নাস্তিকরা বলে কুরআনে বিজ্ঞান খোঁজা নির্বুদ্ধিতার পরিচয়। কুরআন পড়ে কেউ তো মহাকর্ষ সূত্র আবিষ্কার করতে পারে না, পারে না বিজ্ঞানী হতে।
বাহ! কুরআনে বিজ্ঞান খোঁজা অপরাধ অথচ বিজ্ঞান দিয়ে কুরআনের ভুল ধরা বিজ্ঞানমনস্কতার পরিচয়! এই দ্বীমুখী নীতি কেন?
আমরা কুরআনে বিজ্ঞান খুঁজি না, খুঁজি বৈজ্ঞানিক সমর্থন। কুরআন আর বিজ্ঞান সাংঘর্ষিক কিনা তা খোঁজার চেষ্টা করি। প্রবৃত্তির অনুসরণ করে কুরআনে ভুল খুঁজতে যায় না। কুরআন হলো জীবনবিধান। কুরআন কোনো বিজ্ঞানের বই না। তবুও কুরআন যে সার্বজনিন তা প্রমাণের জন্য কুরআনে অনেক বৈজ্ঞানিক আয়াত আছে। সকল যুগে যেমন কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক তেমনি বিজ্ঞানের যুগেও তার শ্রেষ্ঠত্ব থাকবে। আল্রহ কোথাও বলেন নি যে, কুরআন পড়লে আমরা বিজ্ঞান শিখতে পারব, বরং কুরআন আমাদের বিজ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং মনোযোগী হতে শেখায়। আল্লহ আমাদের তার সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে বলেছেন। এখন কেউ যদি কুরআন থেকে বিজ্ঞান চর্চা করতে চাই তাহলে সে দোষ মুসলিমদের দিয়ে তাদের ধর্মান্ধ বলা কতটা যৌক্তিক বলতে পারেন?
ডারউনের origin of species পড়ে কয়জন বিজ্ঞানী হয়ছে বলতে পারেন? স্টিফেন হকিং এর The grand design পড়ে কয়জন পদার্থবিদ হয়ছে? সাহিত্য পড়ে কয়জন সাহিত্যিক হয়? নাস্তিক ভাইদের বলছি অন্তত এই দ্বিমুখী নীতিটা বাদ দিন। আপনি যেহেতু নাস্তিক সেহেতু আপনার নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। কিন্তু আপনাদের চরিত্রে সে বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত। আপনি আগে নাস্তিকের গুণাবলি অর্জন করুন তারপর আসবেন কুরআনের ভুল ধরতে।
নাস্তিকরা কুরআনের একটি আয়াত নিয়ে কুরআনের খুবই সমালোচনা করে। তাদের দাবি কুরআনের অনেক জায়গায় পৃথিবীকে কার্পেট বা বিছানা বলা হয়েছে।
(১৫:১৯,২০:৫৩,৫০:৪৮,৭১:১৯,৭৮:৬,৯:৩০,২:২২)
অর্থ্যাৎ কুরআন নাকি পৃথিবীকে সমতল বলছে।
আগা গোড়া না জেনে নাস্তিকরা তাদের শিরমনিরা যা বলে তা অন্ধভাবে মেনে নিয়ে কুরআনের সমালোহহচনায় নেমে পড়ে। কিন্তু আমরা মুসলিমরা হলো প্রকৃত মুক্তমনা। সকল নকল ঈশ্বরকে বাদ দিয়ে আমরা এক আল্লহর ইবাদত করি। আমরাই তো তাহলে প্রকৃত মুক্তমনা। নাস্তিকরা যতই সমালোচনা করুক না কেন তাদের মিথ্যা বিলুপ্ত হবেই।ইনশাআল্লহ।
কুরআনে আছে- ” এটা ঐ গ্রন্ধ যার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই; আল্লহ ভীরুদের জন্য এ গ্রন্ধ হিদায়াত বা মুক্তিপথের দিশারী।(২:২)
কুরআন নিজেই বলছে এ গ্রন্ধে কোনো সন্দেহ নেই এবং আমরা মুসলমানরা,কুরআন নিয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করিও না।এবং কুরআন এটাও বলছে যে এ গ্রন্ধ আল্লহ ভীরুদের জন্য হেদায়াত।তাই আপনারা যারা সন্দেহ পোষণ করেছেন কুরআন নিয়ে তাদের উক্ত বিষয়টি ব্যাখ্যা করার আগে আপনাদের দুইটি স্বীকার্য মেনে নিতে হবে।কোনো মডেল কিংবা প্রস্তাবনা প্রদানের পূর্বে যেমন কিছু স্বীকার্য মেনে নিতে হয় ঠিক তেমনি এখানেও কিছু স্বীকার্য আপনাদের মানতে হবে।আপনি যদি মনে করেন আপনি কেবল কুরআনের বিরোধীতায় করবেন,তাহলে আপনার পক্ষে সঠিক তথ্য জানা সম্ভব নয়।আপনাকে নিরপেক্ষ হতে হবে।তাই নিচে দেওয়া স্বীকার্য গুলো মেনে পড়ুন।পাঠকের কাছে আমার আবেদন এটি
১) কুরআন সৃষ্টিকর্তা তথা আল্লহর বাণী
২) কুরআনে কোনরূপ ভুল ত্রুটি থাকতে পারে না।
স্বীকার্য দুইটি অন্তত কিছুক্ষণের জন্য মেনে নিন।
এবার মূল বক্তব্যে আসি।উল্লিখিত বিষয় সম্পর্কে কোরআনের কিছু আয়াত উল্লেখ করছিঃ
“আল্লাহ তালা তোমাদের জন্য ভূমিকে করেছেন বিছানা, যাতে তোমরা চলাফেরা কর প্রশস্ত পথে।(৭১:১৯)
“আমরা কি পৃথিবীকে পাতানো-বিছানা-রূপে বানায়নি,আর পাহাড়-পর্বতকে খুটিরূপে?”(৭৮:৬-৭)
“যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে করেছেন শয্যা এবং আকাশকে ছাদ রূপে”(২:২২)
আয়াতগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে,বিছানা কিংবা বিছিয়ে দিয়েছি ইত্যাদির পরে মহান আল্লহ কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।যেমন-কোথাও হরেক রকমের জিনিস উৎপন্নের কথা বলেছেন,কোথাও গন্তব্যস্থানে পৌছাতে পারার কথা বলেছেন আবার কোথাও চারণভূমিও বলা হয়েছেন।কিন্তু কারণ হিসেবে কোথাও পৃথিবী সমতল এরুপ বলা হয়নি।এ আয়াত যে সমতল পৃথিবী বোঝায় না তা আমরা একটু পরে দেখব।সত্যি বলতে কুরআনে পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে যে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে তা অন্য কোন ধর্মগ্রন্থে নেই।
আগে বিছানা বা শয্যা বলার আসল কারণ,এর পিছনে কি বিজ্ঞান আছে আসুন তা দেখে আসি
আমরা জানি পৃথিবীর মধ্যভাগ বসবাস ও ফসল উৎপাদনের জন্য উপযোগী নয়।বিছানা হলো আরামদায়ক স্থান।এবং আমরা জানি,পৃথিবীর লেয়ারের মধ্যে সবচেয়ে উপরে হচ্ছে -ক্রাস্ট।এটিই পাতলা আস্তরণ। এর আয়তন ৩০ কি.মি. এই পাতলা আস্তরণের উপরই আমরা বসবাস করি।পৃথিবীর যত নিচের দিকে যাওয়া যায় তাপমাত্রা তত বাড়তে থাকে যা জীবের বসবাসের উপযোগী নয়।কেবল উপরের স্তরটিই বসবাস উপযোগী।তাই কুরআনে পৃথিবীকে বিছানা বলা হয়েছে।
এখন এই আয়াতটি যে, পৃথিবী সমতল; তা বোঝায় না তার ব্যাখ্যার কিছু যুক্তি মহান আল্লহ আমাকে বোঝার তৌফিক দিয়েছেন।এ সম্পর্কে আমি আপনাদের সামনে কিছু প্রমাণ পেশ করছিঃ
[১] সূরা নাবার ৬-৭ আয়াতে বলা হয়েছে-“আমি কি পৃথিবীকে বিছানা করিনি এবং পর্বতমালাকে পেরেক?
এখানে একটা বিষয় লক্ষ্য করুন।পৃথিবীকে বিছানা উল্লেখ করে মহান আল্লহ পর্বতকে পেরেক বলছেন।
পর্বতকে পেরেক বলার কারণ আগে বর্ণনা করছি।
আমরা জানি,পর্বতমালা পৃথিবীকে কাঁপা বা ঢলে পড়া থেকে রক্ষা করে।কুরআন থেকে আমরা তা জানতে পারি।
“Earth” নামক বইটি বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতত্ত্ব বিষয়ে ব্যবহৃত প্রাথমিক রেফরেন্স বই।এই বইয়ের লেখক ফ্রাঙ্ক প্রেস বর্ণনা দেন যে,পাহাড় পর্বতমালা পেরেকাকৃতি এবং এগুলো অবিভক্ত বস্তুর ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।যার মূল ভুপৃষ্ঠের উপরিভাগ থেকে নীচ পর্যন্ত দৃঢ়ভাবে বিস্তৃত।যা পৃথিবীকে সুস্থির রাখতে পাহাড়-পর্বত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কোরআনও আমাদের একই দিকে ইঙ্গিত দেয়।
কুরআনে আছে- “আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে।” (সূরা আম্বিয়া:৩১)
তারমানে কুরআনে বর্ণিত পাহাড় পর্বতের কাজ আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। বরং নির্ভুল বিজ্ঞান।
এখন আপনাদের কাছে প্রশ্ন,পৃথিবী যদি সমতল প্লেটের মতো হতো তাহলে কি পৃথিবীর নড়াচড়ার কোনো কারণ ছিল?
বরং পৃথিবীর সমতল আকারই তাকে সুস্থির রাখত।
পৃথিবী সমতল হলে এর প্রত্যেকটি লেয়ার একে অপরের সাথে সুস্থির থাকত।এর জন্য কোনো পেরেকের প্রয়োজন হতো না।একবার সমতল এবং গোলাকার পৃথিবী কল্পনা করুন।দেখবেন
পৃথিবী যদি গোলকার হতো তাহলেই এর উপরের ক্রাস্টটি নড়াচড়ার সম্ভাবনা থাকে,কিন্তু পৃথিবী যদি সমতল হয় তাহলে এর উপরের লেয়ার নড়াচড়ার কোনো কারণ নেই।পৃথিবীর সমতল আকৃতিই তাকে স্থির রাখত।
বরং পৃথিবী সমতল হলে তাতে পাহাড় স্থাপন করলে তা পৃথিবীর নড়াচড়ার কারণ হতো।
কিন্তু কুরআন বলছে তার উল্টো।সত্যি বলতে উক্ত আয়াতটি পৃথিবীর সঠিক আকৃতিরই ইঙ্গিত দেয়।পৃথিবী বর্তুলাকার, এজন্য তার উপরের স্তর নড়াচড়ার সম্ভাবনা থাকেই, এজন্য আল্লহ পাহাড়-পর্বত স্থাপন করে ব্যালেন্স করেন এবং পৃথিবীর ঢলে পড়া থেকে রক্ষা করেন। আল্লহ সুপরিকল্পনাকারী।
[২] এবার আরেকটি আয়াতের মাধ্যমেও যুক্তিটি প্রমাণ করা যায়।সূরা বাকারাহ্ এর ২২ আয়াতে আল্লহ তালা বলেন, ” যিনি তোমাদের জন্য যমিনকে করেছেন শয্যা এবং আকাশকে ছাদরূপে।”(২:২২)
পৃথিবীকে ছাদ বলার কারণ তো জানা গেল এখন আকাশকে ছাদ বলার কারণটা একটু বলিঃ
আকাশ(sky) বলতে কি বোঝায় আগে দেখিঃ
The sky is everything that lies above the surface of earth,including the atmosphere and outer space অর্থ্যাৎ আকাশ হলো ভূপৃষ্ঠ থেকে দেখতে পাওয়া বায়ুমন্ডল বা মহাশূন্যের অংশবিশেষ। স্পষ্ট করে দেখুন বায়ুমন্ডলও কিন্তু আকাশের অন্তর্ভুক্ত। এখানে আবার আকাশকে নিয়ে ভ্রান্ত জল্পনা-কল্পনা করবেন না।
এবং আমরা জানি বায়ুমন্ডল আমাদের সূর্য থেকে আসা অনেক ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে।বায়ুমন্ডল একটি ছামিয়ানা বা ছাদের মতো কাজ করে।এজন্য কুরআনে আকাশকে ছাদ বলা হয়েছে।এখন আবার এটা বলবেন না তো আকাশও সমতল। মহান আল্লহ এ বিষয়ে অধিক অবগত।
এখানে আমি অমুসলিমদের কিছু বলতে চাই।আপনারা যেহেতু বাহ্যিক দিক দিয়ে কুরআনকে ব্যাখ্যা করেন,তাহলে একবার ভাবুন তো, যমীন যেহেতু বিছানা এবং আকাশ যেহেতু ছাদ,সেহেতু তাদের মধ্যে কাঠামো পূর্ণের জন্য কোনো স্তম্ভ বা পিলারের তো প্রয়োজন যা হিন্দুধর্মগ্রন্থ এবং খ্রিষ্টানধর্মগ্রন্থ আছে।
হিন্দুধর্মঃ গরু আকাশকে ধরে রেখেছে।(যজুর্বেদ:৪:৩০)
এবং খ্রিষ্টানধর্ম তো পৃথিবীকে সমতল বলার পাশাপাশি পৃথিবীকে শক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।(Psalm 104:5)
তবে আলহামদুলিল্লাহ কুরআনে এমন কোনো আজগুবি কথা বলা নেই।
[৩] পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার নয়।উপর ও নিচের দিকে কিছুটা চাপা এবং মধ্যভাগ স্ফিত।এই স্ফীতির কারণেই বিষুব অঞ্চলীয় ব্যাস মেরু অঞ্চলীয় ব্যাসের তুলনায় প্রায় ২৩ কি.মি. বেশি।পৃথিবীর এই স্ফীতির কারণ হচ্ছে পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর ঘূর্ণন।যা পৃথিবী সমতল হলে হতো না।এবং পৃথিবীর এ ঘূর্ণনের কথা কুরআনেও বলা হয়েছে-
“তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র।সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।(সূরা আম্বিয়া:৩৩)
তাহলে একবার ভেবে দেখুন কোরআন কিভাবে পৃথিবীর গোল হবার মূল বিষয়গুলোকে সমর্থন করে।এ বিষয়গুলো কি ১৪০০ বছর পূর্বে কেউ জানত??
