«

»

Jun ১৩

রোহিঙ্গা ভাই বোনেরা আমাদের ক্ষমা করো

জানি, বাংলার সরকার আজ নিরব দর্শক। নিয়তির নির্মম পরিহাসে অসহায় মানুষগুলির পাশে আজ বাংলা নেই, বাংলাদেশ নেই। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ের বাংলাদেশ আজ মজলুমের সাথে নেই। এই মুখ আমরা কোথায় দেখাই? কত ভালবাসার ধন বাংলাদেশ, আজ যেন অচেনা আচরণ করে। সুশিল রূপি যে সব মানুষ পর্দার আড়ালে থাকত, তারা আজ মুখোশ খুলে ফেলেছে, দেখিয়ে বেরাচ্ছে তাদের আসল চেহেরা।

রেহিংগাদের আজ বাংলায় জায়গা হয় না, কত বিশ্বাস, আশা নিয়ে রেহিংগারা এসেছিল, ভাইয়ের দরজায়। কেউ কিছু না করুক, আমার ভাই পাশে দাঁড়াবে। নাহ, তাদের মন ভেঙ্গে নাফ নদীর তীরে নৌকা গুলি ভাসছে। হয়ত কেউ না খেয়ে, অসুস্থ হয়ে মারা পরবে, কিন্তু এ নিয়ে সুশিলরা কিছু বলে না, কারণ তারা যে মুসলমানের সন্তান। অন্যদিকে আবার কেউ কেউ দোহাই তোলছেন, তারা আমাদের পাসপোর্ট জালিয়াতি করে, বিদেশে আমাদের বদনাম হয়। বিদেশে বদনাম কি আমাদের কম আছে, বিপদগ্রস্থ মানুষগুলির জন্য না হয় আরেকটু বাড়লো। তাতে কি? আমরা বুক ফুলিয়ে বলতে পারতাম, দেখ বিশ্বের জনগন আমরা বাংগালীরা সম্পদে গরীব হলেও মনের দিক থেকে আমরা অনেক বড়। নাহ, আমাদের এ সম্মান পাওয়া হল না। যদি সেখানকার পরিস্থিতি খারাপ না হইতো, তাহলে হয়ত আমাদের এ আচরণ মানা যেত। আফসুস, এ কি ভয়ংকর চেহেরা সুশিলরগণ আমাদের দেখালেন। তারা গুটি কয়েক রেহেংগাদের দোষ সমগ্র রেহিঙ্গা জাতির উপর ফেলে দিলেন। বাংলাদেশের কোন প্রেমিক যদি তার প্রমিকাকে খুন করে হাজার টুকরা করে, তাহলে যে তার দায় সমগ্র বাংলাদেশীর নয়, ঠিক তেমনি গুটি কয়েক রেহিংগার দায় কেন পুরো রেহিংগা জাতি নেবে? এই প্রশ্নের উত্তর সুশীলরা না দিয়ে ঘুরিয়ে পিছিয়ে প্রশ্নকর্তাকেই ট্যাগ দিয়ে না-জাহেল করেন। আজব কিসিমের প্রাণী এই সুশিল সমাজ, যখন কিছু সংখ্যক বাংলার লোকজন নিজেদের রিফুজি দাবী করে পশ্চিমাদেশের লাল-নীল পাসপোর্ট নেন, তখন তারা কিছু বলেন না। উলটো পারলে বাহবাদেন, আর বেমালুম ভুলে যান দেশের কথা, আমাদের দেশে যে কোন যুদ্ধ নেই, সংঘাত নেই। এই সব মিথ্যা সংঘাতের দায়ে আমাদের যে অপমান হয়। যদিও আমি মনেকরি, সামান্য একটু দায়গ্রস্থ হলেও যদি একটি ফ্যামেলি ধনী দেশে যেয়ে বাচতে পারে তাতে খারাপ কি? আমেরিকার ডিভি ভিসা বন্দ হওয়াতে কতই না কষ্ট পান আপনি, আর বাড়ি ঘর হারিয়ে নৌকায় ভেসে থাকা ঐ রেহেংগা মানুষগুলিকে একমোঠো আশ্রয় দিতে চান না। গরীবের দুঃখ হয়ত গরীব-ই বুঝে, তাই সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কিছু বাসীন্দা নাকি, খাবার আর পানি দিতে চেয়েছিল। খবরে প্রকাশ সেটাও সেই সময় নাকি দিতে দেওয়া হয়নি। হায়রে এ কোন বর্বরতা, এ কোন নিষ্ঠুরতা। দোয়া করি, এ সেন্টমার্টিন দ্বীপের এই কাহিনী যেন মিথ্যা হয়, দ্বীপবাসী যেন বাধা পেরিয়ে খাবার আর পানি দিতে পারেন। যারা জানেন না, তারা জেনে নিন সমুদ্রের পানি খাওয়া যায় না, লবনাক্ত এবং মানুষ খাবার সাথে সাথেই অসুস্থ হয়ে যায়।

