আমরা যদি আমাদের চিন্তাভাবনাকে প্রচলিত তথাকথিত মুল ধারার চিন্তা চেতনায় ভাসিয়ে দেই তাহলে কখনই আশা করতে পারিনা আমরা মুসলিম হিসাবে মরতে পারব। অবশ্য যারা মুসলিম হিসাবে মরার কোন গুরুত্ব আছে বলে বিশ্বাস করেন না তাদের কথা আলাদা এবং তাদের জন্য এ লিখা নয়। কথা হচ্ছে যে সব মুসলিম অভিভাবক মনে করেন তাদের ছেলেমেয়েরা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় লিখা পড়া করবে এবং তথাকথিত মূল মূলধারার (main stream)মিডিয়ার প্রচারিত অপরিশুদ্ধ আখ্যান বা কাহিনী (Narrative) শুনবে আর তা গলাধ:করণ করবে তার পরেও তারা ইসলামের পথে আল্লাহ ও রসুলের প্রতি অবিচল বিশ্বাসে নিবেদিত প্রাণের একজন বিশ্বাসী হতে পারবে তথা আদর্শ জীবন যাপন করতে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আশা করেন তারা আসলে বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। প্রজন্মের কথা বাদ দিয়ে নিজের কথাই চিন্তা করে দেখেন আমরা কতটা সঠিক পথে আছি? শয়তান ও দাজ্জালি সভ্যতার ধূম্রজাল থেকে বাহির হয়ে স্বচ্ছ ও সুস্থ চিন্তা ভাবনা করা থেকে আজ অনেক দূরে চলে এসেছি। একজন ঈমানদার ব্যক্তির জন্য এটাই হচ্ছে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রশ্ন হচ্ছে এর সমাধান কি?
সমাধান অবশ্যই আছে তবে তা গ্রহণ করার মত মানসিকতা বা মাইন্ড সেট আগে গড়তে হবে বিশ্বাসীকে। এর প্রথম সোপান হচ্ছে আমাদের মনের ভয় ভীতিকে দূর করতে হবে। একজন মুমিনের মনে ভয় জাগায় তার সব চেয়ে বড় শত্রু শয়তান। মানুষকে সমাজে ভাল কাজ করা থেকে বিরত রাখতে শয়তান তার বন্ধুদের ভয় দেখায়। শয়তানের বন্ধু কারা? শয়তানের বন্ধু হচ্ছে চোর, ডাকাত,অপরাধী এবং সমাজে ক্ষমতা লোভী অত্যাচারী, স্বৈরাচারী শাসক, সন্ত্রাসী মাফিয়া ও ফ্যসিষ্ট সহ মানবতা বিরোধী ও ইসলাম বিদ্বেষী ইত্যাদি যাবতীয় অপরাধী গুষ্টি। এবার দেখা যাক পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক এই ভয়ের ব্যাপারে মুমিনদেরকে কি বলেন? সুরা ইমরানের ১৭৫ আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন,
"এরাই হল শয়তান, এরা তোমাদেরকে তাদের বন্ধুদের ভয় দেখায়। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না।, তোমরা যদি মু'মিন হও তবে ভয় কর আমাকে ।"
ইসলামী স্কলারদের মতে কোরআনের কোন আয়াত নাজিল হওয়ার কারণ জানতে হলে সে সময়ের প্রেক্ষাপট বা শানে নাজুল (context) বুঝতে হবে এবং তা থেকে বর্তমানে আমাদের কি শিক্ষা নেয়া যায় তা দেখতে হবে। আমি মনে করি আজ বাংলাদেশের যে অবস্থা তার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তায়ালার এ পবিত্র কালামের সত্যতা উপলব্ধি করা এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করাটাই হচ্ছে মুসলিমদের পক্ষে সামনে চলার প্রথম ধাপ। তবে এর অর্থ এ নয় যে বোকার মত যে কোন সময় যেখানে সেখানে ঝাপ দিতে হবে এই বলে যে আমরা শুধু আল্লাহকে ভয় করি। সঠিক সময় ও সঠিক প্রস্তুতি দরকার সব কিছুতে।
দ্বিতীয়ত আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য সঠিক ইতিহাস চর্চা করতে হবে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলাম জানা সম্ভব নয়। আধুনিক শিক্ষার সাথে ইসলাম সম্পর্কে নিজের প্রচেষ্টায় নির্ভরযোগ্য সূত্রের বই পুস্তক থেকে লেখা পড়া করে জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং তা প্রজন্মের কাছে পৌছাতে হবে।