[৪] পৃথিবী সমতল হলে দিন রাত্রি পরিবর্তনে ব্যঘাত দেখা দিত।আকস্মিকভাবে দিন রাত্রির পরিবর্তন হয়ে যেত; কিন্তু কুরআনে দিন-রাত্রি পরিবর্তন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।(সূরা লুকমান:২৯) আরো অনেক আয়াত রয়েছে।যা পৃথিবীর সঠিক আকৃতি নির্দেশ করে।
[৫] সবচেয়ে বড় বিষয় কুরআনে পৃথিবীর আকার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।
কুরআনে আছে- ” He made the earth egg-shaped.(79:30)
“এবং আল্লহ পৃথিবীকে ডিম্বাকৃতি করে তৈরী করেছেন।”
এখানে “দা-হাহা” শব্দটির দুইটি অর্থ আছে।প্রথমটি হলো উটপাখির ডিম যা “দহিয়া” থেকে উৎপত্তি।আর একটি অর্থ হচ্ছে “বিস্তৃত করা”।
প্রথমে উটপাখির ডিম অর্থটি নিয়ে বলিঃ
এখানে ডিমের আকার এবং পৃথিবীর আকারের সাদৃশ্যটাই মূল।ডিম আর পৃথিবী কিন্তু এক জিনিস নয়।তবুও এদের মধ্যে কিছু সাদৃশ্য রয়েছে যেমন ডিমের কয়েকটি স্তর আছে(শেল,নিচের পাতলা স্তর,সাদা তরল পদার্থের স্তর,হলুদ তরল পদার্থের স্তর,ইত্যাদি)।ঠিক তেমনি পৃথিবীর কয়েকটি স্তর রয়েছে(crust,mantle,inner core, outer core)।তাছাড়া আরো অনেক আয়াত আছে যা পৃথিবীর সঠিক আকার উল্লেখ করে।(৮৪:৩,৭০:৪০,যুমার ৫,আরাফ ৫৪) ইত্যাদি।
এবার আসি “বিস্তৃত করা” অর্থটা নিয়ে।চারপাশে তাকালে পৃথিবীকে সমতল মনে হয়।কারণ পৃথিবী এত বড় গোলক যা নির্দিষ্ট কোন স্থান থেকে সমতলই মনে হয়।বিজ্ঞানের যে পরীক্ষা গুলোতে পৃথিবীর ছোট কোনো অংশ বিবেচনা করা হয় সেখানে কিন্তু সমতলই ধরা হয়। তবে বৃহৎ দুরত্বে অবশ্যই গোলাকার। আর পৃথিবীর সমস্ত জায়গায় কিন্তু মানুষ বসবাস করেও না,বসবাস করার উপযোগীও নয়। তাছাড়া পৃথিবীর উত্তর থেকে দক্ষিণ এর ব্যাস ১২৭০৯এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে এর ব্যাস ১২৭৭৫২ এক বিরাট বিস্তৃত দুরত্ব।এর আয়তন ১৯ কোটি ২০ লক্ষ বর্গমাইল এবং পরিধি ২৫০০০ মাইল।এ বিশাল জায়গাকে দেখলে বিস্তৃতই মনে হয়।এটা পৃথিবী সমতল প্রমাণ করে না।
তবে আমরা তো দেখলাম দা-হাহা শব্দের দুটো অর্থই বিশুদ্ধ।
আপনাকে মনে রাখতে হবে যে,কুরআন কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট কোনো সময় এবং গোষ্ঠীর জন্য আসি নি,কুরআন সমস্ত মানব জাতির জন্য এসেছে।ইনজিল যেমন কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছিল, কুরআন কিন্তু তা নয়।কুরআন নিয়ে গবেষণা এবং আল্লহর সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করা আল্লহরই হুকুম।তাই কুরআনের কোনো আয়াতের সমসাময়িক যতগুলো শুদ্ধ অর্থ হবে সবগুলোই আপনাকে গ্রহণ করতে হবে।আপনি একটা গ্রহণ করে আরেকটা বাদ দিতে পারেন না।কুরআন সকল মানবজাতির জন্য,সকল সময়ের মানুষের জন্য।”দা-হাহা শব্দের অর্থ উটপাখির ডিম এটাও আপনাকে গ্রহণ করতে হবে।তাই বলা যায় কুরআনে পৃথিবীর আকার সম্পর্কে কোনো ভুল তথ্য দেওয়া নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কুরআনে পৃথিবীর আকার সম্পর্কে যে ধারণা দেওয়া হয়েছে “নাসা” তার সত্য সমর্থন করেছে।
দেখুনঃ
http://newsrescue.com/the-earth-is-egg-shaped-nasa-validates-quran-ancient-scripture/#axzz3KJWs5Vnh
“সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে।নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।”

সজল আহমেদ
এপ্রিল ২৯, ২০১৫ at ৬:০৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসলে লেখাটা কি কপি পেস্ট ? মনে কিছু করবেন না ,এই লিংকটার জন্য বলেছি দেখুন এখানে the এর পর স্পেস আছে । http://newsrescue.com/the-earth-is-egg-shaped-nasa-validates-quran-ancient-scripture/#axzz3KJWs5Vnh
সজল আহমেদ
মে ৬, ২০১৫ at ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি অত্যন্ত দুঃখিত সদালাপের গুণী একজন লেখক কে এরকম মন্তব্য করার জন্য ।অন্য কোথায়ও এ লেখাটা আমি দেখিনি তবে লিংকটা ফাঁকা দেখে ঐ বাজে মন্তব্যটা করে ফেলেছি ।আমাকে ক্ষমা করুন ।
রিজভী আহমেদ খান
মে ২৬, ২০১৫ at ২:৫৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জাযাকাল্লাহ ভাই, আমি কিছু মনে করি নাই। আমি ব্লগে নতুন এখনো সব নিয়ম রপ্ত করতে পারি নি। তাই এমন হয়েছে।
রিজভী আহমেদ খান
এপ্রিল ৩০, ২০১৫ at ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
না, প্রতিটি ওয়ার্ড আমার নিজের লেখা। সদালাপে লিংক দেওয়ার নিয়মটি এখনো শিখতে পারি নাই। তাই এমন হয়েছে। এ লেখা যেখানে দেখবেন, দেখবেন লেখক রিজভী আহমেদ খান।
Mominul
এপ্রিল ৩০, ২০১৫ at ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সদালাপের এক্টিভিটিজ অনেক কমে গেছে দেখছি । লেখকরা কি ক্লান্ত ?
সিংহের ডিম
এপ্রিল ৩০, ২০১৫ at ২:৩৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনাদের আল্লাহ বলে সব জানেন। অতীত,বর্তমান, ভবিষৎ সব।তিনি বলে সর্বজ্ঞানী।দেখেন কোরান কি বলছে….
সূরা আল আনকাবুত:3 -- আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন মিথ্যুকদেরকে।
এখানে আল্লাহ যেহেতু “জেনে নেবেন” তাই এর মানে দাড়ায় তিনি ভবিষৎ জানেন না।।এখানে মুলশব্দ ‘ফালা ইয়া’লামান্নাল্লাহু’ এর অনুবাদ “আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন”।।মানে তিনি ভবিষৎকাল জানেন না।।
এরপরও কি বলবেন কোরানে ভুল নেই??
ফাতমী
মে ৫, ২০১৫ at ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সিংহের ডিম,
"আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আল্লাহ অবশ্যই "জেনে নেবেন" যারা সত্যবাদী এবং নিশ্চয়ই জেনে নেবেন মিথ্যুকদেরকে।"
এখান থেকে "জেনে নিবেন" কথার মানে কিভাবে দাঁড়ায় তিনি আগে তা জানতেন না? এখানে পরিক্ষার কথা বলা হয়েছে, এবং পরিক্ষার রেজাল্ট কি হবে সেটা তিনি জেনে নিবেন। অর্থ্যাত, আমি জানি মিস্টার এক্স মিস্টার ওয়াইকে খুন করেছে। কিন্তু বিচারক হিসাবে সেটা আমাকে সাক্ষির থেকেই জেনে নিতে হবে। এর পরের লাইনেই এসেছে, "ফায়সালার" কথাঃ
"যারা মন্দ কাজ করে, তারা কি মনে করে যে, তারা আমার হাত থেকে বেঁচে যাবে? তাদের ফয়সালা খুবই মন্দ।"
এম_আহমদ
মে ১১, ২০১৫ at ১০:০৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
উত্তর তো সুন্দরই দিয়েছেন। কিন্তু 'সিংহের ডিমের' তো কোন পাত্তা নেই। এরা এভাবেই ফুড়ুৎ করে।
এম_আহমদ
মে ১১, ২০১৫ at ১১:৪৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সিংহের ডিম: কি ব্যাপার, লাপাত্তা যে? বললেন, এখানে মুল-শব্দ ‘ফালা ইয়া’লামান্নাল্লাহু’ এর অনুবাদ “আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন”। এখানে শব্দ কয়টি এবং ‘মূল শব্দ’ কোনটি? উদ্ধৃত বাক্যাংশটি যে সমন্বয়ে গঠিত এবং এতে যে তাৎপর্য (semantic significance) প্রকাশ পাচ্ছে সেই ব্যাকরণ দেখিয়ে যদি ‘ভুল’টা কোথায়, তা দেখাতে পারতেন, তবে, কেউ মানুক না-মানুক, আপনার মন্তব্যটি অন্তত হনুমান সম্প্রদায়ের মত দেখাত না। ‘আপনাদের আল্লাহ বলে’, ‘তিনি বলে’ –একটু শালীন ভাষায় কি কথা বলা যায় না?
‘এরপরও কি বলবেন কোরানে ভুল নেই?’ ‘এর পর’ মানে কি? কি ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ দাখিল করলেন? কিসের পর? আর হ্যাঁ, অবশ্যই বলব কোরানে ভুল নেই –এটা আপনার না-জানা লম্ফ-ঝম্ফ।
Monowar Bin Zahid
মে ২, ২০১৫ at ৪:২৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@রিজভী
লিখার ধরনটা ভালো। কিছু জানা কিছু অজানা বিষয়কে একসাথে মিলিয়ে নতুন একটা আকার দিয়ে লিখা হয়েছে। আমাদের এমনটা ই করা উচিত। কপি পেষ্টের দুনিয়া থেকে বের হয়ে নিজের বুদ্ধিকে কাজে লাগানো উচিত। কেউ কেউ তো সদালাপের লিখা গুলিকে নিজের নামে চালিয়ে ফেবু কাঁপিয়ে দেয়।
রিজভী আহমেদ খান
মে ২৬, ২০১৫ at ৩:০০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জ্বি ভাই সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিকোণ দিয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
রিজভী আহমেদ খান
মে ২, ২০১৫ at ১০:২২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হ্যা অনেকেই আছে সদালাপে লিখতে না লিখতেই কপি করে ফেবুতে নোট করা হয়ে গিয়েছে। কপি করে মূল লেখকের নাম অন্ততপক্ষে উল্লেখ করা উচিত। মস্তিষ্কেরর ব্যবহার করলে নতুন অনেক কিছুই সম্ভব।ইনশাআল্লহ দোয়া করবেন আমার জন্য।
রিজভী আহমেদ খান
মে ৫, ২০১৫ at ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সিংহের ডিম@ আপনার মন্তব্য পড়ে অবাক হলাম। এমন মানুষও সদালাপে আছে ভাবতে অবাক লাগে।
তবে @ফাতমী, জাযাকাল্লাহ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর করে উত্তর দেওয়ার জন্য।
ফাতমী
মে ৫, ২০১৫ at ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@রিজভী,
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। সদালাপের মন্তব্য বিভাগ উন্মুক্ত, অর্থ্যাত যেকোন ব্যাক্তি সদালাপে মন্তব্য করতে পারেন। তাই সদালাপের মূল লেখক নন, এমন ব্যাক্তিরাও সদালাপে মন্তব্য করতে পারেন।
Shahriar
মে ৫, ২০১৫ at ১১:৩২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Jajak-allah.
রিজভী আহমেদ খান
মে ৬, ২০১৫ at ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ও অাচ্ছা, ব্যাপারটা আমার জানা ছিল না। জাযাকাল্লাহ
সিংহের ডিম
মে ১২, ২০১৫ at ৩:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফাতমী
//// এখানে পরিক্ষার কথা বলা
হয়েছে, এবং পরিক্ষার রেজাল্ট কি হবে
সেটা তিনি জেনে নিবেন।////
এভাবে আর কতদিন প্যাচ মেরে কোরানকে ডিফেন্ড করবেন। কেন..’জেনে নেওয়া’ লাগবে কেন..!! পরীক্ষার রেজাল্টতো আল্লাহর আগে থেকে জানার কথা। যদি আগে থেকে জানেন তাহলে আবার জেনে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কি? অনেকটা এমন শোনায় যে, আমি জানি সে আমার মামা এরপর আবার আমি ‘জেনে নেব’ সে আমার মামা। বিষয়টা কেমন হাস্যকর..!!
