[Repeat post]
ইংল্যান্ডে শবে বরাত নিয়ে ২০-৩০ বছর আগে হানাফী আলেমদের মধ্যে তেমন কোন বিতর্কের আলোচনা দেখি নি [এই লেখাটি ২০১২ সালের]। তাছাড়া যেসব হানাফী আলেমের সাথে ওঠা বসা করার সুযোগ হয়েছে তাদের সবাইকে ওই রাতে আল্লাহ-বিল্লাহ করতে দেখেছি, এবং এই রাতের গুরুত্বের উপর ওয়াজ নসিহাত করতেও দেখছি। গত দশক থেকে (অর্থাৎ একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশক থেকে) দু-একজন আলেম এই বিষয়ে কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করছেন, এবং এখন তাদের সাথে আরও কিছু লোক স্বর সংযোগ করছেন, বিশেষ করে যেসব বাংলাদেশি আলেম সৌদিতে গিয়ে পড়াশোনা করে এসেছেন। তাদের কথার সার নির্যাস যতটুকু বুঝি, তা হল, শবে বরাত কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, অনেকের কাছে তা সঠিকও নয়। আবার, কারও কারও কাছে বিদআত! ইদানীং বেশ কিছু লেখা প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে। সবাই যখন কথা বলছেন, তখন, আমিও দুটি কথা বলার প্রয়াস পাচ্ছি। কারো ভাল লাগতে পারে, আবার কারো নাও লাগতে পারে -এই সম্ভাবনা জেনে-বুঝেই বলতে যাচ্ছি।
(যদিও সবার জানা, তবুও বলে রাখতে দোষ নেই যে 'শব' একটি ফার্সি শব্দ। এর অর্থ রাত। পাক-ভারত-বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের আমল থেকে এই শব্দটি ফার্সি থেকে আমাদের ভাষায় গৃহীত হয়েছে, এবং ঐ রাতটি 'শবে বরাত' বলে উল্লেখ হয়ে আসছে। আরব জগতে এটাকে লাইলাতুল বারাআত (ليلة البراءة) এবং মধ্য শাবানের রাত (ليلة نصف شعبان/ليلة منتصف شعبان) বলে উল্লেখ করা হয়।)
যারা লাইলাতুল বারাআহ বা শবে বরাতের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চান না, তাদের প্রথম কথা হল এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসে দুর্বলতা রয়েছে। কিন্তু কথাটি এভাবে একান্ত সঠিক নয়। এই বিষয় সম্পর্কিত সব হাদিস দুর্বল নয় যা পরে দেখা যাবে। তবে আপাতত দুর্বল বিষয়টি আলোচনা করা যাক। প্রথমত, হাদিসে দুর্বলতা আছে -এমন একটি কথায় সহজেই কিল্লা ফতেহ হয়ে যায় না। কেননা, হাদিস শাস্ত্রে ‘দুর্বল’ শব্দটি একটি পরিভাষা এবং হাদিস শাস্ত্রবিদদের মধ্যে দুর্বলতা নিয়ে মাত্রার অনেক ভিন্নতা রয়েছে। একজনের কাছে যা দুর্বল তা অন্যজনের কাছে দুর্বল নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে শাব্দিক ও পারিভাষিক স্থান সামনে না রেখে, কেবল, 'দুর্বল' বলে উড়িয়ে দেয়ার প্রবণতা একটু থামিয়ে রাখলেই বরং ভাল।
হাদিসে ‘দুর্বল’ শব্দটি তার ইসনাদ বা বর্ণনা-সূত্রে (narrative chain-এ) প্রোথিত। কোনো একটি বর্ণনা-সূত্রে বর্ণনাকারীর অবস্থান হাদিস বিশেষজ্ঞের মানদণ্ডে ‘দুর্বল’ অনুভূত হলে সেই ক্ষেত্রে তিনি এই পরিভাষা ব্যবহার করেন। কিন্তু মূল বিষয়টি যখন অন্যান্য বর্ণনাসূত্রের ধারা বিচরণ করে বার বার বর্ণিত হয়, তখন তার দুর্বলতা অনেকাংশে সবল হতে পারে। তাছাড়া একটি বর্ণনা কোন এক হাদিসবেত্তার মূলনীতির আলোকে দুর্বল হলে, অন্য হাদিসবেত্তার মানদণ্ডে তা সেভাবে বা সে মাত্রায় নাও হতে পারে। অপর দিকে, বর্ণনার আধিক্যের ফলে বর্ণিত বিষয়টি ভিন্ন মর্যাদায় পৌঁছতে পারে। মাওলানা নূর মুহাম্মাদ আজমী (১৯৭৮) তার ব্যাখ্যায় বলেন, রাবীর জোফ বা দুর্বলতার কারণে কোন হাদিসকে জঈফ (দুর্বল) বলা হয়, অন্যথায় (নাওজুবিল্লাহ) রাছূলের কোন কথাই দুর্বল হয় না। দুর্বল হাদিছের জো’ফ (দুর্বলতা) কম ও বেশী হতে পারে। খুব কম হইলে উহা হাসানের নিকটবর্তী থাকে। আর বেশী হতে হতে তা এক সময় একেবারে ‘মাওজুতে’ (দুর্বলতায়) পরিণত হতে পারে। প্রথম পর্যায়ের জঈফ হাদিছ আমলের ফযীলত বা আইনের উপকারিতার বর্ণনায় ব্যবহার করা যাইতে পারে, আইন প্রণয়নে নয় [১] ।
সংক্ষেপে, রেওয়াতের সূত্রের রাওয়ী (راو) যদি ‘দাবত/ضبط ’ (দৃঢ় স্মৃতি শক্তির) গুণ সম্পন্ন হন অর্থাৎ যদি তার স্মৃতিশক্তি এমন হয় যে তিনি শ্রুত বা লিখিত বিষয় স্মৃতিতে সুচারুরূপে ধারণ করতে সক্ষম হন, তাহলে এই বর্ণনাকারীকে ‘দাবেত’ বলা হয়, (এই শব্দদ্বয়কে ফারসির উচ্চারণি কায়দায় বাংলায় যথাক্রমে জবত ও জাবেত বলা হয়) এবং বর্ণনাকারীর গুণ দাবতের কম হলে হাদিসকে ‘হাসান’ বলা হয় [প্রাগুক্ত ১, এবং ২]। কিন্তু, বর্ণনাকারীর গুণ হাসানের নিচে হলে, বর্ণিত হাদিসে দুর্বল পরিভাষাটি আসে। ‘দুর্বল’ পরিভাষা প্রয়োগের আরও কারণাদি রয়েছে। ইমাম হাফিজ ইবন হাজর আল-আসক্বালানীর (৭৭৩-৮৫২ হি.) দৃষ্টিতে একটি হাদিসের ইসনাদের সূত্রের ধারাবাহিকতায় বিচ্ছেদ ঘটলে বা কোন রাওয়ীর ব্যাপারে সমালোচনা থাকলে শাস্ত্রীয় আলোচনায় 'দুর্বলতার' কথা আনা হয়।
ঘটনা এমনও হতে পারে যে একটি সূত্রে (narrative chain-এ) একজন বর্ণনাকারীর (রাওয়ীর) সামান্য স্মৃতি বিস্মৃতি লক্ষ্য করা গেছে, কিন্তু বর্ণনার সমষ্টিগত বিচারে বর্ণিত বিষয় (মতন/متن) হাদিসবিশেষজ্ঞের কাছে ঠিকই থেকেছে। তাই হাদিস বিশেষজ্ঞ ঐ বর্ণনার অর্থগত বিষয় বর্জন করেন না। এমন হাদিস নেক আমল বা আখলাক গঠন সম্পর্কিত হলে তার সঠিক ব্যবহার করেন। অধিকন্তু, এমন হাদিসের প্রচার ও প্রশিক্ষণে আগ্রহীও থাকেন।
মাওলানা ফাজলুর রহমান আজমী (২০০০:৪-৫) শবে বরাত সম্পর্কিত হাদিসের ব্যাপারে বলেন, “The narrations are quite numerous and the weakness in many is not severe. The virtue of this night will be considered authentic due to the sheer number of these narrations. This is the general consensus of the scholars in the field. অর্থাৎ শবে বরাত সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে। তবে অনেক হাদিসের দুর্বলতা তীব্র নয়। তাই এমন হাদিসের ব্যাপক বর্ণনার প্রেক্ষিতে শবে বরাতকে প্রামাণিক বিবেচনা করা হবে। এটাই হচ্ছে হাদিস বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সাধারণ ঐক্যমত” [৩] ।
রেওয়ায়েত বা বর্ণনা সম্পর্কিত কিছু কথা
রেওয়ায়েত বা বর্ণনা বিদ্যা (narration) হচ্ছে জ্ঞান বাহনের একটি মাধ্যম। কোনো বর্ণনা কোনো বিশেষ বিদ্যার প্রেক্ষিতগত বা অঙ্গন ঘিরে বর্ণিত হয়ে বিশেষজ্ঞ আকার ধারণ করুক অথবা সাধারণ আকারেই থেকে থাকুক, এই উভয় ক্ষেত্রেই বর্ণনা (narrative) এক জ্ঞানতাত্ত্বিক-শ্রেণী বা পদ্ধতি (epistemological category) হিসেবে কাজ করে যায়। সংক্ষেপে, বর্ণনা এক ধরণের নির্বস্তুক মাধ্যম যার প্রেক্ষিতে আমরা বিশ্ব জগতের ধারণা লাভ করি। বর্ণনার একেক অঙ্গন (বা শ্রেণী) একেক ধরণের জ্ঞান বাহন করে যেমন ধর্ম, বিজ্ঞান, আধ্যাত্মিকতা, সাহিত্য ইত্যাদি।
অণুতে ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন কীভাবে অবস্থান করে, অথবা কোয়ার্ক (quark) কীভাবে অস্তিত্বশীল হয়ে আছে–তা পদার্থ বিজ্ঞানের বিষয় হলেও ‘বর্ণনার’ মাধ্যমেই আমরা সেই জাগতিক জ্ঞানে প্রবেশ করি। উল্লেখিত পদার্থগুলো চোখে দেখার মত কোনো জিনিস নয়, এবং এগুলো নিজেরাই টেলিপ্যাথির মতো কোনো পদ্ধতিতে আমাদেরকে তাদের অস্তিত্ব ও প্রক্রিয়াগত বিষয়ে অবগত করাতে পারে না। এসব বিষয়ে আমাদের জ্ঞান হচ্ছে যান্ত্রিক অবলোকনের মাধ্যমে, যন্ত্রে উদ্ভাসিত তথ্যের ভাষিক ব্যাখ্যা-বর্ণনায় প্রাপ্ত। তবে বিজ্ঞান 'যেভাবে' জগতকে যান্ত্রিক উপায়ে বুঝার চেষ্টা করে 'সেই বর্ণনা' (that narrative) 'সেই সমঝের'ই প্রেক্ষিত বহন করে। এভাবে প্রত্যেক বর্ণনা শ্রেণী (narrative category) একেক ধরণের জ্ঞান বহন করে। প্রত্যেক অঙ্গনে বর্ণনার 'ভাষিক প্রকৃতি' তার আপন শব্দ, বাক্য ও বর্ণনা ভঙ্গিতে ভিন্ন চেহারা প্রদর্শন করতে পারে, আর তার ব্যাখ্যার পারিভাষিক রূপ ভিন্ন হতে পারে। শবে বরাতের রেওয়াতে (বর্ণনায়) ধর্মীয় মহাত্ব, পাপ-মোচন ও পরিত্রাণের সেই সব কথা রয়েছে যা "ধর্মীয় জ্ঞান-শ্রেণী"র সাথে সংগতিশীল।
আমাদের ধর্মে কোরান হচ্ছে এক ধরণের বর্ণনা এবং হাদিসও হচ্ছে আরেক ধরণের বর্ণনা। এই উভয় উৎস থেকে আমরা বিশ্ব জগতের ধারণা লাভ করি। এখানে বৈজ্ঞানিক অবলোকনের মতো কোনো যন্ত্র নেই। এই জ্ঞান-শ্রেণী ও এর বাহন ভিন্ন। এখানে জ্ঞান অহীর মাধ্যমে আসে এবং এই তথ্যসূত্রেই আমরা গাইবিয়্যাত (অদৃশ্য জগত) সম্পর্কে অবগত হই। এখানে অত্যাধিকভাবে "যুক্তি বিদ্যা" টেনে আনলে এই গোটা অঙ্গনে নানান সমস্যার সৃষ্টি করা হয়ে যাবে। কেননা, গাইবিয়্যাতের জ্ঞান, অদৃশ্য জগতের জ্ঞান, একান্ত যুক্তিসর্বস্ব জ্ঞানাঙ্গন নয়। এই অহীতে লব্ধ জ্ঞানের মধ্যেই রয়েছে আল্লাহ, ফেরেস্তা, বেহেস্ত দোজখ, পরকাল, সৃষ্টি তত্ত্ব, পাপ, পুণ্য, শাস্তি পুরষ্কার ইত্যাদি।
