ইদানীং ফ্রান্সে তারিক রমাদানকে নিয়ে চলছে বিচারের নামে তামাসা। তাই প্রশ্ন জাগছে ড: তারিক রমাদানের উপর যে সব অভিযোগ উঠেছে তা কি সাজানো নাটক যার অজুহাতে ফ্রান্সের বিশেষ একটি মহল তাদের আক্রোশ মিটাতে চায়? ড: তারিক রমাদান ইউরোপ আমেরিকার প্রখ্যাত এক ইসলামী স্কলার যিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সমসাময়িক ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যাপক। তিনি এখন ফ্রান্সের পুলিশের কবলে পড়ে তাদের অন্যায় আচরণের শিকার হয়েছেন।
খ্যাতিমান ইসলামী চিন্তাবিদ প্রফেসর তারিক রামাদানের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের দুই নারী যৌন নির্যাতনের ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগকারী একজনের নাম হিন্দা আয়ারী ও আরেক জন হেন্ডার আইয়্যার । হিন্দা আয়ারী একজন সেকুলার এক্টিভিস্ট ও লেখক এবং ধর্ম-পরিচয়ে মুসলিম। মিডিয়া বলছে এ মহিলা একসময় উগ্রপন্থী ধর্মীয় মতবাদ সালাফিজম থেকে কট্টর সেকুলার এক্টিভিস্টে পরিণত হয়েছেন। হিন্দা তার ফেসবুক একাউন্টে তারিক রমাদানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেন এবং একই সাথে ফ্রান্সের এক আদালতে মামলাও করেন।
তবে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে তারিক রমাদান বলেছেন, তার বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা অভিযোগ তোলেছে তাদের বিরুদ্ধে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন। তবে দু:খের ব্যাপার হল সে ব্যবস্থা নেয়ার আগেই তাঁকে শাস্তি দিতে ফ্রান্সের প্রসিকিউশন পুলিশ অতি উৎসাহী ও তৎপর হয়ে পড়েছে দেখা যাচ্ছে এবং তাদের সাথে যোগ দিয়েছে ফ্রান্সের মেইন মিডিয়া।
এএফপির প্রতিবেদন মতে, ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর রুয়েনে দায়ের করা মামলায় হিন্দা দাবি করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছেন। হিন্দার সংগঠন ‘লিবারেটরর্স এসোসিয়েশন’ তাদের ফেসবুক পেইজে এক পোষ্টে দাবি করা হয়, বহু বছর আগে তিনি (হিন্দা আয়ারী) খুবই মারাত্মক কিছু ঘটনার ভুক্তভোগী হয়েছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তার ভয়ে তিনি এতদিন অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করেননি।
৪০ বছর বয়সী হিন্দা ২০১৬ সালে তার বই ‘আই চুজ টু বি ফ্রী’ প্রকাশ করেন। বইটির একটি অধ্যায়ে উল্লেখ করেন, বহু বছর আগে তিনি ‘জুবায়ের’ নামে এক ব্যক্তির দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। বইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, কোনো এক সময় প্যারিসের একটি হোটেলে ইসলামী এক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার পর জুবায়ের হিন্দাকে রুমে ডাকেন। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টায় বাধা দিলে তাকে চড় মারাসহ বিভিন্নভাবে অপমান করা হয়। তবে পোস্টে হিন্দা বলেন, “আমি আজ নিশ্চিত করছি, সেই জুবায়ের হলেন তারিক রমাদান।”
সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেয়া এই ইসলামী ব্যক্তিত্বকে বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তাবিদ মনে করা হয়। তারিক রমাদান মিশর ভিত্তিক ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল বান্নার নাতি। ফ্রান্সে বেড়ে ওঠা তারিক রমাদান ২০০২ সালে দেশটির তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলাস সারকোজির সাথে বাদানুবাদে জড়িয়ে বেশ আলোচিত হন। ফ্রান্স সরকার তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে উগ্রবাদকে মদদ দেয়ার অভিযোগ তুলেছিল। তবে ব্রিটেনে তারিককে উগ্রবাদবিরোধী একজন ইসলামপন্থী মনে করা হয়। এ জন্য ২০০৫ সালে টনি ব্লেয়ার সরকারের সময় তাকে ব্রিটিশ সরকারের কাউন্টার টেরোরিজম সংক্রান্ত উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়।
