়েছে?
এই হাদিসে নারী কর্তৃক স্বামীর ডাকে সাড়া না দেওয়ার কারণে স্ত্রীর সমালোচনা করা হলেও পুরুষকে কিন্তু জোর-জবরদস্তি করে নিজ অধিকার আদায়ে উত্সাহিত করা হচ্ছে না। আবার স্ত্রী যদি অসুস্থতা বা অন্য কোন সঙ্গত ওজরের কারণে যৌনাচার হতে বিরত থাকতে চান, তবে তিনি কিছুতেই এই সমালোচনার যোগ্য হবেন না, কেননা ইসলামের একটি সর্বস্বীকৃত নীতি হচ্ছে:
আল্লাহপাক কারো ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপান না।
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না [২:২৮৬]
আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পন করি না। [২৩:৬২]
২.৩ ইসলাম কি শুধু নারীকেই সতর্ক করেছে?
এটা ঠিক যে ইসলাম স্ত্রীদেরকে স্বামীর যৌন চাহিদার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছে, কিন্তু স্বামীকে নিজ চাহিদা আদায়ের ব্যাপারে উগ্র হবার কোন অনুমতি যেমন দেয়নি তেমনি স্বামীকেও স্ত্রীর যৌন চাহিদার প্রতি যত্মবান হবার নির্দেশ দিয়েছে। ইসলাম স্ত্রীকে বলেছে যদি রান্নরত অবস্থায়ও স্বামী যৌন প্রয়োজনে ডাকে তবে সে যেন সাড়া দেয়, অন্য দিকে পুরুষকে বলেছে সে যেন তার স্ত্রীর সাথে ভালো আচরণ করে, স্ত্রীর কাছে ভালো সাব্যস্ত না হলে সে কিছুতেই পূর্ণ ঈমানদার বা ভালো লোক হতে পারবে না। এই কথা জানার পরও কোন পুরুষ কি স্ত্রীর সুবিধার প্রতি কোনরূপ লক্ষ না রেখেই যখন তখন তাকে যৌন প্রয়োজনে ডাকবে? ইসলাম পুরুষকে এব্যাপারেও সাবধান করে দিয়েছে যে নিজের যৌন চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে স্ত্রীর যৌন চাহিদার কথাকে সে যেন ভুলে না যায়। অনেকে হয়ত ভাবছেন, কী সব কথা বলছি, কোথায় আছে এসব?
চলুন সামনে এগিয়ে দেখি।
পরিচ্ছেদ ৩
৩.১ ইসলামে স্ত্রীর সাথে সদাচরণের গুরুত্ব
নিচের হাদিসগুলো একটু ভালো করে লক্ষ করুন:
হাদিস-১
আবুহুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ঈমানওয়ালাদের মধ্যে পরিপূর্ণ মুমিন সেই ব্যক্তি, যার আচার-আচরণ উত্তম। আর তোমাদের মাঝে তারাই উত্তম যারা আচার-আচরণে তাদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম। [তিরমিযি, হাদিস নং ১০৭৯]
হাদিস-২
আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মুমিন মু’মিনা(স্ত্রী)র প্রতি বিদ্বেষ রাখবে না। যদি তার একটি অভ্যাস অপছন্দনীয় হয় তবে আরেকটি অভ্যাস তো পছন্দনীয় হবে। [মুসলিম হাদিস নং- ১৪৬৯, ২৬৭২]
হাদিস-৩
আয়িশা (রা.) হতে বর্ণিত:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ঈমানওয়ালাদের মধ্যে পরিপূর্ণ মুমিন সেই ব্যক্তি যার আচার-আচরণ উত্তম এবং নিজ পরিবারের জন্য অনুগ্রহশীল। [তিরমিযি, হাদিস নং- ২৫৫৫]
৩.১.১ তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে:
৩.১.১.১ মু’মিন পুরুষ তার মু’মিনা স্ত্রীর প্রতি বিদ্বেষ রাখতে পারবে না।
৩.১.১.২ সদাচারী এবং স্ত্রী-পরিবারের প্রতি কোমল, নম্র, অনুগ্রহশীল হওয়া ঈমানের পূর্ণতার শর্ত।
৩.১.১.৩ কোন পুরুষ যদি উত্তম হতে চায় তাকে অবশ্যই তার স্ত্রীর কাছে উত্তম হতে হবে।
একজন মুসলিমের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় সেটা হচ্ছে তার ঈমান- যে ঈমানের জন্য সে নিজের প্রাণ বিসর্জন করতেও কুন্ঠিত হয় না- সেই ঈমানের পরিপূর্ণতার জন্য স্ত্রীর সাথে সদাচারী, নমনীয় এবং অনুগ্রহশীল হওয়া ছাড়া উপায় নেই। কোন মুসলিম উত্তম বলে বিবেচিত হতেই পারবে না যদি না স্ত্রীর সাথে তার আচার-আচরণ উত্তম হয়।
৩.১.২ এখন প্রশ্ন হলো-
৩.১.২.১ যে স্বামী তার স্ত্রীর যৌন চাহিদার প্রতি কোন লক্ষ্য রাখে না, সে কি তার স্ত্রীর কাছে উত্তম হতে পারে?
৩.১.২.২ অথবা যে স্বামী তার স্ত্রীর সুবিধা অসুবিধার প্রতি লক্ষ্য না রেখে যখন তখন তার স্ত্রীর সাথে যৌনকার্যে লিপ্ত হয় সে কি তার স্ত্রীর কাছে উত্তম হতে পারে?
৩.১.৩ উত্তর হচ্ছে, পারে না। একজন ভালো মুসলিম যেমন স্ত্রীর জৈবিক চাহিদার প্রতি যত্নবান হবে, তেমনি নিজের জৈবিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে এমন অবস্থার সৃষ্টিও করবে না যা তার স্ত্রীর জন্য কষ্টকর হয়। স্ত্রীর প্রতি অসদাচরণ করে কেউ তার স্ত্রীর কাছে ভালো হতে পারে না আর পরিপূর্ণ মু’মিনও হতে পারে না।
৩.২ ইসলামে স্ত্রীর যৌন চাহিদার প্রতি গুরত্ব
ইসলাম নারীর যৌন অধিকারকে শুধু স্বীকৃতিই দেয় না বরং এ ব্যাপারে কতটুকু সচেতন নিচের হাদিসটি তার একটি প্রকৃষ্ট প্রমাণ।
আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত:
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তখন সে যেন পরিপূর্ণভাবে (সহবাস) করে। আর তার যখন চাহিদা পূরণ হয়ে যায় (শুক্রস্খলন হয়) অথচ স্ত্রীর চাহিদা অপূর্ণ থাকে, তখন সে যেন তাড়াহুড়া না করে। [মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং-১০৪৬৮]
কী বলা হচ্ছে এখানে? সহবাসকালে পুরুষ তার নিজের যৌন চাহিদা পুরো হওয়া মাত্রই যেন উঠে না যায়, স্ত্রীর যৌন চাহিদা পূরণ হওয়া পর্যন্ত যেন বিলম্ব করে। এরকম একটা হাদিস চোখ দিয়ে দেখার পরও কারো জন্য এমন দাবি করা কি ঠিক হবে যে ইসলামে নারীদের যৌন চাহিদার কোন স্বীকৃতি নেই!
এসব তো গেল উপদেশ। কিন্তু বাস্তবে কেউ যদি এসব উপদেশ অনুসরণ না করে তাহলে এই ধরণের পুরুষদের সতর্ক করা তার অভিভাবক এবং বন্ধুদের যেমন দায়িত্ব তেমনিস্ত্রীরাও তাদের স্বামিদের বিরূদ্ধে ইসলামি রাষ্ট্রের কাছে নালিশ করার অধিকার রাখে। এধরণের কিছু ঘটনা পরিচ্ছেদ চারে আসছে।
এছাড়া সঙ্গমকালে স্ত্রীকে যৌনভাবে উত্তেজিত না করে সঙ্গম করাকে ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা তাতে স্বামীর চাহিদা পূরণ হলেও স্ত্রীর চাহিদা পূরণ হয় না এবং স্ত্রীর জন্য তা কষ্টকর হয়। পরিচ্ছেদ পাঁচে এই ব্যাপারে আলোকপাত করা হবে।
পরিচ্ছেদ ৪
এই পরিচ্ছেদে আমরা কিছু দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করবো যেখানে স্ত্রীর যৌন অধিকারের প্রতি অবহেলা করার কারণে স্বামীকে সতর্ক করা হয়েছে, এমনকি স্বামীর বিরূদ্ধে ইসলামি শাসকের কাছে নালিশ পর্যন্ত করা হয়েছে।
দৃষ্টান্ত-১
আবু মুসা আশয়ারী (রা.) থেকে বর্ণিত:
হযরত ওসমান ইবনে মাযউন (রা.) এর স্ত্রী মলিন বদন এবং পুরাতন কাপড়ে নবী করিম (সা.) এর বিবিদের কাছে এলেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার এই অবস্থা কেন? কুরাইশদের মাঝে তোমার স্বামী থেকে ধনী কেউ নেই। তিনি বললেন, এতে আমাদের কি হবে? কেননা আমার স্বামীর রাত নামাযে কাটে ও দিন রোযায় কাটে। তারপর নবী করিম (সা.)প্রবেশ করলেন। তখন নবীজীর স্ত্রীগণ বিষয়টি তাকে বললেন। অত:পর হযরত ওসমান ইবনে মাযউন (রা.) এর সাথে সাক্ষাত হলে তিনি তাকে বললেন,-“আমার মধ্যে কি তোমার জন্য কোন আদর্শ নাই?” হযরত ওসমান (রা.) বললেন, কী বলেন ইয়া রাসূলুল্লাহ? আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত! তখন তিনি বললেন-“তবে কি তোমার রাত নামাযে আর দিন রোযায় কাটে না? অথচ তোমার উপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে, আর তোমার উপর তোমার শরীরেও হক রয়েছে, তুমি নামাযও পড়বে, আবার ঘুমাবেও, আর রোযাও রাখবে আবার ভাঙ্গবেও”। তিনি বললেন তারপর আরেকদিন তার স্ত্রী পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিত অবস্থায় এলেন যেন নববধু। [মাজমায়ে জাওয়ায়েদ, হাদিস নং ৭৬১২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-৩১৬]
দৃষ্টান্ত-২:
আবু জুহাইফা (রা.) বলেন:
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালমান (রা.) এবং আবু দারদা (রা.) এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করেছিলেন। সালমান (রা.) আবু দারদা (রা.) এর সাথে সাক্ষাত করতে গেলেন আর উম্মে দারদা (রা.) [আবু দারদা (রা.)এর স্ত্রী]-কে ময়লা কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখতে পেলেন এবং তাকে তার ঐ অবস্থার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, “আপনার ভাই আবু দারদার দুনিয়ার চাহিদা নাই”। এর মধ্যে আবু দারদা এলেন এবং তার (সালমানের) জন্য খাবার তৈরি করলেন আর বললেন, “খাবার গ্রহণ করো কারণ আমি রোযা আছি”। সালমান(রা.) বললেন, “তুমি না খেলে আমি খাচ্ছি না”। কাজেই আবু দারদা(রা.) খেলেন। যখন রাত হলো, আবু দারদা (রা.) উঠে পড়লেন (রাতের নামায পড়ার জন্য)। সালমান (রা.) বললেন, “ঘুমাও”; তিনি ঘুমালেন। পুনরায় আবু দারদা উঠলেন (নামাযের জন্য), আর সালমান (রা.) বললেন, “ঘুমাও”। রাতের শেষ দিকে সালমান (রা.) তাকে বললেন, “এখন ওঠো (নামাযের জন্য)”। কাজেই তারা উভয়ে নামায পড়লেন এবং সালমান (রা.) আবু দারদা (রা.)কে বললেন, “তোমার ওপর তোমার রবের হক রয়েছে; তোমার ওপরে তোমার আত্মার হক রয়েছে, তোমার ওপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে; কাজেই প্রত্যেককে তার প্রাপ্য হক প্রদান করা উচিত”। পরে আবু দারদা (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাত করলেন এবং একথা তার কাছে উল্লেখ করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “সালমান সত্য বলেছে।” [বুখারি, হাদিস নং -১৮৬৭]
দৃষ্টান্ত-৩:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, আমার পিতা একজন কুরাইশি মেয়ের সাথে আমাকে বিয়ে করিয়ে দিলেন। উক্ত মেয়ে আমার ঘরে আসল। আমি নামায রোযা ইত্যাদি এবাদতের প্রতি আমার বিশেষ আসক্তির দরুণ তার প্রতি কোন প্রকার মনোযোগ দিলাম না। একদিন আমার পিতা- আমর ইবনে আস (রা.) তার পুত্রবধুর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার স্বামীকে কেমন পেয়েছ? সে জবাব দিল, খুবই ভালো লোক অথবা বললো খুবই ভালো স্বামী। সে আমার মনের কোন খোঁজ নেয় না এবং আমার বিছানার কাছেও আসে না। এটা শুনে তিনি আমাকে খুবই গালাগাল দিলেন ও কঠোর কথা বললেন এবং বললেন, আমি তোমাকে একজন কুরাইশি উচ্চ বংশীয়া মেয়ে বিয়ে করিয়েছি আর তুমি তাকে এরূপ ঝুলিয়ে রাখলে? তিনি নবী করিম (সা.) এর কাছে গিয়ে আমার বিরূদ্ধে নালিশ করলেন। তিনি আমাকে ডাকালেন। আমি উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি দিনভর রোযা রাখ? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি রাতভর নামায পড়? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি বললেন, কিন্তু আমি রোযা রাখি ও রোযা ছাড়ি, নামায পড়ি ও ঘুমাই, স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করি। যে ব্যক্তি আমার সুন্নতের প্রতি আগ্রহ রাখে না সে আমার দলভুক্ত না। [মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং- ৬৪৪১]
দৃষ্টান্ত-৪:
কাতাদাহ (রহ.) বলেন, একজন মহিলা উমর (রা.)-এর কাছে এসে বললেন, আমার স্বামী রাতভর নামায পড়েন এবং দিনভর রোযা রাখেন। তিনি বললেন, তবে কি তুমি বলতে চাও যে, আমি তাকে রাতে নামায পড়তে ও দিনে রোযা রাখতে নিষেধ করি? মহিলাটি চলে গেলেন। তারপর আবার এসে পূর্বের ন্যায় বললেন। তিনিও পূর্বের মতো উত্তর দিলেন। কা’ব বিন সূর (রহ.) বললেন, আমিরুল মু’মিনিন, তার হক রয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কীরূপ হক? কা’ব (রহ.) বললেন, কা’ব (রহ.) বললেন, আল্লাহ তাআলা তার জন্য চার বিবাহ হালাল করেছেন। সুতরাং তাকে চারজনের একজন হিসেব করে প্রত্যেক চার রাতের এক রাত তার জন্য নির্ধারিত করে দিন। আর প্রত্যেক চার দিনের একদিন তাকে দান করুন। উমর(রা.) তার স্বামীকে ডেকে বলে দিলেন যে, প্রতি চার রাতের একরাত তার কাছে যাপন করবে এবং প্রতি চারদিনের একদিন রোযা পরিত্যাগ করবে। [মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং: ১২৫৮৮]
পরিচ্ছেদ ৫
ইসলামে শৃঙ্গারের গুরুত্ব
ইসলাম সঙ্গমের পূর্বে স্ত্রীর সাথে অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি বা শৃঙ্গার করার প্রতি যথেষ্ঠ গুরুত্ব আরোপ করে। স্ত্রীর যৌনাঙ্গকে সঙ্গমের জন্য প্রস্তুত না করেই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়াকে- যা স্ত্রীর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর- ইসলামে ‘পশুর ন্যায় সঙ্গম করা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং সঙ্গমের আগে শৃঙ্গার এবং আবেগপূর্ণ চুম্বন করাকে সুন্নাতে মু্ওয়াক্কাদাহ বলা হয়েছে। এই পরিচ্ছদে জনৈক মহিলা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে দারুল-ইফতা, Leicester, UK থেকে প্রদানকৃত একটি ফতোয়ার অংশ বিশেষ উদ্ধৃত করবো যাতে ইসলামে শৃঙ্গারের গুরুত্ব সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে:
ইমাম দাইলামি(রহ.) আনাস বিন মালিক(রা.) এর বরাতে একটি হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন যে রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, “কেউ যেন পশুর মতো তার স্ত্রী হতে নিজের যৌন চাহিদাকে পূরণ না করে, বরং তাদের মধ্যে চুম্বন এবং কথাবার্তার দ্বারা শৃঙ্গার হওয়া উচিত।” (দাইলামি’র মুসনাদ আল-ফিরদাউস, ২/৫৫)
ইমাম ইবনুল কাউয়্যিম(রহ.) তাঁর বিখ্যাত ‘তিব্বে নববী’তে উল্লেখ করেছেন যে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শৃঙ্গার করার আগে সঙ্গম করতে নিষেধ করেছেন।(দেখুন: ‘তিব্বে নববী’, ১৮৩, জাবির বিন আবদুল্লাহ হতে)
আল্লামা আল-মুনাবি(রহ.) বলেন:
“সঙ্গমের আগে শৃঙ্গার এবং আবেগপূর্ণ চুম্বন করা সুন্নাতে মু্ওয়াক্কাদাহ এবং এর অন্যথা করা মাকরূহ।” (ফাইজ আল-ক্বাদির, ৫/১১৫, দ্রষ্টব্য: হাদিস নং ৬৫৩৬) [সূত্র]
শেষের কথা:
শুরুতেই বলেছিলাম, আমার এই লেখার উদ্দেশ্য শুধু এতটুকু দেখানো ইসলামে নারীদের যৌন চাহিদার কোন স্বীকৃতি আছে কি-না। কাজেই ইচ্ছা করেই কুরআন এবং হাদিসের উল্লেখযোগ্য অনেক কিছুই এখানে যোগ করি নাই। কিন্তু যতটুকু উল্লেখ করেছি তা জানবার পরও ‘ইসলামে নারীদের যৌন চাহিদার কোন মূল্য নেই’, ‘ইসলামে পুরুষকে স্ত্রীর ওপর যথেচ্ছ যৌনাচারের ফ্রি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে’, ‘ইসলামে যৌন অধিকার একতরফাভাবে পুরুষকে দেওয়া হয়েছে’ এই জাতীয় অভিযোগ সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন কেউ আশা করি করবেন না।
-সমাপ্ত—
- দাসপ্রথা ও ইসলাম
- ইসলামে ক্রীতদাসি ও যুদ্ধবন্দিনীর সাথে যৌন সম্পর্কের বৈধতার স্বরূপ
- নাস্তিকদের প্রিয় সাইট SuraLikeIt.com এবং কিছু কথা
- উরাইনা গোত্রের আট ব্যক্তির নির্মম পরিণতির নেপথ্যে
- সূরা বাকারার কিসাস সংক্রান্ত আয়াত ২:১৭৮ এর ব্যাপারে একটি বিভ্রান্তির নিরসন
- সাত হরফ, সাত কিরাআত এবং কুরআনের তথাকথিত একাধিক সংস্করণ(!)
- নবীজি(সা.) কি এক রাতে নয় স্ত্রী-গমনে অভ্যস্ত ছিলেন?
- পরস্পরবিরোধিতার অভিযোগ-১: আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি ছয় দিনে না আট দিনে?
- হেরাক্লিয়াসের ইসলাম অনুসন্ধান
সততার কাঠগড়ায় আকাশ মালিক: যে সত্য বলা হয়নি
হাদিসে অবিশ্বাসের অযৌক্তিকতা
- কুরআন-অনলিদের কাছে জিজ্ঞাসা
- আবু হুরাইরা(রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা এত অধিক কেন!
- কুরআনে প্রাপ্ত সুন্নাহ-র প্রাথমিক পরিচয়: সুন্নাহ একটি অবতীর্ণ বিষয়
সাধারণ লেখাসমূহ:

ভানু ভাস্কর
নভেম্বর ২৯, ২০১১ at ১২:৩২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এভাবেই কাঠমোল্লা আর বর্বর আর সুযোগসন্ধানীদের চোখ খুলে দেবার চেষ্টা করতে থাকুন। ইসলামকে না জেনে (বা আংশিক জেনে), না বুঝে কোন অজ্ঞতাপ্রসূত সিদ্ধান্তে আসার যে বর্বরতা, তার বিরুদ্ধে আপনার কলম (কি বোর্ড) আরো শাণিত হোক।
সাদাত
নভেম্বর ২৯, ২০১১ at ৫:১৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শুভকামনার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
সাদাত
জুলাই ২৮, ২০১২ at ১১:৪৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
দাদা সাগর,
কমেন্ট কোথায় করতে হয়, সেটা তো আগে শিখতে হবে, নাকি!
কমেন্ট আর রিপ্লাইয়ের পার্থক্য বোঝেন তো?
দয়া করে অন্যদের কথোপকথনে অপ্রাসঙ্গিকভাবে কমেন্ট না করে, ভিন্নভাবে জায়গা মতো কমেন্ট করেন। আপনার এই আগাছা কমেন্টটা কেটে দিতে বাধ্য হলুম দাদা, দরকার মনে করলে আপনার লীলালেখা সংক্রান্ত কমেন্টটা নিচে আবার করুন।
Jahangir Alam
আগস্ট ১১, ২০১৩ at ৬:০৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Well done. Perfectly explain as require to learn.
একজন পাঠক
নভেম্বর ২৯, ২০১১ at ২:০৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যারা জেগে জেগে ঘুমায় তাদের কে জাগাবে?