//// অর্থ্যাত,
আমি জানি মিস্টার এক্স মিস্টার
ওয়াইকে খুন করেছে। কিন্তু বিচারক
হিসাবে সেটা আমাকে সাক্ষির থেকেই
জেনে নিতে হবে।///
এখানে বিচারক কে আর সাক্ষী কে?? আল্লাহ যদি থেকে থাকেন তিনি কি দেখেন না আমরা কি করছি?? তিনি কি বড় সাক্ষী নন?? এখন তিনি নিজেই নিজের কাছ থেকে কেমন করে জেনে নেবেন? ক্লিয়ার করেন বিষয়টা?
আমি নিরপেক্ষ..!! তাই সঠিক ব্যাখা দিলে মেনে নিতে সমস্যা নেই।কিন্তু প্যাচগোচ দিয়ে কাজ হবে না…….
ফাতমী
মে ১২, ২০১৫ at ৯:২২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@সিংহের ডিম,
আপনি কিছু না জানলে সেটা আমার দোষ না। মহান আল্লাহ সাক্ষী ছাড়া বিচার করবেন কেন? যদি করেন তখন বলবেন, এটা আবার কেমন বিচার!!!
"পৃথিবী তার পালনকর্তার নূরে উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা স্থাপন করা হবে, পয়গম্বরগণ ও সাক্ষীগণকে আনা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায় বিচার করা হবে-তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।"-সূরা আল যুমার, আয়াত ৭০
"যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে। এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ? সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন। সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়। অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।" -সূরা যিলযাল, আয়াত ১-৮
এই পৃথিবী আপনার কাজ কর্মের সাক্ষী দিবে। দুনিয়াতে যাই করুন না কেন, এর সাক্ষী তৈরি হয়ে যায়। বই থেকে কলম, বায়ুমন্ডল সব সাক্ষী। আমাদের ছোট বেলায় শিখানো হয়েছে যে, হাত, পা, জ্বিব্বাহ-ও সাক্ষী দিবে, যেন হাত, পা এবং জ্বিব্বাহ দ্বারা কাউকে কষ্ট না দেই।
Md absar
মে ১২, ২০১৫ at ১১:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অালহামদুলিল্লাহ।
অনেক সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন । কিন্তু তারপরও নাস্তিকরা তা বুঝে না বা বুঝার চেস্টাও করেনা।
এরকম যুক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা দিয়ে নাস্তিকদের ইসলাম সর্ম্পকে মিথ্যাচারের জবাব দিন।
সিংহের ডিম
মে ১৩, ২০১৫ at ১০:২০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ফাতমী @এম আহমদ
প্রথমত,,আপনি আমার কমেন্টের প্রথম অনুচ্ছেদের উত্তর না দিয়ে লাফ মেরে দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে এসেছেন। সব কিছু জানলে আবার জানার প্রয়োজনীয়তা থাকার কথা না।
দ্বিতীয়ত,,একটু আরেক ধাপ উপরে উঠি। কোরানের তথাকথিত লেখক আল্লাহ বলেছে সে সব কিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছে।
সূরা যুখরুফ:12 -- এবং যিনি সবকিছুর যুগল সৃষ্টি
করেছেন এবং নৌকা ও চতুস্পদ জন্তুকে
তোমাদের জন্যে যানবাহনে পরিণত
করেছেন,
সূরা আয-যারিয়াত:49 -- আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায়
জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম
কর।
উভয়লিঙ্গ প্রানীদের ও কি জোড়ায়
জোড়ায় সৃষ্টি করেছে আল্লাহ ? যেমন…
কেচু,শামুক,কৃমি…আর মলিকুলার প্রাণীদের ??
তাছাড়া ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসদের কি অবস্থা??
একটি মানুষের হৃদপিন্ডও জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছে?
আল্লাহ এই কথাগুলো হাস্যকর মনে হয়না আপনাদের?
আবার দেখুন,
সূরা ইয়াসীন:36 -- পবিত্র তিনি যিনি যমীন থেকে উৎপন্ন উদ্ভিদকে, তাদেরই মানুষকে এবং যা তারা জানে না, তার প্রত্যেককে জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন।
মানুষের মধ্যে হিজড়াও আছে তা কি আল্লাহ ভুলে গিয়েছিলেন??
এবার বলুন কোরান কি মোহম্মদের কথা না সর্বজান্তা আল্লাহর কথা???
সাহস থাকলে উত্তর দিন?? উত্তর যুক্তি যুক্ত হলে মনে নিতে বাধা নেই।
(বিঃদ্রঃ আমার কথায় মনে আঘাত পেয়ে থাকলে দুঃখিত বিশেষ করে @এম আহমদ)
মরুঝড়
মে ১৩, ২০১৫ at ৪:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই আপনাকে কিছু লিঙ্ক দিলাম পড়ে দেখেন তবে কাজ হবে বলে মনে হয় না…আপনার লেখা পড়ে মনে হল বেশ ছটে-মটে আছেন ইসলামের উপর।
http://www.somewhereinblog.net/blog/tbadda/29350742
http://forums.understanding-islam.com/showthread.php?12366-Does-the-Qur-an-say-everything-is-created-in-pairs
http://www.onislam.net/english/ask-about-islam/faith-and-worship/quran-and-scriptures/167059-all-in-pairs-glory-of-creation.html?Scriptures=
এম_আহমদ
মে ১৩, ২০১৫ at ৯:১৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
-এক-
@ সিংহের ডিম
প্রথমত, আমাদের মনে আঘাত পাবার কিছু নেই। আপনার উপস্থাপন সুন্দর হলে, দেখতে ভাল মানাবে, এতটুকু। এই যে বলেছিলাম, আপনার ভাষা: ‘আপনাদের আল্লাহ বলে’, ‘তিনি বলে’, এখানে আল্লাহ “বলেন” বলতে পারতেন, তাই না? তারপর কোনো ব্যাখ্যা, কোনো যৌক্তিক আলোচনা ছাড়াই বলে ফেললেন, ‘এরপরও কি বলবেন কোরানে ভুল নেই??’ এটা ছিল মূর্খের মতো কথা। প্রশ্ন করে, অপরের উত্তর শুনার আগেই যদি কেউ তার নিজ “জ্ঞান” বা “মুর্খামি” জাহির করে দেয় তবে প্রশ্ন করার প্রয়োজন থাকে না, কী বলেন? আপনার যদি উত্তর জানাই থাকবে, তবে প্রশ্ন করবেন কেন? আর যদি জানা না থাকে, তবে ভদ্র ভাষায় প্রশ্ন করবেন, যাতে জানার ভাল উদ্দেশ্য প্রকাশ পায়। আবার, আপনি যদি পণ্ডিত ব্যক্তি হয়ে থাকেন এবং এখানে এসে আমাদেরকে কিছু শেখাতে চান, তবে আপনার পরিচয়, আপনার পড়াশুনা ইত্যাদিসহ আমাদের সামনে শিক্ষিত লোকের মত আপনার জানা বিষয় আলোচনা উপস্থাপন করবেন। এটাই নিয়ম, তাই না? কিন্তু আপনি কেন উদ্ভটের মত কথা বলবেন? এবারে, আগের মত, সেই সূরেই বলছেন, ‘মানুষের মধ্যে হিজড়াও আছে তা কি আল্লাহ ভুলে গিয়েছিলেন??’ কেন? এসব তো উত্তর দেখার আগ পর্যন্ত নিজ ঘিলুতেই চেপে রাখার কথা, তাই না? তারপর বলছেন, ‘সাহস থাকলে উত্তর দিন??’ ওরে মহাপণ্ডিতের ডিম, (Oppps, এমন ক্ষেত্রে কী বলা হয়ে থাকে, পণ্ডিতের অণ্ডকোষ?)! উহ রে উহ, আমি ভয়ে ভয়ে কাঁপছি! কেঁপে কেঁপে ভাবছি, এই প্রশ্নের সাথে যৌক্তিকভাবে ‘সাহসের’ সম্পর্কটা কি?
-দুই-
আপনার প্রথম কমেন্টের ‘প্রথম অনুচ্ছেদে’ কি ছিল? পিএইচডি-থিসিসে 'বহুত বহুত' অনুচ্ছেদ ছিল নাকি যেখানে অপরাপর অনুচ্ছেদগুলোতে ভুল থাকলেও প্রথম অনুচ্ছেদ ছিল সারসম্বল? আপনার সব কথাই ছিল ভুল। প্রথম ‘মহা-অনুচ্ছেদে’ও যৌক্তিক, ও তাৎপর্যগত (the thematic significance) এমন ছি না যা উল্লেখযোগ্য। আল্লাহ জেনে নেবেন –এ কথাটির অর্থ আপনি বুঝেন নি। আপনি কোরান পড়েন নি, কোরানের জ্ঞান ও ভাষার সাথে আপনার কোন দূরতম সম্পর্কও নেই। আল্লাহর ভবিষ্যৎ জ্ঞান, শাস্তি-পুরষ্কার (বেহেস্ত-দোযখ), ‘আল্লাহর জেনে নেয়া’ -এসবের অর্থ আপনি জানেন না। আপনার ধারণা কি এই যে আল্লাহর পূর্বজ্ঞানের ভিত্তিতেই মানুষের কর্মফলের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ ছিল? আল্লাহ যখন জানেনই কে কি করবে, কে দোযখে যাবে, কে বেহেস্তে যাবে, তাই সবাইকে কি বলা উচিৎ ছিল: ‘তুমি দোযখে ঢুকে পড়, আর তুমি বেহেস্তে, তোমরা দুনিয়ায় যাবার দরকার নেই, বাস্তবতা দেখার দরকার নেই, কেননা আমি আগ থেকেই সব কিছু জানি? অথবা দুনিয়ায়ই কেউ কোনো কাজ করার আগেই আল্লাহ তার পূর্বজ্ঞান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক রে পুরষ্কার-শাস্তি দিতে শুরু করবেন? এটা কি এভাবে উচিৎ? আপনার ঘিলুতে কি কিছু নেই? আপনি যে বাক্যাংশের কথা উল্লেখ করেছেন অনুরূপ অর্থের বাক্য আরও রয়েছে যা জীবন ও জগতের তকদীর বিষয় আলোচনা করে, কিন্তু আপনার জ্ঞান এসবে নেই। দৈনন্দিন জীবনেও, সাধারণ অর্থে, ‘জেনে নেয়া’ কথাটি আমরা একই অর্থে, বা অনুরূপ অর্থে ব্যবহার করে থাকি, সেটাও আপনি বুঝেননি।
কোনো কথা প্রসঙ্গে আমি বলতে পারি, ‘আমি জানি, আপনি আমার সাথে খেলতে পারবেন না’। অথবা, ‘এটা জানা কথা, আমি আপনাকে পরাস্ত করব।’ অপর পক্ষও আমার ব্যাপারে তা বলতে পারে। কিন্তু কিন্তু বাস্তবতা নিরীক্ষণ করা পূর্বজ্ঞান ভুল হয়ে পড়ে যদি বাস্তবতা তা প্রমাণ না করে। বাস্তবেই তা প্রমাণিত হবে। আমি বলতে পারি, ‘আসেন, আপনাকে দেখে নেই’; অথবা ‘আসেন, মাঠেই আপনাকে জেনে নেব।’ এখানে বাক্যের অর্থ এই নয় আমি আপনাকে আগে ‘দেখি নি’ অথবা ‘জানি নি’। এই জানার অর্থ হচ্ছে বাস্তবতার নিরীক্ষণ।