তৃতীয়ত, মিডিয়াতে মুসলিমদেরকে ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। মনে রাখতে হবে ইসলামের প্রতি বর্তমান বিশ্ব মিডিয়ার কোন আগ্রহ থাকার কথা নয় । কারণ এ সব মিডিয়া পরিচালিত হয় খোদা বিমুখ সেকুলার জড়বাদী সভ্যতার মুনাফা আসক্ত পুঁজিবাদী গুষ্টি দিয়ে। তারা বরং ইসলামের বিরুদ্ধে আতঙ্ক ছড়ায়ে মুনাফা লুটতে আগ্রহী। সুযোগ পেলেই মিডিয়া কিভাবে মানুষের মনকে মুসলিমদের প্রতি বিষাক্ত করতে চায় তার এক ছোট উদাহরণ দিয়েছিলেন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মেহদী হাসান। বিবিসির এক টকশোতে তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল Are we soft on Muslims? উত্তর শুনতে এ ভিডিও লিংকটিতে যেতে পারেন।
চতুর্থত: মুসলিমদেরকে শুধু প্রতিক্রিয়াশীল হওয়া অর্থাৎ কিছু একটা ঘটলে তখনই কেবল প্রতিবাদ মুখর হওয়ার অপেক্ষা না করে এরকম অবস্থা যাতে সৃষ্টি হতে না পারে সে ভূমিকা রাখতে হবে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বলতে গেলে বলা যায় সে দিন দেখলাম বাংলাদেশের বতর্মান ক্ষমতাসীন দলের এক এমপি দুটি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়ায় হুজুররা প্রতিবাদ করতে মাঠে নেমেছেন। চট্টগ্রামে মাদ্রাসা ছাত্রদের বিরাট জলসায় প্রধান বক্তা বলছেন "আমরা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামাইতে চাই না কাউকে বসাইতেও চাই না …" কি সুন্দর কথা! কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে ক্ষমতায় যারা আছে তাদেরকে হেদায়েত করতে চাই এ কথা বললে অসুবিধা কোথায়? তারা কি এটা বুঝেন না যে যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের মনে ইসলামের প্রতি তেমন আন্তরিকতা নাই বলেই তো এরকম ঘটনার জন্ম হচ্ছে। মাদ্রাসা মসজিদকে সন্ত্রাসীর আখড়া বলে প্রচার করানো হচ্ছে। অবশ্য অনেকে বলেন মাঝে মাঝে হুজুরদেরকে উত্তেজিত করে রাস্তায় নামায়ে ক্ষমতাসীন মহল তাদের অগণতান্ত্রিক আচরণ ও প্রশাসনিক দুর্নীতির পক্ষে কাদের অনুকম্পা পেতে চান তা বুঝতে না পারা বোকামী।
ধর্মের নামে বাংলাদেশে অনেক কুসংস্কার যে নাই তা অস্বীকার করা যায় না এবং এ সব নির্মূল করার প্রয়োজন আছে তবে তাই বলে বাংলাদেশ থেকে ইসলামী আদর্শকেই যারা বিসর্জন দিতে চায় তথাকথিত আধুনিকতার নামে তাদেরকে সমর্থন করা যায় না। শীতকালে আমাদের দেশে খোলা মাঠে ওয়াজ মহফিলের রেওয়াজ অনেক বছর থেকেই চলে আসছে কিন্তু এ ঐতিহ্যকে কিছু সংখ্যক পেশাদার কাওমি মাদ্রাসার ওয়াজিদেরকে দিয়ে যারা অপব্যবহার করে যাচ্ছেন তাদের কারনে অনেকের কাছেই আজকাল এসব ওয়াজের আবেদন হারাচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় সারা রাত মাইকের আওয়াজে পার্শ্ববর্তী বাড়ি ঘরের বাসিন্দাদের বিশেষ করে রুগী ও শিশু সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের রাতের নিদ্রার যে ব্যাঘাত ঘটান হচ্ছে সে খেয়াল নাই! আমি মনে করি রাত ১১টার পর কোথায়ও খোলা মাঠে এভাবে মাইকে উচু আওয়াজে ওয়াজ করার অনুমতি দেয়া বন্ধ করা উচিৎ । তাছাড়া অধিকাংশ সময় এসব ওয়াজে পুরাতন কিচ্ছা কাহিনী ও গতানুগতিক কথাবার্তা ছাড়া সত্যিকার অর্থে বর্তমান যুগের প্রেক্ষাপটে সমাজ সংস্কারের কোন অর্থপূর্ণ বা গুরুত্বপুর্ন কথাবার্তা থাকে না। যার ফলে সাধারন মানুষের কাছ থেকে ইসলামের আবেদন চলে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে ইসলাম বিদ্ধেষী মহল সাহস পায় তাদের বিরক্তি প্রকাশ করে অশোভন মন্তব্য করতে!
