«

»

Apr ০২

দেশ সেবার নামে প্রতারণা

    মানুষ কিভাবে কর্ম করে? কর্ম(আমলনামা) কোথা থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়? খুব সহজ প্রশ্ন। সকল মানুষ একমত, কর্ম নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষ্ক থেকে। শরীর ও পঞ্চইন্দ্রিয়সহ জীবনের সবকিছু মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করছে। মানুষের বুঝশক্তি/জ্ঞান তাই বলে। বিজ্ঞানও তাই বলে। কিন্তু যারা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অনুশীলন ও সাধনা করেন, তাদের কাছে এই প্রশ্ন মোটেই সহজ নয় এবং তারা এই প্রশ্নের উত্তর সহজে দিতে চাইবে না। কারন, এর উত্তর অত্যান্ত জটিল। তবে আধ্যাত্মিক সাধকগন অনেকেই "কর্ম নিয়ন্ত্রণ হয় অন্তর থেকে"- এই বলে এই জটিল উত্তর থেকে নীরব থাকতে চায়। এই অন্তর-ই ইহ-জীবনের সকল কর্মের চাবি। মস্তিষ্ক(জ্বী-সত্তা এক নুরের শক্তি যা মস্তিষ্ককে পরিচালিত করে) সকল কাজের নির্দেশ পায় অন্তর থেকে। প্রত্যেক মানুষের মস্তিষ্ক অন্তরের উপর দাঁড়িয়েই তার পূর্ন জীবন অতিবাহিত করে চলছে। এই মস্তিষ্ক কি ভঙ্গিমাতে এবং সময় নিয়ে অন্তরের বাহনের(দয়া, ভালবাসা, ঘৃণা, রাগ, লোভ, অহংকার, কাম, হিংসা, ঈর্ষা, ত্যাগ …) উপর দাঁড়িয়ে থাকে, সেই ভঙ্গিমার উপর নির্ভর করেই তৈরী হয় “স্বভাব”। যেই সত্তার সাহায্যে মস্তিষ্ক অন্তরের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে, সেই সত্তাই হল 'মন'। এই পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষের ৭০০ কোটি মস্তিষ্ক নীজ নীজ অন্তরের উপর ৭০০ কোটি ভঙ্গিমাতে দাঁড়িয়ে আছে। একজনের ভঙ্গিমার সাথে অন্য জনের মিল নেই। আর এর জন্যই দুনিয়ার একজনের স্বভাবের সাথে অন্য কারো মিলে না। আবার মস্তিষ্ক সব সময় অন্তরের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে চায় না, সে বিশ্রাম চায়। মস্তিষ্ক যখনই অন্তরের সংস্পর্শ ছাড়ে, তখনই আমরা ঘুমের স্তরে চলে যাই। আবার মস্তিষ্ক যখন অন্তরের সংস্পর্শে আসে, তখন আমরা জাগ্রত হই অর্থাৎ দুনিয়ায় ফিরে আসি। যতসামান্য কথা যা বলা হয়েছে, তাও পূর্ন নয় - শুধু আবরনটা বলার চেষ্টা হয়েছে। এই বিষয়টি বিশাল এবং জটিল, আমরা আর আগাব না। বিষয় বস্তুতে ফিরে যাই।

 

    পূর্বের দিনগুলোতে পরিবার, আত্মীয়স্বজনদের মাঝে শান্তিপুর্ন, সৌহার্দ সম্পর্ক সুন্দরতা প্রকাশ করত। দুঃখ-কষ্টের মাঝেও মানুষের মুখে শান্তিময় হাসি থাকত। বর্তমানে টেকনোলজির যুগে এই সুন্দরতা তেমন দেখতে পাওয়া যায় না। চারিদিকে হিংসা, ঘৃণা, বিদ্বেষ, ঈর্ষার চাষ আর অনুশীলন। চারিদিকে কামড়াকামড়ি। কে কারে ঠকিয়ে উপরে উঠবে সেই প্রতিযোগীতা। এক অসুস্থ সমাজ ব্যবস্থা। সামাজিকতার জন্য মিল থাকলেও, একজন আরেকজনের দৃষ্টির আড়াল হলেই বিষাক্ত সর্প হয়ে উঠে। ভয়ংকর এক চেহারা প্রকাশ হয় পৈতৃক সম্পদের বন্টনে। কেউ কাউকে অনু পরিমান ছাড় দিতে রাজি নয়। মুহুর্তেই ভাইবোনদের মাঝে দা-কুড়াল নিয়ে হাজির, একজন আরেকজনকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে তৎপর  হয়ে উঠে। অনেক পরিবার সদস্য সারাজীবনেও তারা নীজেদের একে-অপরের চেহারা দেখে না, কোর্টে মামলা-মোকাদ্দমা চলেতেই থাকে অথচ তারা নামাযী, হাজী, আল্লাহ্‌ওয়ালা। বার্ধক্যের দরুন এক পা কবরে চলে গেছে অথচ নীজের চাওয়া-পাওয়ার একটু কমতি হলে তাদের তর্জন-গর্জনে চারিদিক কাপিয়ে তুলে। এরা ৩২ আনা-কে ১৬ আনা বুঝে, অর্থাৎ ৩২ আনা দিলে তারা সেটাকে ১৬ আনা হিসেবে গননা করে। সময় আর সুযোগ পেলে তারাও হিটলার, হালাগু খা, নিরু বা রামিসিস-টু হয়ে উঠত, তাতে সন্দেহ নেই।

 

    গণতন্ত্র!!! গণতন্ত্র??? গণতন্ত্র জিনিষটা কি? এটা কি সফট ড্রিঙ্কস নাকি লাচ্ছা সেমাই নাকি হাজী বিরিয়ানী? গণতন্ত্র কি খায় না পরিধান করে? বাংলাদেশে কত পারসেন্ট রাজনীতিবিদ পাওয়া যাবে যারা ‘গণতন্ত্র’-র মানে বুঝে? “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাজনীতি করে”- এমন একজন রাজনীতিবিদ পাওয়া যাবে এই স্বাধীন বাংলায়? আছে কি? যেখানে কেউ স্বাধীন ভাবে কথা বলার অধিকার রাখে না সেখানে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দাবী করে কি করে? যারা নীজেকে দেশপ্রেমিক, গণতন্ত্র রক্ষাকারী, মানুষের জন্য রাজনীতি… এইসব দাবী করেন, নিঃসন্দেহে এটা তাদের মিথ্যা দাবী এবং খেয়াল-খুশী আর মনগড়া কথা। সত্যের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে কে আছেন এই চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়াবে? আছে কেউ? হক কথা বলার দরুন, যে কেউ যেকোন মুহুর্তে পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে যেতে পারে। সময়ের ব্যবধানে যারাই ক্ষমতার গদিতে বসেন, তারা মনে করেন এই বাংলাদেশ ও দেশের জনগন তাদের বাপ-দাদা-তালইদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। "সকল ক্ষমতার উৎস জনগন"- এই মিথ্যা তারা তাদের ঢাল স্বরুপ ব্যবহার করেন। ক্ষমতা তাদের, আইন তাদের, পুলিশ-র‍্যাব তাদের, জেল-জরিমানা তাদের, বন্দুক-কামান তাদের, সশস্র বাহিনী তাদের, এলাকার গুন্ডা-মাস্তান-মদমাইশ তাদের… এই পরিস্থিতিতে কিভাবে কথা হবে? জোর যার, মুলুক তার। জ্ঞানী ব্যক্তিরা বলেন, “বাবা, চুপ থাক। এইসব বলতে নেই। হক কথা বললে তোমার জীবন মুহুর্তেই নাশ হয়ে যাবে। পুলিশ/র‍্যাব বা এলাকার সংসদ সদস্যের লোক দ্বারা তোমার জীবন হারাবে”।