সাদাত
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৩:১২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যারা আসলেই ঘুমিয়ে আছে তারা জাগলেই হয়।
সরোয়ার
নভেম্বর ২৯, ২০১১ at ২:১১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইসলাম যে একটি সম্পূর্ন জীবন বিধান তা এ লেখা পড়েই বুঝা যায়। জীবনের কোন অংশই বাদ যায়নি। এ জাতীয় গোপন বিষয়ে বিস্তারিত লেখার জন্য লেখককে অশেষ ধন্যবাদ।
সাদাত
নভেম্বর ২৯, ২০১১ at ৫:১৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
সত্তুক
নভেম্বর ২৯, ২০১১ at ৩:০০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইসলাম তো আমাদের শিক্ষা দেয় যে, স্বামী, স্ত্রীর আর স্ত্রী স্বামীর আচ্ছাদন বা পিরানের মত, দুজন দুজনকে আচ্ছাদিত করে রাখে, এতে আছে দুষ্টুমি, মান অভিমান, আদর সোহাগ, মমতা, মহানুভবতা, সেক্রিফাইস, ইসলামের আদর্শর দিকে তাকালে জানা যায়, স্বামী আর স্ত্রীর নির্মল পবিত্র সম্পর্কর এক কোথাও না দেখা মহানুভবতা।
বাস্তব জীবন থেকে বলছি, এক জন স্ত্রীর কাছে, এক জন স্বামীর সম্পূর্ণ ভাল হয়ে ওঠা আসাদ্ধ্যের সামিল প্রায়, কিন্তু ইসলাম স্বামীদের জন্য ক্রাইতেরিয়াই ফিট করেছে যে, স্ত্রীর চোখে তাকে ভাল হতে হবে, এ যে কত বড় পরীক্ষা!!!!!!!!!!!!!!!! যদি সমালোচনা কারিরা বুঝতো।।
তাদের তো অনেকেরই এ কুরআন মানার হাদিস জানার তাগিত নেই, নিজ ধর্ম ও মানার বাধ্যবাদকতা নেই,তারা যাচ্ছে তাই করেন, মনের সুখে পরকীয়া করেন, বা না-না জনে করেন না-না কীর্তি। আমরা তো ঘটনার ফেরে এদের মাঝেই চলা ফেরা করি, আমরা জানি। তারা আসলে যথেচ্ছ করে করেও কোন নারির সাথে সুখি হতে পারেন না, তাই যখন তাদের চোখে অবাক করা ইসলামিক দম্পতি দেখেন, তাদের নির্মলতা তাদের মুগ্ধ করে, কিন্তু যখন জানতে পারেন, এ দাম্পত্য শুধু চাইলেই আসে না, যাপন করতে হয় এমন এক জীবন যা ভোগ বাদীদের জন্য ব্যপক কষ্টকর ঠেকে, শর্টকাট প্রিয় এই সব ভোগ বাদী আস্তিক নাস্তিক উভয়ের রোষের ওপর পরতে হয় তখন মুসলমানের নির্মল দাম্পত্য কে।
নারীদের ক্ষেত্রেও একি রকম কথা প্রযোজ্য, আমি এমন অনেকের কথা জানি, যারা নিজেরা হাজার জনের সাথি হয়েও নিজের সঠিক সাথি পায়নি, তারা যখন মুসলিম স্ত্রীদের সুখি দেখে, প্রথমে এর কারন অনুসন্ধান করে, পরে যখন বুঝে, না সে এত সেক্রিফাইস করতে পারবে না, তখন শর্টকাট নিতে চায়, পরুষ মুসলমান টিকে পটাতে চায়, যখন তাতেও ব্যর্থ হয়, তাদের কাছে বিশদ্গার করা ছারা কি বা করার থাকে, আল্লাহ্ এদের হেদায়াত করুন।
খুব সুন্দর পোস্ট ভাইয়া।
সাদাত
নভেম্বর ২৯, ২০১১ at ৪:৩৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ঠিক বলেছেন
সরোয়ার
নভেম্বর ২৯, ২০১১ at ৩:৪৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তথাকথিত ভোগবাদী সমাজের নারী অধিকারের ধব্জাধারীরা নারী অধিকারের নামে নারীকে অবমূল্যয়ন করতে করতে সেক্স অবজেক্ট বানিয়েছে। ছোট থেকেই সেভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। নারীরা সমাজের চাপে বাহ্যিক সৌন্দর্যকে সফলতার চাবিকাঠি হিসেবে গন্য করতে বাধ্য হচ্ছে। বিউটি ইন্ড্রাস্ট্রির নামের নারীকে ব্যবহার করে প্রতিবছর ৩৩০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। ভোগবাদী সমাজের 'নারী অধিকার' নিয়ে সোচ্চারকারী পুরুষরা এখন আর নারী বাহ্যিক সৌন্দর্যে তৃপ্ত নয়। নারীদেরকে বাধ্য হয়েই তাদের অত্যন্ত গোপন অংগের সৌন্দর্য বর্ধণের জন্যও ভাবতে হচ্ছে! গার্ডিয়ান পত্রিকার প্রতিবেদন-
শুধু তাই নয়, তারা এখন নারীদের মুখমন্ডলে বির্য নিক্ষেপ করে বিকৃত আনন্দ লাভ করে! গার্ডিয়ান পত্রিকা অনুসারে, এক গবেষণা দেখা যায়, ৮০% পুরুষ নারী মুখমন্ডলে বির্য নিক্ষেপ করে যৌন সুখ ভোগ করে। এমনকি জীবনের প্রথম ডেটিং-এও নারীদের মুখমন্ডলে বির্য নিক্ষেপ করতেও পিছপা হয় না।
অথচ এরাই নাকি মুসলিম বিশ্বে নারী অধিকার/মর্যাদা প্রতিষ্ঠা নিয়ে বেশী চিন্তিত!
সাদাত
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৩:১৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অবাক করা কিছু তথ্য দিলেন। অনেক ধন্যবাদ।
Satkahon
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৯:২৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
unbelievable!!!! but it's the reality…
(Sorry for writing in English, But I don't have Bangla font)
রবিন
জুলাই ১, ২০১৪ at ২:৪৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বাহ খুব ভাল এবং গুরুত্ব দিলাম এ কথাটা তুলে এনেছেন।।ধন্যবাদ
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
নভেম্বর ২৯, ২০১১ at ৬:৪০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এক কথায় দারুন লেখা বলবো। ইসলামী চিন্তাবিদগন বিশেষ করে পাক-ভারত উপমহাদেশের আলেমগন এই বিষয়টি নিয়ে আলাপে তেমন স্বস্তি বোধ করেন না।
আপনি একটা অত্যান্ত প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে একটা চমৎকার উপস্থাপনা দিলেন -- আল্লাহ আপনাতে উপযুক্ত পুরষ্কার দিন।
সাদাত
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ২:২৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসলে আলেমরা যেসব জায়গায় বয়ান করেন সেখানে অনেক শিশুও থাকে ফলে ইচ্ছা করলেও সবকিছু খোলাখুলি বলা যায় না। তবে আলেমদের সাথে সম্পর্ক রাখলে এবং এমন মজলিস যেখানে শুধু বড়রা থাকে এসব কথা জানা যায়। আমি কিন্তু এসব ধারণা আলেমদের থেকেই পেয়েছি এবং আমার এই লেখাতেও একজন আলেম হতে সহায়তা গ্রহণ করেছি। তবে এটাও ঠিক আমাদের বেশির ভাগ মসজিদে ইসলামে গুরত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনার চাইতে গল্পকিচ্ছার আলোচনা বেশি হয়। আর সুরেলা কন্ঠে গল্প-কিচ্ছা বেশি করে বলতে না পারলে কমিটি ঐ ইমাম বেশিদিন রাখে না।
শামস
নভেম্বর ২৯, ২০১১ at ৮:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
খুব কঠিন একটি জিনিষকে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। কঠিন একারণে যে, যৌনতা নিয়ে কথা বলাটা আমাদের সমাজে স্বাভাবিক বলে ধরা হয় না, তাও আবার ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। আপনি সে সাহসিকতা দেখিয়েছেন। ইসলাম বিদ্বেষীরা এরপরও হয়ত এসবে তাদের বিদ্বেষ খুজে পাবেই, কিন্তু সত্যিকারের মুক্তচিন্তার কেউ এ লেখা পড়ার পর যৌনতা নিয়ে ইসলামের নেগেটিভ ধারণা পোষণকারীদের সমর্থন করতে দ্বিতীয়বার ভাববে।
আপনার মঙ্গল কামনায়।
সাদাত
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ২:৩১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সেটা হলেই আমার লেখা সার্থক হবে।
ফোরকান
নভেম্বর ২৯, ২০১১ at ৯:৫৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সাদাত চমৎকার একটি পোষ্ট। খুব সেনসিটিভ একটি বিষয় নিয়ে দারুণ পর্যবেক্ষন বলবো। আমাদের সমাজের আলেমদের আল্লাহ আরো জ্ঞান দিক যাতে তারা সাদাত ভাইয়ের মত অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল বিষয়গুলো এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। আর এর মাধ্যমে ইসলাম যে সর্ব কালের এবং চূড়ান্ত জীবন বিধান তা ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বুঝতে পারেন।
অশেষ ধন্যবাদ।
সাদাত
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৩:২১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আলেমদের সাথে সম্পর্ক থাকার কারণে উনারা যে আসলেই কত বেশি জানেন সে সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। তবে সাধারণ শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিতদের সাথে আমাদের আলেম সমাজের একটা গ্যাপ আছে। ফলে আলেমরা যেভাবে বুঝান সেটা সাধারণ শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিতদের অনেকক্ষেত্রে পছন্দ হয় না। এই গ্যাপটা দূর করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে আর সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত কিছু মানুষেকেই এগিয়ে আসতে হবে যারা আলেমদের জ্ঞানকে সাধারণ শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিতের মনের মতো করে তাদের সামনে পেশ করতে পারেন।
ফোরকান
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৪:৪৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সাদাতঃ হুম, বুঝিলাম।
ফোরকান
ডিসেম্বর ১, ২০১১ at ২:২৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সাদাত ভাইঃ
এই কাজটি করতে গেলে অনেক সময় আগে বাধাটা আলেমদের কাছ থেকেই আসে। যেমনঃ আমি জাকির নায়েকের সমস্ত লেকচার দেখেছি ও বই পড়েছি। তার কোন লেকচারে আমি ইসলামের বিপক্ষে কোন ধরণের মন্তব্য শুনি নি। কিন্তু আমি দু'জন বড় আলেমকে চিনি যারা ধর্ম বিষয়ে যথেষ্ঠ জ্ঞান রাখেন এতে কোনই সন্দেহ নাই। কিন্তু জাকির নায়েকের নাম তুলতেই তাদের মুখ অগ্নিকুণ্ড ধারণ করে। একজনতো আমায় বলেই ফেললেন যে, জাকির নায়েক আমার চোখের বিষ।
সাদাত
ডিসেম্বর ১, ২০১১ at ২:৩০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমাদের অন্তর্কলহ কীভাবে কমানো যায় সেটার উপায়ও বের করতে হবে। আমাদের উচিত একে অপরকে জানা এবং বুঝা।আর জাকির নায়েক এবং চিন্তাধারা সম্পর্কে আমার খুব বেশি ধারণা নাই। (অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই?) তাই এব্যাপারে কিছু বলতে অপারগ।
মহিউদ্দিন
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ১২:১০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই বিষয়টি নিয়ে আলাপে অনেকেই তেমন স্বস্তি বোধ করেন না তবু আপনি সাহস করে এবং অনেক পরিশ্রম করে এ বিষয়ে আলাকপাত করায় আপনাকে ধন্যবাদ।
সাদাত
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ২:৩৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ।
আবদুস সামাদ
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সাদাত ভাই, ২/২২৩ আয়াতটির ব্যাপারে আমার নিজস্য কিছু কথা বলতে চাই।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন যার যুগ উপযোগী আবেদন রয়েছে। এজন্যই কোরআন সর্ব যুগপোযোগী। অনেক শব্দ আছে যার অতীত মুফাস্সীর গন যা মানে করে গেছেন,বর্তমানে তা অচল। যেমন;-৭৪/৩০ এখানে দোজখের ১৯ জন ফেরেশ্তার কথা আগের অনুবাদে পাবেন, কিন্তু এখন এই উনিশ আল্লাহর সিক্রেট কোড বলে বলা হচ্ছে।সুরা নিসার ৩৪ আয়াত অবাধ্য স্ত্রী দের মারতে বলা হয়েছে। এটা নিয়ে সদালাপে অনেক বিতর্ক হয়েছে। আপনাদের মনে আছে নিশ্চয়। এখানে 'জরব' শব্দটির অনেক গুলি মানে পাওয়া যায়। যার একটা 'অনুরূপ করা' এই মানেটা এখানে ফিট হবার সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায়না। তার আগে শয্যা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। হয়তোবা মারের বদলে ঐ কাজটি রিপিট করার ইঙ্গীতও উড়িয়ে দেওয়া যায়না। আবার হয়তো এমন সময় ছিল যখন মার ছাড়া উপায় ছিলনা। বর্তমানে নারীগন অনেক সচেতন মারধোর কেমন হয়ে যায়না? এখন আসল কথায় আসি,২/২২৩আয়াতটি হাদিশ দ্বারা প্রমানিত। তখন এটাই সমস্যা ছিল তাই ঐ মানে হয়েছে। ' হারসাকুম' মানে তোমাদের শষ্য ক্ষেত্র। মানেটা যদি শুধু ঐ ক্ষেত্রের জন্য হত তবে আল্লাহ ওর চাইতে মোক্ষম শব্দও দিতে পারতেন। নাদিয়ে শষ্য ক্ষেত্রই বললেন। এখানে এমন মানেও হতে পারে;-স্ত্রীগন তোমাদের শষ্য ক্ষেত্র,শষ্য নিয়ে এস যেমন খুশী। আমার এই কথাটার মধ্যে কিন্তু জন্ম বৃদ্ধি করণ বা জন্ম নিরোধ করণের সম্ভাবনা রয়েছে। আর আমার বিশ্বাস যারা জন্ম নিয়ন্ত্রন জায়েজ ফতোয়া দিয়েছেন,তারা এখান থেকেই দলিল নিয়েছেন। কেউ হয়ত বলবেন, 'হারসাকুম' এর আগে'ফা'তু' আছে যার মানে এস। উৎপাদন নয়। আমি বলব, পানি আন শব্দের আরবী করলে হয়' ই'তে বিল মায়ে'=এস পানির সাথে। আন বা Bringএর সরাসরি আরবী নাই।ধন্যবাদ সকলকে।
সাদাত
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৩:০০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আব্দুস সামাদ ভাই,
এক.
