'মুক্তমনা' নৃপেন্দ্র নাথ সরকার একজন ষাটোর্ধ বয়সী, ডক্টরেট ডিগ্রীধারী, বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক, এবং বর্তমানে টেক্সাসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন। পাশাপাশি বাংলা অন্তর্জালে প্রচণ্ড মনোবলের সাথে মুসলিম নামক আলোহীন-জ্ঞানহীন-যুক্তিহীন-বুদ্ধিহীন শূদ্রদেরকে 'আলো-জ্ঞান-যুক্তি-বুদ্ধি' বিলানোর কাজেও নিয়োজিত রয়েছেন। এমনকি মুসলিম নামক বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত রুগীদেরকে ভাইরাস-মুক্ত করারও চেষ্টা করছেন। তো দেখা যাক ড. নৃপেন সরকার কীভাবে শূদ্রদেরকে 'আলো-জ্ঞান-যুক্তি-বুদ্ধি' দান করছেন, আর কীভাবেই বা তাদেরকে ভাইরাস-মুক্ত করছেন। তবে তার আগে মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হচ্ছে ড. নৃপেন সরকার নিজে আলোকিত তো? নিজে বিশ্বাসের ভাইরাস থেকে মুক্ত তো? নাকি উনি নিজেই কোনো এক অন্ধকার গহ্বরে হাবুডুবু খাচ্ছেন? নিজেই (অপ)বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বসে আছেন?
১. ড. নৃপেন সরকারের চোখে মুসলিম দর্শন
১.১ ড. নৃপেন থাকেন আমেরিকাতে। সেখানে মনে হয় কোনো মুসলিম খুঁজে পাননি। এমনকি উনার দীর্ঘ শিক্ষা ও কর্ম জীবনে হয়তো কোনো মুসলিম সহপাঠি কিংবা সহকর্মীও ছিল না। উনার কাছে মুসলিম মানে বাংলাদেশের মাদ্রাসার পিচ্চিপাচ্চি হুজুর। সেই পিচ্চিপাচ্চি হুজুরদের সম্পর্কে ড. নৃপেন বলেন-
সুরা আল-বাকারা'র ১৯১ আয়াতের অর্থ আব্দুল মালেক জানে না - না জানাটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ড. নৃপেন এজন্য 'স্বস্তি' পেয়েছেন কেন, তা বলেননি। ড. নৃপেনের মনের কথা পাঠকদেরকে বুঝে নিতে হবে। তবে এই আয়াতের অর্থ ড. নৃপেন নিজে জানেন কি-না, তাও বলেননি! চ্যালেঞ্জ করলে পালানো ছাড়া অন্য কোনো গতি থাকবে না।
মাদ্রাসাতে জে.এমবি'র সেনাদের প্রশিক্ষণ হয়। মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে আগ্নেয়াস্ত্রের তালিম হয়। বড় হয়ে জামাল-কামাল'দেরকে আল-কায়েদা বা 'হিরকুতুলের' লোকেরা এসে নিয়ে যাবে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ করতে। তাদের বুকে বোমা বেঁধে বেহেস্তের সহজ রাস্তা দেখিয়ে দেবে।
১.২ ড. নৃপেন সরকার তার লেখাতে বুঝাতে চেয়েছেন যে, উনি ধর্মে অবিশ্বাসী নাস্তিক। অথচ জুলিয়া রবার্টস এর হিন্দু ধর্ম গ্রহণকে উনি কৌশলে মুক্তমনা ব্লগে প্রচার করেছেন। এমনকি জুলিয়া রবার্টস এর মুখে কথা গুঁজে দিয়ে এও বলেছেন যে, জুলিয়া রবার্টস এখন শিবলিঙ্গে তেল মালিশ করবেন! ছিঃ! ছিঃ! ছুপা হিন্দুত্ববাদী ব্লগার ভবঘুরের সাথে সুর মিলিয়ে আরো বলেছেন যে, জুলিয়া রবার্টস হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করে কোনো উগ্রবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠিকে অনুপ্রাণিত করেনি। অন্যদিকে ড. নৃপেনের দাবি অনুযায়ী কয়েকজন আমেরিকান মহিলা ইসলামে কনভার্ট হয়েই সন্ত্রাসী কর্মতৎপরতা করতে যেয়ে ধরা পড়েছে, যদিও কোনো এক জনের নামও উল্লেখ করা হয়নি। দেখুন-
২. ড. নৃপেন সরকারের চোখে ইসলাম দর্শন
২.১ ড. নৃপেনের কিছু মন্তব্যে খুব জোর দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, মুসলিমরা কেউই কোরান পড়েনি, এমনকি ছুঁয়েও দেখেনি। মুসলিমদেরকে কোরান পড়ার কথা বললে তারা নাকি পালিয়ে যায়, লজ্জা পায়, মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়, অস্বস্তি বোধ করে, ইত্যাদি। অন্যদিকে ড. নৃপেন বাইবেল কিছুটা পড়েছেন, হিন্দু ধর্ম পড়ে দেখেননি কিন্তু কাছে থেকে দেখেছেন। তবে কোরানে সিদ্ধহস্ত, কোরান গোটাটা পড়েছেন। তাই উনি কোরানের ক্ষেত্রে 'বুদ্ধ' হয়ে গেছেন। ড. নৃপেনের মুখ থেকেই শোনা যাক-
কোরানে 'বুদ্ধত্ব' অর্জনকারী ড. নৃপেনের দাবি অনুযায়ী আকাশ খুঁটির উপর আটকানো, সূর্য প্রতিদিন পশ্চিমে ঘোলা পানিতে ডুবে, পৃথিবীটা সমতল, ইত্যাদি। মুসলিমদের মগজে নাকি এই 'মিথ্যাগুলো' ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার ফতোয়াও দেওয়া হয়েছে এই বলে যে, এই তিনটি জিনিসে বিশ্বাস না করলে কেউ কোরানে বিশ্বাসী হতে পারবে না। শেষে দাবি করেছেন যে উনি অন্যের হাতে তামাক খান না, নিজ হাতে খান। দিনে-দুপুরে ডাহা মিথ্যাচার! দেখা যাক উনি অন্যের হাতে তামাক খান কি-না। উনার নিজের কথাতেই অন্যের মুখে তামাক খাওয়ার প্রমাণ দেখুন [নৃপেন-রায়-পাল’রা যে অন্যের মুখে তামাক খেতে খুবই অভ্যস্ত তা সকলেই জানে]-
অন্যের মুখে ড. নৃপেনের গাঞ্জা খাওয়ার আরো অকাট্য প্রমাণ দেখুন [ড. নৃপেনের চোখে ফেইথফ্রীডমের আলী সিনা ও থাবা বাবা ওরফে রাজীব]-
আলী সিনা ও রাজীব তো দেখা যাচ্ছে ড. নৃপেনের কাছে সাক্ষাত দেবতা! তাহলে তাদেরকে সরাসরি দেবতা হিসেবে স্বীকার না করে এতটা নীচু মানসিকতার ধূর্তামীর আদৌ কি কোনো দরকার ছিল?
২.২ ড. নৃপেন সরকার কোরানের নামে আরো বলেন, "কোন অমুসলমান তোমার বন্ধু হবে না। কোন অমুসলমানকে সাহায্য করো না, সাহায্য নিও না। অমুসলমানকে ধর্মান্তরিত কর অথবা হত্যা কর।"
ড. নৃপেন কোরান নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন-
বুঝাই যাচ্ছে ড. নৃপেন যুক্তিতে অত্যন্ত দুর্বল। প্রথমত, মানুষের পক্ষে ভাবা বা লিখা সম্ভব না হলেই কেবল সেটিকে ঐশ্বরিক বলা যাবে - এই সংজ্ঞা ড. নৃপেন পেয়েছেন কোথা থেকে? মানুষের পক্ষে কোনো কিছু ভাবা বা লিখা যদি সম্ভবই না হয়, তাহলে সেটি মানুষ বুঝবে কী করে! মানুষের কাছে এমন কিছুর আদৌ কি কোনো মূল্য আছে? দ্বিতীয়ত, কোরান যেহেতু কাল্পনিক বা অদৃশ্য কিছু নয়, বরঞ্চ লিখিত একটি গ্রন্থ, সেহেতু কোরানের পাতায় পাতায় মানবতার বিরুদ্ধে বক্তব্যের পক্ষে ড. নৃপেনকেই প্রমাণ হাজির করতে হবে। কিন্তু তা না করে উনি উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে উল্টোদিকে মুসলিমদের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। মুশকিল হচ্ছে সবাই তো আর আদিল মাহমুদের মতো প্রভুভক্ত ভৃত্য না যে, নৃপেন সরকারদের চাতুরিপনা ধরতে পারবে না।
৩. 'নাস্তিক/মুক্তমনা'-রূপী নৃপেন সরকার-রা যখন "ধর্ম মানবতার একটা চরম শত্রু" কিংবা "ধর্ম প্রচণ্ড মিথ্যার উপর টিকে আছে" জাতীয় কথাবার্তা বলেন তখন তারা বিশেষভাবে কোন্ ধর্মকে বুঝিয়ে থাকেন? দেখুন-
প্রস্তাবিত মসজিদ আমেরিকাতে মুসলিমদের অবস্থান 'দুর্বল' করবে - এজন্য নৃপেন সরকার-রা বেশ চিন্তিত! তারা আমেরিকাতে মুসলিমদের অবস্থান 'সবল' দেখতে চায়! এরা পারেও বটে, যা অন্য কোনো প্রজাতির পক্ষে সম্ভব নয়। এরা নিজেদের ছাড়া বাকি সবাইকেই মনে হয় 'আদিল' ভাবেন!
৪. 'নাস্তিক/মুক্তমনা'-রূপী নৃপেন সরকার-রা যেভাবে বিজ্ঞান প্রচার করেন
লেখার শিরোনামে কসমিক, হিগ্স বোসন। লেখা শুরু হয়েছে আইনস্টাইনকে দিয়ে। শেষে দেখা যাচ্ছে প্রফেসর ভাস্কর দত্ত [হিন্দু বলার হয়তো সাহস পাননি, তবে বুঝে নিতে হবে] ও তার কোনো এক পশ্চিমা সহকর্মীর লেখার অনুবাদ। অথচ মাঝে “ধর্মীয় কারাগার থেকে আমাদের মোহমুক্তি এবং নির্বান কবে হবে?” উপশিরোনামে একটি অনুচ্ছেদ যোগ করা হয়েছে। সেই অনুচ্ছেদটির কিয়দংশ লক্ষ্যণীয় [তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে শব্দগুলো আমার]-
মানুষ [কারা?] এখনও বিশ্বাস করে, আজ থেকে মাত্র ৬০১৬ (ছয় হাজার ষোল) বছর আগে, আদম নামে এক কল্পিত [?] লোক এই পৃথিবীর প্রথম মানব। এই রূপকথার [?] উপর ভিত্তি করে কিছু ধূরন্ধর মিথ্যাচারী [?] প্রসব করে নানা [?] ধর্ম। শুরু হয় ধর্মীয় মিথ এবং মোহ। সূচনা হয় ভেদাভেদ, হানাহানি। বর্তমান বিশ্বে এরাই খুনাখুনীর মূল হোতা।
যিনি W এবং Z কণার আগাম ধারণা দিয়ে নোবেল প্রাইজ পান তিনিই “পৃথিবীটা সমতল” এবং “সূর্য প্রতিদিন পশ্চিমে ঘোলা জলে ডুবে” গল্পের নায়ক প্রচারিত ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের সংঘাত দেখতে পান না। ধর্মীয় মোহাচ্ছন্নতার ক্লাসিক উদাহরণ।
লক্ষ্যণীয় কিছু বিষয়: সুকৌশলে খ্রীষ্টানদের একটি বিশ্বাসকে [আদমের বয়স ৬০১৬ বছর] ইসলামের মধ্যেও গুঁজে দেওয়া হয়েছে। নাস্তিকরূপী ধূর্তরা অনেকদিন ধরেই এই ধরণের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। হাতেনাতে ধরা খেয়েও লজ্জা হয় না। সুকৌশলে আব্রাহামিক ধর্মের নবীদেরকে 'ধূরন্ধর মিথ্যাচারী' বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুকৌশলে আব্রাহামিক ধর্মের অনুসারীদেরকে ভেদাভেদ, হানাহানি, খুনাখুনীর জন্য দায়ী করা হয়েছে। সুকৌশলে কোরানের বিরুদ্ধে বহুল প্রচলিত মিথ্যা প্রপাগ্যাণ্ডা প্রচার করা হয়েছে। এই হচ্ছে 'নাস্তিক/মুক্তমনা'-রূপী নৃপেন সরকারদের 'বিজ্ঞান' প্রচারের রহস্য। এরা সকলেই মোটামুটি একই ধাঁচের।
৫. ড. নৃপেন সরকারের চোখে নোবেল ল্যরিয়েট প্রফেসর আব্দুস সালাম
[সূত্র]
[সূত্র]
সারসংক্ষেপ:
- ড. নৃপেন সরকারের লেখায় মুসলিমদের সম্পর্কে বলতে যেয়ে মাদ্রাসার পিচ্চিপাচ্চি হুজুর, জে.এমবি, আল-কায়েদা, 'হিরকুতুল', আগ্নেয়াস্ত্র, যুদ্ধ, সন্ত্রাসী, বুকে বোমা বাঁধা, মস্তক ধোলাই, বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত, মিথ্যুক, ভণ্ড, মানসিক প্রতিবন্ধী, বিকৃত চরিত্র, ইত্যাদি টার্মগুলো এসেছে।
- ইসলাম সম্পর্কে বলতে যেয়ে "ধর্ম মানবতার একটা চরম শত্রু", "ধর্ম প্রচণ্ড মিথ্যার উপর টিকে আছে", "ধর্ম মানুষকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে", ইত্যাদি কথাবার্তা এসেছে।
- কোরানের নামে "আকাশ খুঁটির উপর আটকানো", "সূর্য প্রতিদিন পশ্চিমে ঘোলা পানিতে ডুবে", "পৃথিবীটা সমতল", "আদমের বয়স ৬০১৬ বছর", "কোনো অমুসলমানকে সাহায্য করো না, সাহায্য নিও না", "অমুসলমানকে ধর্মান্তরিত কর অথবা হত্যা কর", ইত্যাদি দাবি এসেছে।
- ড. নৃপেনের দাবি অনুযায়ী মুসলিমরা কেউই কোরআন পড়েনি। মুসলিমদেরকে কোরান পড়ার কথা বললে তারা পালিয়ে যায়, লজ্জা পায়, মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়, অস্বস্তি বোধ করে, ইত্যাদি। এমনকি মুসলিমরা অমুসলিমদের কাছে কোরানকে এক্সপোজও করতে চায় না।
- ড. নৃপেনের দাবি অনুযায়ী নোবেল ল্যরিয়েট আব্দুস সালাম একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ও বিকৃত চরিত্রের মানুষ ছিলেন।
'মুক্তমনা' ড. নৃপেন সরকারের প্রতি:
১. কোরানের কোথায় লিখা আছে "আকাশ খুঁটির উপর আটকানো" - প্রমাণ দেন।
২. কোরানের কোথায় লিখা আছে "পৃথিবীটা সমতল" - প্রমাণ দেন।
৩. কোরানের কোথায় লিখা আছে "আদমের বয়স ৬০১৬ বছর" - প্রমাণ দেন।
৪. আদম কীভাবে "কল্পিত" হলেন - ব্যাখ্যা করেন। আজ থেকে হাজার হাজার বছর পর ড. নৃপেন সরকারও কল্পিত হয়ে যাবেন কি-না?
৫. কোরানের কোথায় লিখা আছে "কোন অমুসলমানকে সাহায্য করো না, সাহায্য নিও না" - প্রমাণ দেন।
৬. কোরানের কোথায় লিখা আছে "অমুসলমানকে ধর্মান্তরিত কর অথবা হত্যা কর" - প্রমাণ দেন।
৭. ইসলাম কীভাবে মানবতার চরম শত্রু - প্রমাণ দেন।
৮. ইসলাম কীভাবে প্রচণ্ড মিথ্যার উপর টিকে আছে - প্রমাণ দেন।
৯. মুসলিমরা কীভাবে অমুসলিমদের কাছে কোরানকে এক্সপোজ করতে চায় না - প্রমাণ দেন।
১০. কয়েকজন ইসলামে বিশ্বাসীর নাম-ঠিকানা বলেন যাদেরকে কোরান পড়ার কথা বলাতে তারা পালিয়ে গেছে কিংবা লজ্জা পেয়েছে কিংবা মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে কিংবা অস্বস্তি বোধ করেছে। আদিল মাহমুদের মতো আপনাদের পোষ্য ভৃত্যদের নাম বললে হবে না।
১১. আব্দুল মালেক সুরা আল-বাকারা'র ১৯১ আয়াতের অর্থ না জানাতে কেন 'স্বস্তি' পেয়েছেন - ব্যাখ্যা করেন।
১২. ফেইথফ্রীডমের 'আলী সিনা' কী কী সত্য উপলব্ধি করে পৃথিবীর কল্যানে তার লেখায় সংঘবদ্ধ করেছে - কিছু প্রমাণ দেন।
১৩. আপনার 'মহামানব' ও 'বিশ্বমানব' থাবা বাবা ওরফে রাজীবের হাতে কী কী আলো ছিল, সে কীভাবে সত্যের পথ দেখিয়ে গেছে - কিছু প্রমাণ দেন। আর রাজীব যদি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম আলোর পথ দেখায় তাহলে অভিজিৎ রায় তো ছাগলের তৃতীয় ছানা প্রমাণ হবে, ঠিক কি-না? অভিজিৎ রায় তাহলে এতদিন ধরে কী ছিঁড়াছিঁড়ি করেছে, আর আপনিই বা ডক্টরেট ডিগ্রী নিয়ে এতদিন ধরে কীসের ঘাস কেটেছেন - জবাব দেন।
১৪. আপনার 'মহামানব, বিশ্বমানব' আলী সিনা ও রাজীব যে সত্য উপলব্ধি করেছে, সেই সত্য বড় বড় বিজ্ঞানী ও দার্শনিকরা উপলব্ধি করতে পারেননি কেন, আর আপনিই বা পারেননি কেন? আপনি কার 'চুল' নিয়ে গবেষণা করছেন?
১৫. প্রফেসর আব্দুস সালাম কী কারণে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ও বিকৃত চরিত্রের মানুষ ছিলেন - প্রমাণ-সহ ব্যাখ্যা দেন।
১৬. ন্যাচারাল সায়েন্সে পিএইচডি করলে ধর্ম-কর্মে বিশ্বাস করা যাবে না - এই কথা কোন্ ধর্মগ্রন্থ বা বিজ্ঞানের গ্রন্থে লিখা আছে - প্রমাণ দেন।
১৭. যে'সকল আমেরিকান মহিলা ইসলামে কনভার্ট হয়েই সন্ত্রাসী কর্মতৎপরতা করতে যেয়ে ধরা পড়েছেন তাদের সূত্র-সহ নাম বলেন।
১৮. কিছু হিন্দু পদার্থবিজ্ঞানীর নাম বলেন যারা শিবলিঙ্গে দুধ ঢালেন (এটা আপনারই দাবি)।
১৯. হিন্দু ধর্মের সৃষ্টিতত্ত্বের সাথে বিবর্তন তত্ত্ব সাংঘর্ষিক কি-না - উত্তরের পক্ষে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন।
২০. হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী এই পৃথিবী ও প্রথম সৃষ্ট মানুষের বয়স কত?
২১. আপনার ক্যালিবারের দু-চার জন মুসলিম কিংবা মুসলিম নামধারী নাস্তিকের নাম বলেন যারা অন্য কোনো ধর্ম ও তার অনুসারীদেরকে আপনার মতো করে উপস্থাপন করেছেন।
২২. মুক্তমনা ব্লগে 'বিজ্ঞান' নিয়ে আপনার সর্বশেষ লেখাটি মুছে ফেলা হয়েছে কেন? লেখাটি কি আপনি নিজেই মুছে দিয়েছেন নাকি কোনো মডারেটর মুছে দিয়েছে? তবে যে-ই মুছে দেক না কেন, মুছে দেওয়ার কারণ বলা যাবে কি? তাছাড়া লেখাটি আপনার ব্যক্তিগত ব্লগে প্রকাশ করেননি কেন? কোনো রকম পরিবর্তন না করে হুবহু একই লেখা ব্যক্তিগত ব্লগে প্রকাশ করতে পারবেন কি-না? যদি না পারেন তাহলে কেন পারবেন না?








এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ১, ২০১৩ at ২:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ড. নৃপেন সরকারের একটি লেখা নিচে কপিপেস্ট করা হলো (ছবি ছাড়া)-
সাদাত
এপ্রিল ১, ২০১৩ at ২:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এটা একটা পুরনো টেকনিক, বাইবেলের সাথে কুরআনকে মিলিয়ে জগাখিচুরি বানানো।
বিদ্রোহী
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কোরানের অধিকাংশ কাহিনী ও বানী তো বাইবেল থেকেই বিশেষ করে তৌরাত থেকে ধার করা। তাই বাইবেলের সাথে কোরান কেউ মেশায় না , বরং কোরানকেই বাইবেলের সাথে মেশানো হয় কোরানকে ঐশী বানী প্রমান করার জন্য। কিন্তু দু:খের বিষয় ইহুদি বা খৃষ্টান কেউই কোরানকে ঐশী কিতাব মনে করে না। আর এখানেই ইসলামের সাথে ইহুদি ও খৃষ্টানদের সংঘাত।
আহমেদ শরীফ
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ২:১৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
একই সৃষ্টিকর্তা মহান প্রতিপালকের নাজিলকৃত কিতাব হচ্ছে যথাক্রমে তাওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআন শরীফ। ভিন্ন ভিন্ন রাসূলের ওপর ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নাজিলকৃত। কাজেই অনেক ঘটনা কমন পড়া বা কয়েকবার উল্লেখিত হওয়া স্বাভাবিক। ইসলাম ধর্মে মুসা(আঃ) ও ঈসা(আঃ) এর কথা এসেছে তাঁদের রাসূল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, অনুসারীদের 'আহলে কিতাব' হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
সংঘাত নয়, মূলতঃ মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে বিকৃতির কারণে। আপগ্রেড না করার কারণেও। ইসলামে নতুন নবীর আগমণে পুরনো নিয়মাবলী ও আগেরজনের 'পদ্ধতি' বাতিল হয়ে যায়, এটা সাধারণ চিরাচরিত নিয়ম। আহলে কিতাবগণের পুরোহিতরা তা করেনি গোষ্ঠিগত স্বার্থ ও জাত্যাভিমানের বশবর্তী হয়ে। যার কারণে বিভাজন অনিবার্য ছিল। তবে বিশ্বব্যাপী দাওয়াতী কার্যক্রম চলার কারণে ভুল বুঝতে সমর্থ হওয়ায় অনেক আহলে কিতাব ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসছেন, আরো আসবেন।
এই তো ক'দিন আগেই একজনের সাথে দেখা হলো। ৫ বছর আগে ইসলামের কনভার্ট হয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, ক্যালিফোর্ণিয়ায় থাকেন, শ্বেতাঙ্গ। সন্তানাদি এখনও মুসলিম হয়নি, তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে এসে খুব খুশি, টঙ্গী-মহাখালি এলাকায় তাবলীগ জামাতের সঙ্গে গিয়েছিলেন, ভাল লেগেছে বাংলাদেশিদের আন্তরিকতা।
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ২:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
প্রথমত, এতে আপনাদের খুশীতে বগল বাজানোর কিছু নেই। দ্বিতীয়ত, নতুন কেউ হলে না হয় বুঝানো যেত। কিন্তু ভববিদ্রোহীর মতো কোনো পুরান পাপীকে বুঝানো মানে অপাত্রে দান করা।
হ্য, উপরে তো তা-ই দেখা যাচ্ছে। মগাজিতের লেখাতেও এর অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। এর পরও কেউ মনকলা খেয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুললে আমগো করার কিছু নাই।
প্রথমত, এখানে আপনাদের দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই যেহেতু ব্যাপারটা ইহুদী, খ্রীষ্টান, ও মুসলিমদের ইস্যু। দ্বিতীয়ত, ইহুদীরা যে নিউ টেস্টামেন্টকে ঐশী কিতাব মনে করে না, যীশুকে যে একজন ভণ্ড মনে করে, এই কথা তো আপনারা বলবেন না। কারণ আপনাদের দৌড় হচ্ছে ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের তৃতীয় ছানা হয়ে লাফালাফি করে আত্মতৃপ্তি পাওয়া।
শাহবাজ নজরুল
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৪:২০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তার উপ্রে এই ছাগল যদি নিউ আর ওল্ড টেস্টামেন্ট সম্পর্কে জানতো … লেখার সময় কিন্তু বিশ ত্রিশ খন্ড উপন্যাস লিখে ফেলে -- এতে থাকে বাইবেল অনুসারে হাজেরা (রা.) এর বিয়ে ইব্রাহীম (আ.) এর সাথে হয় নাই -- ইসহাক (আ.) ইস্মাইল (আ.) এর চাইতে ৩ বছরের ছোটো সব সব মনগড়া কাহিনী। এইসব স্ব-রচিত রূপকথা আর উপন্যাসই হচ্ছে এদের দলিল/দস্তাবেজ -- যার উপর ভিত্তি করে সারা দুনিয়ারে ক্ষণে ক্ষণে চ্যালেঞ্জ মারে। আর আসল দলিল চাইলে তোতলানো শুরু হয়ে যায়।
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পুনশ্চ:
ঠিক, তবে তাদের অনেকেই কোরানকে ঐশী কিতাব হিসেবে মেনে নিয়ে ইসলাম গ্রহণও করছেন। অন্যদিকে ইহুদী, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, মুসলিম, শিখ, ও নাস্তিকদের কেউই তো বেদ-গীতাকে ঐশী কিতাব মনে করে না। তাতে কি কিছু প্রমাণ হলো?
