সহিহ বুখারি সহ বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে একটি ঘটনা পাওয়া যায় যে উরাইনা গোত্রের (কোন কোন বর্ণনা অনুযায়ী উকল গোত্রের বা উভয় গোত্রের) ৮ জন লোক ইসলাম গ্রহণ করে, কিন্তু মদিনার আবহাওয়া তাদের জন্য অনুকূল না হওয়ায় তারা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের মদিনার বাইরের একটা জায়গায় পাঠান এবং (চিকিৎসাস্বরূপ) সেখানকার সদকার উটের দুধ এবং মূত্র পান করতে বলেন। তারা সেখানে যায় এবং উটের দুধ ও মূত্র পান করে, ফলে তাদের রোগমুক্তি ঘটে এবং তারা মোটাসোটা হয়ে ওঠে। অত:পর তারা ইসলাম পরিত্যাগ করে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিযুক্ত উটের রাখালকে হত্যা করে এবং উটগুলো নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি বাহিনী পাঠিয়ে তাদের পাকড়াও করে নিয়ে আসেন এবং তাদের শাস্তি দেন।
তাদের যে শাস্তির কথা হাদিসে এসেছে তা হলো:
১. তাদের হাত-পা কেটে দেওয়া হয়।
২. তাদের চোখ উত্তপ্ত লৌহ-শলাকা দিয়ে গেলে দেওয়া হয় বা বের করে ফেলা হয়।
৩. তারা পিপাসার্ত হয়ে পানি চেয়েছিল, কিন্তু তাদের পানি দেওয়া হয় নাই।
৪. তাদেরকে মৃত্যু পর্যন্ত ‘আল-হাররা’ নামক প্রস্তরময় স্থানে ফেলে রাখা হয়।
এখানে একটা অভিযোগ আসে, হত্যার বিনিময় হত্যা না হয় করা হলো, কিন্তু এত নির্মমভাবে কেন? বিচারের চেয়ে হিংস্রভাবে প্রতিহিংসা চরিতার্থই কী তবে এই ঘটনায় প্রাধান্য পেয়েছে? এবার আসুন দেখে নেই, উরাইনা গোত্রের লোকগুলো কী কী করেছিল?
এক. হাদিস হতে:
আনাস(রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের চোখ উপড়ে ফেলেন কারণ তারাও রাখালের চোখ উপড়ে ফেলেছিল। [সূত্র: Muslim Book: 16, Chapter: 2, Number: 4137 ]
দুই. ইতিহাস গ্রন্থ হতে:
তারা (বর্ণনাকারিগণ) বলেন: উরাইনাহর ৮ জনের একটি দল রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে এলো এবং ইসলাম গ্রহণ করলো, কিন্তু মদিনার আবহাওয়া তাদের জন্য অনুকূল হলো না। ফলে রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)তাদেরকে তাঁর দুগ্ধবতী উটসমূহের কাছে বসবাস করতে আদেশ দিলেন যেগুলো মদিনা হতে ৬ মাইল দূরে ‘আইর’ এর নিকটবর্তী ‘কুবা’র সংলগ্ন ‘যুল জাদর’ নামক স্থানে চরে বেড়াত। আরোগ্য লাভ করে মোটা হয়ে যাওয়া অবধি তারা সেখানে অবস্থান করলো। একদিন সকালে তারা উটের পালের ওপর হামলা চালালো এবং সেগুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর রাখাল ইয়সার একটি দল নিয়ে তাদের ধাওয়া করলেন। তিনি তাদের সাথে লড়াই করলেন। তারা তার [রাখালের] হাত-পা কেটে দিলো এবং তার জিহ্বা এবং চোখ কাঁটা দিয়ে খুঁচালো, যার ফলশ্রুতিতে তিনি মারা গেলেন। [সূত্র: ইবনে সা’দের ‘ কিতাব আত তাবাক্বাত আল কাবির’, ২ খ:, পৃ: ১১৪, (ইংরেজি অনুবাদ- এস মঈনুল হক)]