শবে বরাত সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোতে আমরা যে ধারণা পাই তা ওহীলদ্ধ অপরাপর পরিত্রাণ, ক্ষমা ও রহমত সংক্রান্ত মৌলিক ধারণার সাথে সঙ্গতি রাখে। কোনো বর্ণনা সূত্রের বর্ণনাকারীর কিছু দুর্বলতা দৃষ্ট হলেও গোটা তাত্ত্বিক পরিমণ্ডলে সেটি কোনো বিরোধ আনতে দেখি না। আমরা শবে বরাতের বর্ণনাতে পরিত্রাণ (নাজাহ) সম্পর্কিত বর্ণনা পাই, আল্লাহর করুণা ও মহত্তের বর্ণনা পাই -এগুলো ‘বিশ্বাসের’ ব্যাপার (যুক্তিবাদ বা যান্ত্রিক অবলোকনের ব্যাপার নয়)। এই ধারণা সামনে রেখে সূত্রস্থ (within the narrative chain) কোনো এক বর্ণনাকারীতে সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে তা মূল বিষয়বস্তুতে বিঘ্নতা সৃষ্টি করে না। কেননা ঐ বিষয়গুলোর সংযোগ ও সম্পর্ক অন্যান্য সূত্রে সুগভীরভাবে প্রোথিত। শবে বরাতে অর্থাৎ ঐ রাতে আল্লাহ ধরার আসমানে অবতরণ করাতে কোনো সমস্যা দেখি না, আল্লাহ মানুষকে ব্যাপকভাবে মার্জনা করতে কোনো সমস্যা দেখি না, মানুষকে পূণ্যদানে ধন্য করতেও সমস্যা দেখি না। অনেক কথাতে রূপকতার ব্যবহার দেখি, যেগুলো যুক্তি ও আক্ষরিক অর্থে আলোচনার বিষয় নয়। আল্লাহ তো সব রাতের শেষার্ধেই ধরার আকাশে অবস্থান করেন, এমন কথা ‘সহীহ’ হাদিসে প্রমাণিত, এমন বর্ণনা রূপক।
আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে আল্লাহ প্রত্যেক রাতের শেষ তৃতীয়ার্ধে জগতের আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন কেউ কি আছ আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তোমাদের প্রার্থনা মঞ্জুর করব। কেউ কি আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাদেরকে দান করব। কেউ কি আছ ক্ষমা প্রার্থী, আমি ক্ষমা করব (বোখারী)।
হাদিসে মধ্য শাবানের রাত ইবাদতের মাধ্যমে যাপন করাতে অনেক গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ যদি ছোট কাজের বিনিময়ে বড় নেয়ামত দেন, তবে এতে কারো যুক্তি তোলার কী আছে? আল্লাহর ভাণ্ডার থেকে আল্লাহ দান করবেন, এতে সমস্যার কিছু নেই। সব চেয়ে বড় কথা হল ঐ রাতে ইবাদত বন্দেগী করাতে তাওহীদী বিশ্বাসে কোন ব্যত্যয় নেই। সুতরাং ভাল কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাতে কোন লাভ নেই। কোরান ও হাদিসের অনেক বিষয়াদি আক্ষরিক (literal) অর্থে নিহিত নয়। আমাদের মৌলিক সূত্রের (কোরান/হাদিসের) ভাষা ও বাক্যকে ‘বিমূর্ত’ আকারে নেয়া উচিৎ নয়, এটা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ভয়ানক। আমরা কোরান ও হাদিসের ইবাদত করি না; বরং এক নিরাকার আল্লাহর ইবাদত করি। শবে বরাতের ক্ষেত্রে আমরা যা আলোচনা করি তা হচ্ছে বিশ্বাসের জগতের বিষয়; মনের জগতের বিষয় -যা ঈমানে ধারিত হয়। তাওহীদ ও শিরক মনের জগতে অবস্থান করে। সুতরাং কোরান ও হাদিসের ভাষা ও বাক্যিক ঝোঁক যেন তাওহীদকে অতিক্রম করে আক্ষরিক প্রবণতাসুলভ গোপন শিরকের দিকে ধাবিত না হয় –আমরা যেন সে দিকেও খেয়াল রাখি।
যারা শবে বরাতের ইবাদতি কার্যক্রমে, এদিকে-সেদিকে, শিরকের প্রশ্ন উত্থাপন করেন, তাদেরকে মনে রাখতে হবে যে যে ব্যক্তির বিশ্বাসে শিরক জড়িয়ে আছে সে তা শবে ক্বদরেও প্রকাশ করতে পারে। কবর জিয়ারতের প্রথায় যাদের মধ্যে ভুলভ্রান্তি রয়েছে তারা তো সবদিনই সেই কাজ করে থাকে। এর সাথে শবে বরাতকে জড়িয়ে কী লাভ? আবার যে ব্যক্তির আচরণে শিরক নেই, তার জন্য মধ্য-শাবানে কবর জিয়ারত করা নিষেধ হবে কোন দুঃখে? কোরান হাদিস কী মধ্য শাবানে ইবাদত করা অথবা কবর জিয়ারত করা ‘হারাম’ঘোষণা করেছে? ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে ক্ষমা, মার্জনা ও তাওবা, ইস্তেগফারের যেসব অবলম্বন তৈরি করে দিয়েছেন, ধর্মের নামে সেই সব সুযোগের পথ বন্ধ করে দিলে ধর্ম লাভবান হয়, না ধর্মের ক্ষতি হয় –সেই বিবেচনাও করতে হবে।
মাওলানা ফাজলুর রহমান আজমী (২০০০:১৩) শবে বরাতের ব্যাপারে আল্লামা তাক্বী উদ্দীন ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহর (র.) একটি মত উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে দুর্বল বর্ণনাদি অগ্রাহ্য করার প্রবণতায় যে আলেম সব চেয়ে সুপরিচিত, সেই ইবন তাইমিয়্যাহ (র.) বলেন, “এত অধিক সংখ্যক হাদিস মধ্য শাবানের রাতের মহাত্ব নিয়ে বর্ণিত হয়েছে যে এগুলো ঐ রাতের গুরুত্ব গ্রহণ করতে বাধ্য করে” [৪] । এর পর আর কোনো কথা বলার অবকাশ রাখে বলে মনে হয় না।
তবে আমাদের সকলেরই দায়িত্ব এই হওয়া উচিৎ যে যারা ঐ রাতে এখানে-সেখানে আলো জ্বালায়, আতশবাজি করে, আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে প্রার্থনা করে, কবর জিয়ারতে গিয়ে আলো জ্বালায়, মৃতদের জন্য দোয়ার পরিবর্তে ওদের কাছে প্রার্থনা করে, উরোশবাজি করে –এগুলো বন্ধ করতে তৎপর হওয়া। ঐ রাতে নফল নামাজ, কোরান তেলায়াত, জিকির-আযকার, তসবীহ তাহলীল ব্যতীত যেন অন্য কোন ধরণের আগড়া-বাগড়া না করা হয়।
কয়েকটি হাদিস
১। মধ্য শাবানের রাতে আল্লাহ তার সৃষ্টিলোকের দিকে দৃষ্টি দান করেন এবং সবাইকে মাফ করে দেন কেবল মুশরিক ব্যক্তি ছাড়া ও যার মধ্যে ঘৃণা বিদ্বেষ রয়েছে তাকে ছাড়া। বর্ণনায়, মুয়ায বিন্ জাবাল। ((আল-মুনযিরী তাঁর আত-তারগীব ওয়াত-তারহীবে (২/১৩২)বলেন, “সহিসটি হাদিস”। আল-আলবানীর দৃষ্টিতেও হাদিসটি সহীহ। আস-সিলসিলাহ আস-সাহীহাহ (৩/১৩৫))
২। আল্লাহ তা’আলা মধ্য শাবানের রাতে (দুনিয়ার আসমানে) আসেন এবং সকলকে মাফ করে দেন কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যার হৃদয়ে ঘৃণা বিদ্বেষ রয়েছে, এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্ত করে (অর্থাৎ মুশরিক)। বর্ণনায়, আবু বাকর (রা.)। ((ইবন হাজর আল-আসক্বালানী তাঁর আল-আমাল আল-মুথলাক্বাহ গ্রন্থে (ক্রম, ১২২) বলেন, “হাদিসটি হাসান, যদিও কাসেম তার চাচার সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন।”))
৩। আল্লাহ তা’আলা মধ্য শাবানের রাতে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন, এবং কালব গোত্রের ভেড়িগুলোর লোমের সংখ্যার পরিমাণের চেয়ে বেশি লোকজনকে মাফ করে দেন। বর্ণনায়, আয়েশা বিনত আবি বাকর (রা.)। ((আল-আলবানী বলেন,“হাদিসটি অন্য সূত্রে সহীহ।”তাখরীজ মিশকাত আল মাসাবীহ, (ক্রম, ১২৫১), প্রণয়নে আল-আলবানী))।
৪। এক রাতে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) নামাজ পড়তে দাঁড়ালেন। তাঁর সেজদা এতই দীর্ঘ হল যে আমার মনে হল তিনি নিষ্প্রাণ হয়ে পড়েছেন। অবস্থা এমন মনে হওয়ায় আমি উঠলাম কিন্তু (পরক্ষণে) তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির সঞ্চালন অনুভব করলাম, এবং তাঁর নড়াচড়াও পেলাম। তাই আমি শুয়ে পড়লাম। তারপর তিনি যখন সেজদা থেকে মাথা তুললেন এবং নামাজ শেষ করলেন, তখন বললেন, “আয়েশা, তুমি কি মনে করেছিলে আমি অন্য কোথাও চলে গেছি?” আমি বললাম, “তা নয়, হে আল্লাহর রাসূল। তবে, আপনার সেজদার দীর্ঘতার কারণে মনে হয়েছিল আপনার প্রাণ-বায়ু বেরিয়ে গেল কিনা।” তিনি বললেন, “তুমি কি জান আজ কোন রাত?” আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন, “আজ মধ্য শাবানের রাত। মহান আল্লাহ এই মধ্য শাবানের রাতে তার বান্দাদের দিকে মনোনিবেশ করেন এবং যারা তার মার্জনা চায় তাদেরকে মার্জনা করেন, আর যারা তার রহমত প্রত্যাশা করে, তিনি তাদেরকে তা দান করেন। তবে হিংসা বিদ্বেষীরা যেভাবে আছে, তাদেরকে সেভাবেই রেখে দেন।” বর্ণনায়, আয়েশা বিনত আবি বাকর (রা.)। ((বাইহাক্বী বলেন, “হাদিসটি উত্তম মুরসাল।” [মুরসাল হচ্ছে এমন হাদিস যার সনদে/সূত্রে শেষের দিকে কেউ বাদ পড়েছেন।] বাইহাক্বী প্রণীত, শুয়াবুল ঈমান, ৩/১৪০/৫ ))।