একজন শিক্ষক বলতে পারেন আমার অমুক ক্লাসে ৩ জন ছাত্র প্রথম স্থান অধিকার করবে। আবার যারা ফেল করবে, তাদের ব্যাপারেও আগাম কথা বলতে পারেন। কিন্তু তার অভিজ্ঞতা ও পূর্ব-ধারণার ভিত্তিতে কারো পাশ-ফেল নির্ধারণ করতে গেলে কথা উঠতে পারে। ফেল-করার-মত ছেলে বলতে পারে, ‘স্যার, আপনি আমাকে একটি চান্স দিয়ে দেখেন, আমি কিন্তু ঠিকই প্রথম স্থান অধিকার করে নেব।’ আর পরকালের ব্যাপারে যে লোক দোযখী সে বলতে পারে, ‘আল্লাহ আমাকে বাস্তবে কাজগুলো করার সুযোগ না দিয়েই দোযখে দাখিল করলেন, আমি কিন্তু বেহেস্তবাসী হতে পারতাম’। তাই, পূর্বজ্ঞানের ভিত্তিতে পাস/ফেল নির্ধারিত না হয়ে ব্যক্তির বাস্তব কর্মেই তা প্রমাণিত হতে হবে –এক্ষেত্রে পূর্বজ্ঞান ভিন্ন বিষয়। শিক্ষকের জানা থাকলেও ছাত্রের পাশ-ফেল তারই ক্রম-অর্জিত (of accumulated deeds) কাজের ফল। এসব বিষয়ে আপনার কোনো স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ পাচ্ছে না। আপনি হয়ত এমন কোনো বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন যার সাথে ভাষা-জ্ঞান (বিশেষ করে semantic/Semiological), যুক্তি, দর্শন ও ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই, আপনার আলোচনা থেকে তা'ই যেন উঠে আসছে।
-তিন-
এবারে হিজড়ার প্রসঙ্গ এনেছেন, তাও প্রসঙ্গ না বুঝে, এবং অপ্রাসঙ্গিকভাবে -এরা মধ্যবর্তী কোনো ভিন্ন প্রজাতি নন যা এত্থেকে জোড়ার উদাহরণ রদ (negate) হতে পারে। আপনি সরাসরি কোরান হাদিস পড়েন নি। যা পড়েছেন, দেখা যাচ্ছে, ইসলাম বিদ্বেষীদের কাছ থেকে ধার করা কিছু নির্বাচিত এবং ভুল ব্যাখ্যায় সাজানো ধারণা (opinions formed on selected and misinterpreted texts)। আল্লাহর সৃষ্টি-জগত এক বৈচিত্র্যময় জগত। এখানে অনেক কিছুতে নানান ভিন্নতা রয়েছে। জিব্রাইল ফেরেশতা একজন। মিকাইল ফিরিস্তা একজন। অনেক ফিরিশতা ডানা বিশিষ্ট; অনেকের ডানা বেশি, অনেকের কম। ফেরেস্তারা নারী পুরুষে সৃষ্ট নন, জোড়ায় জোড়ায় নন। আপনি কি বিশ্বাস করেন, বা না করেন সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু আল্লাহর কথা আলোচনা করতে গেলে তার ‘মোট’ কথাই তো দেখতে হবে। আপনি কেবল এতটুকু পড়েছেন যে আল্লাহ ‘জোড়ায় জোড়ায়’ সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু এটা দেখেননি যে ‘তিনি সৃষ্টি মধ্যে যা ইচ্ছা যোগ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সক্ষম (৩:৫১)’, এটাও পড়েন নি, ‘তিনি এমনসব জিনিস সৃষ্টি করেন যা তোমরা জান না’ (১৬:৮)’ তিনি আগুনের উৎস থেকেও অন্যজাত প্রাণী সৃষ্টি করেছেন, আপনি সেসব জানেন না। এবং ‘তিনি মানবকে এক ফোটা বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছেন, এতদসত্বেও সে প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী হয়ে গেছে’ (১৬:৪), এটাও বলেছেন। অধিকন্তু, এবং মূল কথা, ‘আল্লাহ যা ইচ্ছে তাই সৃষ্টি করেন এবং পছন্দ করেন’ (২৮:৬৮)।
আল্লাহ মা-বাপের মাধ্যমেই শিশুর জন্ম দেন কিন্তু ঈসার (আ.) জন্ম বাপ ছাড়াই হয়েছে (৩:৪৭), কোনো জোড়া থেকে হয় নি; আদমের সৃষ্টি সম্পূর্ণ ভিন্ন –মা-বাপ ছাড়াই হয়েছে, কোনো জোড়া থেকে হয় নি। ‘নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যে যা আছে, সবকিছুর উপর আল্লাহ তা’আলার আধিপত্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান’ (৫:১৭)। সৃষ্টির পরবর্তী ধারায় যা ‘জোড়ায় জোড়ায়’ হচ্ছে তা একটি ‘প্রসেস’ –এই প্রসেসই বংশ বিস্তারের প্রক্রিয়াগত বিষয়। এখানে প্রজনন প্রক্রিয়ায় দুটি উপাদান কাজ করছে এই হিসেবে বুঝে নিচ্ছি, যাকে আমরা আবার নারীত্ব বা পুরুষত্বে নামকরণ করেছি। আমি জীব-বিদ্যার লোক নই, তাই সেই অঙ্গনের পরিভাষায় এই ধারণাটি উপস্থাপন করতে পারব না, যা এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু তাৎপর্য বহন করতে পারত। অন্য কেউ হয়ত তা করে দেখাতে পারেন। আল্লাহর সৃষ্টি অনেক বৈচিত্রমণ্ডিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছে, সেভাবে সৃষ্টি করেন। তার সৃষ্টি প্রক্রিয়াতে এমনটিও রয়েছে যেখানে কোনো কোনো বিরল প্রাণীজাত তাদের বংশ বিস্তারের প্রয়োজনে (in terms of procreative needs) পুরুষ অথবা নারীগতরূপে রূপান্তরিত হতে পারে, যেমন ঘোড়া-মাছ (horse fish)। কিন্তু এতে নারীত্ব/পুরুষত্বের যে উপাদান বা অবস্থান জৈবিকভাবে (biologically) থেকে থাকে তাতে সেই অবস্থার রূপান্তর ঘটে। আল্লাহ জীবন সৃষ্টি করেছেন, জীব-জীবিকা বানিয়েছেন। এতে বেক্টেরিয়াসহ নানান প্রকারের প্রাণী থাকতে পারে। আল্লাহ প্রাণী জগতকে বিভিন্নভাবে সাজিয়েছেন। নানা ধরণের জীব-জীবিকা সৃষ্টি করেছেন। এসবের মধ্যকার বিস্তারের প্রক্রিয়াও ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু এতে কি এক প্রজাতি অথবা এক ধরণের প্রসেস অন্য প্রজাতি বা প্রসেসকে রদ (negate) করে যে এটা বিতর্কের বস্তু হবে? আপনার ধারণা সর্বত্রই অস্পষ্ট। আপনি যা জানেন না, তাই হচ্ছে আপনার সমস্যা।
-চার-
‘মানুষের মধ্যে হিজড়াও আছে তা কি আল্লাহ ভুলে গিয়েছিলেন??’ না, আল্লাহ এখানে কিছুই ভুলে যাননি বরং এখানে আপনার নিজ অজ্ঞতাকেই আপনি ভুলে যাচ্ছেন। আপনি যাকে হিজড়া বলছেন তার জন্মও সেই নারী-পুরুষের প্রক্রিয়ায় হয়েছে। হিজড়া কি মধ্যবর্তী কোনো প্রজাতি যারা প্রজনন প্রক্রিয়ায় তাদের মধ্যবর্তিতার বিস্তার করে যাচ্ছে? আমি তো জীববিজ্ঞানের ছাত্র নই কিন্তু আপনার মুর্খামি দেখে আশ্চর্য হচ্ছি।
এই দুনিয়াকে আল্লাহ স্বর্গ বলে উল্লেখ করেন নি। এই দুনিয়ার অবস্থা এই যে এখানে কোনো ফুল ফুটে, কোনোটা ফুটে না। কোনোটা আলো বাতাস পায়, কোনোটা পায় না। কোনো বাচ্চা বিকলাঙ্গ হয়ে জন্মে: চোখ একটা হয়, আরেকটা হয় না, এক হাত কাজ করে, অন্য হাত করে না। অমনটিই প্রকৃতি। কিছু মানুষের যৌনাঙ্গ যদি বিকল হয়, তবে এটা এই প্রকৃতিরই একটি রূপ। পূর্ণ যৌনাঙ্গ নিয়ে জন্মের পরও সমস্যা দেখা দিতে পারে। কেউ বিয়েশাদি করতে পারে, কেউ পারে না। এটা হচ্ছে একই প্রজাতির ভিতরে অঙ্গের অপরিপূর্ণতা বা সমস্যা জড়িত। আপনার এই জ্ঞানটুকু নেই। আপনি কোনো আলোচনাকেই “দ্বিতীয়-ধাপে” নেবার মত যোগ্য কোনো ব্যক্তি মনে হচ্ছে না।
শেষ কথা। আমি জানি, আপনি যে সম্ভাব্য স্থান থেকে সেলেকটেড বিষয় পাঠ করে থাকবেন, সেখানে আপনার জন্য আরও সমস্যা রয়েছে। কিন্তু আমি বলব যারা ইসলাম বিদ্বেষী মূর্খদের প্রস্রাব গো-দেবীর প্রস্রাবের মত গিলে ফেলে, আপনি তাদের মত না গিলে, ‘মুক্তমনা’ হয়ে, প্রথমে তাদের ধারণাকে ‘সন্দেহের’ দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করবেন। তারপর, তাদের উত্থাপিত প্রশ্নের উপর পাল্টা প্রশ্ন আরোপ করুন। তারপরও, আপনার স্ক্রুটিনিতে যদি সেগুলো ঠিকে যায়, তবেই এখানে নিয়ে আসবেন। এতে জ্ঞানের দুর্বলতা কম প্রকাশ পাবে। দ্বিতীয়ত, ইসলামকে তাদের দেয়া সমস্যার আঙ্গিকে পাঠ না করে, নিজেই ব্যাখ্যা সম্বলিত কোরান কিনুন, হাদিস কিনুন। এতে করে আপনার প্রশ্ন ও জ্ঞানে স্বকীয়তা আসবে। কথা হচ্ছে এই যে আপনার প্রশ্ন যদি কেউ গুগ্লিং করে আপনার “খনিতে” নিয়ে যায়, তবে আক্ষেপ ছাড়া আর কী থাকবে?
ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। আপনার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন আপনাকে সুস্থ জ্ঞান দান করেন। আমীন।
আরেকটি কথা। যখন যুক্তি উপস্থাপন করবেন, তখন ‘এর পরও কি বলবেন +’ এই structure সম্পর্কে সতর্ক থাকবেন। কেননা এটা হচ্ছে যুক্তির শেষাংশ, যদি প্রথমাংশ একান্ত সঠিক না হয়, তবে বক্তার মূর্খতা প্রকাশ পায়।
সিংহের ডিম
মে ১৪, ২০১৫ at ৬:২৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@এম আহমদ
আপনার সাথে এতগুলো বিষয় নিয়ে একসাথে বিতর্ক বা আলোচনা করব না। চলুন,একটি মাত্র আয়াত বিশ্লেষন করি। কারন একটি মাত্র আয়াত যদি ভুল প্রমান করা যায় তাহলে আপনাদের কোরান ‘তাসের ঘরের’ মত ভেঙ্গে পড়বে। কারন আপনাদের আল্লাহই অবিশ্বাসীদের কোরানের মধ্যে অসঙ্গতি বের করতে বলেছেন।
আয়াতটি…
সূরা আয-যারিয়াত:49 – আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।
সুরা যারিয়াতের ঃ49 এর ইংরেজী কিছু অনুবাদকের অনুবাদ —-
Sahih International
And of all things We created two mates;
perhaps you will remember.
Muhsin Khan
And of everything We have created
pairs, that you may remember (the Grace
of Allah).
Pickthall
And all things We have created by pairs,
that haply ye may reflect.
Yusuf Ali
And of every thing We have created
pairs: That ye may receive instruction.
Shakir
And of everything We have created pairs
that you may be mindful.
Dr. Ghali
And of everything We created pairs, that
possibly you would be mindful.
(সরলভাবে বলি যাতে বুজতে সহজ হয়)
দেখুন….এখানে “all thing” বা “everything” কে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু আপনি আপনার উপরিক্ত কমেন্টে “all thing” থেকে বিভিন্ন জিনিস বাদ দিলেন।যথা-
১)হিজরা সম্প্রদায়
২)জিবরাইল ফেরেশতা
৩)মিকাইল ফেরেশতা
৪)ইসা
৫)ঘোড়া মাছ
৬)ব্যাকটেরায়া
৭)ইত্যাদি
এবার দেখুন,আপনি আল্লাহর all things বা everything কে আস্ত রাখলেন না…তার মধ্য থেকে ব্যাতিক্রমের নাম করে বিভিন্ন জিনিসকে বের করে ফেললেন। আল্লাহর সাথে প্রতারনা করলেন না তো?
এর মাধ্যমে কি প্রমানিত হয়না যে আল্লাহ all things জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেন নি??? অসঙ্গতি কি পরিলক্ষিত হচ্ছে না?