আমরা না হয় ভুলে গেলাম উরাইনা গোত্রের লোকগুলোর অকৃতজ্ঞতার কথা, কৃতঘ্নতার কথা, ধর্মদ্রোহিতার কথা, রাষ্ট্রদ্রোহিতার কথা, বিশ্বাসঘাতকতার কথা, ডাকাতির কথা। কিন্তু যে কথাগুলো ভুলে যাওয়া চলে না, তা হলো-
১. তারা রাখালের হাত-পা কেটে দিয়েছিল।
২. তারা কাঁটা দিয়ে রাখালের জিহ্বা এবং চোখ খুঁচিয়ে তার মৃত্যু ঘটিয়েছিল।
৩. ক্ষত-বিক্ষত জিহ্বা নিয়ে ঐ রাখাল যখন মারা যাচ্ছিল তখন সে তো পিপাসার্তই ছিল।
উরাইনার লোকগুলোকে পিপাসার্ত অবস্থায় কেন পানি দেওয়া হবে? অথচ তারা নির্মমভাবে খুঁচিয়ে রাখালের জিহ্বাকে ক্ষত-বিক্ষত করেছিল, তাদের তো সৌভাগ্য যে তাদের জিহ্বাও একইভাবে ক্ষত-বিক্ষত করা হয় নাই।
তারা যেমন নির্মম, নিষ্ঠুর, নির্দয়ভাবে কষ্ট দিয়ে দিয়ে রাখালকে হত্যা করেছিল, শাস্তিস্বরূপ ঠিক একই পরিণতি তারাও বরণ করেছে।
রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষ হিসেবে দয়ালু হতে পারেন, রহমাতাল্লিল আলামিন হতে পারেন, নিজের হত্যা চেষ্টাকারিকে তিনি মাফ করে দিতে পারেন, তার খাবারে কেউ মিশিয়ে দিলে তাকে ছেড়ে দিতে পারেন, ঘুমন্ত অবস্থায় তার মাথার ওপর তলোয়ার উত্তোলনকারির প্রতি দয়া দেখাতে পারেন; কিন্তু বিচারকের আসনে বসে নির্মম, নিষ্ঠুর, পাশবিক হত্যাকাণ্ড সংঘটনকারিদের প্রতি দয়া, সহানুভুতি দেখাবার কোন অধিকার তার নেই, থাকতে পারে না।
মায়াকান্না করা যাদের অভ্যাস, তারা তা করতে থাকুক…
[নোট-১: ঘটনাটি এসেছে এমন কিছু হাদিস-
Bukhari Vol.1, Book 4, No.: 234; Bukhari Vol.2, Book 24, No.: 577; Bukhari Vol.4, Book 52, No.: 261; Bukhari Vol.5 Book 59, No.: 505; Bukhari Vol.7, Book 71, No.: 589; Bukhari Vol.7, Book 71, No.: 590; Bukhari Vol.7, Book 71, No.: 623; Bukhari Vol.8, Book 82, No.: 794; Bukhari Vol.8, Book 82, No.: 796; Bukhari Vol.8, Book 82, No.: 797; Muslim Book: 16, Chapter: 2, Number: 4130; Muslim Book: 16, Chapter: 2, Number: 4137
নোট-২: উটের মূত্র নিয়ে কোন আলোচনা আমার এই লেখার প্রসঙ্গ না। সেটা নিয়ে পরে ভিন্ন লেখা দেবার ইচ্ছে আছে।]

ভানু ভাস্কর
জানুয়ারি ১১, ২০১২ at ৬:০৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হুম। এটা-ই ন্যয়বিচার।
এস. এম. রায়হান
জানুয়ারি ১১, ২০১২ at ৮:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সঠিক তথ্য তুলে ধরে বিষয়টা পরিষ্কার করার জন্য ধন্যবাদ।
ইবনে বতুতা
জানুয়ারি ১১, ২০১২ at ১১:৫৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আচ্ছা বলেন তো এই একটি হাদিসের বররণনা যেখানে একজনকে হত্যার জন্য ৮ জনকে শাস্তি দেয়া হলো! তার কোন ডিটেইল কি কোথাও উল্লেখ আছে!
এত বড় একটি শাস্তি দেয়া হলো আর তার গাওয়া কি শুধু একমাত্র আনাস রাঃ ছিলেন! আর সব সাহাবিরা কোথায় ছিলেন? তাদের কারো বরাতে কি এই ঘটনার বররণনা দেয়া আছে!
