সোজা কথা, যেখানেই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আন্তরিকতা নাই এবং একচেটিয়া কায়েমি স্বার্থের সমর্থন সেখানে না আছে মুসলিম, না আছে ইসলাম!
চিন্তা করেন রাসুল (স:) যদি চাইতেন তাহলে তো নিজেই কায়েমি স্বার্থের এ সব ধান্দার একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে যেতে পারতেন। কাউকে দিয়ে নিজের বিরাট একটি ছবি একে রেখে যেতে পারতেন, নিজের পরিবারের নামে চিরস্থায়ী একটি ব্যবস্থা করে যেতে পারতেন কাফেরদের সাথে যুদ্ধে অর্জিত সকল সম্পদ বণ্টন না করে নিজেই রেখে যেতে পারতেন, নিজের জন্য তখনকার পার্শ্ববর্তী সাম্রাজ্যে প্রধানদের সমান না হলেও ছোটখাটো একটি রাজ প্রাসাদ তৈরি করে যেতে পারতেন। তাঁর নিজের ও পরিবার বা সঙ্গী সাথীদের জন্য করতে পারতেন অন্যায় ও অবৈধ পন্তার কায়েমি স্বার্থ রক্ষার ব্যবস্থা। আবার তিনি চাইলে রাষ্ট্র ও সমাজের নেতৃত্ব তখনকার মদিনার প্রতিষ্ঠিত ইহুদী সম্প্রদায়ের হাতে ছেড়ে দিয়ে নিজে কেবল ইসলামের আনুষ্ঠানিকতা পালন নিয়ে মসজিদে নববীতে বসে জিকির আসকর করে দিন কাটাতে পারতেন।
কিন্তু ইতিহাসের বাস্তবতা আমাদেরকে ভিন্ন পাঠ দেয়। বাস্তবতা হল তিনি এসবের কিছুই করেন নাই এবং তার পক্ষে করা সম্ভবও ছিলনা কেননা তিনি যে মিশনের মেন্ডেট নিয়ে এসেছিলেন সেটির সাথে এসব হচ্ছে পরস্পরবিরোধী। আর রাসুল (স:) কে আল্লাহর দেয়া মিশনের সে হুকুম পরিপূর্ণ করায় যে মর্যাদা ও সম্মানের উচ্চ আসন আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন তার তুলনা হয়না। সে প্রসঙ্গে আল্লাহ কোরআনে বলেন,
(ওয়া রাফানা লাকা জিকরাক্) আমি তোমার খ্যাতিকে উচ্চ মর্যাদা দান করিয়াছি!
আর আজ সেই নবীর অনুসারী বলে দাবি করা জুব্বা পরা মুসলমানদের বিশেষকরে আরবের "ধার্মিকদের" ও তাদের রাজা বাদশাহদের কি অবস্থা?
তাই একথা বলা যেতে পারে যে এই নামাজ এই রোজা, মক্কা মদিনার এই বিশাল স্থাপনা, সুরালো কণ্ঠের কোরআন তেলায়ত, স্যাটেলাইট টিভির প্রদর্শন, বেদাত শিরক নিয়ে এত আলোচনা এত আওয়াজ এগুলো কোন কাজে আসছেনা বলেই মনে হয়। কারণ মুসলিম উম্মাহ দিনরাত করতে চায় একচেটিয়া কায়েমি স্বার্থের তোয়াজ!
কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না! দু:খের বিষয় হল আজ অধিকতর মুসলিমদের মানসিকতা কয়লা সমতুল্য হয়ে গিয়েছে তাই যতই ধর্মের আনুষ্ঠানিকতায় লিপ্ত দেখিনা কেন তাদের কাজে ও কর্মে তথা বাস্তব জীবনে এসবের কোন প্রতিফলন নাই এবং কোন প্রভাব বিস্তার করছে না!
নিজের প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে বা তাদের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করতে মন চায় না অথচ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অমুসলিমদের হাতে তুলে দিতে তাদের অস্ত্রের খরিদদার হতে এতটুকু বিবেকে বাধে না। আজ মুসলিমদের নিজেদের মাঝে কোন সমস্যা বা বিরোধ হলে সে জন্য আমাদের নেতারা কখনও দৌড়ে রাশিয়ায়, কখনও দৌড়ে ইউরোপ আমেরিকায়!কোথায় আল্লাহ আর কোথায় নবীর শিক্ষা?
সমস্যার মূল কোথায়?
কোরআনের সেই আয়াতের কথাগুলো লক্ষ্য করলে একথা বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। আল্লাহ বলেন,
"যাহারা আমার নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে আমি তাহাদিগকে এমনভাবে ক্রমে ক্রমে ধ্বংসের দিকে লইয়া যাই যে তাহারা জানিতেও পারিবেনা। (সুরা ৭: ১৮২)
এখানে ইবনে আব্বাস (রা:) আর ইবনে কাতির (রা:) বা কোন বড় আলেমের তফসিরের দরকার আছে বলে মনে হয় না। মুসলিমরা নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করলেই উত্তর পাবে আজ মুসলিমরা আল্লাহর নিদর্শনা বা নির্দেশকে বাস্তবে মানছে না প্রত্যাখ্যান করছে?