দেশে প্রকাশিত পত্রপত্রিকা ও সামাজিক মিডিয়ার তথ্যে প্রকাশ সম্প্রতি তথাকথিত মুসলিম নামধারী এরকম কিছু ব্যক্তি যারা সরকারি মহলের দায়িত্বশীল পদে থেকেও বিভিন্ন সভা সমিতিতে তাদের প্রদত্ত বক্তব্যে তাদের মানসিকতা যে কি পর্যায়ে অধঃ:পতিত হয়েছে ইসলাম সম্পর্কে তা প্রকাশ করতে সাহস পেয়েছেন। তার কিছু নমুনা নিচে দেখুন।
(১) মসজিদের মাইকে উচ্চ শব্দে আজান দিয়ে শব্দ দূষণ করা হচ্ছে : ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমীমা হোসেন
তাসমীমা হোসেন বলেন, ফার্মগেটে একটি পার্ক দখল করে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে শহরের মধ্যে যেকোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল, তাবলীগ বন্ধ করা উচিত। মসজিদ থেকে মাইকে উচ্চ শব্দে আজান দিয়ে শব্দ দূষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যাদের আজান শোনা দরকার তারা প্রয়োজনে মসজিদের সাথে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে নিজেদের কানে লাগিয়ে শুনতে পারে। ( মেয়র আনিসুল ও সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময় কালে )
(২) বাংলাদেশে হিজাব তাণ্ডব চলছে — লুতফুন নাহার লতা
(৩) মাদ্রাসা ছাত্ররা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না: নৌ-পরিবহন মন্ত্রী — শাজাহান।(৪) প্রতিটা এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মত কওমি মাদ্রাসা যেগুলো গড়ে উঠেছে, মাদ্রাসা থেকে ট্রেনিং ক্যাম্প আবিষ্কার হচ্ছে। যেখানে অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে। এ সমস্ত মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে জঙ্গিদের আস্তানা কোনগুলো সেগুলো আপনাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে-খাদ্য মন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম।
আজকের বিশ্ব ব্যবস্থার বাস্তবতা হল এখানে মানুষ ধর্মের মহান আদর্শকে ত্যাগ করে নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ ও সম্পদ বাড়ানোর নেশায় মত্ত। কেউ যদি উপর থেকে আজকের বড় বড় শহরের দিকে তাকায় তখন মনে হবে এ মানুষেরা যেন ইঁদুরের দৌড়ে ব্যস্ত। সর্বত্র চাচা আপনা প্রাণ বাঁচা। আর বাংলাদেশের দিকে লক্ষ্য করলে অবস্থা তো আরো সূচনীয়! এখানে চলছে মিথ্যাচার, প্রতারণা, জুডিশিয়্যাল কিলিং ,ক্ষমতার দাপটে অন্যের অধিকার হরণ ইত্যাদি যেন নিত্য দিনের খেলা।
এ সব কথা কেন বলছি কারণ ইসলামের গুরুত্ব মুসলিম সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হলে সে সমাজের রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় যারা থাকবেন তাদের চিন্তা চেতনায় ইসলামী আদর্শের বহি:প্রকাশ যে একটি বিরাট ভুমিকা রাখে এই কথাটা বুঝতে হবে। এখানে অনেকে বলতে পারেন রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে ইসলামের পক্ষে কথা বলা বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ বিরুধী। কিন্তু প্রশ্ন হল যদি তাই হয় তাহলে ধর্ম বিরুধী কথাবর্তা বলার অধিকার তাদেরকে কে দিল?