যদিও আনাস রাঃ থেকে তিনিটি হাদিশ উল্লেখ করা হয়েছে সেখানেও আনাস রাঃ ঠিক করে বলতে পারছেন না তার ঠিক কোন গোত্রের লোক ছিল। এই গোত্রের মদিনায় আগমন তারপর ইসলাম গ্রহণ এবং এবং মদিনার আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া এবং সুস্থ হতে তাদেরকে উটের পালনের স্থানে পাঠিয়ে দেয়া, সেখানে গিয়ে তারা সুস্থতা লাভ করার ঘটনাগুলো এক দিনে বা মাসে ঘটেনাই। তাই এক গোত্রের এত গুলো লোক এত দীর্ঘ সময় মদিনায় অবস্থান করে গেল, আর আনার রাঃ যিনি রাসুল সাঃ সাথে সার্বক্ষণ মদিনায় ছিলেন তিনি ঠিক করে জানাতে পারছেন কথিত লোক গুলো কোন গোত্রের ছিল!!!
যারা বলে আছেন রাসুল সাঃ ইনসাফ করেছেন, তাদের কাছে কি প্রশ্ন করতে পারি! হামজা রাঃ ছিলেন ইসলামের এক বীর সেনানী এবং রাসুল সাঃ আপন চাচা। সেই হামজারাঃ কে যে হত্যা করেছিল তাকে রাসুল সাঃ ইনসাফ না করে কেন মাফ করে দিয়েছিলেন? হিন্দ বিন্ উতবা যে হামজা রাঃ মৃত দেহকে জগন্য ভাবে ক্ষত বিক্ষত করে অঙ্গহানি করে ক্ষান্ত হয় নাই পেট চিরে কলিজা কেটে নিয়ে মুখে চিবিয়েছিল।
তার সাথেও তো এই রূপ ইনসাফ রাসুল সাঃ করেন নাই। তাহলে কি বলতে হবে রাসুল সাঃ আইন নিজ গোত্রের জন্য এক ছিল আর অন্য গোত্রের জন্য অন্য রকম ছিল!
রাসুল সাঃ ২৩ বছরে ইসলাম প্রচার করেছেন। এর মধ্যে মদিনার ১০ বছর জীবনে ২৮ টি যুদ্ধের নেতৃত্ব সহ অনেক বিচার আচার করেছিলেন, কই সেখানে তো এই পোস্টের বর্ণিত ঘটনার মত ঘটনা ২ বার ঘটে নাই!
আমি এই বিষয় নিয়ে অনেক আগে একটি লেখা পড়েছিলাম। কোথায় পড়েছিলাম তা মনে আসছেনা, তবে তা ফতহুল বারী মত কোন হাদিসের ব্যাখ্যা মুলক বই ছিল। সেখানে উল্লেখ ছিল এই যে কাজটি করেছিলেন তা কোন ঐশীয় আদেশ দ্বারা নয়, তখনকার প্রচলিত কোরাইশদের ট্রিবাল আইন দিয়ে। পরে হুদুদের বিষয়ে ঐশিয় আইনের দিক নির্দেশনা পাবার পর থেকে এই ভাবে ২য় কোন ঘটনা ঘটে নাই।
যারা বলেন -- কোরআন তো নির্দেশ দিয়েছে দাঁতের বদলে দাঁত ! তা ঠিক এক দাঁতের বদলে ৮ দাঁত নয় একটি নিতেই বলেছে!