আল্লাহর হুকুম না মানলে কেউ অবিশ্বাসী বা বিশ্বাসী বলে কথা নাই তওবা না করলে শাস্তি অবধারিত। শয়তান তো বিশ্বাসী বা ঈমানদারই ছিল এবং তার পুণ্যের পাল্লাও ভারী ছিল কিন্তু আল্লাহর হুকুম না পালনে কি পরিণাম হয়েছে মুসলিমদের অজানা নয়।
যাক আসল কথা হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের সত্যিকার উন্নয়ন এবং হারানো গৌরব ও সম্মান ফিরিয়ে আনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে মুসলিমদের মাঝে ঐক্যের অভাব এবং সঠিক নেতৃত্বের অভাব।
অর্থ খরচ করে যেমন অস্ত্র কিনা যায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও আতঙ্ক বা শত্রুতা সৃষ্টি করা যায় তেমনি অর্থ দিয়ে বন্ধুত্ব, ভালবাসা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠাও করা যায়। তবে সে জন্য প্রয়োজন সত্য, ইনসাফ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে আন্তরিক প্রচেষ্টা।
সাপের মাথা কোথায়?
সেই ৭০ সালের প্রথম দিকে আরব দেশের রাজা বাদশাহ ও শাসকরা তখনও কিছুটা আত্মমর্যাদা সচেতন ও ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। তাই আরবর নেতারা ইসরাইলের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর একতরফা অন্যায় সমর্থন ও সহযোগীতা দেখে বিশেষ করে তখনকার সৌদি বাদশাহ ফায়সাল অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হন। যার ফলে পশ্চিমা বিশ্বকে বিশেষকরে আমেরিকাকে শিক্ষা দিতে তাদের জালানি সম্পদের ক্ষমতা ব্যবহার করেন।
ফলে আমেরিকায় দেখা দেয় জালানি সংকট, পেট্রল পাম্পে মানুষের লম্বা লাইন, শিল্প কাখানায় জালানির অভাবে বিঘ্নিত হয় উৎপাদন, শুরু হয় বিরাট অর্থনৈতিক সমস্যা! অর্থনৈতিক এ মন্দা অবস্থার কারণ যেহেতু ছিল জালানি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ তাই সে নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা আমেরিকার পক্ষে চিরস্থায়ী কব্জা করতে কি করা যায় তা নিয়ে সে দেশের ক্ষমতাসীনরা আলোচনায় বসে দেশের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সাথে যাদেরকে বলা হয় "ইকোনমিক হিট ম্যান"। তাদের পরামর্শে আমেরিকা নেয় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিশ্বের তৈল সম্পদের প্রধান উৎস যেহেতু হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য তাই তারা বুদ্ধি করে সৌদি রাজপরিবারের সাথে স্বাক্ষর করে আধুনিক এই বিশ্বের সবচেয়ে যুগান্তকারী এক চুক্তি যা নিশ্চিত করে একদিকে তাদের আর্থিক নিশ্চয়তা অন্যদিকে আমেরিকার প্রতি ইসলামের প্রাণ কেন্দ্র মক্কা মদীনার দেশের শাসকগোষ্টির চিরস্থায়ী দাসত্ব। বিনিময়ে রাজপরিবারে হাতে আসে অফুরন্ত অর্থের পাহাড় আর সে পাহাড়ে প্রতিষ্ঠিত হয় কায়েমি স্বার্থের বিরাট প্রসাদ! যার আড়ালে ঢাকা পড়েছে ইসলামের আসল আদর্শ ও বিশ্ব মুসলিম স্বার্থ।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় যখনই মুসলিম সমাজে এই মৌলিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে তখনই মুসলিম সমাজ দুরবস্থায় পতিত হয়েছে। জ্ঞানী মানুষের চরিত্র হনন আর মূর্খ ও ভণ্ডদের সমর্থন অর্থাৎ এক কথায় অন্যায়ের সমর্থন ও ন্যায়ের দমন যখন হয়ে যায় যে সমাজে সাধারণ নিয়ম সেখানে সে সমাজকে মুসলিম ভাবার কি কোন কারণ থাকতে পারে?
্উন্নয়ন ও চুক্তি করা কোন দুষের নয়, ইসলামের ইতিহাসে এবং রাসুলের সময়েও অনেক চুক্তি হয়েছে অমুসলিমদের সাথে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে চুক্তির সর্ত কি এবং কি হতে পারে এর দীর্ঘমেয়াদী কুফল সেটি বুঝার মত বিচার বুদ্ধি ও দূরদৃষ্টি ছিলনা বলেই আজ এ দুরবস্থা!
