এডলফ হিটলার আর কার্ল মার্ক্স এর তত্ত্বে কিছু জায়গায় বেশ মিল দেখতে পাওয়া যায়। জানিনা ব্যপারটা কাকতালীয় কিনা। তবে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর অর্থ আর ভাবার্থ ভীতিকর ভাবে একরকম। সূত্রঃ লাইব্রেরী অফ কংগ্রেস কার্ল মার্ক্স
নিচে কথাগুলোর খসড়া আর তার নিচে অনুবাদ দেয়া হল,
"Let us consider the actual, worldly Jew — not the Sabbath Jew, as Bauer does, but the everyday Jew. Let us not look for the secret of the Jew in his religion, but let us look for the secret of his religion in the real Jew. What is the secular basis of Judaism? … Practical need, self-interest. What is the worldly religion of the Jew? Huckstering. What is his worldly God? Money. Very well then! Emancipation from huckstering and money, consequently from practical, real Jewry, would be the self-emancipation of our time… In the final analysis, the emancipation of the Jews is the emancipation of mankind from Jewry."
"আমাদের ভাবা উচিত যে সাধারণ ইহুদিদের ধর্ম কী? সেটা কোন সাবাথ ইহুদি না যেটা তাদের ধর্মগুরুরা তাদের করে থাকেন কিন্তু আমাদের দেখা উচিত ইহুদি ধর্মের মূলের প্রতি। ইহুদীবাদের বৈশ্বিক ভিত্তি কী?….ভোগ আর স্বার্থপরতা? কী তাদের সত্যিকার ধর্ম? সুদখোরী? কোনটা তাদের সতিকার উপাস্য? টাকা? ঠিক আছে তাহলে! লোভ আর সুদখোরী থেকে এবং পর্যায়ক্রমে এবং ইহুদিবাদ হতে পর্যায়ক্রমে মুক্তিদানই হবে আমাদের আত্নমুক্তি। শেষ কথা হচ্ছে ইহুদি থেকে মুক্তিদানই হবে ইহুদীবাদ থেকে মুক্তিদান।"
উপরের অংশগুলো আর শিরোনাম পড়ে আপনাদের হয়তো মনে হয়েছে এটা হয়তো এডলফ হিটলার এর বলা কোন বিখ্যাত ভাষণ এর অংশ। কিন্তু না এটা হচ্ছে সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা সমাজতান্ত্রিক এবং কথিত সাম্যবাদীদের মহামানব কার্ল মার্ক্স এর লেখা কিছু মন্তব্য যেটা লাইব্রেরী অব কংগ্রেস এর পাবলিক ডোমেইন-এ রাখা আছে প্রদর্শনীর জন্য।
এর পরের উক্তিটা শোনেন,
"We are socialists, we are enemies of today's capitalistic economic system for the exploitation of the economically weak, with its unfair salaries, with its unseemly evaluation of a human being according to wealth and property instead of responsibility and performance, and we are all determined to destroy this system under all conditions."
