"Good and evil cannot be equal. Respond 'to evil' with what is best, then the one you are in a feud with will be like a close friend." [Qur’an 41:34]
ইসলাম ও মুসলিম-বিদ্বেষীদের অধিকাংশই বিজেপি-আরএসএস মানসিকতার সাম্প্রদায়িক-বর্ণবাদী এবং বাকিরা মূলত বাম-কম্যুনিস্ট হওয়া সত্ত্বেও তারা তাদের আসল পরিচয় গোপন করে 'মুক্তমনা', 'নাস্তিক', 'সেক্যুলার', ইত্যাদি পরিচয়ে লিখে। এই অভিনব কৌশলের সাথে বিজ্ঞানের মোড়কে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিশন্যারী স্ট্যাইলে প্রথম প্রপাগ্যাণ্ডামূলক লেখালেখি শুরু করেছিল অভিজিৎ রায়। অর্থাৎ 'নাস্তিক' ও 'মুক্তমনা' বলতে যা বুঝিয়ে অসচেতন লোকজনকে ঘোল খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, বাংলা অন্তর্জালে সে'রকম কেউ নেই বললেই চলে। বঙ্গাল 'নাস্তিক-মুক্তমনা'রূপী ইসলাম ও মুসলিম-বিদ্বেষীরা মূলত রাম-বাম'পন্থী মৌলবাদী। তবে তাদেরকে গালি বা হুমকি দিয়ে কোনোই লাভ নাই। আমি গালি, হুমকি ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার সম্পূর্ণ বিরোধী। তারা অবশ্য গালি বা হুমকিই আশা করে - যাতে করে রাতারাতি জনপ্রিয় হওয়া যায় কিংবা সুযোগ বুঝে উন্নত দেশে আশ্রয় নেওয়া যায় কিংবা গালি-হুমকিকে পুঁজি করে ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণাবাদকে 'জাস্টিফাই' করা যায়। অগামগারা প্রথম দুইটার 'সদ্ব্যবহার' করছে, আর তাদের পরম পূজনীয় গুরুজী অভিরায় 'সদ্ব্যবহার' করেছে তৃতীয়টার।
এবার একাধারে 'নাস্তিক-মুক্তমনা-সেক্যুলার-মানবতাবাদী-নারীবাদী-বিজ্ঞানমনস্ক-ইত্যাদি'রূপী তথা বহুরূপী অভিরায়ের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখা যাক। কোথাও কোনো শূটিং বা হামলার খবর প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে অভিরায় সেই ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তির 'ধর্মীয় পরিচয়' জানার চেষ্টা করতো!
উল্লেখ্য যে, এই শূটিং-এর পর ক্যানাডার কোনো মিডিয়াতেই সেই ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। তার নাম দেখেও তাকে মুসলিম বলে মনে হয় না। তার ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছিল সিএনএন মিডিয়াতে 'কনভার্টেড মুসলিম' হিসেবে! এজন্য অভিরায় কোনো সূত্র না দিয়ে চালাকি করে বলেছে, "একটা পেপার দেখলাম নিউজ করেছে…" তার অন্ধ পূজারীরা সমস্বরে বলেছে, "জ্বী গুরুজী! জ্বী প্রভুজী! আমরাও স্বচক্ষে সেই নিউজ দেখেছি! জ্বী! জ্বী! জ্বী!"
যাইহোক, অভিরায় যদি দেখতো সেই শূটিং বা হামলার সাথে কোনো অমুসলিম জড়িত আছে সেক্ষেত্রে সে না-জানার ভান করে গোবরের মধ্যে মাথা গুঁজে থাকতো। আর যদি দেখতো সেই শূটিং বা হামলার সাথে কোনো মুসলিম নামধারী জড়িত আছে সেক্ষেত্রে সে তড়িঘড়ি করে তাকে 'সহি মুসলিম' আখ্যা দিয়ে তার ঘাড়ে বন্দুক রেখে ইসলামকে একটি 'ভাইরাস' ও 'জঙ্গি-সন্ত্রাসী' ধর্ম প্রমাণ করার জন্য কুরআনের আয়াত কৌট করে পোস্ট দিয়ে তার রাম-বাম-নাস্তিক গ্যাং নিয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তো। এভাবেই সে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে 'জঙ্গি-সন্ত্রাসের সমার্থক' প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। অভিরায়ের মানসিকতার সাম্প্রদায়িক-বর্ণবাদীরা তো বটেই, এমনকি তার খৎনাধারী গ্যাং-এর সকলেই একই কৌশল প্রয়োগ করছে। তাদের আইডিগুলো যাচাই করলে যেকেউ ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন।
তবে মজার বিষয় হচ্ছে নর্থ আমেরিকাতে প্রতি বছর ডজন ডজন বা শত শত শূটিং-এর ঘটনা ঘটে- যেগুলোর সাথে কালেভদ্রে কোনো মুসলিম নামধারী হয়তো জড়িত থাকে। যেমন, ২০১৮ সালের মাত্র দেড় মাসে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে মোট ১৮টি স্কুল শূটিং-এর কোনোটাতেই কোনো মুসলিম নামধারী জড়িত ছিল না। [সূত্র] অথচ অভিরায় বলেছে-
যখনই এ ধরণের ঘটনা ঘটে, সেই একই গৎবাধা বুলি উঠে আসে মিডিয়ায় - 'ইহা সহি ইসলাম নহে', কিংবা 'ইসলামের সাথে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই' ইত্যাদি।
অর্থাৎ অভিরায়ের কথা অনুযায়ী সারা বিশ্বের ১০০% হামলা ও শূটিং-এর সাথে মুসলিমরা জড়িত! তা না হলে প্রতিটা ক্ষেত্রে মুসলিমরা 'ইহা সহি ইসলাম নহে' কিংবা 'ইসলামের সাথে সন্ত্রাসের কোন সম্পর্ক নেই' জাতীয় গৎবাধা বুলি আউড়াবে কেন, তাই না? অথচ বাস্তবে ৯৫% বা তারও বেশি শূটিং ও হামলার সাথে অমুসলিমরা জড়িত। [সূত্র] অভিরায় তার মুরিদদেরকে কতটা দাস-মনোবৃত্তির অগা-মগা-বোবা মনে করতো, ভেবে দেখুন!