রেহিংগারা জাতিসংঘের হিসাব মত সব থেকে নির্জাতিত জাতি। তাদের নাগরিকত্ব নেই, কেন নেই জানেন? রাখাইনরা এদের বাংগালি বলে ডাকে, তাই।

ছবিলিংকঃ The Telegraph, Picture: Soe Than WIN/AFP/GettyImage বার্মিজরা রেহিংগাদের বাংগালী বলে

বার্মিজরা রেহিংগাদের বাংগালী বলে, ছবিলিংকঃ The Telegraph, Picture: Soe Than WIN/AFP/GettyImage

Picture link: The Telegraphবাচ্চা বুকে নিয়ে এক রেহিঙ্গা পিতা,  Picture: REUTERS/Damir Sagol

বাচ্চা বুকে নিয়ে এক রেহিঙ্গা পিতা, Picture link: The Telegraph, Picture: REUTERS/Damir Sagol

Picture link: The Telegraph, গুলিবিদ্ধ এক রেহিঙ্গা Picture: AFP/GettyImages

গুলিবিদ্ধ এক রেহিঙ্গা, Picture link: The Telegraph, Picture: AFP/GettyImages

বাংলাদেশে ঢুকতে না পেরে কান্নারত অসহায় শিশু, Picture link: The telegraph,Picture: MUNIR UZ ZAMAN/AFP/GettyImages

বাংলাদেশে ঢুকতে না পেরে কান্নারত অসহায় শিশু, Picture link: The telegraph,Picture: MUNIR UZ ZAMAN/AFP/GettyImages

ভেবে দেখেছেন তারা সমুদ্রে কিভাবে বেচে থাকবেPicture link: The telegraph, Bangladesh border guards push back Rohingya Muslims fleeing religious violence in Burma, as they try to cross the Naf river into Bangladesh, Picture: MUNIR UZ ZAMAN/AFP/GettyImages

ভেবে দেখেছেন তারা সমুদ্রে কিভাবে বেচে থাকবে Picture link: The telegraph, Bangladesh border guards push back Rohingya Muslims fleeing religious violence in Burma, as they try to cross the Naf river into Bangladesh, Picture: MUNIR UZ ZAMAN/AFP/GettyImages

যুগান্তরের ১২ তারিখের খবরে দেখা যায়, মানুষকে মেরে লাশ ন্যারা করে এদের রাখাইনদের লাশ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। DW এর রিপোর্ট থেকে জানা যায়, "মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে সহিংসতায় গত শুক্রবার থেকে মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ২৫৷ এই হিসাব অবশ্য মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের।" অসমর্থিত সূত্রে ২০০ জন মানুষ মারা যাবার কাহিনী শুনা যাচ্ছে। তারপরও যদি বাংলাদেশ এগিয়ে না যায়, তাহলে রেহিংগা ভাই বোনেরা আমাদের ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