"আমরা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামাইতে চাই না কাউকে বসাইতেও চাই না ." এ সব কথার কোন অর্থ হয়না। বরং বলতে হবে আমরা ন্যায় ও নিষ্ঠাবান এবং দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বকে ক্ষমতায় দেখতে চাই। অতএব ক্ষমতায় যারা আছেন তাদেরকে হেদায়ত করতে এগিয়ে আসতে হবে, ব্লেমগেইম থেকে বের হয়ে চলে আসতে বলতে হবে। প্রয়োজনে তাদের অপরাধের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে।
( এ লিখাটির কিছু কথা অন্য আরেকটি ব্লগ সাইটে লিখেছিলাম। সদালাপের পাঠকের খেদমতে এখানে তা সংযোজিত করলাম্।)

shahriar
জানুয়ারি ২৫, ২০১৬ at ৩:১০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Jajak-allah.
মহিউদ্দিন
জানুয়ারি ২৬, ২০১৬ at ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ।
মাহফুজ
জানুয়ারি ২৫, ২০১৬ at ৮:৩৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
(৩:১৭৫) এই তো সেই শয়তান, তোমাদেরকে শুধু তার রক্ষক/ অভিভাবক/ সহযোগী/ সহচরদের ভয় দেখায়। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না। তোমরা যদি মু'মিন হও তবে ভয় কর আমাকেই।
———————
আল্লাহতায়ালাকেই ভয় করতে হবে এবং শয়তান ও তার রক্ষক/ অভিভাবক/ সহযোগী/ সহচরদের ভয় ও আনুগত্য ছেড়ে সরল ও মধ্যমপন্থায় দ্বীন পালন করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যেতে হবে।
জানুয়ারি ২৬, ২০১৬ at ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ
কিংশুক
জানুয়ারি ২৬, ২০১৬ at ৭:২২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সেকুলারিজম এর সাথে ইসলাম খাপ খায়না। সেকুলারিজম মানেই বস্তু জগত , পৃথিবী আসল লক্ষ্য । আর ইসলাম মানেই আসল লক্ষ্য জান্নাত। এর জন্য দুনিয়ার অনেক আরাম আয়েস, লোভের হাতছানি ত্যাগ করতে হবে। দুনিয়ার 16 আনার জায়গায় 32 আনা চাইতে গিয়ে আপাতঃ দৃষ্টিতে সফল অনেক সেকুলার চারদিকে দেখি যারা পরহেজগার "মৌলবাদী" মুসলমানদের গালি দিয়ে নিজেদেরকে সঠিক মুসলমান ভাবে!! এই কঠিন পরীক্ষার যুগে ঈমাণ নিয়ে মরতে হলে বোধহয় সমাজচ্যুত হয়ে মৌলবাদী মুসলমানের আলাদা সমাজ করে বাঁচতে হবে। সেকুলার থেকে হয় মানবধর্মী, তা থেকে অজ্ঞেয়বাদী, তা থেকে নাস্তিক । নিজেকে ও পরিবারকে জাহান্নাম থেকে বাচাতে হলে বিশেষ ভাবে ধর্মীয় শিক্ষা, আচার ব্যবহার, উঠাবসা শিখাতে হবে। সকল প্রকার উগ্র সেকুলারদের ত্যাগ করতে হবে। ওরা বিধর্মীদের বেশী খুশী করতে গিয়ে ইসলাম থেকে দুরে থাকার শিক্ষা দেয়। নাচ গান সংস্কৃতির নামে জিনার পরিবেশে ঠেলে দিয়ে ইসলাম ঠেকায়!! মরার পরে এধরনের মুসলমান নামধারীরা হাশরের মাঠে মুনাফেক-কাফেরদের সারিতে নিজেদের উঠতে দেখলেই বুজবে তথাকথিত "মৌলবাদীরা" কত বোকা ছিল!