তবে অভিরায়ের লীলাখেলার এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। পশ্চিম বঙ্গের কবীর সুমনের (ধর্মান্তরিত মুসলিম) শেয়ার দেয়া এক ফেসবুক পোস্টে ভারতের খাগড়াগড়ে বোমা বানাতে গিয়ে দু'জন নিহত হওয়ার ঘটনার সাথে একজন হিন্দুর নাম দেখে অভিরায় প্রচণ্ড ক্ষেপে যেয়ে কবীর সুমনের উপর চরম সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষপূর্ণ গ্যাং আক্রমণ চালিয়েছিল। সেই লেখায় খাগড়াগড় ঘটনা প্রসঙ্গে অভিরায় বলেছিল-
"আমি জানি, সন্ত্রাসীর কোন দেশ নেই, নেই কোন ধর্ম।"
এ মা! আজ এ কী শুনি! সারা রাত ধরে কিছু মুসলিম নামধারীর ঘাড়ে বন্দুক রেখে ইসলামকে একটি 'ভাইরাস' ও 'জঙ্গি-সন্ত্রাসী ধর্ম' প্রমাণ করে, সকালে উঠে খাগড়াগড় ঘটনার সাথে একজন হিন্দুর নাম দেখে অভিরায় এ কী বলেছিল?!? হিন্দুদের ক্ষেত্রে সন্ত্রাসীর কোনো দেশ-ধর্ম নেই!!! মনাদের সহি দেবতার লীলাখেলা বলে কথা! তার মুরিদরা কি দিনে দুপুরে তাদের সহি দেবতার এহেন ভণ্ডামীর কোনো প্রতিবাদ করেছে? প্রশ্নই আসে না! নরকের ভয় আছে না!
মনাদের সহি দেবতার আরেকটি পোস্ট দেখা যাক। ইরানে রেইহানে জব্বারি নামে একজন মুসলিম নারীর বিরুদ্ধে একটি হত্যার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়াই ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সেই ঘটনাকে পুঁজি করে অভিরায় নিম্নের পোস্ট'টি দেয়।
পয়েন্টস টু বি নোটেড: ১) রেইহানে জব্বারির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে; ২) তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে ইরানিয়ান আইনে, ইসলামী বা শারিয়া আইনে নয়; [সূত্র] ৩) সে নিজে একজন ইসলামে বিশ্বাসী মুসলিম। অথচ অভিরায় 'মাসী' সেজে এই ঘটনাকে পুঁজি করে বলেছে-
ধর্ম একটি ভাইরাস। এবং এই ভাইরাসের প্রধানতম শিকার হল নারীরা।
ইরানের এক ধর্ষককে হত্যা করায় ইসলামী শরিয়া মোতাবেক ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে ধর্ষিতা মেয়েটিকেই।
শরিয়া আইনে ধর্ষন প্রমাণ না করতে পারলে যে উলটে ধর্ষিতাকেই শাস্তি দেয়া হয়, তার উদাহরণ অজস্র।
ইসলামী আইনে ধর্ষণ প্রমাণ করার জন্য চার জন 'পুরুষ' চাক্ষুষ সাক্ষীর বিধান রয়েছে। কোরআনের সুরা নিসায় (৪:১৫) বর্ণিত আছে…
'ধর্ম' (কোন্ ধর্ম?) একটি ভাইরাস প্রমাণিত হয়ে গেছে! এর আগেও কতবার যে প্রমাণিত হয়েছে, তার কোনো হিসাব নাই! এই ভাইরাসের প্রধানতম শিকার হল নারীরা! আহ্! সাচ্চা 'নারীপ্রেমী' বটে - যার প্রথম স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে! যাকে বাংলাদেশের হিন্দু নারীদের অধিকার নিয়ে এক লাইনও লিখতে দেখা যায়নি!
পাঠক! মাত্র কয়েক লাইনের একটি স্ট্যাটাসে সে কতগুলো মিথ্যাচার করেছে, খেয়াল করেছেন? ১মত- সেই নারীর উত্থাপিত ধর্ষণের অভিযোগ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সেটি আসলে ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যা, ধর্ষণের অভিযোগ ছিল সাজানো। ২য়ত- তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে ইরানিয়ান আইনে, ইসলামী আইনে নয়। ৩য়ত- অভিরায় কোনো প্রমাণ ছাড়াই শারিয়া আইনের নামে মিথ্যাচার করেছে। ৪র্থত- সূরা নিসার ৪:১৫ আয়াতে বর্ণিত 'ব্যভিচার' প্রমাণ করার জন্য চার জন পুরুষ চাক্ষুষ সাক্ষীর বিধানকে সে 'ধর্ষণ'-এর নামে চালিয়ে দিয়ে কুরআনের নামেও দিনে দুপুরে ডাহা মিথ্যাচার করেছে! ইসলামে 'ব্যভিচার' প্রমাণ আর 'ধর্ষণ' প্রমাণ সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়। তার কোনো একজন পূজারীও তাকে মিথ্যাবাদী বলার সৎ-সাহস করা তো দূরে থাক, এমনকি নরকের ভয়ে তার মিথ্যাচারগুলো ধরিয়ে দেওয়ার সাহস পর্যন্ত পায়নি!
অভিরায়ের লেখা থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচার আর অপব্যাখ্যা উল্লেখ করতে গেলে শেষ হবে না। তবে সাচ্চা ধার্মিক অভিরায় কিন্তু ভুলেও কখনো নিজ ধর্মাবলম্বীদের কোনো ঘটনাকে পুঁজি করে সেই ধর্মের নামে ডাহা মিথ্যাচার করে ধর্মকে 'ভাইরাস' প্রমাণ করার চেষ্টা করেনি। তার পরিবর্তে বরং ভারতের খাগড়াগড় ঘটনার সাথে স্বধর্মীয় একজনের নাম দেখে অভিরায় বলেছিল, "আমি জানি, সন্ত্রাসীর কোন দেশ নেই, নেই কোন ধর্ম।" বুদ্ধিমানদের জন্য নাকি ঈশারাই যথেষ্ট।
যাইহোক, ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক-বর্ণবাদী অভিজিৎ গ্যাং-এর মিশন্যারী স্ট্যাইলে মিথ্যাচার-ঘৃণাবাদ চর্চার জবাবে গালি-হুমকি না দিয়ে মুসলিমদের বরং উচিত সঠিক তথ্য-উপাত্ত পরিবেশন করা। এই পোস্টে সূত্র-সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত সংযোজন করে রাখা হলো। অনেক বড় পোস্ট। সময় নিয়ে পড়তে হবে।
তথ্যভাণ্ডার-১
-যৌতুকের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার নারীকে আগুনে পুড়িয়ে কিংবা অন্য কোনোভাবে হত্যা করা হচ্ছে। একই কারণে নির্যাতিতা নারীর সংখ্যা হয়তো গুনে শেষ করা যাবে না। [সূত্র: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯] এই যৌতুক প্রথা এসেছে হিন্দুধর্ম থেকে। যৌতুক সন্ত্রাসের কারণে নারী হত্যা-নির্যাতনে স্বাভাবিকভাবেই হিন্দু পুরুষরা অনেক এগিয়ে থাকবে। বাকিরা এই কু-প্রথার শিকার।
-প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন কন্যাশিশুকে জন্মের আগে-পরে হত্যা করা হচ্ছে। এই কন্যাশিশু হত্যাযজ্ঞেও হিন্দু-অধ্যুষিত ভারত ও কম্যুনিস্ট-অধ্যুষিত চীনের স্থান সর্বাগ্রে। হিন্দুদের মধ্যে কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয় ধর্মীয় ও যৌতুক প্রথার কারণে। আর চীনে কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয় এক সন্তান নীতি ও কালচারাল কারণে। [সূত্র: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭]
-বাংলাদেশের হিন্দু নারীরা আজ পর্যন্তও তাদের পিতা ও স্বামীর সম্পত্তির কোনো অংশ পায় না। [সূত্র] প্রয়োজনে বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকারও তাদের নেই। এমনকি তাদের বিয়ের কোনো আইনি ভিত্তিও থাকে না। [সূত্র] যার কারণে তারা স্বামীর পরিবারে নির্যাতিত-নিপীড়িত হলেও স্বামীকে তালাক দিতে পারে না কিংবা নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয়ও নিতে পারে না। খুব সম্ভবত এই কারণেই 'মুক্তমনা' অভিরায়ের প্রথম স্ত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল!