 

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ দেশের প্রতিটি সরকারী পোষ্টে নিয়োগ বানিজ্য। যারা ঘুষ দিয়ে পুলিশে চাকরী নেন, সে কেমন করে সৎ থাকে? শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা দেওয়া। পুলিশের দায়িত্ব দেশে শান্তি রক্ষা করা। ঘুষ খেয়ে শান্তি রক্ষা করবে পুলিশ? আপনি বিশ্বাস করেন? যদি বিশ্বাস করেন তাহলে জেনে নিন আপনার মানসিক সুস্থতা নেই। আর শান্তি জিনিষ-টাই বা কি? দেশের পুলিশ শান্তি কে চিনে কিংবা কোন জ্ঞান রাখে?  LGED ভবনের চেয়ারটি সাউথ আফ্রিকার কিম্বারলীর ডায়মন্ড খনির চেয়েও বেশী মুল্যবান। নয়ত দলের মহাসচিব, সাধারণ সম্পাদকদের জন্য এই পদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার আগেই তার জন্য বরাদ্ধ থাকে কি করে? পুলিশ ও র‍্যাব বাহিনী দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্বে। তারা কর্তব্য-কর্মে কতটুকু আন্তরিক? এমন একজন পুলিশ বা র‍্যাব আছেন যিনি আচরণ ও কথাবার্তায় সৎ, বিনয়ী এবং আন্তরিক? আছে কি বাংলাদেশে? সকলকে দেখা যায় রুক্ষ মেজাজ, উগ্রতা। তারা সরকারের এবং নীজেদের দাস এবং সেবক, জনগণের নয়। তারা নীজেদের মনে করে জনগনের প্রভূ, সেবক নয়। তাই এমন প্রভূত্ব এবং নোংরা আচরন, সর্বদা  হেয় করে কথা বলা। সময়ের ব্যবধানে যখন যে সরকারই আসুক, নিজেদের স্বার্থে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহার করে। পুলিশ বাহিনীও ক্ষমতাশীল মানুষদের স্বার্থের প্রয়োজন মিটিয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিল করে।  এরা একদল আরেকদলের দুর্নীতি ও স্বার্থকে মজবুত করে আর মাঝখানে জনগনের দুর্বিষহ কষ্ট, ভোগান্তি এবং হয়রানী। সংসদ সদস্যদের মেজাজের রুক্ষতা আরো ভয়ংকর এবং কঠিন। এদের বাপ-দাদারা কখনো ভদ্রতা, নম্রতার আচরন করেনি, শালীনতা বজায় রেখে মানুষের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তা তাদের পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে শিখেনি। সচিবেরা দেশের আসল মাথা। উনারাই দেশকে পরিচালিত করছেন। অনেক সচিবরা টাকার বিনিময়ে দেশ কার্য্যাদি পরিচালিত করেন, আর এই হলে দেশ ধ্বংসের দিকে যাওায়াই স্বাভাবিক, আর হচ্ছেও তাই। হাজার হাজার কোটি টাকা সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত হচ্ছে, বিদেশে বাড়ি কিনা হচ্ছে। কেন এত লোটপাট? সচিবদের জীবন নির্বাহ, আচরণ-ই স্পষ্ট তারা দুর্নীতিবাজ আর ইহা বুঝার জন্য তদন্ত কমিটির প্রয়োজন নেই। মাধ্যমিক পড়ুয়া ছাত্ররাও বুঝতে পারে। 

 

    কঙ্গোর মুদ্রার নাম কি, হুনুলুলুর রাজধানীর নাম কি? এই সব অবান্তর এবং বেকুবী প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে দেশের সচিব পদগুলো দখল থাকলে, দেশ কিভাবে উন্নত হওয়ার আশা করে? যিনি দেশপ্রধান তাকে অবশ্যই বুঝতে হবে, কোন কোন মানুষের মস্তিষ্ক কোন ভঙ্গিমাতে অন্তরের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। এই সূক্ষ্ম বিচক্ষন জ্ঞান যদি দেশপ্রধানের না থাকে, তাহলে একটা দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুন তার থাকে না। তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ হবেই। আমলা-মন্ত্রীদের মানবিকতা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম না থাকলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার আশা করা বোকামী ছাড়া আর কিছু নয়। একজন দেশপ্রধান কতটুকু সাফল্য দেখাতে পেরেছেন এই ব্যপারে? আর দেশপ্রেম? সেটা কিভাবে একজনের ভিতরে প্রতিষ্ঠিত করে? কে জবাব দিবে? কে জ্ঞান রাখে এই বিষয়ে?

 

    দেশের মানুষের জীবন যাত্রার মান খুবই নিম্নমানের, খুবই কষ্টদায়ক। খাদ্য, বস্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান মৌলিক প্রয়োজনটুকু মিটাতে কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। এই অনুভূতি এবং জ্ঞান রাজনীতিবিদদের নেই। থাকলেও কোন পরোয়া নেই। “তুই মরলে আমার কি…”- নির্বাচনের পর এই হচ্ছে তাদের মন-মানসিকতা। দেশের জনগণ আর কলার খোসা তাদের কাছে একই জিনিষ। মীরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, উমিচাদ… ২৬০ বছর আগে এই বাংলাকে কিয়ামত পর্যন্ত প্রকৃতির “বিশ্বাসঘাতকতা”র কাছে বিক্রি করে গেছে। সাথে আরও কিছু দিয়েছেন চামচামি, লোটপাট, প্রতারনা… আর সাথে চিরতরে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে মানবিকতা ও নৈতিকতার সবচেয়ে দামী জিনিষ, আর তা হল “লজ্জ্বাশীলতা”। এই বাঙালী জাতির লজ্জ্বা-শরম নাই। রাজনীতিবিদরা দেশের মানুষেদের সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ আর কর্তব্য-কর্মে বেঈমানী আর আমানত খিয়ানত করে চলছে প্রতি মুহুর্তেই। কারন রাজনীতিবিদদের অন্তরে লজ্জ্বা-শরম সম্পূর্নরুপে অনুপস্থিত।

 

    বাস্তবতা এতই কঠিন যে মানুষেরা এখন স্বার্থের জন্য নীজ রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করে, নীজ রক্তকে অস্বীকার করে। কেউ কারো জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে চায় না, এমনকি এটা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও খুব লক্ষ্য করা যায়। এই লিখার দ্বিতীয় প্যার‍্যায় অল্প দুই-একটা উল্লেখ করা হয়েছে। আর আমাদের দেশের রাজনীতিবিদগন দেশ ও দেশের মানুষদের "সেবা" করার জন্য নীজেদের মধ্যে, নীজেদের দলের মধ্যে, তারপর বিরুধী দলের মধ্যে কোন্দল, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, মারামারি, খুনাখুনিতে লিপ্ত। তারপর কোটি কোটি টাকা দিয়ে জনগনের সেবা করার উদ্দেশ্যে নমিনেশন কিনতে হয় আর নির্বাচনের উদ্দেশ্যে কোটি কোটি টাকা করচ তো আছেই। তারা সবাই সেবা করতে চায়। এই "সেবা" কোন সেবা? এই "সেবা"-র সংজ্ঞা কি? কেন তারা সেবা করতে চায়? রাজনীতিবিদ-দের এই প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমে জনগনের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে হবে।

 

চিরন্তন সত্য:  বাংলাদেশে সকল রাস্ট্রীয় কর্মের জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা যখন পর্যন্ত না হবে তখন পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই কিংবা যখন পর্যন্ত সত্যবাদী, বিনয়ী, ধৈর্যশীল, দক্ষ এবং প্রজ্ঞার অধিকারী ব্যক্তি ক্ষমতার চেয়ারে অধিষ্ঠিত না হবে ততক্ষন পর্যন্ত এই দেশ সুন্দর এবং উন্নত হওয়ার আশা করা মূর্খামী।