এপ্রিল ১, ২০১৩ at ২:৪৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বাংলা ব্লগে অখ্যাত এই লোকটাকে আপনি তো রাতারাতি খ্যাত করে তুললেন!
তার সম্পর্কে এতকিছু জানা ছিল না। জানলাম।
বিদ্রোহী
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এ ব্লগ সাইটের কাজই তো দেখি মুক্তমনার তথাকথিত নাস্তিক ও মুরতাদদের নামে গীত গেয়ে তাদেরকে হিরো বানান। আর আপনাদের অন্যান্য লেখার চাইতে সেগুলোর হিট ও মন্তব্যও তো বেশী দেখি। মুক্তমনাতে তো সদালাপ নিয়ে তেমন কোন লেখা দেখি নি কোনদিন। তাহলেই বুঝতে পারছেন -- মুক্তমনা আপনাদেরকে কতটা গুরুত্ব দেয়। ইসলামে গীবত করা মহা গুনাহের কাজ। অথচ সেটাই আপনারা কিন্তু করে যাচ্ছেন অবলীলায় পরম ধৈর্য ও অধ্যবসায় সহকারে।
আহমেদ শরীফ
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ২:১৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
চিন্তা করবেন না। আপনার হতাশ হবার মত কিছু হয়নি।
যে 'পরম ধৈর্য ও অধ্যবসায় সহকারে' আপনি প্রাণপণে চালিয়ে যাচ্ছেন তাতে সুদূর ভবিষ্যতে হয়তো একদিন আপনাকেও হিরো বানানোর মত পরিস্থিতি আসতে পারে।
ভেঙ্গে পড়বেন না, অধ্যাবসায়ের সাথে নিয়মিত সংগ্রাম চালিয়ে যান।
শাহবাজ নজরুল
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৪:৩০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভণ্ডামি সরাসরি ধরিয়ে দিলে কথা বলার কিছু থাকেনা -- যেমন থাকেনি আকাশ মালিকের কিংবা অন্যান্যদের। তারা পালিয়ে বাঁচলেই সারে। এখন এখানে তো ১৭ টি প্রশ্ন করা হলো আপনার প্রিয় বন্ধুকে। সৎ সাহস থাকে তো জবাব দিক। আসল ব্যপার হচ্ছে জবাব নাই -- কেননা ভণ্ডামি উন্মোচিত। তাই সবচেয়ে সেফ বেট হচ্ছে বালিতে মুখ গুঁজে না দেখার ভান করা। পাব্লিক সব বোঝে কিন্তু।
গীবত কি বোঝেন? বড় বড় লেকচার দেন খালি। গীবত হচ্ছে কারুর সম্পর্কে পেছনে খারাপ বলা। এটা পাব্লিক ব্লগ -- ওপেন ব্লগ। এখানে সবার সামনে উনাকে উন্মোচন করা হয়েছে -- পেছনে পেছনে গীবত করা হয়নি। তার উপরেও আপনাকে benefit of doubt দিলেও ধর্মীয় বিষয়ে ধাপ্পাবাজি উন্মোচন কখনো গীবতের পার্ট না। যান এ নিয়ে একটু দলিল দস্তাবেজ ঘাটেন -- নিজের মাথার সাজানো দলিল ঝেড়ে ফেলে আসল ইসালামী দলিল ঘেঁটে দেখেন। 'উল্মুল রিজাল' কেন গীবত নয় তা একটু পড়ে দেখেন।
বিদ্রোহী
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হাদিস থেকে গীবত বলতে যেটা বুঝেছি তা হলো কোন রকম সমালোচনা যদি কারও করতে হয় সেটা তার সামনে করতে বলা হয়েছে। তার অগোচরে হাজার মানুষের সামনে কোন ব্যক্তি সম্পর্কে নেতি বাচক কথা বলাটাই গীবত বলে হাদিসে বলা হয়েছে বলেই আমি বুঝেছি। এখন আমার বোঝা ভুল হলে গীবত নিয়ে একটা বিরাট নিবন্ধ যথাযথ দলিল সহ ছাপা যেতে পারে।তখন বিষয়টি পরিস্কার হবে। তবে অসুবিধা নেই, আপনারা যখন অন্যদেরকে নিয়ে বিরাট গীবতমূলক নিবন্ধ ছাপেন সেটা বিনা পয়সায় একটা বিরাট বিনোদনের উৎস হয়ে ওঠে বই কি।বিনোদনেরও তো দরকার আছে।
একেবারে গোড়া থেকেই আপনাদের একটা বিরাট ভুল হচ্ছে।আমাকে মুক্তমনার একজন কেউকেটা ভাবা। আমি মুক্তমনার কেউ না। আর তাই সেখানে আমার কোন বন্ধুও নেই। তবে হ্যা একজন পাঠক বলতে পারেন এই যেমন আপনাদেরও পাঠক। আর মাঝে মাঝে সেখানেও মন্তব্য করে থাকি আপনাদের এখানে যেমন করি। আসলে মুক্তমনা মনে হয় আপনাদের মাথায় এমন ভুত চড়িয়ে দিয়েছে যে, কেউ আপনাদের ছাতির তলে গিয়ে বগল না বাজালেই তাকে গড়ে মুক্তমনা বলে অভিহিত করেন।
আহমেদ শরীফ
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিশিষ্ট মুক্তমনা বুদ্ধিজীবি আকাশ মালিকের কথা যতবার মনে পড়ে ততবার বিচিত্র কৌতুকের বিমলানন্দ উপভোগ করি। ব্লগার সাদাত ভাই কর্তৃক তার ভণ্ডামির স্বরূপ উম্মোচিত হবার পর ভীষণ ফ্লপ হয়ে গিয়েছিল, বিশেষতঃ স্বগোত্রীয়দের কাছেও শ্রদ্ধা হারিয়ে হেনস্থা হতে শুরু করে। মনমরা হয়ে পড়লেও সে আমারব্লগ ছেড়ে যেতে পারেনি। অনেকদিন পোস্ট দেয়ার সাহস সঞ্চয় করতে পারেনি অবশ্য। কিছুদিন পর থেকে আমারব্লগে বিভিন্ন পোস্টে এসে আবার কমেন্টে কিছু কিছু জ্ঞানগম্যি বিতরণ শুরু করে।
কিন্তু যেখানেই তার ভণ্ডামিক কল্পকাহিনী 'যে সত্য বলা হয় নি' ই-বুকের মিথ্যাচার উম্মোচন করা পোস্টগুলোর লিংক দিয়ে তার কাছে জবাব চাওয়া হত -- সে মূহুর্তে অবিশ্বাস্য দ্রুততায় যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যেত। কয়েকদিন পর্যন্ত আর দেখা পাওয়া যেত না। পরে এটা এক মজার কৌতুকে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। কোন পোস্টে হয়তো হুলুস্থুল বকাবাজি করছে, হঠাৎ করে যেই না পোস্টের লিংক দেয়া হল অমনি ভোজবাজির মত আকাশ মালিক উধাও, জাস্ট লাপাত্তা!
আপনার প্রিয় গুরুদেব প্রকাশ্য দিবালোকের মত জলবৎতরলং আকাশ মালিকের মিথ্যাচার সর্বব্লগস্বীকৃতভাবে উম্মোচন করার পরও মহাসমারোহে শিষ্যের চাপাবাজিতে ভরা ই-বুকটির বিজ্ঞাপন চালিয়ে যাচ্ছে। এই লজ্জাহীন ব্যক্তিত্বহীনতার জন্য আপনার সমমনাদের অনেকেই লজ্জিত, ক্ষুদ্ধ। তথাকথিত মুক্তমনাদের ঐতিহাসিক বেইজ্জতি হিসেবে অমর হয়ে আছে আকাশ মালিকের বুজরুকি।
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নিক পরিবর্তন করে মুক্তমনা ব্লগের সাইডকিক হয়ে এসেছেন ভালো কথা কিন্তু মিথ্যাচার আর প্রতারণার মাধ্যমে কোনো কিছুকে যে ডিফেন্ড করা যায় না, এই সত্যকে মেনে নেওয়ার মতো সৎ-সাহস সবার থাকে না।
প্রথমত, বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ-সহ ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালও একাত্তরের মানবতাবিরোধীদেরকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়। আপনি দেন না? এমনকি ওয়ার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বছরের পর বছর সময় ব্যয় করে আজ থেকে চল্লিশ বছর আগের সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করার চেষ্টা করছেন।
দ্বিতীয়ত, মুক্তমনা ব্লগের ব্রাহ্মণ পাদ্রী-পুরোহিত-মোল্লা'রা সঙ্গত কারণে সদালাপকে গুরুত্ব না দিলেও সদালাপে তাদেরকে মাঝে মাঝে গুরুত্ব দিতে হয় বৈকি। অন্যথায় পাদ্রী-পুরোহিত-মোল্লা'রা তাদের 'মুক্তমনা' নামক মনুসংহিতাতে শূদ্রদের সম্পর্কে কী বলছে না বলছে, তা সাধারণ মানুষ জানবে কী করে?
তৃতীয়ত, ড. নৃপেন সরকারের দাবি অনুযায়ী মুসলিমরা নাকি অমুসলিমদের কাছে কোরানকে এক্সপোজ করতে চায় না। এখন তো মনে হচ্ছে মুক্তমনারাই সাধারণ মানুষের কাছে 'মুক্তমনা'কে এক্সপোজ করতে ভয় পায়।
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওহ্ হ্যাঁ, শাহবাগ গণজাগরণের পর থেকে মুক্তমনা ব্লগে কিন্তু জামাত-শিবিরকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগে মুক্তমনা ব্লগে জামাত-শিবির নিয়ে কোনো পোস্ট ছিল বলে মনে হয় না। এমনকি মুক্তমনা ব্লগ সম্পর্কে আমার দেশ পত্রিকায় একটিমাত্র লেখায় নির্জলা সত্য কথা বলা সত্ত্বেও আপনাদের গুরু আমার দেশ পত্রিকাকে যেভাবে গুরুত্ব দিয়েছে তা না দেখার ভাণ করে চোখ বন্ধ করে ছিলেন নাকি? কাজেই আপনি যে উদ্দেশ্যে মুক্তমনা ব্লগকে 'ব্রাহ্মণদের ব্লগ' বানানোর চেষ্টা করছেন, সেই উদ্দেশ্যও সফল হচ্ছে না!
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
প্রথমত, এই দাবি সত্য নয়। মুক্তমনা ব্লগে সদালাপ ও তার লেখকদের বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ থেকে শুরু করে ডাহা মিথ্যা অভিযোগ-সহ ডজন ডজন মন্তব্য ও কিছু পোস্ট আছে, তবে কোনো প্রমাণ ছাড়াই। অন্যদিকে সদালাপে মুক্তমনা সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে সেগুলোর সবই প্রমাণ-সহ বলা হয়েছে। এখানেই সভ্য আর অসভ্য'দের মধ্যে পার্থক্য।
দ্বিতীয়ত, সদালাপে ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার-অপপ্রচার'র জবাব দেওয়া হয়। ফলে একটা বাচ্চা ছেলেরও বুঝার কথা যে এটা করতে যেয়ে মুক্তমনা'র নাম সর্বাগ্রে আসবে, আসতেই হবে। এখানে 'মুক্তমনা' বলে কোনো কথা না, যে ব্লগে ইসলামের বিরুদ্ধে যত বেশী মিথ্যাচার-অপপ্রচার করা হবে সেই ব্লগের নাম সদালাপে তত বেশী আসবে।
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ১, ২০১৩ at ৩:০২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ড. নৃপেন সরকারের ডারউইন দিবস উদযাপন-
আহমেদ শরীফ
এপ্রিল ১, ২০১৩ at ৫:৩৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আগে কয়েক জায়গায় নৃপেন সরকার নামক নাস্তিকের ছদ্মবেশে নির্বোধ গোছের এই ব্রাহ্মণ্যবাদীটির হাস্যকর 'যুক্তিবাদী' কমেন্ট চোখে পড়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু বলে মনে হয়নি।
এরকম লিলিপুট জাতীয় নির্বোধ মাথামোটা ইসলামবিদ্বেষীকে নিয়ে পোস্ট দিয়ে জাতে তোলার জন্য আপনাকে মাইনাস।
তারপরও দলিল হিসেবে একটি পোস্ট কষ্ট করে সন্নিবেশিত করায় একই সঙ্গে পোস্টে প্লাস।
ফুয়াদ দীনহীন
এপ্রিল ১, ২০১৩ at ৩:৩৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
রায়হান ভাই, আপনার দাবী যৌক্তিক, আশা করি এই ডক্টর মহাজ্ঞানী সাহেব আপনার প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর দিবেন।
MD. Kamrul
এপ্রিল ২২, ২০১৩ at ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সুরা আল-বাকারা'র ১৯০ আয়াতের অর্থ-
আর আল্লাহ্র পথে তোমরা যুদ্ধ করো তাদের বিরুদ্ধে যারা অন্যায়ভাবে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে, আর সীমালংঘন করো না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ সীমালংঘনকারীদের ভালোবাসেন না।
সুরা আল-বাকারা'র ১৯১ আয়াতের অর্থ-
আর তাদের হত্যা করো যেখানেই তোমারা তাদের দেখা পাও, আর তাদের তাড়িয়ে দাও যেখান থেকে তারা তোমাদের তাড়িয়ে দিয়েছিল, আর উৎপীড়ন যুদ্ধের চেয়ে নিকৃষ্টতর। কিন্তু তাদের হত্যা করো না পবিত্র-মসজিদের আশেপাশে যে পর্যন্ত না তারা সেখানে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে, কাজেই তারা যদি তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে তবে তোমরাও তাদের সাথে লড়বে। এই হচ্ছে অবিশ্বাসীদের প্রাপ্য।
সুরা আল-বাকারা'র ১৯২ আয়াতের অর্থ-
কিন্তু তারা যদি ক্ষান্ত হয় তবে আল্লাহ্ নিঃসন্দেহ ত্রাণকর্তা, অফুরন্ত ফলদাতা।
সুরা আল-বাকারা'র ১৯৩ আয়াতের অর্থ-
আর তাদের সাথে লড়বে যে পর্যন্ত না উৎপীড়ন বন্ধ হয়, আর ধর্ম হচ্ছে আল্লাহ্র জন্য। সুতরাং তারা যদি ক্ষান্ত হয় তবে যুদ্ধ-বিগ্রহ চলবে না শুধু অত্যাচারীদের সাথে ছাড়া।
সুরা আল-বাকারা'র ১৯৩ আয়াতের অর্থ-
পবিত্র মাস পবিত্র মাসের খাতিরে, আর সব নিষিদ্ধ ব্যাপারে প্রতিশোধ নিতে হবে। কাজেই যে কেউ তোমাদের উপরে আক্রমণ চালায়, তোমরাও তবে তাদের উপরে আঘাত হানবে সেইভাবে যেমনটা তারা তোমাদের উপরে আঘাত করেছিল। আর আল্লাহ্কে ভয়-শ্রদ্ধা করবে, আর জেনে রেখো নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ ধর্মভীরুদের সাথে আছেন।
[নাস্তিকদের বলছি : আশা করছি উত্তরটি বোঝার চেষ্টা করবেন]
রাজদরবার
এপ্রিল ১, ২০১৩ at ৪:৩৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বরাহের পূজারীরা বরাহই হবে, মানুষ হবেনা।
বিদ্বেষজাত মন্তব্য। রাজ দরবারকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হল- সম্পাদক, সদালাপ।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
এপ্রিল ১, ২০১৩ at ৬:০৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মজা লাগে এই বর্ণবাদীদের চিন্তার দৌড় দেখলে। কোথায় পাবেন ওদের, এরা কখনও এসে আপনার প্রশ্নের জবাব দেবে না।
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ৩, ২০১৩ at ১:৩২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমার প্রশ্নগুলোর জবাব দেওয়ার মতো সৎ-সাহস যে তার নাই সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। কিন্তু উনিই আবার উল্টোদিকে বিভিন্ন কাহিনী ফেঁদে বলেছেন যে মুসলিমদেরকে কোরান পড়ার কথা বলাতে তারা পালিয়ে গেছে, লজ্জা পেয়েছে, মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে, অস্বস্তি বোধ করেছে, ইত্যাদি। দাস মনোবৃত্তির কেউ কেউ আবার তাকে সমর্থনও দিয়েছে। মজাই মজা
শাহবাজ নজরুল
এপ্রিল ১, ২০১৩ at ৭:১১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অনেক ম্যাৎকারী লোকজন দেখেছি -- তার মধ্যে আমাদের নৃপেন'দা মনে হচ্ছে সবচাইতে বড় ধরণের ছাগল -- মানে রাম ছাগল। তার কথাবার্তায় উঠে আসা যুক্তিবোধ এমন দুর্বল কেন? অভি'র উচ্ছিষ্ট খেয়েই মনে হয় সে আলোকিত হয়ে উঠেছে -- নাহলে কথায় কথায় সেই 'থালার লাহান চ্যাপ্টা' আর 'কাদায় সূর্য ডোবে' এই পর্যন্ত গ্যান রেখে কোরান 'পুরোটা' পড়ে ফেলার দাবী জানাচ্ছেন কেন?
জামাল কামালের অপরিপূর্ণ শিক্ষার জন্যে তো অনেক ছুতাই বের করা যায় -- গাঁয়ের অশিক্ষিত/অর্ধশিক্ষিত শিক্ষক কিংবা সমাজ হিসেবে আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি সার্বিক উদাসীনতা। তবে বিশ্ববিখ্যাত ও জ্ঞানের আলো পাওয়া আলোকিত নৃপেন-দা তো দেখছি অভির 'মাদ্রাসা'র ছাত্র -- তিনিও তো অভির শেখানো বুলি আওড়ানো রোবট সদৃশ বিজ্ঞজন। অভি শেখাচ্ছে -- আগে মুখস্ত কর পরে মানে বুঝবি -- নে মুখস্ত কর --
অরে নৃপেন ছাগল, বিষয়গুলা কি তুমি ভালো ভাবে যাচাই করে দেখছো নাকি অভির 'মাদ্রাসায়' মুখস্ত করছো? প্রতিপক্ষকে কি পুরোপুরি benefit of doubt দিছো? আর দিয়ে থাকলে মনের মধ্যে শিব লিঙ্গের প্রতি ভালোবাসা বারবার উথলাইয়া উঠে কেন?
সদালাপ কর্তৃপক্ষ
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৩:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@শাহবাজ নজরুল
এবার ঈদুল আজহায়, inter alia, ‘ ‘মনুষ্য প্রজাতির মেম্বারদের প্রতি ছাগল শব্দটির প্রয়োগ’, কোরবানী করার কথা বিবেচনা করুন।
শাহবাজ নজরুল
এপ্রিল ৩, ২০১৩ at ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তথাস্তু। নিজের জিহ্বা আরেকটু সংবরন করতে হবে বৈকি!!! মনে করিয়ে দেবার জন্যে ধন্যবাদ। মাঝে মধ্যে নিজের 'অতিরিক্ততা' চোখে পড়েনা … :D…
সরোয়ার
এপ্রিল ১, ২০১৩ at ১১:১৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জানা ছিল না। এই ধরণের লেখা তৈরী করতে কী পরিমাণ সময় নেয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। লেখককে অশেষ ধন্যবাদ।
এইসব আজিব চিড়িয়ারা সমাজে বিদ্বেষ সৃষ্টিতে যে পরিমাণ সময় ব্যয় করে, তার কিছুটা গবেষণার কাজে ব্যয় করিলে বিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতি হইত। বস্তত, এত বিদ্বেষপূর্ণ মন দিয়ে গবেষণায় মনোনিবেশ করা বেশ কষ্ট সাধ্য।
শাহবাজ নজরুল
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৪:১০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ঠিকই বলেছেন, দাদা 'ঘবেষণা' চালিয়ে যাচ্ছেন মুসলিমদের আলোকিত করতে আর পেছনে পেছনে শিবলিঙ্গে দুধ ঢালতে -- তাই স্বভাবতই আসল 'গবেষণা' পিছিয়ে পড়েছে।।
--শাহবাজ
সরোয়ার
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এখানে একটা নোট দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছি। বিদেশের কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার পদের শ্রেণীবিভাগ আছে, যেমন জুনিয়র লেকচারার ও সিনিয়র লেকচারার। ফলে একজন লেকচারারও অ্যাসিসট্যান্ট বা অ্যাসোসিয়েট প্রফেসরের সমতুল্য হতে পারে, যদিও তার পদবী থাকে লেকচারার। তবে ড. নৃপেন সরকারের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা যে কী, কে জানে! তার বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিলে অবশ্য পাওয়া যাওয়ার কথা। তাছাড়া তার ওয়েবসাইট কতদিন আগে আপডেট করা হয়েছে সেটাও দেখতে হবে।
সদালাপ কর্তৃপক্ষ
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৩:১৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বেল্টের নীচে কাউকে আঘাত করার প্রয়োজন নেই। আলোচনা, নৃপেন বাবুর অজ্ঞতা উন্মোচন ও ইসলাম বিদ্বেষীতার বিরুদ্ধে ফোকাসড হওয়া বিধেয়।
বিরহ
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৫:২২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
৩১: ১০: তিনি মহাকাশমণ্ডলীকে সৃষ্টি করেছেন কোন খুঁটি ছাড়াই,- তোমরা তো দেখতেই পাচ্ছ;
নিশ্চয় কোরান ভর্তি রহিয়াছে বিজ্ঞানে। এখন এইডারে পেচাও।
আপনাদের মাথায় কি টাডা পড়ছে বুঝেন না কোরান কতটা হাসির জোগান দেয়।
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ড. নৃপেনের দাবি অনুযায়ী আকাশ খুঁটির উপর আটকানো। অথচ কোরানে বলা হয়েছে-
৩১:১০ তিনি মহাকাশমণ্ডলীকে সৃষ্টি করেছেন কোন খুঁটি ছাড়াই-- তোমরা তো দেখতেই পাচ্ছ।
১৭টা প্রশ্নের মধ্যে মাত্র একটির জবাব দিতে এসেই লেজেগোবরে অবস্থা, স্যরি! ড. নৃপেনের সাইডকিক হয়ে নিজের ঘাড়ে অন্যায়ের বোঝা তুলে না নিয়ে তাকে সরাসরি আসতে বলেন।
আপনি সম্ভবত মনা ব্লগের ইসলাম/বিবর্তনবাদ নিয়ে কোনো লেখা কিংবা হিন্দু ধর্মের কোনো গ্রন্থকে কোরান মনে করে ভ্রম করেছেন
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৪:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিরহের চোটে বাংলা ভাষা আর যুক্তি সবকিছু ভুলে গেলে তো সমস্যা হবেই। এই কারণেই কোনটা বৈজ্ঞানিক আর কোনটা অবৈজ্ঞানিক বুঝতে সমস্যা হচ্ছে!
MD. Kamrul
এপ্রিল ২২, ২০১৩ at ১:২৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই খানে তো কোনো যুক্তি খাটে না-
৩১: ১০: তিনি মহাকাশমণ্ডলীকে সৃষ্টি করেছেন কোন খুঁটি ছাড়াই,- তোমরা তো দেখতেই পাচ্ছ।
সহজ কথা।
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ড. নৃপেন সরকারের দাবি অনুযায়ী জুলিয়া রবার্টস শিবলিঙ্গে তেল মাখাবেন (ছিঃ ছিঃ)-

আচ্ছা পাঠক, কেউ কি বলতে পারেন শিবলিঙ্গের সাথে ডঃ আজাদ চৌধূরীর কী সম্পর্ক? অন্য একটি লেখাতেও শিবলিঙ্গের সৌজন্যে ডঃ আজাদ চৌধূরীর নাম দেওয়া হয়েছে। ঘটনা কী! অধিকন্তু, এখানে শিবলিঙ্গের প্রতি ড. নৃপেন সরকারের বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়েছে নাকি শিবলিঙ্গকে 'মহান' বানিয়ে দিয়ে প্রমোট করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে!