-এই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও হিন্দু-অধ্যুষিত ভারতে বিধবাকে বিয়ে করার জন্য ২ লাখ রুপী পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে! [সূত্র] বিধবা প্রথার তাহলে কী সংস্কার হয়েছে, কে জানে! সত্যি বলতে, প্রথমে মুসলিম ও পরবর্তীতে বৃটিশদের চাপে পড়ে কাগজে কলমে কিছু আইন করা ছাড়া বাস্তবে হিন্দুদের মানসিকতার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। অথচ আজ থেকে চৌদ্দশ' বছর আগে ইসলামের নবী ২৫ বছর বয়সে ৪০ বছর বয়সী একজন বিধবাকে বিয়ে করে সেই নারীর আমৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সাথে দীর্ঘ ২৫ বছর কাটিয়েছেন। ইসলাম কতটা এগিয়ে, ভেবে দেখুন।
নোট: 'নাস্তিক-মুক্তমনা-নারীবাদী'রূপী ব্লগের ইতিহাসে উপরোল্লেখিত নারী-বিরোধী বিষয়গুলো নিয়ে একটি লেখাও আসেনি! তাছাড়া নারী ও কন্যাশিশুদের উপর এহেন হত্যাযজ্ঞের সাথে অভিগ্যাং ধর্মের কোনো রকম সম্পর্ক কিংবা 'বিশ্বাসের ভাইরাস' জাতীয় কিছুও খুঁজে পায়নি! তার পরিবর্তে তারা দেনমোহর প্রথা নিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে চরম বিষোদগার করেছে। কুরআনের একটি আয়াতে উল্লেখিত নারীদের 'এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি' নিয়ে মুসলিম নারীদের জন্য মায়াকান্না করেছে! মুসলিম নারীদের পোশাক নিয়ে ক্যারিকেচার করেছে। কথায় কথায় ইসলামকে 'ভাইরাস' বলেছে। ইসলামের ইতিহাসে উল্লেখিত আরব সমাজে কন্যাশিশু হত্যা নিয়ে তারা ব্যাপক 'প্রশ্ন-সংশয়' করেছে, যেখানে এই আধুনিক যুগেও ভারতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ কন্যাশিশুকে হত্যা করা হচ্ছে।
-২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা বিশ্বে ৩৬.৭ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভি (HIV) ভাইরাসের মতো মরণব্যাধি ভাইরাসে আক্রান্ত। এই সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। [সূত্র] পাশাপাশি আরো কিছু মরণব্যাধি ভাইরাসেও অনেকে আক্রান্ত, অনেক মানুষ মারাও গেছে। [সূত্র]
-প্রতি বছর ৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ধূমপানজনিত কারণে মারা যাচ্ছে। [সূত্র]
-প্রতি বছর ৩.৩ মিলিয়ন মানুষ অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে মারা যাচ্ছে। [সূত্র]
-২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৮.৮ মিলিয়ন মানুষ বিভিন্ন ক্যান্সারজনিত কারণে মারা গেছে। [সূত্র]
তাহলে দেখা যাচ্ছে যৌতুকের কারণে হত্যা, কন্যাশিশু হওয়ার কারণে হত্যা, এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে AIDS-এর কারণে মৃত্যু, ধূমপানজনিত কারণে মৃত্যু, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে মৃত্যু, বিভিন্ন ক্যান্সারজনিত কারণে মৃত্যু, ইত্যাদি কারণে প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন নারী-পুরুষ-শিশু মারা যাচ্ছে। অথচ 'নাস্তিক-মুক্তমনা' দাবিদার অভিরায় তার দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের লেখালেখির ইতিহাসে এই মিলিয়ন মিলিয়ন নারী-পুরুষ-শিশুর হত্যা-মৃত্যু নিয়ে একটি লাইনও ব্যয় করেছে কি-না সন্দেহ। অথচ পিএইচডি-ধারী অভিরায় তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করেছে ইসলাম ও ইসলামের নবীর বিরুদ্ধে মিশন্যারী স্ট্যাইলে মিথ্যা-বিদ্বেষমূলক লেখালেখিতে নেতৃত্ব দিয়ে। তার ছড়ানো 'আলো'য় আলোকিত হওয়া বেগুনমস্তিষ্ক পূজারীরাও একই কাজ করছে।
তথ্যভাণ্ডার-২
-১৫০০ থেকে ১৮০০ এই তিনশ' বছরে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়া-আফ্রিকা'র খ্রিস্টান-অধ্যুষিত দেশগুলোতে প্রায় দুই লক্ষ (২০০,০০০) নারীকে 'ডাইনী' আখ্যা দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে কিংবা বিভিন্ন অমানবিক পন্থায় হত্যা-নির্যাতন করা হয়, যেটি 'Witch-hunt' বা 'ডাইনী-শিকার' নামে পরিচিত। এটা করা হয় বাইবেলের উপর ভিত্তি করে যেখানে 'ডাইনী'দেরকে হত্যার কথা লিখা আছে। [সূত্র] তবে ইউরোপ-আমেরিকায় 'ডাইনী' হত্যা বন্ধ হলেও ভারতে হিন্দু ও আদিবাসীদের মধ্যে নারীদেরকে 'ডাইনী' অপবাদ দিয়ে মাঝে মাঝেই হত্যা করা হয়। এমনকি ছেলের হাত থেকে জন্মদাতা মা পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছে না! এটি আসলে একটি নারী-বিদ্বেষী চরম অমানবিক পেগ্যান প্রথা। [সূত্র: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬]
-হিন্দুদের ইতিহাসে হাজার হাজার নিরীহ নারীকে 'সতী' প্রথার নামে মৃত স্বামীর চিতার আগুনে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এমন অমানবিক ও বর্বর প্রথা মানব জাতির ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি নেই। [সূত্র: ১, ২, ৩, ৪]
-বর্ণপ্রথা তথা জাতিভেদ প্রথার কারণে হিন্দুদের মধ্যেই একটা অংশকে ব্রাহ্মণদের সেবাদাস (শূদ্র) বানিয়ে রাখা হয়েছে। তাছাড়া ভারতে 'দলিত' নামে একটি 'অচ্ছুত' সম্প্রদায়ও আছে। তারা এই একবিংশ শতাব্দীতেও অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করে। তাদের উপর বৈষম্যমূলক আচরণ-সহ মাঝে মাঝে হত্যা-নির্যাতনও চালানো হয়। [সূত্র: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০]
-এই আধুনিক যুগেও হিন্দুদের মধ্যে দেবদাসী তথা Prostitutes of god প্রথা চালু আছে!