আপনার কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ। তবে আমি আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করি। আমি নীতিগতভাবে যতদূর সম্ভব প্রাথমিক যুগের ব্যাখ্যার সাথে থাকার পক্ষপাতি। কুরআনের আয়াতগুলোকে আমরা মোটা দাগে দুইভাবে বিভক্ত করতে পারি:
১. ঈমান আমল সংক্রান্ত; আকাঈদ, হুকুম/আহকাম, আদেশ/নিষেধ জাতীয় আয়াত
২. আল্লাহর বিভিন্ন নিদর্শন সংক্রান্ত আয়াত
কোন একটি বিষয় সংকান্ত প্রথমোক্ত আয়াতগুলোর সিদ্ধান্ত যুগ/কালের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে না। তবে এই সকল আয়াত হতে নতুন যুগে বা কালে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান আহরণ করা যেতে পারে, যেটা অতীতে হয়তো কখনোই প্রয়েজন হয় নাই।
নিদর্শন সংক্রান্ত আয়াতের প্রথম যুগের ব্যাখ্যা কখনোই ভুল হবে না, তবে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উর্ত্কষের কারণে আমরা আরো পরিবর্ধিত ব্যাখ্যা পেতে পারি।
দুই.
১৯ আল্লাহর সিক্রেট কোড এমন কোন কথা কুরআন-হাদিসে কোথাও বলা নাই। আর রাশাদ খলিফা ১৯ এর কেরামতি দেখাতে গিয়ে কুরআনের ২টি আয়াতই গায়েব করে দিয়েছে, শেষমেশ ১৯ দিয়েই নিজেকে রাসূল দাবি করেছে।
সরোয়ার
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৩:৩৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
রাশাদ খলিফার কেরামতি জানা ছিল না। ধন্যবাদ।
আবদুস সামাদ
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৭:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
"কোন একটি বিষয় সংকান্ত প্রথমোক্ত আয়াতগুলোর সিদ্ধান্ত যুগ/কালের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে না। তবে এই সকল আয়াত হতে নতুন যুগে বা কালে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান আহরণ করা যেতে পারে, যেটা অতীতে হয়তো কখনোই প্রয়েজন হয় নাই।"
সাদাত ভাই, উপরের কথাটা আপনার। আমার মত একটা সুড়ঙ্গ(অতিশয় ছোট) কি রেখে গেলেন না? অর্থাৎ সম্ভাবনা থেকেই যায়। এ কথাও ঠিক-শরিয়তের হুকুম আহকামের ব্যাপারে, আমার কথা. আমার মত; এসব অচল। সরাসরি রসুলের পায়ে গিয়ে পৌঁছতে হবে।
রাশাদ খলিফার কথা বাদ দিলেও ১৯ এর একটা মুখ্য ভূমিকা কোরআনে আছে। যার জন্য আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।
এমন কিছু কোরআনে অবশ্যই আছে, যার জন্য চ্যালেঞ্জ আছে।" এমন একটা আয়াত আনো" নিশ্চিত যে কোন আয়াতই এর মধ্য সংযোজন বা বিয়োজন সম্ভব নয়।ধন্যবাদ।
সাদাত
ডিসেম্বর ১, ২০১১ at ২:২৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সুড়ঙ্গটা কোথায় পেলেন বুঝলাম না!
এইটা লাখ কথার এক কথা। আপনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, আমার ক্ষেত্রেও।
এম ইউ আমান
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অনেকটা সোসাল ট্যাবু একটা বিষয়ে গোছালো ও তথ্য-উপাত্ত সমৃদ্ধ একটি লেখা। বাংলাদেশের বেশীর ভাগ মুসলিমেরা এ ব্যাপারে তথ্য নেয়, মকসুদুল মোমেনিন নামক পুস্তক থেকে যেখানে তথ্য ও বিশ্লেষন এট বেস্ট দুর্বল ইসলামিক দলিলের উপর বেজ করে করা হয়েছে। তার পাশে এই লেখাটি আলো ছড়াবে। এই লেখার সবচেয়ে স্ট্রং পয়েন্ট হল, নো হাস হাস…ব্রিং ইট অন…উই ফেস ইট এন্ড এক্সপ্লেইন ইট ডাইরেক্ট, ইন নো আনছারটেইন টার্মস। তবে লেখাটিতে কোরাণ অপেক্ষা হাদিসের সূত্র বেশী ব্যবহার করা হয়েছে অথচ পুরুষের উপর নারীর অধিকারের জেনারেল গাইড লাইন হিসাবে রাসুলের এক্সপ্লিসিট নির্দেশটিকে (বিদায় হজ্জ্বের সময়) উহ্য রাখা হয়েছে। এই বিষয়ে বিভিন্ন ডাইমেনশনের উপর মন্তব্যকারীদের সম্পুরক আলোচনা ও দু’একটি ব্যপারে অল্টারনেটিভ ব্যাখা মিলে একটি ভাল কাজ হয়েছে।
সাদাত
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৩:০৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমান ভাই,
ইচ্ছা করেই অনেক কিছু যোগ করি নাই, 'শেষের কথা'য় বলেছি। যেসব কথা সচরাচর বলা হয়- যেমন কুরআনে পুরুষ আর নারীকে একে অন্যের পরিচ্ছদ বলা হয়েছে বা বিদায় হজ্জ্বের নারী অধিকার সংক্রান্ত নির্দেশ -- এড়িয়ে গেছি, আর অপেক্ষাকৃত নতুন বিষয় সামনে আনতে চেয়েছি।
মোঃ মাছুম বিল্লাহ
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৩:৩৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইসলাম তো আমাদের শিক্ষা দেয় যে, স্বামী,স্ত্রীর আর স্ত্রী স্বামীরআচ্ছাদন বা পিরানের মত, দুজন দুজনকে আচ্ছাদিত করে রাখে, এতে আছে দুষ্টুমি, মান অভিমান, আদর সোহাগ, মমতা, মহানুভবতা, সেক্রিফাইস, ইসলামের আদর্শরদিকে তাকালে জানা যায়, স্বামী আর স্ত্রীর নির্মলপবিত্র সম্পর্কর এক কোথাও না দেখা মহানুভবতা।
বাস্তব জীবন থেকে বলছি, এক জন স্ত্রীর কাছে, এক জন স্বামীর সম্পূর্ণ ভাল হয়ে ওঠা আসাদ্ধ্যের সামিল প্রায়, কিন্তু ইসলাম স্বামীদের জন্যক্রাইতেরিয়াই ফিট করেছে যে, স্ত্রীর চোখে তাকে ভাল হতে হবে, এ যে কত বড় পরীক্ষা!!!!!!!!!!!!!!!! যদি সমালোচনা কারিরা বুঝতো।।
তাদের তো অনেকেরই এ কুরআন মানার হাদিস জানার তাগিত নেই, নিজ ধর্ম ও মানার বাধ্যবাদকতা নেই,তারা যাচ্ছে তাই করেন, মনের সুখে পরকীয়া করেন, বা না-না জনে করেন না-না কীর্তি। আমরা তো ঘটনার ফেরে এদের মাঝেই চলা ফেরা করি, আমরা জানি। তারা আসলে যথেচ্ছ করে করেও কোন নারির সাথে সুখি হতে পারেন না, তাই যখন তাদের চোখে অবাক করা ইসলামিক দম্পতিদেখেন, তাদের নির্মলতা তাদেরমুগ্ধ করে, কিন্তু যখন জানতে পারেন, এ দাম্পত্য শুধু চাইলেই আসে না, যাপন করতে হয় এমন এক জীবন যা ভোগ বাদীদের জন্য ব্যপক কষ্টকর ঠেকে, শর্টকাট প্রিয়এই সব ভোগ বাদী আস্তিক নাস্তিকউভয়ের রোষের ওপর পরতে হয় তখন মুসলমানের নির্মল দাম্পত্য কে।
নারীদের ক্ষেত্রেও একি রকম কথা প্রযোজ্য, আমি এমন অনেকের কথা জানি, যারা নিজেরা হাজার জনের সাথি হয়েও নিজের সঠিক সাথি পায়নি, তারা যখন মুসলিম স্ত্রীদের সুখিদেখে, প্রথমে এর কারন অনুসন্ধানকরে, পরে যখন বুঝে, না সে এত সেক্রিফাইস করতে পারবে না, তখন শর্টকাট নিতে চায়, পরুষ মুসলমান টিকে পটাতে চায়, যখন তাতেও ব্যর্থ হয়, তাদের কাছে বিশদ্গার করা ছারা কি বা করার থাকে, আল্লাহ্ এদের হেদায়াত করুন।
খুব সুন্দর পোস্ট ভাইয়া।
ঠিক বলেছেন
সাদাত
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৪:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ কষ্ট করে মোবাইল থেকে মন্তব্য করার জন্য।
মোঃ মাছুম বিল্লাহ
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৩:৪৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Register korle ki lekhata priyote rakha Jabe?
Ami register korte parsina mobile theke aktu sahajjo kora jabe?
Name-মোঃ মাছুম বিল্লাহ
id-mdmasumbillah
email-mdmasumbillah
সাদাত
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৪:৫৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এখানে প্রিয়তে রাখার কোন অপশন এখনো নাই।
আপনি যদি মোবাইল থেকেই ব্লগিং করতে চান, তবে রেজি: করার দরকার নাই। তবে মন্তব্য প্রকাশ পেতে একটু সময় লাগবে। কারণ লগ-ইন না করে মন্তব্য করলে সেটা মডারেশন পার হয়ে প্রকাশ হয়।
Satkahon
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ৯:০৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Agree.