আজ আরবদের হাতে অর্থ থাকলেও সে অর্থ সঠিক ক্ষেত্রে ব্যয় করার ক্ষমতা ও সাহস নাই। আজ মুসলিম বিশ্ব বিশেষকরে প্রচুর অর্থে সমৃদ্ধিশালী ধনী আরব উপ-সাগরীয় দেশগুলোর নেতারা যে চরম নৈতিক দেউলিয়াপনায় ভুগছেন তা যে কোন সচেতন মানুষের দৃষ্টি এড়াতে পারেনা। আর এ সব ঘটছে শুধু এই কায়েমি স্বার্থ রক্ষার তাগিদে।
সৌদিদের প্রতিবেশী মুসলিম ভাইদের দেশ ইয়েমেনের হুতিদের বিদ্রোহ নিষ্পত্তির লক্ষ্য আলোচনার পথে অর্থ ব্যয় না করে যে পরিমান অর্থ ব্যয় করা হয় আমেরিকার অস্ত্র ব্যবসায়ীদের খুশী রাখতে তার তিন ভাগের এক ভাগ অর্থ যদি আপোষ, নিষ্পত্তি ও রাজনৈতিক সমাধানে পিছনে ব্যয় করা হত তাহলে অনেক আগেই এর সমাধান হয়ে যেত। তা না করে যুদ্ধ ও বোমা বর্ষন করে নিরিহ মানুষ হত্যা করে দেশটিকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে এনে কার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে।
আজ সে দেশে কলেরায় মরছে হাজার মানুষ । Who is to blame? আর তারই পাশে ধার্মিকরা আছে এবাদতে মগ্ন পারলে এখনই তারা আল্লাহকে নিয়ে আসবে তাদের কাছে! আবার যখন দেখা যায় সৌদির এক শ্রেণীর দরবারী আলেম উলেমারা এসবের গ্রহণযোগ্যতার পক্ষে কথা বলেন বা কেউ আবার নীরব থাকেন তখন সভাবতই প্রশ্নে জাগে আজ পথ হরিয়েছে ধর্ম না ধার্মিকগণ।
একথা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না যে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম নেতারা কার ইশারায় নাচেন ! এটি বিশ্বের ভুরাজনৈতিক বাস্তবতার চাপে বলুন বা অন্য কোন কারণ বলুন কথা হচ্ছে বিশ্বের সচেতন মানুষেরা আজ যা দেখছে তাতে মুসলিমদের মান সম্মান বা শ্রদ্ধা বলে কিছু অবশিষ্ট আছে বলে মনে হয় না। তথাকথিত এই বাদশাহ ও আমীরদের আচরণে বিশ্ব দরবারে এরা শুধু হাসি তামাশার প্রাত্র হচ্ছে। সম্প্রতি সৌদি নেতৃত্বে মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্যে 'অস্থিতিশীলতা' সৃষ্টির অভিযোগে কাতারের সঙ্গে পররাষ্ট্র সম্পর্কের পাট চুকিয়ে ফেলে। জবাবে ওই সৌদিসহ সম্পর্কচ্ছেদকারী দেশগুলোর দাবি, কাতার বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সমর্থন করছে এবং ইরানের সাথে সহযোগীতার সম্পর্ক রাখছে … তবে বিশ্বের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা এ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করছেন এবং এ সিদ্ধান্ত যে আমেরিকার অর্থব্যবসায়ীর মুনাফা ছাড়া মুসলিম বিশ্বের কোন কল্যাণ বয়ে আনবে না তা সবাই একমত। ফলে সৌদি আরবের উপর আজ সবাই ক্ষিপ্ত!
তবে এখানে একটি জিনিষ আমাদেরকে জানা দরকার সৌদি রাজ পরিবেরে আসল শক্তি যাদের হাতে তারা বর্তমান বাদশাহ সালমান বা তার বয়সী সবার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিন্তা চেতনার জেনারেশন। এই প্রজন্মের প্রায় এরা সবাই পশ্চিমা দেশের তথাকথিত লেখাপড়া শিখে ফিরার দল। এদের কাছে মুসলিম বা ইসলামী বিশ্বের স্বার্থ দেখার কোন গুরুত্ব নাই! লেখা পড়ার নামে এরা আমেরিকা ইউরোপের সময় কাটিয়েছে জুয়া, নারী মদ নিয়ে যৌন ব্যভিচারে। আধুনিকতার নামে এরা নিজেদের চরিত্রকে নষ্ট করেছে নিজেদের কাম বাসনার পিছনে। সাম্রাজ্যবাদী চক্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের সাথে তারা গড়তে পারছে নিবিড় সম্পর্ক। অতএব সৌদি সরকার আমেরিকার প্রভাব থেকে মুক্ত হবার কোন সম্ভাবনা নাই। তাই আগামীতে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগীতা ও আমেরিকার অস্ত্রের খরিদ্দার হওয়া ছাড়া সৌদি আরবের নীতিতে মুসলিম ঐক্যে বা অন্যান্য মুসলিম দেশের উন্নয়নের জন্য খুব একটা কিছু এরা করবে সে আশা করা বোকামী। তবে ইসলামি আনুষ্ঠানিকতার ধর্ম কর্মে তারা খুব একটা বাধা দেবেনা যতক্ষণ সে সব আচার অনুষ্ঠান কেবল আনুষ্ঠানিকতার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকবে কিন্তু মুসলিম ব্রাদারহুড বা মুক্ত মিডিয়া বিস্তারে বা "আরব বসন্ত" পুনর্জাগরণবাদী কোন পদক্ষেপে বাধা দিতে তারা সর্ব শক্তি ব্যয় করবে।
বর্তমান সৌদি রাজ পরিবারে ইঙ্গ পাওয়ার গ্রুপের সাথে তুরস্কের সেই অটোমান খিলাফত পতনের সময়ের "ইঙ্গ টার্ক" দের ভূমিকার কথা মনে পড়ে! তবে ইঙ্গ টার্ক সেকুলার হলেও ওদের মাঝে ছিল বিপ্লবী পরিবর্তনের প্রত্যাশা আর সৌদি এরা হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদীর স্বার্থ রক্ষা আর নির্যাতিত মানুষের অধিকার হরণের সংকল্পে এক অশুভ শক্তি!
