«

»

May ১৪

মুক্তমনা “শিক্ষানবিস”কে ওপেন চ্যালেঞ্জ

সে লেখালেখি করে 'শিক্ষানবিস' নিকে, অথচ তার গুরুজী তাকে আদর করে 'মুহম্মদ' নামে ডাকে (তার আসল নাম নাকি 'খান মুহম্মদ')। বেশ কিছুদিন আগে এই শিক্ষানবিস ওরফে এক্স-ছাগু* বিবর্তনবাদ নিয়ে জাকির নায়েকের ৫ মিনিটের একটি বক্তৃতায় ২৮টি মিথ্যাচার বের করে জাকির নায়েকের মিথ্যাচার: প্রসঙ্গ 'বিবর্তন' শিরোনামে একাধিক ব্লগে একটি পোস্ট দেয়। এ পর্যন্ত সচলায়তন ব্লগে পোস্টটি হিট হয়েছে ১৬০৯৭ বার, লাইক মেরেছে ১৮০০ জন; মুক্তমনায় হিট হয়েছে ১২৭৩৪ বার, লাইক মেরেছে ৩৩৬ জন। এছাড়াও বিভিন্ন ব্লগ ও ফেসবুকে এই পোস্টটি বাংলা অন্তর্জাল জগতের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশীবার লিঙ্কায়িত হয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস। পাঠক নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, একজন এক্স-ছাগুও কতটা জনপ্রিয় হতে পারে! মূলত এই পোস্টের উপর ভিত্তি করে বাংলা অন্তর্জালে জাকির নায়েককে কতভাবে গালিগালাজ আর হেয় করা হয়েছে তার কোনো হিসাব নাই। সে নিজেও জাকির নায়েককে ছাগু, রামছাগল, অজ্ঞ, ভণ্ড, ধূর্ত, মিথ্যুক, ইত্যাদি বলেছে। তার এই লেখাটি প্রকাশ হওয়ার পর-পরই তাকে সেই বছরের "শ্রেষ্ঠ মুক্তমনা" খেতাবে ভূষিত করা হয়। একজন এক্স-ছাগুও "শ্রেষ্ঠ মুক্তমনা" হতে পারে! অন্যদিকে মুসলিমরা সব বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত রুগী, জঙ্গী, সন্ত্রাসী, ইত্যাদি। আইচ্ছা।

 

shikkhanobish1

shikkhanobish2

drnaik-on-volution

 

এবার খুব সংক্ষেপে আসল কথায় আসা যাক। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন মুসলিম হাজার হাজার দর্শকের সামনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৫ মিনিটের এক বক্তৃতায় (যে বক্তৃতার ভিডিও রেকর্ড করে ইউটিউব-সহ মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের কাছে বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে) ২৮টি মিথ্যাচার (প্রতি মিনিটে প্রায় ৬টি মিথ্যাচার) করতে পারেন বলে কেউ যদি দাবি করে তাহলে তাকে প্রথমেই বদ্ধ উন্মাদ ছাড়া অন্য কোনোভাবে সংজ্ঞায়িত করা যাবে না। কিন্তু 'শিক্ষানবিস' নামের এক বিশিষ্ট 'মুক্তমনা' নাস্তিক এই দাবি করেছে। তাহলে কী করা যায়? সে যেহেতু একজন মুসলিমকে চরমভাবে হেয় করে পোস্ট দিয়েছে, এবং মূলত সেই পোস্টের উপর ভিত্তি করে বাংলা অন্তর্জালে উনাকে গালিগালাজ আর হেয় করার ক্ষেত্র তৈরী করে দিয়েছে, সেহেতু তাকে মুসলিমদের সামনে এসে একে একে তার দাবিগুলো প্রমাণ করতে হবে। সে যেভাবে তার দাবিগুলো প্রমাণ করবে:

জাকির নায়েকের বক্তৃতা থেকে হুবহু উদ্ধৃতি দিয়ে তার নিচে বলতে হবে সেটি কেন মিথ্যাচার। এভাবে প্রথম কিস্তিতে বড়জোর ৩টি পয়েন্ট উল্লেখ করতে হবে, এর বেশী নয়। এরপর আমরা তার উপর মন্তব্য করব। এভাবে প্রতি কিস্তিতে ৩টি করে পয়েন্ট আসবে। তাকে প্রথম কিস্তিতে জাকির নায়েকের বক্তৃতা থেকে ৩টি মিথ্যাচার বের করে এখানে উপস্থাপন করার জন্য বলা হচ্ছে।