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নৃপেন সরকার আর রাজেশ তালুকদার মিলে বুদ্ধ এবং মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর মধ্যে তুলনা করছেন-

বিদ্রোহী
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ১১:০০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমার ধারনা , পশ্চিমা সমাজের ভোগবাদী জীবন ব্যবস্থায় অত্যাধিক ভোগ করতে করতে এক সময় মানুষ কিছুটা বিরক্ত হয়ে পড়ে বৈচিত্রের সন্ধানে বিভিন্ন ধর্মের বাহ্যিক আপাত: সৌন্দর্য দেখে প্রতি আকৃষ্ট হয় ও তা গ্রহণ করে। আবার কিছুকাল পর সে সব ধর্মের ভিতরকার প্রকৃত কদর্য দৃশ্য জানতে পারে তখন তা ত্যাগ করে। যখন জুলিয়া রবার্টস সেরকম ভাবেই মনে হয় শিব লিংগের আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু একটা পাথরের লিংগ তাকে কিভাবে শান্তি দেবে সেটা ঠিক বোধ গম্য নয়। যাহোক আশা করা যায় খুব শীঘ্রই তার এ মোহ ভঙ্গ হবে ও শিব লিংগ ত্যাগ করে মক্কা বা মদিনায় গিয়ে হজ্জ করতে যেতে পারে। এর পর সেটাও ত্যাগ করে তিব্বতে রওনা দিয়ে বৌদ্ধের শিক্ষা গ্রহন করতে পারে। পশ্চিমা সমাজের এ ভোগবাদীতায় বিতৃষ্ণ হয়ে এক সময় ব্যপকভাবে তরুন না হিপ্পী, পাংক এসব হয়েছিল। ঠিক সেরকমই এক সময় হিন্দুদের হরে কৃষ্ণ আমেরিকা সহ ইউরোপে ভালই নাম করেছিল। বহু মানুষ এ দলে ভিড়ে গেছিল। বিটলসের বিখ্যাত জর্জ হ্যারিসন অন্যতম একজন। কিছুকাল ধরে দেখা গেছে কিছু কিছু মানুষ ইসলাম গ্রহন করে কিছুকাল পর তা ছেড়ে দিচ্ছে।এরকম কয়েক জনের সাথে আমার ব্যক্তিগত আলাপ হয়েছে। আমি তাদেরকে ইসলাম ত্যাগ করার কারন জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়- ইসলামী পন্ডিত বা মোল্লারা ইসলাম প্রচারের সময় ভাল ভাল সুন্দর কথা বলে , কিন্তু যখন কোরান হাদিস পাঠ করা হয় তখন দেখা যায় তাদের প্রতিটি কথা হয় মিথ্যা না হয় বিকৃত । উদাহরন স্বরূপ তারা বলেছে- ইসলাম শান্তির ধর্ম বলে তারা বহু চিৎকার করে কিন্তু কোরান হাদিসে দেখা যায় শান্তির ছিটে ফোটাও এর মধ্যে নেই বরং আছে কত প্রকারে কিভাবে অমুসলিমদেরকে আক্রমন , হত্যা ও অপমান করা যায় তার কায়দা কানুন। নারীদেরকে বহু মর্যাদা দিয়েছে বলে দাবী করে কিন্তু দেখা যায় নারীদেরকে স্থায়ী ভাবে একমাত্র ইসলাম ই সবচাইতে বেশী অপমান করেছে ও নারীদেরকে সম্পূর্ন ভোগ্য পণ্য ও শিশু উৎপাদনের যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই মনে করে না ইসলাম। হিন্দুদের হরে কৃষ্ণের খাতায় নাম লিখিয়েছিল অথচ পরে ছেড়ে দিয়েছে এরকম দু একজনের সাথেও কথা হয়েছে। তারা বলেছে- এ আবার কেমন ধর্ম যাতে মাছ মাংস কিছুই খাওয়া যাবে না। এভাবে তো বাঁচা যায় না। আর তাই তারা এসব ছেড়ে দিয়েছে।এছাড়াও বলেছে -- দিন রাত কৃষ্ণ কৃষ্ণ করলে তো পেট চলবে না। আর তাই এসব দিয়ে জীবন চলবে না। এটাও দু একজন বলেছে -- কৃষ্ণের ছিল ষোল হাজার স্ত্রী , যে লোকের এত স্ত্রী সে লোক আবার ধর্ম প্রবর্তক হয় কেমনে ? যে লোক পরস্ত্রীর সাথে গোপনে অভিসার/ লীলা খেলা করে তার নাম রাত দিন জপ করতে হবে , এর চাইতে প্রতারণা/ ফাউল কাজ আর কিছু হতে পারে না। ইসলামের মুহাম্মদ সম্পর্কেও ইসলাম ত্যাগীরা একই অভিযোগ করেছে। বলেছে -- যে লোক নিজে করে ১৪/১৫ টি বিয়ে , সে অন্যকে কিভাবে ৪ টা বিয়ের কথা বলে?যে লোক বুড়া কালে শিশুকে বিয়ে করে তার জীবন পদ্ধতি শ্রেষ্ট আদর্শ হয় কি করে, বা যে লোক তার পালিত পূত্র বধু বিয়ে করে তার জীবন সর্বকালের আদর্শ হয় কি করে ? তারা বলেছে যখন মোল্লারা ইসলাম প্রচার করে -- তখন ঘুণাক্ষরেও এসব তথ্য তারা জানায় না।আর তাই তাদের মন্তব্য যারা ধর্ম প্রচার করে তারা প্রত্যেকেই পেশাদার মিথ্যাবাদী ও প্রতারক।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৪:৩০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিদ্রোহী তো দেখা যাচ্ছে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বহু কিছু জানেন! সমস্যা হল যে অনেক কিছু জানা থাকলেও সেই জানায় যে বহু ভুল ও মিথ্যা থাকতে পারে সেটা মনে হয় উনার খেয়াল নেই!!
আহমেদ শরীফ
এপ্রিল ৩, ২০১৩ at ২:০৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইসলামের নবী মুহাম্মদ(সাঃ)-কে শুধুমাত্র অকারণ বিদ্বেষ ও জাত্যাভিমানজনিত হিংসার বশবর্তী হয়েই এ কথা কিছু লোক বলেছে যাদের জ্ঞানবুদ্ধিকে তুলনা করা যায় একমাত্র অন্ধ কূপমন্ডুকতার সাথে। বিখ্যাত সুমহান মনিষী যারা মানবিক আদর্শ-প্রতিভার জ্যোতিচ্ছটায় মানবজাতিকে বিমুগ্ধ করে দেশ-কাল-পাত্র নির্বিশেষে কালোত্তীর্ণ হয়ে আছেন -- তাঁদের সাধারণ মানুষের সংকীর্ণ বিচারে মূল্যায়ন করা যায় না, করে লাভও হয় না। মহামনিষীগণ থাকেন অনন্ত নক্ষত্রবীথির জ্যোতির্ময় তারকা হয়ে, সংকীর্ণমনা নিন্দুকের দল হারিয়ে যায় কালের গর্ভে, ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে পচে মিশে যায় কালস্রোতে।
রবীন্দ্রনাথ যখন ভবতারিণীকে বিবাহ করেন তখন ভবতারিণীর বয়েস মাত্র ১০ বছর। এখন বিশ্বসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান, বঙ্গসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের বহুমাত্রিকতা, সুগভীর দার্শনিক দৃষ্টির অনন্য নিজস্বতা -- ইত্যাদি কিছুই বিবেচনায় না এনে কেউ যদি বলে "রবীন্দ্রনাথ একজন শিশু ধর্ষণকারী", এ ধরণের অর্বাচীন রাসভসুলভ উক্তি যে নির্বোধ গর্দভের দ্বারা উচ্চারিত হবে সে নিঃসন্দেহে কোন রুচিসম্পন্ন সভ্য পরিবেশে আলোচনার যোগ্যতা রাখে না। সে নীচ এবং নির্বোধ, অশিক্ষা-কুশিক্ষার সংকীর্ণতায় সে ডুবে আছে যা থেকে তার পরিত্রাণের সম্ভাবনা খুবই কম। বাদশাহী আমলে বা প্রাচীন রাজাদের যুগে এমনকি কয়েক সহস্র পত্নী গ্রহণেরও রেওয়াজ ছিল। সেজন্যে ইতিহাস আলোচনায় যারা আর সবকিছু ফেলে সেগুলো নিয়েই ঘাঁটাঘাঁটি করে তাদের স্থান সভ্যসমাজে নেই, গলিঘুপচিতে বিক্রি হওয়া গোপন অবৈধ শস্তা অশ্লীল বই যেগুলোর নির্দিষ্ট পাঠক-ক্রেতা আছে সেখানেই সমাদর পায়।
আর সবার কথা বাদ দিলেও মাত্র দুই তিন প্রজন্ম আগেও যেখানে নারীদের 'কুড়িতে বুড়ি' বিবেচনা করে ১০/১২/১৩-তে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হত, যার ফলে আমাদের প্রায় সবারই নিকটতম পিতামহি-প্রপিতামহিরা প্রায় কিশোরী বধূ হিসেবেই সংসার শুরু করেন ও সুখী সমৃদ্ধ সংসারজীবন যাপন করে আমাদের একালের চেয়ে অনেক উত্তম নজির সৃষ্টি করে গেছেন।
সেখানে ১৫০০ বছর আগের সমাজের জন্ম নেয়া একজন আরব নবী(সাঃ) যিনি সারা বিশ্বের সর্বকালের মানবশ্রেষ্ঠ হিসেবে সমস্ত মানবজাতির কাছে আজও শ্রদ্ধাষ্পদ -- তাঁর বিচার এ যুগের সংকীর্ণ কর্দমাক্ত পক্ষপাতদুষ্ট বিচারবোধ দিয়ে করা যায় কি?
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ১:৩৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নাস্তিকতার আড়ালে আরেক সাম্প্রদায়িক কীট ধরা খেল। সামু ব্লগে বিবর্তনবাদ নিয়ে আমার একটি পোস্টে 'দিশার' নিকে এসে অতর্কীতে ইসলাম ও আমাকে হেয় করা একটি মন্তব্য দেখে তখনই তার স্বরূপ চিনে ফেলেছিলাম। তাকে উন্মোচন করার কথাও দিয়েছিলাম। কিন্তু সময় অভাবে হয়ে ওঠেনি। সেই কাজ আরেকজন খুব ভালভাবে করেছেন।
http://www.somewhereinblog.net/blog/BlackPanther/29808792
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ২, ২০১৩ at ৪:৪২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ড. নৃপেন্দ্র সরকার তো দেখা যাচ্ছে পুরা কুরআনের হাফিজ হয়ে গেছেন বলে দাবি করছেন। শুধু গুটিকয়েক কুরআনের আয়াতের বিকৃত রূপ দেখিয়ে এই দাবিকে সত্যি বলে প্রমাণ করাটা অবশ্য অনেক কঠিন একটা ব্যাপার। তিনি আরও ধারণা করছেন যে মুসলিমরা কুরআন পড়ে না বা বুঝে না!!!!! তাহলে আমরা যে ফেসবুকে ও ব্লগে লেখালেখি করি ও বিভিন্ন লেখা পড়ি ইসলাম ধর্ম বিষয়ক সেগুলো কোথা থেকে আসলো?!?!?!?!?! আর এই ব্যক্তির বাইবেলের বক্তব্যের সাথে কুরআনের বক্তব্যকে মিশানোর ধরণ দেখেই বুঝা গেছে যে এই লোক হয় অতি ধুরন্ধর নয়ত অতিশয় অজ্ঞ এক মূর্খ।
ওয়াহিদুর রহমান
এপ্রিল ৪, ২০১৩ at ৯:২২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ড: নৃপেন্দ্র সরকারের চোখে ইসলাম ও মুসলিম দর্শন প্রসঙ্গে কিছু কথা:
আপনি একজন পিএইচডি ডিগ্রীধারী পণ্ডিত ব্যক্তি। দেড়/দুই বিলিয়ন মানুষ বিশ্বাস করে এমন একটি ধর্ম নিয়ে এমন স্থুল লেখা আপনার পক্ষে শোভা পায় না। আর যদি পিএইচডি না হয়ে বর্ণচোরা হয়ে থাকেন তাহলে আপনি একজন শঠ এবং নিকৃষ্ট ভীরু-কাপুরুষ।
তবে আপনি ব্লগে অবশ্য একটা সত্য কথা বলেছেন, ‘মুসলমানরা এখন আর কোর’আন শরীফ বুঝে পড়ে না।’ যদি বুঝে পড়তো তাহলে আপনি এতদিনে মুসলমান হয়ে যেতেন। আমাদেরকে এখন আপনার এতগুলো বিশ্রী প্রশ্নের সম্মখীন হতে হতোনা। আর আমার মনে হয় এই অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। কথা হল আল্লাহ যদি আপনাকে জাহান্নামের দিকে নিতে চান, সেদিনও আপনি আমাকে বাদ দিয়ে জাহান্নামে যেতে চাইবেন না, কারণ আমি আপনাকে ইসলামের দাওয়াত দেইনি এই অভিযেগের ভিত্তিতে। কিন্তু এটা সত্য যে, যারা কোর’আন জানতো তাদের পক্ষেই আপনার পূর্ব পুরুষদের ২০% ভারতীয় হিন্দুকে ইসলামে দীক্ষা দিতে সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ মুসলমান বাদশাদের অবির্ভাবের সাথে সাথে ভারতে কোর’আন-সূন্নাহ্ শিক্ষার পথ বন্ধ হয়ে যায়। কোর’আন-সূন্নাহ্ হয়ে যায় পূজা-অর্চনার মতো মুসলমানদের ব্যক্তিগত বিষয়। ফলে অপনি অন্ধকারে থেকে গেলেন, আর আমরা হয়ে গেলাম আপনার কথায় কোর্ত্তা-টুপি ওয়ালা মুসলমান।
এবার বলুন একজন ডক্টরেট হয়ে আপনি নাবালক বাচ্চাদের সাথে ধর্ম চর্চা করবেন কেন। ইসলামতো শীবের লিঙ্গ পূজা দিয়ে ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভের মতো কোন ধর্ম নয়। মুসলমানদেরকে আল্লাহর আইন অনুযায়ী সারা জীবনের সকল কাজ সম্পাদন করতে হয়। আর যে সকল কাজ আইন অনুযায়ী সম্পাদিত হয় তা এবাদতে গণ্য হয়। অন্যথায় কাজগুলো শাস্তি যোগ্য অপরাধে গণ্য হয়ে যায়। আর যে মুসলমান নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছা বলে চালিয়ে দিতে চায় সে হয়ে যায় মোনাফেক। মোনাফেকরা মোশরেকদের চেয়েও নিকৃষ্ট মানুষ। জাহান্নামে মোনাফেকদের স্থান হবে সব চেয়ে নিচে। মনে রাখবেন, মুসলমানদেরকে ইসলাম পালন করতে হয় পূজা-অর্চনা করে নয় আল্লাহর আইন বা হুকুম মেনে চলার মাধ্যমে। আইন-কানুন একটি জটিল বিষয়। আইন-কানুনের মতো বিষয় সমূহ বিভিন্ন ভাবে ইন্টারপ্রিট করা যায়। কোর্টে অইনজ্ঞগণ একই আইন বিভিন্ন ভাবে ইন্টারপ্রিট করে কেস উপস্থাপন করেন থাকেন। তাই ইসলামের মতো এরকম একটি ধর্মকে আপনি বাচ্চাদের অথবা মূর্খদের কাছ থেকে শিখতে যাবেন কেন? ইসলাম জানে এমন জ্ঞানী গুনী অনেক মানুষ দুনিয়াতে রয়েছে, তাদের কাছ থেকে ইসলাম শিখুন, দেখবেন ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা মানবতার উৎকর্ষ সাধন করতে পারে।
এবার আপনাকে একটি অনুরোধ করবো, ইসলামের উপর অনেক অনেক বই পুস্তক রয়েছে, সবগুলো তো আর পড়তে পারবেন না; অন্তত: নিম্ন লিখিত বইগুলো পড়তে পারেন, দেখবেন ইসলাম একটি নিঁখুত মানবতার ধর্ম:
১. আবদুল্লাহ্ ইউসুফ আলী কর্তৃক কোর’আনের তর্জমা ও তফসির। বিশেষ করে কমেন্ট্রিগুলো মনযোগ দিয়ে পড়বেন। আপনার মনের পরিধি বিস্তৃত হয়ে যাবে।
২. ড: জেফরী লেং এর বই a) Loosing My Religion (A call for help) (b) Struggling to Surrender (c) Even Angels Ask
৩. ডাঃ রামা কৃষ্ণ রাও এর -- ‘মোহাম্মদ’
৪. কারেন অর্মষ্ট্রং এর (a) Mohammad (A Prophet for our time) (b) Mohammad (An Western Aattempt To Understand Islam)
পরিশেষে। আপনি আমার ধর্ম নিয়ে অনেকগুলো মন্তব্য করেছেন যার সাথে কোর’আন-সূন্নাহর কোন প্রকার সম্পর্ক নেই। আমি মনে করবো এটা আপনার প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ নয়, অজ্ঞতার ফসল। কিন্তু একজন মুসলমান হিসাবে আমার দায়িত্ব ইসলাম সম্বন্ধে আপনার যে কোন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা। বিভ্রান্তি থাকলে তা দূর করা। অথবা বিদ্বেষ থাকলে তার মূখোশ উম্মোচন করা। তাই আর একটি অনুরোধ, প্রথমত: কোর’আনে যে সকল আপত্তিকর বিষয় পেয়েছেন ঐ বিষয় গুলো সূরার নাম ও আয়াত নাম্বার উল্লেখ করে এই ব্লগের মাধ্যমে আমাকে জানাবেন। আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো আপনার প্রত্যেকটি বিষয়ের উত্তর দিতে। দ্বিতীয়ত: ইসলাম সম্বন্ধে আপনার কুৎসিত ধারণাগুলো উপস্থাপনের জন্য রেফারেন্স ছাড়া বিষয়গুলো আপনার ব্লগে এবং মন্তব্য সমূহের উত্তরে উত্থাপন করেছেন, রেফারেন্স দিয়ে তা উপস্থাপন করুন। ধন্যবাদ।
বিদ্রোহী
এপ্রিল ৪, ২০১৩ at ৮:০৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এটা আপনার অতি অন্ধ আবেগের কথা। আমি বেশ কয়েকজনকে জানি , যারা কোরান হাদিস ভালমত পড়ার আগে আপনাদের মত মহা আস্তিক ছিলেন। কিন্তু পড়ার পর মহা নাস্তিক হয়ে গেছেন। বেশী না দু্ই তিন দিনের কথা- আমি আমার এক অতি আস্তিক বন্ধুকে কোরানের কিছু আয়াত ও তার ইবনে কাথির কর্তৃক তাফসির এবং এ সংক্রান্ত কিছু হাদিস দেখালাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম- ইসলাম কি শান্তির ধর্ম? সে বিনা দ্বিধায় বলল- কোরান , তার তফসির ও হাদিস মোতাবেক তো তা দেখা যায় না। বলা বাহুল্য আয়াতগুলো ছিল -- ২:২৫৬ , ১০৯: ০৬ ( শান্তির আয়াত) এবং ৯:৫ ও ৯:২৯ জিহাদের আয়াত। আমি ইবনে কাসিরের বাংলা তাফসিরের লিংক দিয়ে দিচ্ছি আপনি নিজেও সেটা পড়তে পারেন।
http://www.quraneralo.com/tafsir/
উক্ত সাইটে ১৮ খন্ড তাফসিরই আছে। ইবনে কাথির যখন অনেক আগের একজন ইসলামী স্কলার তাই তার ব্য্যাখ্যা হবে অনেকটাই যথাযথ। বর্তমান কালের তফসিরকাররা অনেক কায়দা কানুন করে অনেক কিছু গোপন করে তাফসির করে ইসলামকে সুন্দর করে দেখানোর জন্য। ইবনে কাথিরের আমলে সে বালাই ছিল না। আর সে কারনেই ইবনে কাথিরের তাফসির থেকে প্রকৃত ইসলামের স্বরূপটা খুজে পাওয়া যায়।
আমি তাকে আরও দেখালাম যে আয়াত ৩৩:৫২ ( সূরা আহযাব) মোতাবেক নবীকে আল্লাহ আর বিয়ে না করতে নিষেধ করছে এবং সূরা আহযাব নাজিল হয়েছিল খন্দকের যুদ্ধের সময় যা ৬২৭ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে সংঘটিত হয়েছিল, অথচ নবি ৬২৯ সালের প্রথম দিকে খায়বার আক্রমন করে সেখানকার নিহত ইহুদি সর্দার কিনানের স্ত্রী সাফিয়াকে বিয়ে করেন। এটা ছিল সরাসরি নবির আল্লাহর নির্দেশ লংঘন। আর যখন তিনি সাফিয়াকে উটের পিঠে উঠাচ্ছিলেন তখন তার সাহাবীরা দ্বন্দ্বে ছিল , কারন তারা জানত যে তার বিয়ে নিষেধ করা হয়েছে আগেই। তাই তারা বুঝতে পারছিল না যে নবী তাকে স্ত্রী হিসাবে নাকি দাসি হিসাবে গ্রহন করছিলেন। কিন্তু পরে যখন তাকে পর্দা দিয়ে ঢেকে দেয়া হলো তখন তারা বুঝতে পারল যে নবী তাকে স্ত্রী হিসাবেই গ্রহণ করেছেন। নবীর সাফিয়াকে বিয়ে প্রমান করে যে নবী নিজেই আল্লাহর নির্দেশ মান্য করতেন না। যা তিনি নিজেই মান্য করতেন না ঠিক মতো তা তিনি অন্যকে কিভাবে অনুসরন করতে বলেন ? তখন আমার বন্ধুটি লা জবাব হয়ে গেল এবং কোন টু শব্দ করতে পারল না। কিভাবে জবাব দেবে ? আমি তো তাকে ওয়াজ কারীদের মত বানিয়ে কিচ্ছা বলিনি। যথাযথ দলিল উপস্থাপন পূর্বক সব কিছু দেখিয়েছি, এর পর আর কথা থাকে ? আর কয়জন আপনার মত মুমিন বান্দা উক্ত ইতিহাস জানে , শুনি ? শতকরা ৯৯.৯৯ জনও এসব ইতিহাস ও কাহিনী জানে না। আপনারও যদি জানা না থাকে , চেক করে দেখতে পারেন কখন সূরা আহযাব নাজিল হয়েছিল আর কখন নবী সাফিয়াকে বিয়ে করেছিলেন।
তাই আপনার কথা সর্বাংশেই ভুল একটা কথা। কুরান হাদিস সিরাত তাফসির ঠিকমতো পড়লে , তার পক্ষে আস্তিক থাকাটাই মুস্কিল। আমার নিজেরও যথেষ্ট সন্দেহ আপনি ঠিক কতটা এসব পড়েছেন।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ৪, ২০১৩ at ১০:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তার মানে বিদ্রোহী কুরআনকে আল্লাহ্র বানী হিসেবে মেনে নিয়েছেন যেহেতু তিনি নবীর আল্লাহ্র নির্দেশ লঙ্ঘন করার ব্যাপারটি স্বীকার করেছেন। যাই হোক দেখা যাক সূরা আল আহযাবের ৫২ নম্বর আয়াতে কি বলা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে যেঃ
দেখা যাচ্ছে যে আসলেই আল্লাহ্ মহানবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন! তার মানে কি নবী আল্লাহ্র নির্দেশ আসলেই অমান্য করেছেন?! তাহলে এবার দেখা যাক যে আসলে এই বিষয়ে সূরা আল আহজাবে সম্পূর্ণভাবে কি বলা হয়েছে।
সূরা আল আহযাব, আয়াত (৫০,৫১,৫২) --
তাহলে দেখা যাচ্ছে যে এখানে ৫০ নম্বর আয়াতে মহানবীর জন্য হালাল নারীর সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নবী কাদেরকে বিবাহ করতে পারবেন সে ব্যাপারে বলা হয়েছে। ৫১ নম্বর আয়াতে নবী কাদেরকে কাছে রাখতে পারবেন, কাদেরকে দূরে রাখতে পারবেন সে সম্পর্কে বলা হয়েছে। ৫২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে যে নবীর জন্য যে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সে সীমার মধ্যে ছাড়া অন্য কোন নারী তাঁর জন্য হালাল নয়। অর্থাৎ আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত সীমার মধ্যে যেসকল নারীরা আছেন তাদেরকে ছাড়া অন্য কোন নারীকে বিবাহ করা নবীর জন্য হালাল নয় এমনকি যদি নবীর কাছে ওই সকল নারীদেরকে ভালো লেগে থাকে তবুও। অর্থাৎ ৫২ নম্বর আয়াত দ্বারা নবীকে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়নি বরং তাঁকে হালাল নারীর বাহিরে কাউকে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
বিদ্রোহীর বর্ণনাকৃত এই কথাটি সত্যি কিনা জানি না তবে যদি সত্যি হয়েই থাকে তবে শুধুমাত্র একটি কথাই বলার আছে।
যদি বিদ্রোহীর ওই বন্ধু (অবশ্য যদি সত্যি সত্যি এমন কোন বন্ধু থেকে থাকে) কুরআন শরীফ বুঝে পড়তো তাহলে বিদ্রোহীর কথার জবাব দিতে তার খুব একটা বেগ পেতে হতো না।
পরিশেষে আমি বলতে চাই যে ইসলাম বিরোধীরা যেভাবে ইসলাম ধর্ম ও কুরআনকে উপস্থাপন করে এখানে বিদ্রোহী ঠিক সেই ব্যাপারটিরই পুনরাবৃত্তি করেছে। সে কুরআনের আগের ও পরের কোন আয়াত না দেখে শুধু একটা আয়াত নিয়ে কথাবার্তা চালিয়ে যায়। কিন্তু এই আয়াত যে আগের বা পরের অন্য কোন আয়াতের সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে সে ব্যাপারটি হয় তার মাথায় আসেনি নয়ত ইচ্ছা করে মানুষদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য সে এই কাজটি করে। সত্যিই বিদ্রোহী আল্লাহ্ ও নবীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী।
বিদ্রোহী
এপ্রিল ৫, ২০১৩ at ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কুরান ও ইসলাম আপনি বেশী বোঝেন নাকি ইবনে কাথির বেশী বোঝেন? আমার মন্তব্যে আমি ইবনে কাথিরের তাফসিরের লিংক দিয়েছি, বাংলা অনুবাদ , সেটা সামান্যতম চেক না করেই নিজের মনগড়া ব্যখ্যা দিয়ে গেলেন ? ইবনে কাথিরের লেখা কুরানের ব্যখ্যা পড়েই আমার বন্ধুটি দ্বিধায় পড়েছে আমার কথাতে না, মিস্টার।আমি বস্তুত কোন কথাই বলিনি, শুধুমাত্র ইবনে কাথিরের কিছু ব্যখ্যা ও বোখারি শরিফ থেকে কিছু হাদিস দেখিয়েছি মাত্র। বলা বাহুল্য, আগে পরের আয়াতের ব্যখ্যা পড়েই আমার বন্ধুটি বিভ্রান্ত এখন। কিন্তু আপনি নিজে কেন সেটা একটু চেক না করে নিজের মন গড়া কথা বলে যাচ্ছেন ?