দু:খীত, কথা হচ্ছিল সেই যুগান্তকারী চুক্তির ব্যপারে তা না লিখে আলোচনা দীর্ঘায়িত হয়ে গিয়েছে অন্যভাবে! যাক নিচের ভিডিওটি শুনলে লিখার উপসংহার পেয়ে যাবেন।

ফিরোজ আহমেদ
জুন ২০, ২০১৭ at ৭:৪৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
খুবই সময়োপযোগি বিশ্লেষণমূলক লেখা। মনে হচ্ছে সময় ঘনিয়ে এসেছে। পশ্চিমা বিশ্ব যদি দাজ্জাল হয় আর মুসলিম বিশ্বের দেউলিয়াপনা যেহেতু এই পর্যায়ে পৌঁছে গেছে কাজেই বলা যায়- ঈমান আমল টিকিয়ে রাখার জন্য ভেড়ার পাল নিয়ে পাহাড়ে বা জঙ্গলে চলে যাওয়ার সেই দিন বোধ হয় চলে এসেছে। ইসলামের আর কোনো আইকন আজ অবশিষ্ট নেই। মক্কা মদিনার খাস স্থাপনাগুলোর কথা বাদ দিলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। দুনিয়ার যে প্রান্তেই থাকি না কেন কাউকে দেখে ইসলাম শেখার আর পালন করার দিন গেছে। নিজে যতটুকু বুঝি নিভৃতে ততটুকু আমলা করে যাওয়াই উত্তম। এখানে আদৌ কিছু করার আছে কি, পরহেজ করে চলার চেষ্টা করা ছাড়া?
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
জুন ২১, ২০১৭ at ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার লেখাটা পড়ে মনে হলো খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহন করে ফেলছেন। সৌদী রাজপরিবারের সম্পর্কে প্রচুর প্রচার প্রপাগান্ডা আছে। কতটা সত্য -- কতটা মিথ্যা তা আল্লাহই ভাল জানেন। তবে অনেক মিথ্যাচার প্রচারিত হচ্ছে একটা মহল থেকে যারা ইসলাম মানেই সৌদি আরব হিসাবে দেখাতে চাইবে।
আর যুদ্ধতো আল্লাহ বিধান -- ক্ষেত্র বিশেষ ফরজ -- যে যুদ্ধে সৌদি আরব জড়িয়েছে তা কতটা হক আর কতটা পার্থিব লাভের জন্যে তা বলা কঠিন। যতটুকু বুঝি সৌদী শাসকদের পিআর খুবই দূর্বল। এরা প্রচারে পিছিয়ে আছে। যুদ্ধের মুল বিষয় হলো প্রপাগান্ডা -- যতটানা মাঠে হয় -- তা চেয়ে অনেক বেশী মিডিয়াতে হয়। ইরান এই দিকে এগিয়ে। সুতরাং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অপেক্ষা করা উচিত মনে করি।
আল্লাহ ইচ্ছাই পুরন হবে -- মাঝে আমরা আমাদের ঈমানের পরীক্ষায় পড়ে গেলাম। এইতো।
মজলুম
জুন ২২, ২০১৭ at ৪:৫৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মানুষ দ্রুত সিদ্বান্ত গ্রহন করে সে কোন দল বা মতবাদ বা নেতার পক্ষে/বিপক্ষে কত ডিগ্রি প্লাস বা মাইনাসে হেলে আছে, সেই ভিত্তিতেই সিদ্বান্ত নেয়। সৌদি রাজ পরিবারের বিরুদ্বে অনেক অপপ্রচার আছে তা সত্য আবার তাদের বিরুদ্বে সবটাই অপপ্রচার বলে সব উড়িয়ে দেওয়া ও মিথ্যা। সৌদি বলদ গুলা কিছু পোষা আলেম পালে যারা সৌদি সরকার যাই করে তার পক্ষে সাফাই গায়। অবশ্য বিরোধিতা করলেই জেলে, তাই ভয়ে অনেকেই কিছু বলেনা। বলদ গুলা শুধু আরবিতে পিআর করার জন্যে কিছু গার্বেজ মার্কা চ্যানেল যেমন আল-আরাবিয়া, স্কাই নিউজ আরাবিয়া আছে। প্রিন্স তালালের রোটানা গ্রুপ ফক্স নিউজের মালিক রুপার্ট মারডোকের সাথে শেয়ারে আছে। রোটানা মিউজিক নামক আরবিতে ল্যাংটা গান আর অশ্লিলতা মার্কা ড্যান্স দেওয়া চ্যানেল আছে অনেক। বর্তমানে কাতারের সাথে তাদের মূল দন্ধ অন্য কিছু না , বরং আল-জাজিরা চ্যানেল বন্ধ করা। ইয়েমেনের যে যুদ্ব শুরু করেছে সৌদি বলদ বিন সালমান তা পুরাটাই লেজে গোবরে হয়ে গেছে। হুতিরা রাজধানী সানা দখল করলো, সৌদি বলদদের খরর নাই। তারপর তাইজ শহর দখল করলো, তারপর সৌদি-ইয়েমেন বর্ডার দখল করলো বলদদের খবর নাই। তারপর এডেন বন্দর দখল করলো তখন ও বলদদের খবর নাই। তারও অনেক পরে এসে ডিফেন্স মন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান যুদ্ব ঘোষনা করে ইয়েমেনর বিরুদ্বে। যেদিন যুদ্ব ঘোষনা করে তারপর দিন সে যায় মালদ্বীপে ভ্যাকেশানে আরাম করতে। আমেরিকার ডিফেন্স মন্ত্রী এসে তাকে খুজে পায়না। হুতীদের পায়ে পরার মত স্যান্ডেল নাই, এরা মুখের ভিতর খাত নামক এক প্রকার ড্রাগ ভরে রাখে, সোজা করে গুলিও করতে পারেনা, তার পরও সৌদি আমেরিকার ল্যাটেস্ট প্রযুক্তি নিয়েও আজ প্রায় তিন বছর নাকানি চুবানি খাচ্ছে হুতিদের কাছে।