১০ comments

Skip to comment form

  1. 1

    আবদুস সামাদ

    আমরা এখন ধর্মনিরপেক্ষ বাংগালী। আগে ছিলাম শুধুই মুসলমান। তাই মুসলমানদের কিভাবে আশ্রয় দেব। ওরা যদি অন্য জাতি হত তাহলে চিন্তা করে দেখাযেত। তারা পাশপোর্ট জালিয়াতি করেছে? আমাদের পুলিশরাকি তদন্তের টাকা না নিয়েই এ পাশ পোর্ট দেওয়ার পাশ দিয়েছে? যদি তাই হয় তবে পুলিশের শাস্তি আগে হওয়া উচিত। রোহীঙ্গারা ক্ষমা করলেও আল্লাহ ক্ষমা করবেনা।

  2. 2

    পান্থ

    সামহোয়ার ইন ব্লগে এক শিবসেনা লিখেছে-
     
    ওহে ব্লগের ছাগুরা – মুসলমান কি লেজ গুটানো জাতী?
     
    মিয়ানমারে মুসলিম হত্যা হইয়াছে কয়েকজন। ব্লগে ঐ ধর্ষীতা বৌদ্ধ নারী ছাড়া আর কোন অমুসলিমের মৃত্যুর খবর নজরে আসে নাই। ব্লগ মতে রাখাইন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নাকি হাজারে হাজার মুসলিম মারিয়া কাটিয়া ফানা ফানা করিয়া ফেলিতেছে কিন্তু তাহারা নিজেরা একটাও মরিতেছে না। কি তাজ্জব। তাহারই কারণে নাকি লক্ষ লক্ষ রোহিংগা মুসলিমকে আশ্রয় দিতে বাংলাদেশের সীমান্ত দুয়ার হাট করিয়া খুলিয়া দিতে হইবে। ভাল কথা। কিন্তু যতদুর জানি মুসলিম বীরের জাতি। খুনের বদলে খুন, রক্তের বদলে রক্ত নেয়ায় যাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস। ইসলামে নবী পয়গম্বররা প্রায় সবাই ছিলেন সাহসী যোদ্ধা। তরবারী যাদের শয্যা সঙ্গী ছিল, খন্জর যাদের পিন্জরে সদা ঝিকমিক করিত, তাঁহাদের উম্মতদের এ কি অধঃপাত? কেন এই পলায়ন? কি লজ্জা! শেম শেম!

    অনেক ছাগু উদাহরণ টানিতেছে ভারত যেভাবে বাঙালিদের আশ্রয় দিয়াছে আমরা কেন দিব না। কিন্তু কিছু মতলববাজ হিন্দু ছাড়া কোন বাঙালীই একাত্তরের ২৫ মার্চর মত কাল রাত্রীর মত ঘটনার পরেও এক সপ্তাহের মধ্যেই ভারতে পলায়নের চিন্তা করিয়াছিলেন কি? নিজের দেশ, মাটি, ঘর বাড়ী, আত্মীয় স্বজন ছাড়ীয়া? শত্রুর হাতে নিজের দেশ কে বিলাইয়া দিয়া? মিয়ানমারে কি যুদ্ধ লাগিয়াছে? মুসলিমদের বিপক্ষে কি দেখামাত্র গুলির নির্দেশ নিয়া সেনাবাহীনি নামিয়াছে? তাহাই যদী না হয় তবে কেন নিজ দেশে অন্যায়ের প্রতিবাদ না করিয়া, অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেহাদ না করিয়া লেজ গুটানো জাতীর মত পলায়নের এই অভিপ্রায়? তবে কি ধরিয়া নিব ঐ মতলববাজ হিন্দুদের মত ইহারাও মতলববাজ মুসলিম?

    আর তাদের জন্য মায়াকান্নারত ওহে ব্লগের ছাগুরা – ইহা আপনারা কি করিতেছেন? মুসলমান কি লেজ গুটানো জাতী? তাহাদিগকে নিজ দেশ, নিজ মাতৃভূমী ছাড়িয়া এক ভিন দেশে বস্তীতে শরণার্থী হইবার পরামর্শ দিতেছেন? কেন বলিতে পারিতেছেন না আরাকান তো মুসলিমদেরও। কেন শিখাইতেছেন না সেই শ্লোগান “আরাকান স্বাধীন কর, মুসলমানের পতাকা গাড়”?

