সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিবর্তনবাদ কি বৈজ্ঞানিক মতবাদ? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে এই প্রবন্ধে। সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিবর্তনবাদ হতে পারে বিজ্ঞানরূপী অপবিজ্ঞান, অথবা প্রকৃত বিজ্ঞান, অথবা বিজ্ঞান-বহির্ভূত বিষয় বা নন-সাইন্স। প্রথমে সৃষ্টিতত্ত্বকে বিবেচনায় ধরে, এবং পরবর্তিতে বিবর্তনবাদকে বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডে পরীক্ষা করা হবে।
প্রথম প্রশ্ন, বিজ্ঞান কী? বিজ্ঞান হল সেই জ্ঞান যা পরীক্ষা, নিরীক্ষা, অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের দ্বারা প্রাপ্ত হয়েছে, যা অন্যের দ্বারা পুনরায় বিবেচনার যোগ্য। একটা মতবাদের কি কি বিষয় থাকলে তাকে বিজ্ঞান বলা যায় তা "বিজ্ঞান হবার যোগ্যতা" নামক প্রবন্ধে আলোচনা করেছি। অন্যদিকে, সুডো-সাইন্স বা বিজ্ঞানরূপী অপবিজ্ঞান হল, যা বিজ্ঞানের নামে প্রচলিত কিন্তু বিজ্ঞানের যোগ্যতায় অনুর্তীর্ণ এবং অন্যের দ্বারা পুনরায় পরীক্ষণ অযোগ্য। এছাড়াও আরেকটা বিষয় আছে, যাকে আমরা বলে থাকি নন-সাইন্স বা বিজ্ঞানের বাহিরের বিষয়, যা বিজ্ঞানের দ্বারা পরীক্ষণযোগ্য নয় কিন্তু বিশ্বাসের দ্বারা নির্ধারিত, যেমনঃ ধর্ম। কোন কিছু নন-সাইন্স বা বিজ্ঞান-বহির্ভূত বিষয় হলেই তাহা মিথ্যা হয়ে যায় না। যেমন বহু হাজার বছর আগে মানুষ ইলেকট্রনের অস্তিত্ব এর ব্যাপারে কিছু জানতো না, কারণ তখনকার সময়ের টেকনোলজির দ্বারা এটি পর্যবেক্ষনের অযোগ্য ছিল অর্থ্যাত ঐ সময় তাহা বিজ্ঞানের বাহিরের বিষয় ছিল। কিন্তু ইলেকট্রন তখনও ছিল এখনো আছে। অর্থ্যাত, বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষনের বাহিরেও সত্যের অস্তিত্ব রয়েছে। সহজ ভাষায় বিজ্ঞানের বাহিরেও সত্যের বিদ্যমান আছে।
সৃষ্টিতত্ত্ব কি বিজ্ঞানিক মতবাদঃ
প্রথম প্রশ্ন হল, সৃষ্টিতত্ত্ব কি? সৃষ্টিতত্ত্ব হল এই মহাবিশ্ব মহান আল্লাহ পাক সৃষ্টি করেছেন। তথাপি এখানে থাকা প্রাণীজগৎও ঈশ্বরের সৃষ্টি। প্রবন্ধে ইসলামী সৃষ্টিতত্ত্বই বিবেচ্য হবে। প্রশ্ন হল, সৃষ্টিতত্ব কি বৈজ্ঞানিক? উওর হল না, কারণ মহাবিশ্ব যে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তা পর্যবেক্ষনযোগ্য নয়। অর্থ্যাত আপনি নিজ চোখে দেখতে পারবেন না স্রষ্টা এই পৃথিবী সৃষ্টি করতেছেন। সেজন্য সৃষ্টিতত্ব হল ধর্ম এবং নন-সাইন্স। এটা এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষনের বাহিরে এবং যেহেতু পর্যবেক্ষন ছাড়া বিজ্ঞান হয় না সেহেতু এটি বিজ্ঞান নয়। তাছাড়া, পরের প্রশ্ন হল, ঈশ্বর কি? ঈশ্বরের কোন মানবীয় সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট নেই যেহেতু তিনি স্রষ্টা তাই কোন প্রকার সৃষ্টি