-হিন্দুরা (সবাই না) হচ্ছে একমাত্র ধার্মিক, যারা 'অমুকের ফ্রীজে গো-মাংস আছে' কিংবা 'অমুকে গো-মাংস বহন করছে' কিংবা 'অমুকে গো-মাংস খাচ্ছে' জাতীয় গুজব ছড়িয়ে নির্মমভাবে মানুষ হত্যা করে। ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত গো-সন্ত্রাসীরা কমপক্ষে ২৩ জনকে হত্যা করেছে। নির্যাতন করেছে আরো অনেককে। [সূত্র: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮]
-হিন্দুরা (সবাই না) হচ্ছে একমাত্র ধার্মিক, যারা অহিন্দুদেরকে (এক্ষেত্রে মুসলিম) জোর করে "জয় শ্রী রাম" ও আরো অনেক কিছু বলতে বাধ্য করছে। কেউ না বলতে চাইলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে। এমনকি বৃদ্ধ মানুষকেও দাড়ি/কান ধরে চড়-থাপ্পর মারা হচ্ছে! [সূত্র: ১, ২, ৩, ৪]
-হিন্দুরা (সবাই না) হচ্ছে একমাত্র ধার্মিক, যারা দু'জন নারী-পুরুষের মধ্যে ভালোবাসাকে 'লাভ জিহাদ' আখ্যা দিয়ে একের-পর-এক মানুষকে কুপিয়ে হত্যা ও নির্যাতন করছে।
-হিন্দুরা (সবাই না) হচ্ছে একমাত্র প্রজাতি, যারা 'নাস্তিক-মুক্তমনা-সেক্যুলার-মানবতাবাদী-নারীবাদী-বিজ্ঞানমনস্ক-ইত্যাদি' সেজে নিজ ধর্মের হাজারো অমানবিক ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলোকে সাধ্যমতো চেপে যেয়ে একদিকে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিথ্যা-বিদ্বেষ'মূলক প্রপাগ্যাণ্ডা ছড়ায়, অন্যদিকে আবার তলে তলে নিজ ধর্মকে 'মহান' ও 'সহিষ্ণু' প্রমাণ করার চেষ্টা করে।
-হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা বাবরী মসজিদ ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞের সমতুল্য কোনো ঘটনা মুসলিম বিশ্বের কোথাও সংঘটিত হয়নি। দিনের আলোয় ও রাষ্ট্রীয় মদদে সেই হত্যাযজ্ঞে প্রায় তিন হাজার মানুষ (অধিকাংশই মুসলিম) নিহত হয়, আর আহত হয় আরো অনেকে। এই ঘটনার সূত্র নিষ্প্রয়োজন।
নোট: ব্যাপক হারে 'ডাইনী' হত্যা ও 'সতী' হত্যা যথাক্রমে খ্রিস্টান ও হিন্দুদের মধ্যে ইউনিক। অমানবিক বর্ণপ্রথা হিন্দু ধর্মে ইউনিক। বিশেষ একটি প্রাণীর মাংস খাওয়ার জন্য মানুষকে হত্যা-নির্যাতন করা হিন্দুদের মধ্যে ইউনিক। অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে অনুরূপ বা সমতুল্য কোনো অমানবিক প্রথার অস্তিত্ব নেই। এমনকি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান শাষিত অঞ্চলেও 'ডাইনী' হত্যা, 'সতী' হত্যা, অমানবিক বর্ণপ্রথা, অস্পৃশ্য প্রথা, বিধবা প্রথা, কিংবা কোনো প্রাণীর মাংস খাওয়ার জন্য কাউকে কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করা হয় না। গো-পূজা, লিঙ্গ-পূজা, বানর-পূজা, পাথর-পূজা, নেংটা সাধু-পূজা, ও গোমূত্র পানের মতো অসংখ্য কুসংস্কারের কথা না-হয় বাদই থাকলো। এদিক দিয়ে কিন্তু মোদি-যোগী-অভি-রা অসভ্য-বর্বর-অন্ধকার যুগেই পড়ে আছে। অথচ তারাই কি-না মুসলিমদেরকে কথায় কথায় 'সভ্য', 'মানুষ', ইত্যাদি হওয়ার ছবক দিচ্ছে! ব্যাপক বিনুদুন!
