এই পোস্টের উদ্দেশ্য: যারা নাস্তিকতা নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছেন তাদের কাছে নাস্তিকতা একটি মাকাল ফল [অযৌক্তিক, অমানবিক, ও অন্ধ ডগম্যা] বৈ কিছু নয়। কিন্তু যাদের কাছে নাস্তিকতা মানে 'জ্ঞানগর্ভ', 'যুক্তি-প্রমাণ-বিজ্ঞান-নির্ভর', ও 'প্রগতিশীল' কিছু একটা হিসেবে বিবেচিত হয় তাদের এই অজ্ঞতা বা ট্যাবুকে ভেঙ্গে দেওয়া। তাছাড়া কিছু মুক্তমোল্লা চ্যালা নাকি সদালাপের লেখা পড়ে বিনোদিত হয় আর হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খায়। কিন্তু সদালাপের লেখা থেকে বিনোদিত হওয়ার বা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার মতো কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারে না। ইসলাম ও মুসলিম-বিরোধী ভাইরাসে আক্রান্ত হলে যা হয় আরকি।
এবার আস্তিকদের কিছু প্রশ্ন আর নাস্তিকরূপী মুক্তমোল্লাদের জবাব দেখা যাক…
১. সামু ব্লগে আফিফা মারজানা নামে একজন ব্লগার নাস্তিক্যবাদের ১০টি গুণ জানতে চেয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেই পোস্টে মুক্তমোল্লা নাস্তিকদের মধ্যে অন্যতম একজন এসে কী জবাব দিয়েছে তা ভালো করে দেখুন। জানতে চাওয়া হয়েছে কী, আর জবাব দেওয়া হয়েছে কীভাবে - তা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তো অনেক মুরিদ-পরিবেষ্টিত সেই বিখ্যাত মুক্তমোল্লা নাস্তিকের প্রথম জবাবটি দেখা যাক-
আসলে ঠিক কি গুন জানতে চাচ্ছেন জানাবেন? মানে নাস্তিক্যবাদ গ্রহণ করলে মৃত্যুর পরে হুর গেলমান মদের সমুদ্র ফলমূল এসব পাওয়া যাবে কিনা? এসব গুন হয়ে থাকলে আপনার নাস্তিকতার দিকে না যাওয়াই ভাল। নাস্তিক্যবাদে ওসব নেই। তার উপরে মোটা মোটা বই পড়তে হবে, খুবই ঝামেলার কাজ।
মোটা মোটা বই পড়তে হবে… 😛 😀 😛 তার বাকি মন্তব্যগুলো নিজ দায়িত্বে পড়ুন!
২. মুক্তমোল্লা ব্লগে একজন প্রশ্ন করেছে-
পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার এত বৎসর পর কৃত্রিম প্রাণ তৈরি করল বিজ্ঞানীরা। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা মানব ও অন্যান্য প্রাণী বা উদ্ভিদ যে প্রাণ নিয়ে চলছে সেটা কে সৃষ্টি করেছে?
এই প্রশ্নের জবাবে এক মুক্তমোল্লা বলেছে-
আরজ আলী মাতবরের রচনা সমগ্র পড়ুন উত্তর পেয়ে যাবেন।
😛 😀 😛
নোট: বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম প্রাণও তৈরি করেননি। প্রাণ আসলে তৈরি করা যায় না।
৩. মুক্তমোল্লা ব্লগে এক আস্তিক প্রশ্ন করেছে-
সবাইকে আমি একটা চ্যালেঞ্জ দিলাম- পারলে ইসলামের চেয়ে ভাল, মানুষের জন্য একটা বিধান নিয়ে আসেন… আপনারা ইসলামের এই ভুল সেই ভুল ধরেন, ভালো্ - এত উত্তর দেবার আর দরকার নেই, এবার নিজেরা একটা বিধান দিন। বলুন মানুষকে তারা কিভাবে চলবে?
এক মুক্তমোল্লা এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন এভাবে-
ইসলামসহ অন্য সব ধর্মকে দুনিয়া থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিন, তারপর যা বাকী থাকবে সেটাই মানুষের জীবনযাত্রার সঠিক বিধান।
😛 😀 😛 এই মুক্তমোল্লা একজন বাম নাস্তিক। বাম নাস্তিক হিসেবে তার নিশ্চিতভাবেই জানার কথা যে, কম্যুনিস্ট-অধ্যুষিত দেশগুলোতে বিশেষ করে স্ট্যালিনের রাশিয়াতে সব ধর্মকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হয়েছিল। তার কাছে প্রশ্ন: বর্তমানে সব ধর্মকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হলে মানুষের জীবনযাত্রার সঠিক বিধান হিসেবে কী কী অবশিষ্ট থাকবে যেগুলো ধর্ম থেকে আসেনি? সুস্পষ্টভাবে উল্লেখপূর্বক একটি লিস্ট দিতে পারবে কি-না? চ্যালেঞ্জ থাকলো।
৪. মুক্তমোল্লা ব্লগে এক আস্তিক প্রশ্ন করেছে-
কিভাবে নিজেকে আপনারা নাস্তিক বলেন? কোন বিজ্ঞান মেনে?
এই প্রশ্নের জবাবে এক মুক্তমোল্লা বলেছে-
আপনার প্রশ্নের জবাব এই দুটি ভিডিও তে খুঁজে পাবেন।
Definitions 1 – Atheist
The burden of proof
😛 😀 😛 নিজের মাথায় কিছু নাই! প্রশ্নের সাথে অপ্রাসঙ্গিক দুইটা ভিডিওর লিঙ্ক মাইরা পিছলাইয়া যাওয়া হইছে!
