আমেরিকার রাজনীতি নিয়ে আজ অনেকের হাসি বা হতাশার বিষয় থাকতে পারে। তবে প্রথমে স্মৃতিচারণ। ২০১০ সালে আমি যখন আমারব্লগে কিছু কিছু লিখতাম ও মন্তব্য করতাম, তখন সেখানে একজন নাস্তিক মিয়া পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংকে ‘স্টিফেন ভাই’ বলে সম্বোধন করতেন আর আমি মনে মনে হাসতাম। এবারে বিষয় বিজ্ঞান না হলেও ‘ভাইয়ের’ বিষয়টা অনেকটা সেভাবেই।
অবশেষে আঁধারের বাঁধ আর অসুষ্ঠু নির্বাচনী কলেজের ইন্দ্রজাল পেরিয়ে প্রভাতী সূর্যের উদয় হল। দেখা গেল অনেক বিতর্কিত এবং হিলারি ক্লিনটন উদ্ধৃত সেক্সিস্ট, হমোফোফিক, ইসলামোফবিক ইত্যাদি ফোবিয়ায় ভুক্তভোগী ব্যক্তিটিই বিজয়ী! এই বিস্ময় নিয়ে এখনো মিডিয়ায় ঝড়-তুফান চলছে। নারীদের নিয়ে যে নিতান্ত অশ্রাব্য কথা বলল, বিশেষ করে বহুল প্রচারিত বাসে বসে, আরামসে, নারীর বিশেষ অঙ্গে ধরে যে কাজটি করার কথা বলল, তারপরও কীভাবে ৫২ শতাংশ শেতাঙ্গীনী তাকে ভোট দিল, সেই সত্যটি গিলতে অনেকে এখনও লবণ খোঁজে পাচ্ছেন না! কেমনেই বা পাবেন, নির্বাচন-পূর্ব সব কয়টি জরিপ ভুল তথ্য দিল। তারাই বা দিবে কেমনে, যাদের কাছ থেকে মনের কথা পাওয়ার কথা ছিল, তারা তাদের মনের কথা বলে নি! এটা অনেকটা ব্রেকজিটের মতই ছিল।
আশা-আকাঙ্খা ও নিরাশা
কোনো নিরুপায় ব্যক্তি যখন ১০ টাকায় সর্বরোগের মহৌষধ দেখতে পায় তখন সেদিকে হাত বাড়ায়। এই মানসিকতা বৃহত্তর ময়দানেও কাজ করে। আমেরিকার অনেক সাধারণ লোক, হোক না তারা ইসলাম বিদ্বেষী, মুসলিম বিদ্বেষী, এই লোকজন অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা বুকে নিয়ে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন, দেশের আর্থ-সামাজিক সমস্যার সমাধানের জন্য, আমেরিকাকে আবার ‘মহান’ (great) করার জন্য যেভাবে বারাক ওবামাকে এন্টি-ওয়ার চ্যাম্পিয়ন ভেবে বুক ভরা আশা নিয়ে অনেকে ভোট দিয়েছিলেন এবং ওবামাও বলেছিলেন যে তিনি যুদ্ধ-নীতির বিপক্ষে, তিনি ছয়/নয় মাসের মধ্যে (?) আফগানিস্তান থেকে সৈন্য সরিয়ে আনবেন এবং বছর খানেকের মধ্যে (?) ইরাক থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবেন। কিন্তু তা কী হয়েছিল? মোটেই না। তিনি তা করতে পারেন নি। বরং সৈন্য সংখ্যা আরও বর্ধিত হয়েছে, এবং তখনকার চলতি যুদ্ধের সাথে আরও যুদ্ধ সংযোজিত হয়েছে, ড্রোন হামলা ভিন্ন মোড় ও পরিধিতে স্থাপিত হয়েছে, আরও অনেক যুদ্ধের আঁচ তৈরি হয়ে আছে। যদিও একটি শ্রেণীতে ওবামা গৃহীত হয়েছিলেন কিন্তু আমেরিকান সাইকিতে (psyche) তিনি শেক্সপিয়ারের নাটকের মরোক্কান কালো মুর, ওথেলো (Othello), হিসেবেই থেকে গিয়েছেন, ভেনিসের পক্ষে নিজ জাতির বিপক্ষে লড়ে থাকলেও ভিনিসিয়ান সাইকিতে তার চামড়া ও ধর্মীয় বিশ্বাস গৃহীত হয় নি। স্বভাবতই, ওবামার পক্ষে আভ্যন্তরীণ অথবা বৈদেশিক পর্যায়ে কোন পরিবর্তন আনা সম্ভাবনা ছিল না, বরং নির্দেশিত পথে চলাই ছিল স্বাভাবিক।