অনুবাদঃ ”আমরা সমাজতান্ত্রিক আমরা বর্তমান সময়ের পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার শত্রু যা সমাজের নিচু শ্রেণীর মানুষদের শোষণ করে, তার বৈষম্যমূলক বেতন-ব্যবস্থার মাধ্যমে। আর তার অযাচিত আর অমানবিক মূল্যায়ন যেটা একজন ব্যক্তিকে তার সম্পদের মাধ্যমে করা হয় তার দায়িত্ববোধ আর যোগ্যতার বদলে, আর আমরা সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এই ব্যাবস্থাকে যেকোন মূল্যে ধংসের জন্য।”
এটা পড়লে এমনিতে মনে হবে যে কার্লমার্ক্স এর কোন বই থেকে অথবা কোন উক্তি নয়ত কোন সমাজতান্ত্রিক নেতার অথবা লেখকের উক্তি। তা কিন্তু না, এটা মূলত এডলফ হিটলার বলেছিলেন মে মাসের ১ তারিখে ১৯২৭ সনের দিকে।
অনেকের কাছে এটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে যে সাম্যবাদী মার্ক্স আর নাযিবাদি হিটলার কোন ক্ষেত্রেই একে অন্যের কাছাকাছিও ছিলেন। তবে অনেক চিন্তা আর পড়াশোনার পরে এই ধারণাটা অনেকটা ভাবায় অনেককে তারপরে সোশ্যাল হিস্টোরি ডকুমেন্টেসান এবং বহু নিরীক্ষার পরে ১৮৪৮ সনের পর থেকে যত যুগান্তকারী মতবাদ প্রণীত হয়েছে তাদের একত্বের বিষয়ে একটা ধারণা পাওয়া যায়, (যদিওবা হিটলার সমাজতান্ত্রিক ছিলেন না ১৯২৯ সালের তার একটা কথার মধ্য দিয়ে এটা বোঝা যায় নাৎসিবাদ আর সমাজতন্ত্রের মধ্যে মিল সামান্য) এই কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোও ছিল তাদের মধ্যে একটি মতবাদ।
এই প্রবন্ধের এই অংশে শুধুমাত্র বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে যে সমাজতন্ত্র, কমিউনিস্ট মতবাদ এবং তাদের চরম লক্ষ্য ইউটোপিয়ার ধারণাটা আসলো কোথায় থেকে?
সমাজতন্ত্র কী?
অনেক ডিকশনারি এবং বইপত্রে লেখা আছে সমাজতন্ত্র হচ্ছে এক ধরণের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা যেখানে প্রত্যেক শ্রেণীর মানুষের কথা বলার অধিকার আছে, তার থেকেও বড় কথা এখানে আছে সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যে সাম্য এবং নায্য অধিকার। খুব ভালো কথা আচ্ছা এখন দেখা যাক মার্ক্স কী বলতেন সমাজতন্ত্রের ব্যাপারে অথবা প্রচলিত সমাজতান্ত্রিক ধারণা কি পুরোপুরি সমাজতন্ত্রের মূল চেতনার সাথে খাপ খায় কিনা?
অতি-সরলিকরণ করলে যে কথাগুলো মার্ক্স এর বিভিন্ন লেখা থেকে বোঝা যায় (যেহেতু তিনিই এই বাদের প্রবক্তা) তা হচ্ছে,
মার্ক্সের দর্শন মতে সমাজতন্ত্র শুধু একটা সরকারব্যবস্থা না একটা রাষ্ট্রীয় ধরণ একটি কঠোর ভাবে শাসিত এবং নিয়ন্ত্রিত এবং প্রকৌশল-পদ্ধতি অবলম্বিত রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে একটা দেশ যাত্রা করবে পুঁজিবাদ হতে সমাজতান্রিক সমাজের “রুপান্তরের” পথে, যেখানে কমিউনিস্ট ইউটোপীয়া হচ্ছে সর্বাধিক কাম্য একটা সমাজব্যবস্থা। একটা পৃথিবী যেখানে নেই কোন ধর্ম, পুলিশ, যুদ্ধ। অনন্ত সুখের (!) এক স্বপ্নভূমি আচ্ছা।
এসব কি শুধুমাত্র ভূমিমালিকদের কাছ থেকে ভূমির মালিকানা কেড়ে নেবার মাধ্যমে সম্ভব? উত্তর হচ্ছে, না।
এই পরিবর্তনশীল সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে গতিশীল করার জন্য নাগরিকদের ভবিষ্যৎ সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য প্রক্রিয়াজাত করার কাজ করতে হবে। তো এখন কথা হচ্ছে যারা প্রক্রিয়াজাত হতে চায়না তাদের কী করতে হবে?
