একটি অবুঝ শিশুর প্রতি যদি আপনি আড়াল থেকে একটি ঢিল ছুঁড়েন, কিংবা তাকে লুকিয়ে সামান্য খোঁচা দেন, তবে সে অপ্রস্তুত হয়েই বলে উঠবে, কে রে? কে মারলো রে?
তাহলে একটি শিশুও বোঝে যে, কেউ ঢিল না ছুঁড়লে সেটি এমনি এমনি তার গায়ে এসে পড়তো না। কেউ খোঁচা না দিলে তার খোঁচা খাওয়ার কোনো কথা ছিল না। অথচ জগতের বুড়ো বুড়ো নাস্তিকগুলো কীভাবে বলে ফেলে, এই বিশাল মহাবিশ্ব ও তার মাঝের সবকিছু কোনো স্রষ্টা ছাড়া এমনি এমনি সৃষ্টি হয়ে গেছে। কী অদ্ভূত!
আশ্চর্য হলেও সত্য, পৃথিবীর অতীত ও বর্তমান ইতিহাসের নাস্তিকদের প্রতি তাকালে দেখা যায় তাদের অধিকাংশই ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞান, মনীষা, প্রচুর ধীশক্তি আর মেধার অধিকারী। একইভাবে বর্তমানের অধিকাংশ নাস্তিকই পৃথিবীর নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বড় বড় ডিগ্রিধারী। অথচ এর বিপরীতে বাহ্যিক অক্ষর-জ্ঞানহীন ও হাবা-গোবা মানুষ নাস্তিক হয়েছে এ রকম উদাহরণ খুব বেশি পাওয়া যাবে না।
তাহলে এর কী? সম্ভবত এ কারণেই বিখ্যাত মুসলিম মনীষী আল্লামা যাহাবী র. তাঁর ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে লিখেছেন, 'ঈমানশূন্য মেধার ওপর আল্লাহ তাআলার অভিসপ্তাত বর্ষিত হয়। আর মেধাশূন্য খোদাভীরুর ওপর আল্লাহ তাআলার সন্তোষ নাযিল হয়।'
একবার মরু আরবের এক অশিক্ষিত বেদুঈনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এই পৃথিবীর একজন যে স্রষ্টা আছে সেটা তোমার কীভাবে বিশ্বাস হয়? সে জবাব দিয়েছিল, উটের মল দেখে যদি উটের অস্তিত্ব বোঝা যায়, ছাগলের বিষ্ঠা দেখে যদি ছাগলের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়, রাস্তায় পায়ের ছাপ দেখে যদি মানুষের গমনাগমন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়, তবে এই বিশাল আকাশমণ্ডলী আর পাহাড়সম ঢেউবিশিষ্ট সাগর দেখে কি এগুলোর সৃষ্টিকর্তাকে জানা যায় না?
বস্তুত এটার নামই মেধা, বুদ্ধি ও বিবেক। যে জ্ঞান মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে সেটা কখনোই জ্ঞান হতে পারে না। এমন জ্ঞান অর্জনকারীকে জ্ঞানী না বলে জ্ঞানপাপী বলাই যথাযথ। বিখ্যাত লেখক ইবনে রাওয়ান্দী এর কথাই ধরুন। প্রচুর জ্ঞান-বিজ্ঞান আর মনীষার বলে আজও যিনি পৃথিবীর ইতিহাসের পৃষ্ঠায় বেঁচে আছেন। কিন্তু তার জ্ঞান তাকে পদস্খলন ছাড়া আর কী দিতে পেরেছে? সুবিধাবাদীদের জগতে কোনো লিস্ট থাকলে সেখানে তার স্থান হতো বোধহয় প্রথম পাঁচের মধ্যেই। প্রথমে ছিলেন ভ্রান্ত মুতাযিলা গ্রুপের বড় লিডার। কিছুদিন পরে সুযোগ বুঝে ঢুকে পড়েন শিয়াদের দলে। এরপর শেষ পর্যন্ত তার নাম ওঠে নাস্তিকদের খাতায়।
এই দেখুন মিশরের একসময়ের খ্যাতনামা মুসলিম লেখক ইসমাঈল আদহামকে। রাশিয়ার মস্কো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সায়েন্স এর ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণিতের অধ্যাপনা করেছেন। কিন্তু এগুলো কী দিয়েছে তাকে? এক পর্যায়ে নিজেকে খোলাখুলি নাস্তিক ঘোষণা দিয়ে নাস্তিকদের পক্ষে লেখালেখি শুরু করেন। কিন্তু অভিসপ্তাত তাকে ছাড়েনি। জীবনের ঊনচল্লিশটি বছর পার হতে না হতেই একদিন ভূমধ্যসাগরে তার লাশ ভাসতে দেখা গেলো। পুলিশ তদন্ত করে তার জামার ভেতরে একটি চিরকুট খুঁজে পেলো। যাতে লেখা ছিল, জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে আর সহ্য করতে পারছিলাম না আমি। আর তাই শেষমেশ এপথ বেছে নিলাম!