    ধিক ধিক, পাকিস্তানের পরাজয়ের পর এতই কি হীনমন্য মুসলমান, এতই ভীত ইসলামের গৌরব যে দুইটি লাশ দেখিয়া লেজ গুটাইয়া ভিনদেশে পলায়ন করিতে হইবে? আমি যতদুর জানি, ভয়াল ২৫এ মার্চের এক রাত্রিতে হাজার হাজার নিরস্ত্র বাঙালীর মৃত্যুর পরদিন সকালে মানুষ টানায় কালো পতাকা। হাতে নেয় লগী, বৈঠা, খোন্তা, কুড়াল, শাবল। লক্ষ্য একটাই, শ্লোগান একটাই “বীর বাঙালী অস্ত্র ধর, সোনার বাংলা স্বাধীন কর”। ছাগু ভায়েরা, দয়া করিয়া বীর বাঙালির সাথে লেজ গুটানো জাতীর কোন তুলনা টানিবেন না? বিশেষ করিয়া বিধর্মী নারী ধর্ষণ ও হত্যা করিয়া যাহারা ধরা খাইয়াছে তাহাদের সাথে।

    যদি এমন হয় ইহা মিয়ানমার সরকারের তৈরি একটি পরিকল্পনা? পাকীরা যেমন সব হিন্দুদের ভারতে পাঠাইতে চাহিত, তাহারাও সব মুসলিমদের বঙ্গদেশে পাঠাইতে চাহিতেছে? সেই কারনেই এই সাজানো খেলা। আর সেই কাফের বর্মীদের সহায়তা করিতেছে, মুসলিমদের ভিটা ছাড়া করিতে উৎসাহ দিতেছে ব্লগের ছাগুরা? কারন? নিজ স্বার্থ। সস্তায় জেহাদী পাওয়া যাইবে, বলা যায়না, সুইসাইড বোম্বার, বডি বোম্বারও বানানো যাইতে পারে এইসব দেশত্যাগীদের কজে লাগাইয়া একদিন।

    http://www.somewhereinblog.net/blog/aprio/29615005

    1. 2.1
      sami

      ঐ শিবসেনা কে বলছি
      ভাই আপনি ব্লকের আফ্রিদি ৷ব্লকে যে ভাবে চার ছক্কা হাকাতেছেন মনে হয় মুসলিম, এবং যুদ্ধ,নির্যাতনের মানবতার, শব্দগুলার সংজ্ঞা নতুন করে  সংজ্ঞায়িত করতে হবে ৷কোন জাতি,উপর অন্য জাতির নির্যাতন কি বলে  এবং কত জন বাংলী শরণার্থী  কত দিনের মধ্যে ফেরত এসেছিল  আপনার জ্ঞানের বানী দ্বারা ক্লিয়ার করতেন বড় উপকৃত হতাম । অজ্ঞ মানুষ গো জ্ঞানের বানীগুলো মাথার অনেক উপর দিয়ে উড়ে যায় । ভাই চালিয়ে যান হতো আমেরিকার চোখে লেগে যেতেও পারেন ।জানতো আমেরিকার চোখে লেগে গেলে নোবেল প্রাইজ পেয়ে যেতে পারেন !!!!!!!!!

  3. 3
    দর্শক

    মজলুমদের প্রতি সহমর্মিতা জানাই। আজ মুসলিমরা নির্যাতিত, তাই মিডিয়া নীরব। তথাকথিত মিডিয়ার মানবতাবাদীরাও মুখে কুলুপ এটেছেন! মজলুমদের প্রতি সহমর্মিতা করলে ছাগু বলে ট্যাগিং দেয়া হচ্ছে! এদের মুসলিম বিদ্বেষের শিকর কতটা গভীরে তা সহজেই অনুমেয়। আজ মুসলিম বিদ্বেষী মুক্তমনা 'মানবতাকর্মী' বেজায় উল্লসিত!