দিয়ে তাহার তুলনা দেওয়া যায় না, যেমন তিনি মানুষের মত জন্মান না, মানুষের মত ৫ থেকে ৭ ফুট উচ্চতার হন না ইত্যাদি, সেজন্য স্রষ্টা নিজেই মানবীয় ক্ষমতায় সকল নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণের বাহিরে; যেহেতু "তাহার সমতুল্য আর কেহই নাই" এবং যেহেতু "তাহার কোন তুলনা নেই"। যাহা বা যে জ্ঞান মানুষের ক্ষমতার বাহিরে তাহা বিজ্ঞানের অংশ নয়, তাহা দর্শন ও ধর্মের বিষয়। অতএব, ইসলামে বর্নিত সৃষ্টিতত্ত্ব সম্পূর্ন ধর্মিয় এবং নন-সাইন্স বা বিজ্ঞানের আওয়তার বাহিরে। এবং সৃষ্টতত্ত্বের বড় অনুসিদ্ধান্ত হল, "By Chance" কিছুই উপ্তত্তি হয় নাই, সব কিছু মহান আল্লাহ পাকের বিশেষ ইচ্ছায় হয়েছে, এবং সকল প্রাণীগজত আল্লাহ পাকের ইচ্ছায় সৃষ্টি হয়েছে।
যেসব কারণের সৃষ্টিতত্ত্ব নন-সাইন্স বা বিজ্ঞানের আওয়তার বাহিরেঃ-
- সৃষ্টিতত্ত্ব ধর্মের দ্বারা বর্ননাকৃত, এবং ধর্মের আলোচ্য বিষয় বলে বিবেচিত।
- সৃষ্টিতত্ত্ব পর্যবেক্ষনযোগ্য নয়।
- সৃষ্টিতত্ত্ব কোন প্রকার পক্রিয়ার দ্বারা পরীক্ষণযোগ্য নয়, এটিকে কোনভাবে কোন পরীক্ষার আওয়তায় আনা যায় না।
- সৃষ্টিতত্ত্বের মূল ভিত্তি হল স্রষ্টা, এবং তিনি স্থান ও কালের ঊর্ধ্বে, সেহেতু তিনি স্থান ও কালের দ্বারা আবদ্ধ মানুষের ক্ষমতার দ্বারা মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। সেজন্যই বলা হয়ে থাকে, আমাদের মনের মধ্যে আল্লাহ পাক সম্পর্কে যত ধরনের ধারণা এসে থাকে, সবকটি থেকে আল্লাহ পাক পবিত্র। আল্লাহ পাককে ততদূর জানা যায়, যতদূর তিনি নিজে নিজেকে প্রকাশ করেছেন।
- সৃষ্টিতত্ত্ব ফলসিফায়েবল নয়, এটি ফলসিফিকশনের ঊর্ধ্বে।
এই জন্যই যারা বলে থাকেন, "বিজ্ঞান স্রষ্টা নাই প্রমাণ করেছে" তারা নিজেরাই বিজ্ঞান-বিরোধী বক্তব্য দেন। ভবিষ্যতে হয়ত সৃষ্টিতত্ত্ব পর্যবেক্ষনযোগ্য হতে পারে অথবা সৃষ্টিতত্ত্বের কোন একটা অংশ বা অনুসিদ্ধান্ত আল্লাহ পাকের ইচ্ছা হলে পর্যবেক্ষনযোগ্য হতে পারে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তা নয়। এবং নিচের আয়াত প্রমাণ করে "তিনিই আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই সব কিছুর স্রষ্টা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তিনি প্রত্যেক বস্তুর কার্যনির্বাহী। দৃষ্টিসমূহ তাঁকে পেতে পারে না, অবশ্য তিনি দৃষ্টিসমূহকে পেতে পারেন। তিনি অত্যন্ত সুক্ষদর্শী, সুবিজ্ঞ।" - (আল কোরান, ৬ঃ১০২-১০৩) যে আল্লাহ পাক স্বয়ং মানুষের দৃষ্টির দ্বারা পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষনের ঊর্ধ্বে।
বিবর্তনবাদের বিজ্ঞান হিসাবে অবস্থানঃ
