বাংলা অন্তর্জালে যারা বিচরণ করেন তারা জানেন যে, আমরা (অনেকেই) দীর্ঘদিন ধরে বিবর্তন তত্ত্বকে যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল, অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক, ইত্যাদি প্রমাণ করে লেখালেখি করছি। আমাদের লেখাগুলো পড়লে যেকারো বুঝার কথা যে, এই লেখাগুলো তৈরি করতে প্রচুর পড়ালেখা, চিন্তাভাবনা ও কাঠখড়ি পোড়াতে হয়েছে। এই অবস্থায় কোনো মুসলিম দাবিদার যদি বিবর্তন তত্ত্ব সম্পর্কে না জেনে কিংবা বিবর্তন তত্ত্বের পক্ষে কোনো রকম লেখালেখিও না করে কোরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন যে, কোরআনে বিবর্তনবাদের পক্ষে আয়াত আছে - সেক্ষেত্রে সেটা হবে আমাদের জন্য চরম অবমাননাকর, এবং আমাদের এতদিনের সাধনা ও পরিশ্রমকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া।
এ প্রসঙ্গে কিছু নোট:
- আমরা যারা বিবর্তনবাদের যৌক্তিক সমালোচনা করে লেখালেখি করছি তাদের সকলেই সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের এবং উচ্চ শিক্ষিত। আমাদের কারো কারো পীয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক জার্নালে পেপারও আছে। তথাপি আপনারা কেন মনে করছেন যে, আমরা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত একটি তত্ত্বের বিরুদ্ধে এতদিন ধরে লেখালেখি করতে পারি? এটা তো আমাদের জন্যই অবমাননাকর, তাই নয় কি? না, আমরা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কোনো তত্ত্বের বিরুদ্ধে লেখালেখি করছি না। আমরা বরং বিজ্ঞানের মোড়কে একটি পেগ্যান মতবাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করছি। হিন্দু ও গ্রীক পৌরাণিক কাহিনীতেও বিবর্তনবাদের মতো অযৌক্তিক, অবাস্তব, ও হাস্যকর কিছু খুঁজে পাওয়া যাবে না।
- বিবর্তনবাদের মতো একটি কল্পকাহিনী-ভিত্তিক পেগ্যান মতবাদকে কোরআন দিয়ে ডিফেন্ড করা মানে কোরআনকে বরং অবমাননা করা, এবং সেই সাথে এই মতবাদকে জাতে তুলে দেওয়া। আপনারা কি হিন্দু ও গ্রীক পৌরাণিক কাহিনীগুলোকে কোরআন দিয়ে ডিফেন্ড করবেন? না করলে কেন নয়?
