আজ থেকে বছর দু-তিনেক আগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখতে পাওয়ার একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সেই গুজবের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেউ একজন হয়তো উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমন কিছু একটা ছড়িয়েছিল। অথচ এই ধরণের অপ্রমাণিত একটি গুজবের উপর ভিত্তি করে সেই থেকে 'মুক্তমনা-নাস্তিক'রূপী মৌলবাদীরা মুসলিমদেরকে উদ্দেশ্য করে উপহাস-বিদ্রূপ করে আসছে। তাদের কথাবার্তা শুনলে মনে হবে যেন সারা দুনিয়ার মুসলিমরা সাঈদীকে চাঁদে দেখতে পাওয়ার 'ঘটনা'য় বিশ্বাস করে! সত্যি বলতে, আজ পর্যন্ত বাংলা অন্তর্জালে এমন দু-এক জন মুসলিমকেও দেখা যায়নি।
এবার অভিজিৎ রায়ের প্রসঙ্গে আসা যাক। যারা সাঈদীকে চাঁদে দেখতে পাওয়ার গুজবকে পুঁজি করে মুসলিমদেরকে নিয়ে ঢালাওভাবে উপহাস-বিদ্রূপ করেছে, আল্লাহ্-নবী-রাসূলে বিশ্বাস নিয়ে নিয়মিত উপহাস-বিদ্রূপ করছে … তারাই আবার প্রয়াত অভিজিৎ রায়ের জন্মদিনে শুভেচ্ছা (?) জানাতে যেয়ে তকে একাধারে 'আকাশের তারা', 'আকাশের নক্ষত্র', 'সুপারম্যান', 'মহাত্মা', ইত্যাদি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে! এরা আবার কিন্তু অভিজিতেরই সৃষ্ট বেগুনমনস্ক থুক্কু বিগ্যানমনস্ক পূজারী!
নিচে কতিপয় প্রমাণ দেয়া হলো। খোঁজ করলে এই ধরণের প্রমাণ আরো পাওয়া যাবে। এবার পপকর্ন নিয়ে আরামসে বসে হাসি চেপে রেখে অভিজিৎ রায়ের সৃষ্ট বেগুনমনস্ক পূজারীদের ধর্মান্ধতার কিছু নমুনা দেখুন।
নোট: এইটা একটা ভূয়া আইডি। তার আগের আইডি ছিল 'হোড়াস সূর্যদেব'। তার দাবি অনুযায়ী ইসলামের নবীর চেয়ে চেঙ্গিস খান বেটার, অর্থাৎ চেঙ্গিস খানের চেয়েও ইসলামের নবী খারাপ। তাছাড়া তার প্রায় প্রতিটা পোস্টে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টা-উপহাস-বিদ্রূপ করা হয়।
নোট: যে অভিজিৎ রায় আত্মায় বিশ্বাস নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেছে, বিগ্যান দিয়ে আত্মাকে 'বাতিল' করে দিয়েছে, সেই অভিজিৎকেই আবার তার বাবার বয়সী এক ব্যক্তিত্বহীন পূজারী 'মহাত্মা' বানিয়ে দিয়ে অবনত মস্তকে শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানিয়েছে! প্রভু-দাস তথা ব্রাহ্মণ-শূদ্রের এ এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। একই পূজারী কিন্তু ইসলামের নবীকে নিয়ে চরম বিষোদগার করেছে।
একজন ব্রাহ্মণ অভিজিতের জন্মের ভার ধারণ করার যোগ্যতা যবন বাংলাদেশের ছিল না! এইটা বৈগ্যানিকভাবে প্রমাণিত সত্য!
নোট: উপরের দু'জন জার্মানিতে আশ্রয় নেওয়া বাম/কম্যুনিস্ট'পন্থী দম্পতি। তারা নিয়মিত পশ্চিমা প্রভুদের জুতার তলা চেটে চেটে মুসলিমদের দিকে থুথু ছিটায় আর 'অসভ্য', 'বর্বর', ইত্যাদি বলে গালি দেয়। অথচ একজন ব্রাহ্মণ মিশন্যারীর প্রতি তাদের অন্ধ আনুগত্য লক্ষণীয়!