মহিউদ্দিন
জানুয়ারি ২৬, ২০১৬ at ১০:১১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
তবে সমস্যা হচ্ছে ইসলামে বিশ্বাসী অনেক আছেন যারা সেকুলারিজমকে ভাল মনে করেন! আবার মুসলিম সমাজের মুনাফিকেরাও এটাকে দিয়ে সমাজ থেকে ইসলামকে বিদায় দিতে চায়। আসলে মুসলিম দেশে মুসলিম নির্যাতনের আধুনিক হাতিয়ার হচ্ছে সেক্যুলারিজম। সেক্যুলার কথাটির বাংলা তরজমা জোর করে করা হয় ধর্মনিরপেক্ষতা। সেক্যুলার শব্দটির মর্ম ও ভাব কি আসলে এতটুকুই? দেশ ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটে শব্দটির প্রয়োগ ও মর্ম খুঁজে দেখলে অনুমিত হয় যে, সেক্যুলার অর্থ ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, ধর্মহীনতা।
এ ব্যপারে সদালাপে অনেক আগে লিখেছিলাম বিস্তারিত এখানে পড়তে পারেন।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
জানুয়ারি ২৬, ২০১৬ at ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শিরোনামের সাথে একমত। আর বিশেষ করে মাইকের ব্যবহার করে শব্দ দূষন তৈরী না করা বিষয়ে সামাজিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে বাংলাদেশের সকল সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি অনুরোধ থাকলো। ওয়াজ করার জন্যে মাইকের ব্যবহার বন্ধ করার বিষয়ে আলেম সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে -- সেইটাই হবে দায়িত্বশীলতা।
ধন্যবাদ।
মহিউদ্দিন
জানুয়ারি ২৬, ২০১৬ at ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
এম_আহমদ
জানুয়ারি ৩০, ২০১৬ at ৭:০৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সুন্দর বলেছেন। কিন্তু শয়তান মানুষকে যখন ইসলামের নামে এমন বঙ্গাল-পৌত্তলিক করে নেয় যখন কেউ “বঙ্গালবাদী” হয়ে ক্রাইম করলে তার মুখে “মেড়া-পিটা” দিয়ে মামদু-ভুতের ছানার মত আচরণ করবে। বঙ্গসন্ত্রাস তার চোখ এড়িয়ে যাবে, কেননা এমন কাজ তারও চরিত্রগত হয়ে থাকতে পারে; সে বঙ্গালের ধর্ষণ দেখবে না, এ নিয়ে প্রতিবাদ করবে না; নারী ব্যবসা ও পাচার দেখবে না, সে ব্যাঙ্কলুট দেখবে না, কথা বলবে না, জাতীয় সম্পদের হরিলুট দেখবে, কথা বলবে না; বঙ্গাল-সন্ত্রাসী ক্রাইম করে অপরের নামে চাপানো মুহুর্ত্তে ধরা পড়ার মত চাক্ষুষ দলিলও দেখবে না; হিন্দু-বাড়িঘর পুড়ানোর চাক্ষুষ দলিল দেখবে না; বিচার চাইবে না; উলটো বলবে এমন কাজ বিএনপিজামাতের সময় হয়েছিল, কিন্তু এতে যে মস্তিষ্ক্যশুন্যতা ও গোয়ার্তমি প্রকাশ পায় তা তার ঘিলুতে ঢুকবে না; বরং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কে পক্ষে ছিল আর কে বিপক্ষে এটাই হবে তার জীবনের সঙ্গীত; শয়তান হয়ত ইসলামী রঙে মাথায় হাত দিয়ে জালিমের বিপক্ষে জুলুমের বিচাররের 'সংগীত’ তুলে নিজ রাজনৈতিক দুশমনকে জুলুমের শিকার করে হত্যাতেই ব্রাহ্মণ্য-পৈতায় “পবিত্রতা” খোঁজবে; শয়তান কুরুক্ষেত্রের “অপরাধের” বিচার কুরুনির্মুল (নামটাই যে ‘ফ্যাসিস্ট’, শয়তানী, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না) বানিয়ে, ‘কুরুনির্মুল কেঙ্গারুকোর্টের’ রায় দেয়া বিচারকদের পুনরায় বিচারের আসনে বসিয়ে, কুরুজাতির কোটি কোটি টাকা তাসাররুখ করে, বিশ্ব প্রতিবাদের মুখে, নিজেদের দুশমনদের ফাঁসী দিয়ে ‘বঙ্গালবাদী-ক্রাইমমুক্ত’ সমাজের মিথ্যাচার করবে; অথচ তার পৌত্তলিক-চোখের সামনে থাকবে ধর্ষণ, লুট, হত্যা, গুম, চুরি, ঘোষ, নির্যাতন কিন্তু তবুও তসবিহ হাতে তার মুখে থাকবে হেকাত্তরের ডিজিটেলে প্রাপ্ত ৩০ লক্ষ আর সাড়ে লক্ষের মিথ্যাচার, অধিকন্তু হবুচন্দ্রের সন্ত্রাসী আইনে বাকরুদ্ধ করার হুমকি-ধমকি!