- "বিবর্তনের পথ ধরে" বইয়ের লেখকের যেখানে কোনো পিএইচডি বা বৈজ্ঞানিক জার্নালে কোনো পেপার পর্যন্ত নাই, সেখানে আমাদের মাস্টার্স ও পিএইচডি-সহ কারো কারো নিজ নিজ এরিয়াতে সবচে' ভালো জার্নালে একাধিক পেপার আছে। অভিজিৎ রায় সম্পর্কেও এই লেখা থেকে ইতোমধ্যে সবার জেনে যাওয়ার কথা। আর অভিজিতের অন্ধ পূজারী হোড়াশ মোল্লা, কাট মোল্লাদের হয়তো উল্লেখ করার মতো কিছুই নাই। এই লজ্জায় হয়তো তারা বছরের পর বছর ধরে লেঞ্জা লুকিয়ে মুসলিমদেরকে হেয় ও গালিগালাজ করছে। এই অবস্থায় আপনারা কেন মনে করছেন যে, অভিজিৎ, বন্যা, হোড়াশ মোল্লা, কাট মোল্লা'রা আমাদের চেয়ে বেশি বিজ্ঞান-প্রেমী হবে? ইট ডাজন্ট মেক সেন্স! বিবর্তনবাদকে আব্রাহামিক ধর্মের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিয়ে প্রচার করা না হলে এই মোল্লা-ঠোল্লা-পুরুতরা বিবর্তনবাদ নিয়ে এক মুহূর্ত সময় ব্যয় করতো কি-না সন্দেহ। এখানে কিছু নমুনা দেখুন। বাংলা অন্তর্জালে 'বিবর্তনবাদী'রূপী মোল্লা-পুরুতদের লেখাগুলো পড়ে দেখুন। ইসলাম ও মুসলিমদেরকে হেয় করা ছাড়া স্বতন্ত্র লেখা খুঁজতে গেলে লোম বাছতে কম্বল উজার হবে। ব্যতিক্রম ছাড়া তাদের প্রায় সকলেই কম-বেশি ইসলাম ও মুসলিম-বিদ্বেষী।
- দু-তিন বছর আগ পর্যন্তও বাংলা অন্তর্জালে বিনোদনবাদীদের যে প্রতাপ-প্রতিপত্তি ছিল, বিগত দু-তিন বছরে সেটা আর দেখা যায় না কেন? বিখ্যাত বিনোদনবাদীরা ধীরে ধীরে গর্তে লুকাচ্ছে কেন? অভিজিৎ ও বন্যা বিবর্তনবাদ নিয়ে কবে শেষ পোস্ট দিয়েছিল? বাংলা বিনোদনবাদীদের তাল্গাছবাদী পীরবাবা হোড়াশ মোল্লার কোনো পাত্তা নাই কেন? তাদের পরিবর্তে মাদ্রাসার তিন ক্লাস পড়ুয়া ছদ্মবেশী মোল্লা মুসলিমদেরকে বিজ্ঞান ও বিবর্তনবাদের উপর ছবক দিচ্ছে কেন?! বিবর্তনের ধারায় তাদের এই বিলুপ্তি নিয়ে আপনারা কখনো ভেবে দেখেছেন কি?
যাইহোক, ইসলামে বিশ্বাসী মুসলিম হয়ে যারা বিবর্তনবাদকে 'প্রমাণিত সত্য' হিসেবে বিশ্বাস করেন তাদের জন্য আলাদা করে এই ব্লগ খোলা হয়েছে। আপনারা যদি মনে করেন আমরা ভুলের মধ্যে আছি সেক্ষেত্রে আমাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় নিজেদের ভুলগুলো সুধরে নিতে হবে। বিশেষ করে যারা মনে করেন কোরআনে বিবর্তনবাদের পক্ষে আয়াত আছে তারা মন্তব্যের ঘরে আয়াতগুলোর উদ্ধৃতি-সহ যুক্তি দিয়ে বলেন, কেন সেই আয়াতগুলো বিবর্তনবাদের পক্ষে যায়। এখানে লজ্জা-শরমের কিছু নাই। খোলামেলা আলোচনা না হলে এ বিষয়ে অনেকেই বিভ্রান্তি ও অন্ধকারের মধ্যে থেকে যাবে। তবে দয়া করে অন্যের লেখার লিঙ্ক না দিয়ে যা বলার তা নিজে থেকেই বলবেন।

Shahriar
নভেম্বর ১৩, ২০১৫ at ৪:৪৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Well said..
