«

»

May ১৯

গ্রিন মিন্ট টি - পুদিনাপাতার সবুজ চা

আমাদের দেশে খুব কম মানুষ পাওয়া যাবে যিনি দিনে একবার হলেও চা পান করেন না। চা পানের অভ্যাস যে কত ব্যাপক ভাবে আমাদের দেশে প্রচলিত তার প্রমাণ বড় বড় শহরের বড় বড় হোটেল, রেস্টুরেন্ট থেকে গ্রামে, গঞ্জে, হাটে, বাজারে মায় শহরের অলি গলিতে চা বিক্রেতা এবং চা পানে রত মানুষজনদের অহরহ দেখতে পাওয়া যায়।

শুনেছি ব্রিটিশ আমলে সিলেটের জঙ্গলে চা পাতার গাছ আবিষ্কার হবার পর থেকে ব্রিটিশরা সিলেট এলাকার পাহাড়ে বাণিজ্যিক ভাবে চায়ের চাষ শুরু করে। উৎপাদিত চাপাতা তাঁরা ব্রিটেনে নিয়ে যেত এবং সেখানে নিয়ে প্যাকেট জাত করে বিক্রি করত। সিলেটে চা উৎপাদিত হলেও তিক্ত কটু স্বাদ যুক্ত এই পানীয় চা এই দেশের মানুষ পান করতে উৎসাহী ছিলোনা। কারণ শুধু চা পাতা সিদ্ধ পানির তিক্ত স্বাদ স্থানীয় মানুষকে টমেটো খাবার মত চা পানে আগ্রহান্বিত করতে পারেনাই। যে ভাবে ব্রিটিশরা টমেটো দিয়ে ক্যাচাপ বানিয়ে সিংগাড়া/সমুচার সাথে চাটনির মত ব্যবহার করে টমেটো খাবার অভ্যাস করেছিল, ঠিক সেই ভাবে ব্রিটিশরা চায়ের সাথে গরুর দুধ এবং চিনি মিশিয়ে চা তৈরির প্রক্রিয়া চালু করার পর জনগণ চা পান করতে এগিয়ে আসে।

কর্ম উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চায়নিজ’দের সাথে কাজ করতে হয়েছিল। তখন দেখেছি যে, চায়নিজ’রা পানের জন্য শুধু সাদা পানি ব্যবহার খুব কম করে। তারা প্রতিদিন বড় বোতলে করে চাপাতা সিদ্ধ পানি কর্মস্থলে নিয়ে আসত। যখন পিপাসা পেত তখন সেই বোতল থেকে চাপাতা সিদ্ধ পানি পান করত। ঐ পানিতে কোন চিনি বা দুধ মিশান থাকতনা। আমি লক্ষ্য করেছি আমার চায়নিজ সহকর্মীদের মধ্যে খুব কম লোক ছিল যারাদের ভুঁড়ি ছিল।

আমি যখন ১৯৯৩ সালে ৩রা অক্টোবর মরক্কোতে গেলাম, তখন পরিচিত হই-এচাই/এতাই/এটাই এর সাথে। মরক্কোতে কিন্তু কোন চাবাগান নেই সেখানে কোন চা উৎপাদন হয়না বা প্যাকেটজাতও করা হয়না। তথাপি চা হচ্ছে তাঁদের প্রধান পানীয়। তাঁদের জন্ম- মৃত্যু –বিয়ে- বিষাদ/আনন্দের যত পারিবারিক এবং সামাজিক অনুষ্ঠান আছে তাতে অতিথি আপ্যায়নে চা থাকতে হবে। চা পান যেই সেই ভাবে শুধু পান করে কর্ম খালাস নয়, এই চা তৈরি করা, পরিবেশন করা, চায়ের জন্য বিশেষ বিশেষ দৃষ্টি নন্দন পাত্রের ব্যবহার তাঁদের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন কি ঘরে, রেস্টুরেন্টে নাস্তা বা খাবার দাবার সময় সাদা পানি পান না করে অনবরত এই এচাই/ এতাই পান করে যায়। তাঁদের দেশে বেশীর ভাগ চা চায়না থেকে আসে এবং আরও আসে শ্রীলংকা থেকে। বাংলাদেশে যে চা উৎপাদন হয় সে সেদেশের খুব কম মানুষ জানে। ব্রিটেন থেকে লিফটন লেভেলের টি ব্যাগ তাঁদের দেশে পাওয়া যায় সে দেশের মানুষের কাছে নিগ্রো চা বলে প্রচলিত। কেউ যদি চায়ের দোকানিকে বলে- নিগ্রো নিয়ে আস তখন কালো চা নিয়ে আসবে।