এন্টাইভণ্ড
নভেম্বর ৩০, ২০১১ at ১১:০৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
খুব দরকারী একটা পোস্ট। ভালো লাগলো সাদাতভাই।
সাদাত
ডিসেম্বর ১, ২০১১ at ১:৩১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
মোঃ মাছুম বিল্লাহ
ডিসেম্বর ১, ২০১১ at ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই koran sarif bistarito(no sort) tafsir dite paren বাংলা
যেমন
http://www.quranandtafsir.com/
http://www.islam.net.bd/component/option,com_tov/Itemid,54/
সাদাত
ডিসেম্বর ১, ২০১১ at ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এটা দেখতে পারেন:
http://www.banglakitab.com/quran.htm
মোঃ মাছুম বিল্লাহ
ডিসেম্বর ১, ২০১১ at ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Mariful quran agulo pdf file.ami bolsi online pora jabe মোবাইল ফোন theke.thx
সাদাত
ডিসেম্বর ১, ২০১১ at ২:০৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এমন কিছু আমার জানা নাই, ভাই।
সাদাত
ডিসেম্বর ১, ২০১১ at ২:১৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এডমিন সাহেব,আপনি কি আমার লেখার ওপর কাঁচি চালাচ্ছেন?পরিচ্ছেদগুলো গেল কৈ?পরিচ্ছেদ দিয়ে আলাদা না করলে পাঠকের জন্য পড়তে অসুবিধা হবে। এত বড় লেখা পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। পরিচ্ছেদ বাদ দিলে হঠাৎ করে ২.১ দেখে যে কারো মনে প্রশ্ন আসবে ১ কোথায়?লেখাটাতে ইচ্ছে করেই পরিচ্ছেদ দিয়েছি, যাতে লেখাটাকে বুকলেটের মতো দেখায়।
সদালাপ কর্তৃপক্ষ
ডিসেম্বর ১, ২০১১ at ২:২৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ঠিক কাঁচি চালানো নয়। স্পেসিং-ফরম্যাট এগুলি ঠিক করছিলাম। এনিওয়ে ক্ষ্যান্ত দিলাম। আপনার জিনিস, আপনার হাতে দিয়ে দিলাম।
সাদাত
ডিসেম্বর ১, ২০১১ at ২:৩১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
না, ভালো হয়েছে। আর বাগানের মালী একটু তো কাঁচি চালাবেই।
শাহবাজ নজরুল
ডিসেম্বর ২, ২০১১ at ১০:২৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইসলাম বিদ্বেষীদের কাছ থেকে শস্যক্ষেত এর কথা/উপমা শুনতে শুনতে কান পচে গেছে অথচ তাফসীরে গেলেই এর ব্যাখ্যা দেয়া আছে। এই দুর্মুখ ইসলাম বিদ্বেষীরা কিন্তু তাফসীরে অহরহ যায়, আর সেখান থেকে দুর্বল তাফসির গুলো তুলে এনে তাদের মারনাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। অথচ দেখেন এই একই ভণ্ডরা কিন্তু তাফসীরে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেয়া আছে তার ধরে কাছে না গিয়ে দিনরাত শস্যক্ষেত শস্যক্ষেত করে বেড়াচ্ছে। এই দুর্মুখ ইসলাম বিদ্বেষীরা কেমন ভন্ড হতে পারে ভেবে দেখুন। আপনার ক্ষুরধার লেখনি অব্যহত থাকুক এসব ভন্ডদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে থাকেন।
পোস্ট স্টিকি করা হোক।
সাদাত
ডিসেম্বর ৩, ২০১১ at ৭:০০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিদ্বেষীরা তো বিদ্বেষমূলক কথাই ছড়াবে, তবে যারা কেবলই সমালোচক এবং আসলেই মুক্তচিন্তার মানুষ তারা আশা করি এর পর থেকে এ বিষয়ে বিষোদগার করার আগে আরেকবার ভেবে দেখবেন।
darsh0nik
ডিসেম্বর ৩, ২০১১ at ৭:৪৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
খুবি ভালো লাগল। সুন্দর একটি পোষ্ট।
সাদাত
ডিসেম্বর ৪, ২০১১ at ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
Miad
ডিসেম্বর ৩, ২০১১ at ৭:৫৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অদ্ভুত সুন্দর বিশ্লেষণ। ইসলাম বিদ্বেষীরা উলটা পালটা যুক্তি ছাড়া কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। লেখক আপনাকে আমার মন থেকে সম্মান আপনি লিখা চালিয়ে যাবেন যে যাই বলুক।
সাদাত
ডিসেম্বর ৪, ২০১১ at ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইনশাআল্লাহ লেখা চলবে..
ধন্যবাদ।
আবদুল্লাহ্ আল কাফী
ডিসেম্বর ৪, ২০১১ at ১২:০৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসলে ভোগবাদী সমাজ তো যথেচ্ছভাবে আচরণ করতে চায়, তাই বাজে কথা বলতে তাদের গায়ে বাধে না। ইবলিস তাদের বিবেক নিয়ে খেলা করে এবং তাদের নিয়ে উপহাস করে। কিন্তু তারা বুঝতে পারে না।তারা ওপেন সেক্স করবে বাধা নেই, নারীদের উলঙ্গ করে রাস্তা-ঘাটে ফেরাবে আপত্তি নেই, ইসলামের বিধি মেনে সম্মানের জীবন গ্রহণেই তাদের যত বাধা।
সুন্দর! খুবই সুন্দর সাহসি একটি পোষ্টের জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ।
সাদাত
ডিসেম্বর ৪, ২০১১ at ১২:৩৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
বুড়ো শালিক
ডিসেম্বর ৬, ২০১১ at ৬:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অনেক দিন পর সদালাপে এসে এই অসাধারণ লেখাটা পড়লাম। সমাজে যৌনতা বিষয়টাকে খুব খারাপ চোখে দেখা হয়। এই কারণেই হয়তো ধর্মের দিক থেকেও অনেকেই এটাকে খারাপ মনে করে। অনেকেই ভাবে, জিনিসটা জাস্ট বংশবৃদ্ধির জন্যই দরকার। কিন্তু সঠিকভাবে কাজটা করলে যে তা দুজনের জন্যই আনন্দদায়ক হতে পারে, এবং ইসলামে যে এটাকে উৎসাহিত করা হয়েছে, এটা হয়তো অনেকেই জানে না। শুধু তাই না, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ভালোবাসা, আদর-সোহাগ আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও ইবাদাতের শামিল বলে জানি।
সাদাত
ডিসেম্বর ৮, ২০১১ at ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনাদের কাউকে কাউকে কমেন্ট করতে না দেখে একটু সংশয়ে পড়েছিলাম যে লেখাটা লিখে আপনাদের বেকায়দায় ফেললাম নাকি। যাক, দেরিতে হলেও মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ। Bettet late than never.
নীরব হাসান
ডিসেম্বর ১০, ২০১১ at ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আজকাল কাজের কথা কেউ বলে না । সবাই শুধু আছে প্রেম-ভালোবাসা, তথাকথিত আধুনিকতা নিয়ে । উপরের লেখাটি পড়ে ভালো লাগলো । ইসলাম সম্পর্কে কিছু ভ্রান্ত ধারনা আপনি অনেক সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন । এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ, আশা করি আগামীতেও তা চালিয়ে যাবেন ।
সাদাত
ডিসেম্বর ১০, ২০১১ at ২:১৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@নীরব হাসান, আপনার ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো। আশা করি সদালাপে মাঝে মাঝে আসবেন।
সেলিম চৌধুরী
ডিসেম্বর ১০, ২০১১ at ৩:২১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আল কোরআন ও আল হাদিস ভিত্তিক তথ্য প্রমান দলিল, ঘটনা প্রবাহ স্হান কাল সময় নাম সহ ব্যক্তি উদ্ধৃতি এবং প্রেক্ষাপট সহ সমালোচনা ভিত্তিক আলোচনার জন্য ধন্যবাদ।
সাদাত
ডিসেম্বর ১০, ২০১১ at ৫:০৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সময় নিয়ে পড়া এবং মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
Hamzaa
জানুয়ারি ১১, ২০১২ at ৫:০৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Sadat bhai apni 2.1 point er ekdom bhul bekkha diyechen.. apni jei tafsir er link ta diyechen oitar o apni bhul bujechen.. anal intercourse is haraam in islam.. aebishoy apni aekhane pura bistarito ayat and hadith paben with reference -- http://islamqa.com/en/ref/91968/anal
সাদাত
জানুয়ারি ১১, ২০১২ at ৫:২৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হামজা ভাই,
আপনিই তো বরং আমার লেখাটা ভুল বুঝেছেন। আমার লেখার কোথাও Anal সেক্সকে বৈধ বলা হয় নাই।
আমি বলেছি-
"যেখানে বুঝানো হচ্ছে- সামনে বা পেছনে যেদিক দিয়েই যোনিপথে গমন করা হোক না কেন, তাতে কোন সমস্যা নেই।"
অর্থাৎ,
সামনের দিকে দিয়েই যোনিপথে গমন করা হোক,
আর পেছনেন দিক থেকে এসেই যোনিপথে গমন করা হোক কোন সমস্যা নাই।
আমি কোথাও পায়ুপথে গমন করার পক্ষে কোন কথা বলি নাই।
মফিজুল ইসলাম
জানুয়ারি ১১, ২০১২ at ৭:১২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই তথ্যমূলক লেখাটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
সাদাত
জানুয়ারি ১১, ২০১২ at ১১:৫৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@মফিজুল ইসলাম:
সময় নিয়ে পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।
Moktaruzzaman
এপ্রিল ১৩, ২০১২ at ২:০১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভালো লাগলো। কোরআনের এসব আয়াত ও আরবীতে হাদীস সমূহ আরবী ভাষাভাষী ছেলেমেয়েরা পড়ে ও বুঝতে পারে। বাংলাদেশে এসব আলোচনা সন্তানের সাথে করার কথা কেউ কল্পনাো করতে পারে না। অথচ উন্মুক্ত কোরআনে আল্লাহপাক তা বলে দিয়েছেন।েআমরা বাঙালীরা তা পড়ি না। জানি না। আর অল্প জানা লোকদের সর্বনাশা বয়ান, লেকচার, লেখালেখি তো আছেই।
জানার কোন বিকল্প নেই। ইসলাম সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে তাই ভালো করে জানতে হবে। না বুঝলে যারা বুঝেন এরূপ ২-৩ জনের সাথে আলাপ করতে হবে। লেখককে আল্লাহপাক উত্তম প্রতিদান দিন।
সাইদ সিদ্দিকী
জুলাই ১৯, ২০১২ at ১০:৪১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
খুব ভাল লেগেছে। বিশেষ করে প্রথম আয়াতের ব্যাখ্যাটি। যেটি আগে জানতাম না। এমন গুরুত্বপূর্ণ লেখার জন্য ধন্যবাদ।
সাদাত
জুলাই ১৯, ২০১২ at ১১:০২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সাইদ সিদ্দিকী:
লেখাটা আপনার উপকারে এসেছে জেনে আমারও ভালো লাগলো। আশা করি এই সাইটি নিয়মিত ভিজিট করবেন।
সাগর
জুলাই ২৯, ২০১২ at ৫:৪৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কোন লেখায় অনেক মন্তব্য হলে আমি সচারচর কিছু মন্তব্য পড়ি আর লেখক কে কিছু বলতে চাইলে তার প্রথম কমেন্ট এর জায়গায় কমেন্ট করি। তাই করেছিলাম ।আপনি এভাবে মিন করবেন বুঝতে পারিনি। তবে আপনি অন্তত একবার বলে দিতে পারতেন আপনার রিপ্লে সহ ,লেখাটা মুছে দেবার তো মনে হয় প্রয়োজন ছিলনা।
সাগর
জুলাই ২৯, ২০১২ at ৬:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যাহ বাবা রিপ্লে টা উপরে গেল।দাদা ক্ষমা।
সাদাত
জুলাই ৩০, ২০১২ at ১০:৫৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
না না, ক্ষমা চাওয়ার কী আছে?
তবে কথাটা 'রিপ্লে' (replay) নয় দাদা, ওটা 'রিপ্লাই' (reply)!