২৮ comments

Skip to comment form

  1. 1

    এম_আহমদ

    ||এই বাঙালী জাতির লজ্জা-শরম নাই||

    ‘তেলের’ বিষয়টি জ্ঞাত। তবে আজ একটি “তৈলবৎ” শব্দ শিখে এলাম। এটি হল ‘মুজিবী শুভেচ্ছা’। তাই সবাইকে মুজিবী শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে মন্তব্যটি করছি।

    মানুষের জীবন দর্শন ভুল ব্যাখ্যার চালিত হলে তার ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে যে চরম অনৈতিকতা প্রবেশ করতে পারে, তাকে পশু করে দিতে পারে, এই লেখাটি সেই উদাহরণ ও ব্যাখ্যা এনেছে। বস্তুতে প্রাণ নেই, বস্তুতান্ত্রিকতা অন্তঃসারশূন্য। মানুষ গরীব হয়েও মানুষ থাকতে পারে। প্রেম থাকতে পারে, ভালবাসা থাকতে পারে, মূল্যবোধ থাকতে পারে। কিন্তু ‘আত্মা’ হারালে সে মানুষ থাকে না। পশু হয়। নিরঙ্কুশ বস্তুর প্রাচুর্যে কেবল দোযখই সৃষ্টি হতে পারে। এক সময় মন্দ কাজ মন্দ বিবেচিত হত। ঘোষ বাম হাতের ব্যাপার ছিল। এখন ডান হাতের। ‘কারণ রাজনীতিবিদদের অন্তরে লজ্জা-শরম সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত।’ তবে আরও কারণ আছে।

    1. 1.1

      মোঃ তাজুল ইসলাম

      আহমেদ ভাই, ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। লিখতে হলে, সুন্দর চিন্তা করতে হয় কিন্তু তা করিনি। পুলিশের কিছু চরম নোংরামির অভিজ্ঞতা হওয়ায়, এই লিখাটি হঠাৎ লিখে ফেললাম। আর হঠাৎ তাড়াতাড়ি লিখলে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইনফো মিস হয়ে যায়। ৭১-এ পাক বাহিনী যেভাবে আচরন করেছে, বর্তমান পুলিশদের আচরন সেই পর্যায়ে যাচ্ছে।

      হা, শুধু লজ্জ্বাশীলতাই দায়ী নয়। আরো অনেক কিছুই ইহার সাথে জরিত। ঐ পয়েন্টগুলোও বলা দরকার ছিল। ইনশাআল্লাহ বলব পরে আরেক লিখায়।

      আপনাকে অনুরোধ করি আপনার মতামত জানানোর জন্য। ভাল থাকুন।

  2. 2
    মহিউদ্দিন

    ভাই আপনার লিখার জন্য ধন্যবাদ। আপনি বাস্তব সমস্যা তুলে ধরেছেন সে জন্য আপনাকে প্রশংসা করছি। আমার বিশ্বাস এ জাতীয় চিন্তাভাবনা আজ অনেকের মনেই জাগছে। কিন্তু সমস্যা হল এর থেকে মুক্তির উপায় কি সেটা ভাবতে হবে।
    তাই দেশ ও জাতী কিভাবে এই অনৈতিকতার গহ্বর থেকে বের হতে পারে তা নিয়ে কিছু বলার অনুরোধ রইল।

    1. 2.1

      মহি ভাই, সালাম।

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। ইনশাআল্লাহ সকল রাজনীতিবিদদের কলিজা ধরে টান দিব সময়মত। তাদের অন্তরে বসবাসরত শয়তান জনসম্মুখে প্রকাশ করব।

      মাত্র একজন দেশপ্রধান দক্ষিন কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালওয়েশিয়া-কে উন্নতের শিখরে নিয়ে গেছেন খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে। এইরকম সৎ, বিচক্ষন, জ্ঞ্যানী একজন দেশপ্রধান দরকার, বাংলাদেশ-কে সেই রকম দেশের মত উন্নত করতে।

      ২৬০ বছর যাবত আমরা বাঙালী জাতি শুধু নিম্নগামী হচ্ছি। পৃথিবীব্যাপী এই জাতি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দাসের কাজ করে। আর কত কাল এই জাতি দাস হয়ে থাকবে?

      দোয়া এবং আশাকরি, আল্লাহ্‌ একটা উত্তম সমাধান দিবেন, পথ দেখাবেন।

  3. 3
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    @সম্পাদক সাহেব,
    আসসালামু আলাইকুম। নামের পাশে (সম্পাদনা প্রকাশনা) কথাট কেন আসে? দয়াকরে এর কারন জানাবেন।
    ধন্যবাদ।

  4. 4
    মহিউদ্দিন

    @ তাজুল ইসলাম
    আপনি সাইটে লগইন থাকলে আপনার নিজের লিখার নামের পাশে (সম্পাদনা প্রকাশনা) কথাটা থাকে। লগ ইন না করে দেখেন।

    1. 4.1
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      মহি ভাই, ধন্যবাদ।

  5. 5

    “তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইবনা কেন?” উক্তিটি প্রদানকারীর নাম ভুলে গেছি।
    খুব ইচ্ছা করে, কিন্তু আসলে কি ইচ্ছা করে? আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান বলে “হিংসা আর লোভ” না থাকলে হয়তো অনেকটা এগিয়ে থাকতাম।

  6. 6

    @তাজুল ইসলাম:
    তাজুল ভাই, একটি উপাদান ব্যাখ্যা করি। আমার শেষ বাক্যটি বক্তব্যের অলংকারমূলক একটি উপাদান। এর অর্থ এই নয় যে আপনার লেখাটি ‘কারণ’ উপস্থাপন করতে কমতি করেছে। মোটেই না। ‘আরও কারণ আছে’ বলতে এখানে উহ্যতায় অনুসন্ধিৎসু কৌতূহল রেখেছে। এভাবে ক্ষুদ্র কিছু দিয়ে প্রশস্ত কিছু বলে যাওয়া হয়।

    ৭১-এ পাক বাহিনী যেভাবে আচরণ করেছে, বর্তমান পুলিশদের আচরণ সেই পর্যায়ে যাচ্ছে (মন্তব্য)।

    ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ দেশের প্রতিটি সরকারী পোষ্টে নিয়োগ বানিজ্য। যারা ঘুষ দিয়ে পুলিশে চাকরী নেন, সে কেমন করে সৎ থাকে? শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা দেওয়া’ (ব্লগ)।

    ‘জোর যার, মুলুক তার। জ্ঞ্যানী ব্যক্তিরা বলেন, “বাবা, চুপ থাক। এইসব বলতে নেই। হক কথা বললে তোমার জীবন মুহুর্তেই নাশ হয়ে যাবে। পুলিশ/র‍্যাব বা এলাকার সংসদ সদস্যের লোক দ্বারা তোমার জীবন হারাবে’ (ব্লগ)।