তাঁদের দেশে দীর্ঘ ১০ বছর ছিলাম এবং মরক্কান নারী আমার স্ত্রী হবার কারণে সে এচাই পান আমারও অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। মরক্কানদের এ এচাই বা এতাইকে ইংরেজিতে মিন্ট টি বলে। বাংলাতে এই চায়ের কোন প্রতিশব্দ প্রচলিত নেই যা সংক্ষিপ্ত ভাবে এই বিশেষ চায়ের পরিচয় জ্ঞাপন করতে পারে। আমরা এই চা’কে “পুদিনা-চা” বলতে পারি। এই চা গ্রিন লেভেল চা’য়ের সাথে পদিনা পাতা এবং চিনি দিয়ে তৈরি করতে হয়।

গ্রিনটি এখন আমাদের শহরের বড় বড় দোকান গুলোতে পাওয়া যায়। পুদিনাপাতাও আমাদের হাটে বাজারে পাওয়া যায়। কেউ চাইলে বাসা বাড়িতে তা চাষ করতে পারেন। খুব সহজে পুদিনা চাষ করা যায়। যেহেতু আমাদের পরিবারে পানীয় হিসাবে পুদিনার চা আবশ্যকীয় তাই আমার বাগানবাড়ীতে ব্যাপক ভাবে তা চাষ করে যাচ্ছি।

অনেকে হয়তো জানতে চান যে গ্রিন টি কি? বাজারে বিভিন্ন রং এর চা দেখতে পাওয়া যায়, যেমন- লাল, কাল, হলুদ এবং সবুজ। ইংরেজিতে বলে-রেড লেভেল, ব্ল্যাক লেভেল, ইয়েলো লেভেল এবং গ্রিন লেভেলটি। নামে গ্রিন লেভেল হলেও ভাবতে যাবেন না যে, এই চাপাতা বোধহয় প্রকৃত প্রদত্ত সবুজ রং এর হয়ে থাকে। না, আমরা যে দৈনন্দিন চা পান করে আসছি এই সবুজ চাও সেই একই পাতা থেকে তৈরি হয়ে থাকে। সাধারণতঃ চাপাতা বাগান থেকে সংগ্রহ করে কারখানায় নিয়ে এসে পাতা গুলোকে মেশিনে ফেলে ছাতু করা হয়, পরে সূর্যে তাপে বা ড্রাইয়ার মেশিনে ফেলে তা শুকানো হয়, পরবর্তীতে বিভিন্ন মাপের চালুনিতে ফেলে বাজারে বিক্রয়ের জন্য তৈরি কর হয়ে থাকে। এই গ্রিন চা হচ্ছে বাগান থেকে সংগ্রাহ করা পাতাকে প্রথমেই একটি নির্ধারিত মাত্রার গরম পানিতে একটি নির্ধারিত সময়ে ভাপ দিয়ে নিয়ে সেই পানি থেকে পাতা ছেকে নিয়ে শুকিয়ে নিতে হয়। এরপর বিক্রয়ের জন্য উপযোগী করা হয়ে থাকে। আপনারা এবার নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন এই গ্রিন লেভেল টি হচ্ছে আমাদের সাধারণ চা’য়ের মাইল্ড ভার্সন। কাজেই কেউ যদি গ্রিন লেভেল টি হাতের কাছে না পান তিনি রেড লেভেল কিংবা ব্ল্যাক লেভেল চা’য়ের পাতাকে ছাকনিতে রেখে গরম পানি দিয়ে কিছুক্ষণ ড্রেন করে নিয়ে যখন দেখবেন যে চা’য়ের রং কালো বা লাল থেকে হালকা রং ধারণ করেছে তখন সেই পানিটুকু ব্যবহার করলেই গ্রিন লেভেলের মত হয়ে যাবে।