ইবনে কাথিরের বাংলা তাফসিরের লিংক এখানে : http://www.quraneralo.com/tafsir/
ঐ তাফসিরে গিয়ে দেখেন ৩৩:৫২ আয়াত দ্বারা ইবনে কাথির কি বুঝাতে চেয়েছেন। শুধু ইবনে কাথির না , অধিকাংশ ইসলামি স্কলাররাই উক্ত আয়াত দিয়ে বুঝিয়েছেন যে এটা দিয়ে আল্লাহ নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছে। আর আপনি এসে বলছেন ভিন্ন কথা। আপনি কি নয়া কোন ইসলামি স্কলার নাকি ? তাই যদি হয , কুরানের আয়াতের বহু রকম অর্থ হয় কেমনে ? বহু অর্থ হলে তখন কোন অর্থ সঠিক সেটা কিভাবে বোঝা যাবে ? আল্লাহই তো কুরানে বলেছে- কুরানের অর্থ সুস্পষ্ট ও পরিস্কার । সেখানে আপনি নিজের মত বা ভিন্ন ভিন্ন অর্থ করছেন ? বস্ত্রত সেটাই তো করে চলেছে ইসলামের স্কলাররা বিগত ১৪০০ বছর ধরে আর সেকারনেই ইসলামের মধ্যে এত দল গ্রুপ। তাহলে প্রকৃত ইসলাম কোনটা ? সেটা কি বের করার কোন উপায় আছে ? আর আপনার কথায় বুঝা যাচ্ছে- আল্লাহ নবীকে বিয়ে করতে মানা করে নি, শুধু মাত্র কোন সব স্ত্রীলোক তার কাছে হালাল বা হারাম সেটাই বুঝিয়েছে। তাহলে তো আরও ভাল। এখন আপনি বলুন- আল্লাহ কেন নবীকে যেমন ইচ্ছা খুশী বিয়ে করার অনুমতি দিচ্ছেন অথচ একই সাথে অন্যদেরকে বলছেন মাত্র চারটা বিয়ের কথা। ভাল শিক্ষক কে ? যে শিক্ষক কোন উপদেশ নিজে অনুসরন করেন ও অন্যকে অনুসরান করতে বলেন তাকেই তো আমরা ভাল শিক্ষক বলি। তাই না ? কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে নবী নিজে যে শিক্ষা দিচ্ছেন তা মেনে চলার কোন দায় নেই তার। তাহলে কেমন শিক্ষক তিনি ? ইসলামে কি ভাল শিক্ষকের ভিন্ন কোন সংজ্ঞা আছে নাকি ? নাকি সেটা তৈরী করতে হবে ? একজন সাধক বা মহাপুরুষ সাধারন কোন কোন কাজে সাধারন মানুষের চাইতে ভিন্ন হন? যে সমস্ত কাজ সমালোচনার যোগ্য নয়, কিন্তু সাধারন মানুষের পক্ষেও যা করা সম্ভব নয় সেসব কাজেই। যেমন -- কোন সাধক যদি গভির রাতে উঠে প্রতিদিন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েন দীর্ঘক্ষন যা সাধারন মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয় , তাহলে সেটাই হয় তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। অথবা যদি তিনি না খেয়ে বেশ কয়েকদিন কাটাতে পারেন অথচ একটুও দুর্বল না হন তাহলে সেটাই হয় তার বিশেষত্ব। এগুলো কোন সমালোচনার উদ্রেক করে না, বরং সাধারন মানুষের কাছে বিস্ময় উদ্রেক করে। একের পর এক বিয়ে করে যাওয়া , এটা নিশ্চয় সে ক্যটাগরিতে পড়ে না । কি বলেন ? পড়ে তো না ই -- বরং এ ধরনের কাজ ভীষণ সমালোচনার জন্ম দেয়। আর তাই আয়াত নাজিল করে সে সব সমালোচনা থামাতে হয়। কি আজব কারবার !
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ৫, ২০১৩ at ৭:৩৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এরকম একটা কথা যে এখানে আসবে সেটা অবশ্য আমি বুঝতে পেরেছিলাম। এখানে বোঝা না বোঝার কিছুই নেই এবং আমিও কোন ব্যাখ্যাও দেই নি। সুরা আল আহজাবের ৫০, ৫১ ও ৫২ নম্বর আয়াতে যা যা বলা হয়েছে আমি ঠিক তাই তাই বলেছি। যেটাকে আমার ব্যাখ্যা হিসেবে বলছেন সেটা হল কুরআনের বানীকেই সহজ ভাষায় তুলে ধরা। এই তিনটি আয়াত পর পর পড়লে যেকোনো সুস্থ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষই আমার কথার সাথে একমত হবে। আর যেকোন তাফসীর পড়ার আগে পড়তে হয় কুরআন। কারন কুরআন সরাসরি আল্লাহর বানী। কুরআনের ব্যাখ্যা করতে হলে সর্ব প্রথম কুরআন থেকেই করতে হয় তারপরে গিয়ে হাদিসের কথা আসে। আর তাছাড়াও কোন প্রেক্ষাপটে কুরআনের বানীটি বর্ণিত হয়েছে সেই ব্যাপারটিও একটি বিবেচ্য বিষয়। আর ইবনে কাথিরের/কাসীরের তাফসীর ইতিমধ্যে আমার কাছে আছে সুতরাং আপনার লিঙ্কে আমার কষ্ট করে আর যাওয়া লাগেনি। তাফসীরে ইবনে কাথিরেও আমার কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।
তাফসীর ইবনে কাসীর, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা – ৮৩৬ :
এখানে আমার বলা কথাটির মত করে বলা হয়েছে এই হাদিসটিতে!
দেখা যাচ্ছে যে এসকল হাদিসেও আমার বলা কথাটিই বলা হচ্ছে!! আর এটি হল সূরা আল আহজাবের ৫২ নম্বর আয়াতটি নাজিল হবার আরও একটি কারন।
তাফসীর ইবনে কাসীর, খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা – ৮৩৮ :
এই আয়াতটি নাজিল করার এটাও একটা কারন যেন মহানবী (সঃ) ওইসব অজ্ঞ লোকেদের মত করে নিজের স্ত্রীদেরকে অন্য লোকেদের স্ত্রীদের সাথে বদলাবদলি না করেন। মানে এটা হল এই আয়াতটি নাজিল হবার আরও একটি কারন।
তাহলে দেখা যাচ্ছে যে আমার যে কথাটিকে আপনি মনগড়া কথা বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন সেই একই কথা হাজার বছর আগেই হাদিসে উল্লেখিত হয়ে গিয়েছে এবং ইবনে কাসীরের তাফসীরেও বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং লজিকের ভিত্তিতে হোক বা হাদিসের ভিত্তিতে হোক আমার বর্ণনাই সঠিক।
ঐ তাফসিরে গিয়ে দেখেন ৩৩:৫২ আয়াত দ্বারা ইবনে কাথির কি বুঝাতে চেয়েছেন। শুধু ইবনে কাথির না , অধিকাংশ ইসলামি স্কলাররাই উক্ত আয়াত দিয়ে বুঝিয়েছেন যে এটা দিয়ে আল্লাহ নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছে। আর আপনি এসে বলছেন ভিন্ন কথা। আপনি কি নয়া কোন ইসলামি স্কলার নাকি?
এই কথা বলার অর্থ হল আপনি নিজেই আল্লাহ্ ও নবীর উপর বিশ্বাস করছেন তাই না। তা না হলে নবী যদি নিজেই কুরআনের প্রবর্তক হন তাহলে কি তিনি নিজেই নিজেকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন?!?!?!?!
বিদ্রোহী
এপ্রিল ৬, ২০১৩ at ৪:০৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
৩৩:৫২ আয়াতের ব্যখ্যায় ইবনে কাথিরের তাফসিরের একেবারে প্রথমেই ১৫ শ খন্ডের ৮৩৫-৮৩৬ নং পৃষ্ঠায় নিচের অংশটুকু আছে যা আপনি আপনার কোটেশনে উল্লেখ করেন নি।
পূর্ববর্তী আয়াতগুলোতে এটা গত হয়েছে যে ,রাসূলুল্লাহ( সা) এর সহ ধর্মীনিরা ইচ্ছা করলে তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে পারেন এবং ইচ্ছা করলে পৃথক হয়ে যেতে পারেন এ অধিকার তিনি তাদেরকে প্রদান করা করেছিলেন। কিন্তু মুমিনদের মাতারা রাসুলুল্লাহ(সা:) এর অঞ্চল ছেড়ে যেতে পছন্দ করেন নি। একারনেই আল্লাহ তালার পক্ষ হতে তারা পার্থিব একটি প্রতিদান লাভ করলেন যে , এই আয়াতে আল্লাহ স্বীয় নবি( সা ) কে নির্দেশ করলেন: এর পর তোমার জন্য অন্য কোন নারী বৈধ নয় এবং তোমার স্ত্রীদের পরিবর্তে অন্য কোন স্ত্রী গ্রহণও বৈধ নয় যদিও তাদের সৌন্দর্য তোমাকে বিস্মিত করে। তবে তার অধিকার ভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য নয়। পরে অবশ্য আল্লাহ তায়ালা এ বিধিনিষেধ উঠিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাকে বিবাহ করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
দয়া করে বলবেন কি , কেন উক্ত অংশটি উল্লেখ করেন নি। আমি উল্লেখ করলাম আর দেখুন তো সেখানে কি লেখা। আশা করি এর পর আমার কোন ব্যখ্যার কোন দরকার নেই।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ৬, ২০১৩ at ১১:৩৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এক্ষেত্রে আমি আবদুল্লাহ সাঈদ খান ভাইয়ের বক্তব্যটি উল্লেখ করতে চাই।
আমার কাজ ছিল আপনার কাছে প্রমান করা যে আমার ব্যাখ্যা মনগড়া নয় যেই
অপবাদটি আপনি আমাকে দিয়েছিলেন। আপনি আমাকে বলেছিলেনঃ
এছাড়াও আপনি আমাকে বলেছিলেনঃ
কিন্তু আমি আপনাকে তাফসীর ইবনে কাসীর থেকেই দেখিয়ে দিলাম যে আমার ব্যাখ্যা মনগড়া নয় বরং তাফসীরেই আছে। আর তাছাড়াও আপনি বলেছিলেন যে আল্লাহ্ নিষেধ করা সত্ত্বেও মহানবী নাকি বিয়ে করেছিলেন। দেখা যাক যে এখানে কি বলা হয়েছেঃ
তার মানে হল যে আপনার কথা সম্পূর্ণরূপে ভুল। আপনি বলেছিলেন যেঃ
কিন্তু আপনি নিজেই তাফসীর ইবনে কাসীর থেকে দেখিয়ে দিলেন যে আল্লাহ্ তাঁকে পরবর্তীতে পুনরায় বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিলেন। অর্থাৎ আপনি নিজেই নিজেকে ভুল প্রমাণিত করলেন। তাহলে আপনার কথার আর দাম থাকলো কিভাবে?!?!?!?!?! নিজের কথাকে তো আপনি নিজেই এখন ভুল প্রমান করলেন!!!!!
বিদ্রোহী
এপ্রিল ৭, ২০১৩ at ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই তো ফাঁদে পড়ে গেছেন। কারন আমি যে ফাঁদ পেতেছি তাতে না পড়ে উপায় নেই। এ যে কঠিন ফাঁদ !
ইবনে কাথির তো বলে খালাস যে পরে নবীকে বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিলেন কারন তিনি নিজেও বুঝতে পেরেছিলেন যে নবী আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে সাফিয়াকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু তিনি বুদ্ধিমান , সবাই এ সত্যটা জেনে যাক তা চান নি, তা হলে ইসলামের ক্ষতি হবে , মহানবীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। সেকারনেই তিনি তার তাফসিরে এ বক্তব্য দিয়েছেন- পরে নবীকে বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিলেন। এখন ভাই , দয়া করে কুরান থেকে সেই আয়াত টি একটু বের করে দিন তো , কোন আয়াত মোতাবেক নবীকে উক্ত ৩৩:৫২ নাজিলে পরে আবারও বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিলেন ?
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ৭, ২০১৩ at ১০:২০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আহা কি কঠিন ফাঁদ আর নিজের পাতা ফাঁদের সেকি প্রশংসা! একেই বলে নিজের ঢোল নিজেই পিটানো!! এবার তাহলে খুশিতে বগল বাজান!!!
প্রথমেই আমি আব্দুল্লাহ সাঈদ ভাইয়ের বক্তব্যটি আরেকবার উল্লেখ করতে চাই,
আপনি বললেন যেঃ
কিন্তু দেখা যাক আপনি এর আগে ইবনে কাথির সম্পর্কে কি বলেছিলেনঃ
তখন তো আপনি ইবনে কাসীরের বেশ প্রশংসা করছিলেন যে তিনি কোন লুকাছুপার মধ্যে নেই! আবার এখন বলছেন যে তিনিই চান নি সত্যটা সবাই জেনে যাক!! আহা কি চরম আস্থা আপনার মানুষটার উপরে!!!
আর ইবনে কাসীর যদি সত্যি গোপন করতেই চাইতেন তাহলে তিনি এতটুকু অংশ বর্ণনাই বা করলেন কেন? তাঁর তাফসীরের ওই আয়াত সংক্রান্ত ব্যাখ্যার সিংহভাগেই তো বর্ণিত হয়েছে অন্য ব্যাখ্যা। যে ব্যাখ্যাটি কুরআন পড়লে স্বাভাবিক লজিক সম্পন্ন যেকোনো মানুষের মাথাতেই আসবে। তিনি কেন তাঁর তাফসীরের প্রথম অংশটুকু বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ওই অংশটুকু লিখেননি??
যে তাফসীরের উপরে আপনার এত বিশ্বাস সেই একই তাফসীরের উপরেই আবার একই সাথে আপনার এত অবিশ্বাস! বিষয়টা বেশ বিভ্রান্তিকর!! আপনি এই মানুষটির ব্যাখ্যার আংশিক ব্যাবহার করছেন কিন্তু বাকি অংশকে মিথ্যা বলে উপেক্ষা করে যাচ্ছেন!! সেক্ষেত্রে তো আপনার ব্যাখ্যা ও বর্ণনার ভ্যালিডিটি নিয়েই সকলেরই সন্দেহ হবে।

আর আপনার মূল কথা তো ছিল যে ইবনে কাসিরের কথা অনুযায়ী মহানবী নাকি আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন। কিন্তু ইবনে কাসিরের তাফসীরে তো নির্দেশ লঙ্ঘনের এরকম কিছুই দেখা যায়নি। তাহলে তো বোঝা গেল যে আপনি মিথ্যা কথা বলেছেন।
তাহলে এবার দেখা যাক যে ইবনে কাসীর যা বলেছেন তার ঠিক কতটুকু আপনি গ্রহন করেছেনঃ
ঠিক এতটুকু পর্যন্ত আপনি ইবনে কাসিরের তাফসীর হতে গ্রহন করেছেন। কিন্তু সেই একই ব্যাখ্যার বাকি অংশটুকুতে বলা হয়েছেঃ
কিন্তু কোন এক আশ্চর্য কারনে আপনি তাফসীরের এই অংশটুকু গ্রহন করছেন না!
আর আপনার কথা অনুসারেঃ
তার মানে আপনার কথা অনুসারেই যত পুরানো ইসলাম বিশেষজ্ঞ হবে তার ব্যাখ্যা তত সঠিক হবে। তাহলে ইবনে কাসীরের তাফসীরেই তো তাঁর থেকে পুরানো ইসলামী বিশেষজ্ঞের কথা বলা হয়েছে যারা বলেছেন যে ৫০ নম্বর আয়াতে যেসকল নারীদের কথা বলা হয়েছে সেসকল নারীরা ছাড়া আর সকল নারীকে বিবাহ করাই মহানবীর জন্য হারাম। ইবনে কাসীরের তাফসীরের বক্তব্য অনুসারে যারা যারা এই ব্যাখ্যাটি দিয়েছিলেন তাঁরা হলেনঃ
এরা সকলেই ইবনে কাসীরের থেকেও পুরানো ব্যাখ্যাদানকারী এবং সংখ্যাগরিষ্ঠও বটে। তার মানে হল যে আপনার নিজের কথা অনুসারেই এদের ব্যাখ্যা ইবনে কাসীরের থেকেও আরও যথার্থ হবে। কিন্তু আপনি তো এদের ব্যাখ্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আপনার কথা আর কাজের মধ্যে তো কোন মিল পাওয়া যাচ্ছে না। নিজে যা বলছেন সেটাকে আবার নিজেই ভুল প্রমান করছেন এবং উপেক্ষা করছেন!
যেহেতু আপনি বারবার বলছেন যে, নবী আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করে সাফিয়াকে বিয়ে করেছিলেন তার মানে হল যে আপনি আল্লাহ্র উপরে বিশ্বাস করেন। আর যদি না করেন তাহলে আমি তৃতীয়বারের মতো আপনার কাছে এই প্রশ্নটা করছি যেটা আপনি বারবার এড়িয়ে যাচ্ছেন।
আপনি আর কি ফাঁদ পাতবেন আপনি তো নিজেই নিজের বিভ্রান্তিকর কথার পাতা ফাঁদে পা দিয়ে আটকে আছেন। আবার নিজের পাতা ফাঁদের সেরকম প্রশংসাও করলেন! অবশ্য সেটা আসলেই বেশ প্রশংসার যোগ্য। কারন নিজের পাতা ফাঁদে আপনি নিজে বেশ ভালোভাবেই জড়িয়ে পড়েছেন!!!!!
বিদ্রোহী
এপ্রিল ৮, ২০১৩ at ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার আলোচনা পড়ে মনে হয়েছিল আপনি যথেষ্ট জানা শুনা একজন মানুষ। কিন্তু আপনি যে এতটা নবিশ তা ভাবতে পারিনি। কিভাবে যে নিজের ফাদে নিজেই পড়ে গেছেন সেটা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। অথচ আমার ধারনা যারাই আমাদের আলোচনাটা অনুসরন করছে সবাই সেটা বুঝতে পারছেন। আর আমি আপনাকে এমন ফাঁদে আটকেছি যা থেকে আপনিই শুধু নন , এই দুনিয়ার কোন ইসলামি স্কলারও এ ফাঁদ থেকে বেরুতে পারবেন না। তারা বড়জোর যেটা করতে পারেন , সেটা হলো ধানাই পানাই করে কিছু অর্থহীন ও অপ্রাসঙ্গিক প্রলাপ বকা। কারন প্রকৃত বিপদে পড়লে সেটা করতেই তারা বিশেষ দক্ষ।
আপনার কাছে একটা ছোট্ট্ দাবী করেছিলাম -- আ্ল্লাহ যে ৩৩:৫২ আয়াতের বিধান বাতিল করে তার নবীকে আবারও যেমন ইচ্ছা খুশী বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিলেন সেই আয়াতটা কুরান থেকে দেখান।
আপনি তার কোন উত্তর না দিয়ে বিশা্ল এক নিবন্ধই লিখে ফেললেন। যা ছিল রীতিমতো অপ্রাসঙ্গিক । আমি এখনো অপেক্ষায় আছি আপনার সেই আয়াতের ।
৩৩:৫২ আয়াত পরিস্কার বলছে নবি আর কোন বিয়ে করতে পারবেন না বা তার কোন স্ত্রীকে অন্য কারও স্ত্রীর সাথে বদলী করতে পারবেন না ( এ রীতি তখন ছিল আরবে)। অথচ আপনি দাবী করলেন যে উ্ক্ত আয়াত দ্বারা আল্লাহ নবীকে কিছু নির্দিষ্ট নারীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন তথা সম্পূর্ণভাবে বিয়ে করতে নিষেধ করেন নি। অথচ ইবনে কাথির কিন্তু ঠিকই বলছেন যে -- উক্ত আয়াত দ্বারা নবীকে আর বিয়ে করতেই নিষেধ করেছিল। ইবনে কাথিরের তাফসিরও লাগে না , সোজা আয়াতটা পড়লেই সেটা বোঝা যায় , স্কলার হওয়া লাগে না। কিন্তু ইবনে কাথির ইতিহাস , হাদিস ও সিরাত পড়ে বুঝতে পারলেন যে , উক্ত আয়াত নাজিল হওয়ার পরও নবি বিয়ে করেছিলেন যেমন- খায়বার আক্রমন করে সেখানকার সর্দার কিনানের স্ত্রীকে বিয়ে করেছিলেন। তিনি এটাও খেয়াল করলেন যে উক্ত ৩৩:৫২ আয়াত বাতিল করে আল্লাহ যে নতুন কোন আয়াত নাজিল করেছিল তা কোরানে নেই। সেটা যদি তিনি তার তাফসিরে প্রকাশ করেন তাহলে সেটা সরাসরি নবীর চরিত্রকে প্রশ্ন বিদ্ধ করে এবং প্রমানিত হয় যে নবি নিজেই আল্লাহর নির্দেশ পালন করেন নি, আর সাফিয়াকে তিনি বিয়ে করে প্রমান করলেন যে নারীর প্রতি তিনি খুব সহজেই আকৃষ্ট হতেন। কারন হাদিসে আছে উক্ত সাফিয়াকে তিনি আগেই দাহিয়া বলে একজন সাহাবিকে গণিমতের মাল আকারে দিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে সাফিয়াকে নবীর কাছে হাজির করলে তিনি তার প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে অত:পর তাকে নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। বলাই বাহুল্য সাফিয়ার রূপ সৌন্দর্য তাকে আকৃষ্ট করে। তাহলে ইবনে কাথির এখন কি করবেন ? তিনি ছিলেন একজন নিবেদিত প্রান মুসলমান। ইসলামের সেবা করেই তার জীবন কেটেছে। এখন কি তিনি নবীকে খাট করবেন ? তা তিনি করতে পারেন না , আর সে কারনেই তিনি নিজের মত করে একটা বক্তব্য দিলেন যে -- ৩৩:৫২ আয়াত বাতিল করে আল্লাহ নবীকে আবারও বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিল। ইবনে কাথিরের সময়ে বই পুস্তকের প্রচলন ছিল না, তাই সবার পক্ষে কুরান হাদিস পড়াও সম্ভব ছিল না। এ সীমাবদ্ধতার বিষয়টা তার জানা ছিল। আর সে সুযোগ নিয়েই তিনি নিজের উক্ত বক্তব্যটি তার তাফসিরে লিপিবদ্ধ করেন। সেই সময়ে এসব নিয়ে কেউ প্রশ্ন করে নি কারন মানুষ কিতাব হাতে পেত না আর তাই জানত না কি তিনি তার তাফসিরে লিখে রেখেছেন। কিন্তু বর্তমানে যে কেউই ইচ্ছা করলে তার তাফসির পড়তে পারে। যে কারনে সেটা এখন মানুষের নজরে আসছে আর স্বাভাবিক ভাবেই তাদের মনে প্রশ্ন আসছে। তারা জানতে চায় , নবি কিভাবে আল্লাহর বিধান লংঘণ করে বিয়ে করতে পারেন ? আপনি যদি মনে করেন যে নবি আল্লাহর বিধান লংঘন করেন নি , তাহলে আপনাকেই কুরান থেকে প্রমান দেখাতে হবে যে আল্লাহ ৩৩:৫২ আয়াত বাতিল করে নুতন একটা আয়াত নাজিল করেছিল। কারন আল্লাহর বানী পরিবর্তন করার একমাত্র মালিক কিন্তু আল্লাহই, নবীর নয় । আল্লাহর বিধান বা আদেশ বাতিল করার ক্ষমতা আল্লাহ কোন নবীকে দেয় নি, নীতিগত ভাবে সেটা আল্লাহ দিতেও পারে না। আর সেটা খুব পরিস্কার করে কুরানেই লেখা আছে-
আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান? সুরা বাকারা -- ২: ১০৬
এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না। সূরা নাহল-১৬:১০১
সুতরাং দয়া করে অর্থহীন ও অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা না বলে কুরান থেকেই দেখান যে আল্লাহ ৩৩:৫২ আয়াত বাতিল করে নতুন করে কোন আয়াত নাজিল করেছিল যার দ্বারা নবিকে যথেচ্ছ বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিল। যদি সেটা না পারেন তাহলে গোয়ার্তুমি বাদ দিয়ে স্বীকার করুন যে নবি নিজেই আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছিলেন।
আবদুল্লাহ সাঈদ খান
এপ্রিল ৮, ২০১৩ at ১:০৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ বিদ্রোহী, প্রথমে নিজের মত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন যে নবী নিজেই আল্লাহর হুকুম অমান্য করেছেন (নাউযুবিল্লাহ) তারপর মনগড়া একটি কাহিনী দিয়ে দিলেন ইবনে কাসির সম্পর্কে। আর কত মিথ্যাচার দিয়ে কোরআন কে ভুল প্রমান করবেন, রাসূলকে (সা:) ডিফেম করবেন?