    আজ আস্তে আস্তে হলেও বাস্তবতা দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। স্বাধীনতার পর হতে যে হাজার হাজার লোক হত্যা হচ্ছে, প্রতি বৎসর, প্রতি মাস, প্রতি দিন, এগুলোও একাত্তরের তুলনায় এসে যাচ্ছে। আসতেই হবে। এদের জীবনও কোনো জীবনের চাইতে কম হতে পারে না। এদের সন্তান-সন্তিনী, এদের পরিবার-পরিজনের উপর ফলিত প্রভাব -সবগুলো দেখতে হবে। এসব বস্তুতান্ত্রিকতার ফল। তারপর এই যে হাজার হাজার নারি ধর্ষিতা হয়, প্রতি বৎসর, প্রতি মাস, প্রতি সপ্তাহ, যখন এদের জীবন বিপন্ন হয়, যাদের পরিবার পরিজন কাঁদে, এগুলোও আসতে হবে। এদের সম্মান সম্ভ্রম কারো চাইতে কম নয়। তারপর নির্যাতন। তারপর পঙ্গু-করণ। তারপর … তারপর …। এসবও বস্তুতান্ত্রিকতার ফল। আজ একাত্তরের তুলনায় এগুলো আসতে হবে। তুলনাই অনেক বস্তু সুস্পষ্ট করে। এই তুলনা যত বেশি আসবে ততই বিভিন্ন শ্রেণীর মুখোশ উন্মোচিত হবে। কারা হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, নিপীড়নের উপর নির্বাক থাকে কিন্তু একাত্তর পেলেই সবাক হয় –এই সত্যটি ভেসে উঠবে। ঘটনা হোক একাত্তরের বা হাজার বছর আগের, অথবা পরের, কিন্তু এসবের সাথে জড়িত হচ্ছে “অন্তর্দৃষ্টি” হারানো বস্তুবাদ, উপভোগ অথবা জাহেলি আবেগ। লিখতে থাকুন। কথার ধারা বেয়ে কথা আসবে। তখন দেখা যাবে অনেক কারণের পিছনে ‘আরও কারণ আছে’ –সবকিছুতেই আছে “অন্তরের” কাহিনী।

    ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

  7. 7
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    শ্রদ্ধেয় পাঠক,
    লিখায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যার‍্যা সংযোজন করতে ভুলে গিয়েছিলাম। সেই প্যার‍্যা সংযুক্ত করে দেওয়া হল।
    ধন্যবাদ।

  8. 8
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    বাংলাদেশে সময়ের পরিবর্তনে যে যখনই ক্ষমতার গদিতে বসুক, সবার চরিত্র এক, স্বভাব এক, কামনা এক। তাদের কারো নীতিতে কোন পার্থক্য নেই। সবাই “খাই-খাই” ধান্ধাবাজী। নিচের লিংক বর্তমান চিত্রের ছোট একটা নমুনা।

    http://m.prothom-alo.com/opinion/article/1095415/খুনোখুনির-রাজনীতি

  9. 9
    madhumangal saha

    Apnader des kintu ager thake anake valo

  10. 10
    শামস

    দেশসেবার নামে এরা বারবার নিজেদের জান কোরবান করে দেন! এইসব প্রতারণার শেষ নেই!

    “সাত বছরে আত্মসাৎ ৩০ হাজার কোটি টাকা”
    [লিংক: http://www.prothom-alo.com/economy/article/811354/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%A4-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A7%8E-%E0%A7%A9%E0%A7%A6-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%5D

    এগুলো কার টাকা! জনগণের আমানত নিয়ে ছিনিমিনি!

    “কৃষক নয়, ধনীরাই লুট করছেন কৃষি ব্যাংক”
    [লিংক: http://bonikbarta.net/bangla/news/2017-03-28/111765/%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A6%95-%E0%A6%A8%E0%A7%9F,-%E0%A6%A7%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%87-%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%9F-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%9B%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%B7%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%95/%5D

    একটা গোষ্ঠী ফুলেফেঁপে উঠেছে, এরা সবকিছুকেই গ্রাস করবে, এমনকি যারা তাদের এইভাবে ফুলেফেঁপে উঠতে দিচ্ছে তাদেরকেও। নিজের পরিণতি নিজেরাই ঠিক করছে!

  11. 11
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ছোট উদাহারন:

    ১. http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1223196/যশোরে-ক্রসফায়ার-ও-মামলার-ভয়-দেখিয়ে-অর্থ-আদায়

    ২. http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1225160/ঈদকে-সামনে-রেখে-গ্রেপ্তার-বাণিজ্য-১৪-পুলিশ    

    ৩. পুলিশি গুন্ডামীঃ  তোকে ৬৪ টুকরা করে ৬৪ জেলায় পাঠানো হবে      

    ৪. রাজউকে ঘুষ না দিয়ে প্ল্যান পাসে ১০ বছর লাগবে।

    => না, কথাটায় ভুল আছে। ঘুষ না দিলে ১০ বছরেও প্ল্যান পাশ হবে না।

  12. 12
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    চামচামী-র একটা সীমা থাকা উচিত। এই দেশের মানুষজন সীমালঙ্গনকারী জাতি। এত আশ্চর্যময় কেন এই দেশের মানুষদের মন-মানসিকতা? BAL-র তোষামোদী-তে বাঁচি না, BNP-র তোষামোদীতে বাঁচি না; আমরা জনগন যাব কই? 'বাংলাদেশ'-র নাম পরিবর্তন করে 'মুজিবদেশ' নাম রাখবে একবার, তারপর আবার 'জিয়াদেশ'… চলতে থাকুক মীরজাফরী কামড়াকামড়ি কিয়ামত পর্যন্ত। জাতি হিসেবে আমরা কখন বিশ্বে উঁচু করে মাথা তুলে দাঁড়াব? কত কাল অপেক্ষায় থাকতে হবে?

    http://www.bdnews24uk.com/bangla/article/637361/index.html

     

  13. 13
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ক্ষুধার্ত হায়েনা যেভাবে শিকারীকে ছিন্নভিন্ন করে খায়, BNP ক্ষমতায় আসলে BAL-কে সেভাবে খাবে। তারপর নিজেদের মত মীরজাফরী লুটপাট চলবে বর্তমান সরকারের চেয়েও আরো দুরন্ত গতিতে। এই গতিতে কে থামাবে?

  14. 14
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ১০ বছরে সাড়ে ৬ হাজার কোটি ডলার পাচার

    ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ৬৫ বিলিয়ন (সাড়ে ৬ হাজার কোটি) মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে বলে মার্কিন সংস্থাকে উদ্ধৃত করে তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। গতকাল মঙ্গলবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় দুর্নীতি দমন কমিশনের ত্রয়োদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন দেশের ভেতরে বিনিয়োগের পরিবেশ নেই। তাই বলেই কি অর্থ পাচার করতে হবে? এই মাটি, পানি, জলবায়ুতে আপনি বড় হয়েছেন। এই মাটির প্রতি কি আপনার দায়বদ্ধতা নেই?’

    ‘সবাই মিলে গড়ব দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে ওই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন বলেন, ওয়াশিংটনভিত্তিক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রতিবেদন অনুসারে ২০০৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দুদককে দৃষ্টি দিতে হবে।

    সাবেক এই গভর্নর বলেন, বাজার অর্থনীতিতে উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্নীতিপরায়ণরা লুটপাট করতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। এখানেই দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। দেশের মোবাইল ব্যাংকিং এবং ই-কমার্সের ক্ষেত্রে নিয়ামক পরিমণ্ডল না থাকায় দুর্নীতি হচ্ছে। বগুড়ায় তাঁর এক শিক্ষককে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কিছু টাকা পাঠানোর অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে ফরাসউদ্দিন বলেন, সেখানে গুনে গুনে ২ শতাংশ কেটে রেখেছে। তারপর টাকা তুলতে গেলে শিক্ষকের কাছ থেকেও টাকা কেটে নিয়েছে। এই রকম লুটপাট ও ডাকাতি চলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় মোবাইল ফান্ড ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরলেও ই-কমার্সের (কেনাকাটার) মাধ্যমে বিত্তবানরা ট্যাক্স না দিয়েই দ্রব্যসামগ্রী কিনছেন। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে এ–জাতীয় ঘটনা বিরল।

    সভাপতির বক্তব্যে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘অনেক সমালোচকের সঙ্গে আমিও একমত যে অনেক বড় দুর্নীতিবাজদের কাছে হয়তো আমরা এখনো যেতে পারিনি। তবে সবাইকে এটাও মনে রাখতে হবে, পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখে যদি আমরা এদের ধরতে হাত বাড়াই, তাহলে এ হাত তুলে আনব না, মাঝপথে থেমে যাব না।’

    বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘ক্যাপসুল মার্কা’ উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার। তথাকথিত কোচিংয়ের মাধ্যমে ক্যাপসুল মার্কা শিক্ষা আমরা চাই না। আমরা এমন শিক্ষা চাই, যাতে আমাদের সন্তানেরা নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।’ ওই সভার আগে গতকাল সকাল সাড়ে নয়টায় দুদকের প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা এবং সংস্থার পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কমিশনার নাসির উদ্দীন আহমেদ ও এ এফ এম আমিনুল ইসলাম। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচন কমিশনে সব প্রার্থীকে অবশ্যই সঠিক সম্পদের হিসাব দিতে হবে। মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে খতিয়ে দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে আইন নিজস্ব গতিতেই চলবে।

  15. 15
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    খেলাপি ঋন সোয়া লাখ কোটি টাকা

    আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে দেশের ব্যাংক খাত। নিয়মনীতি না মেনে ঋণ দেওয়ায় খেলাপি ঋণ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে দেশের আর্থিক খাতে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার সময় দেশে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। ৯ বছর পর সেই খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের দুই মেয়াদের ৯ বছরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে সাড়ে তিন গুণ হয়েছে।

    এর বাইরে আরও ৪৫ হাজার কোটি টাকার খারাপ ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। লুকিয়ে রাখা এই বিশাল অঙ্ক খেলাপি ঋণের হিসাবের বাইরে রয়েছে। সব মিলিয়ে খেলাপি ঋণ এখন ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংক খাত ঠিক রাখতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। যেমন ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেওয়া, পর্যবেক্ষক বসানো, পর্ষদ সভার যাবতীয় নথি বিশ্লেষণ, বড় ঋণ অনুমোদন, একক গ্রাহকের ঋণসীমা নির্ধারণ ও ঋণ পুনর্গঠন ব্যবস্থা চালু। এরপরও খাতটিকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে যুক্ত হয়েছে ‘পরিবর্তন আতঙ্ক’। চট্টগ্রামভিত্তিক একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে আটটি ব্যাংক। এতে আরও নমনীয় হয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা।

    এসব বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিয়মাচার না মেনে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দেওয়ার কারণেই টাকা আদায় হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে ঋণ ফেরত না দিলেও কিছু হয় না। আদালতের আদেশ নিয়ে বছরের পর বছর ভালো থাকা যায়। এ জন্য ঋণ ফেরত না দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এ থেকে অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যাংক খাতকে পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। মির্জ্জা আজিজ মনে করেন, পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিল একধরনের হিসাব জালিয়াতি। এসব ঋণ আদায় হয় না। সর্বোচ্চ কিছুদিন লুকিয়ে রাখা যায়।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বরের শেষে ব্যাংক খাতে ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ঋণই এখন খেলাপি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। জুলাই-সেপ্টেম্বর—এ তিন মাসেই সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৩৮ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। গত জুনে ছিল ৩৪ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণই বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা।

    জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্বে) আবদুস ছালাম আজাদ এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করা চারটি ঋণ কিছুটা খারাপ হয়ে পড়েছে। এ কারণে খেলাপি ঋণ এত বেড়ে গেছে। ডিসেম্বরের মধ্যে ঠিক হয়ে আসবে। বেসরকারি খাতের দেশীয় ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৩৩ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা। গত জুনে যা ছিল ৩১ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। এ সময়ে ন্যাশনাল, ফারমার্সসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণই বেড়েছে। তবে এ সময়ে বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ কমেছে। এ ছাড়া সরকারি বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

    খেলাপি ঋণ কেন বাড়ছে, তা জানতে যোগাযোগ করা হয় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি আনিস এ খানের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করে যেসব ঋণ নিয়মিত করা হয়েছিল, তাদের অনেকেই ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছে না। এ ছাড়া আগের অনেক ঋণের পাশাপাশি নতুন করেও বেশ কিছু ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। এসব কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। খেলাপি ঋণের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে আনিস এ খান বলেন, ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যাবে, আগের মতো লভ্যাংশ দিতে পারবে না।

    তবে ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকেরা নিজেদের মধ্যে ঋণ আদান-প্রদান করছেন। যে উদ্দেশ্যে এসব ঋণ নেওয়া হচ্ছে, তার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। ঋণের অর্থ পাচারও হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন ব্যাংকের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও। ফলে খেলাপি ঋণের ভয়াবহতা প্রকাশ পাচ্ছে। এ ছাড়া সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে। দুই বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩ ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসিয়েও পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারেনি। সার্বিকভাবে এর প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগের ওপর। ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তা বিনিয়োগ হচ্ছে না। দেশে সরকারি-বেসরকারি-বিদেশি মিলে মোট ৫৭টি ব্যাংক রয়েছে। আর্থিক অবস্থার অবনতির তালিকায় রয়েছে সরকারি-বেসরকারি ১৩ ব্যাংক। সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বাংলাদেশ কমার্স, ন্যাশনাল, ফারমার্স ও এনআরবি কমার্শিয়ালের পরিস্থিতি কয়েক বছর ধরে খারাপ হচ্ছে। বেসরকারি খাতের একাধিক ব্যাংকের মালিকানা বদল নিয়ে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপই নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। উল্টো কেন্দ্রীয় ব্যাংক এগুলোতে সায় দিয়ে যাচ্ছে। ফলে ব্যাংক খাতের আমানতকারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

  16. 16
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    বাঙালী জাতির কিছু চরিত্রিক সনদ:

    ১। শেয়াল ও ভাঙা বেড়া 

    ২। অপরাধ, সমাজ ও রাষ্ট্র

    ৩। এই দুনিয়ায় আসল ভালো নকল ভালো   

    ৪। বাঁশের ব্যাংক, মাটির ব্যাংক, সুইস ব্যাংক  

    ৫। বাইরে ঠিকঠাক ভেতরটা ফাঁপা  

    ৬। ফরমালিন ও রাজনীতি 

    ৭। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়    

    ৮। অর্থনৈতিক উন্নতি ও নৈতিক দায় 

    ৯। ক্ষুধিত পাষানের কথা

  17. 17
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ৭১-এ টিক্কা খান ৯ মাস ব্যপী দেশের অগনিত মানুষদের হত্যা করেছে, আর এখনকার জমানা? Youtube-এ Team 360 degree, Talash, Ekusher Chokh, Khuj… নামে সার্চ দিলে দেশের কিছু চিত্র বুঝা যায়। নিচের লিংকটি পুলিশে কিভাবে চাকরী নেওয়া হয় তার একটি সামান্য চিত্র।

    https://www.youtube.com/watch?v=iCr9t7-ymnE&t=676s                  

     

    ছোট বেলায় গল্প শুনেছিলাম এইরকম। অনেক আগে শুনা তাই ভুলে গেছি, হুবহু মনে নেই, চেষ্টা করি তুলে ধরার। ইবলিশ তার দলকে ঘোষনা করেছেন, আজ যে সবচেয়ে বড় জঘন্য খারাপ কাজটি মানুষদের দিয়ে করাতে পারবে তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে। সারা দিন ইবলিশের দল মানুষদের দ্বারা কুকর্ম করিয়ে ফিরে এসে নেতার কাছে সবাই সবার বাহাদুরী কাজের বর্ণনা দিচ্ছে। একজন বলল, সে একজনকে খুন করিয়েছে, আরেকজন বিশাল দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধিয়ে দিয়েছে, আরেকজন বলছে সে যুদ্ধ বাধিয়ে দিয়েছে…… এই সব শুনে এক শয়তান দলের সদস্য চুপ করে কোনায় বসে আছে। অন্যরা যেভাবে বাহাদুরী গল্প বলছে আর সে যা করেছে তা অন্যদের কাছে খুবই নগন্য তাই সে চুপ হয়ে আছে। ইবলিশ নেতা সবার কথা শুনলেন, শেষে কোনায় বসে থাকা সদস্যকে জিজ্ঞেস করলেন তুমি কি করেছ? সে কথা বলে না। আবার জিজ্ঞেস করল, তুমি কি করেছ? বলল, আমি এক ছেলেকে বিদ্যালয়ে যাইতে দেখে তাকে বিদ্যা অর্জন থেকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছি অর্থাৎ সে বিদ্যালয়ে যায় নি। এই কথা শুনে নেতা ইবলিশ পুরস্কারটি এই সদস্যকে দিয়ে দিলেন। বললেন, অন্যেরা যা করেছে তুমি সবচেয়ে বেশী করেছ। অন্যেরা তোমার তুলনায় বড় কাজ করতে পারেনি।