Jajak-allah
সরোয়ার
নভেম্বর ১৩, ২০১৫ at ৭:১৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
-- সহমত। অনেকে মনে করতে থাকে হাজার হাজার বিজ্ঞানী বিবর্তনবাদকে সাপোর্ট করছে তাই এটি সূর্য উঠার মত সত্য! এজন্য অজ্ঞ মুসলিমরা (কুরআন ও বিজ্ঞানে) এটিকে সমর্থনের জন্য কুরআন হাদিস খুঁজে বেড়ায়। বিবর্তনবাদ একটি আইডিওলজি যেটি সিন্দাবাদের ভূতের মত বিজ্ঞানীদের উপর চেপে বসেছে। তাই এটি নিয়ে প্রশ্ন করে কেউ কেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্থ করতে চান না। এই সুযোগে বিবর্তনবাদ মৌলবাদীরা ফাঁকা ফিল্ডে গোল দেয়ার চেষ্টা করে।
কিংশুক
নভেম্বর ১৩, ২০১৫ at ৮:০৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ডারউইনিজমকে প্রমাণিত সত্য দাবি করা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ প্রতারণা যা বস্তুবাদী কমিউনিস্ট, আল্ট্রা সেকুলার, নব্য নাস্তিকরা মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছে। এমন অবাস্তব, সাধারণ যুক্তি, জ্ঞান, আইন বিরোধী, চরম অমানবিক জিনিস যাঁরা কোরআনে খুঁজে পান তারা আসলে ডারউইনিজম সম্পর্কে কোনরুপ গভীর পড়ালেখা, চিন্তা ভাবনা করেননি। তাঁরা প্রতারণার শিকার। এই একটি প্রতারণাকে বিজ্ঞানের নামে ব্যবহার করে কোটি কোটি মগজ ধোলাই নাস্তিক তৈরি করা হয়েছে। ধন্যবাদ এস এম রায়হান, শামস, সরোয়ার, আব্দুল্লাহ ভাইদের যাঁদের কল্যাণে এই প্রতারণার ফাঁদ থেকে বের হতে পেরেছি।
আতিকুল ইসলাম
নভেম্বর ১৩, ২০১৫ at ১১:৩৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই লেখাটা ভালো লাগল। সদালাপ এর সবাইকে আল্লাহ উত্তম পুরষ্কার দান করুন।
এম_আহমদ
নভেম্বর ২০, ২০১৫ at ২:১৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই ব্লগটি আরও আলোচনার দাবী রাখে বলে মনে করি। আমি উপরে একটি উদ্ধৃতি সংযোগ করলাম। হয়ত এখান থেকে আরও আলোচনা আসতে পারে। আলোচনার স্থান উদ্ধৃতি-চিহ্ন, এনবল্ডিং এবং ইটালিকস সংযোজনের মাধ্যমে অনেকটা নিরূপিত।
মিনহাজ
ডিসেম্বর ৮, ২০১৫ at ২:০৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিবর্তনবাদ হচ্ছে প্যাগান মতবাদ। এমন বিনোদনের দরকার ছিল। বিশ্বের শ্রেষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিবর্তন নিয়ে গবেষণা হয়, অজস্র গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে সায়েন্স জার্নালে।
এস. এম. রায়হান
ডিসেম্বর ৮, ২০১৫ at ১০:১১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হোড়াস মোল্লা-মার্কা বিনুদুন আজ বছরের পর বছর ধরে দেখে আসছি। একই বিনুদুন বারংবার দেখতে আর মজা পাওয়া যায় না। যে জীবনে হয়তো কোনো সায়েন্স জার্নাল পড়েও দেখেনি, সায়েন্স জার্নালে পেপার প্রকাশ করা তো দূরে থাক, সে আমাদের সামনে এসে সায়েন্স জার্নালের বুলি আউড়ায়। ব্যাপক বিনুদুন।
Monowar Bin Zahid
ডিসেম্বর ৯, ২০১৫ at ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই।
--
ধরুন আমি কোনো বিষয়ের উপর ‘এক্স’ নামক একটা মতবাদ প্রস্তাব করলাম। এখন কেউ যদি এটার বিরোধীতা করে তাহলে তাকে (১) এর বিপক্ষে যুক্তি-দলিল দেখাতে হবে এবং (২) এই বিষয়ের উপর আমার থেকে উত্তম কোনো মতবাদ প্রস্তাব করতে হবে।
--
সাধারণত আমরা এটাই করি। যেমন সরকার কোনো ভুল পদক্ষেপ নিলে আমরা যুক্তির মাধ্যমে সেটাকে ভুল প্রমাণ করি এবং এই কাজ করার জন্যে আরো একটি উত্তম পদক্ষেপের কথা জানাই।
--
তাহলে যদি আমরা ‘বিবর্তন বাদ’এর বিরোধীতা করি তাহলে এর বিপক্ষে আমাদের যুক্তি-প্রমাণ দেখাতে হবে এবং এই বিষয়ের উপর আরো কোনো উত্তম মতবাদ এর অবতারণা করতে হবে।
--
তাহলে (১) নং শর্ত আমরা পূরণ করলাম, কিন্তু (২) নং শর্ত কি আমরা পূরণ করছি? আমরা কি ‘প্রাণের উত্পত্তি’, ‘প্রাণের বিবর্তন’ ইত্যাদির উপর অন্য কোনো (উত্তম) মতবাদ উপস্থাপন করছি? যদি না করে থাকি তাহলে আমাদের এই বিরোধীতা করাটা কি যুক্তিক হতে পারে?