পাঠক! মুক্তমোল্লা নাস্তিকদের এ'রকম 'জবাব' আরো ডজন ডজন দেখানো সম্ভব। তবে বুদ্ধিমানদের জন্য নাকি কিছু ঈশারা-ইঙ্গিতই যথেষ্ঠ।
এ-পর্যন্ত এসে মুক্তমোল্লাদের অতি বিশ্বস্ত মুখপাত্র আঃ সাহেব হয়তো রাগে-ক্ষোভে মাথার চুল ছিঁড়বেন আর বলবেন, "ওসব যদু-মদু'দের কথা বাদ দেন। আমার দেবতুল্য গুরুজীর পকেটে আস্তিকদের সকল প্রশ্নের দাঁতভাঙ্গা জবাব রাখা আছে। আমি নিজ চোখে সেগুলো দেখেছি।" তো দেখা যাক, মুক্তমোল্লা নাস্তিকদের দেবতুল্য গুরুজী কীভাবে প্রশ্নের জবাব দেয়।
৫. মুক্তমোল্লা ব্লগে এক আস্তিক বলেছে-
আমার কাছে একটা ব্যাপারই অবাক লাগে। সেটা হলো নাস্তিকেরা অনেক কথাই বলেন। কিন্তু এমন একটা ভালো কথা বলতে পারেন না, যেটা কোনো ধর্ম গ্রন্থে উল্লেখ করা নেই। এমন একটা নৈতিকতার বুলি ছাড়তে পারেন না, যেটা একেবারেই নতুন। মুখে যদি বলা হয় আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করিনা, আমি ইশ্বরের আওতার বাইরে, তাহলে সেটা ভুল বলা হবে। কারন মানুষ এখনো ধর্মগ্রন্থের ওই লেখাগুলোর গন্ডি পার হতে পারেনি…
উপরের মন্তব্যের জবাবে মুক্তমোল্লাদের দেবতুল্য গুরুজী অভিজিৎ রায়-
বোঝা যাচ্ছে, আপনার ইতিহাস সম্বন্ধে কোন ভাল ধারনা নেই। আজকে যে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলো রাজত্ব করছে তা মাত্র কয়েক হাজার বছরের পুরোন। আর মানুষের বিবর্তনের ইতিহাস লক্ষ বছরের। কাজেই প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলো আসার আগে মানুষ নীতি নৈতিকতার চর্চা করেনি তা তো নয়। ভালবাসা প্রেম এবং সহিষ্ণুতার বিভিন্ন উদাহরণ যে ধর্মগ্রন্থ এবং তার প্রচারকদের সাথে লেবেল হিসেবে লাগিয়ে দেওয়া হয়, সেগুলো কোনটাই ধর্ম বা ধর্মগ্রন্থের জন্য মৌলিক নয়। যেমন, যীশুখ্রীষ্টের অনেক আগেই লেভিটিকাস (১৯:১৮) বলে গেছেন, ‘নিজেকে যেমন ভালবাস, তেমনি ভালবাসবে তোমার প্রতিবেশীদের।’ বাইবেল এবং কোরানে যে সহনশীলতার কথা বলা আছে, সেগুলোর অনেক আগেই (খ্রীষ্টের জন্মের পাঁচশ বছর আগে) কনফুসিয়াস একইরকমভাবে বলেছিলেন – ‘অন্যের প্রতি সেরকম ব্যবহার কোর না, যা তুমি নিজে পেতে চাও না’। আইসোক্রেটস খ্রীষ্টের জন্মের ৩৭৫ বছর আগে বলে গিয়েছিলেন, ‘অন্যের যে কাজে তুমি রাগান্নিত বোধ কর, তেমন কিছু তুমি অন্যদের প্রতি কোর না’। এমনকি শত্রুদের ভালবাসতে বলার কথা বহু সভ্যতার মহাপুরুষই বলে গেছেন কিন্তু যীশু বা মুহম্মদ প্রমুখ ধর্ম্প্রচারকেরা ইহজগতে অনেক আগেই। কাজেই নৈতিকতার যে উপকরণগুলোকে ধর্মানুসারীরা তাদের স্ব স্ব ধর্মের ‘পৈত্রিক সম্পত্তি’ বলে ভাবছেন, সেগুলো কোনটাই কিন্তু আসলে ধর্ম থেকে উদ্ভুত হয়নি, বরং বিকশিত হয়েছে সমাজবিবর্তনের অবশ্যাম্ভাবী ফল হিসেবে। সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকে মানুষ কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যকে ‘নৈতিক গুনাবলী’ হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে; কারণ ও ভাবে গ্রহণ না করলে সমাজব্যবস্থা অচীরেই ধ্বসে পড়ত।