আমার বাগানবাড়ীতে একবার গ্রিনটির সংকটে পড়ি তখন আমার বাগানবাড়ির থেকে আধা কিলোমিটার দুরের বাগান থেকে সামান্য কিছু ফ্রেস চাপাতা সংগ্রহ করে আনি এবং সেই কাচা পাতাকে গরম পানিতে মিনিট খানেক রেখে ছেকে রুদ্রে শুকিয়ে নিয়ে গ্রিনটি হিসাবে ব্যবহার করেছিলাম, স্বাদে গন্ধে কোন ফারাক পাইনি।

বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির গ্রিনটি খুচরা এবং টি-ব্যাগে পাওয়া যাচ্ছে। আমি KKK কোম্পানির চা কিনে থাকি দামে যেমন সস্তা মানে তেমন ভাল । ৪০ টি ব্যাগের প্যাকেট মাত্র ১১০ টাকা।

গ্রিন মিন্ট টি কি করে তৈরি করবেন তা বলছি-

পানি গরম করে নিন। গ্লাসে/কাপে টি-ব্যাগ ঢালুন, পরিমাণ মত চিনি দিন, ডাটা সহ ৮/১০টি পুদিনাপাতা দিন। পানি যখন ফুটে উঠবে তখন গ্লাসে/কাপে গরম পানি ঢালুন। ২ থেকে ৩মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর পান করুন। আমি অবশ্য কাপে চা তৈরি না করে হাতল বিহীন পানি পানের গ্লাসে করি। কারণ গরম গ্লাসের স্পর্শ আমাকে চা পানের আলাদা অনুভূতি এনে দেয়। কেউ আমার মত গ্লাসে চা পান করতে গিয়ে কিন্তু হাত পুড়লে আমাকে দোষ দিতে পারবেন না। যারা গ্লাসে চা পান করে চা পানের অনুভূতি হাতে আঙ্গুলে পেতে চান তাদেরকে বলছি- আপনার দুটি গ্লাস ব্যবহার করুন । এক গ্লাসে চা তৈরি করে অন্য গ্লাসে ঢেলে নিন তাহলে নতুন গ্লাসে আঙ্গুল দিয়ে ধরলেও আঙ্গুল পুড়ে যাবার ভয় থাকবেনা। যারা শীত প্রধান দেশে আছেন তাঁরা কাপের মধ্যে চা পান না করে গ্লাসের মধ্যে চা পান করে দেখবেন। আমাকে আর কিছু না দেন ধন্যবাদ যে দিবেন সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

যারা চিনি খান না তাঁরা চিনির বিকল্প ব্যবহার করতে পারেন। আমি চিনি বিকল্প DIA SUGAR ব্যবহার করে আসছি।

খুচরা গ্রিন লেভেলে/ রেড লেভেল দিয়ে চা তৈরি করতে হলে কেটলিতে পানি গরম করে নিয়ে পানি ফুটে উঠলে কাপ প্রতি এক চা চামচ হিসাবে পাতা ঢালুন, চিনি ঢালুন, পুদিনাপাতা ঢালুন। মাত্র ২/৩মিনিট রাখুন। বেশিক্ষণ পুদিনা পাতা জ্বালে রাখলে পুদিনার সুবাস হারাবেন বং চা তিক্ত হয়ে পড়বে। তবে কোন ধরণের অসুস্থতার ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করতে চাপাতা ১০ মিনিট পর্যন্ত রাখা যায়, তখন পুদিনা পাতাকে ৭মিনিটের মাথায় পাত্রে ঢালতে হবে।

গ্রিন মিন্ট টি পানে উপকারীতা:

১। কলেস্ট্ররেল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়।
২। ক্লান্তি নিবারণ হয়।
৩। মাথা ব্যথা, শরীরের ব্যথা, পেটের ব্যথার উপশম হয়।
৪। ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
৫। শরীরের চামড়াকে টান টান সতেজ রাখে মানে বয়সের কারণ চমাড়াকে কুঁচকে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
৬। রক্তনালীকে শীতল করে ব্লাড প্রেশার কম রাখতে সাহায্য করে।
৭। চায়ের পাতায় আছে প্রচুর পরিমাণ পলিফেনন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং পুদিনাপাতেও প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে যা দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। এ ছাড়া চা পাতায় রয়েছে ফ্লোরাইড, যা দাঁতের ক্ষয়রোগ করে। তাই দাঁতের ক্ষয়রোধ সহ মাড়ি ও দাঁতের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা এড়াতে দিনে অন্তত চার থেকে পাঁচ কাপ গ্রিন টি পান করুন।
৮। ঠাণ্ডা লাগা বা শীতকালীন ঠাণ্ডাজনিত সমস্যার জন্য দায়ী এডিনো ভাইরাস-এর বিস্তার রোধে সবুজ চায়ের ইজিসিজি নামক এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ সাহায্য করে। গ্রিন টি যত বেশি গাঢ় হবে (আমরা যাকে বলি কড়া চা) তত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হবে। বিশেষজ্ঞগণ আরো দেখেছেন গ্রিন টি গরম পানিতে অন্তত ১০ মিনিট রেখে দিলে প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধক রাসায়নিক যৌগ বেশি নিঃসৃত হয়।
৯। কফ-কাশিতে আমরা সাধারণত এক্সপেক্টোরেন্ট জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকি। এক্সপেক্টোরেন্টের কাজ হলো গলা থেকে কফ বের করে দেয়া। কিন্তু এর একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। এসব ওষুধ খেলে ঘুম ঘুম ভাব হয়। তাই এর বিকল্প হিসেবে আপনি গ্রিন মিন্ট টির সাহায্য নিতে পারেন।
১০। খাবার কারণেখাবার কারণে পেট গরম হয়ে গেলে পেটের ভিতরকে ঠাণ্ডা করতে সহায়ক হবে।
১১। কৃমির অভয়ারণ্য প্রতিরোধ কৃমির অভয়ারণ্য প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে।
১২। জ্বর তাপ, অসুখে ভোগে মুখের স্বাদ কমে গেলে স্বাদ বাড়াতে সাহায্য করবে।

দিনে কত বার পান করতে হবে?
দিনে কম করে তিন বার এর উপরে যত কাপ পান করতে পারেন করতে পারবেন তাতে লাভ ছাড়া কোন ক্ষতি হবেনা। প্রথম কয়েকদিন অভ্যাসের জন্য পান করতে অসুবিধা হলেও পরে গ্রিন মিন্ট টি ছাড়া অন্য চা পান করে স্বাদ পাবেন না।

[ভাইগণ, কেউ কপিরাইটের বন্দুক তাক করে আমাকে ঘায়েল করবেন না প্লিজ! আমি এই লেখায় নিজের অভিজ্ঞতা এবং নেট থেকে বিভিন্ন লেখকের লেখার সাহায্য নিয়েছি।]

২৮ comments

Skip to comment form

  1. 1

    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    আপনি যে ইমেইল পাঠিয়েছেন, সেখানকার কন্টেন্ট ও এখানে পাবলিশড কন্টেন্ট একই আছে।  আপনি কিছু মিসিং পেলে সে অংশটুকু মন্তব্যের ঘরে দিন। সেখান থেকে ব্যবস্থা নেব।

    সুখপাঠ্য লেখাটি আগ্রহ নিয়ে পড়লাম। গ্রিন মিন্ট টি পানে উপকারিতার পড়ে কবিরাজী চিকিৎসার কথা মনে পড়ছে। কোন রোগের কি লক্ষণ পড়লে যেমন মনে হয়- হায় হায়!, আমার তো মনে হয় এই রোগ আছে। তেমনি কবিরাজি চিকিৎসায় নিমের,  হরিদ্রার, পাথর কুচি পাতা, ইত্যাদির উপকারিতা পড়লে প্রায় সর্ব রোগের মহৌষধ বলে মনে হয়!