মাসুদ
নভেম্বর ২৪, ২০১২ at ১২:৩৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওরাল কি এলাউড, জানাবেন প্লীজ।
সাদাত
নভেম্বর ২৫, ২০১২ at ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@মাসুদ:
আমার জানামতে ওরাল বা অ্যানাল কোনটাই বৈধ নয়।
তবে, এটা ফতোয়ার সাইট নয়। ফতোয়ার জন্য কোন বিজ্ঞ মুফতির কাছে জিজ্ঞাসা করাটাই উচিত। ধন্যবাদ।
সুব্রত সেন
জানুয়ারি ২৩, ২০১৩ at ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
লেখাটি তথ্যবহুল ও আকর্ষনীয় । নারীজাতির অধিকার লুন্ঠনে বিশ্বে এখোনো পর্যন্ত মুসলিমদের নাম ডাক আছে । হিন্দুদের টপকাতে পেরেছে বাহবা দিতে হবে । আপনার লেখাটি সমাজচিন্তার মূলে কুঠারাঘাত সন্দেহ নেই । প্রশ্ন হল -আমরা একটি অতি প্রাচীনকালের নারকীয় আইনের দ্বারা চলব কেন ….আমদের হৃদয় কী এত দুর্বল যে সর্বদা ধর্মগ্রন্হের আদলে জীবনে বাঁধব ……। এইপ্রথা ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কিংবা রামমোহন চালাতেন তখনকার ধর্মভীরু হিন্দুদের বুঝাতে । আপনিও তাই করছেন । জানেন ধর্মের ভেকধারীদের জন্য আমাদের কত বড় সর্বনাশ হয়ে গেছে । অদ্বৈত শঙ্করাচার্য্য বলেছেন -ব্রহ্ম(আত্মা) সত্য,জগৎ মিথ্যা । ইসলামী ধর্মগ্রন্হ কিংবা হিন্দুদের মনুস্মৃতি এদিক দিয়ে স্হূলজগতের চিন্তায় আচ্ছন্ন । ঈশ্বরের দর্শন লাভ করে আত্মার মুক্তি নয় ….এরা নিমজ্জিত হয়েছে ধর্মের শ্রষ্ঠত্ব আর সেক্স নিয়ে আলোচনায় । মুসলিম নেতারা ধর্মের জাল বিস্তার করতে দেশমাতাকে তিনটুকরো করে গেছে । আমাদের বাঙালি জাতিকে কুরবানি দিয়েছে । তীব্র হিন্দুবিদ্বেষী মুগল সম্রাট ঔরঙ্গজেব দেশমাতার ঐক্য বজায় রাখতে নিজের প্রিয় পুএের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে গেছেন মৃত্যকাল পর্যন্ত ,এমনি ঘোর বিপদে হিন্দুরাজাদের কাতর প্রর্থনা করেছেন । অথচ স্বাধীনতা সংগামে মুসলিমরা কাফের-এর ভূমিকা পালন করেও এতটুকু লজ্জাবোধ জাগেনি । আজও তারা শরীয়তের আইন চালু করতে বিপন্ন করে তুলেছে বিশ্বশান্তি । কোরানের আইন শেষকথা নয় ,শেষ কথা নয় কোনো ধর্মগ্রন্হর আদেশ । শেষকথা মানুষের মানবিকতা । আমরা সবার আগে মানুষ ,তারপরে আমাদের অন্যকিছু । তবে আমরা গাছগাছালি,আগুন,দেবতা,ঋষি,আমাদের পূর্বপুরুষ,পিতা-মাতা,পশু-পাখিকূল,জড়-অজড় ইত্যাদির প্রতি মৃত্যুকাল পর্যন্ত ঋনি । এদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেওয়া আমাদের কর্তব্য । তবেই সব ধর্মের মানুষ সুখি হতে পারবে ।
সাদাত
জানুয়ারি ২৩, ২০১৩ at ১২:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সুব্রত সেন:
অমূলক কল্পনাপ্রসূত আপনার অপ্রাসঙ্গিক 'ধান ভানতে শিবের গীত' টাইপের মন্তব্যটিকে ইগনোর করা হলো।
Nayeem Md. Lutful Huq
অক্টোবর ১১, ২০১৪ at ২:৪২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ সুব্রত সেনঃ
আপনার আগ্রহ দেখে ভাল লাগল। আপনার মন্তব্য খুবই স্বাভাবিক। সে জন্য অবশ্যই তথাকথিত মুসলিম সমাজই অধিকাংশ ক্ষেত্রে দ্বায়ি। আমি কোন স্কলার নই তবে আপনার মন্তব্য গুলো যথা সাধ্য চেষ্টা করব ব্যাখ্যা করতে। প্রথমেই বলে রাখি, ইন্টারনেট বা ব্লগ আসলে আলোচনার জন্য ভাল জায়গা নয়। এতে অনেক সময় ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। তাই আমার অনুরোধ আপনি জানার জন্য নির্ভর যোগ্য বই পড়ুন, যেমন কুরআনের অনুবাদ (যদিও তা আরবী কুরআনের তেমন কোন কিছুই প্রকাশ করতে পারেনা), প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তফসীর বা ব্যাখ্যা। যে সমস্ত বিষয় গুলো আপনাকে এমন ভাবতে বাধ্য করেছে সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা ইত্যাদী। আমার বিশ্বাস নিরপেক্ষ দৃষ্টি নিয়ে যদি দেখেন তবে তা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হবে।
১) "প্রশ্ন হল -আমরা একটি অতি প্রাচীনকালের নারকীয় আইনের দ্বারা চলব কেন"
প্রথম বিষয় হলো "প্রাচীন" কোন একটি বিষয় প্রাচীন হলেই তা বাতিল যোগ্য হয়না। বিজ্ঞানের সূত্র যা দিয়ে পৃথিবী চলছে তা সৃষ্টির শুরু থেকেই আছে আর তা দিয়েই চলছে। তা বাতিল হবেনা। সেই বিজ্ঞানকে বুঝতে ভুল করে আমরা যে সূত্র দিই বা তাতক্ষনিক জ্ঞানের ভিত্তিতে যে তথ্য দিই তা পরবর্তিতে বাতিল হতে পারে, কিন্তু বিজ্ঞান নয়। শুধু পুরোন বলে বাতিল পোষাক বা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহার্য্য বস্তু ছাড়া আর কোন কিছুকেই করা যায়না। আপনি যদি কোন সুনির্দিষ্ট বিষয় বলেন (ইসলামের) তাহলে সেটা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে যে তা কেন বলা বা দেয়া হয়েছে।
২য় বিষয় "নারকীয়" এটাও আসলে একটা স্থুল মন্তব্য। কারণ আপনি সুনির্দিষ্টভাবে কোন বিষয় উপস্থাপন না করে পুরোটাকে নারকীয় বলে দিলে আলোচনার সুযোগ থাকেনা।
যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবাপৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। তাদের কাছে আমার পয়গম্বরগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছেন। বস্তুতঃ এরপরও তাদের অনেক লোক পৃথিবীতে সীমাতিক্রম করে। (সূরা মা'ইদাহ, আয়াত ৩২)
আপনি কি এই আয়াতকেও নারকীয় বললেন না? যাই হোক সাধারনত যে বিষয় গুলো ইসলামকে নেতিবাচক রূপে তুলে ধরে সেগুলো সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বই থেকে খোঁজ করুন আশা করি ভাল উত্তর পেয়ে যাবেন।
২) আমদের হৃদয় কী এত দুর্বল যে সর্বদা ধর্মগ্রন্হের আদলে জীবনে বাঁধব
আপনার প্রশ্নটা মানুষ মাত্রেরই ভাবা উচিৎ। কিন্তু আপনি ভেবে দেখেন যে এটা কতটা বাস্তব সম্মত প্রশ্ন! আমরা যদি এতই শক্তিশালী হব তাহলে সামান্ন লোভে আমরা সব কিছু কেন বিকিয়ে দেই। ইগো, ইর্ষা, অহংকার, লোভ এগুলো সবই প্রতিটা মানুষের মাঝে আছে। আপনি আপনার নিজেকে দিয়ে বিচার করে দেখুনতো আপনি নিজেকে কতটা চেনেন? আপনি কি বলতে পারবেন যে আপনি কখনও কোন অবস্থাতেই কোন অন্যায় করবেন না? ভুল করে নয় জেনেশুনেও মানুষ অনেক সময় অন্যায় করে থাকে এবং আমার অভিজ্ঞতায় আমি যতটুকু দেখি যে প্রতিটা মানুষই জীবনে কখনও না কখনও এমন কাজ করে ফেলে হোক সে ভাল বা মন্দ মানুষ। এবং আমরা নিজেরাও সব সময় জানিনা যে আমরা কোন বিষয়ে কি ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাব। ইতিহাস ঘাটলে, যারা ধর্ম বিশ্বাস করেনা তাদেরও অনেক নৃশংস চেহারা দেখতে পাবেন। কারন মানুষ যখন ক্ষমতা পায় তখন সে আর মানবতা নিয়ে ভাবেনা। সৃষ্টিকর্তা, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি অবশ্যই আমাদের সব কিছু জানেন তাই তিনি আমাদের পথ নির্দেশ দিয়েছেন কিভাবে চলতে হবে। অভিভাবক না থাকলে একটা মানুষকে জীবনে চলতে কত কষ্ট করতে হয় তার পরও তার জীবনে অনেক ভুল থেকে যায়। যা অভিভাবকের উপস্থিতিতে অনেক সহজ হয়ে যায়। আপনার কথাটি একটি আদর্শ পৃথিবীর জন্য সত্য। যেমন করে বিজ্ঞানে আদর্শ সূত্র থাকে, আদর্শ অবস্থা থাকে যা বাস্তবে থাকেনা আর তার সাথে বাস্তব অবস্থার তুলনা করা হয়। তেমনি আদর্শ পৃথিবী যদি আমাদের থাকত তাহলে শুধু মানবতা আর হৃদয় দিয়েই মানুষ ভাল থাকত। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি যে মানুষের মনের দূর্বলতা বাস্তব সত্য সেটা কতটা এবং কিভাবে তা মোকাবিলা করতে হয় তা সৃষ্টিকর্তা আমাদের শিখিয়েছেন। তার সাথে আমরা বিশ্বাস করি যে শয়তান সত্য, যে প্রতি নিয়ত আমাদেরকে ভুল পথে নিতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা চেষ্টা করি কখন সফল হই কখনও ব্যার্থ হই, ক্ষমা চাই আবার চেষ্টা করি।
৩) জানেন ধর্মের ভেকধারীদের জন্য আমাদের কত বড় সর্বনাশ হয়ে গেছে ।
এই বেপারে আপনার সাথে আমি ১০০ ভাগ বা তার চেয়ে বেশি এক মত। আপনি সত্য বলেছেন "ধর্মের ভেকধারী" সত্যি বলতে কি সব সময় যে ভেক ধারীরাই সর্বনাস করে তাও না। অনেক সময় সীমিত জ্ঞানও আমাদের অনেক সর্বনাস করে থাকে। যেমন উদাহরন আপনি দিয়েছেন। এরা আমাদের সর্বনাস করেছে, করছে, এবং করতে থাকবে যতক্ষন না আমরা সঠিক ভাবে জ্ঞান অর্যন ও তার সঠিক প্রয়োগ করব। ঈশ্বরের দর্শন লাভ করে আত্মার মুক্তি নয় ….এরা নিমজ্জিত হয়েছে ধর্মের শ্রষ্ঠত্ব আর সেক্স নিয়ে আলোচনায় । আর এ জন্য নিশ্চয় ইসলাম দ্বায়ি নয় তাইনা? দ্বায়ি তারা যারা এর মাঝে ডুবে আছে। আইনেষ্টাইনের পারমানবিক তত্ব ব্যবহার করে মানুষ বিশ্বের উন্নতিও করছে আবার ধ্বংসও করছে এর জন্য কি আইনেষ্টাইন কে দ্বায়ি করবেন। আপনি মনে করেন না যে আল্লাহর দৃষ্টিতে এরা নিরপরাধ? কক্ষনও না।