তথ্যভাণ্ডার-৩
-বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী বড় বড় গণহত্যাকারীদের লিস্টে যাদের নাম সর্বাগ্রে আছে তাদের সকলেই অমুসলিম। যেমন: জোসেফ স্ট্যালিন, মাও সেতুং, পল পট, হিটলার, চেঙ্গিস খান, ইত্যাদি। এদের প্রত্যেকেই মিলিয়ন মিলিয়ন নিরীহ মানুষ হত্যার জন্য দায়ি। অন্যান্য গণহত্যাকারীদেরও সকলেই অমুসলিম অথবা সেক্যুলার নাস্তিক। [সূত্র: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭]
-সারা বিশ্বে শীর্ষ ১০ জন সিরিয়াল হত্যাকারীর (Top Ten serial killers) মধ্যে কোনো মুসলিম নামধারী নেই। এমনকি সিরিয়াল হত্যাকারীর বিশাল বড় লিস্টে মুসলিম নামধারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। [সূত্র]
-ভারতে শীর্ষ ১৬ জন সিরিয়াল হত্যাকারীর মধ্যে কোনো মুসলিম নামধারী নেই। [সূত্র: ১, ২, ৩, ৪, ৫] তাছাড়াও দেশ অনুযায়ী সিরিয়াল হত্যাকারীর লিস্টে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে যেখানে মাত্র ১ জন ও ২ জন করে আছে, সেখানে ভারত থেকে আছে ১৫ জন। ভারতের এই ১৫ জন সিরিয়াল হত্যাকারীর মধ্যেও কোনো মুসলিম নামধারী নেই।
-এই সূত্র অনুযায়ী ২৫ জন অত্যন্ত কুখ্যাত গ্যাংস্টারের মধ্যে কোনো মুসলিম নামধারী নাই। তবে এই সূত্র অনুযায়ী ২৫ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন (৪%) মুসলিম নামধারী আছে।
-যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে শীর্ষ ২০টি গণবিধ্বংসী শূটিং-এর মধ্যে মাত্র ২-৩টির সাথে মুসলিম নামধারীরা জড়িত ছিল। [সূত্র]
-মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোতে সিরিয়াল হত্যাকারীর সংখ্যা অমুসলিম-অধ্যুষিত অনেক দেশের তুলনায় খুবই কম। [সূত্র] কারো বিশ্বাস না হলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মুসলিম-অধ্যুষিত 'মৌলবাদী-ধর্মান্ধ' দেশগুলোর সাথেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ক্যানাডা, ফ্র্যান্স, অস্ট্রেলিয়া, জ্যাপান, মেক্সিকো, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, ও ভারতের মতো অমুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোর তুলনা করে দেখতে পারেন। আমি নিশ্চিত যে, সাম্প্রদায়িক-বর্ণবাদীরা এই চরম সত্যের মুখোমুখি হয়ে লজ্জায় গোবরের মধ্যে মাথা গুঁজে থাকবে।
-কৃষ্ণের নেতৃত্বে ও তারই প্ররোচনায় আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে শুধুমাত্র কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ নিহত হয়। [সূত্র] আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে একক কোনো যুদ্ধে এতো মানুষ হতাহতের আর কোনো প্রমাণ আছে কি-না সন্দেহ। কাজেই সময়ের প্রেক্ষাপটে বিচার করলে অন্য যেকোনো যুদ্ধের তুলনায় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে সম্ভবত সবচে' বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এই ধর্মের ইতিহাসে আরো অনেক যুদ্ধ ও হতাহতের কথা না-হয় বাদই থাকলো। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের নায়ক ও যোদ্ধা কৃষ্ণকে হিন্দুরা 'মানবরূপী ঈশ্বর' হিসেবে বিশ্বাস করে। সেই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের উপর ভিত্তি করেই রচিত হয়েছে মহাভারত, আর গীতা হচ্ছে মহাভারতের একটি অংশ। বর্তমান হিন্দুদের কাছে গীতা (তাদের ঈশ্বর কৃষ্ণের বাণী) হচ্ছে সবচে' পবিত্র ও জনপ্রিয় ধর্মগ্রন্থ। গীতাকে যুদ্ধের একটি ম্যানুয়্যাল বললে মোটেও ভুল কিছু বলা হবে না। তাছাড়া কৃষ্ণের ষোল হাজারেরও বেশি স্ত্রী ছিল। [সূত্র] মানব জাতির লিখিত ইতিহাসে এতো বেশি স্ত্রী অন্য কারো ছিল না।
-সম্রাট অশোকের নেতৃত্বে আজ থেকে প্রায় ২৩০০ বছর আগে কলিঙ্গ যুদ্ধে লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়। তাছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাযজ্ঞ ও সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আছে। সম্রাট অশোকের পাঁচ জন স্ত্রী ছিল। [সূত্র: ১, ২, ৩] বৌদ্ধদের কাছে সম্রাট অশোক প্রায় পূজিত একজন গুরু।
-মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর নেতৃত্বে আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে সবগুলো যুদ্ধে উভয় পক্ষের মাত্র এক হাজার মানুষ নিহত হয়। [সূত্র] অর্থাৎ প্রতিটা যুদ্ধে গড়পড়তা উভয় পক্ষের কতিপয় মানুষ নিহত হয়েছে। তার মানে মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর নেতৃত্বে যুদ্ধগুলো যে মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে ছিল না, সে বিষয়ে কোনোই সন্দেহ নেই।
-আদালতে প্রমাণিত কিংবা একাধিক জাতীয়-আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে প্রকাশিত বড় বড় যৌন কেলেঙ্কারি, নারী ধর্ষণ, ও শিশুদের উপর ব্যাপক হারে যৌন নির্যাতনের সাথে জড়িতদের প্রায় সকলেই হিন্দু ও খ্রিস্টান। চিন্তার বিষয়ই বটে! খ্রিস্টান ধর্মগুরুদের অনেকে শিশুদের উপর ব্যাপক হারে (হাজার হাজার) যৌন নির্যাতনের জন্য জড়িত। [সূত্র: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪] আর জনপ্রিয় হিন্দু ধর্মগুরুদের অনেকে যৌন কেলেঙ্কারি ও নারী ধর্ষণের সাথে জড়িত। [সূত্র: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮]
-খ্রিস্টান ধর্মযাজকগণ কর্তৃক শিশুদের উপর ব্যাপক হারে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০১৭ সালের শেষ দিকে এসে অবশেষে বাধ্য হয়ে গির্জার পাদ্রীদের বৈরাগ্য গ্রহণকে বাধ্যতামূলক স্তর থেকে স্বেচ্ছাপ্রসূত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে! [সূত্র] অথচ আজ থেকে চৌদ্দশ' বছর আগে কুরআনে বৈরাগ্যকে নিষেধ করা হয়েছে। এক্ষেত্রেও ইসলাম কতটা এগিয়ে।
-মানুষকে হত্যা করার যত রকমের নৃশংস, ভয়ংকর, অমানবিক ও অতি নিষ্ঠুর শাস্তি বিভিন্ন সমাজে প্রচলিত ছিল সেগুলোর সবই পৌত্তলিক তথা হিন্দুদের উদ্ভাবন। [সূত্র: ১, ২, ৩, ৪] (নোট: খাঁটি মুক্তমনারা ইসলাম-পূর্ব আরব ও ইউরোপের পৌত্তলিকদেরকে 'হিন্দু' বলে। সেই সাথে তারা মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর পিতা-মাতাকেও 'হিন্দু' এবং তাঁদের ধর্মকে 'হিন্দু ধর্ম' বলে। একই সাথে তারা কাবা ঘরকে 'হিন্দুদের প্রধান মন্দির'ও বলে। এই দাবিগুলো আসলে ভারতীয় শিবসেনাদের। তারা ভ্যাটিক্যান সিটিকেও 'হিন্দু মন্দির' বলে এবং ভ্যাটিক্যান সিটির সাথে তারা শিব লিঙ্গের সম্পর্কও খুঁজে পেয়েছে! [সূত্র] অর্থাৎ শিবসেনাদের সাথে খাঁটি মুক্তমনাদের কোনো পার্থক্য নাই। ইট'স আ ফ্যাক্ট। নিচে দেখুন।)
(আইডি'টা দেখে কারো বুঝার উপায় নাই যে, এই আইডির আড়ালে আছে অভিরায়ের স্বগোত্রীয় কোনো এক সাম্প্রদায়িক-বর্ণবাদী - যে কি-না আবার অভিনব পন্থায় নিজেকে 'মুসলিম নাস্তিক' (?) দাবি করে লিখছে!)