    মুনিম সাহেব, ‘নেট থেকে’ রেফারেন্স হয়না। মাছ পানি থেকে ধরেছি না বলে, কি মাছ কোন নদী থেকে ধরেছেন সেটি বলুন।

    আপনার মিন্ট বাগানের একটা ছবি লেখাটির জন্য বল বর্ধক হতে পারে।    

    1. 1.1

      এস. এম. রায়হান

      উনার ব্রাউজারে সমস্যা।

    2. 1.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      আমার ফায়ারফক্স ব্রাউজার খুব স্লো হয়ে পড়ার আমি এখন গুগল ব্রাউজার ব্যবহার করছি, গুগল ব্রাউজারে সব লাইন আসেনা(!) যাক ফায়ারফক্সে আসতেছে। দেখবেন তা কি সদালাপের নতুন ভার্সনের জন্য হচ্ছে কিনা?

      মুনিম সাহেব, ‘নেট থেকে’ রেফারেন্স হয়না। মাছ পানি থেকে ধরেছি না বলে, কি মাছ কোন নদী থেকে ধরেছেন সেটি বলুন।

      দেখুন লিখাটি পড়ে বুঝেছেন যে এই লেখায় ৯৫ % আমার একান্ত অভিজ্ঞতার কথা আমি উল্লেখ করেছি, তাই এইখানে রেফারেন্স তো কি করে দেব? আর পুদিনা খেলে কি হয়, গ্রিনটি পান করলে কি হয় এই বিষয়ে নেটে ১০ বা ততোধিক পোস্ট পাওয়া যাচ্ছে এবং কয়েকটি হুবহু এক কিন্তু নাম আলাদা। কাজেই এইখানে কোন নদীর মাছ শনাক্ত আমি করব তা ভেবে পাচ্ছিনা। আর কোন বিষয়ে যদি আমি একলাইন বা ২ লাইন কপি করি সেখানে রেফারেন্স দিতে হবে কেন তা আমি বুঝতে পারছিনা। যেমন কেউ যদি লিখে সূর্য পূর্ব দিকে উদয় হয়, চুরি করা মহাপাপ, তরকারীতে লবণ দিতে হয় ইত্যাদি এই গুলো তো কারো মৌলিক আবিষ্কার নয় তাহলে এই ধরণের বাক্য টাইপের কাজ কমানোর জন্য কপি করলে অপরাধ কেন হবে আমি বুঝতে পারছিনা।

       

      আপনার মিন্ট বাগানের একটা ছবি লেখাটির জন্য বল বর্ধক হতে পারে।    

      এই মুহুর্ত্যে আমি ঢাকায় আর পুদিনার বাগান বাগানবাড়ীতে কাজেই আপনার ইচ্ছা পূর্ণ করতে পারছিনা বলে দুঃখিত! তবে ২ বছর আগে আমার বাগান বাড়ির তোলা একটি ফটোতে আংশিক কিছু পদিনার গাছ দেখতে পাবেন।https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10151008070320106&set=a.10150384554760106.611306.607835105&type=3&src=https%3A%2F%2Ffbcdn-sphotos-f-a.akamaihd.net%2Fhphotos-ak-frc1%2F387427_10151008070320106_1440323334_n.jpg&size=960%2C720 মনে রাখবেন পদিনা বৃষ্টি সহ্য করতে পারেনা তাই বর্ষাকালে তা মরে যায়। আমি বর্ষাকালে বর্ষা থেকে তাঁদের রক্ষা করতে ঘরের দক্ষিণ পাশের দেয়াল ঘেষে চাষ করি যাতে বৃষ্টি এবং গরমের সময় রোদের তাপ থেকে রক্ষা পেতে পারে। আর বাগান বাড়ির ফুল বা অন্যান্য গাছে ফটো দেখতে হলে আমার ফেসবুকের আপলোড করা ফটোগুলো দেখতে পারেন। আর যদি বাংলাদেশে আসেন তবে দাওয়াত রইল আমার বাগান বাড়ি ঘুরে যাবার জন্য। ধন্যবাদ।

       