ট্রাম্প কি নির্বাচনপূর্ব বক্তব্যের বাস্তবায়ন ঘটাতে পারবেন?(/em)
সাধারণ মানুষ যখন সমাজভর্তি সমস্যা দেখে তখন সেইসব সমস্যার জন্য প্রায়ই অথবা অনেক সময় কর্পোরেট মিডিয়া নির্দেশিত ইঙ্গিত মেনে নেয় অথবা নিজেদের পিয়ার-গ্রুপের ধারণায় চালিত হয়ে পড়ে। এটাই বার বার হয়। আজও হচ্ছে এবং আগামীতেও হবে। ট্রাম্প মুসলিমদেরকে দেশ থেকে বের করে দেবেন, মুসলিমদের জন্য বহির্বিশ্বে ভিসা বন্ধ করবেন, ন্যাটোকে ডিসবেণ্ড (disband) করবেন, (যা রাশিয়াও চায় এবং মুসলিম বিশ্বও চায়, চায়নাও চায়), মেক্সিকান বর্ডারে দেয়াল দাঁড় করাবেন এবং এর খরচ মেক্সিকানদের কাছ থেকেই আদায় করবেন, আরও কত কিছু কিন্তু এগুলো কি সম্ভব? ট্রাম্পের বিজয়-বক্তৃতা যারা দেখেছেন সেখানে তারা তার স্বরের ভিন্নতা এখন থেকেই লক্ষ্য করে থাকবেন।
প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার পুতিন তাকে প্রথমে স্বাগতম জানিয়েছেন এবং তার মাধ্যমে আমেরিকার সাথে সুসম্পর্ক গড়ার একটি সুযোগ এসেছে বলে উল্লেখ করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির হিসেব নিকেশের তথ্য আমাদের আয়ত্তের বাইরে। ‘চোখ রে ভাই দেখ, কান রে ভাই শোন’ –এটাই আমাদের অবস্থা।
আগামী দুই/তিন দিনের মধ্যে হয়ত মাওলানা ইমরান হুসেইন ট্রাম্পের বিজয় নিয়ে মহাপ্রলয়ের হিসেব দেখাবেন অথবা দাজ্জালের আর্বিভাবের ১৫ না ২০ বছর বাকি রইল সেই আগাম বাণী সম্বলিত বক্তৃতা সাজাবেন। তারপর শহর-নগর ত্যাগ করে সুদূরের বনে-জঙ্গলে বা কোন জন-মানবহীন এলাকায় গিয়ে ইসলামী পল্লি গড়ার ওয়াজ দেবেন, যেখানে অতি সহজে তার দাজ্জাল সরকার সন্ত্রাস আবিষ্কার করে, বা মানবতা-বিধ্বংসী ষড়যন্ত্রের আখড়া আখ্যায়িত করে ড্রোন হামলায় ডিমসহ সবাইকে উড়িয়ে দিতে পারে।
আমেরিকান গণতান্ত্রিক ট্র্যাডিশন
যাক, ফালতু কথা বাদ দেয়া যাক। আমেরিকার একটা ট্র্যাডিশন অবশ্য প্রশংসার দাবি রাখে। ট্রাম্প তার বিজয় বক্তৃতায় হিলারির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। জাতি নাকি হিলারির অবদানের জন্য ঋণী অথচ এই ক'দিন আগ পর্যন্ত এই হিলারিই ছিলেন সবচেয়ে বড় ক্রিমিনাল যাকে আইনানুগ পদ্ধতিতে শাস্তির ব্যবস্থা করে জাতির জন্য নজির স্থাপনের কথাই ছিল সবচেয়ে বড় কথা। ট্রাম্প এখন সকলের প্রেসিডেন্ট (হিলারিরও), তিনি জাতির বিভেদ ঘোচাবেন।