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি ভারতে আফরাজুল নামে খেটে খাওয়া এক নিরীহ মুসলিমকে একা পেয়ে শম্ভুলাল রেগার নামে একজন হিন্দুত্ববাদী (পৌত্তলিক) তাকে পেছন থেকে আঘাত করে কোপানো শুরু করে। কোপের আঘাত খেতে খেতে আর বাঁচার জন্য কাকুতি-মিনতি করতে করতে এক পর্যায়ে যখন সেই মানুষটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে, কিন্তু তখনো মারা যায়নি, তখন শম্ভুলাল তার গায়ে গ্যাসোলিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিয়ে পৈশাচিক পন্থায় তার হত্যা নিশ্চিত করে। সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টও করা হয়। কোনো মানুষের পক্ষে একবারে পুরো ভিডিওটা দেখা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। যাদের সাহস আছে তারা এখানে থেকে দেখতে পারেন। এভাবে কাউকে পৈশাচিক পন্থায় ও তিলে তিলে হত্যা করা হচ্ছে পৌত্তলিক তথা পেগ্যান পন্থা।
নোট: 'মুক্তমনা-নাস্তিক'রূপী বর্ণবাদী অভিগ্যাং-এর লেখালেখিতে ভুলেও কখনো উপরোল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো উল্লেখ করা হয় না। কেননা তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে হিটলারের গোয়েবলসীয় পন্থায় মিথ্যাচার আর প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ইহুদীদের পর মুসলিমদেরকে সকল ক্ষেত্রে 'বলির পাঁঠা' বানানো।
তথ্যভাণ্ডার-৪
-প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির লুন ওয়াচ (Loon Watch) এফবিআই ডেটাবেজ অনুযায়ী ১৯৮০-২০০৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলার একটি গ্র্যাফ (পাই চার্ট) তৈরি করেছে। সেই গ্র্যাফ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে মোট সন্ত্রাসী হামলার মাত্র ৬%-এর সাথে মুসলিম নামধারীরা জড়িত। একই পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইউরোপে মাত্র ১% সন্ত্রাসী হামলার সাথে মুসলিম নামধারীরা জড়িত। [সূত্র]
-এই সূত্র অনুযায়ী ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে মোট ২০৭টি ম্যাস শূটিং-এর মধ্যে মাত্র ১টির সাথে একজন মুসলিম নামধারী জড়িত ছিল।
এই যখন দিনের আলোর মতো বাস্তবতা তখন অভিরায় আর তার মানসিকতার বর্ণবাদীরা কী প্রচার করেছে এবং এখনো করে যাচ্ছে, সেটা অনেকেরই জানা। তারা সারা দুনিয়ার সকল সন্ত্রাসীকে 'সহি মুসলিম' বানিয়ে দিয়ে ইসলামকে একটি 'ভাইরাস' ও 'জঙ্গি-সন্ত্রাসী ধর্ম' হিসেবে প্রচার করেছে। অভিরায়ের মানসিকতার দু'জন বর্ণবাদীর সাম্প্রতিক দুটি মন্তব্য দেখা যাক-
এই দু'জনই ইসলাম ও মুসলিম-বিদ্বেষী বর্ণবাদী, ১মটা ফেইক আইডি। ১ম জনের দাবি অনুযায়ী ৯৯.৯৯% সন্ত্রাসী হামলার সাথে মুসলিমরা জড়িত! অভিরায় বলেছে ১০০%! ১০০টা ঘটনার মধ্যে ৯৯টা নাকি 'নারায় তকবির' দিয়ে শুরু হয়! সে প্রতিবারই নিজ কানে 'নারায় তকবির' ধ্বনি শুনেছে! আর ২য় জনের দাবি অনুযায়ী ইউরোপ আমেরিকার অধিকাংশ সন্ত্রাসী হামলার সাথে মুসলিমরা জড়িত! বর্ণবাদী অভিগ্যাং-এর যুক্তিগুলো নিম্নরূপ-
আমাদের বর্ণবাদী মিডিয়াতে যে'সকল হামলা কিংবা শূটিং-এর খবর প্রচার করা হয় সেগুলোর শতভাগের সাথে সহি মুসলিমরা জড়িত। কাজেই সারা বিশ্বের ১০০% হামলা ও শূটিং-এর সাথে সহি মুসলিমরা জড়িত। অতএব, ইসলাম একটি ভাইরাস ও জঙ্গি-সন্ত্রাসী ধর্ম। প্রমাণিত!
এরা দিনে দুপুরে অভিরায়ের খৎনাধারী পূজারীদের সামনে এহেন মিথ্যাচার করেও সমর্থন পায়। এরা দেশে থাকতে নিজেদেরকে 'সংখ্যালঘু' দাবি করে মায়াকান্না করে, আর দেশের বাইরে পা দিয়েই সেইসব দেশের রাইট-উইং সংখ্যাগুরুদের সাথে যোগ দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিরোধীতা শুরু করে দেয়। মজার বিষয় হচ্ছে এই বর্ণবাদী গ্যাং আর অভিরায়ের সৃষ্ট খৎনাধারী গ্যাং সব জায়গায় এক ঘাটে গোমূত্র পান করে মুসলিমদের লক্ষ্য করে থুথু ছিটায়! এদের দূর্গন্ধযুক্ত থুথু ছিটানো দেখে কে বর্ণবাদী আর কে খৎনাধারী, সেটা বুঝার কোনো উপায় থাকে না! যে কাজ স্বয়ং হিন্দুত্ববাদের জনক সাভারকার (নাস্তিক) কিংবা স্বামী বিবেকানন্দের মতো জাঁদরেল ধর্মগুরুও করে যেতে পারেনি, সেই কাজ অভিরায় করে দেখিয়েছে - বর্ণবাদী আর খৎনাধারীদেরকে এক ঘাটে গোমূত্র পান করিয়ে! বিজ্ঞানের নামে অভিরায়ের 'ঘর ওয়াপসি' মিশনের দ্বারা ধর্মান্তরিত (খৎনাধারী) মুরিদের তালিকায় দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-অধ্যাপক থেকে শুরু করে অনেক পিএইচডি-ধারী ও মাস্টার্স-ধারী পর্যন্ত আছে! - যাদের মধ্যে অধিকাংশই আবার অভিয়ারদের ভাষায় 'বামাতী', 'বামছাগল', 'লালছাগু', 'ভাম', 'এক্স-ছাগু', ইত্যাদি! অথচ স্বামী বিবেকানন্দের মতো বিখ্যাত ধর্মগুরুরও কোনো খৎনাধারী পূজারী ছিল না! এক্ষেত্রে অভিরায় হচ্ছে হিন্দুত্ববাদের ইতিহাসে একমাত্র সফল মিশন্যারী। ইট'স আ ফ্যাক্ট!