লেখক কে ধন্যবাদ।
সাদাত
জানুয়ারি ১২, ২০১২ at ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
১. কোন কাফির ইসলাম গ্রহণ করলে মুসলিমদের আর কোন অধিকার থাকে না তার পূর্বকৃত অপরাধের কারণে তাকে কোন শাস্তি দেওয়ার। কারণ তার ইসলাম গ্রহণ পূর্বকৃত তার অপরাধের কাফফারা- এটাই মুসলিমেদের বিশ্বাস।
২. এই বিচার ইসলামি নিয়মে না প্রচলিত নিয়মে হয়েছে সে আলোচনায় আমি যাই নাই। আমি শুধু দেখাতে চেয়েছি এটা কোন প্রতিহিংমূলক পাশবিক হত্যাকাণ্ড ছিল না -যেটা অনেকে বুঝাতে চান; বরং একটি পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের নিয়মতান্ত্রিক বিচার ছিল।
৩. কোন হত্যাকাণ্ডে যারা অংশ নেয় তারা প্রত্যেকে পৃথক পৃথকভাবে অপরাধি, প্রত্যেকে নিজ নিজ অপরাধের শাস্তি লাভ করে। তাদের শাস্তিকে সম্মিলিত করে দেখার কোন সুযোগ নাই।
Chondro
জানুয়ারি ১২, ২০১২ at ৭:১০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাইজান লেখাটা আমার অনেকদিনের ভুল ভাঙ্গাই দিল। ধন্যবাদ।
সাদাত
জানুয়ারি ১২, ২০১২ at ১:১৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আলহামদুলিল্লাহ। আমার লেখাটা সার্থক হলো।
শাহবাজ নজরুল
জানুয়ারি ১২, ২০১২ at ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইসলাম বিদ্বেষী বাংলা নাস্তিক গোষ্ঠীর কাছে সারাজীবন শুনে গেলাম, মুহাম্মাদ (সাঃ) কীভাবে এমন নির্মম ভাবে ঐ ৮ জন লোককে হত্যা করলেন। তারা সবসময় ঐ ৮ বিশ্বাসঘাতককে কী নির্মম ভাবে প্রাণদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছিল তার সুপটু চিত্রকল্প আঁকে; আর ঐ ৮ জন যে একইভাবে রাখালকে হত্যা করে উট নিয়ে পালিয়ে যায় তা তারা কখনো বলেনা। ইংরেজীতে আছে, Tit for tat । কিন্তু তারা কখনো Tat এর কথা বলেনা। গোয়েবলসীয় কায়দায় কেবল রাসুল (সাঃ) কীভাবে তাদের হত্যা করলেন সেটা বলে। ঐসব ভণ্ড ইসলাম বিশেষজ্ঞদের যুক্তিতে পানি ঢেলে দেয়ার জন্যে আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। সত্যের মিশন এগিয়ে চলুক।
বুড়ো শালিক
জানুয়ারি ১২, ২০১২ at ২:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অসাধারণ লেখা । যারা জেগে ঘুমায়, তারা জাগবে না, জানি। কিন্তু যারা আসলেই ঘুমিয়ে আছে, তারা জাগুক, এই কামনা।
শামস
জানুয়ারি ১২, ২০১২ at ৬:২২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এটাই হল আসল কথা। কিন্তু তা বুঝার সামর্থ্য কি তাদের আছে! মাঝে মাঝে মনে হয় ইসলাম বিদ্বেষী সাইট থেকে কপি-পেস্ট করতে গিয়ে সাধারণ চিন্তাশক্তিও তারা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু ভুল ধরিয়ে দিলে সাধারণ সৌজন্যতাও প্রকাশ করে না। এটা কি ঔদ্ধত্য থেকে নাকি দু'নম্বরী প্রকাশ পেয়ে যাবার ভয় থেকে।
শিশির
জানুয়ারি ১৩, ২০১২ at ১২:২১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এইরকম একটা হাদীস নিয়ে এক জায়গায় সমালোচনা দেখেছিলাম যার মাধ্যমে হাদীসসমূহকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে, কিন্তু সময়াভাবে বিষয়টা নিয়ে পড়াশুনা করতে পারি নাই। তাই এমন চুম্বক লেখনী পড়ে ভালো লাগলো এবং সত্যি ঘটনাটা জানতে পারলাম। লেখককে ধন্যবাদ।
ইবনে বতুতা
জানুয়ারি ১৩, ২০১২ at ১০:০০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আনাস(রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের চোখ উপড়ে ফেলেন কারণ তারাও রাখালের চোখ উপড়ে ফেলেছিল। [সূত্র: Muslim Book: 16, Chapter: 2, Number: 4137 ]
এই হাদিস কার মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়েছিল। আনাস রাঃ এই ঘটনার কত বছর পরে অন্যের কাছে বর্ণনা করেছিলেন! তার কোন ইতিহাস জানা আছে কি?