জানুয়ারি ১০, ২০১৬ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
একজন ইসলামিক স্কলারকে বিবর্তনবাদের বিপক্ষে কুর'আনের একটা আয়াত রেফারেন্স হিসেবে পেশ করতে দেখেছি। যদিও সেই ব্যাখ্যা আমি কোন তাফসিরের বইতে খুঁজে পাই নি। এটা হল সূরা রুমের ৩০ নাম্বার আয়াত যেখানে মহান আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন-
"তুমি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত কর। আল্লাহর প্রকৃতির অনুসরণ কর, যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই, এটা সরল দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।" (সূরা রুমঃ আয়াত ৩০)
এক্ষেত্রে "আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই" কথাটি দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে সেটাই প্রণিধানযোগ্য। তাফসির ইবনে কাসিরে "আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই" বলতে দ্বীন ইসলামকে বুঝানো হয়েছে। তবে সেই স্কলারটি বললেন যে, এর দ্বারা বিবর্তনবাদকে নাকচ করা হয়েছে। এবং এক আয়াত দিয়ে অনেক রকম অর্থ হতে পারে। আর ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হয়ে যায় নি।
এই আয়াতের অর্থ যদি সেটাই হয় তবে কুর'আন বিবর্তনবাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং রায়হান ভাইয়ের আলোচনার সাথে কুর'আনের কোন বিরোধ নেই।
মাহফুজ
জানুয়ারি ১০, ২০১৬ at ৩:৫৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মহান স্রষ্টা চাইলে সবই পারেন। তিনি চাইলে কি আমাদের মধ্যেই মাইক্রো কিংবা ম্যাক্রো লেভেলে আমুল পরিবর্তন ঘটাতে পারেন না?
Sura-Al-Insan, Verse (76:28)
Sahih International: We have created them and strengthened their forms, and when We will, We can change their likenesses with [complete] alteration.
Yusuf Ali: It is We Who created them, and We have made their joints strong; but, when We will, We can substitute the like of them by a complete change.
Shakir: We created them and made firm their make, and when We please We will bring in their place the likes of them by a change.
(৭৬:২৮) আমরা তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং মজবুত করেছি তাদের গঠন এবং আমরা যখন ইচ্ছা করব, তখন তাদের অনুরূপদের আমরা পরিবর্তন করে দেব আমুল পরিবর্তনে।
জানুয়ারি ১০, ২০১৬ at ৪:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@মাহফুজ
বলেছেন,
[মহান স্রষ্টা চাইলে সবই পারেন-
Sura-Al-Insan, Verse (76:28)
Sahih International: We have created them and strengthened their forms, and when We will, We can change their likenesses with [complete] alteration.
Yusuf Ali: It is We Who created them, and We have made their joints strong; but, when We will, We can substitute the like of them by a complete change.
Shakir: We created them and made firm their make, and when We please We will bring in their place the likes of them by a change.