সৃষ্টিতত্ত্ব ও বিবর্তনবাদের মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। বিবর্তনবাদ একটি বৈজ্ঞানিত তত্ত্ব হিসাবে প্রকাশিত, অন্যদিকে সৃষ্টিতত্ব মানুষের হাজার বছরের বিশ্বাস। তাই, বিবর্তনবাদকে সৃষ্টিতত্ত্বের মতো মাপা সম্ভবও নয় এবং গ্রহণযোগ্য নয়। তাই বিবর্তনবাদকে শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসাবে বিজ্ঞানের পাল্লায় মাপতে হবে। অন্যদিকে সৃষ্টিতত্ত্ব বিজ্ঞানের বাহিরেও বিশ্বাস আকারে অবস্থান করতে পারে।
বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হিসাবে বিবর্তনবাদের সমস্যাঃ
- বিবর্তনবাদ পরীক্ষা করা খুবই কঠিন। ধরুন, বিবর্তনবাদের অনুসিদ্ধান্ত, এইপের মতো কোন প্রাচীন প্রাণী থেকে বিবর্তিত হয়ে মানুষের উৎপত্তি হয়েছে। এই অনুসিদ্ধান্ত প্রমাণ করতে হলে, কোন এইপ জাতিয় প্রাণীকে উপযুক্ত পরিবেশ দিয়ে মানুষে রূপান্তরিত করতে হবে, যা বর্তমানে অসম্ভব। তার মানে, বিবর্তনবাদ ফলসিফায়েবল না।
- বিবর্তনবাদ ভবিষ্যৎবাণী করতে পারে না। প্রতিটি ভাল বিজ্ঞানিক তত্ত্ব ভবিষ্যৎবানী করতে পারে। এ জন্যই তত্ত্বগুলি বাস্তব জীবনে কাজ করে। বিবর্তনবাদ দিয়ে কোন ভবিষ্যৎবানী করা যায় না। তাই এটি এখনও ভাল বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নয়।
বিবর্তনবাদকে ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এটি ব্যাখ্যা-নির্ভর, পরীক্ষামূলক প্রমাণ-নির্ভর নয়। বহু বছর আগের বিভিন্ন কিছু দেখে ব্যাখ্যা করা হয়, এটি এভাবে, ওভাবে ঘটেছিল। কিন্তু ব্যাখ্যা-নির্ভর বিজ্ঞানের সমস্যা আছে। এগুলো হলঃ-
- একই ঘটনার সমকক্ষক ও সমযুক্তি সম্পূর্ন ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা হতে পারে। কিন্তু কিভাবে নির্ধারন করা হবে কোন ব্যাখ্যাটি সঠিক। যেমনঃ বিবর্তনবাদের একটা ছোট অনুসিদ্ধান্ত হল, by Chance প্রাণীজগতের উৎপত্তি হয়ে গেছে। সেই একই অনুসিদ্ধান্তকে আবার এইভাবেও বলা যায়, ঈশ্বরের ইচ্ছায় প্রাণী জগতের সৃষ্টি হয়ে গেছে। তাহলে আপনি কিভাবে নির্ধারন করবেন কোনটা সঠিক? বিষয়টাকে আরও সহজ করে বলা যায়, বিবর্তনবাদ অনুসারে প্রাণী জগত নিজেদের কপি করে, কপি করতে গিয়ে অনেক সময় ভুলভাল হয়ে যায়, মানে ভাল মিউটেশন হয়ে যায়, এবং সেই ভাল মিউটেশন প্রজাতিতে থেকে যায়। এভাবে নতুন নতুন মিউটেশন যুক্ত হতে হতে একসময় নতুন প্রজাতির উৎপত্তি হয়। উপরের অবসারভেশনকে আবার এভাবেও বলা যায়, প্রাণী জগতে মিউটেশন হয়, কিন্তু মিউটেশনের জন্য প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে কিন্তু স্রষ্টা যে মিউটেশন পছন্দ করেন সেটাতে খারাপ হয়না, এভাবে একটা একটা সময় পরে স্রষ্টা নতুন প্রজাতির উৎপত্তি ঘটান। এই একই ঘটনাকে অন্যরা আরও ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির হতে পারে। যেগুলো কারো কারো কাছে মনে হতে পারে অধিক যুক্তিযুক্ত। সেই ক্ষেত্রে কোনটা সঠিক হিসাবে বিবেচনা করবেন?