সত্যি বলতে- এ যুগে ধর্মের নামে মুসলিম নামধারীদেরকে মস্তকধোলাই করে যেমন জঙ্গি-সন্ত্রাসী কিংবা আত্মঘ্যাতী বানানো খুব সহজ, তেমনি আবার তাদেরকে বিজ্ঞানের নামে মস্তকধোলাই করে ইসলাম ও মুসলিম-বিদ্বেষী জোম্বি বানানোও ডালভাতের মতো ব্যাপার। মিশন্যারী অভিরায় সবার চোখের সামনে দ্বিতীয়টা প্রমাণ করে দেখিয়েছে। তবে প্রথমটার নেপথ্যে-নেতৃত্বে যে কারা আছে, সেটা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এর কারণ হচ্ছে আজ পর্যন্ত কোনো একজন সুপরিচিত আলেম বা ইসলামিক স্কলারকে বেহেস্তে ৭২ জন হুর-পরীর লোভে (অভিগ্যাং-এর ভাষায়) জঙ্গি-সন্ত্রাসী কিংবা আত্মঘ্যাতী হতে দেখা যায়নি। কাজেই জঙ্গি-সন্ত্রাসী ও আত্মঘ্যাতী হামলাগুলোর সাথে জড়িতদের মধ্যে বড় ধরণের কোনো ঘাপলা থাকতে পারে। তারাই কিন্তু আবার মিশন্যারী অভিরায়ের ভাষায় 'সবচেয়ে বেশি ইসলাম-জানলেওয়ালা সহি মুসলিম'! কাজেই ঘাপলার ব্যাপারটা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তথ্যভাণ্ডার-৫
-হিন্দু মৌলবাদীদের দাবি অনুযায়ী বাংলা নাকি হিন্দুদের ভাষা! মুসলিমরা নাকি বাংলাকে ঘৃণা করে! অথচ ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলা ভাষার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন তাঁদের সকলেই মুসলিম। [সূত্র]
-মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও সাম্প্রদায়িক মানসিকতার ইসলাম-বিদ্বেষীরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করে। অথচ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জনক বঙ্গবন্ধু একজন মুসলিম। মুক্তিযুদ্ধে ৭ জন বীর শ্রেষ্ঠ পদকপ্রাপ্তদের সকলেই মুসলিম। ৬৯ জন বীর উত্তম পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ৬৮ জনই মুসলিম। বীর বিক্রম উপাধিপ্রাপ্ত ১৭৫ জনের মধ্যে ১৭২ জনই মুসলিম। বীর প্রতীক উপাধিপ্রাপ্ত ৪২৬ জনের মধ্যে ৪২৫ জনই মুসলিম। অর্থাৎ স্বাধীনতার জনক-সহ বীর শ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম, ও বীর প্রতীক উপাধিপ্রাপ্ত মোট ৬৭৮ জনের মধ্যে ৬৭৩ জনই (৯৯.২৬%) মুসলিম। বাকি মাত্র ৫ জন অমুসলিম (হিন্দু ও অন্যান্য) - যা ১%-এরও কম!
তথ্যভাণ্ডার-৬
একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা বিশ্বে ৭৯৫ মিলিয়ন মানুষ যথেষ্ট খাবার পায় না। এই সূত্র অনুযায়ীও বিশ্বের ৮৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ ক্ষুধাপীড়িত। এশিয়াতে ক্ষুধাপীড়িত মানুষের সংখ্যা সবচে' বেশি। একক দেশ হিসেবে ভারতে সবচে' বেশি ক্ষুধাপীড়িত মানুষের বাস। স্ক্রীনশটে দেওয়া পরিসংখ্যানে বিস্তারিত পাওয়া যাবে।
যে সময়টাতে প্রায় একশো কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন যাপন করছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মানব সেবায় কাজ করে যাচ্ছে, বিজ্ঞানীরা ল্যাবে বসে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মানবতার কল্যানে একের-পর-এক আবিষ্কার করছে, ভিনগ্রহে পানি ও জীবের সন্ধান করছে, মহাকাশে স্পেস শাটল পাঠাচ্ছে — ঠিক সেই সময়ে (২০১৮ সালে) অভিরায়ের সৃষ্ট ইসলাম-বিদ্বেষী বর্ণবাদী গ্যাং চৌদ্দশ' বছর পেছনে যেয়ে ইসলামের সর্বশেষ নবীকে 'ধর্ষক' ও 'পেডোফাইল' প্রমাণ করার জন্য 'অসংখ্য যুক্তি' দাঁড় করাচ্ছে; তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চটি লিখছে। পরক্ষণেই আবার তারা ভোল পাল্টে 'সাধুবাবা' সেজে মুসলিমদেরকেই উল্টোদিকে 'ধর্মান্ধ', 'পশ্চাৎপদ', 'সাম্প্রদায়িক', 'ঘৃণার চর্চাকারী', ইত্যাদি বলছে! এইটা হচ্ছে বর্ণবাদী ভাইরাস। এই চক্রের নেপথ্যে-নেতৃত্বে আছে অভিরায়ের মানসিকতার কতিপয় বর্ণবাদী, আর তাদের সাথে সুর মিলাচ্ছে অভিরায়ের কিছু মস্তকধোলাই পূজারী। বাংলা অন্তর্জালে এই ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে অভিরায় নিজেই।
———————————————————————
সংযুক্তি-১: অভিরায়ের সৃষ্ট অন্ধকারের প্রজাতিরা নয়া প্রতারণা শুরু করেছে! তারা বাইবেলের কাহিনীকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যাতে করে অসচেতন লোকজন সেগুলোকে 'ইসলাম' ধরে নিয়ে ইসলাম সম্পর্কে আজেবাজে (অমানবিক, অযৌক্তিক, ইত্যাদি) ধারণা পায়। অভিরায়ের দু'জন ইসলাম-বিদ্বেষী পূজারী বাইবেলের ঘটনা বর্ণনা করার সময় বিব্লিক্যাল নাম ব্যবহার না করে সুকৌশলে অ্যারাবিক/ইসলামিক নাম যেমন 'আল্লাহ', 'মূসা', 'দাউদ', 'নবী', 'ইব্রাহীম', ইত্যাদি ব্যবহার করেছে! কেমন বদমায়েশী, চিন্তা করেন! [সূত্র: ১, ২] বদমায়েশী দেখলেন তো! তবে এদের বদমায়েশীর এখানেই কিন্তু শেষ নয়। কেননা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ইসলামের 'আল্লাহ' হচ্ছেন পৌত্তলিকদের একজন দেবতা, বাইবেলের গড নন্!