সৌদি পররাস্ট্র মন্ত্রনালয় চালায় বান্দরেরা আর সৌদি সরকার যা করে সবই তাদের গদি রক্ষার জন্যে, ইসলাম রক্ষার জন্য নয়।
শামস
জুন ২১, ২০১৭ at ৫:৫৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ফিলিস্তিন হল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য একটা লিটমাস টেস্ট। যে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে থাকে (যাকে আমরা আপাত আছে বলে দেখতে পারি!) সে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ব্যাপক সমর্থন পায়। অধিকাংশ মুসলিম এই অতিসরলীকরণের ফাঁদে পড়ে। আর যারা এই ফিলিস্তিন আবেগ নিয়ে খেলে তাদের চিনতে পারে না। অথচ, ফিলিস্তিনের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সিরিয়া, ইয়েমেন এর অবস্থা শ'গুন খারাপ। এই দুটো দেশের মধ্যে ধরে নিলাম সিরিয়াতে ইসরায়েল ফ্যাক্টর আছে (নেই সেটা বলার উপায় নেই) কিন্তু ইয়েমেনেতো ইসরায়েল ফ্যাক্টর নেই। বাহরাইনে যে গত কয়েকবছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, সেখানেও ইসরায়েল ফ্যাক্টর নেই। কিন্তু সিরিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন প্রতিটি দেশেই 'ইরান ফ্যাক্টর' আছে!
সৌদি থেকে শুরু করে কাতার, সিরিয়া, মিশর, আমিরাত প্রত্যেকটি দেশের কাছে তাদের রাজতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের নিরাপত্তা যেকোন কিছুর আগে। রাজতন্ত্রের সাথে ধর্ম এমনভাবে মিশানো যে কোনটার গুরুত্ব আগে সেটি বুঝতে সমস্যা হয়ে যায়। সৌদিআরবের প্রতিবেশী দেশ ইসরায়েল নয়, কিন্তু যেসব দেশ প্রতিবেশী সেগুলার মধ্যে জর্ডান, আরব আমিরাত ও ওমানের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলি ছাড়া প্রায় বড়ো প্রতিটি দেশ ইরান দ্বারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত। সৌদিআরবের সীমান্তের বড়ো একটি অংশ ঘিরে ফেলা হয়েছে। ইরান যেটা করে সেটা মূলত খাটি ডিভাইড, সেটা সেক্টারিয়ানিজম এর মাধ্যমে। আসাদের পক্ষে লড়াই করার জন্য হেজবুল্লাহ ছাড়াও আফগানিস্তান ও দূরদূরান্ত থেকে শিয়াদের নাগরিকত্ব এবং অন্যান্য অনেক সুবিধাদির বিনিময়ে যুদ্ধে নিয়োজিত করেছে। মজার ব্যাপার হল, এ ব্যাপারে বিবিসিতেই আলোচনা হয়েছে, শুনলাম, কিন্তু আইসিস এর রিক্রুটদের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করলেও এদের ব্যাপারে পাশ্চাত্যও নিশ্চুপ, অথচ দুটোর উপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত ছিল।
সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াটা অনেক দিন ধরে চলা এই দ্বন্দ্বের একটা বহিঃপ্রকাশ। তারা যদি মুসলিম বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবার মতো অবস্থায় থাকতো তাহলে এমন কিছু করতে পারতো যেটা হতো বিভেদকে কমানোর, সহনশীল, কৌশলি এবং বিচক্ষণ। তারা আর দশটা রাজতন্ত্রের মতো আচরণ করেছে, ইরানের কাজের প্রতিক্রিয়ায় ইরানীদের চেয়ে ভালো কিছু করতে সক্ষম হয় নাই।
মহিউদ্দিন
জুন ২১, ২০১৭ at ৯:৫১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@শামস:
"সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াটা অনেক দিন ধরে চলা এই দ্বন্দ্বের একটা বহিঃপ্রকাশ। তারা যদি মুসলিম বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবার মতো অবস্থায় থাকতো তাহলে এমন কিছু করতে পারতো যেটা হতো বিভেদকে কমানোর, সহনশীল, কৌশলী এবং বিচক্ষণ। তারা আর দশটা রাজতন্ত্রের মতো আচরণ করেছে, ইরানের কাজের প্রতিক্রিয়ায় ইরানীদের চেয়ে ভালো কিছু করতে সক্ষম হয় নাই। "