  4. 4
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    ভাই,বাংলাদেশের মানুষদের মুসলিম মনে করার কোনো কারণ নেই।আমি অন্তত নিজেকে মুসলিম মনে করি না।একটা মুসলিম নাম থাকা মানেই মুসলিম হয়ে যাওয়া নয়।আমরা মুসলিম হলে নিজেরাই আগ বাড়িয়ে নিজেদের দেশে রোহিঙ্গা মুসলিম ভাইবোনদের আশ্রয় নেয়ার অনুরোধ জানাতাম।আজকে প্রতিটা রোহিঙ্গা মুসলিমের মৃত্যুর বিনিময়ে হত্যাকারী বৌদ্ধদের আগে বাংলাদেশের ১৫ কোটি নামধারী মুসলিমের জন্য জাহান্নামের শাস্তি নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে।

  5. 5

    ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদিদের আঁকা বর্ডার, আরাকানে মুসলিম নির্যাতনঃ আমাদের করণীয়
     
    আল্লাহ বলেছেনঃ “<b>তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করছ না অসহায়-দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য ওলী (বন্ধু) নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও</b>”। [সুরা নিসাঃ ৭৫]
     
            এই আয়াত অনুযায়ী, আরাকানের মুসলিমদের উদ্ধারের জন্য যুদ্ধ করা আমাদের উপর ফরজ।
     
              কিন্তু আমরা কিভাবে তা করবো? আমাদের কাছে অস্ত্র নেই। কারণ আমাদের এসব তথাকথিত রাস্ট্রযন্ত্র শুধু নিজের পোষাবাহিনী ছাড়া সবার কাছে অস্ত্র রাখা নিষিদ্ধ রেখেছে। সেটা সমস্যা হতো না, <b>যদি রাস্ট্র সেই পোষা বাহিনীকে আরাকানের মুসলিমদের উদ্ধারের জন্য পাঠাতো</b>।(!!)
     
               কিন্তু, নির্মম পরিহাসের উদাহরণ হলো, তা না করে এই জালিম শাসকরা আরাকানের মুসলিমদের সাহায্যের করার বদলে তাদের পালিয়ে আসার পথও বন্ধ করে রেখেছে। <b><u>এখানে যেন জালিম নাসাকা বাহিনীর আরেক সাহায্যকারী বাহিনী হিসেবে কাজ করছে আমাদের গর্বের বিডিআর, কোষ্টগার্ড এবং সেনাবাহিনীর পার্বত্য জেলার ইউনিটগুলি</u></b>।
     
               এসব নরপশু বাহিনী, যারা দুই টাকার বেতনের জন্য নিজের বুদ্ধি-বিবেক সব কিছু শঁপে দিয়েছে ‘সরকারী আদেশ’ নামক ‘দেবতার’ পায়ে, তাদেরকে বলিঃ <b><u>যদি কোন গ্রামে তোমাদের মা-বোনদেরকে আটকে রেখে কোন ডাকাত দল বলাৎকার করতে থাকে, আর হাসিনা-দীপু মণিরা তোমাদেরকে বলে, তোমরা এদেরকে এই গ্রামের বাইরে আসতে দিবে না। হে নরপশুর দল, তখনও কি তোমরা সরকারী আদেশ আছে – এই কথা বলে নিজের মা-বোনদের ডাকাত দল থেকে পালিয়ে আসতে দিবে না। বরং পালিয়ে আসলে তাদেরকে ফিরত দিবে</u></b>।
     
                আল্লাহ তো এসব বর্ডার তৈরী করেন নি। আমাদের বর্ডার তো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদিদের আঁকা। <b><u>এই বিটিশ-কাফিরদের আঁকা বর্ডারকে কিভাবে আমরা নিজের মা-বোন-বাবা-সন্তানের জীবনের চেয়ে বেশী মূল্যবান মনে করতে পারি</u></b> ?
     