খুব সাদা চোখে দেখলেও, একটি সমাজে চুরি করা যে অন্যায়, এটি বুঝবার জন্য করার জন্য কোন স্বর্গীয় ওহি নাজিল হওয়ার দরকার পরে না। কারণ যে সমাজে চুরি করাকে না ঠেকিয়ে মহিমান্নিত করা হবে, সে সমাজের অস্তিত্ব লোপ পাবে অচীরেই। ঠিক একই ভাবে আমরা বুঝি, সত্যি কথা বলার বদলে যদি মিথ্যা বলাকে উৎসাহিত করা হয়, তবে মানুষে মানুষে যোগাযোগ রক্ষা করাই দূরূহ হয়ে পড়বে। এ ব্যাপারগুলো উপলব্ধির জন্য কোন ধর্মশিক্ষা লাগে না। আবার এমনও দেখা গেছে যে, শতাব্দীপ্রাচীন কোন চলমান ব্যবস্থার পরিবর্তন মানুষ নিজে থেকেই করেছে পরিবর্তিত মূল্যবধের কষ্ঠিপাথরে মানবতাকে যাচাই করে, এবং অনেকক্ষেত্রেই ধর্ম কি বলছে না বলছে তার তোয়াক্কা না করেই। দাসত্বপ্রথার উচ্ছেদ এমনি একটি ঘটনা। বলা বাহুল্য, কোন ধর্মগ্রন্থেই দাসত্ব উচ্ছেদের আহবান জানানো হয় নি। বাইবেলের নতুন কিংবা পুরাতন নিয়ম, কিংবা কোরান, অথবা বেদ, উপনিষদ, মনুসংহিতা- কোথাওই দাসত্ব প্রথাকে নির্মুল করার কথা বলা হয়নি, বরং সংরক্ষিত করার কথাই বলা হয়েছে প্রকারন্তরে। কিন্তু মানুষ সমাজিক প্রয়োজনেই একটা সময় দাসত্ব উচ্ছেদ করেছে, যেমনিভাবে হিন্দু সমাজ করেছে সতীদাহ নির্মুল বা খ্রীষ্ট সমাজ করেছে ডাইনী পোড়ানো বন্ধ। সতীত্ব সম্পর্কে প্রাচীন ধারণা, কিংবা সমকামিতা বা গর্ভপাতের অধিকার সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গীরও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে সারা পৃথিবী জুড়ে এ কয় দশকে। এ পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গীর অনেকগুলোই ধর্ম কর্তৃক অনুমোদিত নয়।
হ্যা নাস্তিকেরা ‘যেখানেই অবিশ্বাসীদের পাওয়া যাক তাদের হত্যা করতে’ , গর্দানে আঘাত করতে, তাদের উপর জিজিয়া কর আরোপ করতে, জিহাদ করতে, সতীদাহ করে বিধবাদের পুড়িয়ে মারতে, নীচু জাতিদের ছোঁয়া লাগলেই গঙ্গাস্নান করতে, বেগানা নারীদের পাথর ছুঁরে হত্যা করতে আপনি বলতে দেখবেন না। কিন্তু এগুলোর সমর্থনে অনেক আয়াত শ্লোক ধর্মগ্রন্থে পাবেন।
পাঠক, জবাবটা খুব ভালো করে লক্ষ্য করুন। অন্যথায় তার প্রতারণাগুলো সহসা ধরতে পারবেন না।
প্রথমত- মূল প্রশ্নের কোনো জবাব না দিয়ে স্রেফ "বীটিং অ্যারাউন্ড দ্য বুশ" প্রয়োগ করে আবল-তাবল প্রলাপ বকা হয়েছে। প্রশ্নটি ছিল, "নাস্তিকেরা এমন একটা ভালো কথা বলতে পারেন না, যেটা কোনো ধর্ম গ্রন্থে উল্লেখ করা নেই। এমন একটা নৈতিকতার বুলি ছাড়তে পারেন না, যেটা একেবারেই নতুন।"
দ্বিতীয়ত- শুরুর দিকে একটি পোস্টের লিঙ্ক-সহ যে ইঙ্গিত দিয়েছি, এখানেও অনেকটা সেভাবেই জবাব দেওয়া হয়েছে। তার মানে এই ধরণের জবাব বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।
তৃতীয়ত- একাধিক প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মগাখিচুড়ি পাকিয়ে ভেড়ার পালকে খাওয়ানোর চেষ্টা লক্ষ্যণীয়। ভেড়ার পালের মাথায় তো আর অত বুদ্ধি নাই যে, তার প্রতারণাগুলো ধরতে পারবে। এমনকি কেউ কেউ ধরতে পারলেও প্রাণের ভয়ে চেপে যাবে। অথচ তার প্রতারণাগুলো ধরতে পারলেই ভেড়ার পালেরা বুঝতে পারতো যে, যাকে তারা দেবতুল্য নাস্তিক গুরুজী হিসেবে বিশ্বাস করে সে স্বনামে নাস্তিকতার ভেক ধরে থাকলেও বাস্তবে একজন চরম ভণ্ড ও মিথ্যুক।
নোট: বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদের ইজারা নেওয়া নাস্তিকরূপী মুক্তমোল্লারা যেভাবে প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে, অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত আস্তিকরাও ইসলাম নিয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব এভাবে দেয় না!