কিছুক্ষণ আগে হিলারি ক্লিনটনের পরাজয় বক্তৃতা দেখলাম। সকাল বেলায় এই বক্তৃতা দেবার কথা ছিল। কিন্তু তিনি তা দেন নি। কারণ সহজে বোধগম্য। তিনি তখন ৫ তারা হোটেলে, হয়ত পরাজয়ের তপ্ত বেদনায় শীতল মদ্য গিলে নিজেকে আয়ত্তে আনার প্রয়াস পাচ্ছিলেন। [Now music].তবে দেরীতে হলেও তার বক্তব্য বেশ সুন্দরভাবে সজ্জিত হয়েছে। তার স্বামী বিল ক্লিনটন পাশে ছিলেন। রাজনৈতিক বিষয়ে আমাদের সকলেরই অনেক ভিন্ন মত থাকতে পারে কিন্তু তার পরেও আমরা মানুষের কিছু গুণের বিষয়ও দেখতে অসুবিধে নেই। বিল ক্লিনটনের সময় তার উপর যখন লুইন্সকি সমস্যা ও অপরাপর আভ্যন্তরীণ অভিযোগ ঝড়ের মত বর্ষিত হচ্ছিল, যখন সেই কঠিন মূহুর্ত্তে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে তিনি তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন, তখন আমি তার রিজিলিয়েন্স (resilience) দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়েছিলাম। আজকে তার স্ত্রীর পাশে তাকে অনেক ভেঙ্গে পড়া ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। দুঃখ লাগছিল। রাজনীতিতে প্রকৃত বিজয় খুব কমই আসে। অধিকাংশ রাজনীতিক হতাশা ও ব্যর্থতা নিয়েই মঞ্চ থেকে বিদায় হতে হয়।
হিলারি ক্লিনটন ট্রাম্পের জন্য সহজভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আশা প্রকাশ করেছেন এবং তিনি (ট্রাম্প) সবাইকে নিয়ে আমেরিকার উন্নয়নের কাজ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন।
হয়তবা অসম্ভবের মধ্যে দিয়ে কিছু সম্ভাবনা আসতে পারে
আমেরিকার সাধারণ মানুষ ট্রাম্পকে এন্টি-এস্টাব্লিসম্যান্ট (শাসন-ব্যবস্থার প্রথাকেন্দ্রিক প্রাতিষ্ঠানিকতা- বিরোধী) ব্যক্তিত্ব হিসেবে ধারণা করছেন এবং এটাই হচ্ছে আইরণি। এটাই সম্ভবত এস্টাব্লিম্যাম্যান্টেরই ইচ্ছা - নিরাশার মাঝে নতুন মুখ দাঁড় করিয়ে আরেক দশকের প্রতারণা।
তবে কে জানে তাদের আশার অনুকূলমুখী কিছু পরিবর্তন হয়ত ঘটেও যেতে পারে। আমরা সকল মানুষের উন্নতি ও মঙ্গল কামনা করি।


এম_আহমদ
নভেম্বর ১০, ২০১৬ at ১০:১৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
I won't make any comment but anyone who has time can listen to these lectures and see where the so called democrates stand in 'new world order'!
John Pilger "The Invisible Government" Part 4/4 Fixed!
JOHN PILGER -- A WORLD WAR HAS BEGUN: BREAK THE SILENCE
John Pilger -- The New rulers of The World
John Pilger on the Threat of World War Three
John Pilger -- Obama And Empire (Full)
Ivan
নভেম্বর ১০, ২০১৬ at ১১:১৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার কেন মনে হচ্ছে ট্রাম্প এ্যান্টি এস্টাবলিশমেন্ট?