                আর শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়া – এরা তো তাদের বাবার আর স্বামীর মৃত্যুর জন্য পারলে পুরো বাংলাদেশকে শাস্তি দিবে কিন্তু আরাকানে শত শত মুসলিম মারা গেলেও ভারতীয়-কাফির মনমোহন সিং এর ইশারা ছাড়া তারা কোন কথা বলবে না।
     
              এই জঞ্জালগুলিই এদেশের মুসলিমদেরকে তাদের উপর ফরজ দায়িত্ব আদায় করতে দিচ্ছে না।
     
            তাই সবার আগে এসব জঞ্জালের অপসারণ জরুরী।
     
             তারপর আসে আরেকটি কথাঃ কোন ফরজ কাজে কোন বাঁধা থাকলে সেটা দূর করাও ফরজ হয়ে যায়। তাই বাংলাদেশের <b>কোন পেট-পুজারী সরকারী বাহিনী যদি আরাকানের মুসলিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে বাঁধা দেয়, তবে এসব পেটপূজারী, স্বার্থপর বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে</b>।
     
               আমরা সবাই জানি, কোন অন্যায় কাজ দেখলে প্রথমে হাতের দ্বারা সেটা দূর করা উচিত। সেটা না পারলে মুখে আর শেষ পর্যায় হলোঃ অন্তরে পরিবর্তন করার চেষ্টা করা, সেই কাজকে ঘৃণা করা।
     
                বাংলাদেশে যাদের সামর্থ আছে, যাদের কাছে অস্ত্র আছে, তাদের সবার উচিত জালিম নাসাকা বাহিনীর হাত থেকে আরাকানের মুসলিমদের উদ্ধারের জন্য সেদিকে যাত্রা করা।
     
               পথিমধ্যে কোন পেট-পুজারী, নরপশু দায়িত্বের দুহাই দিয়ে সেই যাত্রায় ব্যাঘাত করলে, সেই নর-পশুদেরকে শায়েস্তা করা।
     
                 আর যাদের অস্ত্র নেই, তাদের উচিত অন্ততঃ মুখে এটার প্রতিবাদ জানানো। বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম একটু মারামারি হলে এদেশের পত্রিকাগুলি পাগল হয়ে যায়। এখন দ্বিমুখী চরিত্রের ঐ সব মুনাফিক পত্রিকা কি করছে?
     
    কোথায় আমাদের শান্তি-নিরাপত্তার সবক দেয়া বিদেশী কাফির রাস্ট্রদূত গুলি?
     
    কোথায় জাতিসংঘ কিংবা অন্যান্য মানবতাবাদি সংগঠনগুলো?
     
    কোথায় আমাদের পার্বত্য অঞ্চলে কাজ করে যাওয়া মানবতাবাদি এনজিও গুলো?
     
               <b>আসলে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সব কাফির একজোট।</b> এটাই মহানবী (সাঃ) বলে গেছেন। এতাই সত্য, এটা কখনো মিথ্যা হতে পারে না।
     
               <b><u>তাই আমাদের উচিত এদেশের বার্মার সকল স্থাপণা ঘেরাও করা, বার্মার সকল পণ্য বর্জন করা, বার্মিজদেরকে এদেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া। এটা হলো চোখের বদলে চোখ, প্রাণের বদলে প্রাণের হিসাব</u></b>।
     
    কোথাও আমাদের আন্দোলনকারী ইসলাম পন্থী ভাই-বোনরা?
     
    কোথায় আমাদের খিলাফাহ কামনাকারী ভাই বোনরা?
     
    কোথায় আমাদের বিভিন্ন মুসলিম সংস্থা, সংগঠনগুলো??
     
                তাই, জণগণকে এজন্য রাস্তায় নেমে আসতে হবে। প্রতিবাদ জানাতে হবে।
     
                  আর <u>যাদের সেই কাজেরও সামর্থ নেই, তাদের উচিত ঐ জালিমদেরকে আর ঐ জালিমদের সাহায্যকারী, বর্ডার বন্ধকারী ছাগলদেরকে অন্তর দিতে ঘৃণা করা, এদেরকে পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পণা করা, এদের বিরুদ্ধে মানুষকে সজাগ করে তোলা</u>।
     
    আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমাদের করণীয় কাজসমূহ করার তৌফিক দিন।

