অনেক দিন যাবত বিজ্ঞানীরা চিন্তা করতে ছিলেন, চাঁদের সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর সাহিত অন্য একটি ছোট গ্রহের আঘাতের ফলে। এতে ঐ গ্রহের একটা অংশ পৃথিবীর সাহিত জুড়ে যায় এবং চাঁদ হচ্ছে ঐ গ্রহের বাকি অংশ। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এই ব্যাপারে নতুন তথ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। তারা চাঁদ থেকে আনা অক্সিজেনের আইসোপ্টোপ পরীক্ষা করে দেখেছেন যে এটা পৃথিবীর সাহিত একদম মিলে যায়। এর ফলে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালোফরনিয়ার বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে চাঁদ কোন একটা গ্রহেব্ বাকি অংশ নয়।

ধারণা করা হচ্ছে, থিয়া একটি ছোট গ্রহ পৃথিবীর অবস্থানে থাকা আরেকটি গ্রহের সাথে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষ এতটাই ব্যাপক ছিল যে দুটো মিশ্রিত হয়ে যায় এবং দুটি সম-আয়তনের গ্রহতে পরিণত হয় এবং আবারো সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তারপর, আলাদা হয়ে একটি বড় গ্রহ পৃথিবী এবং এর চারপাশে ডিস্ক তৈরি হয় যা পরবর্তীতে চাঁদে পরিণত হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে। এবং পৃথিবীর অবস্থানে থাকা গ্রহটির বয়স তখন ছিল ১০ কোটি বছর। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ৪৫ ডিগ্রি কোণায় থিয়া পৃথিবীর অবস্থানে থাকা গ্রহটিকে আঘাত করেছিল। এ জন্যই পৃথিবীতে থাকা ক্যামিক্যালের সাহিত চাঁদের ক্যামিক্যলের মিল পাওয়া গিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা আপেলো ১২, ১৫ এবং ১৭ মিশন দিয়ে চাঁদ থেকে আনা ৭টি পাথর পরীক্ষা করে দেখেন। অন্যদিকে, পৃথিবীর অগ্নিগিরিতে পাওয়া পাথর নিয়ে একই পরীক্ষা চালানো হয়। এজন্য পৃথিবীতে পাওয়া অক্সিজেনকে বেচে নেওয়া হয়। O-16 অক্সিজেনের ব্যাপক ভাবে পাওয়া পরমাণু যা মোট অক্সিজেনের ৯৯%, অন্যদিকে ভারী অক্সিজেনের পরিমাণ খুব কম। ভারী অক্সিজেন হল, 0-17 যেখানে একটি নিউট্রন কণা বেশী থাকে এবং O-18 যেখানে দুইটি নিউট্রন কণা বেশী থাকে, উল্লেখ্য যে O-16 এ ৮টি প্রটোন এবং ৮টি নিউট্রন থাকে। বিজ্ঞানীরা আগে ধারণা করতেন, পৃথিবীর অক্সিজেনের মত অনুপাত চাঁদের অক্সিজেনের আইসোপটোপের অনুপাত এক নয়। এর ভিত্তিতে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, চাঁদ অন্য একটি গ্রহের বাকি অংশ। কিন্তু নতুন পরীক্ষায় এইটাই প্রমাণিত হয় যে, চাঁদ এবং পৃথিবীর অক্সিজেনের আইসোপ্টোপের অনুপাত প্রায় একই রকম।
এই জন্য এই সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে যে, চাঁদ এবং পৃথিবী একই উপাদান দ্বারা ঘটিত এবং এই উপাদানের সৃষ্টি হয়েছিল দুটি গ্রহের সংঘর্ষের ফলে। এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে সাইন্স জার্নালে|
তথ্য সূত্র ও ছবি কৃতজ্ঞতাঃ
১ The Sydney Morning Herald, http://www.smh.com.au/technology/sci-tech/earth-was-created-by-two-planets-colliding-scientists-conclude-20160131-gmhxcu.html?
2 Nasa, NASA Lunar Scientists Develop New Theory on Earth and Moon Formation, http://www.nasa.gov/topics/solarsystem/features/moon_formation.html

কিংশুক
জানুয়ারি ৩১, ২০১৬ at ৮:৫২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নতুন তথ্য জানলাম। এতদিন বিজ্ঞানীরা তাহলে ভুল সিদ্ধান্ত মানুষকে জানিয়ে আসছিলেন !
ফাতমী
ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৬ at ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
না, তারা ভুল তথ্য জানিয়ে আসছিলেন না, তারা যতটুকু জানতেন, ততটুকুই বলতেছিলেন। বিজ্ঞান এভাবেই এগিয়ে যায়, নতুন অধিকতর সঠিক তথ্য পূর্বের ভুল তথ্যকে বাতিল করে দেয়। ধন্যবাদ।
মাহফুজ
ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৬ at ১১:০০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তাহলে তো পৃথিবীর অবস্থানে থাকা গ্রহটিকে 'আদি পৃথিবী' হিসেবে আখ্যায়িত করাই যথাযথ হবে, যার সাথে খিয়ার সংঘর্ষ হয়েছিল প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে। সুতরাং বলা যায় যে, আগে থেকেই সৃষ্ট পৃথিবীটা আবারও নুতন রূপে পরিগঠিত হয়েছিল প্রায় ৪৫০ কোটি বছর আগে।
এখানে আমন্ত্রণ- আল-কোরআন ও বিজ্ঞানের আলোকে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি-
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ at ৮:৩৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবদ মাহোফুজ ভাই, আপনার সাইটে গিয়েছিলাম। পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
মুনিম সিদ্দিকী
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ at ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নতুন কিছু জানতে পারলাম। ব্লগ পোস্ট করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ফাতমী
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ at ৮:৩৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ মুনিম ভাই।