(৭৬:২৮) আমরা তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং মজবুত করেছি তাদের গঠন এবং আমরা যখন ইচ্ছা করব, তখন তাদের অনুরূপদের আমরা পরিবর্তন করে দেব আমুল পরিবর্তনে।]
আপনার সাথে একমত প্রকাশ করছি যে, আল্লাহ চাইলে সব কিছুই করতে পারেন। তবে এখানে ব্যাপারটা একটু ভিন্ন রকম।
সূরা ইনসান, আয়াত নং ২৮শে মহান আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেন-
"আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং তাদের গঠন সুদৃঢ় করেছি। আমি যখন ইচ্ছা করবো তখন তাদের পরিবর্তে তাদের অনুরুপ এক জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করবো।"
এই আয়াতের তাফসির ৪ নাম্বার সূরার ১৩৩ নাম্বার আয়াত দিয়ে করা যায়। যেখানে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেন-
"হে লোক সকল! তিনি (আল্লাহ) ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে সরিয়ে অন্যদেরকে আনয়ন করবেন এবং এর উপর আল্লাহ পূর্ণ ক্ষমতাবান।"
আবার এই আয়াতের তাফসির ১৪ নাম্বার সূরার ১৯-২০ নাম্বার আয়াত দিয়েও করা যায়। যেখানে মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
"তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে সরিয়ে দিয়ে অন্য জাতি আনয়ন করবেন এবং ওটা আল্লাহর উপর মোটেই কঠিন কাজ নয়।"
এই আয়াত দ্বারা আল্লাহর সৃষ্টি পরিবর্তন বুঝায় নি। এর দ্বারা এটা বুঝা যায় যে, যখন কোন জাতি আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়, তখন আল্লাহ সেই জাতির স্থানে অন্য একটি জাতিকে প্রতিষ্ঠিত করেন। যেমনটি আল্লাহ মিশরীয় কিবতীদের উপর মুসা (আঃ)-এর মাধ্যমে বনী ইসরাঈলীদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এটাই তাফিসির ইবনে কাসিরের সারমর্ম।
সূরা রুমের ৩০ নাম্বার আয়াতে যেটা বলা হয়েছে- "লা তাবদীলা লী খলক্বিল্লাহ" অর্থাৎ আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। বরং এটাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
সূর্য পূর্ব দিকেই উদিত হয় এবং পশ্চিমে অস্ত যায়। বাংলাদেশেও মনে হয় তাই হয়। প্রত্যেকেই আল্লাহর বেঁধে দেওয়া নিয়মের মধ্যে চলছে। যেখানে কোন অসংগতি নেই। বিবর্তনকে যদি কুর'আন দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয় তবে ব্যাপারটা এরকম হবে যে, আমাদের আদি পিতা আদম (আঃ) এবং আদি মাতা হাওয়া (আঃ) কে এই প্রকৃয়ার মাধ্যমেই আসতে হবে। অথচ আল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আদম এবং হাওয়া মানুষ হিসেবেই পৃথিবীতে আগমণ করেছিলেন। কোন এককোষীয় জীব, অ্যামিবা, অ্যামাইনো এসিড কিংবা বানর হিসেবে নয়। [আদম মাটি থেকে, হাওয়া আদমের বাম পাঁজরের হাড় থেকে আর আদম সন্তান হয়েছে আদম এবং হাওয়া থেকে]
মহান আল্লাহ যখন ফেরেস্তাদের সাথে কথপকথন করছিলেন পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টির ব্যাপারে, তখন কি তিনি বলেননি যে, আমি পৃথিবীতে খলিফা (প্রতিনিধি) সৃষ্টি করবো? এককোষীয় জীব, অ্যামিবা, অ্যামাইনো এসিডকে কি আল্লাহর প্রতিনিধি বলা যায়?
আবার এটা যদি মেনেও নেওয়া হয় তর্কের ক্ষেত্রে তবে আপনাকে এও মেনে নিতে হবে যে, বিবর্তন মানুষকে অন্য প্রাণীতে রুপান্তরিত করবে। নাকি এ প্রর্যায়ে এসে বিবর্তন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছে?
নাস্তিক সম্প্রদায় বিবর্তনবাদকে কোন দিনই ছাড়বে না। তারা যে করেই হোক এটা প্রমাণ করার চেষ্টায় রত থাকবে যে, বিবর্তনবাদ সত্য। কেন বলেন তো?