সম্পূর্ণ সহমত।
ইসলামের শুরু থেকে মুসলিমরা জানে শিয়া'রা হচ্ছে আবেগ তাড়িত বেদাত ও শিরক বিজড়িত মেইন স্ট্রিম ইসলাম থেকে ছিটকে পড়া একটি গোষ্টি। সেই শুরু থেকে এদেরকে ইসলামের দুশমনেরা পিছন থেকে সহায়তা দিয়ে আসছে এবং এখনও দিবে। তাদের উদ্দেশ্য মুসলিম উম্মাহকে দুর্বল করা। তা জেনেই মুসলিমরা এ সমস্যাকে অতীতে নিয়ন্ত্রণ করে বা "মেনেজ" করে চলতে সফল হয়েছে যে কারণে হয়তবা শিয়ারা তেমন গ্রহণযোগ্যতা পায় নাই বলেই পুরা মুসলিম বিশ্বে শি'য়া দের সংখ্যা ২০% বেশী হবে না।
ইদানীং এ সমস্যাকে প্রকট আকারে রূপ দেয়ার পিছনেও বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। কয়েক দশক আগেই অনেক সচেতন মুসলিমরা তা বুঝতে পেরেছিলেন। এব্যাপারে অনেক আগে আমি কিছু কথা লিখেছিলাম " এ কি সেই আখেরী জামানার আলামত?" নিবন্ধে।
এবার আসি সৌদি রাজপরিবারে ভূমিকা নিয়ে, এদের বিবাদ নিতান্ত রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগীতা ছাড়া কিছু নয়। এরা যা করবে তা শুধু তাদের রাজতন্ত্র রক্ষার খাতিরে এবং যাদের পরামর্শে তারা প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছে তা সবাই বুঝতে পারছে।
সৌদি আরবের নতুন ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে বর্তমান বাদশাহ সালমানের পুত্র, মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের (৩১) নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ঐ পদ থেকে পদচ্যুত হলেন মোহাম্মদ বিন নায়েক বিন আব্দুল আজিজ। আল সৌদ হাউসে "ইঙ্গ পাওয়ার" গ্রুপের যে কথা বলেছিলাম তা এখন স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেল। বাদশাহ সালমানের আরেক ছেলে আমেরিকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে আছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যা হচ্ছে তার কোনটাই আরব বা মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষার খাতিরে নয়। তবে আরব বসন্তকে ফুল ফুটার সুযোগ দিলে হয়তবা আমরা ভিন্ন কিছু দেখতে পেতাম কিন্তু সেটাকে তো অগ্রসর হতে দেয়া হল না।
************************
@ মহাজাগতিক:
ভাই, একেবারে হতাশ হয়ে যাওয়া ঠিক নয়। আমাদের ভরসার জায়গা হল অসীম ক্ষমতার মালিক মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ রাব্বুল আ'লামিনের অসীম শক্তি ও করুণার সাগরে। হিসাব গ্রহণে আল্লাহ অবশ্য দ্রুততর। "ওল্লাহু সারিউ'ল হিসাব।" মুমিন হিসাবে আমাদেরকে বুঝতে হবে যা কিছুই ঘটানো হচ্ছে এবং যারাই এসব ঘটাচ্ছে তাদের দিনও কিন্তু সীমিত। "তোমার প্রতিপালক অবশ্যই সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।" (সুরা ফজর আয়াত ১৪) এখানে অত্যাচারী বা সীমালংঘনকারীর ব্যাপারে যেমন প্রযোজ্য তেমনি সেটি মুমিনদের কাজকর্মের ব্যাপারেও প্রযোজ্য।
মজলুম
জুন ২২, ২০১৭ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অবস্হা ভালো না ভাই। আগামী দশ বা ২০ বছরের মধ্যে সৌদি সহ গালফ দেশগুলো এবং ইরানের মধ্যে ইসরাইল সহ ভয়াবহ দ্বীমুখী, ত্রিমুখী, চতুর্মুখি, পন্চমুখী যুদ্ব শুরু হতে পারে। সিরিয়া ও ইরাকে আইএসএইএস শেষ হলে নতুন যুদ্ব হবে ইরানি শিয়া ক্রিসেন্ট বনাম কুর্দি এবং সিরিয়ার রেবেল। পাশে থাকবে আমেরিকা ও ইসরাইল। ইসরাইল অচিরেই এক ভয়াবহ যুদ্বে জড়াতে পারে হিজবুল্লাহ এর সাথে, তাহলে ইরান ও বসে থাকবেনা, সে বিস্তর এলাকা মানে ইরাক হতে সিরিয়া এবং লেবানন শিয়া মিলিশিয়া দিয়ে দখল করে বসে আছে। সিরিয়াতে বা কাতারে তুর্কি সৈন্যেদের বিরুদ্বে আক্রমন হলে সেও বসে