  6. 6
    কিংশুক

    “বার্মিজরা রোহিঙ্গাদের বাঙ্গালী বলে”, তাও না হয় সহ্য করলাম। http://tribune.com.pk/story/392648/rohingya-stateless-and-friendless-in-myanmar/ লিংকের কমেন্টগুলো পড়লে তো মাথায় আগুন ধরে যায়। ইন্ডিয়ান মালু(সাধারন হিন্দু নয় এবং বাংলাদেশী হিন্দুরাতো নয়ই, শিবসেনা টাইপের ভারতীয় গুলোই মালু; এরকম ভাষার জন্য আমি চরম সাম্প্রদায়িক বলে চিহ্নিত হবো কিন্তু শিবসেনারা আসলেই মালাউন) দের কমেন্ট গুলো দেখেন। সব দোষ বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত তার উপর আবার গরীব। এজন্য দলে দলে বাংলাদেশীরা বার্মা, ভারতে গিয়ে শত শত বছর ধরে(!) অবৈধ অভিবাসী হয়ে প্রতিবেশী সব দেশের অবস্থা খারাপ করছে! বাংলাদেশের এটা স্বীকার করে, নাকে খত দিয়ে ভারতে(ঐখানে বাংলা ভাষার সাথে সামান্য মিল আছে বা চেহারা বাঙ্গালীদের মতো আর মুসলমান হলেতো কোন মাফই নাই-এরকম সবাইকে অবৈধ বাংলাদেশী হিসাবে ঘোষনা করে শিবসেনারা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে চায়, তাতে বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যার চাইতেও বেশী অবৈধ বাংলাদেশী!কে গ্রহন করতে হবে!), বার্মায় যতো মুসলমান ও বাঙ্গালীদের সাথে সামান্য যোগসূত্রও রয়েছে সবাইকে গ্রহন করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পৃথিবীতে গরীব ও দূর্বলকে যতো পারো নন্দঘোষ বানাও।

  7. 7
    শামস

    আমাদের প্রবাসীর সংখ্যা আনুমানিক ৬৫ লাখ। একটু ভাল জীবণের জন্য দেশান্তরী হয়। এদের প্রায় ৫০ ভাগ আনস্কিলড! এই প্রবাসীদের আবার শতকরা ৮০ ভাগ থাকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। তাদের বেশীরভাগই উন্নত জীবণ ধারণ করে সেটা বলাটা বাড়াবাড়ি হবে। কিন্তু দেশের পচে মরার চেয়ে পরিবার পরিজনসহ নিজের জন্য একটা জীবিকার সংস্থান অন্ততঃপক্ষে করতে পারে। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার অবৈধভাবে যায় বা গিয়ে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে অবৈধ হয়ে যায়। মাঝে মাঝে পত্রিকায় খবর আসে আমাদের শ্রমিকরা বেতন বা কাজ পায়না বলে ওখানকার অনেক দয়ালু লোক বা সংগঠন তাদের বিনামূল্যে খাওয়ায়। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দেশে দেশে গিয়ে গিয়ে তাদের দুয়ারে ধর্না দেয় তাদের শ্রমবাজের আমাদের লোক নিয়োগের জন্য। অপরদিকে দেশে নিজেদের দুয়ার বন্ধ করে দেয় অত্যাচারিত অসাহায় মানুষগুলো আমাদের ঘরে ঢুকবে বলে! কি পরিহাস! 
    রোহিঙ্গারা এর আগে দুইবার এভাবে বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য এসেছিল, ১৯৭৮ সালে ১৯৯১-৯২ সালে। শোনা কথা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে বাণিজ্য করে মানুষের চোখকে ধুলা দেবার জন্য জামাতীরা ইবনে সিনার মত হাসপাতাল ও কিছু প্রতিষ্ঠান করেছিল। শরণার্থীদের নিয়ে বাণিজ্য লাভজনক ব্যবসা। এই সোনার খনিরে এখনো চিনতে পারে নাই বইলা এখনকার লীগের নেতাকর্মীদের সড়কভবণে গোলাগুলি করতে হয়। সিন্ডিকেট ব্যবসা, পরিবহণের চাদাবাজি ইত্যাদির উপর চাপ কমাইতে চাইলে শরণার্থী বাণিজ্যের দিকে মনোযোগ দিলে ভাল হয়,  কিছু নেতাকর্মীদের জন্য ওখানে টাকার সংস্থান করা যায়!
     