বরংচ ট্রাম্প বিশুদ্ধ প্রথা অনুশীলন করেছে। আমেরিকানরা তথা পশ্চিমা বিশ্বের সাদারা যা চিন্তা করে তার প্রতিফলন ঘটেছে ট্রাম্পের বক্তব্যে।
নারীদের সম্পর্কে ট্রাম্পের বক্তব্য শফি হুজুরের থেকেও ভয়ংকর, কিন্তু এর জন্য কেউ তার বিরুদ্ধে মামলা দাড় করিয়ে হামলা চালায় নাই।
ট্রাম্পই বাস্তবতা।
আমরা মুসলিমরা অন্যদেরকে বড্ড বেশি স্পেস দিয়ে ফেলছি। এত স্পেস অন্যে দেয় না।
নভেম্বর ১০, ২০১৬ at ১১:৫৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@Ivan:
ভাইজান, আমি কোথায় বললাম যে আমার মনে হয়েছে ট্রাম্প এন্টি-এস্টাবলিশমেন্ট?
এম_আহমদ
নভেম্বর ১১, ২০১৬ at ৫:২৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমেরিকার নিজের ঘরের “গণতন্ত্রের” ঠিকঠিকানা নাই কিন্তু যুদ্ধ ও গোয়েন্দাগিরির মাধ্যমে বিশ্বের অনেক দেশে গণতান্ত্রিক এই মহৌষধ ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিতে ব্যস্ত। যাদের বয়স হয়েছে তাদের মনে থাকতে পারে মিকাইল গরবাচেবের 'পেরিস্ট্রোয়িকা', তারপর উত্থান পতন, তারপর বরিস ইয়ালতসিনের আত্মপ্রকাশ ও গণতন্ত্রের বড়ি গলদকরণ, তারপর তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের পরিসমাপ্তি! এখন পুতিনের লোকজন যদি আমেরিকার নির্বাচন কলেজগুলো সামনে রেখে তাদের পেরিস্ট্রোয়িকা সাপ্লাই দিতে পারে এবং আমেরিকাকে ‘গণতন্ত্রের খাটি বড়ি’ গিলাতে পারে তবে সকলের জন্যই “গণতন্ত্র” সমান সমান হয়ে যাবে। এখনই গণতান্ত্রিক হওয়ার মোক্ষম সময়।
মাহফুজ
নভেম্বর ১১, ২০১৬ at ১১:০৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
গণতন্ত্র-ফনতন্ত্র নিয়ে আমি কিছু বলতে চাইনা। কারণ এই বড়ি আমি খাইনা। আমি সত্য কথাটা স্পষ্ট রে কবিতার ছলেই বলতে চাই-
জাতিসংঘের বুকে চেপে বসে
স্থায়ী অস্থায়ী বৈষম্যের ঘোরে
শক্তিধরেরা আঙ্গুল নাচায়,
শান্তির বাণী ঠোঁটে ঘুরে ফেরে
জাতিসংঘকে মুঠে ভোরে ফেলে
স্থায়ী সদস্যরা বগল বাজায়,
শ্বেত-পতাকা পায়েতে পিষে
স্বার্থপরেরা এক নিমিষেই
অশান্তি আর ভীতি ছড়ায়,
বিবেকের বুকে এক লাথি মেরে
স্বার্থ হাসিলে সেয়ানা পাপীরা
নম নম কোরে বাহবা জানায়।
বিশ্বের সব মজলুম দেশ
এক সারিতে একই সুরে যন
সব কু-কাজের ধিক্কার দেয়,
দু-মুখী নীতির বেড়াজাল ছিড়ে
বিশ্ব-বাসির কল্যাণে যেন
সাম্যের পথে শপথ নেয়,
বিবেকের টানে অচিরেই যেন
'শান্তি-সংঘ' রচনা কোরে
মহামিলনের জয়গান গায়।
এম_আহমদ
নভেম্বর ১৩, ২০১৬ at ১:০১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@মাহফুজ:
কবিতাটি সামনে রেখে কিছু কথা বলা যায়। সামাজিকভাবে বসবাস করতে গেলেই নিয়ম-নীতির কথা আসে। যেহেতু প্রত্যেক মানুষের চাওয়া-পাওয়া, তার স্বার্থ ও মনোবৃত্তি ভিন্ন এবং যেহেতু মনের ভিতরে কেউ প্রবেশ করার মত নয়, তাই নৈতিক মূল্যবোধ, শিক্ষা ও বিশ্বাস কাজ করতে হবে। নতুবা সমস্যা অবশ্যম্ভাবী। খোদাহীন সমাজ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে এই স্থানেই শূন্যতায় পৌঁছেছে। সমস্যা সংক্ষেপে এখানেই। আজকের ধনতন্ত্রে লোভ-লিপ্সা একটি ভাল জিনিস। আমার শক্তি ও চাতুর্য যদি আপনার চেয়ে বেশি হয় তবে আমার জৈবিক অস্তিত্বের প্রকৃতিগত অনুজ্ঞা আপনার চেয়ে অধিক যথাযথ -এটিই হচ্ছে খোদাহীন জগতের ডারউইনিয়ান ইঙ্গিতবাহী পর্যায়ক্রমিক ইম্পারেটিভ -It’s the fitest that survives in the habitate, nature allows for it. কী ভয়ংকর বিষয় তাই না?
“শ্বেত-পতাকা পায়েতে পিষে
স্বার্থপরেরা এক নিমিষেই
অশান্তি আর ভীতি ছড়ায়,
বিবেকের বুকে এক লাথি মেরে
স্বার্থ হাসিলে সেয়ানা পাপীরা
নম নম কোরে বাহবা জানায়।”
সমাজ বা রাষ্ট্র কোনো একটি ব্যবস্থা ব্যতীত চলতে পারে না। বর্তমানের “গণতন্ত্রে” আছে তা হল A-টিম ও B-টিম পালাক্রমে আসা-যাওয়া যার অভ্যন্তরে রয়েছে আরেকটি টিম যারা অদৃশ্য। সমাজে কোনো স্থিতি প্রতিষ্ঠার আগেই A-B এর পট পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু অদৃশ্যদের পরিবর্তন নেই। বিউরোক্রেসির ভিতর দিয়ে, বিভিন্ন শক্তির সমন্বয়ে গঠিত, এক অপ্রতিরুদ্ধ স্ট্রাকচার সেখানে কার্যকর। ১৮শো ও ১৯ শো শতাব্দীর অনেক সমাজ বিজ্ঞানী এই ভয় করে করে আসছিলেন। বর্তমানের অবস্থা প্রাচীন কালের বাদশাহকে অপসারণের মত নয়। আপনি সংঘবদ্ধই হতে পারবেন না। এডভান্স টেকনোলজি ও শক্তি যা জর্জ ওরয়েলের ‘বিগ-ব্রাদার’ হয়ে কাজ করছে, সেখানে নাগরিকসত্তা একান্ত বন্দী। তারা A অথবা B অথবা অকেজো কোনো C অথবা নীরব হয়ে যাওয়া ব্যতীত কোনো স্বাধীনতা রাখে না। বিশ্ব মানবতা এক কঠিন কাল অতিক্রম করছে।
এম_আহমদ
নভেম্বর ১৩, ২০১৬ at ৬:১৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ঘটনা মনে হয় খুব একটা সহজ থাকবে না। আমেরিকায় ব্যাপকভাবে ডেমন্সট্রেশন হতে দেখা যাচ্ছে।
এটা দেখুন
এটাও দেখুন
এম_আহমদ
নভেম্বর ১৩, ২০১৬ at ৬:২২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তবে চোখ/কান খোলা রেখে সকলের কথা শোনা দরকার। ট্রাম্পের কথাগুলো দেখুন
ট্রাম্প এণ্ড মিডল-ইস্ট
nomantutul
নভেম্বর ১৫, ২০১৬ at ৪:১৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইমরান নযর হোসেনকে যখন টানলেনই তখন তাঁর সম্পর্কে, তাঁর মেথোডলজি নিয়ে একটা পোষ্ট দেন যা থেকে আমরা যারা তাঁর লেকচার শুনি তারা যেন সতর্ক হতে পারি।