থাকবেনা, তুরস্ক ও যুদ্বে জড়িয়ে পড়বে। ইরান চাচ্ছে ইরান হয়ে ইরাক দিয়ে সিরিয়া হয়ে ভুমধ্যসাগর পর্যন্ত তার আয়ত্বে থাকলে তার শিয়া এম্পায়ার প্রতিষ্ঠিত হবে। ইসরাইল এটা মেনে নিবেনা, সে আমেরিকাকে এই যুদ্বে জড়াবে। সৌদি-আরব আমিরাতের সাথে ইসরাইলের অনেক খাতির ও শুরু হয়ে গেছে ইরানকে মোকাবেলা করার জন্যে। এবার মানচিত্র দেখেন, আফগানিস্তান হতে শুরু করে ইরান, ইরাক, সৌদি, সিরিয়া, হয়ে ইসরাইল, ফিলিস্তিন ও জেরুজালেম পর্যন্ত এই বিস্তীর্ন এলাকায় বর্ডার ছাড়া যুদ্ব চলতে থাকবে।
হাদিসে বর্ননা করা আল-মালহামা হয়তো এরই অংশ। এটা হবে অনেক বড় ফেতনার যুগ। যেই ফিতনার দ্বারা আল্লাহ রাব্বুল আল-আলামিন সত্যকে মিথ্যা হতে আলাদা করে দিবেন। পাকিস্তান এক সময় প্রচার করতো যে তার সেনাবাহিনী ইসলামিক সেনাবাহিনী, কিন্তু আফগান-আমেরিকান যুদ্বে বা ফিতনায় আল্লাহ তার মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছেন। এরা আমেরিকার তাবেদার দের বুট চোষা বাহিনী ছাড়া কিছুই নয়। এক সময় মুসলিমরা ইরান-আহমেদিনিজাদ-হিযবুল্লাহকে হিরো মনে করতো, বিশেষ করে ২০০৪ হতে ২০১১ পর্যন্ত। কিন্তু সিরিয়ার যুদ্বে বা ফিতনায় আল্লাহ এদের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছেন। এই মালহামায় সৌদি সহ গালফ দেশগুলোর মুখোশ উন্মোচন করবেন আল্লা যে এরা কি হক পন্হি না বাতিল পন্হি।
আনওয়ার আওলাকির এই ৩০ মিনিটের ভিডিওতে আল-মালহামা নিয়ে এবং ভূ-রাজনিতি কিভাবে পরিবর্তন হয়েছে তা বলেছেন ২০১১ এর ও অনেক আগে তখন সিরিয়া যুদ্ব শুরুই হয়নি।
এনিওয়ে, পরিস্থিতি পর্যাবেক্ষন করছি, দেখি কি হয়।
কিছু আর্টিক্যাল এখানে, The war after Isis’: has Trump opened the door to conflict with Iran?
Escalation in Syria was almost inevitable
What happens after the Islamic State is defeated in Iraq and Syria?
Israeli commanders reveal plans for mass evacuation of Lebanese civilians in next war
মহিউদ্দিন
জুন ২৫, ২০১৭ at ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ মজলুম:
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
সহমত। মুনাফিকদের মুখোশ উন্মোচন হচ্ছে এবং আরো হবে।
আসলে বিশ্ব মোড়ল ও সেকুল্যারদের এবং তাদের সাথী মুসলিম দেশের রাজা বাদশাহ ও শাসক গোষ্টির কোন আপত্তি নাই যদি পৃথিবীর সব দেশে মুসল্লির ভিড়ে মসজিদ ভরে যায় ও মক্কা মদিনায় হজ কিংবা ওমরাহ করার তীর্থযাত্রায় বিশ্ব থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের সমাগম হয় কিংবা আখেরাতে ফায়দা পেতে তোরাগ নদীর পারে বসে আখেরি মুনাজাতে লাখো মানুষ জমা হয়।
তাই প্রশ্ন জাগে ইসলাম নিয়ে তাহলে সমস্যা কোথায়? মুসলিম দেশ আর মুসলিম ঐক্য নিয়ে কেন সবার এত চিন্তা?
চলেন দেখি প্রথমে ইন্দোনেশিয়ায়, দেশটিকে নাকি পৃথিবীর বৃহত্তর মুসলিম দেশ জনসংখ্যায়। তবে প্রশাসনে যারা বসা বা যাদের হাতে দেশের চাবিকাঠি তারা কিন্তু কেউ নয় ইসলামের স্বার্থে কোন উৎসাহী!
এভাবে প্রতিটি মুসলিম দেশের প্রশাসনে একি অবস্থা। মুদী আর ট্রাম্পের গলায় সৌদি বাদশাহ আদর করে মালা দিলে বুঝতে কেন কষ্ট হবে ইসলামের প্রাণ কেন্দ্র সৌদি আরব এখনও কি মুসলিমদের দখলে?
তা্ই মুসলিমদেরকে বলতে হয় ইসলাম নিয়ে চিন্তা ছাড়েন বিরানী খেয়ে নিদ্রায় যান। ঘুম থেকে উঠে দেখবেন সব কিছুই ঠিক আছে । সবাই পারবে ফেইস বুকে সেলফি দিয়ে স্টেটাস দিতে কিংবা খেলা নিয়ে ঝড় তুলতে? আমাদের প্রজন্মের স্মার্ট ছেলে মেয়েরা যা দেখা উচিত নয় তেমন কিছু দেখতে চাইবে তার স্মার্ট ফোনে বা কম্পিউটারে স্মার্ট হয়ে? সর্গ সুখের মজা পেতে করতে পারবে একটি দুটি ইয়াবা বা অন্য কোন ড্রাগ সেবন!