৫। যখন মধ্য শাবানের রাত্র আসবে তখন তোমরা রাতের বেলায় ইবাদত কর, এবং দিনের বেলায় রোজা রাখ। কেননা, আল্লাহ তা’আলা দুনিয়ার আসমানে আসেন, এবং বলেন, কেউ কি ক্ষমা প্রার্থী আছ, আমি তাকে ক্ষমা করব। কেউ কি রিজিক প্রার্থী আছ, আমি তাকে রিজিক দেব। কেউ কি বিপদে আপদে আছ, আমি তার পরিত্রাণ করব। এভাবে আল্লাহ আহবান করতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত না ফজরের সময় হয়। বর্ণনায়, আলী (রা.)। ((আশ-শাওকানী বলেন, “হাদিসটির সূত্র দুর্বল।” তুহফাতুজ জাকিরীন, (ক্রম ২৪১) প্রণয়নে আশ-শাওক্বানী))
৬। আল্লাহ তা’আলা মধ্য শাবানের রাতে তাঁর বান্দাদের দিকে দৃষ্টিপাত করেন। তিনি বিশ্বাসীদেরকে মাফ করেন ও অবিশ্বাসীদের ক্ষমা স্থগিত করেন, এবং হিংসা-বিদ্বেষীদেরকে তাদের নিজ অবস্থায় রেখে দেন (সেদিনের জন্য যখন তারা সংশোধিত হয়ে তাকে ডাকবে)। বর্ণনায়, আবু সা’বাহ আল খাশানী (রা.)। (আল-মুনযিরী বলেন, ‘হাদিসটির সূত্র সহীহ বা হাসান বা এই দু’য়ের কাছাকাছি। আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, ৩/৩৯২)।
[নোট: হাদিসগুলো আমার নিজের অনুবাদ, তাই কোন ত্রুটি থেকে থাকলে সেটা আমার। আরবী সূত্র রেফারেন্সের ৫ম নম্বর [৫]]।
সারাংশ
এখানে শবে বরাত নিয়ে উল্লেখিত হাদিসগুলোর একটি সারাংশ দেখা যাক। লক্ষণীয় যে উপরে মুয়ায বিন্ জাবাল (রা.) বর্ণিত হাদিসকে আল-মুনযিরী “সহীস হাদিস” বলেছেন, এবং আলবানীও তাই বলেছেন। আয়েশা (রা.) বর্ণীত হাদিসের ব্যাপারে আলবানী বলেছেন, “হাদিসটি অন্য সূত্রে সহীহ"। আয়েশা (রা.) বর্ণীত অপর হাদিসটিকে বাইহাক্বী “হাদিসটি উত্তম মুরসাল” বলেছেন (মুরসাল হচ্ছে এমন হাদিস যার সনদে/সূত্রে শেষের দিকে কেউ বাদ পড়েছেন)। আবু সা’বাহ আল খাশানী (রা.) বর্ণীত হাদিসটির ব্যাপারে আল-মুনযিরী বলেছেন, "হাদিসটির সূত্র সহীহ বা হাসান বা এই দু’য়ের কাছাকাছি।" কেবল আলী (রা.) বর্ণীত সূত্রের ব্যাপারে আশ-শাওকানী বলেছেন, “হাদিসটির সূত্র দুর্বল"। এখানে ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহর (র.) কথাও উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেছেন, “এত অধিক সংখ্যক হাদিস মধ্য শাবানের রাতের মহাত্ব নিয়ে বর্ণিত হয়েছে যে (এ কারণে) এগুলো ঐ রাতের গুরুত্ব গ্রহণ করতে বাধ্য করে।” তারপর অনেক মুফাসসিরের কথাও আমার দ্বিতীয় পর্বের লেখায় আসবে।
চিন্তা করুন, যেসব বড় বড় আলেম-উলামা এবিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন তারা সবাই কি “বিদআতি”? তারা কি হাদিস বুঝেন না, ইসনাদ বুঝেন না? আরও লক্ষণীয় যে এখানে জাল হাদিসের কথা আসে নি। সুতরাং, যেখানে প্রণিধানযোগ্য আলেমদের কথা-বার্তা রয়েছে, সেখানে গোজামিল করে, জেনরেলাইজড বক্তব্য টেনে, বিষয়টিকে "বিদাত" বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা ধর্মীয় কাজ হতে পারে না। অধিকন্তু, সামাজিক বাস্তবতার আলোকে এটা ফিতনা-সমতুল্য হতে পারে। আজ বিষয়টি ঘিরে একটি শ্রেণী অপর শ্রেণীদের বিপক্ষে যে চরমধর্মী ফাতোয়ার ভাষা ব্যবহার করছেন, এই ভাষা যদি অপর শ্রেণীর লোকজনও ব্যবহার করতে শুরু করেন, তবে সমস্যা প্রকট হতে বাধ্য। আজকের বিশ্বে যত চরমপন্থি আন্দোলন দেখছি, সেগুলোতে আক্ষরিক ব্যাখ্যার চরমপন্থি উৎসও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেসব বিষয়ে বিদআতের কিছু নেই সেসব ক্ষেত্রে বিদাত সম্পর্কিত হাদিসের বয়ান দিয়ে, চিল্লাচিল্লি করলে তাতে কোন যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা হয় না। আজ উচিৎ হবে ধর্মীয় ফিতনা না করে, যার যার আপন পজিশনে থেকেই শুধু নিজেদের ‘অবস্থান’ ব্যাখ্যা করে যাওয়া। অর্থাৎ ফতোয়াবাজি না করা।
এই বিষয়টির উপর দ্বিতীয় পর্বের লেখা এখানে।
published on 25/06/2026
রেফারেন্সেসঃ
__________________________________
[১] আ’জমী, নুর মোহাম্মদ, (১৯৭৮), মেশকাত শরীফ, ১ম খণ্ড, (বাংলা), ঢাকাঃ এমদাদিয়া লাইব্রেরী। [ভূমিকা, পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রদর্শিত নয়]
[২] আব্দুল-হালিম, তারিক, (২০১০), টারমিনোলজি অফ হাদিস এণ্ড মেথডলজি অফ মুহাদ্দিসীন, [ইংরেজি], টরোন্টো: দার আল-আরক্বাম পাবলিকেশন [অনলাইন] প্রাপ্তিস্থান।
[৩] আযমী, ফজলুর রহমান, (২০০০) শবে বরাত [ইংরেজি], দিল্লি: ইদারা ইশাআতে দ্বীনিয়াত (পি) লিমিটেড।
[৪] প্রাগুক্ত, পৃ ১৩, ইবন তাইমিইয়্যার ফাওজুল ক্বাদীর, ২য় খণ্ড, পৃ,৩১৭ থেকে উদ্ধৃত
[৫] উইকিপিডিয়া, লাইলাতু মুনতাসাফি শাবান [আরবী], অনলাইন। প্রাপ্তিস্থান: [Accessed on 18/06/2026]


ফোরকান
জুন ২৫, ২০১২ at ১০:৪৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ আহমদ ভাই, খুব সুন্দর একটি টপিক নিয়ে লিখেছেন। শবে বরাত আছে কি নাই সেটা নিয়ে আমি বহুদিন যাবত দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি। এ ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে আপনার মতামত কি ? অনেক ইসলামিক ব্লগে শবে বরাত একটি বিদাত হিসেবে পড়েছি।
এম_আহমদ
জুন ২৬, ২০১২ at ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যারা মধ্য শাবানের রাতের গুরুত্ব দেখছেন না তারা 'সহিস হাদিস' নিয়ে বিষয়টিকে প্রাসঙ্গিক করছেন। আর সহিস হাদিসের প্রসঙ্গই ছিল এই প্রবদ্ধে। এখানে দুর্বল ও সহি নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, সংখ্যাধিক্যের কারণে ইবন তাইমিয়্যাহ ঐ রাতটির গুরুত্বের কথা স্বীকার করেছেন। মুহাম্মদ আলাওয়ী আল-মাক্কী, হুসেইন মুহাম্মাদ মাখলুফ, আলী জুময়া, আব্দুল্লাহ সিদ্দীক এবং আরও অনেকে মনে করেছেন ওই রাতের ফজিলতের উপর যে সব হাদিস বর্ণিত হয়েছে সেগুলো সঠিক -এমন কি দুর্বলগুলোও (মতনের দিক দিয়ে) এবং এগুলোর উপর আমল করা ঠিক আছে এজন্য যে এই সব হচ্ছে ফাজায়েলে আমলের উপর। তাঁরা বলেন যে সলফে সালেহিনদের অনেকে ঐই রাতে ইবাদতে মনযোগী হতেন, ইবাদতে মাশগুল থাকতেন। এ ব্যাপারে ইবন রজব আল-হানবালী বলেন, সিরিয়াবাসি তাবেঈগণ যেমন খালেদ বিন মা’দান, মাকহুল, লুক্বমান বিন আমির এবং অন্যান্যরা ঐ রাতকে অনেক গুরুত্ব দিতেন এবং ইবাদতে মশগুল হতেন। [সূত্র] শিয়া সম্প্রদায় ঐ রাতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তাই সৌদি লাইনের সালাফিরা এই রাতের গুরুত্বকে কম করে দেখার আরেকটি কারণ হতে পারে। আল্লাহই ভাল জানেন। মূল কথা হচ্ছে এসব বিষয়ে একদম সুনির্দিষ্টতা খুঁজতে যাওয়াতে সমস্যা থাকতে পারে। শবে ক্বদরের রাত বেজোড় সংখ্যায়। তারপর যে রাতটি আমরা ইংল্যাণ্ডে ২৭ তারিখ ভাবি, সেটি ২৭ তখনই হতে পারে যদি চাঁদের প্রথম তারিখ সঠিক হয়ে থাকে। আমরা এমনও দেখি যে কেউ শবে ক্বদর করছে আজ, কেউ করছে কাল। কেননা তাদের রমজান শুরু হয়েছে দু ভিন্ন দিনে। গাণিতিক শুদ্ধতা (correctness) দিয়ে বিশ্বাসের শুদ্ধতা মাপার মত বিষয় নয়। যে ইবাদত করবে সে তার সওয়াব পাবে- এটাই আমার বিশ্বাস। মধ্য শাবানের রাতের ইবাদতকে বিদাত বলা অত্যন্ত বাড়াবাড়ি হবে। আমরা তারাওয়ীর নামাজ জামাতে পড়ি আর বলি এটা বিদাতে হাসানাহ। কিন্তু এই জামাতের নামাজের পক্ষে কোন হাদিস নেই, সবলও নেই, দুর্বলও নেই। কিন্তু এখানে মধ্য শাবানের রাতের ব্যাপারটা দেখুন –এখানে হাদিসের সংখ্যা দেখুন, তাবেঈনদের কথা দেখুন এবং সবকিছুর তাৎপর্য দেখুন। এটাকে বিদাত বলা খুবই মন্দ কথা। চাইলে এই পক্ষ থকে শক্ত কথা বলা যেতে পারে। এসব কাজ অত্যন্ত সহজ। কিন্তু বিতর্কে যাওয়া ঠিক নয়। পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ রেখে যার যার বিশ্বাস মত ইবাদত করলেই চলে। এটাই আমার মত।
জুন ২৬, ২০১২ at ২:০৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ঠিক বলেছেন, আমিও এটা মনে করি। কেউ নফল ইবাদত করতে চাইলে যেকোন সময় যেকোন বিশ্বাসে করতে পারে। ধন্যবাদ।
এম_আহমদ
জুন ২৬, ২০১২ at ২:২৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তবে কিছু লোক গদবাধা তরিকা তৈরি করেছে। যেমন এত রাকাত পড়তে হবে, এভাবে পড়তে হবে এবং এর একটা নামও দিয়েছে। এর প্রথম রাকাতে এই সূরা এতরার পড়ে হবে, এবং পরের রাকাতে সেই সূরা এতবার পড়তে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর তারপর গদবাধা বিভিন্ন নামের তসবিহ -আমি আবার এসবে নেই।
ফোরকান