  2. 2
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    একটা বিষয় মোটামুটি নিম্চিত যে আপনার সাথে দেখা হলে গ্রীন মিন্ট চা এক কাপ পাওয়া যাবে:) 

    1. 2.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      দেশে আসলে ঘুরে গেলে আমি খুশী হব। শুধু পুদিনাপাতার চা নয়, সাথে থাকবে নুনতা পিঠা। বিননি চালের ভাপানো ভাত, সাথে পুকুরের তেলাফিয়া মাছ ভাজি। সাথে থাকবে কারিপাতার ডাল, টক তরকারী, সজনার ছালের ভর্তা, কলার থুরের কোপ্তা, হোম মেড পিঠাব্রেড এবং কাট কয়লায় ঝলসানো কাবাব।

      ধন্যবাদ।

  3. 3
    এম ইউ আমান

    গ্রিন মিন্ট, চা না ঔষধ? 🙂  চা বা ঔষধ যাই হোক না কেন, মুনিম সাহেবের হাত থেকে খাওয়ার মজাই হবে আলাদা।

    1. 3.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      @এম ইউ আমান: বুঝা যাচ্ছে যে আমার তৈরি ব্লগে এইটি ঔষধ না চা আপনার কাছে পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছি!  যাক এইটি ঔষধ এইটি চা পুদিনাপাতা এবং গ্রিনটির মিশ্রনে তৈরি যাতে ঔষধিয় উপাদান রয়েছে। আর আমি দিনে ৫ বার সে চা পান করে থাকি। আমার বাসায় কিংবা বাগান বাড়িতে মেহমান আসলে তাদেরকে পুদিনারপাতার তৈরি চা দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকি। দেশে আসলে সিদ্দিকীবাদ ঘুরে যাবেন। ধন্যবাদ।

       

  4. 4
    ভানু ভাস্কর

    শ্রদ্ধেয় মুনিম ভাইয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম- যুগীবিল (বানান ভুল হতে পারে)। ছবির মত বাগানবাড়িটিতে পুদিনা পাতার খামার আছে জানলে, যদিও চা খাইনা, এক কাপ নিশ্চয় ট্রাই করতাম!

    1. 4.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      @ভানু ভাস্কর: বাড়ির নাম সিদ্দিকীবাদ, গ্রাম- যোগীবিল, ইউনিয়ন আলীনগর,উপজেলা-কমলগঞ্জ জেলা -মৌলভী বাজার।

      হ্যা ভাই আপনি এসেছিলেন সেদিন আমি ছিলামনা। তাই আপনাকে সমাদর করতে পারিনি। আমার বাড়িতে দেশী বিদেশী অনেকই এসেছেন আরও আসবেন, সে আশা রাখি। আমি চাই আমার গ্রামকে আমার গ্রামের মানুষকে সবাই জানুক চিনুক। আবার যখন সময় হবে আমাকে জানাবেন।  ধন্যবাদ।

  5. 5
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    কি করলেন মুনিম ভাই…..দিলেনতো লোভ লাগায়া! এখন এই গ্রীণ মিন্ট টি পান করতেই হবে তাও রোজ!!!

    অনেক ধন্যবাদ ভাই।

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পান করে দেখুন যদি ঠিক মত তৈরি করতে পারেন তাহলে আমার মত অভ্যাস হয়ে যাবে।

  6. 6
    শামস

    মিন্ট দেখতে যত ভাল লাগে খাইতে ততো ভালো লাগে না। তবে চা এর সাথে টা (আতিথেয়তার) কারণে ভালো লাগবে হয়তো!