এস. এম. রায়হান
জানুয়ারি ১৪, ২০১৩ at ১২:৫৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তোমরা যারা ভেড়ার পাল
তোমাদেরকে [অদৃশ্য] আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় করতে বলা হচ্ছে, প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু [অদৃশ্য] আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় করে, প্রশ্ন করে, কী হবে -- এর কোনো সমাধান পাওয়া গেছে কি-না, আদৌ পাওয়া সম্ভব কি-না -- এ ব্যাপারে তোমাদেরকে কিছুই বলা হচ্ছে না, বলা হবেও না। সারা জীবন ধরে শুধু প্রশ্ন আর সংশয় করতে বলা হচ্ছে। আর তা বলা হচ্ছে বিজ্ঞানের নামে। তোমরা কি জানো এটা বিজ্ঞানের নামে ধোঁকাবাজী -- আসলে বিজ্ঞান-বিরোধী অবস্থান? বিজ্ঞানে অদৃশ্য কিছুর অস্তিত্ব নিয়ে সারা জীবন ধরে স্রেফ প্রশ্ন আর সংশয় করতে বলা হয় না -- সেই সাথে উত্তর বা সমাধানও খুঁজতে বলা হয়। আর যেখানে উত্তর বা সমাধান পাওয়া বাস্তবে সম্ভব নয় সেখানে বিজ্ঞান কাজ করে না।
তোমাদেরকে কোরান নিয়ে সংশয় করতে বলা হচ্ছে, প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ইসলাম ও কোরান নিয়ে প্রশ্ন-সংশয় করলেই নাকি বিজ্ঞানী হওয়া যাবে। কিন্তু যারা দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ও কোরান নিয়ে প্রশ্ন-সংশয় করছে তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত কতজন বিজ্ঞানী হয়েছে তার কোনো লিস্ট জানা যাচ্ছে না, জানানো হচ্ছে না। তবে কয়েকজন 'বিশিষ্ট বিজ্ঞানী'র পরিচয় পাওয়া গেছে যাদের ব্লগে বিজ্ঞান নিয়ে একটিও লেখা নাই, বিবর্তনবাদকে যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে ডিফেন্ড করেও কোনো লেখা নাই, এমনকি দর্শন-ভিত্তিকও কোনো লেখা নাই। তাহলে কী আছে তাদের ব্লগে? তাদের ব্লগে আছে শুধুমাত্র এবং শুধুমাত্র ইসলামের নবী, কোরান, ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, বিষোদগার, আর অপপ্রচার।
অন্যান্য ধর্মের কথা না হয় বাদই থাক, কিন্তু যে বিবর্তন তত্ত্বকে বিজ্ঞানের নামে 'প্রমাণিত সত্য' বলে দাবি করে [ইসলামের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়ে] তোমাদেরকে বিশ্বাস করানো হয়েছে সেই তত্ত্ব নিয়েও সংশয় করতে, প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে না। বরঞ্চ প্রশ্ন বা সংশয়কে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা চলছে। আল্লাহর শাস্তির ভয়ে না হয় মুসলিমরা আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় করে না, যদিও এ কথা সত্য নয়। কিন্তু তোমরা কীসের ভয়ে, কার ভয়ে, বিবর্তন তত্ত্বের সত্যতা এবং নাস্তিকতা নিয়ে সংশয় করছ না, প্রশ্ন করছ না? তোমরা আবার কোন 'গড(স)'র শাস্তির ভয়ে একটা তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন-সংশয় করা থেকে বিরত থাকছ? সেই 'গড(স)'র নাম বলা যাবে কি?
বিবর্তনবাদ: নির্বোধদের জন্য এক অভিনব ফাঁদ
এস. এম. রায়হান
জানুয়ারি ১৪, ২০১৩ at ১:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পাঠক! যুক্তিবাদী ও সংশয়বাদী হিসেবে একমাত্র দাবিদার মুক্তমোল্লারা তাদের দেবগুরুর লেখায় এ পর্যন্ত সামান্যতমও কোনো ভুল-ভ্রান্তি বা অসঙ্গতি বা অযৌক্তিক কথাবার্তা বা অবৈজ্ঞানিক কথাবার্তা বা অজ্ঞতা বা ভণ্ডামী বা মিথ্যাচার খুঁজে পায়নি। এমনকি সংশয় করার মতোও কিছু খুঁজে পায়নি তারা। তাদের দেবগুরু যা কিছু বলে, সেটিকেই তারা 'গডের বাণী' হিসেবে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। অন্যদিকে তারা কোরআন ও মুসলিমদের লেখায় অসংখ্য ভুল-ভ্রান্তি, অসঙ্গতি, অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক কথাবার্তা, অজ্ঞতা, ভণ্ডামী, মিথ্যাচার, বিনোদন, অমানবিকতা, ইত্যাদি খুঁজে পেয়েছে। তাহলে মুক্তমোল্লাদের কাছে তাদের দেবগুরুর অবস্থান কত ঊর্ধ্বে, বুঝতেই পারছেন -- একেবারে পারফেক্ট গড!
জানুয়ারি ১৪, ২০১৩ at ১:৫১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এবার মুক্তমোল্লাদের 'পারফেক্ট গড' এর বাণীগুলো একটু খতিয়ে দেখা যাক…
এটা মুক্তমোল্লাদের একটি কমন অ্যাটাক -- শুরুতেই পাঠকদের কাছে প্রতিপক্ষকে ‘অজ্ঞ’ দেখিয়ে নিজেকে সবজান্তা শমসের হিসেবে উপস্থাপন।
প্রথমত, আজকের প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলো মাত্র কয়েক হাজার বছরের পুরনো -- এই কথা কে বলেছে? আব্রাহামিক ধর্ম অনুযায়ী প্রথম সৃষ্ট মানব-মানবী থেকেই ধর্মের যাত্রা শুরু। কোরআন অনুযায়ী প্রথম মানব-মানবীকে সৃষ্টির পর শালীনতা ও নীতি-নৈতিকতা সহ অনেক কিছু শেখানো হয়েছে। অন্যদিকে হিন্দুদের দাবি অনুযায়ী তাদের ধর্মও নাকি ইটারনাল (আদি থেকেই আছে)। তাহলে মেজর ধর্মগুলোর মূল বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার যে মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই ধর্ম ছিল -- আর ধর্ম থাকা মানে নীতি-নৈতিকতাও থাকা।
দ্বিতীয়ত, অজ্ঞতাবশত ধরে নেয়া হয়েছে যে, যেহেতু সবচেয়ে পুরাতন ধর্মগ্রন্থের বয়স মাত্র কয়েক হাজার বছর সেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলোর বয়সও মাত্র কয়েক হাজার বছর হতে হবে! বাস্তবতা হচ্ছে লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার হওয়ার পরই কেবল ধর্মগ্রন্থ লিখা শুরু হয়েছে। কিন্তু তার আগে থেকেই ধর্মের বাণী ছিল -- যেগুলো লিখার আকারে নেই, থাকার কথা নয়। এর প্রকৃষ্ট একটি উদাহরণ হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের মৃত্যুর প্রায় চারশ’ বছর পর তাঁর বাণীগুলো লিখা শুরু হয়েছে। তার মানে কি বুদ্ধের মৃত্যুর চারশ’ বছর পর বৌদ্ধ ধর্মের যাত্রা শুরু হয়েছে?!