জুন ২৬, ২০১২ at ১:৪৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি ঠিকই বলেছেন আহমদ ভাই। আমাদের বাসার পাশে ফকির বাড়ি (মিরপুর ১০ নাম্বার) নামে বিশাল একটি মসজিদ আছে। তারা মাঝে মাঝে ছোট ছোট পুস্তিকা তৈরি করে পাবলিশ করে। সেই পুস্তিকায় শবে বরাতকে সরাসরি ভাগ্য রজনি ও হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলে প্রচার করে থাকে। সারারাত নামজের পর তবারক বিতরন হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে বরাতকে রমজানের প্রস্তুতি কাল হিসেবে মনে করি, বেশি কিছু নয়।
সাদাত
জুন ২৫, ২০১২ at ১১:৩৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সুন্দর একটি লেখা দিয়েছেন, পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম। আমার মনে হয় শবে বরাত না বলে 'মধ্য শাবানের রজনী' বললে অনেকেই হয়ত আর আপত্তি করতো না। ভিন্ন মতের কেউ থাকলে একটা জমজমাট আলোচনা হতে পারতো।
এম_আহমদ
জুন ২৬, ২০১২ at ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কত বদলাবেন, ফারসি শব্দ আমাদের ভাষায় অসংখ্য। তবুও প্রথম বাক্যের পর 'শবে' বরাতকে আরেকটু ব্যাখ্যা করেছি। দেখা যাক কি হয়।
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
সরোয়ার
জুন ২৭, ২০১২ at ১২:৫৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভালো লেখা। অনেক কিছু স্পষ্ট হলো। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
এম_আহমদ
জুন ২৮, ২০১২ at ২:০৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
আবদুস সামাদ
জুন ২৭, ২০১২ at ৭:০২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শবে বরাত নিয়ে বিভেদ থাকলেও ইবাদত নিয়ে বিভেদ উচিত নয়। ।যে কোন রাতেই ইবাদত করা যায়। এর পক্ষে অনেক হাদিশ থাকলেও কোরআনের কোথাও পরিষ্কার করে বা হয়নি। কোরআনের বরকতময় রাত কথাটিকে এর দলীল হিসেবে অনেকে নিয়ে এসেছেন। তবে আমি নিজে এদিনে অনেককে যা করতে দেখেছি, ছোট বেলায় নিজেও করেছি তা অবশ্যই শির্কের পর্যায়ে পড়ে। তাই সেগুলি যদি বলবত হতে থাকে তবে আসল শবে বরাত আর থাকেনা।
ছোটবেলায় দেখতাম, সন্ধাবেলায় বাড়ির চারিদিকে মোমবাতি জ্বালানো হত। উদ্দেশ্য মুরুব্বীদের আত্মার বাড়ি আসতে কষ্ট না হয়, হালুয়া রুটি তৈরী করে অন্ধকার ঘরে মাদুর বিছিয়ে সুন্দর করে রাখাহত আত্মারা খাবে, তার পর অন্যেরা খেতেপাবে। কোন কোন বাড়ি ফাতেহা করার নিয়ম ছিল, আজও টিকে আছে। ফাতেহা হল খাবার তৈরী হলে প্রথমে তা কোন পীর বা নবী সঃ এর নামে উৎসর্গ করতে হবে, তার পর খাওয়া যাবে।মরহুম দের পছন্দের জিনিষটি যেন অবহেলিত হয়ে পড়ে না থাকে, তাতে তারা কষ্ট পাবেন। এগুলো আমি ভারতে থাকা অবস্থায় দেখেছি, করেছিও। এর পর ওখানে যেটা আজও আছে,বাজি ফুটানোর প্রতিযোগীতা। যা কালী পূঁজার অনুকরণ।
কবস্থানে টুপি দাড়ি ওয়ালা লোকের ভাড়া খাটা। দু- পাঁচ টাকার কোরান তেলাওয়াত করে আত্মীয়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোওয়া করা।এবং এর জন্য একজন গরীব দীনমজুরকে বহু কষ্টে দু পঁচ টাকা খেয়ে না খেয়ে বাঁচাতেই হত। এগুলোই এ ইবাদতের রজনীকে বিদাতের খাতায় টেনে হিজড়ে নিয়ে চলেছিল।
এরপর থাকল, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কসরত। যারা পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ যা ফরজ তা না পড়লেও ভাগ্যফেরাতে সারা রাত কসুর কম করেনা। এ সব থেকে মানুষকে ফিরিয়ে এনে ইবাদতে মনোযোগী করায় সুফলই আছে দোষের বলে মনে করিনা। আরও লিখুন। ধন্যবাদ।
এম_আহমদ
জুন ২৮, ২০১২ at ২:০৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সব কথাই ঠিক। তবে তাওহীদ আর শিরকের দ্বন্দ্ব চিরন্তন। এই দ্বান্দ্বিক ইতিহাসে আমরা অবস্থান করছি। আমাদের দায়িত্ব আমাদেরকে পালন করতে হবে। শয়তান তারটা করে যাচ্ছে। পাঠ ও মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
Baker Choudhury
জুলাই ১, ২০১২ at ১:৪০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কিছু বিজ্ঞজন (!) ইদানিং
" আছে কি নাই "
"করা যাবে কি যাবে না"
" বেশী হয়ে গেল, না কম হয়ে গেল"
"সহি হল না বেদাত হল"
ইত্তাদি বলে কি আমাদের মনে সন্দেহের দানা রোপণ করছেন না ??!!
এম_আহমদ
জুলাই ৬, ২০১২ at ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি এখানে কি বলতে এসেছেন? হাদিস সহীহ হওয়া আর কর্মে বেদাআত আসা –এই দুই জিনিস কী এক? যেসব প্রশ্ন বিভিন্ন মিডিয়ার আলোচিত হয়ে আসছে, সেসব বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন কি সন্দেহবাদীদের সন্দেহমুক্তি দেবে? তারপর আলোচনার প্রাঙ্গণে যদি কেউ কোন বিষয়ে সহীহ বা বেদাতের প্রশ্ন তুলে তাহলে সেই প্রশ্ন কীভাবে এবং “কাদের” মনে সন্দেহের দানা রোপণ করে?
এখানে যা লিখেছেন তা আমার কাছে পদ্যও হয়নি, গদ্যও হয়নি। বরং কিছু শব্দের গাজাখিচূড়ি সমষ্টি লাগছে। কিছু বলার ইচ্ছে থাকলে প্রথমে আপনার সন্দেহের স্থান কোথায় এবং আমার এই লেখা দুটো কিভাবে আপনার মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে সেগুলো আলোচনা করুন। এলোমেলো কয়েকটি শব্দ ঢেলে তারপর প্রশ্ন/আশ্চর্যবোধক চিহ্ন টানলে কোন অর্থ প্রকাশ পায় না।
ফুয়াদ দীনহীন
জুন ২৫, ২০১৩ at ৫:১৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার এই লেখাগুলির জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আব্দুল ওয়াহাব জোয়দ্দার
মে ১৮, ২০১৫ at ১০:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমল নির্ভর করে নিয়্যতের উপর, ভাল কাজ বলেই সব ভাল কাজ যায়েজ নয়,যদি তাহা রসূল সঃ এর নিয়মে না হয়।
এম_আহমদ
মে ১৯, ২০১৫ at ৪:০০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@আব্দুল ওয়াহাব জোয়দ্দার: এখানে বিষয়টির উপর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে -এতে হাদিসের উদ্ধৃতিসহ ব্যাখ্যা এসেছে; ইমাম ইবন তাইমিয়াহসহ আরও অনেকের মতামত রয়েছে। এর পরও আপনার বক্তব্য থাকলে আলাদা ব্লগ লিখুন। আহলুল হাদিস (সালাফি) হলে নিজ ওলামাদের তকলীদ করুন। আমল কীসের উপর নির্ভর করে, বা করে না, তা যেভাবে বুঝেন, তাও ব্লগ আকারে লিখতে পারেন। সবাই পড়বে এবং শিখবে। মন্তব্যের ধন্যবাদ। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
আব্দুল ওয়াহাব জোয়াদ্দার
মে ১৯, ২০১৫ at ১:৪৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
আসলে আমাদের মাঝে কিছু ঈমান ও দেখেছেন যা কুরআন ও হাদিসের সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত।
যেমন- অধিকাংশ লোক বিশ্বাস করে শবে মিরাজ মানে রসূল সঃ আল্লাহকে দেখেছেন।
অথচ কুরআন হাদিসানুযায়ী কোন দৃষ্টি আল্লাহকে দেখতে পারে না।
আবার শবে বরাত সম্পর্কে অধিকাংশ লোক বলেন রসূল সঃ এর দাঁত ভেঙ্গে যাওয়ায়
তিনি হালুয়া রুটি খেয়েছিলেন তাই মুসলমানেরা বর্তমান হালুয়া রুটির পাশাপাশি ,গরু মহিষ
জবাই করে,মেয়ে জামাই, আত্মীয় স্বজন নিয়ে খানা দানার মহাব্যবস্থা করে।
আবার রবিউল আউয়াল মাসেও ঈদে মিলাদুন্নবী সঃ।
বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের গভীর ভাবে ভাবা উচিৎ।
এম_আহমদ
মে ১৯, ২০১৫ at ৪:৪৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@আব্দুল ওয়াহাব জোয়াদ্দার: আপনি যেসব ইস্যু উত্থাপন করেছেন, সেসবের পক্ষে এই প্রবন্ধ কিছুই বলেনি। বরং বিদআতি কর্মকাণ্ডের বিপক্ষেই কথা বলা হয়েছে। ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন। ওয়াসসালাম।
M.A.WAHAB ZOADDER
মে ২০, ২০১৫ at ২:৪৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Thank you Brother.
Help each other in righteousness and piety and
help not one another in sin and transgression.
(সৎকর্ম ও খোদা ভীতির ব্যাপারে একে অন্যের সহযোগীতা কর আর
পাপ ও সীমা লংঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগীতা করো না।)
আমি ফেইক
মে ৩০, ২০১৫ at ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আশা করি আপনার লেখা পড়ে অনেকের ভুল ভাঙবে।
আব্দুর রহমান
জুন ২, ২০১৫ at ৫:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসসালামু আলাইকুম,
ভাই শবে বরাতের রাত্রে আমি যদি বেশি ইবাদাত বান্দেগী করি তাইলেও কি বিদা’যাত হবে?