সোজা ভাষায় এসব অনিচ্ছুক ম্যাটেরিয়াল বা উপাদান সমূহকে উচ্ছেদ করতে হবে জড় থেকে। অনেকে বলেন এই অবাঞ্ছিত বস্তু বা উপাদান সমূহ আসে বুর্জোয়াদের কাছ থেকে। তো এই ব্যপারটা আসলে একেবারে মিথ্যা না হলেও এটা পুরো সত্য না। এই সমাজকে গঠন করার জন্য প্রয়োজন কিছু মাপকাঠি। এটা রাজনৈতিক হবার সাথে সাথে সামাজিক এবং গোষ্ঠীয় হতে হবে সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতায়। হিসাব অনুযায়ী একটা মাপকাঠি বা মেজারিং স্টিক দরকার ইউটপিয়াতে কে কে ফিট আর কে ফিট না সেটা বোঝার জন্য।
আর যে এটার মধ্যে যেতে চায় না তার পরিণতি কখনই ভালো না আর এদের জন্য সমাজতন্ত্র কোনদিন ভালো কিছু রাখেনি বরং বিরোধীকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে সমাজতন্ত্রে এই রকম কথাই আছে। ধীরে ধীরে এই পৃথিবী থেকে সকল ইনফেরিওর বা দুর্বলজাতিকে ধ্বংস করতে হবে অথবা তারা নিজেরাই ধংস হবে এই প্রক্রিয়ায়। অনেক সমাজতান্ত্রিক আমার দিকে হয়তোবা তেড়ে আসবেন এইকথা বলে যে ইহা সত্যিকার সমাজতন্ত্র নয় তাহলে তাদের জন্য আমার নিচের লেখাগুলো দিয়ে দিলাম,
"Until its complete extermination or loss of national status, this racial trash always becomes the most fanatical bearer there is of counter-revolution, and it remains that. That is because its entire existence is nothing more than a protest against a great historical revolution… The next world war will cause not only reactionary classes and dynasties, but also entire reactionary peoples, to disappear from the earth. And that too is progress." - Karl Marx, 1849, Neue Rheinische Zeitung
এখানে সহজ ভাষায় যেটা বলা হয়েছে তার সারাংশ হচ্ছে যে জাতি বা সম্প্রদায় হচ্ছে বিপ্লবের সব থেকে মৌলিক বাধা আর এই সম্প্রদায়, সাম্প্রদায়িকতা হচ্ছে ঐতিহাসিক বিপ্লব সংঘটিত করার পথে সব থেকে বড় প্রতিবাদ। অনেকে বলবেন এতে খারাপ কিছু কি আছে? এই সমাজে বিপ্লবের কারণে একসময় না একসময় সমস্ত সম্প্রদায় এর কুপ্রথা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে আর পৃথিবী পাবে তার ইউটোপীয়া। এটা তেমন হিংস্র মনে না হলেও এর পরের উক্তিটা সব প্রকাশ করে দিবে দিনের আলোর মত,
"The classes and the races too weak to master the new conditions of life must give way…. They must perish in the revolutionary holocaust." - Karl Marx, Marx People's Paper, April 16, 1856, Journal of the History of Idea, 1981
এটা কি মনে হয় আপনাদের revolutionary holocaust বলতে এখানে কি বোঝানো হয়েছে? বাম আর সমাজতান্ত্রিকদের নিকট প্রশ্ন থাকল?