এস. এম. রায়হান
জানুয়ারি ১৪, ২০১৩ at ৩:০০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভালবাসা প্রেম এবং সহিষ্ণুতার কোনোটাই ধর্মের জন্য মৌলিক নয় -- এই কথা বলে যীশুখ্রীষ্টকে দিয়ে শুরু করা হয়েছে! ভাবখানা এমন যে যীশুখ্রীষ্টকে সবাই এগুলোর জন্য মৌলিক উৎস হিসেবে বিশ্বাস করত কিন্তু মুক্তমোল্লাদের গুরুদেবজী এই ভুল বা অজ্ঞতা ভেঙ্গে দিচ্ছেন! তারপর দেখা যাচ্ছে লেভিটিকাস এর উদাহরণ দিয়ে যীশুখ্রীষ্টকে আবার বাতিল করে দেয়া হচ্ছে! লেভিটিকাস সম্পর্কে অজ্ঞ লোকজন হয়ত মনে করতে পারে এটি (লেভিটিকাস) কোনো এক নাস্তিকের লিখা বই -- এজন্য এই বইয়ের রেফারেন্স দিয়ে যীশুখ্রীষ্টকে বাতিল করে দেয়া হচ্ছে! অথচ লেভিটিকাস বাইবলের একটি বুক -- ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের বিশ্বাস অনুযায়ী গডের বাণী। তার মানে কী প্রমাণ হলো, পাঠক? ভালবাসা প্রেম এবং সহিষ্ণুতা নাস্তিকতা থেকে এসেছে
এস. এম. রায়হান
জানুয়ারি ১৪, ২০১৩ at ৪:০৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পাঠক! এতক্ষণ ধরে আগডুম-বাগডুম করে মুরিদদেরকে ঘোল খাওয়ানোর চেষ্টা করে এবার শুরু হয়েছে আসল প্রতারণা। প্রথমে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হলো যে ভালবাসা প্রেম এবং সহিষ্ণুতার জন্য সবাই যীশুখ্রীষ্টকে মৌলিক উৎস হিসেবে বিশ্বাস করে। তারপর হিব্রু বাইবলের লেভিটিকাস এর রেফারেন্স দিয়ে যীশুখ্রীষ্টকে এমনভাবে বাতিল করে দেয়া হলো যেনো লেভিটিকাস কোনো নাস্তিকের লিখা!
এবার কনফুসিয়াস এর রেফারেন্স দিয়ে বাইবলের লেভিটিকাসকেও বাতিল করে দেয়া হচ্ছে। কেনো? কারণ কনফুসিয়াস একজন নাস্তিক ছিলেন, যদিও এই কথা বলার সাহসে কুলায় নাই তথাপি মুরিদদেরকে কিন্তু এমন ধারণাই দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তা না হলে একে একে খ্রীষ্টান ও ইহুদীদের রেফারেন্স বাতিল করে দিয়ে [তার 'যুক্তি' অনুযায়ী ইসলামের রেফারেন্স অটোমেটিক্যালি বাতিল হয়ে গেছে! আর কোনো এক অজানা কারণে হিন্দু ধর্মের রেফারেন্স আসেইনি! লোকে তাকে হিন্দু ভাবে এই ভয়ে কি-না, কে জানে!] কনফুসিয়াস-এ এসে থেমে যাওয়া হবে কেনো, তাই না? এবার সত্যটা জেনে নিন-
১. হিব্রু বাইবলের লেভেটিকাস লিখা হয়েছে কনফুসিয়াস এর জন্মের অনেক আগে [সূত্র: ১, ২]। অথচ মুরিদদেরকে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যে লেভেটিকাস এর আগেই কনফুসিয়াস এই কথা বলেছেন। ফলে তার 'যুক্তি' অনুযায়ীই কনফুসিয়াস ও আইসোক্রেটস এই সিনারিও থেকে আউট হয়ে যাচ্ছেন।
২. উইকিতে কনফুসিয়ানিজম সম্পর্কে লিখা আছে-
একজন নাস্তিক কখনো মৃত্যুপরবর্তী জীবন, স্বর্গ, ও আত্মার ধারণা প্রচার করতে পারেন না। এছাড়াও কনফুসিয়াস এমন কিছু কথাবার্তা বলেছেন যেগুলো নাস্তিকরা বলে না বা প্রচার করে না।
এস. এম. রায়হান
জানুয়ারি ১৪, ২০১৩ at ৪:৫৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পাঠক! এতক্ষণ ধরে চাপাবাজি করে যা শুনানো হলো তার মূলে হচ্ছে গোল্ডেন রুল। ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যে গোল্ডেন রুল এসেছে নাস্তিক বা নিধর্মী উৎস থেকে, যেটি সত্য নয়। সেই গোল্ডেন রুল-টা আসলে কী? উইকি থেকে জেনে নেয়া যাক-
পয়েন্টস টু বি নোটেড:
১. যে বলার চেষ্টা করেছে যে গোল্ডেন রুল আসলে সকল প্রকার নীতি-নৈতিকতার উৎস এবং এটি এসেছে নাস্তিক বা নিধর্মী উৎস থেকে, যেটি সত্য নয়, সে নিজেই এই গোল্ডেন রুল অনুযায়ী চলে না। নিজে কিছু অনুসরণ না করেও গলাবাজি করে সেটির কথা বলা মানে ভণ্ডামী।
২. মুখে আধুনিক বিজ্ঞান আর প্রগতিশীলতার কথা বলে, ধর্মে বিশ্বাসীদেরকে বিভিন্নভাবে হেয় আর তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, হাজার হাজার বছর আগের কারো এক বাণীকে নীতি-নৈতিকতার উৎস হিসেবে বিশ্বাস করা কতটা হাস্যকর শুনাতে পারে? পুরাই পশ্চাদপদ ধর্মান্ধের মতো বিশ্বাস! এমনকি তালেবান মোল্লারা শুনলেও হো হো করে হেসে দেবে!