এম_আহমদ
জুন ৩, ২০১৫ at ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওয়া আলাইকুম সালাম। বেশি বেশি ইবাদত করাতে বিদাতের কোনো বিষয় আছে বলে আমার জানা নেই। যেহেতু আলোচ্য বিষয়ের উপর কয়েকটি মত প্রকাশ পাচ্ছে তাই পাঠকগণ নিজেদের চিন্তা প্রসারিত করতে পারেন। ধর্মের উদ্দেশ্য ও এহসাস বিবেচনা করতে পারেন। দেখার ক্ষেত্রে সকল পক্ষের বাড়িবাড়ি কথা বাদ দিয়ে দেখতে হবে। শবে বরাতে বিদাত দেখাতে যদি extreme এবং marginal কিছু কর্মকান্ডের উল্লেখ করে সেই কাজগুলো সকলের উপর চাপিয়ে আমভাবে 'বয়ান' করা হয় তবে বুঝতে হবে সেখানে কোনো যুক্তি প্রতিষ্ঠিত হয় নি। যখন একাধিক পক্ষ কোরান হাদিস নিয়ে কথা বলেন তখন তাদের বক্তব্যের নিরিখে যুক্তি কোথায় গিয়ে স্থান পাচ্ছে তা দেখতে হবে। তারপর যার যার বিবেক মত চিন্তা করতে পারেন।
রিয়াদ
জুন ২, ২০১৫ at ৯:০১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
খুব সুন্দর একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আমার প্রশ্ন হলো সৌদি আরব এ কি আমাদের দেশের মত মসজিদে সারা রাত নামাজ বা ইবাদত করা হয়??????
এম_আহমদ
জুন ৩, ২০১৫ at ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
গোটা সৌদি আরবে কারা কি করে সে বিষয়ে আমার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তাছাড়া সৌদিকে ভিত্তি করে কেউ ধর্ম পালন করতে চাইলে এই ব্যাপারে আমার বলার কিছু নেই। শবে বরাত সম্পর্কে আমার যা বলার তা বলেছি। কারো মনোঃপুত হলে মানবে, না মানলে নাই।
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
সত্য সন্ধানী
জুন ২, ২০১৫ at ১১:০০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এখানে এই লেখাটি পড়ে দেখার অনুরোধ রইল সবার প্রতি,ধন্যবাদ।
http://www.quraneralo.com/shab-e-barat/
রিজভী আহমেদ খান
জুন ৩, ২০১৫ at ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুমিনের জন্য সব রাতই সবে বরাত।
এম_আহমদ
জুন ৩, ২০১৫ at ৬:৪৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
রিজভী ভাই, এটাও কি সহিস হাদিসে বর্ণিত? না হলে, এটাও কী বিদাত বলা হয়ে যাবে না?
এম_আহমদ
জুন ৩, ২০১৫ at ৭:১৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শবে বরাত, কারা বিদাতি? এখানে শবে বরাতের ব্যাপারে আরেকটি কথা সামারাইজ করতে চাই। লক্ষণীয় যে উপরে মুয়ায বিন্ জাবাল (রা.) বর্ণিত হাদিসকে আল-মুনযিরী “সহিস হাদিস” বলেছেন এবং আলবানীও তাই বলেছেন। আয়েশা (রা.) বর্ণীত হাদিসের ব্যাপারে আলবানী বলেছেন, “হাদিসটি অন্য সূত্রে সহীহ"। আয়েশা (রা.) বর্ণীত অপর হাদিসটিকে বাইহাক্বী “হাদিসটি উত্তম মুরসাল” বলেছেন (মুরসাল হচ্ছে এমন হাদিস যার সনদে/সূত্রে শেষের দিকে কেউ বাদ পড়েছেন)। আবু সা’বাহ আল খাশানী (রা.) বর্ণীত হাদিসটির ব্যাপারে আল-মুনযিরী বলেছেন, "হাদিসটির সূত্র সহীহ বা হাসান বা এই দু’য়ের কাছাকাছি।" কেবল আলী (রা.) বর্ণীত সূত্রের ব্যাপার আশ-শাওকানী বলেছেন, “হাদিসটির সূত্র দুর্বল"। এখানে ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ (র.) কথা উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, “এত অধিক সংখ্যক হাদিস মধ্য শাবানের রাতের মহাত্ব নিয়ে বর্ণিত হয়েছে যে এগুলো ঐ রাতের গুরুত্ব গ্রহণ করতে বাধ্য করে।” তারপর অনেক মুফাসসিরের কথাও আমার দ্বিতীয় পর্বের লেখায় এসেছে। এরা সবাই কি “বিদআতি”? ওরা কি কেউ হাদিস বুঝেন না, ইসনাদ বুঝেন না? লক্ষণীয় যে এখানে জাল হাদিসের কথা আসে নি। সুতরাং যেসব স্থানে বড় বড় ওলামাদের বক্তব্য রয়েছে, সেখানে গোজামিল করে, জেনরেলাইজ বক্তব্য দেয়া, যে বিদাতি নয় তাকে বিদাতি বলা –এসব হচ্ছে সামাজিক বাস্তবতাকে ফিতনায় পর্যবশিত করার কর্মকাণ্ড। যাদের প্রতি চরমধর্মী হয়ে ফাতোয়ার ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে তারাও যদি আক্রমণাত্মক কথা শুরু করেন, তখন ফিতনা না হয়ে পারবে না। আজকের বিশ্বে যত চরমপন্থি আন্দোলন দেখি সেগুলোতে ব্যাখ্যার চরমপন্থি উৎসও লক্ষ্য করা যায়। যেখানে বিদআত নেই সেখানে ‘বিদাত’ উল্লেখ করেই বিদাতের হাদিস ঢেলে আর সুন্নাহ মানার হাদিস দিয়ে ধানাই পানাই করাতে যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা হয় না। সুতরাং ধর্মীয় ফিতনা না করে যার যার পজিশনে থেকেই শুধু নিজেদের ‘অবস্থান’ ব্যাখ্যা করে যাওয়াই উচিত।
Muhammad Ruhul Amin Chy
জুন ৬, ২০১৫ at ৮:৩৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অাস্ সালামু অালাইকুম৷ ইসলামে কোন কোন রাতকে বরকতময় রজনী বলে উল্লেখ রয়েছে?
এম_আহমদ
জুন ৬, ২০১৫ at ১১:১৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওয়া আলাইকুম সালাম। প্রশ্নে যদি কোন প্যাচ না থাকে তবে উত্তর এভাবে হবে। বারাকাহ বা বরকত আছে এমন অনেক রাত রয়েছে যেগুলোতে আল্লাহ মানুষের দোয়া কবুল করেন, ইবাদতকারীদের অনেক বেশি সওয়াব দান করেন। এগুলোর সবই 'ইসলাম ধর্মে' রয়েছে। এদিক থেকে শুক্রবারের বরকতময়, দুই ঈদের রাত বরকতময়, রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলো বরকতময়, তারপর যুল-হজ্জের প্রথম দশ রাত, শবে বরাতের রাত, এবং অধিক বরকতের রাত শবে কদরের রাত। এখানে কেবল শ’বে বরাত সম্পর্কে লেখা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্নে যদি কোন প্যাচ থাকে, তবে প্রশ্নের বাহানা করে লাভ নেই, যা বলার তা'ই বলতে পারেন।
জামশেদ আহমেদ তানিম
জুন ৮, ২০১৫ at ৮:০১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এম_আহমদ : ভাইকে অবশ্যই ভালো পাই। তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, লাইলাতুল বারাত সম্পর্কে এত বেশি বাহাস আছে যে তা এভাবে পালন করা থেকে বিরত থাকাটা আমি মনে করি উত্তম। 'ইবাদত'-এর কোন বিষয় নিয়ে যদি কনফিউশন থাকে তাহলে সে ধরনের ইবাদাত থেকে বিরত থাকাটাই ইসলামের নিয়ম। আর আপনি যে হাদীসগুলো লিখেছেন তা কতটুকু সহীহ তা নিয়েও আমি বিতর্কে যাবো না। কিন্তু লাইলাতুল বারাতের বদৌলতে মানুষ যে সারা রাত নামাজ পরে সেটা বেশ ভালোই লাগে। আল্লাহ্ সুবহানুতায়ালাই ভালো জানেন, আর তিনি যেন বিদাত থেকে বেচে থাকার তৌফিক দান করেন। তবে কিছু গোষ্ঠীর(হুক্কুর হুক্কুর) লাইলাতুল বারাত পালনের ধুম দেখে আমি সন্দিহান। কারণ সেসব গোষ্ঠীসমূহ প্রকাশ্যে প্রমাণিত বিদাত নিয়ে লাফালাফি করে।
এম_আহমদ
জুন ৯, ২০১৫ at ৩:৪৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই, সালাম। এখানে কনফিউশনের কিছু নেই। একটি বিশেষ মহল ছাড়া এ বিষয়ে কেউই উগ্র বিতর্ক দেখাচ্ছে না। নামাজ পড়তে, কোরান তেলায়ত করতে, দোয়া দরুদ করতে বিতর্ক হবে কেন? আপনি নিজেই যখন বলছেন, “লাইলাতুল বারাতের বদৌলতে মানুষ যে সারা রাত নামাজ পরে [পড়ে] সেটা বেশ ভালোই লাগে” তখন এ বিষয়ের স্পষ্টতাই প্রমাণিত হয়। বস্তুত যা ভাল তা আপনাতেই বুঝা যায়, তা মনের মধ্যে ধরা দেয় –এটাই মানব প্রকৃতি। আমার যা বলার তা এই লেখাতেই বলা হয়ে গিয়েছে। নিরলে-নিভৃতে বিষয়টি চিন্তা করবেন। কোথায় বিদআত আর কোথায় বিদআত নেই –এটা নাসা সায়েন্স নয়। এটা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে। ফিতনা করতে হাজার হাজার বিষয়ে বিদাআত টেনে বয়ান করা যেতে পারে। বিদআত আলাদা সাব্জেক্ট। যে ক্ষেত্রটি ধর্মীয় বিবেচনায় বিদআত এটি সেটি নয়। আমি কেন যেন আগামীতে ধর্মীয় উগ্রতার ভয়ঙ্কর কিছু অনুভব করছি। এই আজকে দেখলাম এক ব্যক্তি ইফতারের দোয়া হাদিসে নেই –এই আক্রোশে বয়ান দিচ্ছে। অথচ যে কেউ যেকোনো দোয়া যেকোনো ভাষায় করতে পারে –তা হাদিসে থাকুক অথবা না’ই থাকুক। ধর্ম কি তাহলে খিট খিটে অপ্রশস্ত হয়ে পড়বে?