আমি আগেও বলেছি, আপনি স্কিপ কোটিং করেছেন, বিভ্রান্তি ছাড়ানোর জন্যে। নাহলে তাফসির ইবনে কাসিরেই যে আয়াত দিয়ে উক্ত আয়াতের প্রথম অর্থটি মানসুখ হয়েছে সেটি উল্লেখ আছে, সেটি স্কিপ করে যেতেন না। উম্মে সালমা (রা) থেকে বর্ণিত হাদিসেই এসছে যে ৫১ নাম্বার আয়াতের تُرْجِي مَن تَشَاءُ مِنْهُنَّ অংশটি দিয়েই আগের হুকুম টি মানসুখ হয়েছে। তবে ক্রনোলজিক্যালী এ আয়াতটি যদিও আগে এটা নাযিল হয়েছে ৫২ নম্বর আয়াতের অনেক পড়ে। (এই কথাটুকু তাফসির ইবনে কাসিরের ১৫ খণ্ডের ৮৩৬ নম্বর পৃষ্ঠায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে) ইনফ্যাক্ট ৫১ নাম্বার আয়াতের অর্থ থেকেই বুঝা যায় এটি পরবর্তীতে নাযিল হয়েছে। আর কোরআনের অনেক আয়াতই যে নাযিলের ক্রনোলজি ও সন্নিবেশের ক্রনোলজি ভিন্ন সেটা প্রত্যেক সচেতন মুসলিম মাত্রই জানার কথা।
আবদুল্লাহ সাঈদ খান
এপ্রিল ৫, ২০১৩ at ৮:৩৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কোরআনের আয়াত Out of Context তুলে ধরাতো আপনাদের চিরাচরিত রীতি। এখন আবার আসছেন তাফসীর ইবনে কাসীর থেকে আংশিক বক্তব্য তুলে বোকা বানাতে। খ্রীস্টান মিশনারী থেকে ভাড়া করা এই রীতি আর কত চালাবেন?
শুরু করলেন আল্লাহ নবীকে কি অনুমতি দিয়েছেন সেটা বলে, শেষে গিয়ে বললেন নবী নিজেই যে শিক্ষা দিচ্ছেন। রাসূলের একাধিক বিয়ের ঐতিহাসক প্রেক্ষাপট নিয়ে এই সদালাপেই বিভিন্ন জায়গায় ব্যাখ্যা এসেছে। অন্ধবিশ্বাসের কারণে নিজেই নিজের কথার বৈপরীত্যে প্যাচ খাচ্ছেন, সেটাকি লক্ষ্য করেন নি।
বিদ্রোহী
এপ্রিল ৮, ২০১৩ at ২:০১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আবদুল্লাহ সাঈদ খান
দু:খিত ভাই, আমি আপনার মত চোখ থাকতেও অন্ধ নই। আমি মুহাম্মদকে ডিফেম করছি না। কুরান, হাদিস ও তাফসির থেকে কিছু বিষয় বোঝার চেষ্টা করছি মাত্র।
তার অর্থ কুরানে যেমন ইচ্ছা খুশী ভাবে আয়াতগুলো সংকলিত হয়েছে। আগের আয়াত পরে , পরের আয়াত আগে। এমন কি হয়ত বা ইচ্ছামত আয়াত সমূহ বিভিন্ন সূরাতেও সংকলিত হয়েছে। কি দারুন বিশুদ্ধ সংকলন! এ ধরনের জগাখিচুড়ি একটা সংকলনের জন্য ইসলামি পন্ডিতদের কি অহংকার ! দম্ভের সাথে বলে দুনিয়াতে কোরা্নই একমাত্র বিশুদ্ধ গ্রন্থ , তারা একবারও বলে না কিভাবে এটা বিশুদ্ধ , কিভাবেই বা সংকলিত হয়েছিল। এখন যদি আপনার কথা সত্যি হয় তাহলে তো প্রশ্ন আরও গুরুতর রূপ নেয়। নবি কি দুনিয়াতে শুধু বিয়ে করতে এসেছিলেন ? আর তাই আল্লাহকে আয়াত নাজিল করে সেটা অনুমোদন করতে হয়েছিল ? পুরো চিত্রটি কিরকম পাল্টে গেল দেখলেন ? একজন নবী যাকে বিশ্বাস করা হচ্ছে দুনিয়ার সর্ব শ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ সর্বকালের জন্য , যার জীবনাদর্শ পালন করতে হবে সবাইকে অন্ধভাবে , তিনি নিজের যত ইচ্ছা খুশী বিয়ে করার বিধান আমদানি করছেন আল্লাহর কাছ থেকে , কিন্তু সেটা আবার তার অনুসারীরা পালন করতে পারবে না , তাদের জন্য মাত্র ৪টা বরাদ্ধ। কি অদ্ভুত শিক্ষা তাই না ?
এবার দেখুন সেই ইবনে কাথিরের তাফসির থেকেই , কি বিশুদ্ধ ভাবে কোরান সংকলিত হয়েছে-
সুরা আহযাবের একে বারে প্রারম্ভেই নিচের তাফসির আছে --
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে -হযরত উবাই ইবনে কাব ( রা) হযরত যির(রা) কে জিজ্ঞেস করলেন: "সুরায়ে আহযাবে কতটি আয়াত গণনা করা হয়? " উত্তরে তিনি বলেন- " তিহাত্তর টি" । তখন হযরত উবাই ইবনে কাব ( রা) বলেন -- "না না আমি তো দেখেছি যে এ সূরাটি প্রায় সুরা বাকারার মত ছিল। " পৃষ্ঠা নং-৭৩৩, খন্ড-১৫শ, তাফসির ইবনে কাথির, অনুবাদ : ড. মুজিবুর রহমান।
তো সূরা বাকারার আয়াত সংখ্যা কত ? মাত্র ২৮৬ টি আয়াত। তো এ থেকে ৭৩ বাদ দিলে কত থাকে ? ২১৩ টি । অর্থাৎ সুরা আহযাবে প্রায় ২০০ এর বেশী আয়াত সংকলন করতে বাদ পড়ে গেছে।
আল্লাহই না বলেছেন -- আমি কোরান নাজিল করেছি আর আমি এর সংরক্ষক । সূরা হিজর -১৫:০৯
তো আল্লাহ কিভাবে কোরান কে বিশুদ্ধভাবে সংরক্ষন করলেন ? কোথায় সেই ২০০ এর বেশী আয়াত ? এর পরে কিভাবে দাবী করা যাবে যে কোরান হলো সব চাইতে বিশুদ্ধ ভাবে সংকলিত ও সংরক্ষিত কিতাব ?
দেখলেন তো , একটা বিতর্কিত বিষয় থেকে গোজামিল দিয়ে রক্ষা পেতে অন্য একটা বিষয় অবতারনা করলে সেখানে আরও বেশী বিপদে পড়তে হয়। পরিশেষে ৩৩:৫২ সম্পর্কে যা বললেন সেটাও অসত্য। কেন অসত্য সেটা সোজাসুজি ৫০,৫১ ও ৫২ পড়লে বোঝা যায়। ইবনে কাথিরও সেটা বলেছেন। সর্বোপরি নবীর সাফিয়াকে বিয়ে সম্পর্কিত হাদিসে দেখা যায় -- নবী যখন সাফিয়াকে নিয়ে মদিনায় রওনা হন তখন তার সাহাবিরা দ্বিধায় ছিল যে নবি তাকে স্ত্রী নাকি দাসি হিসাবে গ্রহণ করলেন। কারন তারা জানত আগেই আল্লাহ নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু দাসীর সাথে সহবাস নিষেধ করেন নি, আর তাই তাদের এ দ্বিধা। কিন্তু যখন নবী সাফিয়াকে উটের পিঠে চড়িয়ে পর্দা দিয়ে ঢেকে দিলেন তখন তারা নিশ্চিত হলো যে নবী তাকে বিয়ে করেছেন। তবে ততদিনে তেনি মদিনার সর্বে সর্বা হয়ে পড়েছেন তার বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ ছিল না , তাছাড়া বহুবিবাহও তখন কোন খারাপ বিষয় ছিল না , তাই এ নিয়ে কেউ আর কথা বলে নি।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তাহলে দেখাই যাক আপনি ইতিপূর্বের কমেন্ট গুলোতে আমাকে কি বলেছিলেন,
এপ্রিল 5, 2013 এর কমেন্টে আপনি আমাকে বলেছিলেনঃ
সেই একই তারিখের একই কমেন্টে আপনি আমাকে বলেছিলেনঃ
আপনি সেখানে পুনরায় বলেছিলেনঃ
এ সকল কমেন্ট থেকেই সকলের বোঝা উচিত যে আপনি আমাকে কি পরিমাণ জানা শুনা মানুষ মনে করেছিলেন। আমাকে হেয় করার চেষ্টা করতে গিয়ে আপনি পুনরায় আরেকটি স্ববিরোধী কথার সৃষ্টি করেছেন! এক্ষেত্রে বোঝা গেল যে আপনি নিজেই আসলে নবিশ!!
এই কথাটি আসলে আপনার নিজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আসল কথা হল যে আপনি নিজেই নিজের কথা বার্তার অসঙ্গতি এবং স্ববিরোধীতা ধরতে পারছেন না!!
সেটা একান্তই আপনার নিজের ধারনা এবং সে ব্যাপারে আমার এবং সেই সাথে আরও অনেকেরই সন্দেহ আছে!
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
দেখা যাক আপনার দাবী অনুসারে আমি কোন ফাঁদে আটকা পড়েছিঃ
আপনার কাছে একটা ছোট্ট্ দাবী করেছিলাম — আ্ল্লাহ যে ৩৩:৫২ আয়াতের বিধান বাতিল করে তার নবীকে আবারও যেমন ইচ্ছা খুশী বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিলেন সেই আয়াতটা কুরান থেকে দেখান। তবে আজব ব্যাপার হল আমি নিজে কিন্তু কখনই দাবী করিনি যে আল্লাহ্ মহানবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন বিধান বাতিল করা তো দূরে থাক! দেখা যাক আমি আসলে কি দাবী করেছিলাম।
এপ্রিল 4, 2013 at 10:26 এর কমেন্টের একদম শেষের দিকে আমি বলেছিলাম যেঃ
৫২ নম্বর আয়াত দ্বারা নবীকে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়নি বরং তাঁকে হালাল নারীর বাহিরে কাউকে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
এখন দেখা যাক যে আপনি কোন কথার প্রেক্ষিতে আমাকে ফাঁদে ফালানোর কথা বলে আনন্দে বগল বাজাচ্ছেন।
আপনি এপ্রিল 5, 2013 at 9:37 আমাকে বলেছিলেন যেঃ
এছাড়াও আপনি এপ্রিল 6, 2013 at 4:05 এর কমেন্টে আমাকে বলেছিলেনঃ
এই ২টি কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমি এপ্রিল 6, 2013 at 11:33 এর কমেন্টে যা বলেছিলাম তার অংশবিশেষ হলঃ
এখানে আমি আপনার নিজের কথার অসঙ্গতি তুলে ধরেছিলাম। আমি নিজে এই ব্যাখ্যার পক্ষে সাফাই গাই নি যে আল্লাহ্ মহানবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। আমি এর পক্ষে যুক্তি দিয়েছি এরকম কথা আপনি কোথাও খুজে পাবেন না। বরং আপনি নিজেই এই ব্যাখ্যাটি নিয়ে হইচই করছেন। আমি যে আমার পূর্বের ব্যাখ্যাতেই অনড় ছিলাম সেটা প্রথম স্ক্রিন সটেই প্রমান হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে আপনি আমার কথার উল্টাপাল্টা ব্যাখ্যা করছেন। মানুষের কথার ব্যাখ্যা করতেই যদি আপনার এই অবস্থা হয় তাহলে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র কথার ব্যাখ্যা করতে আপনার যে কি অবস্থা হচ্ছে সেটা আমি ভালোমতোই বুঝতে পারছি। আমি আপনার উদ্দেশ্য অবশ্য বুঝতে পেরেছিলাম। এটা সম্ভবত ইসলামের অপপ্রচার করার আপনার কয়েকটা চোরামি টেকনিকের একটা। প্রথমে আপনি প্রমান করার চেষ্টা করেন যে মহানবী আল্লাহ্র নির্দেশ অমান্য করে বিয়ে করেছেন এবং এটা প্রমান করার জন্য স্পেসিফিকেলি তাফসীর ইবনে কাসীরের রেফারেন্স দেন। তারপরে কেউ যখন তাফসীর খুলে তখন শুরুর দিকের ব্যাখ্যা পড়েই আপনাকে বলে যে সেখানে তো বলা হয়েছে যে তাঁকে বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এরপরে আপনি জিজ্ঞাসা করেন যে কুরআনের কোন আয়াতে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং কেউ এর উত্তর দিতে পারে না। এর আগে আপনি যত অজ্ঞ মুসলিমের মুখোমুখি হয়েছেন সকলের ক্ষেত্রেই এই টেকনিক কাজে লেগেছে কিন্তু আমি শুরু থেকেই শুধুমাত্র কুরআন থেকেই লজিকাল ব্যাখ্যা দিয়ে আসছি দেখে আপনি বার বার আমাকে ইবনে কাসীরের তাফসীর পড়ার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেও যখন আমি লজিকাল ব্যাখ্যাটার কোটেশন দিয়ে দি তখন আপনি স্পেফিকালি ইবনে কাসীরের তাফসীরে উল্লেখিত দুর্বল ব্যাখ্যাটির উল্লেখ করেন। তারপরে আমি যখন আপনার অসঙ্গতি দেখিয়ে দেই সেটাকেই আপনি ধরে নেন আমার ফাঁদে পড়া!!!!! কিন্তু আপনি নিজেই যে নিজের অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তার বিভ্রান্তির জালে আটকা পড়ে গিয়েছেন সেটা এখনও বুঝতে পারছেন না। তবে আমাদের আলোচনা যারা অনুসরন করছে আমার বিশ্বাস সকলেই সেই ব্যাপারটি বুঝতে পারছেন।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ২:১১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কোনটা যে প্রাসঙ্গিক আর কোনটা যে অপ্রাসঙ্গিক সেটা বোঝার ক্ষমতা আপনার হয়নি বলেই আমাকে এত বড় বড় নিবন্ধ লেখার কষ্ট করতে হচ্ছে। আপনার সকল কমেন্টসমূহ এত বেশি অসঙ্গতিপূর্ণ আর পরস্পর বিরোধী যে এই ক্ষেত্রে আসলে নিবন্ধ না বরং ইচ্ছা করলে পুরনাঙ্গ বিশ্লেষণ দিয়ে একটি ছোটোখাটো বইও লিখে ফেলা যাবে!!!!!
এই কথার উত্তর আমি এপ্রিল 5, 2013 at 7:36 এর কমেন্টেই দিয়েছিলাম। তবে যেহেতু আপনার স্মৃতিশক্তি অনেক দুর্বল সেক্ষেত্রে আমাকে আরও একবার কষ্ট করে উত্তরটি উল্লেখ করতে হবে।
ইবনে কাসীর ঠিকই বলেছেন যে এই আয়াতে নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে কিন্তু তিনি সেই সাথে এটাও বলেছেন যে অনেক আলেমগণ এই আয়াতের অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং সূরা আল আহজাবের ৫২ নম্বর আয়াত সংক্রান্ত তাঁর তাফসীরের অধিকাংশ স্থান জুড়েই সেই ব্যাখ্যাটিই করা হয়েছে।
হজরত উবাই ইবনে কাব (রাঃ) এর ব্যাখ্যাঃ
হজরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর ব্যাখ্যাঃ
হজরত মুজাহিদ (রাঃ), হজরত আবূ সালেহ (রাঃ) এবং ইমাম ইবনে জারীর (রাঃ) এর ব্যাখ্যাঃ
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, ৩৩:৫২ আয়াত পরিস্কার বলছে নবি হালাল নারীদের ছাড়া আর কোন বিয়ে করতে পারবেন না বা তার কোন স্ত্রীকে অন্য কারও স্ত্রীর সাথে বদলী করতে পারবেন না ( এ রীতি তখন ছিল আরবে)।
আপনি ইতিপূর্বে আমাকে বলেছিলেন যেঃ
এই স্ক্রিন সটগুলোতেই আমি প্রমান করে দিলাম যে আমার ব্যাখ্যা মনগড়া ব্যাখ্যা না। এছাড়াও এ থেকে এটাও প্রমান হয় যে, হয় আপনি নিজেই সে সময় তাফসীর ইবনে কাসীর ঠিকমতো পড়েননি নতুবা ইচ্ছাক্রিতভাবে তথ্য গোপন করছিলেন। অবশ্য আপনার মতো ইসলাম বিরোধীর জন্য এটা নতুন কিছুই নয়।
ইবনে কাসীর যদি এটা মনেই করতেন যে মহানবীকে সামগ্রিকভাবে বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে তাহলে তিনি কিসের উদ্দেশ্যে এই আয়াতের তাফসীরের মধ্যে আবার এই অংশটুকু যেটা এই আয়াতের ব্যাখ্যার সিংহভাগ জুড়েই আছে সেটা জুড়ে দিতে গেলেন? তখনকার সময় যে বই লেখা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না সেটা নিশ্চয়ই আপনাকে বলে দিতে হবে না?!
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ২:২০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
দেখা যাক যে সোজা আয়াতটিতে কি বলা হয়েছেঃ
এরপরে আপনার জন্য কোন নারী হালাল নয়! কিন্তু কিসের পর?!
তাহলে দেখা যাচ্ছে যে এরপরে অর্থাৎ -- চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিদের মধ্যে যারা নবীর সাথে হিজরত করেছিলেন এবং যেসকল মুমিন নারী নবীর নিকট নিজেকে সমর্পণ করেন এসকল নারীদেরকে হালাল করার পরে অন্য যে কাউকে বিয়ে করা নবীর জন্য হালাল নয় অর্থাৎ হারাম করা হয়েছে। এবার এটাকে আমার মনগড়া কথা বলে আপনি নিজের কথাকে বেশি বাড়াতে পারবেন না যেহেতু আমি ইতিমধ্যে তাফসীর ইবনে কাসির থেকেই ৫ জন আলেমের ব্যাখ্যা দিয়ে দিয়েছি যে ব্যাখ্যাটি ইবনে কাসীরের ৫২ নম্বর আয়াত সংক্রান্ত ব্যাখ্যার অধিকাংশ অংশ জুড়েই আছে এবং আমার লজিকাল ব্যাখ্যার সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে এখনও যদি আপনি এটা মনে করে থাকেন যে আল্লাহ্ মহানবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন তাহলে আপনার কাছে এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো এই প্রশ্ন করছি যে প্রশ্নটি আপনি বারবার এড়িয়ে যাচ্ছেনঃ
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ২:৪১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যদি ইবনে কাসীর মহানবীর চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ না করতে চাইতেন তাহলে কেন তিনি ৫২ নম্বর আয়াত সংক্রান্ত ব্যাখ্যার প্রথম অংশটুকু লিখতে গেলেন? তিনি কেন সেখানে আয়াতটির ব্যাখ্যা দান করে আবার কষ্ট করে লিখবেন যে পরে মহানবীকে বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে?? তিনি যদি নবীর চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ নাই করতে চাইতেন তাহলে অন্যান্য আলেম যে ব্যাখ্যাটি দিয়েছে অর্থাৎ তার ৫২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যার যে অংশটি সিংহভাগ স্থান জুড়েই আছে কেন শুধু সেটিই উল্লেখ করলেন না??? আগেও বলেছিলাম আবারও বলছি যে, তখনকার যুগে বই লিখে প্রকাশ করাটা যে সহজ কাজ ছিল না আসা করি সেটা ভালো করেই জানা আছে আপনার।
এবারে আসা যাক আপনার নিজের কথায়। আপনাকে এর আগেও জিজ্ঞাসা করেছিলাম এখনও জিজ্ঞাসা করছি যে, আপনি কেন সেই ইবনে কাসীরের ব্যাখ্যার নির্দিষ্ট একটি অংশই নিচ্ছেন। কেন বাকি অংশগুলো উপেক্ষা করছেন। যে বইয়ের কথার উপরে আপনার এত ভরসা সেই বইয়ের আংশিক গ্রহণ করছেন আবার আংশিক উপেক্ষা করছেন কেন?? আসলে আপনি নিজেই যে নিজের বিভ্রান্তির লুপহোলে পড়ে ঘুরপাক খাচ্ছেন সেটা একবারও বুঝতে পারলেন না!
এই কথাটি দ্বারা আপনি সম্ভবত আরেকবার প্রমানের চেষ্টা করলেন যে আপনি আল্লাহ্র উপরে বিশ্বাস করেন। তা না হলে পুনরায় প্রশ্নঃ
যেখানে নবীকে আল্লাহ্র নিষেধই করেনি সেখানে আয়াত বাতিল করার প্রশ্ন কোথা থেকে আসলো? আর যেখানে কিছু বাতিলই করেনি সেখানে কল্পনা থেকে নিয়ে এসে দেখানোর তো প্রশ্নই উঠে না।
আপনার কমেন্ট দেখে বুঝা যাচ্ছে যে আপনি বড়ই আল্লাহ্ ভক্ত একজন মানুষ। নবী আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছেন দেখে আপনি নবীর উপর ক্ষেপে আছে!!!!! তবে আপনাকে আমি আপনার নিজের উপদেশেরই মোডিফাইড ভার্সনটা দিচ্ছি।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এবারে আমি পুনরায় আপনার পূর্বের একটি কমেন্টের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।
এপ্রিল 4, 2013 at 8:08 এর কমেন্টে আপনি বলেছিলেন যেঃ
এর মানে হল যে আপনার কথা অনুসারেই যে বিশেষজ্ঞ যত পুরানো হবে তার বর্ণনা ততই সঠিক হবে। সেক্ষেত্রে আমি পুনরায় তাফসীর ইবেন কাসীর থেকেই ইবনে কাসীরের থেকেও পুরানো আলেমদের উদাহরণ তুলে ধরছি। যেহেতু আপনি ইবনে কাসীরের এত বড় একজন ভক্ত সেহেতু তার তাফসীরে লেখা কথাই তো আপনার কাছে নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য হবার কথা?!