"মরুবাসীরা বলেঃ আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। বলুনঃ তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং বল, আমরা বশ্যতা স্বীকার করেছি। এখনও তোমাদের অন্তরে বিশ্বাস জন্মেনি। যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য কর, তবে তোমাদের কর্ম বিন্দুমাত্রও নিস্ফল করা হবে না। নিশ্চয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।" (সূরা হুজুরাত, আয়াত ১৪)
কাজেই শুধু কালেমা পড়লেই তা ঈমানের জন্য যথেষ্ট নয়। তবে আমাদেরকে আল্লাহ্ এই অধিকার দেননি যে কার ঈমান আছে আর কার নাই তা বিচার করি।
"কসম যুগের (সময়ের), নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের।" (সূরা আসর, সম্পুর্ন)
কাজেই বিশ্বাস স্থাপন, সৎ কর্ম, অন্যকে সৎ কাজের উপদেশ দেয়া এবং ধৈর্য্য ধারনের উপদেশ দেয়া ছাড়া কেউ নিরাপদ নয়। এটা ইসলামের গোড়ার কথা। এখন আপনি বুঝে নিন ইসলাম কি আর যাদের উদাহরন দিচ্ছেন তারা কি। আমি অবশ্যই আপনার কথার উত্তরে ঐ সকল অত্যাচেরর কোন ব্যাখ্যা দাঁড় করাব না। কারন তা ইসলাম শেখায় না। অন্যায় সে যেই করুক আর যার সাথেই করুক তা ইসলাম সমর্থন করেনা। নবী (সাঃ) ও তাঁর সাহাবীদের জীবনের এমন অনেক ইতিহাস আছে যেখানে তাঁরা ন্যায়ের পক্ষে রায় দিতে গিয়ে একজন মুসলিম কে শাস্তি দিয়েছেন আর অমুসলিম কে তার অধিকার দিয়েছেন। এই সব আদর্শ থেকে সরে যাবার জন্যই আজ ইসলাম হলো সন্ত্রাসী ধর্ম। অনেকে অনেক আয়াত বা অনেক কিছু দিয়ে নিজেদের কাজকে গ্রহন যোগ্য করার চেষ্টা করে থাকে তা আল্লাহ্ গ্রহণ করবেন এমন ভাবার কোন কারন নেই।
৪) শেষকথা মানুষের মানবিকতা
অবশ্যই আপনার কথা সত্য। কিন্ত সমস্যা আবারও আগের মতই। এটা একটা আদর্শ সমাজের জন্য প্রযোজ্য। সুনির্দিষ্ট কোন দিক নির্দেশনা না থাকলে প্রয়োজনের সময় মানুষ নানা রকম ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। যা একজনের কাছে স্বাভাবিক অন্যের কাছে তা অর্থহীন। আমাদের পক্ষে সব সময়ের উপযোগী কোন নিয়ম তৈরী সম্ভব হয়না। এমনকি নিরপেক্ষ নিয়ম তৈরীও সম্ভব হয়না। সেটা একমাত্র তাঁর পক্ষেই সম্ভব যাঁর আমাদের কাছে কোন স্বার্থ, কোন প্রয়োজন নেই, যাঁর আমাদের সম্পর্কে সম্পুর্ন জ্ঞান আছে, যাঁর নিয়ন্ত্রনেই সব কিছু রেয়েছে।
এ সব কথাই আসলে আমি বলছি সাধারন ভাবে। এর সাথে যদি আপনি পরকাল সংযুক্ত করেন তাহলে তা পূর্ণতা পায়। কারন, আল্লাহর কাছে এই পৃথিবীর জীবনের মূল্য একটা মশার ডানার সমানও নয় (যদি পরকালের সাথে তা তুলনা করা হয়)। ধর্মের প্রয়োজন আছে কি নেই সেই প্রশ্ন তখন আসে যখন ধরে নেয়া হয় যে সেটা কোন মানুষ সমাজের বা মানুষের মঙ্গল (শুধু ইতিবাচক দিকটাই যদি ধরি) এর জন্য উদ্ভাবন করেছেন। কিন্তু কুরআন কোন মানুষের তৈরী হতে পারেনা, এর প্রমান ইন্টারনেট ঘাটলেই পাবেন। যদিও এখানেও কিছু সমস্যা আছে যে, কিছু মানুষ বাড়াবাড়ির পর্যায়ে, যা নয় তাকেও কুরআনের মিরাকল বলে প্রকাশ করে থাকে অনেক সময়। তবে যাচাই করলেই বুঝতে পারবেন।
সব শেষে একটা অনুরোধ করব। ইসলাম সম্পর্কে জানতে নির্ভর যোগ্য বই পড়ুন, কুরআন দিয়ে শুরু করুন, প্রয়োজনে ব্যাখ্যা পড়ুন। অনেকে আপনাকে নিরুৎসাহিত করবে (এমনকি মুসলিমরাও বলবে অমুসলিমরা কুরআন স্পর্শ করতে পারবেনা। তা নয়, আপনি শুধু পরিস্কার শরীরে তা পড়বেন এই টুকু অনুরোধ)। কিন্তু জানতে চাইলে ব্লগ থেকে নয় বই থেকে জানুন।
ভুল ভ্রান্তির জন্য ক্ষমা চাইছি। আপনাকে বা কাউকে আঘাত করার কোন ইচ্ছা নিয়ে লিখিনি, যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা করবেন। আমি আমার জ্ঞানে যা বুঝি ও জানি তাই বললাম। আল্লাহ্ সবচেয়ে ভাল জানেনে। আল্লাহ্, আমাদেরকে সঠিক পথ দেখান।
Nayeem
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৩ at ৭:১৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
rex
মার্চ ২০, ২০১৩ at ৪:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
একটা কথা বলি আপনাদের কিছু মনে করেন না…
যখন স্ত্রী বা স্বামীর সেক্স ওঠে তখন আর তার ইসলামের কথা মনে থাকে না
বুজেছেন?
সাদাত
মার্চ ২১, ২০১৩ at ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই যে আল্লাহর কথা মনে থাকে না, এটা কার?
নাস্তিকের?
অমুসলিমের?
গাফেল মুসলিমের?
মুত্তাকীর?
এটা প্রথম তিন শ্রেণীর জন্য প্রযোজ্য হতে পারে, মুক্তাকীর জন্য নয়।
এখন আমাদের ঠিক করতে হবে আমরা কোন্ শ্রেণীতে থাকবো।
Asfaque
মে ৬, ২০১৩ at ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
২২৩। তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র স্বরূপ ২৪৯। অতএব তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যখন যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার। কিন্তু পূর্বাহ্নে তোমাদের আত্মার [কল্যাণের জন্য] কিছু সৎ কাজ করো; এবং আল্লাহ্কে ভয় করো এবং স্মরণ রেখো [পরকালে] তোমরা আল্লাহ্র সম্মুখীন হবে। যারা বিশ্বাসী তাদের [এই] সুসংবাদ দাও ২৫০।
ইসলামের দৃষ্টিতে যৌনজীবন অত্যন্ত পবিত্র। এই জীবন সম্বন্ধে লজ্জিত হওয়ারও কিছু নাই বা একে হালকাভাবে গ্রহণ করা উচিত নয় বা এ নিয়ে অত্যাধিক বাড়াবাড়ি করারও প্রয়োজন নাই। মানব জীবন চক্রের এ এক অপরিহার্য অংশ। এই জীবনকে আল্লাহ্ এভাবে বর্ণনা করেছেন স্ত্রীরা হচ্ছে শস্য ক্ষেত্র স্বরূপ। স্বামীরা সেই শস্য ক্ষেত্রে বীজ বপন (শুক্র) করবে এবং ফসল ঘরে তুলবে, এখানে সন্তান তার ফসলস্বরূপ। সুতরাং স্বীয় জমি যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। অর্থাৎ কৃষিকাজে যেমন জমি চাষ করা এবং ফসল বোনার নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম আছে; সেইরূপ আল্লাহ্ মানুষকে বলেছেন তার সময়, সুযোগ ও ইচ্ছা অনুযায়ী তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হবে। সে এমনভাবে তার ফসল বুনবে না যাতে তার জমির ক্ষতি হয় বা তার ফসল পরিপক্কতা লাভ করতে না পারে। এই উক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অল্প বয়সে ঘন ঘন সন্তান ধারণের ফলে বহু নারীই অকালে বার্ধক্যে উপনীত হয় এবং ফলে স্বামী দ্বারা পরিত্যক্ত হয়। স্ত্রীকে বলা হচ্ছে 'ফসলের জমি' যা আল্লাহ্ তাকে ইচ্ছা বা বিবেক অনুযায়ী কর্ষণ করার অনুমতি দিয়েছেন, তার অপব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। যেনো 'ভূমি' অর্থাৎ স্ত্রীর কোনও ক্ষতি না হয়। শুধু যে স্ত্রীর স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় তাই নয় ঘন ঘন সন্তান জন্মের ফলে তারা উপযুক্ত যত্ন পায় না, ফলে ভগ্ন স্বাস্থ্য এবং যত্নের অভাবে দেশের উপযুক্ত নাগরিকরূপে গড়ে উঠতে পারে না। সুতরাং ভুল কর্ষণ ও ভুল বপনের ফলে শুধু যে জমিরই ক্ষতি হয় তাই নয় উপযুক্ত পরিপুষ্ঠ ফসল লাভ থেকেও জমির মালিক বঞ্চিত হয়। এখানে ইচ্ছামত কর্ষণ করার অর্থ এই যে, স্বামীরা তাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে সহানুভূতি সম্পন্ন হবে এবং নিজের বিবেক ও বুদ্ধির ব্যবহার করবে। নিজের বিবেক ও বুদ্ধির ব্যবহারকেই আল্লাহ্ বলেছেন 'তোমাদের শস্য ক্ষেত্রে যখন যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার'। অর্থাৎ বিবেকের স্বাধীনতা দেওয়া হলো। বৈবাহিক সম্পর্ক শুধুমাত্র ভোগ-উপভোগের জন্য নয়। সুন্দর শান্তিপূর্ণ জীবন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, সৎ সন্তানের জন্ম দেওয়া ও তাদের সুষ্ঠু লালন পালন এর অত্যতম উদ্দেশ্য।
মোঃ তাজুল ইসলাম
অক্টোবর ৮, ২০১৬ at ৫:৪৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাল বলেছেন। মগাজিৎ শস্যক্ষেত্র নিয়া আমু/মুক্তমনায় বেশী লম্পঝম্প করত। মগাজিৎ বেচে থাকলে, ওরে খাওয়ানো যেত। আল্লাহ্ ভাল জানেন। হয়ত আল্লাহ্-ই তাকে ভালভাবে খাওয়ানোর জন্য দুনিয়া থেকে নিয়ে গেছেন।
Abu Monsur
আগস্ট ২৫, ২০১৩ at ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
I read this post on quraneralo website.Is it by the same writer?