যারা পরিচিত বিদআতি তারা শবে কদরেও বিদআত করে। অমনি অমনিও করে। মাজারে মাজারে গিয়েও করে। কিন্তু তাতে বিতর্কিত বস্তু হয় তাদেরই বিদআত, শবে কদর নয়। যে বস্তুতে বিদআত নেই সেই বস্তুকে বিদআত বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা, আল্লাহর ইবাদত থেকে সরিয়ে দেয়া -এগুলো আমাদের দৃষ্টিতে অতি “গর্হিত” কাজ। ধর্ম গণিত বিদ্যা নয়। এখানে একাধিক সত্য একই সাথে অবস্থান করতে পারে। ভিন্নমত সাহাবিদের (রা.) মধ্যেও ছিল। কোরান হাদিস ‘ভাষায়’ লিখিত। এখানে দ্বিমত থাকা স্বাভাবিক।
আমি জানি, শেষ বেলায় এই যুক্তি, সেই দলিল –এসব কিছুই নয়। যে যে দলের লোক সে সেটাই করবে। এখন প্রশ্ন হবে, তাহলে আমি কেন এত কষ্ট করে এই লেখাটি প্রকাশ করলাম? এর উত্তর হল, লেখাটি তাদের জন্য যারা বিদআতি নয় কিন্তু সেই বিশেষ মহলের ছড়ানো বিভ্রান্তিতে মনের খটকা নিয়ে ঐ রাতে ইবাদত করেন, তাদের সেই খটকা দূর করতে। ২০১১/১২ সালে একজন পরিচিত আলেমের একটি প্রবন্ধ পড়ে মনটা খারাপ হল, তাই লিখলাম। আল্লাহ যেন আমার এই লেখাটি কবুল করেন, এই দোয়া করি এবং এরই মাধ্যমে কিছু লোককে তার পথে নিষ্কলুষ করুন। তবে, যার মনে সায় দেবে না, সে ঐ রাতে এবাদত করবে না কিন্তু অন্যের ইবাদত নিয়ে বিদআতের বয়ান দেবার অধিকার নেই। এই সীমা পর্যন্ত যেতে ধর্মে দলিল নেই। বিদআত এখানে arbitrary assertion. বন্দুকের নল সহজেই তাদের দিকে ঘুরিয়ে দেয়া যায়। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। এই মন্তব্যটি না দেখে থাকলে দেখতে পারেন। ধন্যবাদ।
শহীদ আহমদ
মে ৯, ২০১৬ at ৭:৪৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসসালাইকুম ভাই খুব সুন্দর লিখা হয়েছে। আমি আপনার লিখাটি কপি করে শেয়ার করতে পারি?
এম_আহমদ
মে ৯, ২০১৬ at ১০:২৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@শহীদ আহমদ: হ্যাঁ ভাই করতে পারেন। তবে নাম ও উৎস ব্যবহার করবেন। আমার পূর্ণ নাম ‘মোনাওয়ার আহমদ’ ব্যবহার করবেন।
menon
মে ২৪, ২০১৬ at ৩:১০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
dhonnobad onek gurutto purno alochonar jonno .amar onek tension dur holo.
এম_আহমদ
মে ২৪, ২০১৬ at ৮:৪১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ
মন্তব্যকারী
মে ২৪, ২০১৬ at ৫:০০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ।বিষয়টিতে সুন্দর সমাধানে নেওয়ায়।অনেক বিস্তৃত পরিসরে হওয়ায় পুরোটা পড়া হয়নি
এম_আহমদ
মে ২৪, ২০১৬ at ৮:৪৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ
এম_আহমদ
মে ৯, ২০১৭ at ৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই লেখার সাথে যারা একমত এবং যারা অতীত থেকে শবে বরাতের রাতে ইবাদত করে আসছেন তারা সেই ইবাদত জারি রাখুন। কারো সাথে তর্কা-তর্কিতে যাবেন না।
nomantutul
মে ১০, ২০১৭ at ৩:৩৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই,সালাম। তাওহীদ এবং শিরকের চিরন্তন দ্বন্দ্ব নিয়ে যদি আলাদা একটা লেখা দিতেন,ধন্যবাদ!
মাহফুজ
মে ১১, ২০১৭ at ৪:৫৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সালাম,
//আমাদের ধর্মে কোরান হচ্ছে এক ধরণের বর্ণনা এবং হাদিসও হচ্ছে আরেক ধরণের বর্ণনা।//
ঠিক বলেছেন। হাদিছের বর্ণনার মাধ্যমে আপনি যথার্থভাবেই শবে বরাত সম্পর্কে তুলে ধরেছেন। এ সম্পর্কে কোরআনের কোন বর্ণনা (অন্যের অনুমন নির্ভর বয়ান নয়) দিলে ভাল হত। তাহলে ওহীলদ্ধ অপরাপর পরিত্রাণ, ক্ষমা ও রহমত সংক্রান্ত মৌলিক ধারণার সাথে সঙ্গতিটা পোক্ত হত।
//শবে বরাতে অর্থাৎ ঐ রাতে আল্লাহ ধরার আসমানে অবতরণ করাতে কোনো সমস্যা দেখি না, আল্লাহ মানুষকে ব্যাপকভাবে মার্জনা করতে কোনো সমস্যা দেখি না, মানুষকে পূণ্যদানে ধন্য করতেও সমস্যা দেখি না।//
মানুষকে ব্যাপকভাবে মার্জনা ও পূণ্যদানে ধন্য করার জন্য মহান আল্লাহকে ধরার আসমানে অবতরণ করতে হবে কেন? তিনি কি ধরার আসমানে অবতরণ না করেই এমনটি করতে পারেন না?
//সর্বশেষে ইমাম ইবন তাইমিয়্যার একটি উদ্ধৃতি দিয়ে সমাপ্তি টানছি। তিনি বলেন, “মধ্য শাবানের রাত, এই রাতের ফজিলতের উপর অনেক অনেক হাদিস ও আছার বর্ণিত হয়েছে। পূর্ববর্তীদের (সলফে-সালেহিনদের) একাংশ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তাঁরা ঐ রাতে নামাজ পড়তেন। তবে প্রত্যেক ব্যক্তির নামাজ একা একা ছিল [অর্থাৎ জামাতবদ্ধ বা দলীয় নয়]। পূর্ববর্তীরা এতে (অর্থাৎ ইবাদত সংক্রান্ত আমলে) অগ্রবর্তী ছিলেন। এই ইবাদতের পিছনে তাদের দলিল (হুজ্জাহ/যুক্তি) ছিল সুতরাং এটাকে নিষেধ করা যাবে না, এনকার করা যাবে না।”//
এই মতের সাথে একমত। তবে প্রশ্ন হলো- তাহলে কি জামাতবদ্ধ বা দলীয়ভাবে মসজিদে মসজিদে যেভাবে এই রাতটি পালন করার প্রক্রিয়া চলছে, তা কি বিদয়াত বলা যায়না?
এরপর এসব বন্ধ করার ব্যাপারে কিছু বলবেন আশাকরি।
ধন্যবাদ
এম_আহমদ
মে ১২, ২০১৭ at ৯:২৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওয়া আলাইকুম সালাম। আশা করি ভাল। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। যেহেতু প্রতিমন্তব্যের একটি সুন্নত আমাদের এখানে আছে, তাই কিছু কথা নিচে বলছি:
হাদিসের বর্ণনার মাধ্যমে যদি লেখাটি ঠিক ও যথার্থ হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে সঙ্গতিটাও পাকাপোক্ত হয়ে গিয়েছে ধরে নিতে হবে কেননা যার উপর ওহী নাজিল হয়েছিল তাঁর বর্ণনাতেই তা পাকাপোক্ত হয়েছে। এ লেখাটির দ্বিতীয় পর্বে কোরানের আয়াতেরও সামঞ্জস্যও দেখানো হয়েছে এই বলে যে মধ্য শাবানের রাতে গোটা কোরান লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশে আসে এবং এখান থেকে খণ্ডাকারে ২৩ বৎসরে নবীর উপর নাজিল হয়।
কোরানের এই আয়াত, إِنَّآ أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ -আমরা এই কোরানকে এক মহিমাময় (বরকতময়) রাতে নাজিল করেছি। আমরা অবশ্যই সতর্কদান করি (৪৪:৩), যেটি সামনে রেখে অনেক মুফাসসির শবে কদরের রাত ও মধ্য শাবানের রাত নিয়ে ব্যাখ্যার তারতিব (ক্রম) খুঁজেছেন। এবং কেউ কেউ এই ধারণা দিয়েছেন যে যেহেতু শবে কদরের রাতে গোটা কোরান নাজিল হয় নি বরং মাত্র ৫টি আয়াত নাজিল হয়েছিল তাই সেটাকে গোটা কোরান নাজিল হয়েছে বলা যায় না। তারা বলেন যে মধ্য শাবানের রাতে গোটা কোরান বাইতুল মা’মুর থেকে দুনিয়ার আসমানে নাজিল হয় এবং লাইলাতুল ক্বদরের রাত থেকে, খণ্ডাকারে, বাকী ২৩ বছরে তা নবীর উপর নাজিল হয়। ‘আনজালা’ ক্রিয়াবাচক শব্দে একত্রে নাজিলের ধারণা রয়েছে আর ‘নাজ্জালা’ ক্রিয়াবাচক শব্দে মুবালাগাহ, intensity ও ক্রমন্বয়তা। এসব কথা যারা বলছেন তারা বড় মাপের মুফাসসির। এই লেখার দ্বিতীয় পর্বে এসব কথা আলোচনা করা হয়েছে।
ভাল প্রশ্ন। এমন প্রশ্ন হাজারে হাজারে তৈরি হয়ে আছে। মুসাকে (আ) ওহী দিতে পাহাড় চূড়ায় ডাকা হবে কেন? কেন নবী মুহাম্মাদের (সা) উপর দূর পাহাড়ের নির্জন চূড়ায় জিব্রিল পাঠাবেন? কেন জিব্রিল কিছু লোকের সামনে আসতে পারবেন না? কেন চন্দ্র-খন্ডন জন সমক্ষে হয়ে উঠল না? কেন দেশে দেশে যুগে যুগে নবী-রাসূল আসবেন না? কেন দুর্বল মানুষ তার বাপদাদার সমাজ সংস্কৃতি গড়ার পর শত শত বর্ষ পরে তাকে ধর্ম ত্যাগ করার কথা বলা হবে? সে তা করতে না পারলে কেন দোযখবাসী হবে? এমনসব প্রশ্নরাজির উত্তর সহজ হলে ধর্ম নিয়ে এত সমস্যা হত না, এত রক্তারক্তিও হত না। কিন্তু কথা হচ্ছে ভাইজান মানব মনের প্রশ্নরাজির কি শেষ আছে? যার মনে যে যুক্তি ধরে না সে তা প্রতিহত করতে আরও ১০ প্রশ্নের অবতারণা করে। শবে বরাতের রাত নিয়ে কারও সন্দেহ থাকলে সে এই রাত পালন করবে না। যার মনে তা ধরবে সে তা করবে -এটা এভাবে থাকলেই ভাল।
ওই রাতে মসজিদে জমাত বদ্ধ হয়ে রাত কাটানো কি বিদাত? তাহলে নিস্তার নাই, বিদাত দিয়ে ধরতে হবে, তাই না ভাইজান? তবে প্রত্যেক রমজানে জামাতবদ্ধ হয়ে তারাবীর নামাজ পড়াটা কি? প্রত্যকে জুমার দিনে দুটি আজান দেয়াটা কি? একটু সময় নিলে আরও বিদাত পাওয়া যেতে পারে। আবু বকরের (রা) সময় পর্যন্ত বিতর জামাতে পড়া হত না। ওমর তা জামাতবদ্ধ করেন –কারণ ও বিবরণ আপাতত সরিয়ে রাখা যাক। তারপর এই নামাজের দৃশ্য দেখে ওমর (রা) মন্তব্য করেন, নি‘মাতিল বিদআতু হাজিহি ( نعمت البدعة هذه) –কত না সুন্দর এই বিদআত!