হজরত উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) এর ব্যাখ্যাঃ
হজরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর ব্যাখ্যাঃ
হজরত মুজাহিদ (রাঃ), হজরত আবূ সালেহ (রাঃ) এবং ইমাম ইবনে জারীর (রাঃ) এর ব্যাখ্যাঃ
এখানে ৫ জন আলেম অর্থাৎ হজরত উবাই ইবনে কাব (রাঃ), হজরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হজরত মুজাহিদ (রাঃ), হজরত আবূ সালেহ (রাঃ) এবং ইমাম ইবনে জারীর (রাঃ) এর ব্যাখ্যা আমার দেওয়া ব্যাখ্যাটির সাথে মিলে গিয়েছে যাকে আপনি মনগড়া বলে অভিহিত করেছিলেন। এই ৫ জনই ইবনে কাসীরের থেকেও অনেক পুরানো আলেম। সুতরাং ইবনে কাসিরের নিজস্ব ব্যাখ্যার থেকে তাঁদের ব্যাখ্যাই বেশি গ্রহণযোগ্য হবে আপনার নিজস্ব ভাষ্যমতেই।
এবার আপনার আরও একটি কমেন্টের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এপ্রিল 5, 2013 at 9:37 এর কমেন্টে আপনি আমাকে বলেছিলেন যেঃ
ইবনে কাথিরের বাংলা তাফসিরের লিংক এখানে : http://www.quraneralo.com/tafsir/
ঐ তাফসিরে গিয়ে দেখেন ৩৩:৫২ আয়াত দ্বারা ইবনে কাথির কি বুঝাতে চেয়েছেন। শুধু ইবনে কাথির না , অধিকাংশ ইসলামি স্কলাররাই উক্ত আয়াত দিয়ে বুঝিয়েছেন যে এটা দিয়ে আল্লাহ নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছে।
দেখা যাচ্ছে যে আপনি ইসলামিক স্কলারদের সম্পর্কে বেশ ভালই ওয়াকিবহাল! তাহলে আমি এবার তুলনামূলক আধুনিক একটি তাফসীর গ্রন্থ থেকে আরও একটু রেফারেন্স দেই।
তাফসীরে মা’আরেফুল কুরআন, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮০ –
তাফসীরে মা’আরেফুল কুরআন, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮৯ –
তাফসীরে মা’আরেফুল কুরআন, সপ্তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯০ –
সুতরাং এই তাফসীরের স্ক্রিন সট থেকেই দেখা যাচ্ছে যে আপনি যে কথাটি বলেছিলেন অর্থাৎঃ
এই কথাটি সম্পূর্ণরূপে ভুল। কারন সকল তাফসিরকাররাই কুরআনের আয়াতের এই ব্যাখ্যার উভয় দিকটিই দেখিয়েছেন। কিন্তু সাক্ষ্য প্রমান ও যুক্তির দিক দিয়ে আমার প্রথমে দেওয়া ব্যাখ্যাটিই যে সঠিক এটি যে কোন স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই বুঝতে পারবে। তবে যারা একচোখা বা চোখ থাকতেও অন্ধ তাদেরকে এটা বোঝানো সম্ভব না হাজার চেষ্টা করলেও।
মিরাজ
এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিদ্রোহী ভাই আপনাকে পাভেল যথাযথ রেফারেন্স দিসে! দেখি আপনি আগে অই গুলার লাইন বাই লাইন উত্তর দিতে পারেন কিনা! আপনার আগের কমেন্ত গুলা দেখে মনে হচ্ছে না আপনি উত্তর দিতে পারবেন! তাও আমি এক্তা কথা বলছি আপনাকে! আমি বললেন!
"দু:খিত ভাই, আমি আপনার মত চোখ থাকতেও অন্ধ নই। আমি মুহাম্মদকে ডিফেম করছি না। কুরান, হাদিস ও তাফসির থেকে কিছু বিষয় বোঝার চেষ্টা করছি মাত্র।"
কিন্তু ভাই আমি দেখছি আপনি কিছু বুঝার চেষ্টা করসেন না! আপনি ভুল ধরতে চাইতেছেন! কোন একদিন কোন এক ইসলাম বিরোধী নাস্তিক হয়ত আপনাকে এই টপিক টা বলছিল! আপনি সেইতা নিয়া আর কিছু না দেইখা না বুইঝা শুরু করসেন! এমন কি আপনাকে পাভেল যখন বুঝাইতে চাইল, ব্যাখ্যা দিতে চাইল! আপনি পাভেল রে বলেন সে বেশি বুঝে কিনা! সে বুঝে অ্যান্ড খুব ভালই বুঝে! বাট আপনি যে না বুইজা ফাল পারতেছেন সেইতাও যারা যারা আপনার কমেন্ত অ্যান্ড যুক্তি পরবে তারাও বুঝবে! আর ভাই! যারা ইসলাম , কুরআন শরীফ এবং মহানবী (সঃ) এর ভুল ধরতে চায়! তারা আসলে পুরা বেপার গুলা না বুঝে শুনেই আলোচনা করতে আসে! কারন তাদের জানার সীমানা টা সীমিত! একটা পিঁপড়া কে এক গ্লাস পানির মধ্যে ছেড়ে দিলে সে যেমন মনে করে যে হায় হায় এত বেশি পানি! কিন্তু সে জানেই না যে মহা সাগর বলে কিছু আসে! আপনার অবস্তা এখন সেই রকম।
আবদুল্লাহ সাঈদ খান
এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি বললেন, আপনার উদ্দেশ্য তাফসীর থেকে কিছু বোঝা কিন্তু শুরু করলেন তাফসির ইবনে কাছিরের সুরা আহযাবের ৫২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যার আংশিক উল্লেখ করে। এছাড়া পাভেল আহমেদ -এর মন্তব্য থেকেও পরিস্কার আপনি স্কিপ কোটিং করছেন ডিফেম করার উদ্দেশ্যে। না হলে আয়াতটির অধিকতর গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যাটি যেটি অধিকাংশ আলেম, এমনকি সাহাবারা পর্যন্ত স্পষ্ট করে গেছেন সেটাই আপনার 'বোঝার' জন্য যথেষ্ট হত। আপনি চোখের সামনে দিয়ে মিথ্যাচার করছেন। ইন ফ্যাক্ট 'মিথ্যাচার করাটা' আপনার ধর্মীয় কর্তব্যের মধ্যে পড়ে বোধ হয়।
আবারও বলছি, আপনি যে মিথ্যাচার করছেন এটার প্রমানের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আপনি বললেন আপনার উদ্দেশ্য তাফসীর থেকে কিছু বোঝা কিন্তু শুরু করলেন তাফসির ইবনে কাছিরের সুরা আহযাবের ৫২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যার আংশিক উল্লেখ করে। এরপর যখন দেখিয়ে দেয়া হল যে আপনি আংশিক উল্লেখ করেছেন, আপনার তথাকথিত প্রশ্নের উত্তরগুলো ঐ তাফসিরেই দেয়া আছে, তখনই প্রসঙ্গ পাল্টে অন্য বিষয় টেনে আনলেন। এতে স্পষ্ট যে আপনার উদ্দেশ্য তর্ক করা এবং রাসূলকে ডিফেম করা এবং প্রমাণিত হয় আপনার 'বোঝার' উদ্দেশ্যটি সর্বৈব মিথ্যা।
সাওন হোসাইন
এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ৪:৪৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
:O :O বিদ্রোহী, আপনি কি নাস্তিক হওয়ার পূর্বে মুসলিম ছিলেন? কাম ব্যাক টু ইসলাম। ইউ উইল বি ওয়েল্কামড। এরকম হানাহুদা অন্ধ তর্ক করে কি লাভ বলুন?
পাভেল+সাইদ ভাই, এরপর এত পরিশ্রম করে তর্ক করার আগে নাস্তিকদের সাথে চুক্তি করে নিবেন। হেরে গেলে ইউ হ্যাভ টু কাম ব্যাক ইন ইসলাম 🙂
বিদ্রোহী
এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ১:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মি: শাওন,
আপনি যদি নিরেট মূর্খ আর গোয়ার না হন, আপনার বোঝা উচিত পাভেল ও সাইদ সাহেব বহু আগেই হেরে গেছেন। পরে যেসব করে চলেছেন সেটাতে তারা ইসলামের বরং বারটা বাজাচ্ছেন।ওনারা ওনাদের বক্তব্যে যে সব বিষয় প্রতিষ্ঠিত করেছেন তা হলো --
১। কোরানের আয়াতের বহু রকম ব্যখ্যা বা অর্থ করা যায় যা কোরানের সাথে স্ববিরোধী,যেমন -And We have sent down on thee the Book making clear everything, and as a guidance and a mercy, and as good tidings to those who surrender. S Nahl- 16:89
উক্ত আয়াতে বলছে- আমি তোমাদের কাছে প্রতিটি বিষয়কে সুস্পষ্ট করে প্রেরণ একটি কিতাব প্রেরণ করেছি।
অথচ উক্ত পাভেল ইবনে কাথির ও মারেফুল কোরান এ দুই তাফসির দিয়ে প্রমান করলেন যে কোরানের আয়াতের বহুরকম অর্থ করা যায় অর্থাৎ আয়াতের বক্তব্য সুস্পষ্ট নয়।
আর একটা আয়াত --
তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। সুরা আল ইমরান -৩:৭
এখানে বলা হচ্ছে কিছু আয়াত আছে যা রূপক কিন্তু তার অর্থ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। সুতরাং আমরা যে ৩৩:৫০,৫১,৫২ আয়াত গুলো নিয়ে আলোচনা করলাম সেগুলো কোন রূপক আয়াত নয়। আর তাই তা খুব পরিস্কার যা বুঝতে কোনই কষ্ট হয় না। কিন্তু দেখা গেল তার পরেও দুইজন তাফসির কার দুইরকম অর্থ করেছেন।
২। তাদের দাবী ও ব্যখ্যা অনুযায়ী আল্লাহ নবীকে যথেচ্ছ বিয়ে করার অনুমতি বহাল রেখেছিলেন। এর মাধ্যমে নবির চরিত্রকে কলুষিত করেছেন। কারন এর ফলে প্রশ্ন উঠছে- নবীর কাজ কি খালি বিয়ে করা ছিল ? তার অসংখ্য বিয়ের দরকারই বা কি ছিল ? এভাবে যে মানুষ অসংখ্য বিয়ে করবেন তিনি কিভাবে দুনিয়াতে সর্বকালের একজন আদর্শ মানুষ হন ? এছাড়াও সবচেয়ে গুরুতর যে প্রশ্ন ওঠে- আল্লাহ কিভাবে এত দ্রুত তার বানী পরিবর্তন করেন ? তিনি একবার বলছেন যথেচ্ছ বিয়ে কর, আর একবার বলছে না আর বিয়ে করো না। শ্বাশ্বত আল্লাহর বানী হবে শ্বাশ্বত , কিন্তু কোরানে দেখা যাচ্ছে আল্লাহ যেন চঞ্চল মতি মানুষের মতই শুধু একের পর এক তার বানী পাল্টে ফেলছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে -- এসব আল্লাহর বানী কি না।
৩। তারা প্রমান করেছেন যে খুব জড়াখিচুড়ী ও আগোছাল ভাবে কোরানকে সংকলন করা হয়েছিল। তাদের দাবি ৫২ নং আয়াত আগে নাজিল হয়েছিল আর ৫০ নং আয়াত পরে। অথচ সংকলনের সময় এলোমেলো হয়ে গেছে। এটা কোরানের বিশুদ্ধতাকে মিথ্যা প্রমান করে। তাদের দাবী গ্রহন করলে ইবনে কাথিরের এ ব্যখ্যাও গ্রহন করতে হবে কারন তারা বলেছেন যে তারা ইবনে কাথিরের বক্তব্যকে যথার্থ মনে করেন। সে বক্তব্যটা হলো --
সুরা আহযাবের একে বারে প্রারম্ভেই নিচের তাফসির আছে --
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে -হযরত উবাই ইবনে কাব ( রা) হযরত যির(রা) কে জিজ্ঞেস করলেন: "সুরায়ে আহযাবে কতটি আয়াত গণনা করা হয়? " উত্তরে তিনি বলেন- " তিহাত্তর টি" । তখন হযরত উবাই ইবনে কাব ( রা) বলেন — "না না আমি তো দেখেছি যে এ সূরাটি প্রায় সুরা বাকারার মত ছিল। " পৃষ্ঠা নং-৭৩৩, খন্ড-১৫শ, তাফসির ইবনে কাথির, অনুবাদ : ড. মুজিবুর রহমান।
তার অর্থ কোরানের শুধুমাত্র সূরা আহযাবেই প্রায় ২০০ এর অধিক আয়াত সংকলিত হয় নি , কারন সূরা বাকারাতে মোটা ২৮৬ টি আয়াত বিদ্যমান এবং এটাও তারা বিশ্বাস করেন। এর পরেও যদি আপনারা দাবি করেন -- কোরান খুব বিশুদ্ধভাবে সংকলিত হয়েছিল সেটা যে কত বড় ডাহা মিথ্যা কথা সেটা আমার বক্তব্য নয়, খোদ ইবনে কাথিরের বক্তব্য। শুধুমাত্র একটি সূরার যদি এ অবস্থা হয় বাকী সূরাগুলোর না জানি কি অবস্থা তা আল্লাহই জানে। সুতরাং তাদের ব্যখ্যা ও বিশ্বাস অনুযায়ী কোরান মোটেও বিশুদ্ধভাবে সংকলিত হয় নি, এবং এটাও কুরানের মূল বক্তব্যের সাথে স্ববিরোধী কারন আল্লাহ বলেছে-
আমি কোরান নাজিল করেছি আর আমি এর সংরক্ষক । সূরা হিজর -১৫:০৯
তাহলে বোঝা যাচ্ছে কোরান আল্লাহর বানী নয় , আল্লাহর বানী হলে বর্তমান কোরান সংকলনের সময় অত সংখ্যক আয়াত বাদ যেত না, আল্লাহই কোন না কোনভাবে সেগুলো কোরানে সংকলন করত। যেহেতু দেখা যাচ্ছে বর্তমান কোরানে বহু সংখ্যক আয়াত সংকলন বাদ পড়েছে তাহলে অন্তত: পক্ষে উক্ত ১৫:০৯ আয়াত আল্লাহর বানী হতে পারে না , কারন উক্ত বানী অনুযায়ী আল্লাহ নিজেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ আল্লাহ কোন কাজে ব্যর্থ হতে পারে না। কিন্তু তারা এতটাই নির্বোধ যে সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়ার পরেও বুঝতেই পারছেন না।
৪। ওনাদের বোধ বুদ্ধি এতটাই ভোতা যে , ওনারা বুঝতে পারছেন না যে আমার মূল বক্তব্য হলো কোরান কোন আল্লাহর বানী নয়, বরং সেটা মুহাম্মদের নিজ মুখের বানী যা তিনি তার প্রয়োজন মত মানুষের সামনে আল্লাহর বানী বলে চালিয়েছেন- এটাই প্রমান করা। কুরান মুহাম্মদের নিজ মুখের বানী বলেই সময়ে সময়ে দরকার মতো তিনি তা পরিবর্তন করেছেন যা আমার দেখছি উক্ত ৩৩: ৫০,৫১,৫২ আয়াতে।
এখন আপনিই সিদ্ধান্ত নিন , কে জিতেছে আর কে হেরেছে। এ থ্রেডে ওনাদের সাথে আর আলোচনা করতে আমার ইচ্ছা ছিল না, কারন দেখলাম তারা এতটাই অন্ধ ও ভোতা যে স্বয়ং আল্লাহ এসেও যদি তাদেরকে কোন কিছু বলে তাও তারা বিশ্বাস করবেন না।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ২:৫০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
//মি: শাওন,
আপনি যদি নিরেট মূর্খ আর গোয়ার না হন, আপনার বোঝা উচিত পাভেল ও সাইদ সাহেব বহু আগেই হেরে গেছেন।//
বিদ্রোহী সম্ভবত নিজে যেমন অন্যদেরও ঠিক তেমনই মনে করেন। এমনকি তিনি নিজের হারটাকেও এমনকি অন্যদের উপরে চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন! অবশ্য অনেকেই নিজের হারটাকে সহ্য করতে পারে না!!
//পরে যেসব করে চলেছেন সেটাতে তারা ইসলামের বরং বারটা বাজাচ্ছেন।//
কে যে বারোটা বাজানোর চেষ্টা করছে সেটা তো সকলেই বুঝতে পারছে।
// কোরানের আয়াতের বহু রকম ব্যখ্যা বা অর্থ করা যায় যা কোরানের সাথে স্ববিরোধী,যেমন -And We have sent down on thee the Book making clear everything, and as a guidance and a mercy, and as good tidings to those who surrender. S Nahl- 16:89
উক্ত আয়াতে বলছে- আমি তোমাদের কাছে প্রতিটি বিষয়কে সুস্পষ্ট করে প্রেরণ একটি কিতাব প্রেরণ করেছি।//
কুরআনের আয়াতের বক্তব্যকে যে সুস্পষ্ট এটা যে ব্যাক্তি আউট অফ কনটেএক্সট লাইন পড়ে এবং স্কিপ কোটিং করে তার পক্ষে কোনক্রমেই বোঝার কথা না। আল্লাহ্ তাঁর বক্তব্যকে সুস্পষ্টভাবেই উপস্থাপন করেছেন কিন্তু বিদ্রোহীর মতো কিছু আল্লাহ্ বিদ্রোহীই এই সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকে এড়িয়ে গিয়ে নিজের মতো করে একটি ব্যাখ্যাকে বেছে নিচ্ছেন। এই কথার পরে বিদ্রোহী অবশ্য বলতে পারেন যেঃ
//আমি বস্তুত কোন কথাই বলিনি, শুধুমাত্র ইবনে কাথিরের কিছু ব্যখ্যা ও বোখারি শরিফ থেকে কিছু হাদিস দেখিয়েছি মাত্র।//
অথচ ইবনে কাসীরও ২য় ব্যাখ্যাটিকে গ্রহন করেছিলেন এবং ২য় ব্যাখ্যাটি সঠিক হতে পারে বলেই তিনি একেও নিজের তাফসীরে রেখেছিলেন। তাঁর নিজের তাফসীর থেকেই যেসকল সাক্ষ্য প্রমান পাওয়া যায় তা থেকেই বোঝা যায় যে ২য় ব্যাখ্যাটিই বেশি গ্রহণযোগ্য এবং শক্তিশালী। ইসলামে কুরআনের আয়াত ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে অথবা হাদিস বর্ণনা করার ক্ষেত্রে যত ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায় সবই সংরক্ষণ করা হয় এমনকি যদিও এটা প্রমান হয়ে যায় যে সেটা জাল হাদিস বা ব্যাখ্যা হয় তবুও। এটা করার কারনে যুগে যুগে ইসলামকে কিভাবে অপব্যাবহার করা বা বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছিল সেটা সম্পর্কে মানুষ ধারনা পায়।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
//অথচ উক্ত পাভেল ইবনে কাথির ও মারেফুল কোরান এ দুই তাফসির দিয়ে প্রমান করলেন যে কোরানের আয়াতের বহুরকম অর্থ করা যায় অর্থাৎ আয়াতের বক্তব্য সুস্পষ্ট নয়।//
উক্ত পাভেল?!?!?!?!?!
যাই হোক, দুই ধরনের ব্যাখ্যা থাকা আর ২টি ব্যাখ্যাই মিথ্যা হওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। যেমন কোন একটি ঘটনার অসংখ্য ব্যাখ্যা যে কেউই দিতে পারে কিন্তু কেবলমাত্র এক ধাঁচের ব্যাখ্যাই সঠিক হবে। লজিকাল দিক দিয়ে এবং সাক্ষ্য প্রমাণের দিক দিয়ে ২য় ব্যাখ্যাটিই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী সুতরাং অবশ্যই আমরা সেটাই গ্রহন করবো। যেমন আকাশের মেঘ কি জিনিস এর ব্যাখ্যা কেউ হয়তো দিতে পারে যে মেঘ হল আকাশে ভাসমান আইসক্রিম, অনেকে ব্যাখ্যা দিতে পারে যে মেঘ হল দেবতাদের বাহন, কেউ কেউ ব্যাখ্যা দিতে পারে যে মেঘ হল এক প্রকার তুলা ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের সাক্ষ্য প্রমাণ থেকে আমরা জানি যে মেঘ হল জলীয় বাষ্পের একটি রূপ। সুতরাং আমরা যুক্তি প্রমাণ যে দিকে নির্দেশ করছে সেই ব্যাখ্যাটিই নিচ্ছি। কিন্তু কোন এক অদ্ভুত কারনে বিদ্রোহীর এই কাজটি করতে গেলেই চুলকাচ্ছে!
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
২য় ব্যাখ্যাটি হল আল্লাহ্ কেবল মহানবীর জন্য কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক নারীর বাহিরে আর সকল নারীকে বিয়ে করা হারাম ঘোষণা করেছেন। এই ব্যাখ্যাটি যারাই করেছেন তারা সকলেই সূরা আল আহজাবের ৫০, ৫১ ও ৫২ নম্বর আয়াতকে একসাথে হিসাব করেই করেছেন। আর এভাবে হিসাব করাটাই যৌক্তিক যেহেতু এগুলো একই সূরার একই বিষয় সম্পর্কিত ক্রমিক আয়াত। কুরআনের বিভিন্ন আয়াত নাজিলের সাক্ষী হলেন সাহাবীরা এবং মহানবীর বিভিন্ন স্ত্রীরা বিশেষ করে হজরত আয়েশা (রাঃ)। সুতরাং তাঁরাই কুরআনের ওই সকল আয়াত নাযিল হবার কারন সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন। আর ৫২ নম্বর আয়াতের ক্ষেত্রে তাফসীর ইবনে কাসীর এবং তাফসীরে মা’আরেফুল কুরআন থেকে জানা যায় যে বিভিন্ন সাহাবীগন এবং মহানবীর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) যিনি কুরআনের আয়াত সমূহ নাজিলের অন্যতম একজন সাক্ষী এবং হাদিসসমূহের অন্যতম একজন বর্ণনাকারিণী তাঁদের রেওয়াত ২য় ব্যাখ্যাটিকেই সমর্থন জানায়। অর্থাৎ হাদিস এবং বিভিন্ন আলেমদের কথা অনুসারে ২য় ব্যাখ্যাটিই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। এছাড়াও ২টি ব্যাখ্যার মধ্যে আমরা সেটিকেই নিব যার সাথে আমরা ঘটনাপ্রবাহের মিল পাব। এই আয়াত নাজিল হবার পরেও যেহেতু মহানবী বিয়ে করেছেন তার মানে হল যে এই আয়াতের জন্য ২য় ব্যাখ্যাটিই প্রযোজ্য হবে। এটা বুঝার জন্য আইনস্টাইন হওয়া লাগে না।
অবশ্য বিদ্রোহী তার কমেনটের মধ্যে অসত্য একটি কথা বলেছেন। আর সেটি হলঃ
//অধিকাংশ ইসলামি স্কলাররাই উক্ত আয়াত দিয়ে বুঝিয়েছেন যে এটা দিয়ে আল্লাহ নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছে।//
কিন্তু আমি পূর্বের কমেন্টসমূহেই প্রমাণ করে দিয়েছিলাম যে কথাটি মিথ্যা একটি কথা। বরং অধিকাংশ ইসলামী স্কলাররাই উক্ত আয়াত দিয়ে এটা বুঝিয়েছেন যে ৫০ নম্বর আয়াতে উল্লেখিত নারীরা ছাড়া আর সকলেই হারাম। কিন্তু কোন এক অদ্ভুত কারনে বিদ্রোহী নিজের অসত্য তথ্যের কথাটি বেমালুম চেপে গেলেন।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
// তাদের দাবী ও ব্যখ্যা অনুযায়ী আল্লাহ নবীকে যথেচ্ছ বিয়ে করার অনুমতি বহাল রেখেছিলেন। এর মাধ্যমে নবির চরিত্রকে কলুষিত করেছেন। কারন এর ফলে প্রশ্ন উঠছে- নবীর কাজ কি খালি বিয়ে করা ছিল ? তার অসংখ্য বিয়ের দরকারই বা কি ছিল ? এভাবে যে মানুষ অসংখ্য বিয়ে করবেন তিনি কিভাবে দুনিয়াতে সর্বকালের একজন আদর্শ মানুষ হন ? এছাড়াও সবচেয়ে গুরুতর যে প্রশ্ন ওঠে- আল্লাহ কিভাবে এত দ্রুত তার বানী পরিবর্তন করেন ? তিনি একবার বলছেন যথেচ্ছ বিয়ে কর, আর একবার বলছে না আর বিয়ে করো না। শ্বাশ্বত আল্লাহর বানী হবে শ্বাশ্বত , কিন্তু কোরানে দেখা যাচ্ছে আল্লাহ যেন চঞ্চল মতি মানুষের মতই শুধু একের পর এক তার বানী পাল্টে ফেলছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে — এসব আল্লাহর বানী কি না।//
এর আগের একটি কমেন্টে বিদ্রোহী নিজেই আমাকে বলেছিল যে আমার কথা নাকি অপ্রাসঙ্গিক ছিল।
তিনি এপ্রিল 8, 2013 at 12:13 এর কমেন্টে বলেছিলেনঃ
//আপনি তার কোন উত্তর না দিয়ে বিশা্ল এক নিবন্ধই লিখে ফেললেন। যা ছিল রীতিমতো অপ্রাসঙ্গিক।//
তার কথাবার্তা পড়ে যদিও মনে হয়েছিল যে তিনি অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা পছন্দ করেন না (যদিও আমার কথাবার্তা অপ্রাসঙ্গিক ছিল না) কিন্তু সমস্যা হল তিনি নিজেই বারবার মহানবীর বিয়ের কথা বলে তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্নও তুলছেন। অথচ এখানে কথা হচ্ছে এই নিয়ে যে আল্লাহ্ মহানবীকে বিয়ে করতে অনুমতি দিয়েছেন কিনা? এর সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর আমি তাফসীর থেকে ও লজিক থেকে দিয়ে দিয়েছি এবং একই সাথে বিদ্রোহীর অসংখ্য স্ববিরোধী কথা বার্তা ও অসঙ্গতির উল্লেখ করে দিয়েছি। কিন্তু তিনি সেটা ঢাকার জন্যই বারবার মহানবীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্নও তুলছেন। মহানবী কেন এতোগুলো বিয়ে করেছেন সেটা যদি জানতে তিনি চান তাহলে সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি আলোচনার টপিক। কিন্তু তিনি বারবার এক টপিকের মধ্যে অন্যান্য টপিক ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। সম্ভবত তিনি ভেবেছিলেন যে মহানবীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্নও তুললে আমরা সকলেই উত্তেজিত হয়ে স্বাভাবিক বিচার বুদ্ধি হারিয়ে আলোচনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলবো। তবে এটা অবশ্য ইসলাম বিরোধীদের অনেকগুলো চোরামির মধ্যে একটি। যদি কেউ মহানবীর বিবাহ করার কারন সম্পর্কে জানতে চান তাহলে বলে রাখছি যে সদালাপে ইতিমধ্যেই এ নিয়ে লেখালেখি হয়ে গিয়েছে এবং সেখানে কারণগুলো দেখানো হয়েছে। সুতরাং বিদ্রোহীকে আমি অনুরোধ করছি যে দয়া করে বিদ্রোহ করে বায়াসড মনোভাব না নিয়ে নিরপেক্ষ মনে লেখাগুলো পড়ুন।
তবে বিদ্রোহীর জন্য একটি প্রশ্ন।
আর সেটি হলঃ
নবীজির চরিত্র যদি কলুষিতই হয়ে থাকে তবে তিনি বিয়েই বা করতে গেলেন কেন আর বিয়ে করে এতোগুলো নারীর দায়িত্বই বা নিতে গেলেন কেন?