  8. 8
    এম_আহমদ

    জানি, বাংলার সরকার আজ নিরব দর্শক। নিয়তির নির্মম পরিহাসে অসহায় মানুষগুলির পাশে আজ বাংলা নেই, বাংলাদেশ নেই।

     
    ভাই, ক’দিন থেকে খুবই ব্যস্ত। আপনার ব্লগটি দেখে অনেক খুশী হয়েছি। আমাদের এই ব্লগে আপনার এই লেখাটি যেন আমাদের সবার পক্ষ থেকে –এটাই ভেবেছি। এখানে মানুষ হিসেবে এবং মুসলমান হিসেবে আমাদের সকলের দায়িত্ব রয়েছে। ব্লগের প্রেক্ষিত সামনে রেখে যে দুটি কথা বলতে যাচ্ছি তা নিম্নরূপঃ
    আমাদের সব identity এর মূলে যে চিরন্তন বৈশিষ্ট্য নিহিত তা হল আমাদের মানবতা। একটি দেশে যে কোন কারণেই হোক যখন কোন জনগোষ্ঠী তাদের জীবনের নিরাপত্তা হারায় এবং মৃত্যু ও নির্যাতনের মুখামুখী হয়, তখন যাদের মানবতা অবশিষ্ট রয়েছে তাদের উচিৎ এদের নিরাপত্তা দানে এগিয়ে আসা। এই বিষয়টির সাথে যত ধরনের রাজনীতি যত পক্ষেই থাকুক না কেন, নিরোপরাধ মানুষের নিরাপত্তার বিবেচনা সব কিছুর ঊর্ধে হতে হবে, ওরা প্রথমে বাঁচতে হবে। ভারত বর্ষে হত্যা ও নির্যাতনের ইতিহাস অত্যন্ত গভীরে। স্মৃতির দ্বার প্রান্তে প্রথমেই যা উঠে আসে তা হল আর্যদের পাশবিক হত্যাকান্ড, নির্যাতন, ও বিভিন্ন জাতিকে উপড়ে ফেলার মত জঘন্য কর্মকান্ড। এগুলো তারা বার বার করেছে। বৌদ্ধদেরকে তারা এক সময় কচুকাটা দিয়েছে এবং পরে ওদেরকে কন্ট্রোল করেছে। মুসলিম শাসনামলে বৌদ্ধরা মুসলমানদের নিকটবর্তী ছিল। ব্রিটিশ আমলে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা তাদের জ্ঞাতি আর্য রক্তের সাথে মিতালী দিয়ে মুসলিম শাসনের পতন ঘটায় এবং বৌদ্ধদেরকে পুনর্প্রভাবিত করে। আজকে রোহিঙ্গা হত্যা ও নিপীড়নের পিছনে যাদের হাতই কার্যকর হোক না কেন, বাংলাদেশ এই নির্যাতিত, নিপীড়িত মৃত্যুমুখি মানবগোষ্ঠীর সামান্য আশ্রয় না দিয়ে তাদের সামনে “দরজা বন্ধ” করে দেয়াতে যে অমানবিকতা প্রকাশ পেয়েছে তা বলার মত নয়। বাংলাদেশ এখন এক ফ্যাসিষ্ট জনগোষ্ঠী কতৃক চালিত যাদের সমন্বয়ের মূলে রয়েছে ব্রাহ্মণ্যবাদী চিন্তাধারা এবং এরই প্রভাবে প্রভাবিত পৌত্তলিক মুসলমাদের আচরণ শুধু সেই আদর্শিক সত্যই প্রতিভাত করে যে সত্যের উপর এরা সবাই অবস্থান করছে যার সাথে ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধের কোন মিল নেই।  

  9. 9
    এম_আহমদ

    সংশোধিত শব্দঃ বাংলাদেশ এখন এক ফ্যাসিষ্ট গ্রুপ কর্তৃক …

Leave a Reply

Your email address will not be published.