কারণ তারা কোন সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী নয়। আর আপনি যখন কোন সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী হবেন না তখন আপনাকে অবশ্যই হয় এই সৃষ্টির একটা ব্যাখ্যা দিতে হবে নতুবা সৃষ্টিকর্তাকে স্বীকার করতে হবে। এখন যদি বিবর্তনবাদ ভুল প্রমাণীত হয় তাহলে নাস্তিকতার কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। এজন্য এই থিওরীকে তারা ফ্যাক্টের চাইতেও ফ্যাক্ট হিসেবে প্রমাণ করতে চাই। এটাই তাদের প্রাণ ভোমরা।
মাহফুজ
জানুয়ারি ১১, ২০১৬ at ১:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@Atik Israk:
আমি অন্যান্য তফরিরের প্রতি সম্মান রেখেই বক্তব্য দিতে চাই। যার জ্ঞান ও বোঝার ক্ষমতা যেমন তিনি তো তেমনি ব্যাখ্যা করবেন। আমি আমার জ্ঞান অনুসারে এই আয়াত দুটির মর্ম যেভাবে অনুধাবন করি-
নিচের আয়াতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি-
(৩০:৩০) তুমি একনিষ্ঠ ভাবে নিজেকে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। প্রকৃতি (fiṭ'rata-- স্বভাব/চরিত্র)), যার উপর আল্লাহ মানব সৃষ্টি করেছেন, যাতে আল্লাহর এ সৃষ্টির মাঝে কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সঠিক ধর্ম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।
যে প্রকৃতি অর্থাৎ স্বভাবে আল্লাহতায়ালা মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন, মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে আগমনের পর থেকে তাদের জন্য নির্ধারিত সেই প্রকৃতি বা স্বভাবের যে সৃষ্টিগতভাবে কোন পরিবর্তন হয়না, (৩০:৩০) নং আয়াতে সেটাই বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটাই সঠিক অর্থাৎ স্বাভাবিক ধর্ম, অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। ।
এবার (৭৬:২৮) নং আয়াতের বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করি-
(৭৬:২৮) আমরা তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং মজবুত করেছি তাদের গঠন এবং আমরা যখন ইচ্ছা করব, তখন তাদের অনুরূপদের আমরা পরিবর্তন করে দেব আমুল পরিবর্তনে।
১ম অংশ-- “আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এবং মজবুত করেছি তাদের গঠন ”
এখানে মহান স্রষ্টার সৃষ্টিকর্মের বিষয়ে বক্তব্য শুরু করা হয়েছে। তাঁর এই সৃষ্টি প্রক্রিয়া অত্যন্ত বিজ্ঞানময়। আর এই বিজ্ঞানময় প্রক্রিয়ার কোন ব্যতীক্রম হয়না। তবে এখানে সৃষ্টি প্রক্রিয়ার ধাপ সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়েছে। এই সৃষ্টিকর্মটি স্রষ্টার নিয়ন্ত্রণাধীন এবং তিনি তা একটি সিস্টেমের মধ্যে ফেলে দেন। প্রয়োজনে এই সিস্টেমের মধ্য দিয়েই পরিবর্তন সাধন করে যে তাদের গঠনকে মজবুত করা হয়ে থাকে অর্থাৎ এখানে তাঁর সৃষ্ট এই সৃষ্টির মাঝে গঠনগত পরিবর্তনের আভাস দেয়া হয়েছে। আবার তিনি চাইলে যে অন্যরকমও করতে পারেন তা পরের অংশে তুলে ধরা হয়েছে-
২য় অংশ- “আমরা যখন ইচ্ছা করব, তখন তাদের অনুরূপদের আমরা পরিবর্তন করে দেব আমুল পরিবর্তনে।”
অর্থাৎ মহান আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া তাঁর সৃষ্টির আমুল পরিবর্তন সাধন করার ক্ষমতা অন্য কারও নেই। প্রয়োজনে তিনি গঠনকে যেমন মজবুত করতে পারেন। তেমনি তিনি চাইলে একই সৃষ্টির মধ্য থেকে আমুল পরিবর্তন (complete change/ alteration) সাধন করে তাদের মাঝে ভিন্নতাও সৃষ্টি করতে পারেন এবং এই ভিন্নতা এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিতে পারেন যে তা সাময়িক নয়, বরং এক জেনারেশন থেকে আরেক জেনারেশন পর্যন্ত চলতে থাকবে।
সর্বজ্ঞ মহান স্রষ্টাই আসল খবর রাখেন। তিনি আমাদেরকে যতটা জানাতে চান, আমরা ততটুকুই জানতে পারি।