আমার কাছে কিন্তু অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে..★
(প্রশ্ন করছি কারন আমার মতামতকে পরিপুর্নভাবে ‘চাপাচ্ছি’ বা ‘দাবি’ করছি না….কারন আমার আর্গুমেন্টের মধ্যেও ভুল থাকতে পারে। একজন সংশয়বাদী নাস্তিক(……..) হিসাবে এটাই আমার কৌশল)
সুলতান মাহমুদ
আগস্ট ২৫, ২০১৫ at ৮:৪৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এ ডিম ভাই- অামি তো হিজরাদের মধ্যেও তো জোড় দেখতে পাচ্ছি; পুং সাদৃশ্য হিজরা এবং স্ত্রী সাদৃশ্য হিজরা! //
“সৃষ্টি জগতের সমস্ত বস্তুকে আমি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে করে এ নিয়ে তোমরা চিন্তা/ গবেষণা করতে পার” (আল-কুরআন)।
সূরা আল যারিয়াতের ৪৯ নং আয়াতের সরল অনুবাদ এটি। আর যেখানেই এর ব্যাখ্যা পড়বেন, দেখবেন সকল ক্ষেত্রেই পরস্পর বিপরীত লিঙ্গের (পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গের) কথা বলা হয়েছে। হ্যাঁ এটি সত্য যে আল্লাহতালা প্রায় সকল প্রকার প্রাণি-ই (কিছু প্রাণীর ছাড়া) সৃষ্টির ক্ষেত্রে এরুপ (পুরুষ ও স্ত্রী জাতির) জোড় সৃষ্টি করেছেন, এটি একটি সাধারণ জ্ঞান যা আমাদের সকলেরই জানা আছে। কিন্তু এ আয়াতের-ই পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে, এতে এমন কিছু অন্তর্নিহীত আছে যা হবে- গবেষনা লব্ধ কিছু। অর্থাৎ যা আমাদের সাধারণ জ্ঞানের আওতার বাহিরে এবং এটি নিয়ে গবেষণা করতে হবে।
তাহলে এখন আমরা গবেষণার দিকে অগ্রসর হই। উল্লেখিত আয়াতে বলা হয়েছে- “সৃষ্টি জগতের সমস্ত বস্তুকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে”। এখানে সমস্ত শব্দের ব্যবহৃত আরবি শব্দটির অর্থ হল- সৃষ্টির প্রত্যেকটি বস্তু, তা হতে একটিও বাদ নয়। এর আলোকে বলতে পারি শুধু প্রাণিকুল নয়, জীব ও জড় সকল বস্তুকেই আল্লাহতালা জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। তা না হলে এটি ভাবনার কোন বিষয়-ই নয়। অন্যদিকে যুগল (জোড়ায় জোড়ায়) শব্দটির ব্যবহৃত আরবি শব্দটি দ্বিবচন। এর অর্থ শুধু যুগলই হবে না, অর্থাৎ এর অর্থ হতে পারে এমন যুগল- যারা পরস্পরের বিরুদ্ধাচারী কিংবা প্রতিক্রিয়াশীল বা বিপরীত ধর্মী। উক্ত শাব্দিক বিশ্লেষণ থেকে আমরা এ আয়াতের সম্ভাব্য গ্রহণযোগ্য অনুবাদ নিতে পারি, যার প্রকৃতি হবে এমন-
“আমি সৃষ্ট সকল বস্তুকে অস্তিত্বে আনায়ন করিয়াছি পরস্পরের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল প্রতি-যুগল এক নির্ধারিত পরিমাপের ভিত্তিতে। তথ্যটি তোমাদেরকে অবগত করা হইল যেন তোমরা ভাবনার (গবেষণা) সূত্র পাও”।
অথবা
প্রশংসা তাঁহারই যিনি প্রত্যেক অস্তিত্বের প্রতি-যুগল (বস্তু ও বিপরীত বস্তু) সৃষ্টি করিয়াছেন যেন তোমরা নির্দেশ পাইতে পার”।
আপনি জানলে অবাক হবেন যে, আল-কুরআনের উক্ত আয়াতে বিজ্ঞানের এমন এক গুরুত্ব পূর্ণ তথ্যের কথা বলা হয়েছে যা- বর্তমান বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির অনেক ব্যয় বহুল পরীক্ষা নিরীক্ষার ফল। হ্যাঁ বিজ্ঞান অনেক ব্যয় বহুল ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির দ্বারা আবিষ্কার করল Antimatter বা প্রতি বস্তু। আমরা জানি, পরমানু তিনটি ক্ষুদ্রতম কণা (স্থায়ী) ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দিয়ে তৈরী। বিজ্ঞানীগণ পরীক্ষাগারে পরীক্ষা চালিয়ে পদার্থের সঙ্গে গামা রশ্মির সংঘাত ঘটিয়ে ইলকট্রন ও পজিট্রনের জোড় তৈরী করেছে। এখানে পজিট্রন হল ইলেকট্রনের জোড় ও প্রতি-বস্তু এবং ১৯৫৫ সালে বিভট্রিন নামক ত্বরণ যন্ত্রের মাধ্যমে প্রোট্রন ও এন্টিপ্রোটনের (বিপরীত প্রোটন) জোড় উতপন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এই কণা গুলো (যেমন- প্রোটন ও এন্টিপ্রোটন) দেখতে একই, কিন্তু তারা পরস্পর বিপরীত ধর্ম বিশিষ্ট্য এবং কণাগুলো পরস্পর পরস্পরের সংস্পর্শে আসলে, পরস্পর পরস্পরকে ধ্বংস করে শূণ্যে বিলীন হয়ে যায়। মহাবিশ্ব সৃষ্টির সময় কণা ও বিপরীত কণা একই সাথে এত বিপুল পরিমানে সৃষ্টি হয়েছে যে, তারা পরস্পর পরস্পরের সংস্পর্শে এসে ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের এই মহাবিশ্বে প্রতি কণা (Antimatter) থেকে কণার (Matter) পরিমান বেশী থাকায়, কিছু কণা অবশিষ্ট রয়ে যায় এবং এই কণা গুলো পদার্থ গঠন করে, যার ফলশ্রুতিতে আমাদের এই মহাবিশ্ব। বিজ্ঞানীগণের ধারণা আমাদের মহাবিশ্বের বাহিরে, আজানা কোন স্থানে এমনও কোন মহাবিশ্ব থাকতে পারে, যা Antimatter (মহাবিশ্বটি তৈরীর সময় Matter থেকে Antimatter এর পরিমান বেশি ছিল বিধায়) দিয়ে তৈরী এবং দেখতে আমাদের মহাবিশ্বের অনুরুপ কিন্তু বিপরীত ধর্মী বিশিষ্ট্য। আর সেই মহাবিশ্বটির নাম হবে এন্টিমহাবিশ্ব, এবং মহাবিশ্ব ও এন্টিমহাবিশ্ব পরস্পরের সংস্পর্শে আসলে উভয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে নিমেষেই। স্টিফেন হকিং এর ধারণা- আমাদের প্রতি মহাবিশ্বের মধ্যে আমাদের অনুরূপ প্রতি মানুষ ও রয়েছেন। উনার আশা আমাদের কারো, এই প্রতি মনুষের সাথে দেখা ও হয়ে যেতে পারে? তবে করমর্দন করতে নিষেধ করেছেন, তা না হলে দুজনেই আলোর ঝলকের সাথে শূণ্যে মিশে যাবে। যাই হোক এন্টি মহাবিশ্ব ও এন্টি মানুষ আছে কি নাই তা আমাদের জানা নেই। কিন্তু এন্টিমেটার (প্রতি বস্তু) আছে, এতে আমরা ১০০% নিশ্চিত। তবে আল-কুরআনের সূরা আল যারিয়াতের ৪৯ নং আয়াতের প্রেক্ষাপটে বলা যায় এন্টি মহাবিশ্বও আছে, যদিও তা এখন আমাদের পক্ষে প্রমাণ করা সম্ভব না; তবে এটা একটা ভাবনার বিষয়?
তাঁহার মহাবণী সত্য (৬:৭৩)।
এইগুলিই প্রমাণ যে আল্লাহ সত্য এবং উহারা তাঁহার পরিবর্তে যাহাদের আহ্বান করে তাহা সত্যবিবর্জিত (৩১:৩০)।
দ্বীনের (ধর্ম) পথে কোন জোর জবরদস্তি নাই, নিশ্চই সত্য মিথ্যা হইতে পৃথক রহিয়াছে (২:২৫৬)।//
এম_আহমদ
মে ১৬, ২০১৫ at ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ ঘোড়ার ডিম
-এক-
আলোচনার মেজর অংশ
এখনে নতুন কী “বিশ্লেষণ” করলেন? এটা তো আগেরই “হিজড়া” প্রসঙ্গ। তাই না? আপনি আবার যদি সেটা অন্যভাবে উত্থাপন করতে চান এবং এটাই হয় আপনার ‘আরগুম্যান্ট’, তবে প্রথমে কি আপনার অর্থের স্থান ও পরিধি ডিফাইন করার প্রয়োজন হয় না?
অবস্থা হচ্ছে এই, ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক সাইটে কোরানের ৫১/৪৯ আয়াতকে সাংঘর্ষিক বলেছে। আপনি তাদের ভাষ্য নিশ্চিত বিবেচনা করে এখানে বিতর্ক জুড়েছেন। কিন্তু সব আলোচনায় নিয়ম থাকতে হয়, আলোচ্য বিষয়ে সম্যক ধারণা রাখতে হয়। নাস্তিক কি বলেছে, তা’ই কি হয়ে যাবে একমাত্র আলোচ্য কথা? কোরানে কী বলা হয়েছে, কোন আয়াতের কোন শব্দ কোন অর্থ প্রকাশ পাচ্ছে, তাৎপর্যগত ধারণা ও পরিধি কী –সেসব কী বিবেচনা করা হবে না? আপনি কি সেগুলো করেছেন? না। তাহলে মামার বাড়ী আসছেন নাকী?
আল্লাহ ‘সৃষ্টি’ বিষয়ের উপর কোরানে অনেক কথা বলেছেন। বলেছেন, তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যেভাবে ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি আরও বলেছেন যে সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন।
আপনার নাস্তিক-বিতর্ক হচ্ছে ‘জোড়ার’ বিষয় নিয়ে এবং এজন্য ৫১:৪৯ আয়াতকে নাস্তিক সাইট থেকে নির্বাচন করেছেন। আপনি ইংরেজির অনুবাদ উদ্ধৃত করেছেন। কোনো অনুবাদে শাব্দিক ও ব্যাখ্যাজাত বিভিন্ন পার্থক্য তুলে ধরা যায় না। তবুও জোড়ার অর্থে ‘mates’, ‘pairs’, ‘opposites’ (by Asad), ‘kinds’ (by Arberry) ইত্যাদি এসেছে। শব্দটি আরবিতে ‘যাওজ’ (زوج)। এর অর্থ একক বা সংকীর্ণ নয়। এটাকে ইংরেজি binary opposite হিসেবেও বুঝা যেতে পারে। জৈবিকের মোকাবেলায় অজৈবিক হতে পারে (animate/inanimate)। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ ও ব্যবহার প্রসারিত হতে পারে।
জোড়ায় দুটি পার্থক্যমূলক বস্তু বা ধারণা থাকতে পারে। জোড়ায় নারী/পুরুষের (gender specific) ধারণা থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। দিনে-রাতে জোড়া হতে পারে। ভাল-মন্দে জোড়া হতে পারে। আলো-আধারে জোড়া হতে পারে। ঈমান ও কুফুরিতে হতে পারে। ইহজীবন/পরজীবনে হতে পারে।
আপনার “বিশ্লেষণে” কি এসব এনেছেন? কোন ধারণায় অগ্রসর হয়ে কী করতে যাচ্ছেন তা কি দেখিয়েছেন, প্রতিষ্ঠা করেছেন? না। তাহলে, মূর্খের মত ‘তাসের ঘর’ ভাঙ্গার অত্যুৎসাহ দেখাচ্ছেন কেন? বিপীন বাবুর মাল কী পরিমাণ খেয়ে প্রায় ৬০০০ বাক্যের কোরানকে এক বাক্যেই কাঁত করতে চাচ্ছেন?
আপনার যুক্তি-তর্ক
আমি আপনার বিতর্ক যতটুকু বুঝতে পেরেছি তা হল আল্লাহ যদি সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করবেন, তবে “মানুষের মধ্যে হিজড়াও আছে তা কি আল্লাহ ভুলে গিয়েছিলেন??” সুতরাং কোরানে ভুল আছে এবং কোরান সাংঘর্ষিক।
আপনার এই যুক্তির প্রধান দুটি অংশ। একটি হচ্ছে জোড়ার শব্দার্থ কেন্দ্রিক এবং অপরটি হচ্ছে ‘হিজড়া’র সত্তাগত বাস্তবতা। হিজড়া যদি অস্তিত্ব জগতের বিপরীত বৈশিষ্ট্যের (of the binary opposites) বাইরের কোনো সত্তা হয় এবং এই সত্তা যদি আরবি ‘যাওজ’ বা জোড়ার ‘সকল’ ধারণা বহির্ভূত প্রমাণিত হয় তাহলে ‘অর্থ’ ও ‘বাস্তবতার’ মধ্যে অসামঞ্জস্যশীলতা দেখা যাবে এবং এতে করেই কোরানের আয়াত ভুল হয়ে পড়বে।
আপনার যুক্তি ও উপস্থাপন ভুল। উদাহরণও ভুল। হিজড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের বা জোড়ার বাহিরের কোনো অস্তিত্বশীল সত্তা নয়। সে/তারা জৈবিক প্রাণী। অজৈবিকের মোকাবেলায় তার জোড়া রয়েছে। হিজড়া দেহধারী প্রাণী। তাতে আত্মা ও দেহের সমন্বয় রয়েছে। এই দুয়েও জোড়া রয়েছে। (আপনি আত্মায় অবিশ্বাসী হলে সেটা ভিন্ন বিষয়)। আল্লাহ মাটির উপাদানে আদম তৈরি করেছেন এবং আগুনের উপাদান থেকে জিন তৈরি করেছেন। এখানেও জোড়ার convergence রয়েছে, হিজড়া আদম জাতেরই একজন। হিজড়া ‘আলাদা’ বা ‘মধ্যবর্তী’ কোনো প্রজাতি নয় যারা নিজেরাই তাদের মধ্যবর্তিতার বংশ পরম্পরা বিস্তার করে। তাদের জন্ম নারী-পুরুষ থেকেই হয়। সুতরাং সার্বিকভাবে আপনার ধারণা মিথ্যা, উপলব্ধি ভুল। আপনি মনে মনে যা গড়েছেন তা’ই হচ্ছে আপনার ‘তাসের ঘর’। আল্লাহ বলেন, ‘যারা অবিশ্বাস করে (কাফির) তারা মিথ্যার সাহায্যে বিতর্ক করে যেন তার দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দিতে পারে’ (১৮/৫৬)। ‘নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে কুটিলতা অবলম্বন করে, তারা আমার কাছে গোপন নয়। যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে শ্রেষ্ঠ, না সে, যে কেয়ামতের দিন নিরাপদে আসবে’ (৪১/৪০)?