Thanks
Monsur
সাদাত
আগস্ট ২৮, ২০১৩ at ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
লেখাটি আমার এবং সদালাপে প্রথম প্রকাশিত। অন্যান্য ব্লগে পরে কপি করা হয়েছে, অনেক ব্লগে লেখকের নাম এবং মূল লেখার লিংক দেওয়া হয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে কোনটাই দেওয়া হয় নাই।
sabbir khan
অক্টোবর ১০, ২০১৩ at ১১:৫৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
স্ত্রীর সাথে পেছন দিক থেকে যোনিপথে সঙ্গম ইসলাম এ কি হালাল এই সম্পর্কে একটু বলবেন?? আমি এই তফসির এ পরলাম এটা নাকি হারাম (২:২২৩ এ তাফসির সহ দিলাম http://www.quraanshareef.org/tafseer/index.php?page=121)
সাদাত
অক্টোবর ৭, ২০১৫ at ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পথ দুইটা,
১. যোনিপথ
২. পায়ুপথ বা গুহ্যদ্বার
যোনিপথে সামনে দিয়েই প্রবেশ করুক আর পেছন দিয়ে প্রবেশ করুক সবই বৈধ।
পায়ুপথ বা গুহ্যদ্বারে প্রবেশ করা নিষেধ।
আপনি যে লিংক দিয়েছেন সেখানেও এই কথাই লিখা আছে।
মাহফুজ
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৪ at ২:০৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যারা ইসলামের আলো ছড়াতে চায় বা একটি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সদা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাদের মানব জীবনের কিছু মৌলিক দিকের প্রতিও গুরুত্ব দেয়া উচিত। আমাদের সমাজের আলেমরা সাধারনত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌছেননা। তাদের সীমানা অনেক সময় ওয়াজ মাহফিল আর মাদ্রাসায় শিক্ষাদান পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে। আর সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কাছে যারা থাকেন মসজিদের ইমাম এবং তাবলীগের ভাইরা । তারা তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার ধরুণ এইসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশণা দিতে পারেননা। তাই যেসকল কর্মীরা ইসলামী আন্দোলন এর কারনে সাধারন মানুষের সাথে নিয়মিত উঠাবসা রয়েছে তাদেরই দায়িত্ব মানুষের জীবনের নিত্য দিকগুলোর বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা। আর শিক্ষিত সমাজে ইসলামের পারিবারিক বিধান নিয়ে অধ্যয়ন না থাকার ফলে এই নিয়ে অজ্ঞতা রয়েছে। তাই অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও যুবসমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একাডেমিক শিক্ষকতাকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। যেমন বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে নৃ-বিজ্ঞান বিভাগে নারী পুরুষের যৌন অধিকার নিয়ে পড়ানো হয়। এই বিভাগের একজন শিক্ষক যদি ইসলামের এই ব্যাখ্যাগুলো জানতেন এবং মানতেন তাহলে বৃদ্ধিবৃত্তিক মুর্খতা থেকে জাতি রক্ষা পেত। কিন্তু একজন বাম বা নাস্তিক এমনকি সাধারণ মুসলমানও জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি মানার ও জানার চেষ্টা করেনা। তাই এই সব জায়গা গুলোতে ইসলাম প্রিয় মানুষদেরই যেতে হবে । তবেই সমাজ তথা রাষ্ট্র থেকে এসকল অপপ্রচার এবং একশ্রেণীর শিক্ষিত মূর্খ তৈরী হওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হবে।
মাহফুজ
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৪ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ মাহফুজ
ভালই বলেছেন-
তবে সর্বোচচ বিদ্যাপিঠে একটি বিশেষ বিভাগের চেয়ারম্যান যেখানে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে অভিযুক্ত (প্রথম আলো- ১ম পৃষ্ঠা- কলাম-১-১৬/০৯/২০১৪ইং।), সেখানে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের কাছে কি শিখবে? এসব জ্ঞানপাপীদের সমুচিত শাস্তি দেয়া হোক-
নাঈম মোঃ লুৎফুল হক
অক্টোবর ৯, ২০১৪ at ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
লেখাটা চমৎকার। কমেন্টগুলোও অনেক সুন্দর। তবে একটা বেপার আমি সব লেখার কমেন্টের মধ্যেই একটা বড় সংখ্যক কমেন্টে লক্ষ করি যে, যে শিক্ষাটা দেয়া হয়েছে (লেখার মধ্যে) সেটা কারা পালন করেন না তাদেরকে কটাক্ষ করা। আমাদের নবী (সাঃ) ছিলেন একজন ইতিবাচক মানুষ। তিনি ইসলামের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করার চেষ্টা করতেন। তিনি ইসলামের প্রতি আহবান করতেন (মানে আকর্ষন করতেন) জোর করতেন না। নেতিবাচক ভাষা বা "যারা …… বলে বা করে তাদের …… হোক" এভাবে আসলে একটা মানুষের আত্মসম্মান বোধকে আহত করা হয়। এতে তার মধ্যে আগ্রহ কমে জিদ বাড়ে যা সত্য গ্রহণে তাকে নিরুৎসাহিত করে।
অপর পক্ষে যে শিক্ষাটা পাওয়া গেছে সেটা আমার জীবনে আমি কাজে লাগাব। সেটা পালন করছি কিনা সেটা আগে সঠিক ভাবে যাচাই করব। এরপর অপর মুসলিম ভাইকে সম্মান আর ধৈর্য্যের সাথে তার উপদেশ দিব। সে প্রত্যাক্ষান করলেই তাকে কটাক্ষ করবনা, বরং ধৈর্য্যের সাথে বারবার চেষ্টা করে যাব। নুহ্ (আঃ) প্রায় ৯৫০ বছর দাওয়াদ দেবার পর মাত্র ৮০ বা ৮৫ (কাছাকাছি কোন সংখ্যা) জন ইমান এনেছিলেন। এটা গেল ধৈর্য্যের উদাহরন। অন্যদিকে আল্লাহ্ বলেছেন,"নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি" -- (সূরা আল 'ইসরা, আয়াত ৭০)। তাহলে তাদেরকে অসম্মান করার অধিকার আমাদের নেই (যিনি অন্তত নিজে একজন ভাল মুসলিম হতে চান তাঁর এ বেপারে লক্ষ রাখা জরুরী)। মুসা (আঃ) কে আল্লাহ্ যখন ফির'আউনের সাথে কথা বলতে পাঠান তখন বলেন তিনি [মুসা (আঃ)] যেন ফির'আউনের সাথে সম্মানের সাথে কথা বলেন। আমরা কেউ নিশ্চয় ফির'আউনের চেয়ে খারাপ নই বা মুসা (আঃ) এর চেয়ে ভাল নই।
সর্বপরি যারা ভুল করেন বা মানেন না তাদের সমালচনা এখানে করাটা গীবতের পর্যায়ে পড়ে কিনা জানিনা। কিন্তু সূরা হুমাযাহ্ এর প্রথম আয়াত পড়লে আশা করি আমরা সবাই সাবধান হতে পারব, যেখানে আল্লাহ্ বলছেন,"প্রত্যেক সম্মুখে ও পশ্চাতে পর নিন্দাকারীর জন্য দূর্ভোগ।"
কমেন্ট দীর্ঘ্য হবার জন্য দুঃখিত। কাউকে আঘাত বা অসম্মান করে কিছু বলা আমার উদ্দেশ্য নয় তবুও যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন তবে আমার ভুল ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্ আমাদের সকলকে সরল পথে পরিচালিত করুন। আমাদের মাঝে ভ্রাত্রিত্ব বৃদ্ধি করুন। সূরাতুল 'আস্র কে আমাদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
সাদাত
সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৫ at ৪:৩৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার সুন্দর কমেন্টটা আগে নজরে আসেনি। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি চমৎকার।
নাঈম মোঃ লুৎফুল হক
সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৫ at ১০:৪৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জাঝাক-আল্লাহু খইরন কাসির। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা ও হেদায়েত করুন।
abu saeed mohammad sohaib
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৫ at ১২:১২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
really it was very good inclusive explanation i ever had. plz, keep it up….thank u
মো জোবায়ের
অক্টোবর ৩, ২০১৫ at ২:২২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অসাধারণ
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৬ at ৬:৩৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
wonderfull speech by নাঈম মোঃ লুৎফুল হক, i am really thankfull to be here.
mixtrickbd
এপ্রিল ১০, ২০১৭ at ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ
আবির
মে ১৪, ২০১৭ at ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
একজন খুব সুন্দর নারীকে এক প্রায় জোর করে একটা অচেনা আর তার তুলনায় বেমানান লোকের সাথে বিয়ে দেয়া হয়েছিলো যখন সে কিচ্ছু বোঝতনা। তার স্বামী তাকে কখনও যৌন তৃপ্তি দিতে পারেনি। প্রথমে মেয়েটি কিছু বলতো না ভাবতো যৌন মিলন বুঝি তেমনি। কিন্তু পরে বোঝতে পারলেও সে পতি ভক্তিতে কিছু বলেনি। ভেবেছে শারীরিক তৃপ্তি না পায় লোকটা ভালো তো বাসবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে স্বামীর কাছে তাও পায়না। এখন ওই নারী কি সারাজীবন নিজেকে নিঃশেষ করবে?? নাকি নিজের কথা ভেবে সম্পর্ক ছিন্ন। করতে পারবে?? এতে ইসলাম কি বলে??
আবির
মে ১৪, ২০১৭ at ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
একজন খুব সুন্দর নারীকে এক প্রায় জোর করে একটা অচেনা আর তার তুলনায় বেমানান লোকের সাথে বিয়ে দেয়া হয়েছিলো যখন সে কিচ্ছু বোঝতনা। তার স্বামী তাকে কখনও যৌন তৃপ্তি দিতে পারেনি। প্রথমে মেয়েটি কিছু বলতো না ভাবতো যৌন মিলন বুঝি তেমনি। কিন্তু পরে বোঝতে পারলেও সে পতি ভক্তিতে কিছু বলেনি। ভেবেছে শারীরিক তৃপ্তি না পায় লোকটা ভালো তো বাসবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সে স্বামীর কাছে তাও পায়না। এখন ওই নারী কি সারাজীবন নিজেকে নিঃশেষ করবে?? নাকি নিজের কথা ভেবে সম্পর্ক ছিন্ন। করতে পারবে?? এতে ইসলাম কি বলে??
মাহফুজ
মে ১৫, ২০১৭ at ৪:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@আবির, আশাকরি নিচের হাদিছে আপনার উত্তর পেয়ে যাবেন-
সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, অধ্যায়ঃ ৬৭/ বিয়েঃ ৫১৩৬/ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৬০ -- আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেন যে, নাবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেছেন, কোন বিধবা নারীকে তার সম্মতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী মহিলাকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবে না। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কেমন করে তার অনুমতি নেয়া হবে। তিনি বললেন, তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে তার অনুমতি।
সহীহ বুখারী, তাওহীদ পাবলিকেশন, অধ্যায়ঃ ৬৭/ বিয়েঃ ৫১৩৮/ ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৬২ -- খান্সা বিনতে খিযাম আল আনসারিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে, যখন তিনি অকুমারী ছিলেন তখন তার পিতা তাকে বিয়ে দেন। এ বিয়ে তিনি অপছন্দ করলেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএ বিয়ে বাতিল করে দিলেন।
মুসলিম সমাজে বিশেষ কারন সাপেক্ষে পারিবারিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কম বয়সের পাত্র-পাত্রীদের মধ্যে বাগদান সম্পন্ন করে রাখার নিয়ম চালু আছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, ইসলামের বিধান অনুসারে শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিবাহিত জীবন যাপন করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। পারিবারিক সম্মতির ভিত্তিতে কম বয়সের পাত্র-পাত্রীদের বাগদান হয়ে গেলেও উপযুক্ত বয়সে উপনীত হবার পর বিবাহিত সংসার জীবন শুরুর পূর্বে সেই পাত্র বা পাত্রীর মধ্যে কেউ একজন যদি অসম্মতি জ্ঞাপন করেন, তাহলে পূর্বেকার বাগদান ভেঙে দেয়া আইন সম্মত। এক্ষেত্রে বিয়ে আর পূর্ণতা পাবে না অর্থাৎ বিবাহিত সংসার জীবন যাপনের জন্য তাদেরকে যে বাধ্য করা যাবে না, এই (সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৬০ নং) হাদিছটি থেকে তার স্পষ্ট ইংগিত পাওয়া যায়।
এই (সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৭৬২ নং) হাদিছ অনুসারে দেখা যায় যে, ইসলামে বিধবা বিবাহকে উৎসাহিত করা হয়েছে। তালাক প্রাপ্ত নারীদেরকেও বিবাহ করা ও দেয়ায় কোন বাধা নেই। জোর করার তো প্রশ্নই আসে না, বরং বিধবা ও তালাক প্রাপ্ত নারীদের মতের বিরুদ্ধে বিবাহ দেয়া বা করা নিষেধ। তবে উভয় ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট সময় ইদ্দত পালনের বিধান রয়েছে। এই সময় অতিবাহিত হবার পর বিবাহ করা হারাম নয় এমন যে কোন ব্যাক্তির সাথে তাদের বিয়ে হতে পারে। আর বিধবা ও তালাক প্রাপ্ত নারীদের অনুমতি না নিয়ে বিয়ে দিলে তা ভেঙে দেয়াও আইন সম্মত।
হাফেজ মোঃ শামীম VERE NAICE
জুন ২, ২০১৭ at ৯:৫৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Nimu Shamim
অক্টোবর ১৭, ২০১৭ at ৩:৪০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
খুব ভাল লাগলো পড়ে জানতে পেরে…ধন্যবাদ
Abu bakar
এপ্রিল ১, ২০১৮ at ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার লেখাগুলো পড়ে বেশ পুলকিত হলাম ৷ জাতির খেদমতে আল্লাহ আপনাকে উচু মাকাম দান করুক,আমীন৷
Anonymous
জুলাই ১২, ২০১৮ at ২:১৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
চমৎকার পোষ্ট