আগ্রহী পাঠক এই ফাঁকে জাকির নায়েকের সেই ভিডিও বক্তৃতাটি শুনে রাখতে পারেন-

 

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে 'মুক্তমনা' ভাইরাসে আক্রান্ত শিক্ষানবিস ওরফে এক্স-ছাগুর গালিগালাজের আরো একটি নমুনা দেখুন-

 

 

লক্ষ্য করুন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে আবশ্যিক কোর্স হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান। অথচ এর উপর ভিত্তি করে এই এক্স-ছাগুছানা নিজের ছাগুত্ব ঢাকার জন্য সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিকভাবে জাকির নায়েককে ছাগমনা ভাষায় গালি দিয়ে 'ছাগু' ট্যাগ পর্যন্ত করেছে। দৈনিক সমকালের পাতায় এই এক্স-ছাগুর নাম দেখুন-

 

(মুসলিমরা নাকি বিজ্ঞানের কিছুই বোঝে না, অথচ লিস্টে দেখা যাচ্ছে ৮০%-ই 'মুসলিম বিজ্ঞানী'!)

'মুক্তমনা' ভাইরাসে আক্রান্ত নির্বোধটা বলে কী!-

(হাতি-ঘোড়া গেল তল, এক্স-ছাগু বলে কত জল! ছাগমনা ধর্মে ধর্মান্তরিত না হলে বিজ্ঞানের নামে এমন ছাগলামি-মার্কা কথা সে কখনোই বলত না।)

*এই শিক্ষানবিস ওরফে খান মুহম্মদ একজন স্বঘোষিত এক্স-ছাগু (তার বাবা জামাতের একজন বিশিষ্ট নেতা, আর মা মহিলা জামাতের অত্যন্ত আবেগী ও নিষ্ঠাবান কর্মী)-

৯ comments

Skip to comment form

  1. 1

    ইমরান হাসান

    এই ভিডিওটার অনেকটাই ফরজারি বা এটা বানানো ভিডিও বলেই ধারনা করা হয়। কিন্ত এর পরেও জাকির নায়েককে ছোট করার জন্য এটাই তাদের কাছে একমাত্র অস্ত্র। একটা জিনিস অবাক লাগে যে একজন জাকির নায়েক যিনি কিনা এতদিনে কয়েকশ লেকচার দিয়েছেন আর কয়েক হাজার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তার মাত্র একটা প্রশ্নের উত্তরেই ভুলা পাওয়া গেল??? তো এটা কি তাঁকে একেবারেই ছোট করে নাকি তাঁকে আর বড় করে তুলে? কেননা এত হাজার হাজার বক্তব্যের মধ্যে জাস্ট একটা ভুল? বড় বড় স্কলারদেরও তো এত ভালো রেকর্ড নাই।

    1. 1.1

      এস. এম. রায়হান

      ভিডিওটা জাল না। কিন্তু ঐ এক্স-ছাগুটা চরম অজ্ঞতা আর প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এই ভিডিও থেকে ২৮টি মিথ্যাচারের লিস্ট করেছে, যদিও সে অন্য একটি ভিডিও থেকে নিজ ভাষায় লিখেছে।

  2. 2
    ফুয়াদ দীনহীন

    দুই-একটা পয়েন্ট ও বিবর্তনবাদ বিষয়ক মতবিরোধকে পুঁজি করে জাকির নায়েকের ২৮টি মিথ্যাচার বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর কতগুলি আবার উচ্চারণ ঘটিত ভুল। জাকির নায়েকের তো আরো ভিডিও আছে, সেখান থেকে মিথ্যা বের করে দিলেই পারেন। তা না করে, বা না করতে পেরে এই একখানা ভিডিও নিয়ে উনারা আসর বসিয়ে রেখেছেন।