    পুলিশে নিয়োগ নিয়ে যে বানিজ্য তা এই গল্পকে বাস্তবে হার মানিয়ে দিয়েছে। এ তো গেল সৈনিক পুলিশ ৭ লাখ টাকার কেইস আর IGP,  DIG, SP, ASP… এইগুলা? এখন কিছু বলাই যাবে না। নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি করেছে। এই আইন গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। কিছু বললে যে কেউ যে কোন সময় গুম হয়ে যেতে পারে কিংবা রিমান্ডে নিয়া ডাবল ধোলাই…(মইরা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি)।

    1. 17.1
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      শেষ ৩৫ বছর এই দেশের কোন দেশপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানকে যদি ভাল বলতে বাধ্য করা হয় তাহলে সেই ব্যক্তি এরশাদ কাকুই হবেন। হোক সে লুইচ্ছা, জোর করে ক্ষমতা দখলকারী, অর্থ লোটপাটকারী, তারপরেও সে সকলের চেয়ে ভাল। তার আমলে সকল প্রকার কুকুর্মের একটা সীমানা ছিল কিন্তু তার আমলের পর থেকে দেশের কুকর্ম ও দুর্নীতির কোন সীমানা নাই। কাকুর আমলে হিংস্র ক্ষুধার্ত হায়েনা ছিল গুটি কয়েক আর উনার পর সেই সংখ্যা এখন লক্ষ লক্ষ যার কারনে দেশ দিশেহারা, দেশের মানুষ দিশেহারা। কাকুরে রাজনীতির পুতুল বানায়া অন্য রাজনীতিবিদগণ খেলা খেলে যাচ্ছেন। কাকুর অনেক মামলা শেষ হয় আছে শুধু রায় টা বাকি আছে। বন্ধুক তার ঘাড়ে রাখা, সে সুস্থ রাজনীতি করবে তার পথ বন্ধ করে দেওয়া।

      একক ব্যক্তির ঋণে বৃহত্তম কেলেঙ্কারি

      * এক গ্রাহককেই ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ।
      * নিয়মের বাইরে মূলধনের প্রায় দ্বিগুণ।
      * সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের সময়ে অনুমোদন।
      * জনতা ব্যাংকের মোট মূলধন ২ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা।
      * মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ আছে।
      * এক গ্রাহক ৭৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পেতে পারেন না।