- আবার আমদের জানা ফ্যাক্টরগুলির বাহিরেও অনেক ফ্যাক্টর ব্যাখ্যাকৃত ঘটনায় লুকিয়ে থাকতে পারে। এই অজানা ফ্যাক্টরগুলির কারণে আমরা ভুল সিদ্ধান্তে আসতে পারি!!!
- সম্পূর্ন বুঝতে পড়ুনঃ Stanford, Kyle, "Underdetermination of Scientific Theory", The Stanford Encyclopedia of Philosophy (Spring 2016 Edition), Edward N. Zalta (ed.), forthcoming URL = http://plato.stanford.edu/archives/spr2016/entries/scientific-underdetermination/
খুবই সূক্ষ্ম দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দেখবেন বিবর্তনের পক্ষের প্রমাণগুলি অন্য ভাবে ব্যাখ্যা করলে সৃষ্টিবাদের প্রমাণে পরিণত করা যায়!!!!! এজন্য বিজ্ঞান হিসাবে বিবর্তনবাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।
কপি করার জন্য সহায়তাঃ ফাতমী, তারিখ ১৬/০২/২০১৬, সদালাপ, লিংকঃ http://www.shodalap.org/fathmee/31501

shahriar
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৬ at ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Well said,
jajak-allah.
ফাতমী
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৬ at ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ
মাহফুজ
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৬ at ৮:৪৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি যতটুকু বুঝেছি তাতে মনে হয় আপনার প্রবন্ধের মূল বক্তব্য হলো- ‘সৃষ্টিতত্ত্ব এবং বিবর্তনবাদ’ এ দুটোর কোনটাই বৈজ্ঞানিক নয় বরং মূলত বিশ্বাসই এগুলোর মৌল ভিত্তি।
সুতরাং যারা স্রষ্টা আছেন বলে বিশ্বাস করেন তাদের চিন্তা-চেতনা ও কর্ম সৃষ্টিতত্বকে (যেমন মুসলিমরা ইসলামী সৃষ্টিতত্বে) ঘিরে আবর্তীত হয় এবং যারা স্রষ্টা নেই বলে বিশ্বাস করেন তাদের চিন্তা-চেতনা ও কর্ম বিবর্তনবাদকে ঘিরে আবর্তীত হয়। আবার বিশ্বাসটা পাল্টে গেলে চিন্তা-চেতনাও আমুল উল্টে যেতে পারে।
যেহেতু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে কোন পক্ষই তাদের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ১০০% সন্দেহমুক্ত হতে পারেন না, তাই আপনার বক্তব্য অনুসারে এক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই কি অন্ধ বিশ্বাসী হিসেবে ধরে নেয়াই যৌক্তিক হবে না?
যদি তাই হয়, তাহলে বিবর্তনবাদে বিশ্বাসী কিংবা আল-কোরআনের সৃষ্টিতত্ত্বে বিশ্বাসী কোন গবেষককে কি আপনি অন্ধবিশ্বাসী হিসেবে আখ্যায়িত করবেন?
//খুবই সূক্ষ্ম দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে দেখবেন বিবর্তনের পক্ষের প্রমাণগুলি অন্য ভাবে ব্যাখ্যা করলে সৃষ্টিতত্ত্বের প্রমাণে পরিণত করা যায়।// -- এই বক্তব্যের সাথে সহমত পোষণ করি।
আর আমি বিশ্বাস করি, অবিকৃত ঐশী ধর্ম ও সত্যাশ্রয়ী বিজ্ঞানের মাঝে সব সময়ই একটা নিবিড় সম্পর্ক ও তথ্যগত মৌলিক সামঞ্জস্য বিরাজ করে।
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৬ at ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সৃষ্টিতত্ব বিশ্বাস বলার জন্য সৃষ্টিতত্ব নিজেই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে, এবং সৃষ্টিবাদকে যুক্তি ও দর্শন দ্বারা প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বিবর্তনবাদ বিজ্ঞান হিসাবে দাড়িয়েও বৈজ্ঞানিক যোগ্যতার মানদণ্ডে অনুসারে তত্বে সমস্যা থাকায় অসুবিধাজনক অবস্থানে আছে। কারণ যে বিষয় জানা মানুষের ক্ষমতার বাহিরে সে সব বিষয় বিশ্বাস দ্বারা নির্ধারিত হয়। তাই সৃষ্টিতত্বে বিশ্বাসীরা অন্ধ-বিশ্বাসী সেটা বলা যাচ্ছে না। কিন্তু একটা বিষয় পুরোপরি বিজ্ঞানের মত না-হওয়া সত্বেও, জবরদস্তি সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দেওয়াকে, অন্ধবিশ্বাসীর কাজ বলেই আমি মনে করি, যা বিবর্তনবাদীরা করে থাকেন।
মাহফুজ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬ at ১১:১০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার প্রবন্ধের শিরোনাম- //সৃষ্টিতত্ত্ব ও বিবর্তনবাদ এর বিজ্ঞান হিসাবে অবস্থান//
কিন্তু আপনি আবার বলেছেন- //সৃষ্টিবাদকে যুক্তি ও দর্শন দ্বারা প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে//
যুক্তি ও দর্শন দ্বারা প্রমাণ করা বলতে আপনি কি বোঝাতে চেয়েছেন?