     

    1. 6.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আমি যে ভাবে তৈরি করতে নির্দেশিকা দিয়েছি সেভাবে তৈরি করে পান করে দেখুন। ভাল লাগবে। কাচা পাতার ঝাঝালো গন্ধ এবংতিতা স্বাদ পাবেন না। পাবেন মিষ্টি সুরভিত পানীয়। ধন্যবাদ।

  7. 7
    শামস

    চাইনীজদের বোতলে যে পানি খেতে দেখেছেন সেখানে 'গ্রীণ টি'র শুকনো পাতা থাকে।

     

    1. 7.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ঠিক বলেছেন।

  8. 8
    Engl

    দুধ চিনি দিয়ে কফি গাঢ় না হলে, চা কড়া না হলে ভালো লাগে না। লিকার টি সহ্য হয় না, পাতলা কফি দেখলে মনে হয় হিসু। চেষ্টা করে দেখেছিলাম কিন্তু চালিয়ে যেতে পারি নাই। গ্রিণ টি, মিন্ট টি, লিকার টি কেউ অফার করলে বলি চা খাই না।

    1. 8.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আমি হালাল জিনিষ হলে জীবনে একবারও হলে ট্রাই করে দেখে নেই জিনিসটি স্বাদ কেমন? তারপরও টেস্ট করে যদি খারাপ অনুভুতি হয় তাহলে মানুষজনদেরকে সে অনুভুতির কথা শেয়ার করে জানতে চাই আমার এই অনুভুতির মত তাঁদের কাছে ও কি সেইম অনুভুতি হয়েছিল? যদি বলেন হ্যা তাহলে বুঝি আমার অনুভুতি সত্য আর যদি বলেন উল্টা তাহলে আবার অন্য কোথাও সেটি টেস্ট করে নেই।

      মরক্কোতে আমার ওয়াইফ জানিয়েছিলেন যে, পেপে তিনি খেয়েছেন তবে কোন স্বাদ পান নাই তাই এই পেপে তিনি জীবনে আর খাবেন না।  আমি জিজ্ঞাস করলাম- তোমাদের দেশে তো পেপে জন্মে না তাহলে তুমি কেমন করে তা পেলে? জানায় মদিনায় (সিটিতে) পাওয়া যায়। একদিন তাকে নিয়ে গেলাম সেখানে। দেখি সরবতের দোকান। সেখানে সব ধরণের ফল আছে। পেপেও আছে, তবে পাকা পেপে নয় কাচা পেপে বাসী হওয়া বিবর্ণ হলুদ। বুঝতে পারলাম কারণ কোথায়। হান্নান ভাইকে লন্ডনে ফোন করে জানালাম -- আসার সময় যেন ভাল দেখে পাকা পেপে নিয়ে আসেন। যথা সময়ে হান্নান ভাই পেপে নিয়ে আসেন। আমার ওয়াইফ জিজ্ঞাস করে জিনিসটি কি ? আমি নাম বলি নাই , সে চিনিতে পারেনি কারন পেপেটি পেকে লাল হয়ে গেছিল। আমি নিজ হাতে কেটে এক টুকরো থাকে দেই বলি বিসমিল্লাহ্‌ করে টেস্ট করে দেখতে। মুখে দিয়ে হাসি দেয় বুঝতে পারি ভাল লেগেছে। জিজ্ঞাস করি- বিনিন?(মজা) জবাব দেয়- জেফ বিনিন(খুব মজা)। জাজ  জ

      জিজ্ঞাস করি জানো এইটি কি ফল? মাথা নাড়িয়ে বলে, না। আমি বললাম পাপাইয়া(পেপে)। সে অবাক

      সে অবাক হয় শুনে। বললাম তোমার দেশে যে  পেপে অন্য দেশ থেকে আসে তা পাকা নয়, তাই সে গুলোতে কোন মজা পাওয়া যায়না।

      তো হুজুর আপনি বুঝতে পারছেন আমি কি বলতে চাচ্ছি?

      ধন্যবাদ।     

  9. 9
    এম_আহমদ

    ভাই পদিনাকে শাকের মত ছোট-মাছ দিয়ে রান্না করে খাওয়া হয়। এভাবে খেয়েছি। আবার লেট্যাসের (lettuce) মত অন্য খাবারের সাথে পাতা খেয়েছি। কিন্তু কোনোদিন চা বানিয়ে খাই নি। আপনার ব্লগটা দেখে দোকান থেকে পদিনা কিনে আনলাম। গত রাতে দুধ চিনি ছাড়াই দুবার খেলাম। … তো মুঠামুটি খারাপ লেগে নি। বরং বলবো কেমন যেন নতুন-কিছু লেগেছে। দেখি কয়েকদিন খেয়ে কেমন লাগে। 