      ভয়ংকর রকম উদারভাবে ঋণ বিতরণ করেছে জনতা ব্যাংক। এক গ্রাহককেই মাত্র ৬ বছরে তারা দিয়েছে ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার ঋণ ও ঋণসুবিধা। নিয়মনীতি না মেনে এভাবে ঋণ দেওয়ায় বিপদে ব্যাংক, গ্রাহকও ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না।
      জনতা ব্যাংকের মোট মূলধন ২ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা। মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ আছে। অর্থাৎ এক গ্রাহক ৭৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পেতে পারেন না। দেওয়া হয়েছে মোট মূলধনের প্রায় দ্বিগুণ।
      ব্যাংক দেখভাল করার দায়িত্ব যাদের, সরকারের নিয়োগ দেওয়া সেই পরিচালনা পর্ষদই এই বিপজ্জনক কাজটি করেছে। হল-মার্ক ও বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির পর এটিকেই পারস্পরিক যোগসাজশে সাধারণ মানুষের আমানত নিয়ে ভয়ংকর কারসাজির আরেকটি বড় উদাহরণ বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। তারা বলছেন, এটি একক ঋণের বৃহত্তম কেলেঙ্কারি
      ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারকাতের সময় এই অর্থ দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ বছর জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এ সময় ব্যাংকের পর্ষদ সদস্য ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক নাগিবুল ইসলাম ওরফে দীপু, টাঙ্গাইলের কালিহাতী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী যুবলীগ নেতা আবু নাসের প্রমুখ।
      অনুসন্ধানেও জানা যাচ্ছে, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংকের এই পর্ষদের উৎসাহই ছিল বেশি। পর্ষদের সিদ্ধান্তে বারবার ঋণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হয় খেয়ালখুশিমতো।
      ব্যাংকের উদার আনুকূল্য পাওয়া এই গ্রাহক হচ্ছে এননটেক্স গ্রুপ। এর পেছনের মূল ব্যক্তি হচ্ছেন মো. ইউনুস (বাদল)। তিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। তাঁরই স্বার্থসংশ্লিষ্ট ২২ প্রতিষ্ঠানের নামে সব ঋণ নেওয়া হয়। তাঁর মূল ব্যবসা বস্ত্র উৎপাদন ও পোশাক রপ্তানি।
      জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে গত তিন বছর দায়িত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান। গত ৭ ডিসেম্বর তাঁর চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হয়েছে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে তারা আরও ঋণ চেয়েছিল, আমি দিইনি। এ কারণে আমি তাদের শত্রুতে পরিণত হয়েছি। আর ঋণের প্রায় সবই আগের চেয়ারম্যানের (আবুল বারকাত) সময় দেওয়া।’
      জনতা ব্যাংকের সাবেক এবং বর্তমান কয়েকজন ব্যাংকারও একই অভিযোগ করেছেন। এমনকি যাঁরা বাংলাদেশের আর্থিক খাতের খোঁজখবর রাখেন, তাঁরাও জানেন এক গ্রাহককে এত অর্থ দেওয়ার কথা। এমনকি তাঁর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আবুল বারকাতের নামও তাঁরা বলেছেন।
      অধ্যাপক আবুল বারকাত প্রথম আলোকে বললেন, ‘তাঁর (ইউনুস বাদল) প্রতিষ্ঠানগুলো তো খুবই ভালো। পরিশোধেও ঠিক আছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নথিপত্র এক ব্যক্তির নামে না। এ কারণেই এত ঋণ পেয়েছে।’
      তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঋণ নেওয়া কোম্পানির অনেকগুলোই এননটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। বাকিগুলোও মো. ইউনুসের স্বার্থসংশ্লিষ্ট। জনতা ব্যাংকের এখনকার পর্ষদের নথিতেও তাই। এ কারণেই জনতা ব্যাংক এখন এই ঋণ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন।
      মো. ইউনুস (বাদল)-এর সঙ্গে কথা হয় গত বুধবার, প্রথম আলো কার্যালয়ে। তিনিও বলেছেন, পুরো অর্থ দিয়ে ২২টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। কারখানাগুলোর সবই আন্তর্জাতিক মানের।
      জনতা ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০০৪ সাল থেকে জনতা ব্যাংকের শান্তিনগর শাখায় প্রথম ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করে এননটেক্স গ্রুপের জুভেনিল সোয়েটার। ওই শাখার বেশি ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকায় ২০০৮ সালে জনতা ভবন করপোরেট শাখায় ঋণটি স্থানান্তর করা হয়। ২০১০ সাল থেকে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান খুলে ঋণসুবিধা নেওয়া শুরু হয়। এক ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে এত টাকা দেওয়ায় নতুন ঋণ দেওয়ার সব সামর্থ্যই এখন হারিয়ে ফেলেছে জনতা ব্যাংকের শাখাটি।
      এর আগে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা (বর্তমানে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল) শাখা থেকে ২০১১ সালের দিকে হল-মার্ক নামের গ্রুপটি বের করেছিল সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। তাতে সোনালী ব্যাংক এখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি।
      জনতা ভবন করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ থেকে দায়িত্বে আছেন আহমেদ শাহনুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শাখার ঋণ দেওয়ার সব সীমা শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু আদায়ের পেছনে ছুটছি।’
      বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, আইনে আছে, মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি এক গ্রুপকে দেওয়া যাবে না। এর বেশি ঋণ গেলে ব্যাংকের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে যায়। দেখতে হবে, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে এসব অর্থায়ন হয়েছে কি না। কেন একজন গ্রাহককে এত টাকা দেওয়া হলো, পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে পারে।
      যেভাবে ঋণ দিল ব্যাংক
      জনতা ব্যাংকের একাধিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান শেষে জানা যায়, কোম্পানিগুলোর নামে বিভিন্ন সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হলেও টাকা পরিশোধ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে ব্যাংক নিজেই বাধ্য হয়ে বিদেশি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে অর্থ শোধ করে দিয়েছে। পরে গ্রাহক তা পরিশোধ করেনি। এভাবে নেওয়া ঋণসুবিধার (নন-ফান্ডেড) সব অর্থই সরাসরি ঋণে (ফান্ডেড) পরিণত হয়েছে। আবার দৈনন্দিন ব্যবসা পরিচালনার জন্য নেওয়া চলতি মূলধনও (সিসি ঋণ) ফেরত দেয়নি।
      ২০১৫ সালে এননটেক্স গ্রুপের ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠনের অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই পুনর্গঠিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে গ্রুপটিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জনতা ব্যাংক। এ সুবিধার মানে হলো, প্রথমে শুধু কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন না দেওয়ায় বিষয়টি আটকে আছে। তবে এতে চুপ না থেকে এসব ঋণ পুনঃতফসিল করে দিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ।
      ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই পর্যন্ত এমডি এস এম আমিনুর রহমান। ঋণের বড় অংশই দেওয়া হয়েছে তাঁর সময়ে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘শাখা থেকে প্রস্তাব এসেছিল, পর্ষদ বিবেচনা করে ঋণ দিয়েছে। আমার তো ঋণ দেওয়ার কোনো ক্ষমতাই ছিল না।’
      জনতা ভবন করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন আব্দুছ ছালাম আজাদ। এখন তিনি এই ব্যাংকেরই এমডি। ঋণের বড় অংশই তিনি শাখা ব্যবস্থাপক থাকাকালীন সময়ে সৃষ্ট। তিনিও প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তাঁর সময়ে খুব বেশি ঋণ দেওয়া হয়নি। তবে আব্দুছ ছালাম বলেন, ঋণ কমাতে এননটেক্সকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, অন্য ব্যাংকে চলে যেতে বলা হয়েছে।
      এখন উদ্বিগ্ন পর্ষদ
      মূলধনের দ্বিগুণ ঋণ দেওয়ার পর ২০১৭ সালে এসে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে জনতা ব্যাংকের এখনকার পর্ষদ। পর্ষদ ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দফায় দফায় গ্যালাক্সি সোয়েটারসহ এননটেক্স গ্রুপের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করতে বলে। বারবার সময় নেওয়ার পর গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্ষদের সভায় তা উত্থাপন করা হয়। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে পর্ষদ। ঋণ প্রদান ও আদায় পরিস্থিতি দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গত ১৭ জানুয়ারি এননটেক্সের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণসহ অন্য ব্যাংকে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
      মো. ইউনুস (বাদল) এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংক এখন অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ব্যাংকের নির্দেশে ৮ প্রতিষ্ঠান অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের চেষ্টাও চলছে। আগামী জুনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ভাই বিষয়টি দেখেছেন। তিনি ঋণ নিয়ে কোনো আপত্তি তোলেননি।’
      ভাগ্যবান উদ্যোক্তা
      মো. ইউনুস (বাদল) একসময় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের সামান্য কর্মচারী ছিলেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এখন ২২টি প্রতিষ্ঠানের মালিক। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তাঁর উত্থান ঘটেছে। এ সময় ব্যাংক যেমন ছিল উদারহস্ত, তেমনি পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছেন একাধিক মন্ত্রীর। পর্ষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অনেকে তো ছিলেনই, পিছিয়ে ছিলেন না ব্যাংকের কর্মকর্তারাও। এমনকি সিবিএ নেতারাও আছেন তাঁর সঙ্গে।
      ব্যাংক সূত্র জানায়, ঋণ পেতে পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক করে দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন সিবিএ সভাপতি রফিকুল ইসলাম। ১৯৭৩ সাল থেকে জনতা ব্যাংক গণতান্ত্রিক কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ, জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত) সভাপতি তিনি। তাঁর নামে করা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে নির্মিত হচ্ছে ২০১ গম্বুজ মসজিদ। এই মসজিদের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে ‘বাদল হেলিপ্যাড’।
      রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানালেন, ‘মসজিদ বানাতে সব মিলিয়ে ২৫০ কোটি টাকা লাগবে। ইউনুস (বাদল) সাহেব পুরো টাইলস দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে তাঁর অনুদান শতকোটি টাকা ছাড়াবে।’
      তবে মো. ইউনুস (বাদল) দাবি করেন, ‘সর্বোচ্চ আড়াই কোটি টাকা দিয়েছেন। সিবিএ সভাপতি সব সময় একটু বাড়িয়ে বলেন।’
      কেবল সিবিএ নেতাই নন, মো. ইউনুসের ঋণের বিষয়ে তদবির করে প্রথম আলোর প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন যুবলীগ নেতা, কমিশনার, একাধিক ব্যাংকার, এমনকি সাংবাদিকও।
      বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে বলেন, একটি ব্যাংক কীভাবে পারল একজনকে ৫ হাজার কোটি টাকা দিতে। নিশ্চয়ই বড় কেউ রয়েছে এর পেছনে। এটার পেছনে কারা, তা খুঁজে বের করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তাই ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও দুদককে এ ক্ষেত্রে সক্রিয় হতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন কার্যক্রম আরও জোরালো করার সময় এসেছে।

      http://www.prothomalo.com/economy/article/1424536/%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%95-%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%8B%E0%A6%A3%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AE-%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF

      1. 17.1.1
        মজলুম

        এদের কিছু হবেনা ভাই, গডমাদার আছেনা উনাদের সুরক্ষার জন্যে। গোঁড়ায় হাত না দিয়ে শাখা প্রশাখার বিরুদ্বে কিছু বলেও লাভ হবেনা। 

  18. 18
    মোঃ তাজুল ইসলাম

      ‘একনায়কতান্ত্রিক’ দেশের তালিকায় ঢুকল বাংলাদেশ

    আমরা জনগণ অসহায়, খুবই অসহায়।  দেশ স্বল্প উন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় আতশবাজি চলছে। দেশের মানুষ কি শোচনীয় জীবন নির্বাহ করছে সে সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই, এই সকল রাজনীতিবিদদের। 

    আমরা উন্নয়নশীল দেশ হতে পারি কয়েকবছর পর। জাতিসংঘ আমাদের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। আর এখনই আতশবাজি বাজিয়ে সেলিব্রেশন করা শুধু অসুস্থতাই প্রকাশ করে। আজব দেশ, আর আজব দেশের রাজনীতি।