কোন বিষয়কে ‘যুক্তি ও দর্শন’ দ্বারা প্রমাণ করা হলে বিজ্ঞান হিসাবে তার অবস্থান কতটা গ্রহণযোগ্য হবে?
ফাতমী
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬ at ৮:১৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মাহফুজ ভাই, ধন্যবাদ কমেন্টের জন্য। কমেন্ট আর পোস্ট, দুটো ভিন্ন বিষয়। যাইহোক, যুক্তি ও দর্শন দ্বারা প্রমাণিত কিছু হলেই সেটা বিজ্ঞান হয় না, কারণে যে স্থানে গিয়ে বিজ্ঞান শেষ হয়, সেই স্থান থেকেই দর্শনের শুরু। তাই কেউ প্রশ্ন করে না সর্য পূর্ব গগনে উদিত হয় কি না। যে প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞান প্রমাণ সহ দিতে পারে না, সেই প্রশ্নের উত্তর দর্শন দিয়ে থাকে।
মাহফুজ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬ at ৯:১২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এ পৃথিবীতে একটি সূর্যই পূর্ব গগনে উদিত হয় এবং যা বিজ্ঞানের কষ্ঠিপাথরে প্রমাণিত হওয়ায় দর্শনও এ ভিন্ন অন্য কথা বলেলে তা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়না। কিন্তু পৃথিবী ছাড়াও অন্য কোন গ্রহে যে একসাথে দুটি সূর্যও উদিত হয় তা বিজ্ঞািই এখন বলছে, সেই একই সত্য সংবাদটি কোরআন কিন্তু অনেক আগেই আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছে।
বিবর্তনবাদ সম্পর্কিত অনেক প্রশ্নের উত্তর বিবর্তনবাদীরা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সহ দিতে পারে না, কিন্তু তা সত্বেও নাস্তিক্য বিশ্বাসীরা তাদের দর্শনকে সেভাবেই সাজিয়ে নিতে ভালবাসেন। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এটিেই বিজ্ঞানের অতিব নিকটতর হিসেবে বিবেচিত হয়।
আবার সৃষ্টিতত্ব সম্পর্কিত অনেক প্রশ্নের উত্তরও ১০০% বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সহ সত্য বলে দাবি করার মত পর্যায়ে এখনো বিজ্ঞান পৌছুতে পারেনি, তাই আস্তিক্য বিশ্বাসীরা তাদের দর্মনকে তাদের বিশ্বসেরে মত সাজিয়ে নিতে তৃপ্তি বোধ করেন। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী এটিেই বিজ্ঞানের অতিব নিকটতর হিসেবে বিবেচিত হয়।
কিন্তু প্রকৃত অর্থে বির্তনবাদ ও সৃষ্টিতত্বকে বিজ্ঞান নয় বরং দর্মন হিসেবে আখা্যায়িত করাই যুক্তিযুক্ত বলে কি আপনি বোঝাতে চেয়েছেন?
মাহফুজ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬ at ৯:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কিন্তু প্রকৃত অর্থে বিবর্তনবাদ ও সৃষ্টিতত্বকে বিজ্ঞান নয় বরং দর্শন হিসেবে আখ্যায়িত করাই যুক্তিযুক্ত বলে কি আপনি বোঝাতে চেয়েছেন?