মুক্তির কী অভিনব পন্থা তাই না? নাস্তিক্যবাদ যদি মানুষকে এতটা সুখ দিতে পারে তবে তার মতো এতবড় একজন জ্ঞানী মানুষ কীভাবে আত্মহত্যা করলেন? এ কারণেই বলতে ইচ্ছে হয়, যে ব্যক্তি নিজেকে ও নিজের দেহের ভেতরের আত্মাকে চিনতে না পারে, সে অদৃশ্য স্রষ্টাকে কী করে চিনবে? এসব মানুষদের চেয়ে সেই মরু আরবের মূর্খ বেদুঈনটি কোন্ দিক দিয়ে খারাপ? তাই এসব মানুষকে জ্ঞানী না বলে ‘জ্ঞানপাপী’ বলাটাই অধিক যুক্তিযুক্ত। এসব বুড়োগুলো অবুঝ ছোট্ট শিশুর চেয়েও নিম্নতর বুদ্ধি ও বিবেকের অধিকারী।

এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ৩০, ২০১৪ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার লেখাগুলো ভালো হচ্ছে। তবে একটি সাজেশন-
এত দ্রুত পোস্ট না দিয়ে একটু ধীরেসুস্থে এগোন। গ্যাপ না দিয়ে একজন লেখক একের পর এক পোস্ট দিতে থাকলে পাঠকরা বিরক্ত হতে পারে। খারাপও দেখায়। লেখা তৈরী করে রেখে দেন। মাঝে মাঝে রিভিশন দেন। তারপর সময় ও সুযোগমতো পোস্ট দেন। তাতে পাঠক আগ্রহসহকারে আপনার লেখা পড়বে ও মন্তব্য করতে পারবে।
মীযান হারুন
এপ্রিল ৩০, ২০১৪ at ৬:৩৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
রায়হান ভাই। অন্তরের গভীর থেকে আপনার প্রতি রইলো অভিনন্দন ও শ্রদ্ধা। আসলে বিষয়টির প্রতি আমার মনোযোগ দেয়া হয়নি। এমনিতেই পরীক্ষার পর কিছুটা ফ্রি সময় কাটাচ্ছিলাম। আর তাই অনলাইনে বেশি সময় দিতে পারছিলাম। যাইহোক, একজন লেখককে সবদিক চিন্তা-ভাবনা করেই লিখতে হবে। সুন্দর পরামর্শের জন্য আবারও মুবারকবাদ।
মে ১, ২০১৪ at ১২:২৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ব্যাপারটা বুঝতে পারার জন্য ধন্যবাদ। লক্ষ্য রাখবেন আপনার দুটি পোস্টের মাঝে অন্যান্য লেখকের নিদেনপক্ষে তিন-চারটি পোস্ট কিংবা তিন-চার দিন গ্যাপ যেন থাকে।
Tutul
আগস্ট ২৯, ২০১৫ at ১১:১১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি মুক্তমনা লেখাগুলো পরি। তারা নিজে নিজে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলে নিজেই খুশি হয়ে দেশজয় করে।সদালাপ দের কাউকে দেখি না সেখানে ।।সেখানে আপনার মত জ্ঞানীদের ইসলাম দিয়ে তাদের মুল্যহীন ধারনাকে নিস্তেস করার জন্য অনুরোধ করছি।।।।