৩. গোল্ডেন রুলকে সকল প্রকার বিতর্কের ঊর্ধ্বে, মানে গডের বাণীর মতো কিছু একটা দেখাতে চাওয়া হয়েছে। এই রুল নিয়ে তার মনে কোনো প্রকার প্রশ্ন বা সংশয়-সন্দেহ নাই, যেহেতু এটি এসেছে নাস্তিক বা নিধর্মী উৎস থেকে!
৪. এই গোল্ডেন রুল অনুযায়ী বিলিয়নে একজন মানুষ চলে কি-না সন্দেহ। তার মানে এটি বাস্তবসম্মত কোনো রুল নয়। আর এজন্য ইসলামে হুবহু এই গোল্ডেন রুল নেই, একটু ভিন্নভাবে আছে যেটি বাস্তবসম্মত। তাছাড়া এটি যেমন ইসলামের মৌলিক কোনো শিক্ষা নয় তেমনি আবার মুসলিমরাও গোল্ডেন রুল অনুযায়ী নীতি-নৈতিকতা প্রচার করে না।
৫. এই তথাকথিত গোল্ডেন রুল দিয়ে ইসলামকে আক্রমণ শুরু করেছে ফেইথফ্রীডম সাইটের আলী সিনা। সে দাবি করেছে যে সবগুলো ধর্মে গোল্ডেন রুল থাকলেও শুধুমাত্র ইসলামে গোল্ডেন রুল বলে কিছু নাই। এজন্য সে ইসলামকে অসভ্য-বর্বর-ইত্যাদি বলে আক্রমণ করেছে।
এস. এম. রায়হান
জানুয়ারি ১৫, ২০১৩ at ১:৫৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পাঠক, একটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন নিশ্চয়। প্রশ্ন করা হয়েছে, "নাস্তিকেরা এমন একটা ভালো কথা বলতে পারেন না, যেটা কোনো ধর্ম গ্রন্থে উল্লেখ করা নেই। এমন একটা নৈতিকতার বুলি ছাড়তে পারেন না, যেটা একেবারেই নতুন," অথচ ঘুরেফিরে বারংবার যীশু আর মুহম্মদের নাম এসেছে। বুঝাতে চাওয়া হয়েছে যে যীশু বা মুহম্মদ নতুন কিছুই বলেননি -- তাঁরা যা কিছু বলেছেন সেগুলোর সবই আগে বলা হয়ে গেছে। অর্থাৎ যীশু ও মুহম্মদ [ইসলামের দুই নবী] অন্যান্য সভ্যতার মহাপুরুষদের কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন মাত্র। অন্যান্য সভ্যতার সেই মহাপুরুষরা তাহলে কারা? কনফুসিয়াস ও আইসোক্রেটস এর নাম এসেছে। কিন্তু তাদেরকে তো ৩.২ নং মন্তব্যে ইতোমধ্যে সিনারিও থেকে আউট করে দেয়া হয়েছে। তাহলে বাকি মহাপুরুষরা কারা? জবাব নেই। তার মনে হয়ত ভারতীয় মহাপুরুষরা আছে, কিন্তু সেটা বলারও সৎ-সাহস নাই। কেনোনা সেক্ষেত্রেও তাকে ধর্মের মধ্যেই মাথা গুঁজতে হবে।
নোট: তার মন্তব্যে এরকম একটা ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যে ইসলামের/মুসলিমদের নবী একজনই, আর তিনি হচ্ছেন মুহম্মদ। তাঁর আগে কোনো নবী-রাসূল নাই! অন্যদিকে খ্রীষ্টানরাও যীশুখ্রিষ্ট ছাড়া আর কাউকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করে না!
এস. এম. রায়হান
জানুয়ারি ১৫, ২০১৩ at ২:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
"সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকে" মানে? বিবর্তনবাদ অনুযায়ী "সৃষ্টি" বলেই তো কিছু নাই, আর বিবর্তন শুরু হয়েছে সরল একটি অণুজীব থেকে! এখানে সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ‘নৈতিক গুনাবলী’ গ্রহণ করার বাধ্যতা কবে থেকে ও কার মাধ্যমে শুরু হলো? এই ‘নৈতিক গুনাবলী’ই বা এলো কোথা থেকে? আর ‘নৈতিক গুনাবলী’ গ্রহণ না করলে সমাজব্যবস্থা অচীরেই ধ্বসে পড়ত -- এই ভবিষ্যতবাণী কে কবে প্রথম করেছে বা বুঝতে পেরেছে? তার পক্ষে প্রমাণ কোথায়?