  3. 3
    ভানু ভাস্কর

    ওরা মুসলিমদের নন্দঘোষ পেয়েছে।

  4. 4
    পাভেল আহমেদ

    আমি যতদূর বুঝেছি ডঃ জাকির নায়েকের কিছু ইংরেজিতে উচ্চারণগত ভুল রয়েছে এই ভিডিওতে। যেসকল বিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞদের নাম তিনি তার লেকচারের শেষের ৬-৭ মিনিটে উল্লেখ করেছেন তার কয়েকজনের নামের প্রথম অংশ বা দ্বিতীয় অংশের উচ্চারন করতে তিনি ভুল করেছেন। আবার কয়েকটা জায়গায় এমন সব ভুল ধরা হয়েছে যেগুলা শুনলেও হাস্যকর লাগে। এমন সব জায়গায় ভুল ধরাটা কোন বিবেক সম্পন্ন মানুষের কাজ হতে পারে না। আর জাকির নায়েকের ভুল ধরা ভিডিওটির বিরুদ্ধে আরও একটি ভিডিও বের হয়েছিল যেখানে ওদের বেশীরভাগ যুক্তিকেই ছুড়ে ফেলে দেওয়া গিয়েছে।

  5. 5
    mdmasumbillah

    “আর জাকির নায়েকের ভুল ধরা ভিডিওটির বিরুদ্ধে আরও একটি ভিডিও বের হয়েছিল যেখানে ওদের বেশীরভাগ যুক্তিকেই ছুড়ে ফেলে দেওয়া গিয়েছে।”

    ভাই পাভেল কি বলবেন সেই ভিডিওটা কোথায় পাবো?

  6. 6

    এই পোস্টের সাথে আগের প্রাসঙ্গিক একটি পোস্ট মার্জ করে আগেরটি মুছে ফেলা হয়েছে। আগের পোস্টের মন্তব্যগুলো নিচে কপিপেস্ট করা হলো।

    আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    হেঃ হেঃ মেডিকেলে বিবর্তনবাদ পড়ানো হয় না বলে ডাক্তাররা বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করে না। ভালো বলেছে। আসলেই, বিবর্তনবাদ নামক ব্রেইনওয়াশ টেকনিক সব জায়গাতেই অন্তর্ভূক্ত করার দরকার বৈকি। বিজ্ঞানের যুগে ডারউইনবাদ নামক অপবিজ্ঞানের চর্চা ভালই চলছে।

    আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    মেডিকেলে বিবর্তনবাদ পড়ানো হয় না কেন? আসলেই তো? আমার মনে হয় বিবর্তনবাদের ঘুরানো পেচানো কুযুক্তিগুলো ডাক্তারদের কাছে পরিবেশন করলে সম্ভাবনা আছে যে তারা এর পুরোটাই শুধু রিজেক্ট-ই করবে না বরং এর মুখোশ উন্মোচন করে ফেলবে। যেমন ধরুন, চোখের রেটিনাতে নিউরোণগুলো কেন উল্টো অবস্থায় আছে, বিবর্তনবাদীরা বললে এটা অসম্পূর্ণ ডিজাইন ডাক্তাররা বলবেন, চোখের কাজ সম্পাদনের জন্য অধিক ATP দরকার তাই রড ও কোণ গুলো এমনভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে যেন তারা সবার্ধিক সংখ্যক রক্ত সরবরাহ পেতে পারে। কেননা রেটিনার লেয়ারের ঠিক নিচের লেয়ারটিই করয়েড যেখানে রক্তনালীগুলো থাকে। এবার চিন্তা করে দেখুন, করয়েড যদি রেটিনার উপরে থাকত তাহলে রেটিনাতে আলোই পৌছতে পারত না! তখন কী অবস্থাটা হত?

    মোঃ মাছুম বিল্লাহ

    ব্লগের কথা বাদ দেন। বাস্তবে কখনো জিততে পেরেছে নাস্তিকরা?

    করতোয়া

    বেশীদূর যাবার দরকার নাই। এই সদালাপেই অনেক মুসলিম নামের ব্লগার আছেন যারা খুব সুক্ষ্মভাবে কোরআনের আয়াতের বিবর্তন করে বলার চেষ্টা করেন "কোরআন-এই" নাকি আয়াত আছে (৭.১১) খালাকা মানে সৃষ্টি করা বা বিবর্তন। তাকে জিজ্ঝাসা করেছি লাম জীবের বিবর্তন, বৃদ্ধি এবং খালাকা এই তিন শব্দের মধ্যে পাথৃক্য দেখাতে। উনি বার বার সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান। বিজ্ঞান দিয়ে কোরআনকে বোঝার চেষ্টা যারা করে তারাই বিবর্তন সম্পর্কে গোলক ধাঁধায় আছে আর যারা কোরআনের ত্বত্ত দিয়ে বিজ্ঞানকে বিশ্লেষন করে তারা সঠিক ভাবে বিবর্তনকে উপলব্ধি করতে পারে। হারুন ইয়াহিয়া এমনই একজন।