এখানে সততই আপনার বানোয়াট কথা মিথ্যা প্রমাণিত –আপনি আলোচনার বিষয়ই বুঝতে পারেন নি। কোরানের ৫১/৪৭ আয়াত সৃষ্টি-জগত সম্পর্কে যে তথ্য অ ধারণা দিচ্ছে তা অকাট্য, সত্য-সঠিক ও নির্ভুল।
-দুই-
আলোচনার মাইনর অংশ/অতিরিক্ত কথা ও মূর্খামি
আমি যদি কোন একটি বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে যাই, এবং তাতে যদি ভুলও থেকে যায়, তাহলে সেটি কি আল্লাহর সাথে “প্রতারণা” হয়ে যায়? আপনি খবিস প্রকৃতির লোক, এখানে কোনো “প্রতারণা” হয় না। আপনি ভাষা-জ্ঞান বিবর্জিত এবং যুক্তি বিবর্জিত মূর্খ।
আমার মন্তব্যে স্রষ্টার সৃষ্টির অপরাপর দিক উল্লেখ করেছি, পরিবর্ধিত অর্থে, জোড়ার অর্থ রদ (negate) করে নয়। জোড়ার ভিতরের বৈচিত্র্য ও সৃষ্টির ভিন্নতার কথা বলেছি, পরিপূর্ণতার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের উল্লেখ করেছি যেমন ফুলের উদাহরণ দিয়েছি, পঙ্গুর উদাহরণ দিয়েছি, হিজড়ার ব্যাখ্যা দিয়েছি। হিজড়া প্রসঙ্গ জোড়ার ধারণা রদ (negate) করতে পারে না বলেছি।
হিজড়া যেমন মধ্যবর্তী কোনো জীব নয়, ঈসাও নন, এরা মানুষ। ঈসা তো পুরুষও। ঘোড়া-মাছ নারী বা পুরুষত্বে রূপান্তরিত হতে হয় বলেছি, মধ্যবর্তী কোনো অবস্থা থেকে প্রজনন হচ্ছে না। এখানে জৈবিক/অজৈবিক binary রয়েছে। জিব্রাইল, মিকাইল বংশ বিস্তার করছেন না। They can be seen within the binary opposites of angelic beings against non-angelic beings. This scheme can extend to all bacterial and other living things characterised in ‘living and non-living beings’.
আপনি মতামত ‘চাপাবার’ কেউ নন, ‘পরিপূর্ণভাবে’ দূরে থাকুক। আপনার অবস্থানকে সঠিক বলে ‘দাবী’ করছেন না, একথাও সত্য নয়। আপনি সংশয়বাদী হয়ে কোরানে ‘অসঙ্গতি’ ‘দাবী’ করছেন। কিন্তু এতে, স্পষ্টত, সংশয়বাদীর ভাষা, ভাব ও বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিকোণ প্রকাশ পাচ্ছে না, পাচ্ছে নাস্তিকের। কোরানের ৫১/৪৯ আয়াতে আরও যে অর্থ ও ধারণা থাকতে পারে, অন্য অবস্থান থাকতে পারে, কোরানের অন্য আয়াতে এর সম্পূরক/বর্ধিত অর্থ থাকতে পারে, মুসলমানদের ব্যাখ্যার স্থান থাকতে পারে –আপনি সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে নাস্তিকদের ব্যাখ্যাই গ্রহণ করেছেন। এতে সংশয়বাদীর ভাষা ও বর্ণনাভঙ্গি স্থান পায়নি -আপনি সংশয়বাদী নন। নাস্তিক। But I have a gut feeling that you are a Hindu.
সংশয়বাদী হলে ‘নাস্তিক’ হন কীভাবে? নাস্তিকতায় যদি সংশয় থেকে গেল, তাহলে তো আপনি সংশয়বাদী। নিজ অবস্থানের সাংষর্ষিকতা বুঝার যোগ্যতা নেই কিন্তু নেমে গিয়েছেন কোরানের সংঘর্ষ পেতে! Hooray হোক অথবা দুর্গা দুর্গা, আপনি নিশ্চিতভাবে একজন ‘ঘোড়ার ডিম’ -‘সংশয়বাদী নাস্তিক’! ওরে বিনোদন! শুনেন, এর চেয়ে ‘সনাতনী নাস্তিক’ কথাটি অধিক সঙ্গতিপূর্ণ।
এম_আহমদ
মে ১৬, ২০১৫ at ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ ঘোড়ার ডিম
-এক-
আলোচনার মেজর অংশ
এখনে নতুন কী “বিশ্লেষণ” করলেন? এটা তো আগেরই “হিজড়া” প্রসঙ্গ। তাই না? আপনি আবার যদি সেটা অন্যভাবে উত্থাপন করতে চান এবং এটাই হয় আপনার ‘আরগুম্যান্ট’, তবে প্রথমে কি আপনার অর্থের স্থান ও পরিধি ডিফাইন করার প্রয়োজন হয় না?
অবস্থা হচ্ছে এই, ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক সাইটে কোরানের ৫১/৪৯ আয়াতকে সাংঘর্ষিক বলেছে। আপনি তাদের ভাষ্য নিশ্চিত বিবেচনা করে এখানে বিতর্ক জুড়েছেন। কিন্তু সব আলোচনায় নিয়ম থাকতে হয়, আলোচ্য বিষয়ে সম্যক ধারণা রাখতে হয়। নাস্তিক কি বলেছে, তা’ই কি হয়ে যাবে একমাত্র আলোচ্য কথা? কোরানে কী বলা হয়েছে, কোন আয়াতের কোন শব্দ কোন অর্থ প্রকাশ পাচ্ছে, তাৎপর্যগত ধারণা ও পরিধি কী –সেসব কী বিবেচনা করা হবে না? আপনি কি সেগুলো করেছেন? না। তাহলে মামার বাড়ী আসছেন নাকী?
আল্লাহ ‘সৃষ্টি’ বিষয়ের উপর কোরানে অনেক কথা বলেছেন। বলেছেন, তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যেভাবে ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি আরও বলেছেন যে সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন।
আপনার নাস্তিক-বিতর্ক হচ্ছে ‘জোড়ার’ বিষয় নিয়ে এবং এজন্য ৫১:৪৯ আয়াতকে নাস্তিক সাইট থেকে নির্বাচন করেছেন। আপনি ইংরেজির অনুবাদ উদ্ধৃত করেছেন। কোনো অনুবাদে শাব্দিক ও ব্যাখ্যাজাত বিভিন্ন পার্থক্য তুলে ধরা যায় না। তবুও জোড়ার অর্থে ‘mates’, ‘pairs’, ‘opposites’ (by Asad), ‘kinds’ (by Arberry) ইত্যাদি এসেছে। শব্দটি আরবিতে ‘যাওজ’ (زوج)। এর অর্থ একক বা সংকীর্ণ নয়। এটাকে ইংরেজি binary opposite হিসেবেও বুঝা যেতে পারে। জৈবিকের মোকাবেলায় অজৈবিক হতে পারে (animate/inanimate)। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ ও ব্যবহার প্রসারিত হতে পারে।
জোড়ায় দুটি পার্থক্যমূলক বস্তু বা ধারণা থাকতে পারে। জোড়ায় নারী/পুরুষের (gender specific) ধারণা থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। দিনে-রাতে জোড়া হতে পারে। ভাল-মন্দে জোড়া হতে পারে। আলো-আধারে জোড়া হতে পারে। ঈমান ও কুফুরিতে হতে পারে। ইহজীবন/পরজীবনে হতে পারে।
আপনার “বিশ্লেষণে” কি এসব এনেছেন? কোন ধারণায় অগ্রসর হয়ে কী করতে যাচ্ছেন তা কি দেখিয়েছেন, প্রতিষ্ঠা করেছেন? না। তাহলে, মূর্খের মত ‘তাসের ঘর’ ভাঙ্গার অত্যুৎসাহ দেখাচ্ছেন কেন? বিপীন বাবুর মাল কী পরিমাণ খেয়ে প্রায় ৬০০০ বাক্যের কোরানকে এক বাক্যেই কাঁত করতে চাচ্ছেন?
আপনার যুক্তি-তর্ক
আমি আপনার বিতর্ক যতটুকু বুঝতে পেরেছি তা হল আল্লাহ যদি সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করবেন, তবে “মানুষের মধ্যে হিজড়াও আছে তা কি আল্লাহ ভুলে গিয়েছিলেন??” সুতরাং কোরানে ভুল আছে এবং কোরান সাংঘর্ষিক।
আপনার এই যুক্তির প্রধান দুটি অংশ। একটি হচ্ছে জোড়ার শব্দার্থ কেন্দ্রিক এবং অপরটি হচ্ছে ‘হিজড়া’র সত্তাগত বাস্তবতা। হিজড়া যদি অস্তিত্ব জগতের বিপরীত বৈশিষ্ট্যের (of the binary opposites) বাইরের কোনো সত্তা হয় এবং এই সত্তা যদি আরবি ‘যাওজ’ বা জোড়ার ‘সকল’ ধারণা বহির্ভূত প্রমাণিত হয় তাহলে ‘অর্থ’ ও ‘বাস্তবতার’ মধ্যে অসামঞ্জস্যশীলতা দেখা যাবে এবং এতে করেই কোরানের আয়াত ভুল হয়ে পড়বে।
আপনার যুক্তি ও উপস্থাপন ভুল। উদাহরণও ভুল। হিজড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের বা জোড়ার বাহিরের কোনো অস্তিত্বশীল সত্তা নয়। সে/তারা জৈবিক প্রাণী। অজৈবিকের মোকাবেলায় তার জোড়া রয়েছে। হিজড়া দেহধারী প্রাণী। তাতে আত্মা ও দেহের সমন্বয় রয়েছে। এই দুয়েও জোড়া রয়েছে। (আপনি আত্মায় অবিশ্বাসী হলে সেটা ভিন্ন বিষয়)। আল্লাহ মাটির উপাদানে আদম তৈরি করেছেন এবং আগুনের উপাদান থেকে জিন তৈরি করেছেন। এখানেও জোড়ার convergence রয়েছে, হিজড়া আদম জাতেরই একজন। হিজড়া ‘আলাদা’ বা ‘মধ্যবর্তী’ কোনো প্রজাতি নয় যারা নিজেরাই তাদের মধ্যবর্তিতার বংশ পরম্পরা বিস্তার করে। তাদের জন্ম নারী-পুরুষ থেকেই হয়। সুতরাং সার্বিকভাবে আপনার ধারণা মিথ্যা, উপলব্ধি ভুল। আপনি মনে মনে যা গড়েছেন তা’ই হচ্ছে আপনার ‘তাসের ঘর’। আল্লাহ বলেন, ‘যারা অবিশ্বাস করে (কাফির) তারা মিথ্যার সাহায্যে বিতর্ক করে যেন তার দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দিতে পারে’ (১৮/৫৬)। ‘নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে কুটিলতা অবলম্বন করে, তারা আমার কাছে গোপন নয়। যে ব্যক্তি জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে সে শ্রেষ্ঠ, না সে, যে কেয়ামতের দিন নিরাপদে আসবে’ (৪১/৪০)?
এখানে সততই আপনার বানোয়াট কথা মিথ্যা প্রমাণিত –আপনি আলোচনার বিষয়ই বুঝতে পারেন নি। কোরানের ৫১/৪৭ আয়াত সৃষ্টি-জগত সম্পর্কে যে তথ্য অ ধারণা দিচ্ছে তা অকাট্য, সত্য-সঠিক ও নির্ভুল।
-দুই-
আলোচনার মাইনর অংশ/অতিরিক্ত কথা ও মূর্খামি
আমি যদি কোন একটি বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে যাই, এবং তাতে যদি ভুলও থেকে যায়, তাহলে সেটি কি আল্লাহর সাথে “প্রতারণা” হয়ে যায়? আপনি খবিস প্রকৃতির লোক, এখানে কোনো “প্রতারণা” হয় না। আপনি ভাষা-জ্ঞান বিবর্জিত এবং যুক্তি বিবর্জিত মূর্খ।
আমার মন্তব্যে স্রষ্টার সৃষ্টির অপরাপর দিক উল্লেখ করেছি, পরিবর্ধিত অর্থে, জোড়ার অর্থ রদ (negate) করে নয়। জোড়ার ভিতরের বৈচিত্র্য ও সৃষ্টির ভিন্নতার কথা বলেছি, পরিপূর্ণতার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের উল্লেখ করেছি যেমন ফুলের উদাহরণ দিয়েছি, পঙ্গুর উদাহরণ দিয়েছি, হিজড়ার ব্যাখ্যা দিয়েছি। হিজড়া প্রসঙ্গ জোড়ার ধারণা রদ (negate) করতে পারে না বলেছি।
হিজড়া যেমন মধ্যবর্তী কোনো জীব নয়, ঈসাও নন, এরা মানুষ। ঈসা তো পুরুষও। ঘোড়া-মাছ নারী বা পুরুষত্বে রূপান্তরিত হতে হয় বলেছি, মধ্যবর্তী কোনো অবস্থা থেকে প্রজনন হচ্ছে না। এখানে জৈবিক/অজৈবিক binary রয়েছে। জিব্রাইল, মিকাইল বংশ বিস্তার করছেন না। They can be seen within the binary opposites of angelic beings against non-angelic beings. This scheme can extend to all bacterial and other living things characterised in ‘living and non-living beings’.
আপনি মতামত ‘চাপাবার’ কেউ নন, ‘পরিপূর্ণভাবে’ দূরে থাকুক। আপনার অবস্থানকে সঠিক বলে ‘দাবী’ করছেন না, একথাও সত্য নয়। আপনি সংশয়বাদী হয়ে কোরানে ‘অসঙ্গতি’ ‘দাবী’ করছেন। কিন্তু এতে, স্পষ্টত, সংশয়বাদীর ভাষা, ভাব ও বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিকোণ প্রকাশ পাচ্ছে না, পাচ্ছে নাস্তিকের। কোরানের ৫১/৪৯ আয়াতে আরও যে অর্থ ও ধারণা থাকতে পারে, অন্য অবস্থান থাকতে পারে, কোরানের অন্য আয়াতে এর সম্পূরক/বর্ধিত অর্থ থাকতে পারে, মুসলমানদের ব্যাখ্যার স্থান থাকতে পারে –আপনি সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে নাস্তিকদের ব্যাখ্যাই গ্রহণ করেছেন। এতে সংশয়বাদীর ভাষা ও বর্ণনাভঙ্গি স্থান পায়নি -আপনি সংশয়বাদী নন। নাস্তিক। But I have a gut feeling that you are a Hindu.