তারা তার [রাখালের] হাত-পা কেটে দিলো এবং তার জিহ্বা এবং চোখ কাঁটা দিয়ে খুঁচালো, যার ফলশ্রুতিতে তিনি মারা গেলেন। [সূত্র: ইবনে সা’দের ‘ কিতাব আত তাবাক্বাত আল কাবির’, ২ খ:, পৃ: ১১৪, (ইংরেজি অনুবাদ- এস মঈনুল হক)]
ইবনে সাদ কার কাছ থেকে এই তথ্য পেয়েছেন তা কি জানতে পারি?
রাসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষ হিসেবে দয়ালু হতে পারেন, রহমাতাল্লিল আলামিন হতে পারেন, নিজের হত্যা চেষ্টাকারিকে তিনি মাফ করে দিতে পারেন, তার খাবারে কেউ মিশিয়ে দিলে তাকে ছেড়ে দিতে পারেন, ঘুমন্ত অবস্থায় তার মাথার ওপর তলোয়ার উত্তোলনকারির প্রতি দয়া দেখাতে পারেন; কিন্তু বিচারকের আসনে বসে নির্মম, নিষ্ঠুর, পাশবিক হত্যাকাণ্ড সংঘটনকারিদের প্রতি দয়া, সহানুভুতি দেখাবার কোন অধিকার তার নেই, থাকতে পারে না।
আচ্ছা নবী সাহেব কি কোরআনের নির্দেশের বাইরে বিচার করার ক্ষমতা রাখেন কিনা?
এই বিষয়ে জবাব পেলে আলোচনা আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে।
কারণ এই ঘটনা নিয়ে মুসলিমরা মায়াকান্না করা যাদের অভ্যাস, তারা তা করতে থাকুক… বলে কেউ বেচে যেতে চান, আর কেউ কেউ তা ডিফেন্ড করতে গিয়ে নানা ধরণের দূর্ব্ল যুক্তি তোলে ধরেন। এতে এন্টি মুসলিমদের হাসির খোরাক যোগান দেয়া হয়।
ধন্যবাদ।
কিংশুক
জানুয়ারি ১৬, ২০১২ at ৯:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ ইবনে বতুতা, মাফ করবেন; আমি বুজতে পারছি আপনি অনেক জানেন এবং প্রশ্নগুলো সাদাত ভাইকে করেছেন । তবে সাদাত ভাইয়ের পোষ্টে আপনার প্রতিক্রিয়ার সাথে এধরনের হাদিস নিয়ে শিয়াদের প্রতিক্রিয়ার হুবহু মিল পাচ্ছি । শিয়াদের হাজারো ব্যাখ্যা দিলেও অনঢ় থাকে, দেখা যাক সাদাত ভাই আপনাকে বুজাতে পারেন কিনা।
ইবনে বতুতা
জানুয়ারি ১৭, ২০১২ at ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই এই শিয়া টিয়া বলে আর কত বিভাজিত করবেন এক আল্লাহ্, এক রাসুল, এক কোরআন এক কেবলার দীন কে??? জ্ঞান চর্চার জন্য যদি মুসলিমরা বেদ্বীন দেশ চীনে যেতে পারে তাহলে কি শীয়াদের কাছে কোন সত্য পেলে তা গ্রহণ করতে পারবেনা? আজ আমাদের উচিত কে শীয়া কে সুন্নি তা বিচার না করে, কোরআন সুন্নাহ কি নির্দেশ আছে সেই ভাবেই বিচার করে চলা।
আমি যে কারণে সাদাত ভাইয়ের পোস্টে প্রশ্ন করেছিলাম তিনি যদি উত্তর দিয়ে যেতেন তাহলে শেষ পর্যন্ত কিছু সত্য প্রকাশ পেত। যাক যেহেতু তিনি আমার সাথে আলাপ করবেন বুঝতে পেরেছি। তাই এই বিষয় নিয়ে আমি নিজে প্রবন্ধ উপস্থাপনের চেস্টা করে যাব ইনশাল্লাহ! কারণ বিষয়টি খুব জটিল এবং সমাধান টানতে হলে দীঘ সময়ের প্রয়োজন।
শুধু একটি কথা বলছি আ্রমি যতদূর দেখেছি- এত বড় একটি শাস্তি রাসুল সাঃ দিলেন আর তার স্বাক্ষী শুধু একজন থাকবেন এমন কথা কি বাস্তব সম্মত! এই একই হাদিস আমাদের কাছে ভিন্ন ব্যাক্তির মারফতে পৌছলেও মুলত! হাদিসটি এসেছে আনাস রাঃ বরাতে। তা আবুবকর, উমর, উসমান, আলী, জায়েদ রাঃ প্রমুখরা যারা সব সময় রাসুলের সাথে থাকতেন তাদের কারো বরাতে কেন এলো না?