সামাজিক বিবর্তন আর মানবতাবিরোধী ইউজেনিক্স
যে সময়ে কার্ল মার্ক্স তার সোশ্যালিস্ট ম্যানিফেস্টো তৈরি করেছিলেন তার একশ বছর আগে থেকেও সোশ্যালিজম এর বিষয়ে বেশ কিছু কথা উঠেছিল। মার্ক্স মূলত এইসমস্ত মতবাদের সমন্বয়কারী, আর এইসমস্ত বাদের মধ্যে আরেকটি বেশ বিতর্কিত মতবাদ এর কাঠামো তৈরি হচ্ছিল। যেহেতু সমাজতান্ত্রিক হতে গেলে নাস্তিক হতেই হবে সেজন্য তাদের এই মতবাদের সাথে আরেকটি বিশ্বাস থাকা খুবই অনুমেয় আর সেটা হচ্ছে মানব-বিবর্তন। প্রশ্ন উঠে মনে মানব-বিবর্তন বিশ্বাস করলে ক্ষতি কী? তাহলে সেটা নিচে দেয়া হল।
অনেকেই বিশ্বাস করেন যে ডারউইন এর মানব বিবর্তন শুধুমাত্র মানুষের বাহ্যিক এবং শারীরিক বিবর্তনকেই বোঝায় কিন্তু তার বন্ধু কার্ল মার্ক্স তার এই তাত্তিক ধারণাকে অনেক বেশী গতিশীল করে তোলেন ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধ্যমে। যদিওবা ডারউইন তার নিজের তত্ত্বেরই অনেক বার সামাজিক প্রয়োগ এর ব্যাপারে কথা বলেছেন এবং এক্ষেত্রে মার্ক্সের অবস্থান ডারউইনের তাত্ত্বিক অবস্থান থেকে বেশী ব্যবহারিক এবং উদ্যমী ছিল এবং তিনি বিশ্বাস করতেন যে ডারউইনবাদের ব্যবহার শুধু তাত্ত্বিক নয় ব্যবহারিক দিক থেকেও করা উচিত।
ইউজেনিক্স এর প্রাচীন মতবাদ সোশ্যাল ডারউইনইজম এর প্রবক্তারা মনে করতেন যে দুর্বল, জন্মগত অসুস্থ, আর অনুন্নত লোকদের সাহায্য সহযোগিতা করাটা প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এবং সারভাইভাল অব ফিটেস্ট প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বাধা যা মানব জাতির ভবিষ্যৎ নিরূপণে বাধাপ্রদান করছে।
এছাড়াও,
ডারউইনইজম এর প্রবক্তা ডারউইন আরও বলেছেন যদি মানব সমাজ এসব সাবস্পিসিজ বা অনুন্নত প্রজাতিদের সাহায্য জোড়া বন্ধ করে দেয় তাহলে হয়তোবা প্রাকৃতিক নির্বাচনের এই ঝামেলা সমূহ আমাদের আর বিরক্ত করবে না। তাদের অভিমতে এটা মানব সমাজকে সর্বাঙ্গীণ ভাবে সাহায্য করবে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে। তথ্যসূত্রঃ অরিজিন অব স্পিসিজ
যখন তার এই তত্ত্ব প্রায় পূর্ণতা পাবার উপক্রম তখন তিনি এর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি বলেন,
“…Do the races or species of men… encroach on and replace one another, so that some finally become extinct?… We shall see that all these questions must be answered in the affirmative…”
তথ্যসূত্রঃ
On the origin of species by means of natural selection - Page 498
অনেকে বলেন যে এটা নাকি পুরনো সব মানুষদের ব্যাপারে বলা হয়েছে যারা অনেক বছর আগে পৃথিবীতে ছিল তাহলে তাদের জন্য এর পরের চমকটা অপেক্ষা করছে।
এইসব তথাকথিত সাব-স্পিসিজ এর বাণীসমূহ ডারউইনের লিখিত বই Descent of Man-এ খুব ভালোভাবে দেয়া আছে। এখানে তিনি বলেছেন,
“At some future period, in the not very distant future… the civilized races of man will almost certainly exterminate and replace the savage races throughout the world…”
এই বইটা পড়ার পরে মার্ক্স বলেন যখন তিনি তার চিন্তাধারা বুঝতে পারেন,
“…this is a book which contains the basis of natural history for our views.”
আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি!!!!! এটা আবার কেমন কথা কেমন ভাবে সামাজিক বিবর্তনবাদ সমাজতন্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গির সমার্থক হল? এই অমানবিক মতবাদটা মানবতার মুক্তিদানকারী সমাজতন্ত্রের কেমন করে সমার্থক হল প্রশ্ন জাগে মনে,
তবে কি ডারউইনের মতবাদ আর মার্ক্সের মতবাদ পরস্পর পরিপূরক?জানি না এমন কোন কথা, হয়তো বা হয়তোবা নয়। তবে সহায়ক এই বিষয়টি পরিস্কার।
তবে সব থেকে কুখ্যাত তত্ত্বটির পূর্ণতা পাওয়া তখনো বাকি ছিল।
ডারউইনের সৎ এক কাজিন তার এই মতবাদ পড়ে এতোটাই অনুপ্রাণিত হন যে তিনি নিজের চিন্তাধারা এর সাথে যোগ করেন এবং তিনি এক নতুন বিশ্বের কথা চিন্তা করতে শুরু করেন, তিনি প্রক্রিয়াগতভাবে বিভিন্ন ক্লাস বা দল-উপদলে মানবজাতিকে বিভক্ত করতে শুরু করেন যে কে কে এই মানবসমাজে অবস্থান পাবার যোগ্য আর কে না। তিনি মানব সমাজকে এক নতুন উপায়ে এক নতুন পদ্ধতিতে প্রক্রিয়া করন শুরু করেন এবং বিশ্বাস করতে থাকেন অবাঞ্চিতদের বিশুদ্ধি, বিকলাঙ্গদের বিলুপ্তি এবং তথাকথিত নীচু প্রজাতিসমূহের অধিগ্রহণ খুব সতর্কতার সাথে কৃত সামাজিক প্রকৌশল এবং ডিজাইনিং এর মাধ্যমে করা যায়। এই তত্ত্বটার নাম ইউজেনিক্স, আর বিজ্ঞানীর নাম স্যার ফ্রান্সিস গ্যাল্টন।
সমাজতান্ত্রিক নাস্তিকতা এবং ইউজেনিক্স: এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক-২

মুনিম সিদ্দিকী
মার্চ ২১, ২০১২ at ১০:১৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
চমৎকার বর্ণনা! নতুন কিছু জানা গেল। ভাল লেগেছে, ধন্যবাদ।
ইমরান হাসান
মার্চ ২১, ২০১২ at ১০:১৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ আপনাকেও
এস. এম. রায়হান
মার্চ ২২, ২০১২ at ২:২০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নামটা বাংলায় লিখেন।
কিংশুক
মার্চ ২১, ২০১২ at ১১:২৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যেহেতু সমাজতন্ত্র সম্পর্কে কোন প্রকার তত্ত্বীয় পড়ালেখা নেই সেহেতু কোন প্রকার যাচাই বাছাই করতে পারছিনা। তবে আপনার উপস্থাপিত তথ্য, ব্যাখ্যাসমৃদ্ধ লেখা হতে সমাজতন্ত্রকে ভীতিকর, দানবীয় একটি মতবাদ মনে হচ্ছে। অমানবিক ইউজেনিক্স সম্পর্কে শাসম ভাইয়ের লেখা ও অন্যান্যগনের সংযুক্ত করা বিভিন্ন লিংক হতে অনেক কিছুই জেনেছি। তাহলে বিখ্যাত মার্ক্সবাদী সুশীল মেধাবী বুদ্ধিজীবি, পৃথিবী বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকগন কি এত মানবতার কান্ডারী হয়েও এধরনের বিকৃত মতবাদ (আমার মনে হচ্ছে, সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসীগনের অনুভুতিতে আঘাত লাগলে কিছু করার নাই) যাতে দূর্বলের, সমাজতন্ত্রে যারা বিশ্বাসী নয় সেই সব পথের কাঁটাকে সমূলে দুনিয়া হতে সরিয়ে দিয়ে হলেও কম্যুনিষ্ট নেতার মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের চিন্তার, ধর্মীয় সহ সকল প্রকার অধিকার কেড়ে নিয়ে "হীরকের (পড়তে হবে কম্যুনিষ্ট) নেতা ভগবান" এর মতো জ্বি হুজুর করা সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে ইচ্ছুক! এজন্যই তো যেসব দেশে পূর্বে সমাজতন্ত্র ছিলো