এক কাজ করেন ভাই, কওমি আলেমদের কথা বাদ দেন। এদের হাতে বঙ্গাল-মুল্লুকে কোন ক্ষতি হচ্ছে না। ক্ষতি যারা করছে তারা হচ্ছে উপরে অঙ্কিত সমাজ ও শ্রেণী। মনে রাখা দরকার এই দেশ তাদেরও। তারা কারও পৈত্রিক ভিটায় রায়ত নয়। তাদের বিপক্ষে যারা অন্যায়ভাবে কথা বলেন, তাদের কেউ নিজেদেরকে জ্ঞানের জাহাজ মনে করে থাকলে সেটা ভুল। ওরাও পাঁচ আঙ্গুল দিয়ে ভাত খায়। সমাজে কি হচ্ছে, কী না, সেটা বুঝার জন্য তাদেরকে ‘বিজ্ঞানী’ হওয়ার প্রয়োজন নেই। কথাগুলো এভাবে বললাম বলে মনে কিছু করবেন না।
মহিউদ্দিন
ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৬ at ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার কথাগুলো দেশের মৌলিক কিছু বাস্তব রূপ স্পর্শ করে যায়। যারা দেশকে নিয়ে ভাবেন, তারা, এভাবে না হয় ওভাবে, এই বাস্তবতা দেখতেই পাবেন। যারা চান একটি স্বার্থান্বেষী মহলের হিংস্র বিভক্তি থেকে মানুষ বাঁচুক, অযথা যুদ্ধের অবসান হোক, জাতি ক্ষয়ক্ষতিমুক্ত হোক, তাদের জন্য এসব চিন্তাভাবনা জরুরি। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে এক হতে হবে। নতুন বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। অবশ্য যারা হালুয়া রুটির ভাগীদার এবং চাচা আপন প্রাণ বাঁচার -এই তরিকার, এমন ভীতুদের কাছে এ সবের কোন গুরুত্ব নাই। কিন্তু এ দেশটা তো কেবল তাদের বাপ দাদার সম্পত্তি নয়। আল্লাহ অন্য যাদেরকে এদেশে জন্ম দিয়েছেন তাদেরও সম্মানের সহিত বাঁচার অধিকার আছে। মাতৃভূমিকে ফ্যসিষ্ট মানসিকতার অগণতান্ত্রিক মাফিয়া স্টাইলের অত্যাচারী শাসন শোষন ও দূবৃত্তায়নের হাত থেকে নিরাপদ রাখা যে ঈমানি দায়িত্ব তা ভুললে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। আসলে আপনি যাদের কথা ইঙ্গিত করছেন এদের প্রসঙ্গে সেদিন নিউইয়র্ক প্রবাসী একটিভিষ্ট মিনা ফারাহর কয়েকটি কথা সামাজিক মিডিয়ায় অনেককেই ভাবিয়ে তোলেছে দেখেছি! ভদ্রমহিলা লিখেছেন, "এইসব প্রসঙ্গ কেন! বিষয়টি এইরকম। এইডস একধরনের ভাইরাস। ………… বাংলাদেশি গ্যাংস্টারদের বিষয়টিও সেইরকম। এরা নিজেরাই এতো বেশি ফাঙ্গাসে আক্রান্ত, এইডসের মতোই জীবাণু ছড়িয়ে দিয়েছে দেশে-বিদেশে। ফলে সারা বছরই এরা এইডস রোগীর মতো জঘন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।" (বাকিটুকু এখানে পড়তে পারেন) সে যাক, কথা হচ্ছে