উল্লেখ্য যে, অভিজিৎ রায়ের বিলুপ্তির পর তার অন্ধ পূজারীরা তাকে একাধারে 'হাজার বছরের মধ্যে জন্মানো ক্ষণজন্মা এক আলোকিত মানুষ', 'বিস্তীর্ণ তৃণভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এক মহীরূহ', 'বামুনদের দেশে এক অতিকায় মানব', 'অন্ধকারে নিমজ্জিত একপাল মানুষের মধ্যে আলো হাতে এক অগ্রপথিক', 'একবিংশ শতকের রেনেসাঁ', 'বাংলার সক্রেটিস', 'বাংলার গ্যালিলিও', 'মানবতাবাদী', 'অসাম্প্রদায়িক', 'প্রগতিশীল', 'মুক্তচিন্তার মানুষ', 'আধুনিক-প্রগতিশীল চিন্তার ধারক-বাহক-গবেষক ও বিশ্লেষক', 'যুক্তিবাদী', 'বিজ্ঞানী', 'বিজ্ঞানমনষ্ক', 'উদার-বিজ্ঞানমনষ্ক', 'আমেরিকান প্যাটেন্টধারী', 'বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষক', 'আমেরিকার কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক', 'আমেরিকার কোনো এক প্রতিষ্ঠানের সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার', ইত্যাদি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল! - যেগুলোর মধ্যে কিছু কিছু ডাহা মিথ্যাচার, আর বাকিগুলো অন্ধ স্তুতি।
পয়েন্টস টু বি নোটেড:
১. উপরে যাদের মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে তাদের সকলেই 'মুসলমান' (দাবিদার) থেকে অভিজিৎ রায়ের অন্ধ পূজারীতে পরিণত হয়েছে। তারপর থেকে তাদের সকলেই ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ফ্যানাটিক হয়েছে। তাদের সকলেই কম-বেশী ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক কটূক্তি করেছে। তাদের সকলেই মুসলিমদের যৌক্তিক বিশ্বাস নিয়ে উপহাস-বিদ্রূপ করেছে ও করছে। আর এগুলোর সবই তারা শুরু করেছে অভিজিৎ রায়দের দাস-দাসীতে পরিণত হওয়ার পর থেকে, তার আগে নয়।
২. অভিজিৎ রায়ের সৃষ্ট বেগুনমনস্ক পূজারীদের কেউই কোথাও বিজ্ঞানের কোনো বিষয় নিয়ে গবেষণা করছে না! তাদের ব্লগ-ফেসবুক যাচাই করলেও দেখা যাবে সেখানে বিজ্ঞান নিয়ে কোনো লেখা নেই। কালে-ভদ্রে তেমন কিছু যদি নজরে পড়ে, দেখা যাবে সেখানে বিনোদনবাদ কিংবা বিজ্ঞানের কোনো নিউজ প্রচারের নামে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টা-উপহাস-বিদ্রূপ চলছে। আর তাদের সাথে যোগ দিয়েছে ছুপা বর্ণবাদীরা।
৩. আগেই বলেছি যে, সাঈদীকে চাঁদে দেখতে পাওয়ার ব্যাপারটা স্রেফ একটা গুজব হতে পারে কিংবা বড়জোর কোনো এক বদমায়েশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমন কিছু একটা ছড়িয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এইটাকে এক পাশে রেখে বাস্তবতা হচ্ছে একজন মানুষকে চাঁদে দেখতে পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে অভিজিতের 'নক্ষত্র, সুপারম্যান, মহাত্মা, ইত্যাদি' হওয়ায় বিশ্বাস করা স্রেফ ধর্মান্ধতা ছাড়া আর কিছুই নয়! এই খৎনাধারীরা অভিজিৎ রায়ের দাস-দাসী-পূজারীতে পরিণত হওয়ার আগে এমন ধর্মান্ধ ছিল না নিশ্চয়!
এই হচ্ছে 'বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ, সংশয়বাদ, ইত্যাদি'র নামে অভিজিৎ রায়ের সৃষ্ট বেগুনমনস্ক পূজারীদের নমুনা। অভিজিৎ রায়ের পদতলে মস্তক সঁপে দেয়া তার বেগুনমনস্ক পূজারীরা তো মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথেও যুক্তি-তর্কে দাঁড়াতে পারবে না! তাহলে তারা বাকি মুসলিমদের সামনে দাঁড়াবে কোন্ মুখ নিয়ে, কে জানে!

এম_আহমদ
অক্টোবর ৬, ২০১৭ at ১০:৫১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
‘[নন্দ] না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই দেশ?’
লেখাটি বেশ ভাল হয়েছে। ‘বিগ্যানের’ নামে জাতি উদ্ধারকারী এই শ্রেণীটি নিজেরাই তাদের দুশমনের নামে গুজব তৈরি করে সেটিকে পুঁজি করে মুসলিমদেরকে নিয়ে ঢালাওভাবে উপহাস-বিদ্রূপ করেছে, অথচ যার নামে গুজব রচনা করেছিল, সে নিজেই তার প্রতিবাদ করেছে, কিন্তু কাজের কাজ হয় নি: কোন ব্যক্তি শুধুমাত্র শোনা কথার ভিত্তিতে তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে পারে না, এটা করলে সে নিজেকে কখনোই ‘ফ্রি থিঙ্কার’ বা মুক্তমনা বলে দাবি করতে পারে না। তাই আর কী করা? বেগুন-মস্তিষ্ক যুক্তিবাদী বিগ্যানীগণ “মুক্তমনে” জাতিকে উদ্ধার করতে হয়েছে।
আর যে কী কমু, কইবার পাইতাছি না। যারা আত্মায় বিশ্বাস করে (সেই আত্মা কুত্তাত্মা হোক অথবা মহাত্মা), তারা কীভাবে নাস্তিক হয়? কীভাবে ‘অবনত’ মস্তকে ‘প্রণাম’ করে? যারা কোরান হাদিসের রূপকতাকে বাস্তবতায় ধারণ করে বিদ্রূপ-উপহাস করে, আবার নিজেদের থলের মিউ-মিউ-করা বিড়াল দেখতে পায় না, এমন মুর্খামি কীভাবে হতে পারে?