তিনি যদি চাইতেন তাহলে তো ইচ্ছামতো নারী ভোগ করতে পারতেন (নাউজুবিল্লাহ)। বিয়ে না করে এই কাজ করলে তো তার স্ত্রীদের ভরন পোষণ করার এবং অন্যান্য আনুসঙ্গিক দায়িত্ব নেবারও প্রয়োজন পড়তো না।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:২১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
//কারন এর ফলে প্রশ্ন উঠছে- নবীর কাজ কি খালি বিয়ে করা ছিল ?//
বিদ্রোহীর কথানুসারে খালি বিয়ে করার পাশাপাশি তিনি যে মদিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে শত্রুদের হাত থেকে বহুবার রক্ষা করেন, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারীদেরকে প্রতিহত করেন, বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন ইসলামী শাসন ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন সেটা মনে হয় বিদ্রোহী জানেন না। ইসলামী শাসন ব্যাবস্থার মধ্যে রয়েছে – নারীদের উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা, সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করা, কন্যা সন্তানের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা, এতিমদের অধিকার নিশ্চিত করা, মাতা-পিতার অধিকার নিশ্চিত করা, মদ, জুয়া, ব্যাভিচার ইত্যাদি হারাম করা, জাকাত প্রদান করে গরিবদের সাহায্য করা, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা সহ আরও অসংখ্য ব্যাপার। মহানবী তাঁর জীবনকালেই বিয়ে করা ছাড়াও এসকল কাজই করে গিয়েছেন। সুতরাং বিদ্রোহীর প্রশ্নের উত্তর হল যে নবীর বিয়ে করা ছাড়াও আরও অসংখ্য কাজ ছিল।
//এভাবে যে মানুষ অসংখ্য বিয়ে করবেন তিনি কিভাবে দুনিয়াতে সর্বকালের একজন আদর্শ মানুষ হন?//
বায়াসড ভাবে চিন্তা করলে তো এরকম কথা মাথায় আসবেই।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
//এছাড়াও সবচেয়ে গুরুতর যে প্রশ্ন ওঠে- আল্লাহ কিভাবে এত দ্রুত তার বানী পরিবর্তন করেন ? তিনি একবার বলছেন যথেচ্ছ বিয়ে কর, আর একবার বলছে না আর বিয়ে করো না। শ্বাশ্বত আল্লাহর বানী হবে শ্বাশ্বত , কিন্তু কোরানে দেখা যাচ্ছে আল্লাহ যেন চঞ্চল মতি মানুষের মতই শুধু একের পর এক তার বানী পাল্টে ফেলছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে — এসব আল্লাহর বানী কি না।//
পুনরায় বিভ্রান্তিকর স্ববিরোধী একটি বক্তব্য। আমার প্রত্যেক কমেন্টের মুল যুক্তিই ছিল যে মহানবীকে আল্লাহ্ বিয়ে করতে নিষেধ করেননি। আর তাছাড়াও এই পয়েন্ট তিনি শুরুও করেছিলেন এই যুক্তি দিয়েই।
দেখা যাক যে তিনি কি বলেছিলেনঃ
//তাদের দাবী ও ব্যখ্যা অনুযায়ী আল্লাহ নবীকে যথেচ্ছ বিয়ে করার অনুমতি বহাল রেখেছিলেন। এর মাধ্যমে নবির চরিত্রকে কলুষিত করেছেন। কারন এর ফলে প্রশ্ন উঠছে- নবীর কাজ কি খালি বিয়ে করা ছিল ? তার অসংখ্য বিয়ের দরকারই বা কি ছিল ? এভাবে যে মানুষ অসংখ্য বিয়ে করবেন তিনি কিভাবে দুনিয়াতে সর্বকালের একজন আদর্শ মানুষ হন ? এছাড়াও সবচেয়ে গুরুতর যে প্রশ্ন ওঠে- আল্লাহ কিভাবে এত দ্রুত তার বানী পরিবর্তন করেন?//
মানে তিনি শুরু করলেন এই বলে যে -- তাদের দাবী ও ব্যখ্যা অনুযায়ী আল্লাহ নবীকে যথেচ্ছ বিয়ে করার অনুমতি বহাল রেখেছিলেন। এর মাধ্যমে নবির চরিত্রকে কলুষিত করেছেন।
কিন্তু এই কমেন্টেরই একটু নিচে আবার প্রশ্ন করলেন যে -- এছাড়াও সবচেয়ে গুরুতর যে প্রশ্ন ওঠে- আল্লাহ কিভাবে এত দ্রুত তার বানী পরিবর্তন করেন ?
তিনি তাহলে আসলে কোন আর্গুমেন্ট ফলো করছেন? এই আর্গুমেন্ট যে আল্লাহ্ নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেননি নাকি এই আর্গুমেন্ট যে নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। যদি তিনি এটা মেনে নেন যে নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেননি আল্লাহ্ তাহলে তার কমেন্টের ২য় অংশ ইনভ্যালিড হয়ে যায় আর যদি তিনি মেনে নেন যে আল্লাহ্ নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেননি তাহলে তার কমেন্টের প্রথম অংশটি ইনভ্যালিড হয়ে যায়। যদি তিনি এটা ধরে নেন যে আল্লাহ্ নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন তাহলে তার কাছে আমার এই ষষ্ঠমবারের মতো এই একই প্রশ্নও যেটা তিনি বারবার এড়িয়ে যেতে চাচ্ছেনঃ
আপনি কি তাহলে আল্লাহ্র উপরে বিশ্বাস করেন? যদি না করেন তাহলে মহানবী কি নিজেই নিজেকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছিলেন?? যে ব্যাক্তি বহু বিবাহ করতে এত আগ্রহী (আপনার কথা অনুসারে) তিনি কোন দুঃখে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারতে যাবেন অর্থাৎ কেন তিনি নিজে নিজেকে বিয়ে করতে নিষেধ করবেন??? যদি তিনি নিজে নিজেকে বিয়ে করতে নিষেধ করেই থাকেন তাহলে কেন পুনরায় বিয়ে করলেন???? আর নিজে নিজেকে নিষেধ করার পরে যেহেতু তিনি বিয়ে করেই ফেলেছেন তাহলে তিনি কেন পূনরায় কুরআনের আয়াত নাজিল করে নিজের বিবাহকে বৈধ করলেন না?????
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
//আর একটা আয়াত --
তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। সুরা আল ইমরান -৩:৭
এখানে বলা হচ্ছে কিছু আয়াত আছে যা রূপক কিন্তু তার অর্থ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। সুতরাং আমরা যে ৩৩:৫০,৫১,৫২ আয়াত গুলো নিয়ে আলোচনা করলাম সেগুলো কোন রূপক আয়াত নয়। আর তাই তা খুব পরিস্কার যা বুঝতে কোনই কষ্ট হয় না। কিন্তু দেখা গেল তার পরেও দুইজন তাফসির কার দুইরকম অর্থ করেছেন।//
পুনরায় একটি অসত্য কথা! ৩৩:৫০,৫১,৫২ এই আয়াত সমূহের ক্ষেত্রে ২ জন তাফসীরকার দুই রকম বক্তব্য করেননি বরং প্রত্যেকেই এই দুই ধরনের ব্যাখ্যাই দিয়েছেন। তবে লজিকাল হিসাবে এবং হাদিসের সাক্ষ্য প্রমাণের দিক থেকে ২য় ব্যাখ্যাটিই সবচেয়ে সঠিক। এখন ধরা যাক কোর্টে খুনের মামলা চলছে। কালপ্রিট হিসাবে দুই জনকে সন্দেহ করা হয়েছে। দুই জনের বিপক্ষেই সাক্ষ্য, প্রমাণ, মোটিভ ও লজিক আছে। এখন মোটিভ, লজিক এবং সাক্ষ্য প্রমাণ যে কালপ্রিটের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ও শক্তিশালী হবে নিশ্চয়ই সেই কালপ্রিটেরই শাস্তি হবে? নাকি বিদ্রোহী উভয়কেই শাস্তি দিতে বা উভয়কেই ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাফসিরকাররা নিরপেক্ষভাবে সাক্ষ্য প্রমাণ সহ সকল ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে দেন। আমরা যারা পাঠক তাদের কাজ হল সেই সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে লজিক ব্যাবহার করে সঠিক ব্যাখ্যাটি গ্রহন করা। সূরা আল আহজাবের ৫২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা ২ ভাবে দেওয়া যায়। ১ম ব্যাখ্যাটি হল এই যে মহানবীকে আল্লাহ্ বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যাটি তখনই করা হয় যখন সূরা আল আহজাবের ৫২ নম্বর আয়াতের পূর্বের দুইটি আয়াত বাদ দিয়ে আয়াতটিকে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু এমন কাজ অর্থাৎ এরকম ব্যাখ্যা পৃথিবীর যেকোনো কথা দ্বারাই করা যায়। যেমন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি কোন ভাষন দেন তাহলে সেই ভাষনের লাইন আউট অফ কনটেক্সট উল্লেখ করে এবং স্কিপ কোটিং করে অনেকভাবে উপস্থাপন ও ব্যাখ্যা করা সম্ভব। স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো মানুষই এই ব্যাপারটি সম্পর্কে অবগত আছে।
আমি এখানে একটি উদাহরন দিচ্ছি। ধরা যাক বিদ্রোহী আর্মিতে সৈনিক হিসাবে কাজ করেন। তার কমান্ডিং অফিসার তাকে বলল যেঃ
অমুক কাজটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ।
এই কাজটা না পারলে তোমার খবর আছে।
তোমাকে আমি ফায়ারিং স্কোয়াড দিয়ে মারব।
এই কথাটির ব্যাখ্যা যদি বিদ্রোহীকে দিতে বলা হয় তাহলে সম্ভবত তিনি কুরআনকে যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ঠিক সেভাবেই এক লাইন এক লাইন করে ব্যাখ্যা করবেন এবং আউট অফ কনটেক্সট করে তিন নম্বর লাইনটার ব্যাখ্যা দিবেন যে কমান্ডিং অফিসার তাকে খুন করতে চায়। ফলস্বরূপ তিনি কমান্ডিং অফিসারের নির্দেশের প্রথম ২টা লাইন স্কিপ করার কারনে কমান্ডিং অফিসারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করবেন ঠিক যেমনটি তিনি এখানে আল্লাহ্ ও তাঁর নবীর বিরুদ্ধে করছেন।
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে বিদ্রোহী কুরআনের কথা সুস্পষ্ট নয় বলে যে অপপ্রচার চালাতে চাচ্ছেন তা কতটা ভ্রান্ত একটি ধারনা। অবশ্য ইসলামের বিরোধীরা যুগ যুগ ধরেই এভাবেই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
//৪। ওনাদের বোধ বুদ্ধি এতটাই ভোতা যে , ওনারা বুঝতে পারছেন না যে আমার মূল বক্তব্য হলো কোরান কোন আল্লাহর বানী নয়, বরং সেটা মুহাম্মদের নিজ মুখের বানী যা তিনি তার প্রয়োজন মত মানুষের সামনে আল্লাহর বানী বলে চালিয়েছেন- এটাই প্রমান করা। কুরান মুহাম্মদের নিজ মুখের বানী বলেই সময়ে সময়ে দরকার মতো তিনি তা পরিবর্তন করেছেন যা আমার দেখছি উক্ত ৩৩: ৫০,৫১,৫২ আয়াতে।//
সম্ভবত তিনি আমার করা প্রশ্নগুলো দেখেননি অথবা বাংলা ভাষা পড়তে বিদ্রোহীর সমস্যা আছে। তা নাহলে আমার তার বিভ্রান্তিকর ও স্ববিরোধী কমেন্ট দেখে আমি যে এতবার প্রশ্ন করলাম সেটার কোন উত্তর পেলাম না কেন?
//কুরান মুহাম্মদের নিজ মুখের বানী বলেই সময়ে সময়ে দরকার মতো তিনি তা পরিবর্তন করেছেন যা আমার দেখছি উক্ত ৩৩: ৫০,৫১,৫২ আয়াতে।//
এখানে ঠিক কি পরিবর্তন করা হয়েছে ঠিক বোঝা গেল না অবশ্য বিদ্রোহীর মতো অন্ধ মানুষের চোখ দিয়ে দেখলে সেটা বোঝাও যাবে না। তাহলে এবার একটু দেখা যাক যে সূরা আল আহজাবের ৫০, ৫১ ও ৫২ নম্বর আয়াতে ঠিক কি বলা হয়েছেঃ
৫০) হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি যাদেরকে আল্লাহ্ আপনার করায়ত্ত করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নবীর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য, অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি তা জানা আছে। আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
দেখা যাচ্ছে যে এখানে আল্লাহ্ নবীর জন্য ক্যাটাগরি ভাগ করে দিচ্ছেন যে কোন কোন ক্যাটাগরিতে তিনি বিয়ে করতে পারবেন।
৫১) আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন। আপনি যাকে দূরে রেখেছেন তাকে কামনা করলে তাতে আপনার দোষ নেই। এতে অধিক সম্ভাবনা আছে যে, তাদের চক্ষু শীতল থাকবে, তারা দুঃখ পাবে না এবং আপনি যা দেন, তাতে তারা সকলেই সন্তুষ্ট থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ্ জানেন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
দেখা যাচ্ছে যে এখানে আল্লাহ্ স্ত্রীদের মধ্যে যে কাউকে দূরে বা কাছে রাখার অনুমতি দিয়েছেন যদিও মহানবী তাঁর সকল স্ত্রীকেই সমানভাবে সময় দিতেন।
৫২) এরপর আপনার জন্য কোন নারী হালাল নয় এবং তাদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহন করাও হালাল নয় যদিও তাদের রূপ লাবণ্য আপনাকে মুগ্ধ করে, তবে দাসিদের ব্যাপার ভিন্ন। আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ের উপর সজাগ নজর রাখেন।
দেখা যাচ্ছে যে মহানবীর জন্য এখানে বিয়ের জন্য পূর্বের ক্যাটাগরি বাদে আর সকল ক্যাটাগরিকে ফরবিডেন করা হয়েছে।
সুতরাং এখানে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে নির্দেশের কোন পরিবর্তন আসেনি শুধুমাত্র নির্দেসটা আরও আপডেটেড ও স্পেসিফিক হয়েছে মাত্র।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
//কুরান মুহাম্মদের নিজ মুখের বানী বলেই সময়ে সময়ে দরকার মতো তিনি তা পরিবর্তন করেছেন যা আমার দেখছি উক্ত ৩৩: ৫০,৫১,৫২ আয়াতে।//
আশ্চর্য ব্যাপার হল যে এই বক্তব্যটি বিদ্রোহীর পূর্বেকার বক্তব্যের সাথে মিলছে না!
এর আগের কমেন্টগুলিতে তিনি বলেছিলেন যেঃ
//আপনার কাছে একটা ছোট্ট্ দাবী করেছিলাম — আ্ল্লাহ যে ৩৩:৫২ আয়াতের বিধান বাতিল করে তার নবীকে আবারও যেমন ইচ্ছা খুশী বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিলেন সেই আয়াতটা কুরান থেকে দেখান।//
এখন আমরা ধরে নিলাম যে বিদ্রোহী সত্যি কথা বলছেন। অর্থাৎ ধরে নিলাম যে কুরআন মহানবীর নিজের মুখের বানী (নাউজুবিল্লাহ) এবং একই সাথে কুরআনে মহানবীর বিয়ে নিষেধ করার আয়াত বাতিল করে কোন নির্দেশ বা আয়াত নাজিল হয়নি। তাহলে বিদ্রোহীর কাছে প্রশ্ন এই যেঃ
কুরআন যদি মহানবীর মুখের বানীই হয় এবং সময়ে সময়ে দরকার মতো তিনি যদি তা পরিবর্তনই করে থাকেন তবে কেন তিনি নিজে নিজেকে বিয়ে করতে নিষেধ করলেন যেখানে তিনি আপনার কথা অনুসারে বহুবিবাহে আগ্রহী একজন ব্যাক্তি ছিলেন? আর যদি আপনার কথামতো মহানবী নিজে নিজেকে বিয়ে করতে নিষেধ করেও থাকেন তবে কেন তিনি নিজে নিজের কথা অমান্য করে পুনরায় বিয়ে করলেন? আর যেহেতু তিনি পুনরায় বিয়ে করেই ফেলেছেন তাহলে দরকার মতো কুরআনের আয়াত পরিবর্তন করে সেটাকে বৈধ করে নিলেন না কেন?
সুতরাং বিদ্রোহী যে কথাটি বলেছেন অর্থাৎ মহানবী নিজের ইচ্ছামতো নির্দেশ পরিবর্তন করেছেন বলে তিনি যে দাবিটি করেছেন সেটা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা!
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:৪০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
//এখন আপনিই সিদ্ধান্ত নিন , কে জিতেছে আর কে হেরেছে। এ থ্রেডে ওনাদের সাথে আর আলোচনা করতে আমার ইচ্ছা ছিল না, কারন দেখলাম তারা এতটাই অন্ধ ও ভোতা যে স্বয়ং আল্লাহ এসেও যদি তাদেরকে কোন কিছু বলে তাও তারা বিশ্বাস করবেন না।//
হেরে গেলে আসলেই আলোচনার মুড নষ্ট হয়ে যায় তাই না?! তবে এখন আর না। আমি অবশেষে উপসংহারে আসতে চাই। আর আমার উপসংহারটি হলঃ
এখন আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন , কে জিতেছে আর কে হেরেছে। বিদ্রোহী এতটাই অন্ধ ও ভোতা যে স্বয়ং আল্লাহ এসেও যদি তাকে কোন কিছু বলে তাও তিনি বিশ্বাস করবেন না।
অবশ্য একজন বোকা ইসলাম বিরোধীর ও আল্লাহ্ বিদ্রোহীর কাছ থেকে আর কিই বা আশা করা যায়?!?!?!?!?!