আমি ধরে নিচ্ছি যে- ঘটনা সত্য কিন্তু ইসলামী শরিয়া মোতাবেক কাউকে শাস্তি দিতে হলে, বিচারে সম্মুখিন করে আত্মপক্ষ সমর্থন, স্বাক্ষীর গাওয়া, যদি স্বাক্ষী পাওয়া না যায় তাহলে অভিযুক্তরা যদি অপরাধ স্বীকার না করে তাহলে কসমের ব্যবহার ইত্যাদি কিছু ফরমালিটি ইসলামী আদালত করতে বাধ্য। কিন্তু এই ঘটনার কোন আগা এবং গুড়া কিছু উল্লেখ নেই, শুধু শাস্তি কার্য কর করার উল্লেখ থাকায় রাসুল সাঃ শানকে অবমুল্যায়ন করার পথ সুগম করে দিচ্ছে।
আর আমি এই নিয়ে আলোচনা করতেই চেয়েছিলাম যাতে যতটুকু পারা যায় তার একটি সমাধান বের করতে। আল্লাহ্ যদি আমাকে নেটের মধ্যে রাখেন তাহলে চেষ্টা করব আগামিতে।
কিংশুক
জানুয়ারি ১৭, ২০১২ at ১:১৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ । বুজতে পেরেছি; আল্লাহপাক আপনার প্রচেষ্টা কবুল করুন।
ফুয়াদ দীনহীন
জানুয়ারি ১৭, ২০১২ at ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Muhammad Hasan
জানুয়ারি ২০, ২০১২ at ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Thank u very much to make this Hadith Clear to us with authentic Proof.
mehdimahbub
এপ্রিল ২৭, ২০১২ at ৬:১৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
The more U read The more U learn.
The more U learn The more U light.
The more U light The more U fight.
Pls be easy, not busy.
May ALLAH Bless U & U.
ALLAH Hafeez.
মাহি উদ্দিন ফরহাদ
মে ২, ২০১২ at ১:১৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টের জন্য।
শাফিউর রহমান ফারাবী
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৪ at ৯:১৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অসাধারন একটা লেখা ভাই।
jahir
মার্চ ৩১, ২০১৬ at ২:২৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Muslim Book: 16, Chapter: 2, Number: 4137 er hadis er reference ami net e pai nai, apni hadis ta abar den jekane oi ihudi ra rakaler hat, pa ketesilo. jodi shotti oi ihudi rakaler hat pa kete thake ami moni kori nobi tader hat , pa kete tik kaj koren nai
সাদাত
এপ্রিল ১, ২০১৬ at ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভালো করে সার্চ করেন, না পাবার কারণ নাই। এই মাত্র সার্চ করে আমি পেলাম। কিন্তু কথা হচ্ছে ঐ হাদিস সার্চ করে আপনি কী করবেন, যেহেতু সিদ্ধান্ত আপনি আগেই নিয়ে নিয়েছেন।
jahir
এপ্রিল ১, ২০১৬ at ২:৪৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ok, i got the hadis. http://hadith.islamicevents.sg/muslim/hadith/16/4137
মাহফুজ
এপ্রিল ১, ২০১৬ at ৮:৩৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই jahir,
সূরা আল মায়েদাহ
(৫:৪৫) আমি এতে (তাওরাতে) তাদের (ইহুদিদের) প্রতি আদেশ দিয়েছিলাম যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চক্ষুর বিনিময়ে চক্ষু, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং যখম সমূহের বিনিময়ে উচিত শাস্তি। অতঃপর যে এর জন্য (taṣaddaqa) সাদকা করে, তখন তা তার জন্য প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ হয়ে যায়। আর যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদনুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই জালিম।
Translation of Sahih Muslim, Book 16:
The Book Pertaining to the Oath, for Establishing the Responsibility of Murders, Fighting, Requital and Blood-Wit (Kitab Al-Kitab Al-Qasama wal-Muharaba wal-Qisas wal-Diyat)
Chapter 2: PERTAINING TO THE COMBATANTS AND APOSTATES
Book 016, Number 4130: Anas b. Malik reported that some people belonging (to the tribe) of 'Uraina came to Allah's Messenger (may peace be upon him) at Medina, but they found its climate uncogenial. So Allah's Messenger (may peace be upon him) said to them: If you so like, you may go to the camels of Sadaqa and drink their milk and urine. They did so and were all right. They then fell upon the shepherds and killed them and turned apostates from Islam and drove off the camels of the Prophet (may peace be upon him). This news reached Allah's Apostle (may peace be upon him) and he sent (people) on their track and they were (brought) and handed over to him. He (the Holy Prophet) got their hands cut off, and their feet, and put out their eyes, and threw them on the stony ground until they died.