৯/১১ পরবর্তিতার ধারাবাহিকতায় আসা অভিজিত রায় যার চাকুরী-বাকুরীর কোন ঠিক-ঠিকানা দেখতে পাওয়া যায় না, সে বসে বসে নাটের-গুরু হয়ে পড়ল; বলে উঠল, ‘আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী’, আর অমনিতে তার পায়ে পূজারী-পতঙ্গরা ঝাঁপিয়ে পড়ল? এসবের পিছনে রয়েছে রহস্যের এক ঘন-অন্ধকার!
হায় ধর্ম, হায় পূজা!
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
অক্টোবর ৭, ২০১৭ at ৮:৫৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অভিজিত রায় বাংলাভাষী নাস্তিকদের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী লোক ছিলো তা বলাই বাহুল্য -- এমনকি হুয়ায়ুন আযাদের চেয়েও অনেক বেশী প্রভাব বিস্তার করেছিলো নাস্তিক সমাজে। তার একটা ভক্তকুল তৈরী হয়েছে -- তারা তা অবর্তমানে তা অভাব অনুভব করবে এইটাইকি স্বাভাবিক নয়। যেমনটা বললেন সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজবেও সাইদী ভক্তরা পরম ভক্তিতে বিশ্বাস করেছে -- জীবনও দিয়েছে। অভিজিত ভক্তরা তাদের সীমিত ভাষার মাধ্যমে তাদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে -- এতে সমস্য কোথায়!
যে কোন মানুষ যখন তার বিশ্বাসকে পরম আত্নবিশ্বাসের সাথে প্রচার করে -- তা কিছু না কিছু ভক্ত তৈরী হয়। বাংলাদেশে গ্রামে গঞ্জে অনেক পীর ্আছে তারা অভিজিতের চেয়েও বেশী মুরিদ বানিয়েছে। কালক্রমে এইগুলো হারিয়ে যাবে -- আবার নতুন পীর আসবে। তেমনি নাস্তিকতার নামে একধরনের পীরবাদের প্রচলন হয়েছে -- আরজ আলি, হুমায়ুন আযাদ বা আভিজিতকে কেন্দ্র করে। এইটা সমস্যা না।
সমস্যা হলো আমাদের নিজেদের ভিতরের পীরবাদ বা ভক্তিবাদ -- যা চাঁদে দেখার মতো গুজবে বর্বরতা তৈরী করতে মানুষকে প্ররোচিত করে।
Obydur
অক্টোবর ১০, ২০১৭ at ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@জিয়াউদ্দিন।
“সমস্যা হলো আমাদের নিজেদের ভিতরের পীরবাদ বা ভক্তিবাদ — যা চাঁদে দেখার মতো গুজবে বর্বরতা তৈরী করতে মানুষকে প্ররোচিত করে”/
ভাইজান একখান খাটি কথা কইছেন। আপনার এই কথার সুরে বলতে ইচ্ছে করছে- আমাদের নিজেদের পীরবাদ বা ভক্তিবাদ এর জন্যই আমরা কেউ হাসিনাবাদী, কেউ সাঈদীবাদী, কেউ নাস্তিকবাদী। একটা ফারাক হচ্ছে- সাঈদীবাদীরা কম বুঝে হুজুগে ভক্তিবাদী- আর হাসিনাবাদী,নাস্তিকবাদীরা বুঝে, জেনেশুনে ভক্তিবাদী। আমরা যখন নিজেরা অন্যকে পীরবাদ বা ভক্তিবাদের দোষে দুষ্ট বলছি-কিনতু ভাবছি না- নিজেরাই সে দোষে দুষ্ট! হিপোক্রাসি!
Mijan
নভেম্বর ২, ২০১৭ at ৩:২৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@obaydur ভাই, ঠিক বলেছেন ভাই। যারা বোকা অন্ধপুজারী / ভক্তিবাদী তারা একসময় হয়তো সঠিক বুঝ পায়। কিন্তু যারা জ্ঞানী অন্ধপুজারী তদের বেশীরভাগই কখনোই সঠিক বুঝ খুঁজে পায়না।
সত্য সন্ধানী
অক্টোবর ২৩, ২০১৭ at ৬:১০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হাহাহা রায়হান ভাই, সবচেয়ে মজা লেগেছে মাহমুদুল মুনশির মন্তব্য পড়ে। আহারে ৪৬ বছর আগের জন্ম নেয়া প্রভুর ওজন কেউ বুঝল না, এই দুঃখ রাখি কোথায়!