ড: তারিক রমাদানের পক্ষের লোকেরা বলছেন পশ্চিমা বিশ্বের প্রখ্যাত এই আধুনিক ইসলামী স্কলারের ব্যক্তিত্ব, সুনাম ও চরিত্র হননে তাকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হচ্ছে ফ্রান্সে এবং তিনি আজ তাঁর বিরোধীদের সাজানো নোংরা খেলার ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন! গত কয়েক মাস থেকে ইউরোপের সেকুলার মিডিয়াতে অধ্যাপক তারিক রমাদানের বিরুদ্ধে ফ্রান্সে ধর্ষণের অভিযোগের খবর যেভাবে বর্ণনা করা হচ্ছে সেটিকে তার চরিত্র হননে মিডিয়া ট্রায়াল এর মহড়া হচ্ছে বলা যায়। যদিও সে সব অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি। তবে তারিক রমাদানের সঙ্গে ফ্রান্সের আদালত ও পুলিশ বিভাগ সঠিক ও নিরপেক্ষ আচরণ করছে না বলে অভিযোগ আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সম্প্রতি কানাডা থেকে প্রকাশিত "গ্লোব্যাল রিচার্স ডট সি এ" ওয়েব সাইটে ড: চান্দরা মোজাফ্ফার (Dr. Chandra Muzaffar) এক বিস্তারিত কলাম পোষ্টে এ বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। পাঠকদের খেদমতে সে লিখাটির সারমর্ম সংক্ষেপে প্রকাশ করার চেষ্টা করব।
উল্লেখযোগ্য যে ডা: তারিক তার বিরুদ্ধে অভিযোগের উত্তর দেয়ার জন্য স্বেচ্ছায় ৩১ শে জানুয়ারি প্যারিসের পুলিশ অফিসে গিয়েছিলেন।তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সাথে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে কিন্তু উল্টো পুলিশ তাকে আটক করে। এখন তার সাথে প্যারিস পুলিশ ও আদালত যে কঠোরতা অবলম্বন করছে ও যে আচরণ করা হচ্ছে তা সভ্য সমাজে গ্রহনযোগ্য হওয়ার কথা নয় বরং এসবের বিরুদ্ধে আইনি চূড়ান্ত অভিযোগ আসা উচিত।
প্যারিসের ফ্লেউরি-মেরোগিস কারাগারের উচ্চ নিরাপত্তা বিভাগে একটি নির্জন ঘরে তরিক রমাদানকে আটক রাখা হয়েছ ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখ থেকে । তার পরিবারের কাউকে তার সাথে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না এবং তাদের সাথে ফোন দিয়ে যোগাযোগ করারও অনুমতি নাই। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
২০০৯ ও ২০১২ সালে যথাক্রমে লায়নের ও প্যারিসে দুই জন সে নারী ধর্ষণের মামলা গড়ে তোলার জন্য একটি ফৌজদারী তদন্ত করা হচ্ছে।
লায়নের ঘটনার অভিযুক্ত অভিযোগে বলা ছিল যে ৯ ই অক্টোবর ২০০৯ সালে বিকালে হিন্দা আয়ারী একটি হোটেলে ধর্ষিত হয়েছিলেন। এ দিকে ডা: তারিকের উকিল বা অ্যাটর্নিরা প্রমাণসহ প্রসিকিউশনে যে তথ্য প্রদান করেছেন যাতে দেখা যায় যে তারিক রমাদানের ফ্লাইট লন্ডন থেকে সন্ধ্যা ৬:৩৫ পর্যন্ত প্যারিসে পৌঁছায়নি এবং তিনি সেখানে ছিলেন না। শত শত দর্শকদের সামনে একটি বক্তৃতা প্রদানের জন্য সাড়ে আটটায় সভা হলে ছিলেন। ফরাসি পুলিশ এই প্রমাণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার পরেও আদালতে "এটি মামলা ফাইল থেকে" অনুপস্থিত রাখে তাদের "দাবি" এটি হারিয়ে গেছে।" প্রসিকিউশন পুলিশের এ আচরণ নিজেই এ বিচারকে একটি গুরুতর অস্পষ্টতায় প্রশ্ন বিদ্ধ করে!