  19. 19
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ১ ৯ ব্যাংক মূলধনও খেয়ে ফেলেছে  

    ২ ঋণখেলাপিরা কানাডা যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি দিচ্ছেন এই দেশটা কি মগের মুল্লুক? ক্ষমতাধর যে যেভাবে পারে ফ্রি ষ্টাইলে দেশের ব্যাংগুলোকে ইচ্ছামত যতবার মন চায় ততবার ধর্ষন করবে? আর ব্যাংকের কর্তারা ব্যাংকগুলোকে শিকল দিয়ে বেঁধে ধর্ষণ করার রাস্তা তৈরি করে দিবে? দেশে কি আইন-কানুন কিছু নাই? দেশের পুলিশ-র‍্যাব কি এই ব্যাংক ডাকাত গুলাকে দেখতে পায় না? দেশের সরকার প্রেসিডেন্ট, প্রধান মন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রী, আইন মন্ত্রী…… সব কি হাসপাতালে অজ্ঞান অবস্থায় আছে? দুদক কি HIV ভাইরাসে আক্রান্ত হইয়া বেহুশ হইয়া আছে? মন-ডা চায় অনেক কিছু কইতে… কিন্তু কারে কি কমু? পিতা আর ঘোষক-রে মাটির তলে গিয়া কানে কানে কই, "তোমারা এমন কিছু ক্ষুধার্ত হায়েনা তৈরি করেছ যারা দেশব্যাপী ধর্ষণ করতে করতে নিজের মা-দাদী-নানী-কেও বাদ দেয় নাই"।  

     

    ৩. ঋণের নামে ২ লাখ কোটি টাকা লুটেছে আ.লীগ নেতারা। লিংক এখানে।

  20. 20
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ১।  বাংলাদেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর হেফাজতে মৃত্যু, কিছু প্রশ্ন ও বাহিনীর দায়বদ্ধতা  

    ২। কেন বিলম্বিত হচ্ছে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত?  

    ৩।  মেয়ের শ্লীলতাহানি, মা-বাবাকে লাঠিপেটা

        আদালত চত্বরে পুলিশি নিষ্ঠুরতা  

    ৪। বাংলাদেশে পুলিশ সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত: টিআইবি  

    ৫। দুর্নীতির শীর্ষে পাসপোর্ট ও পুলিশ  

    ৬। পুলিশে দুর্নীতি বাড়ছে, কমছে সেবার মান  

    ৭।  ‘নোংরা রাজনীতি, স্বার্থ আর লোভই দুর্নীতির কারণ'  

    ৮। বাংলাদেশ: দূর্নীতি প্রতিরোধে ভূমির তথ্যাদি ডিজিটাল করা হচ্ছে  

    ৯। বাংলাদেশে এত দুর্নীতি কেন? কারা দুর্নীতির সাথে জড়িত?  

    ১০। পুলিশের দূর্নীতি ও চাঁদাবাজি  

    ১১। আমলে নেয়া হচ্ছে না পুলিশ নিয়োগে ঘুষ কেলেংকারির অভিযোগ  

    ১২। জনগণের রক্ষক থেকে ভক্ষক! পুলিশের সেকাল একাল, ভালো থেকে মন্দ  

    ১৩।  অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের প্রধান অন্তরায় দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা

    ১৪। পুলিশ, ডাক্তার, সেনা, শিক্ষা ও কিছু টাকা পয়সার হিসাব-কিতাব  

    ১৫। পুলিশ জনগণের বন্ধু নাকি শত্রু?  

    ১৬। রাজনৈতিক দল ও পুলিশ দুর্নীতির শীর্ষে    

  21. 21
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ১। তাহলে-বন্ধই-হোক-বাংলাদেশ-ব্যাংক    

    ২। সত্যিই-সেলুকাস-এ-এক-অদ্ভুত-উন্নয়নের-দেশ    

    ৩। উন্নয়ন-দুর্নীতি-ও-জিডিপি-একসঙ্গে-বাড়ার-রহস্য      

    ৪। ‘সরকারের মাল, দরিয়ায় ঢাল’

    ৫। ব্যাংক খাতে রেকর্ড ৮৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ

  22. 22
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    উন্নত দেশগুলোতে মা-বাবার বিকল্প হিসেবে পুলিশের ভুমিকা। সেই সব দেশে মানুষ যে কোন সমস্যা উপনীত হলেই পুলিশের সাহায্য নেয়। দেশ ও জাতির শান্তি রক্ষায় পুলিশ বাহিনীকে জনগণের টাকা দিয়ে তাদের লালন পালন করা হয়। পুলিশ বাহিনী উন্নত দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে আত্মনিবেদন করলেও আমাদের দেশে ঠিক উল্টোটা। এই দেশে পুলিশ মানেই একটা আতঙ্ক। এই দেশে চোর-ডাকাতদেরও দয়া-মায়া থাকে কিন্তু পুলিশের তা নেই।  বিরাট অঙ্কের ঘুষের মাধ্যমে চাকরী নেয়, নিজেদের পদন্নোতি করে। পুলিশের চাকরীটাই হল একটা টাকা আয়ের খনি। নিরীহ মানুষদের হয়রানী, চাঁদাবাজি, মিথ্যা মাদকের মামলা, জনগণের দূর্বলতা… খোঁজে বের করে ধান্ধাবাজী। পুলিশের আচরণ, কথাবার্তার ধরণ উচ্ছৃঙ্খলতা আর বদমেজাজী ছাড়া আর কিছু নয়। মাদক একটা জাতিকে সহজেই ধ্বংস করে দেয়। সেই মাদকের ব্যবসা পুলিশ নিজেরাই করছে এবং দেশব্যপী ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই দেশকে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার নামে ধ্বংস করে যাচ্ছে। এত ইয়াবা আসতেছে অথচ বিডিআর দের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। আইনের শাসন যদি প্রতিষ্ঠিত থাকত তাহলে অনেক আগেই তা বন্ধ থাকত।     

    ক্ষমতার গদিতে যে সকল রাজনৈতিক দল আসে, তারা তাদের নিজেদের স্বার্থে পুলিশদের ব্যবহার করে। ফলে, পুলিশ ক্ষমতাশীনদের খুশী করে আর সাথে নিজেরাও দূর্নীতি, ধান্ধাবাজী সহ সকল উচ্ছৃঙ্খল কাজে যুক্ত হয়। সব চোর এক দলবদ্ধ। দেশ ও দেশের মানুষের ভূগান্তি ও হয়রানী বেড়েই চলছে। হায়রে দেশপ্রেম!!!  

    ১০ লাখ ইয়াবা বড়ি বেচে দিয়েও বহাল ১২ পুলিশ  

  23. 23
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    এই দেশের তরুন ও তরুনীরা জানে কিভাবে পতন ঘটাতে হয় আর ইহা এক আশার আলো ভবিষ্যৎ এই দেশের জন্য । বানিজ্য মন্ত্রীর আইন ভাঙ্গা এবং আটকানো লাইসেন্স বিহীন পুলিশদের গাড়ি চালানোর ইস্যু নিয়ে থাপ্পর মারা উচিত ছিল আর তাতে জাতির চেতনাবোধের বুনিয়াদ শক্ত হত। সময় ও সুযোগ সব সময় আসে না। রাজনীতিবিদদের এবং পুলিশ বাহিনীকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত তারা জনগণের দাস। প্রভুত্ব ভাব বন্ধ হওয়া জরুরী আরো স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত এই দেশ গণতন্ত্রের দেশ  যা নির্বাচনের পর রাজনীতিবিদরা এবং জয়েন করার পর পুলিশ ভুলে যায়।

    এই ছোট ছোট অবুঝ বাচ্চারা যখন আবিচার বিরুদ্ধে দাঁড়ায় তাতে জাতির কলঙ্কই বড় ও স্পষ্ট হয়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.