পাঠক! দেখলেন তো, আগডুম-বাগডুম স্ট্যাইলে কীভাবে মুরিদদেরকে ঘোল খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মুরিদরা তাতেই খুশী 😀 এইসব আগডুম-বাগডুম নিয়ে মুরিদদের মনে সামান্যতমও কোনো প্রশ্ন বা সংশয়-সন্দেহ নেই! পারফেক্ট গডের বাণী বলে কথা!
এস. এম. রায়হান
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ১:১০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ব্যাপারটা এরকম: একজন পিএইচডি ছাত্রের দাবি অনুযায়ী অ, আ কিংবা এ, বি, সি জানার জন্য প্রাইমারী স্কুলের বই পড়ার দরকার নাই, যদিও সে প্রাইমারী স্কুল পার করেই তবে পিএইচডি পর্যায়ে এসেছে! এ পর্যায়ে এসে মনে হতেই পারে চুরি করা যে অন্যায় এটি বুঝার জন্য কোনো স্বর্গীয় ওহি নাজিল হওয়ার দরকার পড়ে না। কিন্তু মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হচ্ছে চুরি করা যে অন্যায়, এই কথা প্রথম কে বলেছে?
এরকম কোনো পরীক্ষামূলক প্রমাণ নাই, যদিও সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।
এই ব্যাপারগুলো উপলব্ধির জন্য ধর্মশিক্ষা লাগে কি-না, সেটাও ভিন্ন প্রসঙ্গ। যার কাছে মিথ্যা বলা কোনো অন্যায় নয়, মিথ্যা কথা বলার জন্য কোনো রকম শাস্তি পেতে হবে না, তার কাছে ধর্মশিক্ষার প্রয়োজন যে থাকবে না সেটাই তো স্বাভাবিক। এজন্য বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত মিথ্যাচার করে যাওয়া হচ্ছে।
এস. এম. রায়হান
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ২:৪৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পাঠক! দাসপ্রথা নিয়ে এখানে অতি সুকৌশলে মগাখিচুড়ি পাকিয়ে অসচেতন পাঠকদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রথমত, দাসপ্রথা বলতে কী বুঝায়, যে ধর্মগুলোর কথা বলা হয়েছে সেই ধর্মগুলোর সবগুলোতে দাসপ্রথা আছে কি-না, থেকে থাকলে ঠিক কীভাবে আছে, কে কোথায় দাসপ্রথা উচ্ছেদ করেছে -- এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে কিছু না বলে সবগুলো ধর্মকে একসাথে মগাখিচুড়ি পাকিয়ে নিজেকে "সাচ্চা মানবতাবাদী" হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে "সাচ্চা মানবতাবাদী" হওয়া যে সম্ভব নয়, সেটা তার এতদিনে উপলব্ধি করার কথা।
দ্বিতীয়ত, তার অন্য একটি লেখাতে দাসপ্রথা উচ্ছেদের জন্য আব্রাহাম লিঙ্কনকে ক্রেডিট দিয়ে বুঝাতে চাওয়া হয়েছে যে উনি (আব্রাহাম লিঙ্কন) ইসলাম-সহ সবগুলো ধর্মের দাসপ্রথা উচ্ছেদ করেছেন। আহ্! পরের ধোনে পোদ্দারী। পুরাই ধাপ্পাবাজী। কোনো ধর্মে যদি দাসপ্রথা বলেই কিছু না থাকে তাহলে সেই ধর্মের দাসপ্রথা আবার উচ্ছেদের প্রশ্ন আসে কীভাবে, পাঠক! বাস্তবতা হচ্ছে আব্রাহাম লিঙ্কন বাইবল-ভিত্তিক দাসপ্রথাকে উচ্ছেদ করেছেন ["উচ্ছেদ করেছেন" মানে আইন করা হয়েছে, পুরোপুরি উচ্ছেদ হয়নি]। যারা বাইবলের দাসপ্রথা সম্পর্কে অবগত নন তারা চিন্তাও করতে পারবেন না বাইবলে দাসপ্রথাকে কীভাবে প্রমোট করা হয়েছে [এখানে কিছু নমুনা দেখুন]। বাইবলে দাসদের বিরুদ্ধে একাধিক অমানবিক ভার্সও আছে। বাইবলের দাসপ্রথার উপর ভিত্তি করেই সাদা চামড়ার ইউরোপিয়ানরা শত শত বছর ধরে আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গদেরকে দাস বানিয়ে তাদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে।
তৃতীয়ত, হিন্দু ধর্মে দাসপ্রথার কথা আর কী বলবো। এ সম্পর্কে অনেকেই হয়ত অবগত। এই ধর্মে নীচু শ্রেণীর মানুষকে উঁচু শ্রেণীর কিছু মানুষের জন্মসূত্রে দাস বানিয়ে রাখা হয়েছে, দাসদেরকে মানুষই মনে করা হয়নি। কিছু ধর্মগ্রন্থে তো কথায় কথায় দাসদের উপর চরম শাস্তির কথাও লিখা আছে।
এই যখন বাস্তবতা তখন নাস্তিকতাকে ডিফেন্ড করতে যেয়ে অন্যান্য ধর্মের চরম অমানবিক দাসপ্রথাকে ইসলামের সাথে গুলিয়ে ফেলে খুব সুকৌশলে বলার চেষ্টা করা হয়েছে যে সব ধর্মেই দাসপ্রথা আছে এবং কোনো ধর্মগ্রন্থেই দাসত্ব উচ্ছেদের আহ্বান জানানো হয়নি। ভণ্ডামী আর কারে বলে। কোরানের কোথায় দাসপ্রথা আছে তার পক্ষে প্রমাণ হাজির করুক। আর ইসলামে দাসমুক্তি সম্পর্কে এই ভণ্ডের হয়ত কোনো ধারণাই নাই কিংবা জেনেশুনে অসচেতন পাঠকদেরকে প্রতারিত করা হচ্ছে।
"মানুষ" সমাজিক প্রয়োজনে দাসত্ব উচ্ছেদ করেছে? কে, কবে, কোথায়, কেনো, ও কীভাবে দাসত্ব উচ্ছেদ করেছে?