Book 016, Number 4131: Anas reported: Eight men of the tribe of 'Ukl came to Allah's Messenger (may peace be upon him) and swore allegiance to him on Islam, but found the climate of that land uncogenial to their health and thus they became sick, and they made complaint of that to Allah's Messenger (may peace be upon him), and he said: Why don't you go to (the fold) of our camels along with our shepherd, and make use of their milk and urine. They said: Yes. They set out and drank their (camels') milk and urine and regained their health. They killed the shepherd and drove away the camels. This (news) reached Allah's Messenger (may peace be upon him) and he sent them on their track and they were caught and brought to him (the Holy Prophet). He commanded about them, and (thus) their hands and feet were cut off and their eyes were gouged and then they were thrown in the sun, until they died.
This hadith has been narrated on the authority of Ibn al-Sabbah with a slight variation of words.
সুতরাং রাসূল (সাঃ) নিঃসন্দেহে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন।
মাহফুজ
এপ্রিল ১, ২০১৬ at ৯:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
(০৫:৩৩) যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং ভূপৃষ্ঠে সন্ত্রাস বা বিপর্যয় (ধ্বংস করে দেওয়া, নষ্ট করা, বলপূর্বক কারো সম্পদ কেড়ে নেওয়া) সৃষ্টির অপচেষ্টা করে, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।
Book 016, Number 4134:
Anas b. Malik reported: There came to Allah's Messenger (may peace be upon him) eight persons from the tribe of 'Ukl, but with this addition that he did not cauterise (the wounds which hid been inflicted upon them while punishing them).
Book 016, Number 4137:
Anas reported that Allah's Messenger (may peace be upon him) pierced their eyes because they had pierced the eyes of the shepherds.
ডাকাতি বা ছিন্তাই করার সময় নিরীহ মানুষের সম্পদ লুন্ঠন করা হয়। তাই ডাকাতি, ছিন্তাই, রাহাজানি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, জুলুম, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ইত্যাদির মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে জনগনের ক্ষতি সাধন করা হয় ও অস্থিতিশীলতা বা বিপর্যয়কর অবস্থার সৃষ্টি হয়। আর এ ধরনের অমানবিক কাজের সাথে যারা জড়িত থাকবে তাদেরকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। যেহেতু আল-কোরআনের বিধানে এই ধরনের অপরাধের শাস্তির ক্ষেত্রে মৃত্যুদন্ড ছাড়াও আরও কয়েকটি অপশন (দেশ থেকে নির্বাসন, বিপরীত দিক থেকে হাত-পা কর্তন ও শূলীতে চড়ানো) দেয়া হয়েছে। তাই সবার ক্ষেত্রে একই শাস্তি নয়, বরং ক্ষেত্র ও পাত্র ভেদে শাস্তিরও তারতম্য হতে পারে। যেহেতু রোগমুক্তি ঘটার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ তো দূরে থাক, ইহুদিরা রাখালের উটগুলো শুধু ছিন্তাই নয়, বরং উল্টো রাখালকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। তাই রাসূল (সাঃ) এই বিশ্বাসঘাতকদের জন্য সঠিক বিচারই করেছেন এবং উপযুক্ত শাস্তিই দিয়েছেন।