    স্রষ্টার সন্ধানে

    মেডিকেলে বিবর্তনবাদ না পড়ানো ভালো- নয়ত যে কটা বানর বিবর্তনবাদের ফাঁস থেকে বাদ পড়েছে, সে কটিকেও চিড়িয়াখানা পাওয়া যাবে না। সুন্দর পোস্ট, ধন্যবাদ জনাবকে

    করতোয়া

    মেডিকেলে বিবর্তনের উপর পড়াশুনার ব্যাবস্থা থাকাটা আমি দোষের কিছু দেখি না। আল্লাহ সোবহানা তালা যেহেতু তার সৃষ্টির মধ্যে কিছু প্রানীর বেলায় বিবর্তন এর বিষয় রেখেছেন যেমন প্রজাপতি জাতীয় প্রানী। কিন্তু আমার প্রশ্ন প্রজাপতির বিবর্তনকে কিভাবে কোন জ্ঞানে কিছু বুদ্ধিজীবি মানবের বেলায় এক করে দেখছে। যেখানে মানব দেহের পরিবর্তন হয় বৃদ্ধি ও ডেভেলপমেন্ট ফিলোসপির ভিত্তিতে। আল্লাহ সোবহানা তালা সবকিছুই প্রকৃতির মধ্যে রেখেছেন আমাদের পরীক্ষা করার জন্য আমরা কে কিভাবে দেখি। আমরা যখন প্রজাপতির যেভাবে বিবর্তন হয় তা দিয়ে মানুষ সৃষ্টির বিষয়টাকে দেখবো তখনই আমরা আল্লাহ’র দেয়া জ্ঞানের সুনির্দৃষ্ট সীমারেখা অতিক্রম করার অপরাধে অপরাধি হয়ে যাব। এই সহজ বিষয় অনুধাবন করা উচিৎ।

    আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    ভাই প্রজাপতির বিবর্তন হয় কি? বরং আমি তো জানি প্রজাপতির যে মেটামরফসিস হয় তা ডারউইনবাদের জন্য একটি নাইটমেয়ার।

    শামস

    হাহাহাহাহা………বড়ই বিচিত্র!

    সমকাল এর সাথেতো তাদের দেখি বিশাল খাতির। পেপারটার কাটতি কেমন?

  7. 7
    এস. এম. রায়হান

    বিবর্তন তত্ত্বের উপর জাকির নায়েকের '৫ মিনিটের বক্তৃতায় ২৮টি মিথ্যাচার' প্রসঙ্গে মুক্তমনা ব্লগার 'শিক্ষানবিস' ওরফে খান মুহম্মদকে প্রায় এক বছর আগে ওপেন চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছে। আজ পর্যন্তও তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। খুব সম্ভবত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে লাপাত্তাই হয়ে গেছে! অথচ মুক্তমনা হিন্দুত্ববাদীরা ছদ্মনামের আড়ালে ঠিকই এই মন্ত্র প্রচার করে বেড়াচ্ছে। নিচের মন্তব্যটা দেখুন-

    রবিবার, ২৫/০৫/২০১৪ -- ১৭:৩২ তারিখে আঃ হাকিম চাকলাদার বলেছেন

    হাহাহাহা,

    হযরত জাকির নায়েক বোজর্গ সাহেবের কথা আপনি বিশ্বাষ করলেন?

    এই বোজর্গের ৭ মিনিটের ভিডিওতে ২৮ টা ভূল আপাততঃ এখানে দেখেতে থাকুন-

    এরপর ইনসা-আল্লাহ আরো একটার পর একটা তার কেরামতি শুনতে পাবেন। তবে ততক্ষন একটু ধৈর্য ধরতে হবে

    http://mukto-mona.com/bangla_blog/?p=1034

    চিন্তা করেন পাঠক, হিন্দুত্ববাদীরা পারে না এমন কিছু মনে হয় নাই।

  8. 8
    আদনান

    জাযাকাল্লাহ খায়ির,

    মাশাল্লাহ! অসাধারণ একটি লেখা।আসলে যখন একজন মানুষ জনপ্রিয় হয়ে গেলে তখন তার সমালোচক অবশ্যই থাকবে।তবে মুক্তমনাদের দেবী তসলিমা নাসরিনকে যে ডঃ জাকির নায়েক ডিবেট ডেকেছিল এ নিয়ে কিন্তু হনুদের মুখ নড়ে না

Comments have been disabled.