সবচেয়ে মারাত্মক সন্দেহের কারণ হয় যখন জানা যায় ২০০৯ সালে হিন্দা আয়ারীর সাথে এক ঊর্ধ্বতন ফ্রেঞ্চ ম্যাজিস্ট্রেট, মিশেল দেবেনাক্ক এর সাথে এক সাক্ষাত হয় যেখানে পরামর্শ হয় কীভাবে ড: তারিক রমাদানের বিরুদ্ধে অভিযোগ খাড়া করতে কুখ্যাত ইসলাম বিদ্বেষী ক্যারোলিন ফোর এবং এন্টোনিইন সাফির দ্যাবেক এর সহায়তা নেয়া যায়। এইভাবে নয় বছর আগে অধ্যাপক রমাদানের বিরুদ্ধে চক্রান্তের পরামর্শে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের অননুমোদিত-ভাবে উপস্থিতি এবং সে ম্যাজিস্ট্রেট বর্তমান বিচারে অংশ নেয়ায় সময় এ বিষয়ে উল্লেখ না করা ফরাসি আইন অনুসারে অবৈধ।
অন্যদিকে বলা হয় প্যারিসের যে ঘটনাটি ঘটেছে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে যা যাচাই করলে তারিক রমাদান বিপক্ষে অভিযুক্তদের দায়ের করা সত্যের প্রত্যয়টি আরও কমে যায়। এই ঘটনার অভিযোগকারী হেন্ডার আইয়্যার ধর্ষণের পর দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে জুন থেকে আগস্ট ২০১৪ সাল পর্যন্ত ফেসবুকের মাধ্যমে কমপক্ষে ২৮০টি টেক্সট পাঠিয়েছে বলে প্রকাশ করে। "আয়ারি সম্প্রতি ফ্রেঞ্চ মিডিয়াতে স্বীকার করেছেন যে তিনি এই বার্তাগুলি দ্বিতীয় ফেসবুক একাউন্ট খুলে পাঠিয়েছিলেন যা তিনি তৈরি করেছেন- প্রফেসার রমজান তার প্রথম একাউন্টকে ব্লক করে দেয়ায় কারণ "আয়ারি তাঁকে বিরক্ত করেছিলেন - আইয়্যারের আশা ছিল যাতে সে তাঁকে বিভ্রান্ত করতে পারে এবং ফাঁদে ফেলতে পারে। আর এ জন্যই হয়তবা গত সপ্তাহে ফরাসি পুলিশ তাকে কোর্টে আসতে আহ্বান করা স্বত্বেও আয়ারির উপস্থিত না থাকার কারণ হতে পারে। "
এখন আরো জানা যাচ্ছে যে ড: তারিকের বিরোধী ও ইসলাম বিদ্বেষী চক্রের নেতাদের সাথে এই দুই মহিলার অনেক বছর আগে থেকেই যোগাযোগ ও পরামর্শ চলে আসছে? তাই প্রশ্ন জাগে এ সব কি হচ্ছে ? তারিক রমাদানের মত একজন উচ্চ মাপের প্রখ্যাত আধুনিক এ ইসলামী স্কলারের ব্যক্তিত্ব, সুনাম ও চরিত্র হননে কেন এ সব হচ্ছে?