শামস
জানুয়ারি ১৪, ২০১৩ at ৫:১৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হাহাহাহাহাহাহা……………… আপনার বদৌলতে কিছু বিনোদন পেলাম!
কে কি বলে গেছে এইসবের বিশাল ফিরিস্তি, ধর্মগ্রন্থে খারাপ (তাদের দৃষ্টিতে) আছে, কিন্তু নাস্তিকতার কোন ধর্মগ্রন্থে(!) কোন ভালটি আছে। উত্তর একটাই, পরগাছার মাটিইতো নাই, ভাল খারাপের হিসাবের ব্যাপার কোথায়। কিন্তু এ নিয়ে কতো ফিরিস্তি! ব্যাপুক বিনোদন!
পরগাছা অন্য গাছের ক্ষতি করতে পারে, কিন্তু নিজের শোভা দিয়ে অন্যকে আকৃষ্ট করতে পারে না। নয়তো এইসব পরগাছায় পৃথিবী ভড়ে যেতো! আর দাসমনোবৃত্তির লোকেরা প্রভুর জন্য খাটাখাটনিতো কম করে না, হাসাহাসিটা বাড়তি একটা কিছু। কিন্তু নিজের দাসমনোবৃত্তিসূলভ স্বভাব নিজে বুঝতে পারেলে একটু সতর্ক হতে পারতো!
পাভেল আহমেদ
জানুয়ারি ১৪, ২০১৩ at ৫:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যুক্তিপূর্ণ লেখা।
শাহবাজ নজরুল
জানুয়ারি ১৫, ২০১৩ at ১:১৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার ক্যাপশনের ছবিগুলো ফাটাফাটি। লেখার প্রসঙ্গে আসছি পরে।
নীরব সাক্ষী
জানুয়ারি ১৫, ২০১৩ at ১০:২৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ব্যাপক বিনোদন!
কিংশুক
জানুয়ারি ১৭, ২০১৩ at ৭:০৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সমাজে মানুষ ধার্মিকদরে মধ্যে প্রচুর কাঠমোল্লা দেখে বলে নাস্তিক গুরুরা ধার্মিক মানেই কাঠমোল্লা-এরকম একটি ধারনা দিয়ে বক্তব্য শুরু করে। এরপর নিজেদের চাপাবাজিকে সমাজ বিজ্ঞান, ইতিহাসের পন্ডিত সুশীল ব্যক্তিবর্গের স্টাইলে বলতে থেকে ধোঁকাবাজি শুরু করে। সাধারন মানুষ এধরনের ধোকাবাজিতে খুব সহজেই কুপোকাত হবার সম্ভাবনা। তাদের ণিধর্মী বানানোর স্টাইলটা সত্যিই অনেক আধুনিক, সুচিন্তিত ও বেশ কার্যকর। বর্তমান কালের আমরা অনেক ব্যস্ত জীবনযাপন করি বলে এসব বিষয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করতে পারিনা। সে কারনে কেউ নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে না আসলে তারা তাদের মতবাদ প্রতিষ্ঠা করে ফেলে।
এস. এম. রায়হান ভাইয়ের যুক্তি খন্ডন চমতকার হয়েছে। মিথ্যার উপরই যে তাদের প্রাসাদ তা খুব সুন্দর ভাবে দেখিয়ে দিয়েছেন।
মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত
জানুয়ারি ১৮, ২০১৩ at ১১:৪২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভালো হয়েছে ।তবে একটা জায়গা পছন্দ হয়নি।আপনি লিখেছেন-
"২. মুখে আধুনিক বিজ্ঞান আর প্রগতিশীলতার কথা বলে, ধর্মে বিশ্বাসীদেরকে বিভিন্নভাবে হেয় আর তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, হাজার হাজার বছর আগের কারো এক বাণীকে নীতি-নৈতিকতার উৎস হিসেবে বিশ্বাস করা কতটা হাস্যকর শুনাতে পারে? পুরাই পশ্চাদপদ ধর্মান্ধের মতো বিশ্বাস! এমনকি তালেবান মোল্লারা শুনলেও হো হো করে হেসে দেবে!"
মানে আপনি তালেবান মোল্লাদের ধর্মান্ধ বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন।এমনও তো হতে পারে যে তালেবানদের সম্পর্কে যা বলা হয়,তার বেশির ভাগই মিথ্যা।মুসলমানদের কোনো দল সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে আমাদের আরো সাবধান হওয়া উচিৎ।
এপ্রিল ৭, ২০১৩ at ২:৩৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এতগুলো ধর্মের প্রচলন কেন?
siyam
জুন ১৭, ২০১৫ at ১:২৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
pore kub valo laglo.