    1. 9.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      চালিয়ে যান। তা শরীরের ব্যথা বেদনা ক্লান্তি দূর করার সাথে সাথে শরীরের ওজন কমাতেও সাহায্য করবে। আমার ওজন ৯৭ কেজি হয়ে গিয়েছিল। এখন ৭৭ কেজিতে নামিয়ে আনতে পেরেছি। তবে ভাববার অবকাশ নেই যে শুধু এই গ্রিন মিন্ট চা পান করে ঐ ওজন টুকু কমে গেছে! 

      আমি আমার খাদ্যাভ্যাস বদল করে ফেলেছি-

      ১।সকালে গ্রীন টি পানের পর আধা বাটি ছাতুর জাউ(কুয়েকার)

      ২।১১টায় গ্রীন মিন্ট চা ৩টি সল্টেস বিস্কুট।

      ৩।দুপুরে এক চামচ ভাত, এক পিস মাছ/ মোরগের মাংস,এক চামচ সবজি, তিন চামচ ডাল।

      ৪।বিকাল ৫টায় গ্রীন মিন্ট চা ৩টি সল্টেস বিস্কুট বা ৫০ গ্রাম বাদাম।

      ৫।বিকাল ৭টায় গ্রীন মিন্ট চা ১ বাটি মুড়ি সাথে সামান্য চানাচুর।

      ৬।রাত ১০টায় আধা প্লেট সালাদ, কয়েকটি অলিভ, তিন চামচ ডাল, এক পিস মাছ।

       

  10. 10
    মুনিম সিদ্দিকী

    https://www.facebook.com/photo.php?fbid=10151848343850106&set=a.10150384554760106.611306.607835105&type=3&src=https%3A%2F%2Ffbcdn-sphotos-f-a.akamaihd.net%2Fhphotos-ak-ash4%2F303626_10151848343850106_1745377152_n.jpg&size=960%2C720

  11. 11
    ইমরান হাসান

    অসাধারণ একটা আর্টিকেল লিখেছেন বড় ভাই।   খেয়ে দেখতে হবে তো এই গ্রিন টী 🙂 

    1. 11.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      অসংখ্য ধন্যবাদ। 

  12. 12
    পাভেল আহমেদ

    পুরা একখান চা নামা লেইখা ফালাইসেন! :p

  13. 13
    rafiul

    ধন্যবাদ ভাই। তবে একটা প্রশ্ন আছে। গ্রীন

    টি কেন সেদ্ধ করে শুকিয়ে খেতে হবে ডাইরেক্ট কাচা পাতা সেদ্ধ করে ওই পানি পান করা যায় না কেন।

    1. 13.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      কেন কাচা পাতা সেদ্ধ করে এই পানি পান করেনা, তার উত্তর তো আমার জানা নেই। তবে সিদ্ধ করেই সাধারণ কেক গ্রিন টি তে রূপান্তর করা হয়। সিদ্ধ ছাড়া গ্রিনটি গ্রিনটি হয়ে উঠেনা।

      এখানে টি স্পেশালিষ্টরা বলতে পারবেন কাচা পাতা সিদ্ধ করা কারণে চায়ের পাতা থেকে কি কি ক্ষতিকারক উপাদান বের হয়ে যায়। আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারার জন্য দূঃখ প্রকাশ করছি। ধন্যবাদ।

  14. 14
    আব্দুশ শাকুর সুফিয়ান

    অনেক দিন যাবৎ পুদিনা পাতা খুঁজচি কিন্তু কোথাও পাচ্ছি না৷

  15. 15
    আব্দুশ শাকুর সুফিয়ান

    অনেক দিন যাবৎ পুদিনা পাতা খুঁজচি কিন্তু কোথাও পাচ্ছি না৷

  16. 16
    Sohidul

    ধন্যবাদ এ ধরনের একট‌ি অার্ট‌িকেল লেখার জন্য। অন‌েক কিছু জানত‌ে পের‌েছি

Leave a Reply

Your email address will not be published.