যদিও এটা স্পষ্ট যে উভয় মহিলার অভিযোগগুলি একেবারে ভিত্তিহীন! কিন্তু এটি যেন প্যরিসের সেকুলার গুষ্টির জন্য এক বিরাট অর্জন! এক মোক্ষম সুযোগ! শুরু হয়েছে মিডিয়া ট্রায়াল! যে যেভাবে খুশী রিপোর্ট করছে আর ফ্রান্সের প্রসিকিউশন বিভাগ নেমে পড়েছে ন্যায় বিচারের ক্রুসেড যুদ্ধে! আদালতে টেনে আনার লক্ষ্যে প্রসিকিউশন তারিককে আটক করে রাখছে। মূলধারার ফরাসি মিডিয়াও তাদের সাথে সহাবস্থানে আছে! শুধু তা নয় অনেক হাস্যকর কাহিনী বলা হচ্ছে । এমন কি এক পত্রিকায় উপস্থাপন করা হচ্ছে যে তারিক রমাদানের কাছে আছে মিশরীয় পাসপোর্ট । তাকে জামিন দিলে তিনি চলে যাবেন মিশরে! প্রফেসর রমাদানের কোন মিশরীয় পাসপোর্ট নেই এবং তিনি শুধুমাত্র সুইজারল্যান্ডের নাগরিক। সে দেশেই তার জন্ম হয়েছে। সে দেশেই বড় হয়েছেন লেখাপড়া করেছেন বরং মিশর ও গাল্ফ রাষ্ট্রের স্বৈরাচারী শাসকদের তিনি চক্ষুশূল কারণ তাদের স্বৈরাচারী শাসনের বিপক্ষে তিনি কঠোর সমালোচক। ইউরোপ আমেরিকার বুদ্ধিজীবী মহলে তিনি একটি পরিচিত নাম । ফরাসী রাষ্ট্র ও সমাজে মুসলমানরা বিভিন্ন সময় যে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হন ও সে প্রবণতা সম্পর্কে তিনি স্পষ্টবাদী ছিলেন। সমগ্র ইউরোপের ইসলামোফোবিয়া এবং মহাদেশের দরিদ্র ও শক্তিহীনদের ক্রমবর্ধমান প্রান্তিকীকরণের বিপক্ষে ছিলেন প্রফেসর রমাদান। তাছাড়া ধর্মের নামে অতি-রক্ষণশীল মুসলমানদের গোঁড়ামি এবং মুসলিম শাসনের কর্তৃত্ববাদীতা ও স্বৈরাচারীরতা, ফিলিস্তিনিদের জমিতে ইসরাইলের অবৈধ দখল ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্য সম্পর্কেও তার কণ্ঠস্বর ছিল অতি উচ্চ।
প্রফেসর রমাদানের স্পষ্টবাদী অবস্থানের কারণে ফরাসি গণমাধ্যমগুলো এবং সে দেশের আইনী ব্যবস্থা প্রফেসর রমাদানের প্রতি তিক্ত ও আক্রোশ মনোভাবের একটি বড় কারণ হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। সমস্য হল নেতৃস্থানীয় ফরাসি সমাজ ইসলাম ও মুসলিমদেরকে সহ্য করতে কষ্ট হয় এবং তাদের সাথে যে ন্যায্য আচরণ করতে চায় না ইত্যাদি ব্যাপারে তারিক রমাদান বার বার বলে থাকেন। তিনি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থী জঙ্গিদের সন্ত্রাস উভয়ের বিপক্ষে ছিলেন খুবই সোচ্চার। তিনি বাক্পটু, স্পষ্টবাদী এবং বুদ্ধিজীবি মহলে সমালোচনা করার সাহস রাখতেন এ সব কিছুর কারণে হয়তবা তিনি অনেকের আক্রোশের শিকার হয়েছেন।
উপসহারে ড: চন্দ্রার মোজাফ্ফরের কথা দিয়ে শেষ করতে চাই,
In other words, there are different groups that would want to nail Tariq Ramadan to the wall. This is why his persecution in France is not just about antagonism towards Islam and Muslims and the determined drive to stifle rational voices that seek to expose French prejudice and bigotry. It also reveals the hypocrisy that surrounds the noble French and European ideal of the right to dissent, especially when it comes to certain fundamental issues. Or, is Tariq’s ordeal also obliquely related to Muslim authoritarianism and its ability to reach far beyond its own shores?