আমি এখন বিদাত নিয়ে কথা বলতে যাব না। কারণ এখানে অনেক কথা। কেউ বলবে এটা বিদআতে হাসানা যার বিপরীতে আসবে বিদআতে সাইয়্যিয়াহ। এখানেও শেষ হবে না। কেউ বলবে সব বিদাতই দোযখি। তারপর যার যার গজল যার যার মত গায়ন শুরু করবে। কেউবা শুরু করবে তেওড়া তালে (৭ মাত্রার অসমপদী), কেউবা আড়খেমটায় (১২ মাত্রার সমপদী)। আপনি পড়াশুনা করা লোক, আপনাকে হাদিস দেখাতে হবে না। (তবুও এই লিঙ্কটি ব্রাকেটে থাকল: সুন্নাতে হাসানা ও সুন্নাতে সায়্যিয়াহ)। এখানে বলা হচ্ছে যে, যে ব্যক্তি এই ধর্মে একটি উত্তম সুন্নাহ শুরু করল এবং পরবর্তীতে যারা এর অনুসরণ করল সে সেই আমলের ভাগিদার হবে কিয়ামত পর্যন্ত। আর যে ব্যক্তি একটি মন্দ কাজ শুরু করল এবং যারা এর অনুসরণ করল সেও সেই মন্দ কাজের ভাগিদার হবে কিয়ামত পর্যন্ত।
ধর্ম এক প্রশস্ত ব্যাপার। প্রত্যেক দল তাদের নিজেদের কাজ করতে থাকুক এবং বাকীদের ব্যাপারে সবর (صبر) অবলম্বন করুক। কোরান হাদিসের সকল এবারত সকলের সামনে। আমরা একে অন্যকে নিজেদের বয়ান শুনানোর পরও যদি অন্যরা তাদের আপন আপন স্থানে অনঢ় থাকে, তাহলে কারও কি কিছু করার আছে? না। সুতরাং একে অন্যের অবস্থানকে সম্মান করলেই চলে। ধর্মের ময়দান প্রশস্ত হোক। নানা সৌন্দর্যের বিমলতাকে কর্কশ করে তোলা আমার দৃষ্টিতে ধর্ম হবে না। এ বিষয় নিয়ে বিতর্ক করার শক্তি আমাতে অবশিষ্ট নাই। শুধু বলি, এই ধরাধামের মানুষে আছে রকমারিতা। নানা রকমের চিন্তা চেতনা। নানান কর্ম। সুর তখনই সুন্দর হয় যখন তাতে বৈচিত্র থাকে। সলো গান নীরস কণ্ঠে একই রূপে শুনতে বেশিক্ষণ ভাল লাগবে না। তাই এই হরেক জাতি-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্ব মুসলিমের সঙ্গীতে নানান সুরের সমাবেশ হলে বিমলের রূপ আরও সুন্দর হবে। কিন্তু কেবল আমার সাজানো সুরে সবাইকে গাইতে হবে, না হলে দোযখে যেতে হবে –এমনটি হলে এই কন্সার্টের টিকেট কিনে লাভ নেই।
সত্যি বলি ভাই, অনেক দিন, অনেক বৎসর, বরং কয়েক যুগ ব্যাপী এই জাতির ঐক্যের গান গেয়েছি। এখন হয়ত নীরব হয়ে যাবার সময় হয়েছে। এখানে ঐক্য কীভাবে সম্ভব যেখানে প্রত্যেক দল নিজেদের মসজিদ মাদ্রাসা গড়ে নিজেদের মতামত অপরদের মতামতের দ্বান্দ্বিক প্রতিকূলে প্রাতিষ্ঠানিকতার রূপ দিয়েছে আর প্রতিদিন তাদের লাউড-স্পীকারগুলো অপরের দিকে স্থাপন করে বয়ান দিচ্ছে?
আবারও ধন্যবাদ। ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।
মাহফুজ
মে ১৩, ২০১৭ at ৯:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মন্তব্যের জবাব দেয়ার জন্য আবারও ধন্যবাদ। যদিও এ অধমের মন্তব্য প্রায়ই ইগ্নর করা হয়। তাই আজকাল পারতপক্ষে মন্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকি। যেহেতু এখানে মন্তব্য দিয়েই ফেলেছি এবং ভদ্রতার খাতিরে আপনিও জবাব দিয়েছেন। তাই অন্য কারো ভাল না লাগলেও, যৎসামান্য যা জানি সে অনুসারে কিছু বলার চেষ্টা করছি।
//তারা বলেন যে মধ্য শাবানের রাতে গোটা কোরান বাইতুল মা’মুর থেকে দুনিয়ার আসমানে নাজিল হয় এবং লাইলাতুল ক্বদরের রাত থেকে, খণ্ডাকারে, বাকী ২৩ বছরে তা নবীর উপর নাজিল হয়। ‘আনজালা’ ক্রিয়াবাচক শব্দে একত্রে নাজিলের ধারণা রয়েছে//
হা, রমজান মাসে লাইলাতুল ক্বদরের রাত থেকে কোরআন নাজিল শুরু হয়। ‘আনজালা’ ক্রিয়াবাচক শব্দে একত্রে নাজিলের ধারণা এখানে (৪৪:৩-anzalnāhu) আছে এবং এখানেও (৯৭:১-anzalnāhu) আছে। সুতরাং দুটো সূরার বক্তব্য থেকে কি একই নির্দেশনা স্পষ্ট হয়ে যায়না? এরপর আবার শাবানের রাতে গোটা কোরান বাইতুল মা’মুর থেকে দুনিয়ার আসমানে নাজিল হওয়ার মত অনুমান নির্ভর কথা বলার প্রয়োজন আছে কি? ২৩ বছরে খণ্ডাকারে নাজিল করা হলেও পরিশেষে যে নবীর (সাঃ) উপরে কোরআনের অংশ বিশেষ নয় বরং গোটা কোরআনের একত্রিত রূপ অর্থাৎ সম্পূর্ণ কোরআনই নাজিল করা হয়েছিল, এই বক্তব্যে তো সেই নির্দেশনাই স্পষ্টরূপে প্রকাশ পেয়েছে।
//সত্যি বলি ভাই, অনেক দিন, অনেক বৎসর, বরং কয়েক যুগ ব্যাপী এই জাতির ঐক্যের গান গেয়েছি। এখন হয়ত নীরব হয়ে যাবার সময় হয়েছে। এখানে ঐক্য কীভাবে সম্ভব যেখানে প্রত্যেক দল নিজেদের মসজিদ মাদ্রাসা গড়ে নিজেদের মতামত অপরদের মতামতের দ্বান্দ্বিক প্রতিকূলে প্রাতিষ্ঠানিকতার রূপ দিয়েছে আর প্রতিদিন তাদের লাউড-স্পীকারগুলো অপরের দিকে স্থাপন করে বয়ান দিচ্ছে?//
জী ভাই, মনের কথাটা খুলে বলার জন্য ধন্যবাদ। তবে কেন যেন মনে হচ্ছে, এতে হতাশার সূর আছে। হাঁ, লাউড-স্পীকারগুলো এখন হরেক রকমের কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে। এক ধর্মের লোক আরেক ধর্মের বিরুদ্ধে, এক দলের লোক আরেক দলের বিরুদ্ধে, একই ধর্মের মধ্যকার ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের অনুসারীরা একে অপরের বিরুদ্ধে বড় বড় লাউড-স্পীকারে গলাবাজি ও ফেরকাবাজী ও গীবত গাইতে ব্যস্ত। যখন খালি গলায় প্রাণ ঢেলে আযানের দেয়া হত, তখন কি ইসলামের বাণী পৃথিবীর দূর থেকে দূরতম অঞ্চলে ছড়িয়ে যায়নি। কিন্তু এখন নানান তালে [তেওড়া তালে (৭ মাত্রার অসমপদী), কেউবা আড়খেমটায় (১২ মাত্রার সমপদী)} সূর মেলাতে গিয়ে সবই যেন বেতাল হতে বসেছে। তাই সব গান কানে এলেও মনে ধরেনা। আমার তাল কিংবা সূর জ্ঞান কম, তাই গানের কথা ঠিকমত হলে তাতেই মন টানে বেশি। ঠিকই বলেছেন, 'ধর্ম এক প্রশস্ত ব্যাপার।' অনেকে গানকে ধর্ম জ্ঞান করে। আবার অনেকে গান শুনাকে অধর্ম বলে। সুতরাং গান শুনাটা সুন্নাতে হাসানা নাকি সুন্নাতে সায়্যিয়াহ, তা নিয়েও বিতর্ক আছে। তারপরও কিন্তু ভাল গান, গজল, হামদ, নাত আমি কিছুটা হলেও শুনি।
//তাই এই হরেক জাতি-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্ব মুসলিমের সঙ্গীতে নানান সুরের সমাবেশ হলে বিমলের রূপ আরও সুন্দর হবে। কিন্তু কেবল আমার সাজানো সুরে সবাইকে গাইতে হবে, না হলে দোযখে যেতে হবে –এমনটি হলে এই কন্সার্টের টিকেট কিনে লাভ নেই।//
হাঁ, বিশ্ব মুসলিমের সঙ্গীতে নানান সুরের সমাবেশ ঘটতেই পারে, তালেরও বৈচিত্র থাকতেই পারে, কিন্তু কথা ও কাজে এক হতে না পারলে সেই কন্সার্টের টিকেট কিনে ইহকালে ও পরকালে কিন্তু কোন লাভ নেই। আমার জ্ঞান ও বিবেক তাতে কখনই সায় দেয়না।
ধন্যবাদ ও শুভ কামনা
এম_আহমদ
মে ১৪, ২০১৭ at ৮:৪৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সমস্যা: গোটা কোরান রমজান মাসে নাজিল হয়েছে (‘আনযালা’) এবং গোটা কোরান ২৩ বছরে ক্রমবর্তিতায় নাজিল (নাযযালা/তানযীল) হয়েছে –এই দুই কথা পারস্পারিকভাবে সাংঘর্ষিক। আমি যদি প্রথমে বলি সবগুলো চিঠি আমার কাছে এক সাথে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তারপর বলি চিঠিগুলো ২৩ বছরে ক্রমে ক্রমে ক্রমে হস্তান্তরিত হয়েছে, তাহলে এখানে ব্যাখ্যা পেতে হবে এবং শব্দের রূপকতা ও ব্যবহারিক রীতিও দেখার প্রয়োজন হতে পারে।
আলোচনা: বিষয়টি এবারে অন্যভাবে দেখানোর চেষ্টা করতে পারি। প্রথমে আরব বিশ্বের অন্যতম ব্যাকরণবিদ, বরং আরবি ব্যাকরণের উপর যাকে জীবন্ত লেজেন্ড বলা যায় তার একটি বক্তব্য লিঙ্ক করি। লিঙ্ক الفرق بين نزل وأنزل । ড. ফাদিল সালিহ আস-সামাররায়ী (د. فاضل صالح السامرائي) এই দুই শব্দের ব্যাখ্যায় ‘নাযযালা’কে ক্রমধারায় নাযিল হওয়ার অর্থ করছেন এবং সুরাহ ফুরকানে ২-৩ আয়াত সামনে রাখছেন। তবে ব্যাকরণবিদদের মধ্যে এর একটি ব্যতীক্রমধর্মী ধারণাও রয়েছে। অর্থাৎ যদিও ‘আনযালা’ ও ‘নাযযালা’ শব্দে প্রধানত পার্থক্য রয়েছে তবে দু/এক জাগায় ব্যতীক্রম আসতে পারে। তিনি প্রথমে সূরা আলে ইমরানের ২-৩নং আয়াত উল্লেখ করেন এবং এবং ব্যতীক্রম দেখাতে ২৫:৩২ ব্যবহার করেন। সূরাহ ইমরানে বলা হয়েছে:
نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنزَلَ التَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ ﴿٣﴾ مِن قَبْلُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَأَنزَلَ الْفُرْقَانَ ۗ
তিনি আপনার প্রতি (ক্রমবর্তীতায়) কিতাব নাযিল করেছেন (‘নাযযালা’) সত্যতার সাথে যা পূর্ববর্তী কিতাবসমুহের সত্যায়ন করে, এবং এই কিতাবের পূর্বে তিনি (এক সাথে) নাযিল করেছেন (‘আনযালা’) তাওরাত ও ইঞ্জিল মানুষের হেদায়েতের জন্যে এবং তিনি (একত্রে) নাযিল করেছেন(‘আনযালা’) ফুরকান।