সংশয়বাদী হলে ‘নাস্তিক’ হন কীভাবে? নাস্তিকতায় যদি সংশয় থেকে গেল, তাহলে তো আপনি সংশয়বাদী। নিজ অবস্থানের সাংষর্ষিকতা বুঝার যোগ্যতা নেই কিন্তু নেমে গিয়েছেন কোরানের সংঘর্ষ পেতে! Hooray বলা হোক অথবা দুর্গা দুর্গা, আপনি নিশ্চিতভাবে একজন ‘ঘোড়ার ডিম’ -‘সংশয়বাদী নাস্তিক’! ওরে বিনোদন! শুনেন, এর চেয়ে ‘সনাতনী নাস্তিক’ কথাটি অধিক সঙ্গতিপূর্ণ।
মিলন
মে ১৮, ২০১৫ at ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
“যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে করেছেন শয্যা
এবং আকাশকে ছাদ রূপে”(২:২২)
এটা আপনার লেখা আয়াত। এতোবড় ব্লগ নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। তাই একটা আয়াত নিলাম আপনার ব্লগ থেকে। আকাশকে ছাদ করেছেন আল্লাহ। প্রশ্ন হল, আদৌ কি আকাশ বলে কিছু আছে ভাই? মাথার উপরে ছাদের মত যা দেখি, তা কি আকাশ? নাকি দৃষ্টির একটা সীমানা? অনন্ত মহাশূন্যতার মাঝে আপনি আকাশ পেলেন কোথায় ভাই। কোরানের বাকারা সূরাতে এটাও বলা আছে যে, আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষন করান। আয়াত নাম্বারটা মনে নেই, নাই বলতে পারলাম না। প্রশ্ন হল, বৃষ্টি কি আকাশ থেকে হয়, নাকি মেঘ থেকে? মেঘ আর আকাশ কি এক?
বাস্তবে আমরা দেখি, যে অন্চলে গাছপালা বেশি, সে অন্চলে বৃষ্টি বেশি। যে অন্চলে গাছপালা নেই, সেখানে বৃষ্টিও নাই, যেমন সাহারা মরুভূমি। আল্লাহ যদি অাবহাওয়ার এই সিস্টেম জানত, তবে কি আবহাওয়া পরিচালনার দায়ভাব মিকাইল ফেরেসতার ঘাড়ে চাপাতো? যার মরুভূমি অন্চলে যাওয়া নিষেধ আছে, আর গাছপালা অন্চলে যেতে বলা হয়েছে?
Wings of Fire
মে ১৯, ২০১৫ at ২:৩৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মিলন দাদা,
দয়া করে নীচের লিংকে যান, গিয়ে অভিযোগ-8 এবং অভিয়োগ-9 এ চোখ বুলান। ঐখানে আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর বলা আছে।
http://www.shodalap.org/smraihan/154/
এম_আহমদ
মে ১৯, ২০১৫ at ৫:২৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@মিলন: তাহলে, আকাশ বলে কিছু নেই, যা আছে তা হল ‘দৃষ্টির সীমানা’? মহাশুন্যতাকে কি দৃষ্টির সীমানায় ধারণ করা যায় -না চোখ দিয়ে না যন্ত্র দিয়ে? যদি না যায়, তাহলে তা ‘দৃষ্টির সীমানা’ বলা যায় কেমনে? যে জিনিসের অন্ত নেই, ‘অনন্ত’, তার সীমা কোথায়? ওরে তানা-প্যাঁচানো ছানা, বিজ্ঞান আর যুক্তির নামে ‘দিশেহারা’ আনমনা! মানুষ ভাষায় বিভিন্ন বস্তুর বিভিন্ন নাম দিয়েছে। আপনি এখানে নিজের নাম ‘মিলন’ করেছেন –কিন্তু মানুষ কি ‘মিলন’ হয়? এক মেয়ের নাম কমলা। মেয়ে আবার কমলা হয় নাকি? মানুষ এক পরিধিকে আকাশ বলেছে, অন্য পরিধিকে মহাকাশ, ব্যাপৃত আলোচনায় প্রশস্ততা ও সংকীর্ণতায় ভিন্ন ভিন্ন বিশেষণে ধারণাকে প্রকাশ করে। আপনার মাথায় সমস্যা আছে। তাছাড়া মেঘ কি দৃষ্টি সীমায়/আকাশে থাকে না? আবহাওয়া জানলে সেক্ষেত্রে কাউকে দায়িত্ব দেয়া যাবে না? আপনি ডাক্তারে যান। যেসব বিষয় বুঝার ক্ষীণতম যোগ্যতা আপনার নেই, সেই সব জিনিস কে বা কারা আপনার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। সদালাপ আপনার উপযোগী স্থান নয়।
জাহাঙ্গীর
মে ২০, ২০১৫ at ৫:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এদের ইসলাম বিরোধিতার অন্যতম কারন হল এরা যা করতে চাই যেমন সমকামীতা,নারিদের বিনীদনেউপকরন বানানো ইত্যাদি যা ইসলাম বারন করে আর অন্য গুলো তেমন বাধা দেয় না।
রিজভী আহমেদ খান
মে ২১, ২০১৫ at ১১:৫২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ মিলন, উইকিপিডিয়া অনুসারে কুরআন সঠিক বলছে। আমার ব্লগটি আবার ভালো করে পড়ুন। আকাশের সংজ্ঞা আমি দিয়েছি।দেখুন ভালো করে।
An Atheist
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৫ at ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি একজন নন-মুসলিম। আমি বেশ কয়েক বছর যাবত নিজেকে নাস্তিক হিসেবে ভাবতে শুরু করছি। আমার নিজ র্ধমসহ বিভিন্ন র্ধম সম্পর্কে আমার জ্ঞান অত্যন্ত সামান্য। তবে এখন পর্যন্ত আমার কাছে ইসলাম র্ধমকেই সেরা মনে হয়। আমি মনে করি যদি সৃষ্টিকর্তা এবং ধর্ম যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে সেটা যথাক্রমে আল্লাহ এবং ইসলাম হতে পারে। তাই যখন সময় পাই ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন দিক ঘাটাঘাটি করি, যদিও তা অতি ক্ষুদ্র পরিসরে। জানার অনেক কিছুই আছে, তবে আমি চেষ্টা করছি আমার কিছু ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোন থেকে। যার মধ্যে অনেক কিছুর উত্তর পেয়েছি এবং কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর আমাকে কেউ দিতে পারেনি বা যার কাছে উত্তর আছে তার সানিধ্য পাইনি। তাই ভাবলাম এখানে শেয়ার করলে হয়তো সঠিক উত্তর পেতে পারি। আমার মূল প্রশ্নগুলো একটি বিষয় নিয়েই, যা আলোচনা করব তবে যেহেতু আমি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অনেককিছুই সঠিক জানি না। তাই কিছু আনুষংগিক প্রশ্ন এবং আমার জানামতে উত্তর দিয়ে শুরু করলাম:
১. আল্লাহ কর্তৃক সৃষ্ট মানুষের সকল আত্মা একই সময়ে এবং একই ভাবে তৈরী হয়েছে কিনা? উত্তর: হ্যা।
২. পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে প্রেরণের পূর্বে আত্মার কোনো দোষ-গুন আছে কিনা? উত্তর: না।
৩. মানুষের জন্ম, লিঙ্গ, পৃথিবীতে জন্মের স্থান, জীবন-যাপন এবং মৃত্যু আল্লাহ কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত কিনা? উত্তর: হ্যা।
৪. কে জাহান্নামে যাবে বা কে জান্নাতে যাবে এটা কি আল্লাহ কর্তৃক পুর্বনির্ধারিত? উত্তর: না।
৫. ইসলাম ধর্ম মতে কোনো নন-মুসলিম ব্যক্তির জান্নাতে যাবার সুযোগ আছে কিনা? উত্তর: না।
উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর ভুল হলে দয়া করে আমাকে সঠিক উত্তর জানার সুযোগ দিবেন।
এবার আসি আমার প্রশ্নের প্রসংগে:
আশা রাখি আপনারা আমার সাথে একমত হবেন যে পৃথিবীতে এখনোও এমন এমন যায়গা আছে যেখানে আধুনিক মানব সভ্যতা পৌছায়নি। যেখানে বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্টী বাস করে। সেখানে প্রতিনিয়ত জন্ম মৃত্যু ঘটছে। তারা তাদের প্রচলিত নিময় অনুযায়ী জীবন-যাপন করছেন এবং তারা তাদের প্রচলিত ধর্ম এবং সৃষ্টিকর্তার আরাধনায় জীবন পারি দিচ্ছে। কিন্তু তারা আল্লাহ নামে কোনো সৃষ্টিকর্তা এবং ইসলাম নামে কোনো ধর্ম আছে তা না জেনেই নন-মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করছে।
উপরোক্ত আলোচনার অংশ হিসেবে একটি গল্প বলছি- ধরুন আল্লাহ একই দিনে পৃথিবীতে দুইটি মানব শিশুর জন্ম দিলেন একটি মসজিদের ইমামের সন্তান হিসেবে এবং আরেকটিকে জন্ম দিলেন সেই সুদুর আমাজন জংগলের এক আদিবাসীর সন্তান হিসেবে। যেখানে একজন জন্মের শুরু থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত আল্লাহ ও ইসলামের পথে থাকার সুযোগ পেল অপরপক্ষে আরেকজন ইসলাম ধর্ম পালন তো দুরের কথা কখোনোই জানতে পারল না যে আল্লাহ নামে কোনো সৃষ্টিকর্তা এবং ইসলাম নামে কোনো ধর্ম আছে।
এখন আমার প্রশ্ন:
ক) আমার উপরোক্ত ১ ও ২ প্রশ্নের উত্তর যদি সত্যি হয় তাহলে কেন আল্লাহ ২য় আত্মার সাথে অবিচার করল? তাকে কেন আল্লাহর ইবাদত করা থেকে বঞ্চিত করল?
খ) আমার উপরোক্ত ৩, ৪ ও ৫ নং প্রশ্নের উত্তরের প্রেক্ষিতে ২য় আত্মা/মানুষটির কোনো দোষ না থাকলেও নন-মুসলিম হিসেবে তার যদি জান্নাতে যাবার কোনো সুযোগ না থাকে তাহলে এটা কি প্রমাণিত হয়না আল্লাহ তার জন্য আগে থেকেই জাহান্নাম ঠিক করে রেখেছেন?
দয়া করে বিজ্ঞ কেউ থেকে থাকলে নিদির্ষ্ট ভাবে সংক্ষিপ্ত যু্ক্তিসহকারে আমার উপরোক্ত প্রশ্নদুইটির উত্তর দিন। এবং দয়া করে কেউ আংশিক উত্তর দিবেন না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি উপরোক্ত প্রশ্নদুইটির সঠিক উত্তরই ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আমার বিশ্বাস গাঢ় করতে পারে।
দয়া করে আমার উপরোক্ত মতামত বা জিজ্ঞাসা কট্টরপন্থী ইসলামীরা নেগেটিভ ভাবে নেবেন না। কারণ আমি আগেই বলেছি আমি মনে করি যদি সৃষ্টিকর্তা এবং ধর্ম যদি সত্যি হয়ে থাকে তবে সেটা যথাক্রমে আল্লাহ এবং ইসলাম হতে পারে।
আরেকটি কথা, প্রকৃতপক্ষে আমি নিজেকে নাস্তিক "দাবি" করি না, "মনে করি"। আর নিজেকে নাস্তিক মনে করলেও আমি এখনো সকল ধর্মকে শ্রদ্ধা করি এবং আজীবন করব। কারণ আমি মনে করি ধর্ম না থাকলে পৃথিবীতে মানব জাতির অস্থিত্ব বিলিন হয়ে যাবে। ধর্মের কারণেই আমরা টিকে আছি। তাই আমি কখোনোই চাই না পৃথিবীতে নাস্তিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাক, আমি চাই সৃষ্টিকর্তা এবং ধর্ম সত্য বা মিথ্যে হোক সবাই এর প্রতি বিশ্বাস রাখুক।
সাদাত
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৫ at ৩:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আল্লাহতায়ালার দুইটি নীতি হচ্ছেঃ
১. আল্লাহ তায়ালা কারো ওপর সাধ্যাতিরিক্ত কাজের বোঝা চাপান না।
২. রাসূল না পাঠিয়ে আল্লাহ তায়ালা কাউকে শাস্তি দেন না।
যারা ইসলামের দাওয়াত না পেয়ে মারা গেছেন, এই দুই নীতিমালা অনুসারে তাদেরকে জাহান্নামে পাঠানো হবে না।
তবে কোন কোন হাদিস থেকে জানা যায় হাশরের ময়দানে তাদের কিছু পরীক্ষা করা হবে, যার ভিত্তিতে তাদের জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারিত হবে।
আর প্রথমে আপনি যে প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে নিজে দিয়েছেন, এগুলোর শেষের কয়েকটি তাকদির সম্পর্কিত। এ বিষয়ে নিচের লেখাটি পড়তে পারেনঃ http://www.shodalap.org/bngsadat/6856/
মাহফুজ
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৫ at ১০:৫১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
//যারা ইসলামের দাওয়াত না পেয়ে মারা গেছেন//
(১০:৪৭) আর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য একেকজন রসূল (সংবাদবাহক) রয়েছে। সুতরাং তাদের কাছে তাদের রসূল উপস্থিত হলে তাদের মাঝে ন্যায়ানুগ সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে, আর তারা জুলুম/ অন্যায়ের স্বীকার হবে না।
(১৬:৩৬) আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত (শয়তান, দেবতা, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করা) থেকে দূরে থাক। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে সংগতভাবেই বিপথগামিতা নির্ধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে।
(৩৫:২৪) আমি আপনাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি। এমন কোন সম্প্রদায় নেই যার মাঝে সতর্ককারী আসেনি।
যেহেতু উপরের আয়াতগুলোর শর্ত অনুসারে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মাঝে সতর্ককারী এসেছেন। সুতরাং ইসলামের (একমাত্র মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করার) দাওয়াত না পেয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে কি?