২)
ডিসেম্বর ২০১০ সালে তিউনেশিয়ায় শুরু হয়েছিল আরব বসন্ত । ২০১১ সালে মিশরে কি দেখলাম ? সবই মনে হবে কারো কাছে মুসলিমদের দিবা স্বপ্ন তাই না? কয়েক মিলিয়ন মানুষ হয়েছে ঘর ছাড়া, মরেছে কয়েক মিলিয়ন নারী, পুরুষ ও শিশু। ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য ঘর বাড়ী সবি নাকি এ আরব বসন্তের ফল!
দাস যখন মালিকের বিরুদ্ধে যেতে চায় তখন যা হবার তাই হয়। দাসত্বের শিকল থেকে মুক্তির রাস্তা খুঁজতে হবে আগে তার পর অন্য চিন্তা।
তাই আবার সেই পুরাণো প্রশ্ন আজ পথ হারিয়েছে ধর্ম না ধার্মিকগন?
তবে একেবারে হতাশ হওয়ার কারণ নাই সচেতন মুসলিমরা কিন্তু নীরব নয় । তাদেরকে এখন কাজ করতে হবে অন্য কৌশলে ।
কট্টর সালাফি মতবাদ আর দায়েসের তথা আই এস এর মাঝে তফাৎ যে মাত্র এক সূতার তা আজ বিবেকবান সালাফিরাও বুঝতে পারছেন।
তাগুতি শক্তি চাইলেও মিশরের সচেতন মানুষ এবং সে দেশের যুবক সমাজকে জঙ্গি করে সন্ত্রাসী বানাতে তারা ব্যর্থ হচ্ছে।
সচেতন মানুষের সতর্ক পদক্ষেপ ও তাদের বাহ্যিক নীরবতারও কারণ আছে!
আসলে নীরবতার চাপও কিন্তু বড় চাপ! সেজন্য অজানা এক আশঙ্কায় এখন মুসলিম দেশের অশুভ শক্তিকে ফেলেছে ভীষণ দুশ্চিন্তায় ও আতঙ্কে! তারা দিশেহারা হয়ে হাত বাড়িয়েছে মুসলিম ও ইসলামের দুষমনদের কাছে। তাদের আওলিয়া হচ্ছে তাগুত। আর যাদের আওলিয়া তাগুত হয় তাদেরকে আল্লাহ কি বলেছেন তা তো আমরা জানি।
কাতারকে দেয়া হয়েছে ১৩ দফা সর্ত। বলা ছিল বাহিরের কেউ যেন তা না জানতে পারে কিন্ত যেভাবে হউক তা প্রকাশ হয়ে গিয়েছ! সর্তে আছে মুক্ত মিডিয়া বন্ধ করা, ব্রাদাহুডকে সন্ত্রাসী বলা কাতারের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হানা ইত্যাদি। আর এসব করেই এদের দেউলিয়াত্ব প্রকাশ পাচ্ছে।
ওদিকে তুরস্কের শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিবর্তনকে স্কুলের শিক্ষার সিলেবাস থেকে বাদ দিবার ঘোষণা দিয়েছে!
অতএত দেশ শাসনের চাবিকাঠি সঠিক নেতৃত্বের হাতে না গেলে কিছুই করা সম্ভব নয় যতই করেন জিকির আস্কার।
নোমান
জুন ২৩, ২০১৭ at ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইমরান নজর হোসেইনের বিশ্লেষন কি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে? কারো জানা থাকলে উপকৃত হতাম। লোকটারে কেউ মূল্যই দিতে চায় না,আফসোস!
এম_আহমদ
জুন ২৫, ২০১৭ at ৭:৩২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নোট: নিচের মন্তব্যটি আপনার ব্লগ-প্রসঙ্গের খানিকটা বাইরের হলেও জিসিসি দেশগুলোর রাজনীতির সাথে মিল রাখে বিধায় এখানে ছাপালাম।
________________
যারা ইখওয়ানুল মুসলিমীনদের ব্যাপারে বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন তারা সম্ববত রাজনৈতিক পটভূমি কম বিবেচনা করেই করেন। ইদানীং ইভোন রীডলি জিসিসির কয়টি দেশের বর্তমান বেমানান রাজনীতি নিয়ে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। সেখানে ইখওয়ানের বিষয়টি রাজনৈতিক পটভূমিসহকারে প্রকাশ পেয়েছে। এসব বিষয়ে যাদের আগ্রহ আছে তারা এটি এখানে পড়ে নিতে পারেন।
মহিউদ্দিন
জুন ২৬, ২০১৭ at ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আস সালামু আলাইকুম এম_আহমেদ ভাই,
ইভোন রীডলির লিখাটির লিংক দেয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। নিবন্ধটি পড়লাম। আসলেই অনেক কিছু জানার আছে যা আমাদের জানা দরকার! লিখিটি নিঃসন্দেহে খুবই তথ্যপূর্ণ! এ লিখাটি সবার পড়া উচিৎ।
Madhumangal Saha
জুলাই ৩, ২০১৭ at ৯:২৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
The game is not over , পিকচার আভি বাকি হে মেরে দোস্ত, থোরা ইন্তেজার কিজিএ ,দেখনা কিএয়া হাল হগা মুসলিম দুনিয়া কো , বুরা মত মানিয়ে , যো নিউজ আপ লোগো নে দিএয়া মে স্রেফ উসি কো বাত বাতাইয়া