ব্যাকরণবিদ আল-যামাখশারি বলেন, এখানে ‘ফুরকান’ হচ্ছে সার্বিকভাবে আসমানি কিতাব এই অর্থে যে তা সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। ফুরকান অর্থে যবুরও হতে পারে যা দাউদের (আ) উপর অবতীর্ণ হয়েছিল (যামাখশারি)। কিন্তু এতেও সমস্যা যায় না। কেননা কোরানও আসমানি কিতাব এবং এটির অপর নামও ফুরকান। এখন ফুরকান হোক অথবা কোরান–এটি একই সাথে মুহাম্মাদের (সা) উপর নাজিল হয় নি, (অবশ্য আমার নিজের একটি ব্যাখ্যা রয়েছে যার প্রেক্ষিতে হতে পারে, যা এখানে আলোচনা করতে পারব না)। কোরানের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বিভিন্ন নাম রয়েছে। ফুরকান যদি আলো-আধারের পার্থক্যের মূলনীতি ও প্রক্ষেপিত এহসাস হয়ে থাকে তবে তা গোটা কোরানের একটি বৈশিষ্ট্য যা একবারে নাযিল হওয়ার রূকতায় ব্যক্ত হতে পারে। এই অর্থে কোরানও নেয়া যেতে পারে, তবে আবারও ব্যতীক্রমতায় বা রূপকতায়। সূরা কদরে ‘আনযালার’ পরে সর্বনাম এসেছে। এখানে কোরান, কিতাব, ফুরকান, হুদা, যিকর ইত্যাদি কোন শব্দ বলা হয় নি। শুধু একটি সর্বনাম (হু) এসেছে, অর্থাৎ ‘আনযালনা-হু’। এই ‘হু’ কেবল ওহী হতে পারে এবং তখন তো ওহী শুরু হয়ে গিয়েছে। আবার কোরানের একটি সূরাও কোরান এবং একটি আয়াতও কোরান। ‘হু’ যেকোনো দিকে নির্দেশবাহী হতে পারে। এ বিষয়ে অনেক কিছু বলা যেতে পারে কিন্তু বলার ইচ্ছে খুঁজে পাচ্ছি না।
কোরান তার সকল বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে “তানযীল” –ক্রমবর্তীতায় নাযিল হওয়া বস্তু। এই ক্রমবর্তীতার একটি উদ্দেশ্য হচ্ছে রাসূলের অন্তঃকরণকে ছাবেত (সুদৃঢ়) করা (২৫:৩২)। ব্যবহারিক দিক দিয়ে অনেক শব্দের অর্থ ইংরেজির apposition অর্থেও হয়। যদিও ‘নাযযালা’ শব্দে ক্রমবর্তীতা রয়েছে কিন্তু কোরানের এক জাগায় এই শব্দটিও ‘একত্রে’ (গোটা কোরান) নাযিলের অর্থে এসেছে তবে তা অবিশ্বাসীদের আবদার বা প্রশ্ন হিসেবে। তারা বলেছিল, وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً ۚ كَذَٰلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ ۖ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلًا ﴿٣٢﴾ আর কাফিরগণ বলে, তাঁর প্রতি গোটা কোরআন একদফায় (নুযযিলা) নাযিল হয় না কেন? [কিন্তু] আমি এমনিভাবে (ক্রমবর্তীতায়) নাযিল করেছি ও ক্রমে ক্রমে আবৃত্তি করেছি যাতে করে আপনার অন্তকরণ মজবুত হয় (২৫:৩২)। এখানে নাযযালারও একটি ব্যতীক্রম অর্থ পাওয়া গেল।
কথা হল রমজান মাসে গোটা কোরান নাজিল হয় নি। তাই সূরা কদরে ব্যবহৃত হু-সর্বনামকে গোটা কোরানকে এক সাথে নাজিল হওয়ার অর্থে নেয়া অথাব না-নেয়া দলীয় ব্যাখ্যা হতে পারে। ‘হু’কে বিভিন্ন অর্থে নেয়া যায়। এখানে যে কালে (সময়ে) যে জিনিসটির নাজিল শুরু হয়েছে সেই মহিমাময় বস্তুর প্রতি মর্যাদা দেখানোর উদ্দেশ্যও দেখা যায়। আল্লাহু আ‘লাম। ইমাম রাজি বলেন এখানে নাজিলের সময়ের প্রতিও তা’যিম এসেছে।
(আনযালার) একত্রে ধারণাটির একটি ব্যাখ্যা এভাবেও হতে পারে যেমন কেউ বিদেশ থেকে ফিরে দেশের নিকটবর্তী হলে আমরা বলে থাকি ‘সে এসে গিয়েছে’ অথচ সে পুরোপুরি আসে নি। অর্থাৎ যে বস্তুটি বাইতুল মা‘মুর থেকে দুনিয়ার আকাশে এসেছে, তা যেন এসে গিয়েছে –এই রূপকতায় ‘আনযালা’। আল্লাহু আ‘লাম।
আরও ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে দীর্ঘ করে লাভ নাই। যার মনে যে ধারণা সেটা তার নিজের সাধনার ভিত্তিতে বর্ধিত বা পরিবর্তি না হলে অন্য কেউ বর্ধিত, সংকোচিত, পরিবর্তিত –কিছুই করতে পারবে না। তারপর আমি যাদের কথা বলছি তারা যে শত ভাগ সঠিক এর কোন নিশ্চয়তা নেই। অথবা যারা অন্য দিকে যুক্তি তুলছেন তারাও যে সঠিক সেটারও কোন সুনিশ্চয়তা নেই। এই বিষয়টি এভাবে না সেভাবে মানলে কারও ঈমান ইসলামের ক্ষয়-ক্ষতি নাই। আমি এর পক্ষে আলোচনা করেছি যাতে করে মধ্যম পন্থার অবস্থান প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পারস্পারিক আক্রমণের তীব্রতা কমে। আল্লাহ ইবাদত নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি না করলেই ভাল -এটাই আমার মত।
ভাল থাকুন এবং আল্লাহ সুস্থতা দিন এই দোয়া করি।
Fahim AL Farhan
মে ১২, ২০১৭ at ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সবই ঠিক আছে,কিন্তু শবে বরাতের সময় রুটি,হালুয়া,মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরি বিতরন করা ঠিক না,নামাজের পর মিলাদ মাহফীল,মসজিদে সবাই মিলে সরগম করা ঠিক না,নিজের নফল নামাজ নিজেই একাকী ঘরে বসে পড়া উচিত,কোনো ধরনের আলোক সজ্জা পোটকা বাজি,মাইকে উচ্চস্বরে মিলাদ মাহফীল এগুলা করা হাদীসের মধ্যে পড়ে না।শবে বরাত নিয়ে একদম বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ি কোনোটাই কাম্য নয়
এম_আহমদ
মে ১২, ২০১৭ at ৮:৫৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ Fahim Al Aman. মধ্য শাবানের মর্যাদা, পবিত্রতার অনুভূতি, রমজানের আগমনী ইত্যাদি মিলিয়ে কেউ যদি উৎসাহিত হয়ে গরীবকে কাপড় দান করে, বিরিয়ানী বিলিয়ে দেয়, নিজেও খায়, হালয়া-রুটি তৈরি করে, নিজে খায় ও অপরকে খাওয়ায় –এসবের মধ্যে ধর্ম নষ্ট হওয়ার কিছুই নেই। আপনার ভাল না লাগলে সরে থাকবেন। অন্যথায়, নিজের হিস্যা সংগ্রহ করে কোন গরীবকে দেবেন। আর মনের বিষয় আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেবেন। কেবল আল্লাহই অন্তরের মালিক। তিনিই সব কিছু জানেন।
হ্যাঁ, এ বিষয়ে একমত।
ধন্যবাদ।
মাহফুজ
মে ১৫, ২০১৭ at ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@এম_আহমদ
//আরও ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে দীর্ঘ করে লাভ নাই। যার মনে যে ধারণা সেটা তার নিজের সাধনার ভিত্তিতে বর্ধিত বা পরিবর্তি না হলে অন্য কেউ বর্ধিত, সংকোচিত, পরিবর্তিত –কিছুই করতে পারবে না। তারপর আমি যাদের কথা বলছি তারা যে শত ভাগ সঠিক এর কোন নিশ্চয়তা নেই। অথবা যারা অন্য দিকে যুক্তি তুলছেন তারাও যে সঠিক সেটারও কোন সুনিশ্চয়তা নেই। এই বিষয়টি এভাবে না সেভাবে মানলে কারও ঈমান ইসলামের ক্ষয়-ক্ষতি নাই। আমি এর পক্ষে আলোচনা করেছি যাতে করে মধ্যম পন্থার অবস্থান প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পারস্পারিক আক্রমণের তীব্রতা কমে। আল্লাহ ইবাদত নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি না করলেই ভাল -এটাই আমার মত।//
………………………………………
আপনি জ্ঞানী মানুষ। বিস্তর ব্যাখ্যা দেয়ার ক্ষমতা আপনার আছে। আপনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের যে বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন তার জন্য ধন্যবাদ। হাঁ ভাই, আপনি ঠিকই বলেছেন, "আরও ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে দীর্ঘ করে লাভ নাই।" এটাই সত্য কথা। আমরা প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্তে বার বার মহান স্রষ্টার কাছে সরল পথে চলার ও বলার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি। কিন্তু আবার তাঁরই সরল বাণীর নানামুখী বিশ্লেষণ করে জটিল করে তুলি। এর ফলে সরল পথ আর সরল থাকেনা। জটিল আকার ধারন করে। অথচ জ্ঞানী মানুষদের কাজ হলো কোন বিষয়কে সরলভাবে উপস্থাপন করা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, নানা মুনরি নানা মতের মাঝে পড়ে সাধারন মানুষ বিভিন্ন দিকে ছুটছুটি করে। এতে একতা নয় বরং বিভক্তি আরও বাড়ে। এর দায় কার উপরে বর্তাবে তা মহান আল্লাহতায়ালাই ভাল জানেন। এসব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ আমি অনেক দেখেছি। এসবে এখন আর মন টানেনা। আমি স্রষ্টা প্রেরিত সরল বাণী সোজাভাবেই বোঝার, বলার ও আমল করার ব্রত নিয়েছি। আর এটাকেই আমি মধ্যম পন্থা বলে বিশ্বাস করি। মহান স্রষ্টা যেন আমাকে এবং আমার মত আরও যারা আছেন তাদের সকলকে সরল পথে অটুট থাকার জন্য সাহায্য করেন- সেই প্রর্থনাই করি। আশাকরি আমার সোজা কথায় মনে কষ্ট নেবেন না।
ধন্যবাদ ও শুভ কামনা।