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:০৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
//আর একটা আয়াত --
তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। সুরা আল ইমরান -৩:৭
এখানে বলা হচ্ছে কিছু আয়াত আছে যা রূপক কিন্তু তার অর্থ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। সুতরাং আমরা যে ৩৩:৫০,৫১,৫২ আয়াত গুলো নিয়ে আলোচনা করলাম সেগুলো কোন রূপক আয়াত নয়। আর তাই তা খুব পরিস্কার যা বুঝতে কোনই কষ্ট হয় না। কিন্তু দেখা গেল তার পরেও দুইজন তাফসির কার দুইরকম অর্থ করেছেন।//
পুনরায় একটি অসত্য কথা! ৩৩:৫০,৫১,৫২ এই আয়াত সমূহের ক্ষেত্রে ২ জন তাফসীরকার দুই রকম বক্তব্য করেননি বরং প্রত্যেকেই এই দুই ধরনের ব্যাখ্যাই দিয়েছেন। তবে লজিকাল হিসাবে এবং হাদিসের সাক্ষ্য প্রমাণের দিক থেকে ২য় ব্যাখ্যাটিই সবচেয়ে সঠিক। এখন ধরা যাক কোর্টে খুনের মামলা চলছে। কালপ্রিট হিসাবে দুই জনকে সন্দেহ করা হয়েছে। দুই জনের বিপক্ষেই সাক্ষ্য, প্রমাণ, মোটিভ ও লজিক আছে। এখন মোটিভ, লজিক এবং সাক্ষ্য প্রমাণ যে কালপ্রিটের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ও শক্তিশালী হবে নিশ্চয়ই সেই কালপ্রিটেরই শাস্তি হবে? নাকি বিদ্রোহী উভয়কেই শাস্তি দিতে বা উভয়কেই ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাফসিরকাররা নিরপেক্ষভাবে সাক্ষ্য প্রমাণ সহ সকল ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে দেন। আমরা যারা পাঠক তাদের কাজ হল সেই সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে লজিক ব্যাবহার করে সঠিক ব্যাখ্যাটি গ্রহন করা। সূরা আল আহজাবের ৫২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা ২ ভাবে দেওয়া যায়। ১ম ব্যাখ্যাটি হল এই যে মহানবীকে আল্লাহ্ বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যাটি তখনই করা হয় যখন সূরা আল আহজাবের ৫২ নম্বর আয়াতের পূর্বের দুইটি আয়াত বাদ দিয়ে আয়াতটিকে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু এমন কাজ অর্থাৎ এরকম ব্যাখ্যা পৃথিবীর যেকোনো কথা দ্বারাই করা যায়। যেমন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি কোন ভাষন দেন তাহলে সেই ভাষনের লাইন আউট অফ কনটেক্সট উল্লেখ করে এবং স্কিপ কোটিং করে অনেকভাবে উপস্থাপন ও ব্যাখ্যা করা সম্ভব। স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো মানুষই এই ব্যাপারটি সম্পর্কে অবগত আছে।
আমি এখানে একটি উদাহরন দিচ্ছি। ধরা যাক বিদ্রোহী আর্মিতে সৈনিক হিসাবে কাজ করেন। তার কমান্ডিং অফিসার তাকে বলল যেঃ
অমুক কাজটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ।
এই কাজটা না পারলে তোমার খবর আছে।
তোমাকে আমি ফায়ারিং স্কোয়াড দিয়ে মারব।
এই কথাটির ব্যাখ্যা যদি বিদ্রোহীকে দিতে বলা হয় তাহলে সম্ভবত তিনি কুরআনকে যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ঠিক সেভাবেই এক লাইন এক লাইন করে ব্যাখ্যা করবেন এবং আউট অফ কনটেক্সট করে তিন নম্বর লাইনটার ব্যাখ্যা দিবেন যে কমান্ডিং অফিসার তাকে খুন করতে চায়। ফলস্বরূপ তিনি কমান্ডিং অফিসারের নির্দেশের প্রথম ২টা লাইন স্কিপ করার কারনে কমান্ডিং অফিসারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করবেন ঠিক যেমনটি তিনি এখানে আল্লাহ্ ও তাঁর নবীর বিরুদ্ধে করছেন।
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে বিদ্রোহী কুরআনের কথা সুস্পষ্ট নয় বলে যে অপপ্রচার চালাতে চাচ্ছেন তা কতটা ভ্রান্ত একটি ধারনা। অবশ্য ইসলামের বিরোধীরা যুগ যুগ ধরেই এভাবেই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:৩১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
//৩। তারা প্রমান করেছেন যে খুব জড়াখিচুড়ী ও আগোছাল ভাবে কোরানকে সংকলন করা হয়েছিল। তাদের দাবি ৫২ নং আয়াত আগে নাজিল হয়েছিল আর ৫০ নং আয়াত পরে। অথচ সংকলনের সময় এলোমেলো হয়ে গেছে। এটা কোরানের বিশুদ্ধতাকে মিথ্যা প্রমান করে। তাদের দাবী গ্রহন করলে ইবনে কাথিরের এ ব্যখ্যাও গ্রহন করতে হবে কারন তারা বলেছেন যে তারা ইবনে কাথিরের বক্তব্যকে যথার্থ মনে করেন। সে বক্তব্যটা হলো --
সুরা আহযাবের একে বারে প্রারম্ভেই নিচের তাফসির আছে --
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে -হযরত উবাই ইবনে কাব ( রা) হযরত যির(রা) কে জিজ্ঞেস করলেন: “সুরায়ে আহযাবে কতটি আয়াত গণনা করা হয়? ” উত্তরে তিনি বলেন- ” তিহাত্তর টি” । তখন হযরত উবাই ইবনে কাব ( রা) বলেন — “না না আমি তো দেখেছি যে এ সূরাটি প্রায় সুরা বাকারার মত ছিল। ” পৃষ্ঠা নং-৭৩৩, খন্ড-১৫শ, তাফসির ইবনে কাথির, অনুবাদ : ড. মুজিবুর রহমান।//
পুনরায় একটি অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য। যেখানে কথা হচ্ছে মহানবীকে আল্লাহ্ বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিলেন কিনা সেটা নিয়ে সেখানে এসব কথা টেনে আনাটা আসলেই অপ্রাসঙ্গিক। কেন কুরআনের সংকলন আগোছালোভাবে হয়েছিল (বিদ্রোহীর কথা অনুসারে!) সে সম্পর্কে আমার ধারণা সদালাপে ইতিমধ্যেই লেখা হয়ে গিয়েছে। আর নবম শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা বইতেও এমনকি সংক্ষেপে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমি আর কষ্ট করে এখানে ব্যাখ্যা দিতে গেলাম না।
//এবং এটাও কুরানের মূল বক্তব্যের সাথে স্ববিরোধী কারন আল্লাহ বলেছে-
আমি কোরান নাজিল করেছি আর আমি এর সংরক্ষক । সূরা হিজর -১৫:০৯
অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য। যাই হোক, এই আয়াত অনুসারে কুরআন সংরক্ষিতই রয়েছে কারন আল্লাহ্ আমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দেওয়ার পরে আল কুরআন আর একবিন্দু পরিবর্তিত হয়নি। সুতরাং বিদ্রোহী যে কথাটি বলেছেন অর্থাৎঃ
তাহলে বোঝা যাচ্ছে কোরান আল্লাহর বানী নয় , আল্লাহর বানী হলে বর্তমান কোরান সংকলনের সময় অত সংখ্যক আয়াত বাদ যেত না, আল্লাহই কোন না কোনভাবে সেগুলো কোরানে সংকলন করত।//
এই কথাটি ইনভ্যালিড। কারন আল কুরআনের কোন আয়াত রহিত করা হবে বা কোন আয়াত পরিবর্তন করা হবে সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। সুতরাং কুরআনকে চূড়ান্তভাবে নাজিল করে তিনি যখন আমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দেন সেটাই হল পুরনাঙ্গ আল কুরআন এবং আল্লাহ্ সেটারই সংরক্ষণকারী। যেহেতু প্রায় ১৪০০ বছর আগে সংকলিত আল কুরআনের সাথে এখনকার সময়ের সকল কুরআনের হুবহু মিল রয়েছে সেহেতু এ থেকেই আমরা প্রমাণ পাই যে আল্লাহ্ কুরআনকে সংরক্ষণ করেছেন। তবে এর আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা আমার ধারণা সদালাপেই আছে। সুতরাং কষ্ট করে যে কেউ ইচ্ছা খুজে পড়ে নিতে পারে।
//কারন উক্ত বানী অনুযায়ী আল্লাহ নিজেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ আল্লাহ কোন কাজে ব্যর্থ হতে পারে না। কিন্তু তারা এতটাই নির্বোধ যে সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়ার পরেও বুঝতেই পারছেন না।//
দুঃখের বিষয় হল যে বিদ্রোহীর মতো গোঁয়ার গোবিন্দ আর গবেট মানুষের যাদের সাধারণ বিচার বুদ্ধি নেই তারা আসলে ইসলাম সম্পর্কে যে কি ধারণা রাখে সেটা এই কমেন্ট পড়লেই বোঝা যায়।
ইমাদ উদ্দিন
এপ্রিল ১৬, ২০১৩ at ৪:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
প্রশ্নগুলো এই বিষয়টার সাথে প্রাসঙ্গিক নয়। তারপর ও আপনাদের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি। কুরআনের আয়াত সম্পর্কিত কিছু বৈজ্ঞানিক ভুল নিচে দেওয়া হল।এই ভুল গুলো নিয়ে আমি ও আমার কিছু বন্ধু বেশ বিভ্রান্তিতে আছি। আমি ব্লগার নই। আমি যতদূর জানি আপনারা ইসলামের অপপ্রচারের জবাব দিয়ে থাকেন। আশা করি প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে আমাদের বিভ্রান্তি দূর করতে সাহায্য করবেন । যেমনঃ
১. সুরাহ আল-মুলুক আয়াত ৩০
“বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা?”
বর্তমানে তো আমরা পাম্প মেশিন দিয়ে ভূগর্ভের পানি সরবরাহ করতে পারি তাই এই আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা কি হবে?
২. সুরা বাকারা আয়াত ২৯
"তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।”
যা আমার বুঝে আসল না : পৃথিবী, সূর্য ছাড়া Photosynthesis প্রসেস ছাড়া গাছ পালা কিভাবে থাকলো ৪ বা ৬ দিন। সুরা ফুসসিলাত ৯-১২ আয়াত অনুযায়ী যা কিনা ৮ দিন টোটাল টাইম
সুরা আন নাযিয়াত আয়াত ২৭-৩০
"তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন? তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন। তিনি এর রাত্রিকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং এর সূর্যোলোক প্রকাশ করেছেন। পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন।"
এখানে আমার বুঝে আসল না : সুরা বাকারার এর সাথে সুরা আন নাযিয়াত এর , সৃষ্টির সিরিয়াল মিলল না তো! এ খানে বলা হচ্ছে সুরা বাকারার উল্টো সিরিয়াল )
এবার দেখুন সুরা ফুসিলাত আয়াত ৯-১২
“বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুদিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা।
তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে।
অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।
অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দুদিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।”
(যা বুঝলাম না : ২ + ৪ +২ = ৮ দিন ? কিভাবে হইলো বুঝলাম না )
৩.সুরা ফুসসিলাত আয়াত ৩০-৩১
"নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ, অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোন। ইহকালে ও পরকালে আমরা তোমাদের বন্ধু। সেখানে তোমাদের জন্য আছে যা তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্যে আছে তোমরা দাবী কর।”
এই আয়াতের অর্থ কি বুঝিয়েছেন আল্লাহ্সুবানাহুতায়ালা?
ধন্যবাদ
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ১৭, ২০১৩ at ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
২ নং প্রশ্ন সহ কোরআনের বিরুদ্ধে বহুল প্রচলিত ২৫টি অভিযোগের জবাব এই লেখাতে পাওয়া যাবে। বাকি দুটি পয়েন্ট নিয়ে সময় করে আসার চেষ্টা করব, যদিও আমার কাছে সব প্রশ্নের উত্তর নাও থাকতে পারে।
মুনিম সিদ্দিকী
এপ্রিল ১৭, ২০১৩ at ১২:৫১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার প্রথম প্রশ্নের জবাব হচ্ছে-
সুরাহ আল-মুলুক আয়াত ৩০
বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা?
অন্য অনুবাদ দেখুন-
বল, "তোমরা ভেবে দেখেছ কি ? কোন সকালে যদি তোমাদের নদীগুলি [ ভূগর্ভে ] হারিয়ে যায়, তবে কে তোমাদের স্বচ্ছ প্রবাহিত পানি সরবরাহ করতে পারবে?”
এই আয়াতে বলা হচ্ছে –যে সময় কোরআন নাজিল হয়েছিল সেই সময়ের মানুষের জ্ঞানে ভূগর্ভে পানি মওজুদ জানা ছিলনা। কাজেই এই আয়াতে তখনকার মানুষের প্রচলিত অভিজ্ঞতার সাথে সমন্বয় রেখে বলা হয়েছে নদীগুলো যদি ভূগর্ভে হারিয়ে যায় তখন পানি কোথায় থেকে পাওয়া যাবে। এখানে পানির মূল উৎস শেষ হয়ে যাওয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে। তাই বর্তমান জ্ঞানের আলোকে এই আয়াতের মানে হবে- যদি এই পৃথিবী থেকে চিরতরে পানির সকল উৎস হারিয়ে যায় তাহলে কিভাবে পানির ব্যবস্থা করা যাবে। আপনি ভূগর্ভের পানি পাম্প দিয়ে তুলতে পারবেন যদি সেখানে পানি মওজুদ থাকে। মওজুদ না থাকলে পাম্প দিয়ে কিভাবে নিয়ে আসবেন?
Victoria
এপ্রিল ১৯, ২০১৩ at ৫:১৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
[30] قُل أَرَءَيتُم إِن أَصبَحَ ماؤُكُم غَورًا فَمَن يَأتيكُم بِماءٍ مَعينٍ
[30] বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা?
[30] Say (O Muhammad SAW): "Tell me! If (all) your water were to sink away, who then can supply you with flowing (spring) water?"
আল কোরআনের বাংলা অনুবাদ : http://www.islamdharma.com, কিন্তু এখানে কোথাও নদীর কথা বলা হয় নি। আসলে দিন যতই যাছ্ছে, আল কোরানের বিজ্ঞানহীন কথাগুলো আপনারা আর হজম করতে পারেন্না। যে কারনে বিশেষ বিশেষ জায়গায় শুধু আবরী অনুবাদের খড়গ(ধাপ্পাবাজি) নেমে আসে। নয় কি?
বিষয় টি এমন ; আবুল সাহেব একদিন ঘোষনা দিলেন, "রাস্তায় কোন বোরকা ছাড়া মেয়ে দেখলে তোমরা "গায়ে হাত" দিবে। এ কথা শুনে গ্রামের মানুষ থ খেয়ে গেল। তো কি করা যায়? আবুল সাহেব জ্ঞানি মানুষ, উনি হিব্রু ছাড়া আর কিছু বলেন্না। গাঁয়ের লোক হিব্রুর কি বুঝে! আবুলের শাঙ্গ-পাঙ্গ রা জানান দিল, ঐ যে আমরা বলি অসুস্থ রোগীকে "গায়ে হাত" দিয়ে এপাশ ওপাশ করে দিবে। আর এ যাত্রায় আবুল সাহেব রক্ষা পেল। কি বুঝলেন মুনিম ভাই?????
মুনিম সিদ্দিকী
এপ্রিল ১৭, ২০১৩ at ১২:৫৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার ২য় প্রশ্নের জবাবে-
২. সুরা বাকারা আয়াত ২৯
তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।
আয়াতের আরবী উচ্চারণ-
Huwa allathee khalaqa lakum ma fee alardi jameeAAan thumma istawa ila alssamai fasawwahunna sabAAa samawatin wahuwa bikulli shayin AAaleemun
অন্য বাংলা অনুবাদ-
তিনিই পৃথিবীর সকল বস্তু তোমাদের [ব্যবহারের] জন্য সৃষ্টি করেছেন। উপরন্তু তার পরিকল্পনা আকাশকেও অন্তর্ভূক্ত করে, তিনি সপ্ত আসমান তৈরির কাজকে সুষম করেন। সকল বিষয় সম্বন্ধে তিনি পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী।
যেখানে সৃষ্টির কোন কিছু ছিলোনা, যিনি সেই শূন্য থেকে সৃষ্টি করতে পারেন তার কোন কিছু সৃষ্টি করতে হলে কি অন্য কোন কিছুর সাহায্যের দরকার পড়বে?
সুরা আন নাযিয়াত আয়াত ২৭-৩০
২৭-"তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন?
২৮-তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।
২৯-তিনি এর রাত্রিকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং এর সূর্যোলোক প্রকাশ করেছেন।"
৩০-পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন।
আরবী উচ্চারণ-
Waalarda baAAda thalika dahaha
আপনার মনে যে প্রশ্ন এসেছে তা সৃষ্টি করে “তারপর” বা “অতঃপর” শব্দটি। এই দুই আয়াতে “তারপর” বা “অতঃপর” শব্দটির আরবী ভিন্ন ২টি প্রতিশব্দ “থুম্মা””বাআদা” ব্যবহার করা হয়েছে। “বাআদা” প্রতি শব্দ এরপর হলেও “থুম্মা” শব্দটি সব সময় “তারপর” বা “অতঃপর” ভাব প্রকাশ করেনা। প্রতিটি ভাষায় এমন সব শব্দ আছে যা একাধিক ভাব প্রকাশে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নিচের আয়াতে থুম্মা শব্দ দ্বারা ভাব প্রকাশের দিকে লক্ষ্য করুন তাহলে বিষয়টি বুঝতে সহায়ক হবে। নিচের আয়াতটিতে থুম্মার অর্থ দেখুন-
সকল প্রশংসা আল্লাহ্র যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন; এবং তৈরী করেছের অন্ধকার ও আলো। তা সত্বেও কাফিরগণ [অপরকে] তাদের অভিভাবক প্রভুর সমকক্ষ দাঁড় করায়। (৬-১)
6:1 Alhamdu lillahi allathee / Praise be Allah/ সকল প্রশংসা আল্লাহ্র khalaqa al ssamawati wa alarda Who created the heavens and the earth/যিনি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, wa aAAala al ththulumati wa al nnoora / and made the darkness and the light/ এবং তৈরী করেছের অন্ধকার ও আলো। Thumma/ Yet/stil /তা সত্বেও allatheena kafaroo birabbihim yaAAdiloona / those who reject Faith hold (others) as equal/ কাফিরগণ with their Guardian-Lord/তাদের অভিভাবক প্রভুর সমকক্ষ দাঁড় করায়।
6:1 Praise be Allah, Who created the heavens and the earth, and made the darkness and the light. Yet those who reject Faith hold (others) as equal, with their Guardian-Lord.
এই আয়াতে থুম্মা শব্দটি তারপর বা অতঃপর হিসাবে ব্যবহার না হয়ে “তাসত্বেও” বা “তথাপি” “তবুও”অর্থ প্রকাশ করছে।
উপরের আয়াতের থুম্মা শব্দটির অর্থ প্রকাশের দ্বারা বুঝা যায় যে থুম্মা শব্দের অর্থ সব সময় তারপর/অতঃপর হয় না।
“Awala yarawna annahum yuftanoona fee kulli AAamin marratan aw marratayni thumma la yatooboona wala hum yaththakkaroona”( 9:126)
“তারা কি দেখে না প্রতি বছর তাদের একবার কি দু'বার [বিপর্যয় দ্বারা] পরীক্ষা করা হয়? তথাপি তারা অনুতাপের [মাধ্যমে] ফিরে আসে না, এবং কোন সতর্কতা অবলম্বন করে না”।(৯-১২৬)
এই আয়াতেও থুম্মা শব্দ তথাপি অর্থে ব্যবহার হয়েছে।
আবার আর এক আয়াত দেখি যেখানে থুম্মা ব্যবহার করা হয়েছে-
“Waqaloo lawla onzila AAalayhi malakun walaw anzalna malakan laqudiya alamru thumma la yuntharoona”(6-8)
They say: "Why is not an angel sent down to him?" If we did send down an angel, the matter would be settled at once, and no respite would be granted them.
“তারা বলে ," তাঁর নিকট একজন ফেরেশতাকে কেন প্রেরণ করা হয় না"? যদি আমি ফেরেশতা প্রেরণ করতাম, তাহলে তৎক্ষণাত ঘটনার মীমাংসা হয়ে যেতো। এবং তাদের কোন অবকাশ দেয়া হতো না”।(৬:৮)
আরও অনেক আয়াতে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে থুম্মা শব্দটি ব্যবহার আছে- দেখতে পারেন- ১০:১০৩, ৮৭: ১১-১৩, ৯০: ১১-১৭।
অতএব আপনার উল্লেখিত আয়াতে থুম্মার শাব্দিক অর্থ অতঃপর নয় হবে উপরন্তু, Moreover. আর যখন আপনি ‘উপরন্তু’ শব্দটি ব্যবহার করবেন তখন আশাকরি আপনার মনের খটকা দূর হয়ে যাবে।
মুনিম সিদ্দিকী
এপ্রিল ১৭, ২০১৩ at ১:০২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার ৩য় প্রশ্নের জবাব জানতে এই ব্লগ পড়ে দেখুন।
পরস্পরবিরোধিতার অভিযোগ-১: আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি ছয় দিনে না আট দিনে?
মাননীয় এডিটর
এপ্রিল ১৯, ২০১৩ at ১:০৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মাননীয় এডিটর,
জনাব বিদ্রোহী সাহেবকে এইরকম জনসমক্ষে যেভাবে চপেটাঘাতের পর চপাটাঘাত করা হচ্ছে, আমি তার তেব্র নীন্দা জ্ঞাপন করছি। উনি না হয় কিছু মিথ্যা কথাই বলেছেন, কিন্তু তাই বলেই কি এইভাবে সবার সামনে তাকে ধরিয়ে দিতে হবে? ন্যাংটো করে দিতে হবে? উনার কি মান সম্মান বলে কোন কিছু নাই?
আমি মনে করি বিদ্রোহী সাহেবের প্রতারণা ধরিয়ে দেবার ব্যাপারটা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এইজন্য জনাব পাভেল (প-তে পাভেল….), আবদুল্লাহ সাইদ খান (আ-তে আবদুল্লাহ সাইদ খান…), এবং তার সাথের আরো কিছু মানবতাবিরোধী অপরাধীসহ এডিটর (এ-তে এডিটর….) হিসেবে আপনার নিজেরও বিচার আমি কামনা করি, এবং ট্রাইবুনালে আপনাদের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করি।
পাভেল আহমেদ
এপ্রিল ২৯, ২০১৩ at ১০:১৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হায় হায়! আমি মানবতা বিরোধী অপরাধী হইলাম এত দিন আগে আর এখন আইসা টের পাইলাম!!!!!
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ২২, ২০১৩ at ১:০০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পাঠক! প্রফেশনাল মিথ্যুক ও অন্তর্ঘাতক আঃ মাহমুদের সত্যায়ন করা তার সভ্য ও সত্যবাদী দেবগুরুদের মধ্যে মাত্র একজনের লেঞ্জায় রশি বেঁধে জনসম্মুখে লটকাইয়া রাখা হয়েছে। আপনারা কি তার বাকি দেবগুরুদেরও একই দৃশ্য দেখতে ইচ্ছুক?
মো: রফিক
এপ্রিল ২২, ২০১৩ at ৪:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এক পাব্লিক দেখলাম এক ব্লগ সাইটে নিচের পোষ্টগুলি ছাপিয়েছে-
পৃথিবীর আকার সমতল, ডিমের আকার নাকি কমলালেবুর আকারের ???
কুরানে বিগ ব্যাং এর বর্ণনা আছে ?
সূর্য ঘোরে নাকি পৃথিবী ঘোরে ?
একজনও দেখলাম কেউ সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারল না। দয়া করে একটু উত্তর দেয়া যায় এগুলোর ?
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ২৪, ২০১৩ at ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@মো: রফিক ওরফে সত্যদর্শী ওরফে বিদ্রোহী ওরফে ভবেরঘুরে ওরফে….,
'রফিক' হচ্ছে আপনাগো মগাজিৎ রায়ের [ধরা খাওয়া] ব্র্যান্ডনিক। সে দেখলে দুঃখ পাবে। এই নাম ছাড়া দুনিয়াই কি আর মুসলিম নাম নাই?
ইমাদ উদ্দিন
এপ্রিল ২৩, ২০১৩ at ৩:২৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুনিম সিদ্দিকীকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমার বিভ্রান্তি দূর করার জন্য। আল্লাহ্ আপনাকে আর সদালাপের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিক। আমিন।
জান্নাতুন নাঈম
এপ্রিল ২৫, ২০১৩ at ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হায় ! হায় !! একি হল ? বিদ্রোহী তো দেখি রণক্লান্ত না- একেবারে রণেভঙ্গ দিয়েছেন !!!!!! সদালাপের কেউ কি পরাজিত সৈনিকের প্রতি সামান্য দয়া দেখালে পারতেন না? উনিতো আসতে লজ্জা পাচ্ছেন- ভাই, বুঝেন না কেন ? ইশ!!! বেচারা…
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৪ at ৩:৩৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পাঠকদের কেউ কেউ হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন, এই লেখাটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে ড. নৃপেন সরকারকে মুক্তমনা ব্লগে একটি বারের জন্যও সম্ভবত দেখা যায়নি! তার আগ পর্যন্ত উনি মাঝে মাঝেই মন্তব্য করতেন ও পোস্ট দিতেন। একজন ষাটোর্ধ বয়সী, ডক্টরেট ডিগ্রীধারী, ও আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক চরম সত্যের মুখোমুখি হয়ে বর্ণমনা ভাইরাসে আক্রান্ত অবস্থায় থেকেই পালিয়ে বাঁচতে চান, তথাপি সত্যকে স্বীকার করতে নারাজ। এইটা হচ্ছে পুরোপুরি নাকুঁচা বর্ণবাদী মানসিকতা। এই প্রজাতি সভ্য সমাজে মুখ দেখায় কী করে, কে জানে! তবে বর্ণমনারা পালিয়ে বাঁচলেও তাদের আদিল টাইপের জ্বী হুজুর ভৃত্যদের কী হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
পাভেল আহমেদ
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৪ at ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
রায়হান ভাই, আমি বিদ্রোহীর সাথে আমার এপিক আলুচুনাটা একটা সিরিজ হিসাবে সদালাপে পাবলিশ করতে চাই! আশা করি আপনার কোন আপত্তি নেই!! 😛
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৪ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুক্তমনা ভব-বিদ্রোহীকে নিয়ে বিনুদুন দিতে পারলে তো মন্দ হয় না 🙂
পাভেল আহমেদ
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৪ at ১০:০৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
প্রথম পর্বটা বের করেই ফেললাম! :p
http://www.shodalap.org/pavel/24307/
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৪ at ১:৩০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বর্ণবাদী লেজ কখনো সোজা হয় না! মুক্তমনা ড. নৃপেন্দ্র নাথ সরকারকে নিয়ে এই পোস্টটি দেওয়া হয়েছে ২০১৩ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে। অথচ ২০১৪ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারী উনি ফেসবুকে বলেছেন-
এস. এম. রায়হান
অক্টোবর ১১, ২০১৪ at ১:১৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুসলিম নামক বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত আলোহীন-জ্ঞানহীন-যুক্তিহীন-বুদ্ধিহীন শূদ্রদেরকে 'আলো-জ্ঞান-যুক্তি-বুদ্ধি' বিলাতে নেমে ৬৫ বছর বয়স্ক মুক্তমনা ড. নৃপেন্দ্র সরকার পালালেন কোথায়? ২০১৩ সালের ১লা এপ্রিলে এই পোস্ট দেওয়ার পর থেকে মুক্তমনা ব্লগে একটিবারের জন্যও তার টিকি-টি পর্যন্ত দেখা যায়নি! 'নাস্তিক/মুক্তমনা'রূপী এই কাপুরুষ ভণ্ডটার লেঞ্জা উন্মোচিত হওয়ায় চরম সত্যের মুখোমুখি হয়ে আমার প্রশ্নগুলোর জবাব না দিয়ে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন! আর তাদের বডিগার্ড ভৃত্য আঃ মাহমুদ-ই বা গেল কোথায়!