তারা কম্যুনিষ্টদের বাপ-দাদা তুলে গালাগাল করে। পৃথিবী হতে সকলপ্রকার বৈষম্য, নিপীড়ন, অন্যায়-অত্যাচার, যুদ্ধ, হানাহানি দূর করানোর স্বপ্ন দেখানো মতবাদীদের কারনে কোটি কোটি মানুষ অন্যায়ভাবে নিহত হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদীদের মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন দেশের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবী (নাকি সব নৃশংস খুনী,একনায়ক, স্বৈরশাসক) গনের মাধ্যমে এত মহান মতবাদ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সামরিক, বেসামরিক সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করে বিভিন্ন দেশে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, সমাজতান্ত্রিক পরাশক্তি সমূহের চারপাশের দেশসমুহ জোর করে দখল করে সমাজতান্ত্রিক সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো (সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসীগনের বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক, বিপ্লব রপ্তানী, মেহনতি মানুষের মুক্তির অনুভুতিতে আঘাত লাগলে ক্ষমাপ্রার্থী)। বিদ্যালয় জীবনে তলস্তয়, গের্কি প্রমূখের গন সাহিত্য সমাজতান্ত্রিক দেশসমুহের বদান্যতায় সুন্দর বাঁধাই করা হোয়াইট প্রিন্ট বই স্বল্প মুল্যে পড়তে পেরে কমরেডগনের ত্যাগ, সাধারন মানুষের দু:খ-কষ্টের মর্মস্পর্শী বর্ননা, দুর্বলের উপর শক্তিশালী আগ্রাসনের কাহিনী, কমরেডদের সমাজ, পৃথিবী বদলে দেয়ার দৃঢসংকল্পের কাহিনী পড়ে সমাজতন্ত্র কতই না মধুর মনে হতো। সমাজতন্ত্রের সুখ স্বপ্ন তাহলে ফ্যান্টাসি!
মার্চ ২২, ২০১২ at ১:৫৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কিছুই বলার নেই সমাজতন্র এই পৃথিবীকে কতবার ধর্ষণ করেছে তার কোন ঠিক নেই,আর আপনার যদি এই টুকু পড়েই মনে হয় যে সমাজতন্ত্র এরকম দানবীয় তাহলে এর পরের পর্বগুলা পড়লে আপনি এর ভয়াবহতা সম্বন্ধে পুরোপুরি জ্ঞাত হয়ে উঠবেন। এই পৃথিবীতে ৯০% এরও বেশী নাস্তিকতা সমাজতন্ত্রের এই মতবাদের দারাই প্রসারিত হয়েছে
শামস
মার্চ ২৩, ২০১২ at ৫:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এ নিয়ে আমারও কিছু লেখা আছে, পড়তে পারেনঃ
ডারউইনের বিবর্তনবাদ থেকে মনুষ্যত্বের অবমাননাকারী বর্ণবাদী ইউজেনিক্স- সমাজতান্ত্রিক সম্পর্ক
কোন্ পন্থায় বামপন্থা!-৩
আপনার তথ্য নির্ভর লেখাটি ভাল আছে। আপনি সম্ভবত সদালাপে নুতন। স্বাগতম!
ইমরান হাসান
মার্চ ২৪, ২০১২ at ৩:১৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি আপনার লেখা থেকেই আরও গভীরে যাবার প্রেরণা থেকেই এই লেখাটি শুরু করেছি।তবে জানিনা আপনার মত এতো অসাধারণ লিখতে পারব কিনা
মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত
মার্চ ৩১, ২০১২ at ৮:০৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই আপনার কাছ থেকে চে গুয়েভারা নামের ঠাণ্ডা মাথার খুনি সম্পর্কে লেখা চাই।আমাদের তরুণ প্রজন্মের মাথা খাওয়া হয়েছে এই খুনিটাকে বিপ্লবী হিসেবে চিনিয়ে।তরুণরা এখন এই জানোয়ারের ছবি আঁকা টি-শার্ট পরে ঘুরে বেড়ায়।
পোস্টের ব্যাপারে নতুন কিছুই বলার নেই।