এম_আহমদ
নভেম্বর ১৬, ২০১৬ at ৪:৪৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@nomantutul:
কারো কথা উল্লেখ করলেই তাকে নিয়ে পোষ্ট দেয়ার দরকার হয় না, তবে হয়ত কখনো লিখতে পারি। আপনি যখন তার লেকচার শুনে আসছেন তাই তার মেথোডলজি নিয়ে আপনি কিছু বলতে পারেন। হয়ত কিছু আলোচনা এসে যেতে পারে।
মহিউদ্দিন
ডিসেম্বর ৫, ২০১৬ at ১১:১৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
“আগামী দুই/তিন দিনের মধ্যে হয়ত মাওলানা ইমরান হুসেইন ট্রাম্পের বিজয় নিয়ে মহাপ্রলয়ের হিসেব দেখাবেন অথবা দাজ্জালের আর্বিভাবের ১৫ না ২০ বছর বাকি রইল সেই আগাম বাণী সম্বলিত বক্তৃতা সাজাবেন।”
ঠিক বলেছেন ইতিমধ্যে শেখ ইমরান শুরু করে দিয়েছেন তার ব্যাখ্যা!
https://www.youtube.com/watch?v=qO3ar8bvkHE
এম_আহমদ
ডিসেম্বর ৭, ২০১৬ at ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@মহিউদ্দিন:
এটা কিন্তু সেটা নয়, কেননা এই ভিডিও এর লোডিং এর তারিখ হচ্ছে 16 Oct 2016. তবে ট্রাম্পের বিজয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন কিন্তু আমি এখন সেটা খোঁজতে যাচ্ছি না। হয়ত অন্য কোনো সময় দেব।
দাজ্জাল নিয়ে মাওলানা ইমরান সাহেবের কিছু কিছু কথা যেন অতিরিক্ত দেখায়। বর্তমান বিশ্বের অনেক ঘটনা এমন যে তা সুবিধাজনকভাবে দাজ্জালের ব্যাখ্যায় আনা যায় কিন্তু প্রকৃত বিষয়ের সময় নিরূপণ বা এতদসংক্রান্ত ব্যাখ্যার সঠিকতা প্রশ্ন সাপেক্ষ থাকে। ইমরান সাহেব তামীম আদ-দারির (রা) হাদিসকে আরব থেকে অনেক দূরের এই ইংল্যান্ডে স্থাপন করে দাজ্জালের প্রথম ১ দিনের সময়সীমাকে ১০০০ বছর করেছেন, (অথচ হাদিসের এবারত হচ্ছে ১ দিন ১ বছরের ন্যায়)। এটা অনেকটা extension of imagination. এখানে মেথোডোলজি বলতে তেমন কিছু নেই। ইরাকের পেট্রোলকে সোনা বানিয়েছেন অথচ পেট্রোল সৌদিতেও রয়েছে। অনেক সাগর ও মরুভূতেও আছে। হাদিসে যেখানে ফোরাত নদীর উন্মোচিত সোনার পাহাড়ের কথা এসেছে সেখানে সেই সোনার পাহাড়কে ক্রুড-ওয়েল বা ব্ল্যাক-গোল্ড বানিয়েছেন। অবশ্যই গোটা বিষয়ই জটিলতায় পূর্ণ। তবে সোনার পাহাড় ছাড়াও আখেরি জামানার বিষয়টি অনেক নিকটে অনুভূত হয়। আবার অতীতের অনেক জটিল সময়ে দাজ্জালের আর্বিভাবকে সন্নিকটে ভাবা হয়েছে। এই বিশ্ব কয়েক শতাব্দী/সহস্রাব্দ পর পর নানান কঠিন সময় পার করেছে। আজকের অবস্থা কি তেমনই এক কঠিন সময়, না মূলতই শেষ কাল –এটা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।