Given all these forces at work, how can we expect a fair and just trial for Professor Tariq Ramadan? Hence the demand of the Free Tariq Ramadan Campaign and other civil society groups and individuals for his immediate and unconditional release
অর্থাৎ বিভিন্ন গোষ্ঠী আছে যারা তারিক রমদানকে পেরেক মেরে দেয়ালে আটকিয়ে রাখতে চাইবে। এটি শুধু ফ্রান্সে তার নিপীড়ন ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি বৈরী মনোভাব নয় এবং ফরাসি পক্ষপাতিত্ব এবং ভাবাদর্শ প্রকাশের চেষ্টা করে এমন যুক্তিপূর্ণ কণ্ঠস্বর বন্ধ করার জন্য নির্ধারিত অভিযান নয় বরং এটি একটি ভণ্ডামি যা অসাম্প্রদায়িক অধিকারের উজ্জ্বল ফরাসি ও ইউরোপীয় আদর্শকে মলিন করছে। অথবা, তারিক রমদানকে বিপদে ফেলার অজুহাত এটিও হতে পারে যে স্বৈরাচারী মুসলিম শাসকদরে কর্তৃত্ববাদ এবং তার নিজের সমালোচকেরা দেশের বাইরে থাকলেও সেখানে তাদের পৌঁছাতে সক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
আর এ সব কিছুকে বিবেচনায় রাখলে কীভাবে আমরা অধ্যাপক তারিক রমদানের জন্য ন্যায্য বিচারের আশা করতে পারি বিশেষ করে ফ্রান্সের আদালতে ? সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
Reference : The incarceration of Tariq Ramadan a travesty ofjustice

মহিউদ্দিন
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮ at ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যদিও কারো ব্যক্তিগত জীবন বা চরিত্রের ব্যাপারে আমাদের পক্ষে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় তবে কমন সেন্স দিয়ে তারিক রমাদানের ব্যাপারে এটি বলা যায়, ইউরোপে বুদ্ধিজীবী মহলে তথা সুশীল সমাজে একজন আধুনিক চিন্তার ইউরোপীয় ইসলামী স্কলার তথা মুসলিম পরিচয় নিয়ে ড: তারিক রমাদান যে সম্মানজনক অবস্থানে পৌছাতে সফল হয়েছিলেন সে স্থান থেকে বহিষ্কার করার উদ্দেশ্যে তার চরিত্র হরণের অপচেষ্টা হচ্ছে বললে ভূল হবে না। তবে সে অবস্থানে পৌছে তিনি মিশর সহ আরবের স্বৈরাচারী শাসকদের সমালোচনা করায় যাদের বিরাগভাজন হয়েছেন তারা অনেক ক্ষমতাবান।
তাছাড়া এটিও এখন ওপেন সিক্রেট যে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পরে বর্তমান সমাজে যারা মুসলিম ও ইসলামের পক্ষে পাবলিক ফিল্ডে খোলাখুলি কাজ করেন বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে তারা ভাল করে জানেন যে তাদের গতিবিধি, কাজকর্ম, চলাফিরা ও ইন্টারনেট ব্যবহার সবকিছু এসব দেশে চরম নজরে রাখা হয় সেখানে মুসলিম স্কলাররা কোথায় বক্তৃতা দিতে যাবেন আর হোটেলে উঠবেন সেখানে কোন মহিলাকে ডেকে ধর্ষণ করতে ব্যস্ত হয়ে যাবেন! এরা কি হলিউডের সেলিব্রেটি নাকি? এ সব কি ফালতু কথা বার্তা?
Anonymous
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮ at ১২:৩১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Tribbo ninndha janay…..
Tariq Ramadan talent person
Mahtab
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৮ at ৯:৪১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
The west has double standard in their courts headed by France. Do not expect Tarek Ramadan to receive a just and fair trial from these court systems. We only can pray for our brothers cought in the net of these sub human courts and trials.
Wahidur Rahman
ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৮ at ৮:১১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অত্যন্ত সুন্দর তথ্যবহুল গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ।
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮ at ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এখানে একটি ভিডিও আছে দেখতে পারেন।
Kamal
আগস্ট ৭, ২০১৮ at ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মিঃ রামাদানের জ্ঞান ও বুদ্ধি ভিত্তিক কর্মতৎপরতা ও প্রকাশনা ইসলাম বিরোধী স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ফরাসি তথাকথিত সেকুল্যার মহলে হুমকি হয়ে উঠেছিলেন।
যদিও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগকারী এক মহিলার (হেন্ডা আয়ারি) দেহ অবসন্ন হওয়ার কাছাকাছি ছিল আদালত প্রাঙ্গনে। অভিযুক্তকারি মহিলার এক ভাইকে সালাম করি যিনি এগিয়ে এসে তার বোন সম্পর্কে সত্য বলেছিলেন।
https://youtu.be/S28ZW2-JceE
মহিউদ্দিন
আগস্ট ৭, ২০১৮ at ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
প্রফেসর তারিক রামাদানের ব্যাপরে ফ্রান্সের আদালতের দ্বৈত নীতি ও যথাযথ প্রক্রিয়া (due process) উপেক্ষা করা সত্যি দু:খজনক ও একটি জঘন্য ঘৃণিত কাজ!
তারিক রমজানের বিরুদ্ধের মামলা এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যা দেখে অনেকেই বলছেন এটি একটি রাজনৈতিক চরিত্র হননের অপচেষ্টার মামলা। এ বিষয়ে আল জাজিরায় প্রকিশিত এই নিবন্ধটি পড়া দরকার।