এম_আহমদ
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৫ at ৯:৩১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@An Atheist
-এক-
আপনি ও আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিত নিয়ে কিছু কথা
আপনি একজন নন-মুসলিম। বেশ কয়েক বছর যাবত নিজেকে নাস্তিক হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন। আপনার নিজ ধর্মসহ বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান অত্যন্ত সামান্য। তবে এই সামান্য জ্ঞানের ভিত্তিতেও ইসলাম ধর্ম আপনার কাছে সেরা মনে হয়েছে। আপনি এই চিন্তাও করেছেন যে যদি সৃষ্টিকর্তা এবং ধর্ম সত্যি হয়ে থাকে তবে সেটা যথাক্রমে আল্লাহ এবং ইসলাম হতে পারে। অধিকন্তু, যখন সময় পান, তখন অতি ক্ষুদ্র পরিসরে, ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন দিক ঘাটাঘাটি করেন।
এখানে ধর্ম সম্পর্কে আপনার জ্ঞান ‘সামান্য’ এই কথাটি এবং এর আনুষঙ্গিকতাকে আমি বিনয় অর্থে গ্রহণ করছি, না হলে গোটা বক্তব্য প্রাসঙ্গিকতা হারাবে।
আপনি কিছু বিষয় জানতে চান এবং এই জানার প্রেক্ষিতও তৈরি করেছেন। কিছু আনুষঙ্গিক প্রশ্ন রেখেছেন, তারপর নিজেই সেই উত্তর দিয়েছেন। তারপর, নিজ উত্তরকে সামনে রেখে পরবর্তী পর্যায়ে বাড়তি কিছু প্রশ্ন করেছেন এবং এসবের ভিত্তিতেই কিছু সিদ্ধান্তমূলক কিছু ধারণায় উপনীত হয়েছেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় আপনার নিজ প্রশ্নের উত্তর সঠিক হওয়ার উপর পরবর্তী বিষয়ও নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তাই আপনার প্রশ্নের প্রথম অংশগুলোকে আবার উৎসসহ বিবেচনা করতে অনুরোধ করব।
(১) প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে রূহের সৃষ্টি ও কাল নিয়ে। কিন্তু রূহের জগতে আত্মাগুলো কবে এবং কীভাবে আল্লাহ সৃষ্ট করেছেন এবং সেখানে তারা কতকাল কীভাবে অতিক্রম করল, এসবের সঠিক উত্তর কি কেউ দিতে পারবে? আবার, সর্বোপরি, সেই আত্মাগুলো ‘একই মূহুর্তে সৃষ্ট হল, না সেই অজানা অনন্তে তাদের আগপর হল’ –এসব কোন সঠিক সূত্রে অবগত হয়ে ‘একই সময়ের’ ধারণায় উপনীত হলেন? এবং, এই প্রশ্নটির সাথে মূল প্রশ্নের তাত্ত্বিক সংযুক্তিইবা কোথায়? তারপর, সকল আত্মা ‘একইভাবে’ (একই রূপে) তৈরি করেছেন –এটা কোন সূত্রে সুনিশ্চিত হলেন? সকল আত্মার রূপ ও স্বরূপ কি এক? আমরা মানুষ হিসেবে সকলের আকৃতিতে অনেকটা মিল দেখলেও তাতে কি ভিন্নতা নেই? প্রকৃতিতে কি ভিন্নতা নেই? আমরা সৃষ্টি জগতের similarity-এর যেসব বৈচিত্র্য এবং পার্থক্য লক্ষ্য করি সেগুলো কিসের দিকে ইঙ্গিত করে? আমি এই প্রশ্ন বিতর্কের জন্য করছি না বরং আপনার অনুসন্ধানের জন্য করছি, প্রশ্নের স্থানকে বর্ধিত করছি।
২. আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন, আত্মার দোষ-গুণ। রূহের জগতে আত্মাকে কি দোষ-গুণের আঙ্গিকে প্রশ্নভুক্ত করা যেতে পারে? প্রশ্নও ভুলও হতে পারে তাই আপনার এই প্রশ্নের প্রকৃতি পুনর্বিবেচিত হতে পারে। অধিকন্তু প্রশ্ন হয়ত এভাবেও হতে পারে যে আত্মাকে কি কেবল রূহের জগতে থাকার জন্য সৃষ্ট করা হয়েছিল, না সেই সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাকে ‘দোষ-গুণের’ জগতে প্রেরণের উদ্দেশ্যও ছিল? এ দিক থেকে যে কাজ ও যে স্থানের জন্য যাকিছু তৈরি হয়, তাতে কি সেই স্থান-কালের একটি প্রেক্ষিতও থাকতে পারে না?
৪। আপনার চতুর্থ প্রশ্ন: কে জাহান্নামে যাবে বা কে জান্নাতে যাবে এটা কি আল্লাহ কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত? উত্তর: না। এই স্থিরীকৃত সিদ্ধান্তে কিভাবে উপনীত হলেন? ইসলামে কি আরও উত্তর রয়েছে, দলিল প্রমাণ রয়েছে?
৫. ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর সাদাত ভাই দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আরও কথা থাকতে পারে, তবে আমি বিষয়টিকে উল্টোদিকে নিচ্ছি। মুসলমান বললেই কি সবাই বেহেস্তে চলে যাবে? বিষয়টি কি এমন যে বাহ্যিক জগতের মানবগোষ্ঠীকে ‘মুসলিম’ ‘নন-মুসলিম’ এই দুইভাবে বিভক্তিতে এনে প্রথম দলের সবাইকে জান্নাতে এবং দ্বিতীয় দলের সবাইকে জাহান্নামে দেয়া সুযোগ রয়েছে? কারা প্রকৃত মুসলিম? যারা ঈমানের ঘোষণা দেয় এবং নামাজ রোজা করে? মোনাফিকরাও তাই করে, কিন্তু তারা কাফিরদের চেয়েও হীন। জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে তাদের স্থান। মানুষের কর্ম, চিন্তা, তার নিজ ইচ্ছা/অনিচ্ছা এবং অপরের প্রভাব, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রভাব, জন্মগত ও পরিবারের প্রভাব, নাজুক প্রেক্ষিতে কোন কাজ করে ফেলার প্রবণতা –এসব বিষয়ের, পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে, বিবেচনার ভিত্তিতে কার বিশ্বাস ও কর্মের ব্যাপারে কে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? কার এত পরিব্যাপ্ত ও অন্তর্নিহিত জ্ঞান রয়েছে? কার কাছে এতসব জটিলতা বিবেচনার মানদণ্ড রয়েছে? কে এসবের সঠিক বিচার-বিবেচনা করতে পারেন? হয়তবা আপনি একমত হয়েও যেতে পারেন যে এসব বিচার কেবল আল্লাহ ছাড়া আর কেউ করার ক্ষমতা রাখেন না। বিচার কেবল সেখানেই হতে পারে, যেখানে প্রথম আদম সন্তান থেকে শেষ আদম সন্তান তাদের সকল কার্যক্রম নিয়ে হাজির হবে এবং সকল সমাজ ও গোষ্ঠীর উপর কালীন চিন্তা ও কর্মের ধারাবাহিক ও accumulative প্রভাব দেখার অবকাশ আসবে তখন, অর্থাৎ পরকালে।
উপরে যা বললাম তা আপনার নিজ প্রশ্ন ও নিজ উত্তরকে প্রেক্ষিতগত করার জন্য। আপনি যেহেতু আপনার বক্তব্যটি সবার উদ্দেশ্য করেছেন (যখন বলেছেন, ‘আশা করি “আপনারা” আমার সাথে একমত হবেন’), তাই এই সেটিকে বর্ধিত প্রেক্ষিতের অঙ্গনের আনার চেষ্টা করলাম। তবে, যদিও আমি জানি না যে আমি কট্টরপন্থী, না নরমপন্থি, তবুও আপনার মতামতকে ‘নেগেটিভ’ হিসেবে গ্রহণ করিনি।
-দুই-
আমার মনে হচ্ছে আপনার কাছে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। অনেক প্রশ্ন অজানাকে জানার। কিন্তু আমরা যে জগতে বাস করি সেখানে কি সকল প্রশ্নের উত্তর যায়? জ্ঞানের সব শাখার সব পণ্ডিতের কাছে গেলে কি দেখা যায় না যে তাদের নিজেদের অন্তরেও অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়েছে। জ্ঞান যতই বৃদ্ধি পায় গোল-পোস্ট (goal-post) ততই যেন সরতে থাকে। এই হচ্ছে এই জগতের প্রকৃতি। মানবজাতির সকল প্রশ্নের উত্তর ইসলামে নেই। এখানে সব প্রশ্ন দরজার বাইরে রেখে যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে সিজদায় নত হতে পারল অর্থাৎ আল্লাহতেই আত্ম-সমর্পণ করতে পারল, এবং এর পর, এই ধারায় তার আনুগত্যে চলার অনুভূতি পেল, সে’ই এই পথের সাধক হল। অনেক প্রশ্নের উত্তর সে এই সাধনার পথে পেয়ে যাওয়ার কথা। অনেক প্রশ্নের হয়ত কোন উত্তর নেই, কিন্তু প্রেক্ষিতগত অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। কাঁঠাল কি, এর রসের স্বাদ কীরূপ –এসব কথা বাক্যিক ব্যাখ্যায় কাউকে যতটুকু বুঝানো যাবে তার চেয়ে ভাল হতে পারে যদি তাকে কাঁঠাল খাওয়ার সুযোগ করে দেয়া যায়। এই জগতের অনেক বস্তু অভিজ্ঞতালব্ধ। অনেক সত্য যৌক্তিক ও ভাষিক নয় –বরং ধ্যানে উদ্ভাসিত হওয়ার। এই সূর্য –ওর কী কোনভাবে কোনো আত্মা থাকতে পারে? যদি একান্ত থেকেই যায় তবে আল্লাহ কী নিষ্ঠুর নন –এমন হাজারও ধরণের প্রশ্ন করতে পারি অথচ এই সৃষ্টির আদি-অনাদির জ্ঞান আমি ধারণ না করা সত্ত্বেও! এই দৃশ্যজগতের সবকিছুতে কেন কী হয়, কেন স্রষ্টা কী করেন, সেসমস্ত বিষয় কী আল্লাহ মানুষকে বুঝিয়ে দিতে হবে? সবকিছু বুঝিয়ে দিলে তবেই তিনি আনুগত্য পাবেন, আর না দিলে পাবেন না –তিনি কী কারো মুখাপেক্ষী? বরং যে ব্যক্তি তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে এবং সকাল সন্ধ্যায় তার ধ্যানে নিপতিত হয়, তার কাছেই তার প্রশ্ন রাখে এবং তার কাছ থেকেই ধৈর্যের সাথে পথ অবলম্বন করে, সে তার উত্তর “অনুভব” করে যায়, অথবা “বুঝে” ফেলে, অথবা কোন বই পুস্তকে পাঠ করে বুঝে নেয়ার সুযোগ হয়ে যায়। শেষেরটি আনন্দের দিক থেকে অত্যন্ত দুর্বল। এ পথে অনেক প্রশ্নের সমাধান হঠাৎ আল্লাহ মনের দিগন্তে উদ্ভাসিত করেন আর তা দেখে এক ব্যক্তি যেখানে যেভাবে আছে সেভাবেই সিজদায় অবনত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়। এই পথ সুদীর্ঘ but it’s rewarding.
ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। বিতর্কের জন্য কিছুই বলা হয়নি।
মাহফুজ
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৫ at ১১:০৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Mr. Atheist
অকপটে সত্য স্বীকার করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। অনেকের কাছে অপ্রিয় ঠেকলেও এরূপ সত্য প্রকাশের সৎ সাহস অনেককেই সত্যের নিকটে নিয়ে যেতে পারে। আশাকরি স্বচ্ছ ও নিরহংকার অন্তরে সত্যের সন্ধান ও শান্তির অন্বেষনে নিয়োজিত হলে আপনিও তাদেরই একজন হতে পারবেন।
আপনাকে আমন্ত্রণ-
১) আস্তিক-নাস্তিক ও বিশ্বাস প্রসঙ্গে
২) আল-কোরআনের দৃষ্টিতে মুরতাদ ও নাস্তিক
ফারুক
ডিসেম্বর ২৭, ২০১৫ at ৬:১৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার ৪ ও ৫ নং প্রশ্ন দুটির উত্তর হবে হ্যা। কোরান থেকে --
৭:১৭৯ আর আমি সৃষ্টি করেছি দোযখের জন্য বহু জ্বিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।
মুসলমান বংশপরম্পরায় হয় না। যে কেউ ইহকাল ও পরকালের প্রতিপালকের (রব্ব) প্রতি আত্মসমর্পন করে , সেই মুসলমান। মুলমামান লেবেল লাগালেই মুসলমান হয় না। নিজের জীবণ নিয়ে , সৃষ্টি নিয়ে ভাবুন। যদি আপনার মনে হয় সবকিছুই নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছে এবং সব কিছুই নিজে নিজে ঘটছে কোন প্রতিপালক ছাড়াই , এমনকি আপনার জীবণে যা কিছুই ঘটছে সেগুলো আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী ঘটছে , তাহলে আপনার জন্য নাস্তিকতা ঠিক আছে।
zaheer
আগস্ট ৯, ২০১৮ at ৮:৫৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কোন সুরার কোন আয়াতে পৃথিবীকে উট পাখীর ডিমের সাথে তূলনা করা হয়েছে?রেফারেন্স দিন।