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৬ at ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
উপস্থাপনা ভালো হয়েছে, ফুয়াদ। তবে-
এই ধরণের কথা অনেকের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। কেননা বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে কোনো প্রমাণ নাই, এবং প্রমাণ থাকা সম্ভবও নয়। এ বিষয়ে যেকোনো বিবর্তনবাদীকে চ্যালেঞ্জ থাকলো।
মিউটেশনের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উদ্ভবের পক্ষেও কোনো প্রমাণ নাই। এক্ষেত্রেও যেকোনো বিবর্তনবাদীকে চ্যালেঞ্জ থাকলো।
ফাতমী
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৬ at ৯:২১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ রায়হান ভাই,
বিবর্তনবাদের পক্ষে কোন পরীক্ষামূলক এবং বর্ননামূলক প্রমাণ নেই, কিন্তু ব্যাক্ষামূলক প্রমাণ আছে। আমি প্রবন্ধে এটাই বুঝাতে চেয়েছি। এই ব্যাক্ষামূলক প্রমাণটা অথরিটি-বেইজড। একদল বিশেষজ্ঞ মনে করেন তাদের প্রাপ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিবর্তনবাদ সঠিক। ঐ-দলকে অথরিটি ধরে তাদের ব্যাক্ষাকে সঠিক বলে বিবেচনা করা হয়। উক্ত ব্যাক্ষামূলক প্রমাণকে ইচ্ছা করলে ভিন্ন উপায়ে ব্যাক্ষা করলে, সৃষ্টিবাদের প্রমাণে পরিণত করা যায়।
কথা সঠিক।
শামস
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৬ at ৮:২৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিবর্তনবাদ ভবিষ্যৎবাণী করতে পারে না, সেটাতো বিবর্তনবাদীরা স্বীকার করে না। একটি প্রাণীর বিবর্তন হয়ে কি হতে পারে সেটা তারা করতে পারে না, কিন্তু এ তত্ত্বের নাম ভাঙ্গিয়ে, জেনেটিক্স এর অন্যান্য সব ভবিষ্যৎবাণী যে করতে পারে না সেটা কি ঠিক?
মিউটেশনের ফলে একটা প্রজাতি থেকে নতুন অন্য প্রজাতির সৃষ্টি হয়েছে বলে কোন পরীক্ষালব্দ প্রমাণ নেই! মাইক্রোইভ্যুলুশনের মাধ্যমে যা দাবী করা হয়, সেগুলোতে নতুন ধরণের প্রজাতি সৃষ্টি হয়নি।
যা বুঝেছি এটা দ্বারা বলতে চেয়েছেন, বিবর্তনবাদ আর সৃষ্টিতত্ত্বের দাবীগুলো মেরিট অনুযায়ী একই পর্যায়ের। সেটাই কি?
ফাতমী
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৬ at ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ শামস ভাই,
তাদের মানা না মানাতে কিছুই প্রমাণ হয় না। কিছু লোকের (সকল বিবর্তনবাদী নয়) কাছে বিবর্তনবাদ ধর্মের মত, এবং তারা অনেকটা অন্ধবিশ্বাসী।
বিবর্তনবাদের পক্ষে কোন পরীক্ষামূলক এবং বর্ননামূলক প্রমাণ নেই, কিন্তু ব্যাক্ষামূলক প্রমাণ আছে। আমি প্রবন্ধে এটাই বুঝাতে চেয়েছি। এই ব্যাক্ষামূলক প্রমাণটা অথরিটি বেইজ। একদল বিশেষজ্ঞ মনে করেন তাদের প্রাপ্য তথ্যের ভিত্তিতে যে বিবর্তনবাদ সঠিক। ঐ-দলকে অথরিটি ধরে তাদের ব্যাক্ষাকে সঠিক বলে বিবেচনা করা হয়। উক্ত ব্যাক্ষামূলক প্রমাণকে ইচ্ছা করলে ভিন্ন উপায়ে ব্যাক্ষা করলে, সৃষ্টিবাদের প্রমাণে পরিণীত করা যায়।
মাহফুজ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৬ at ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ঐ-দলকে অথরিটি ধরে তাদের ব্যাক্ষাকে সঠিক বলে বিবেচনা করা হয়। উক্ত ব্যাক্ষামূলক প্রমাণকে ইচ্ছা করলে ভিন্ন উপায়ে ব্যাক্ষা করলে, সৃষ্টিবাদের প্রমাণে পরিণীত করা যায়। -- সহমত