সত্য সন্ধানী
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮ at ১১:২০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সালাম রায়হান ভাই। তাহলে সুষুপ্ত পাঠক শেষকালে ইসলাম-পূর্ব আরবের ধর্ম 'হিন্দু ধর্ম' ছিল বলে দাবী করেছে? সেই সাথে ভ্যাটিকান এর চার্চকেও? এই দাবীর ভিত্তি কি এদের? দেখে তো মনে হয় সারা দুনিয়াকেই তারা আর্যাবর্ত ঘোষনা দেবে একদিন। তার পর চলবে তাদের ধর্মযুদ্ধ/সন্ত্রাস। ভয়ের ব্যাপার বটে।
যাক আপনারা আবার নিয়মিত লেখুন প্লিজ। কলম থামিয়ে না রাখাই ভাল। চমৎকার লেখাটার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮ at ১২:০৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
'ভালোবাসা দিবসে' যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্কুল শূটিং-এ এ পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে হয়তো আরো অনেকে। একেবারে তাজা খবর। [সূত্র] এবার বর্ণবাদী অভিগ্যাং-এর আইডিগুলো যাচাই করলে দেখবেন এতবড় একটি হত্যাকাণ্ডের কোনো লিঙ্ক পর্যন্ত কেউ শেয়ার করেনি, মানবতাবাদী মায়াকান্না করে ধর্মের উপর ঝাঁপিয়ে পড়া তো দূরে থাক! কিন্তু কেন? কারণ হামলাকারী একজন শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টান! উরেব্বাপ!
তার পরিবর্তে বর্ণবাদী অভিগ্যাং কী করছে তার দুটি নমুনা এখানে ও এখানে দেখুন। মন্তব্যগুলোও লক্ষণীয়। কে বর্ণবাদী আর কে খৎনাধারী, বুঝার উপায় নাই! সকলেই এক ঘাটে গোমূত্র পান করছে! এদের আইডিগুলো সবাই চিনে রাখেন। এরা যেন সভ্য সমাজের সামনে মাথা উঁচু করে কিছু বলতে না পারে।
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮ at ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অভিরায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই ছিল। বাংলাদেশ থেকে মুসলিমরাই যেখানে পশ্চিমা বিশ্বে যেয়ে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে থেকে যায়, সেখানে ইসলামিক মৌলবাদের দ্বারা 'নির্যাতিত-নিপীড়িত' অভিরায়ের মতো 'সংখ্যালঘুরা' পশ্চিমা বিশ্বের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর বাংলাদেশে ফিরে আসার প্রশ্নই আসে না। সেই অর্থে অভিরায়ের স্থায়ী নিবাস ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তো অভিরায় কি কখনো যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ান ও কৃষ্ণাঙ্গদের উপর শ্বেতাঙ্গদের গণহত্যা নিয়ে কিছু লিখেছে? তাছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত শক্তিশালী বাইবেল বেল্ট ও KKK-র মতো বর্ণবাদী সংগঠন আছে, যাদের হাতে অভিজিৎ-রা মোটেও নিরাপদ না। অভিরায় কি এদের বিরুদ্ধে কিছু লিখেছে? না! যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক কোনো সাইটে ইংরেজীতে লিখা তো দূরে থাক, এমনকি বাংলা ব্লগে বাংলাতেও কিছু লিখেনি! তার অন্যান্য নর্থ-আমেরিক্যান স্বগোত্রীয় বর্ণবাদী গ্যাং আর তাদের খৎনাধারী দাস-দাসীদেরও একই অবস্থা। যেমন, তার গ্যাং-এর মধ্যে যারা ক্যানাডাতে নাগরিকত্ব নিয়ে আছে তারা কি ক্যানাডার ইতিহাসে আদিবাসী ইন্ডিয়ান ও চাইনিজদের উপর শ্বেতাঙ্গদের বৈষম্যমূলক দমন-পীড়ন নীতি নিয়ে কিছু লিখেছে? না! অথচ এই দাস-মনোবৃত্তির বাদামী বর্ণবাদীদের মন-মগজ পড়ে আছে সপ্তম শতাব্দীতে!
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮ at ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
'নাস্তিক-মুক্তমনা'রূপী অভিরায়ের সাম্প্রদায়িকতার প্রমাণ দিতে গেলে শেষ হবে না। তার ফেসবুকের পোস্টগুলো থেকে এখানে আরো কিছু প্রমাণ রেখে দেওয়া হলো।
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮ at ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮ at ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮ at ৬:২২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮ at ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮ at ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী শতকরা হিসাবে এইচআইভি/এইডস (HIV/AIDS) আক্রান্ত প্রথম ২০টি দেশের মধ্যে একটিও মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ নেই। [সূত্র] সবগুলোই খ্রিস্টান-অধ্যুষিত দেশ। এই দেশগুলোর মধ্যে প্রথম আট'টি-সহ অনেকগুলো দেশে মুসলিম নাই বললেই চলে। শুধুমাত্র ২০ নং-এ থাকা গিনি বিসাউতে ৪৫% মুসলিম আছে, যেটিকে ঠিক মুসলিম-অধ্যুষিত বলা যায় না। এমনকি ২১-৩০ এর মধ্যেও মুসলিম-অধ্যুষিত দেশ হয়তো গোটা দুয়েক আছে। তবে পরের দেশগুলোতে এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত রুগীর হার প্রথম সারির দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। এই তালিকায় মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলো একেবারে শেষের দিকে আছে।
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৮ at ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সংযুক্তি-১: অভিরায়ের সৃষ্ট অন্ধকারের প্রজাতিরা নয়া কৌশল শুরু করেছে! তারা বাইবেলের কাহিনীকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যাতে করে অসচেতন লোকজন সেগুলোকে 'ইসলাম' ধরে নিয়ে ইসলাম সম্পর্কে আজেবাজে (অমানবিক, অযৌক্তিক, ইত্যাদি) ধারণা পায়। নিচের দুটি পোস্ট লক্ষণীয়। অভিরায়ের এই দুই পূজারী বাইবেলের ঘটনা বর্ণনা করার সময় বিব্লিক্যাল নাম ব্যবহার না করে সুকৌশলে অ্যারাবিক/ইসলামিক নাম যেমন 'আল্লাহ', 'মূসা', 'দাউদ', 'নবী', 'ইব্রাহীম', ইত্যাদি ব্যবহার করছে! কেমন বদমায়েশী, চিন্তা করেন!
বদমায়েশী দেখলেন তো! তবে এদের বদমায়েশীর এখানেই কিন্তু শেষ নয়। কেননা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ইসলামের 'আল্লাহ' হচ্ছেন পৌত্তলিকদের একজন দেবতা, বাইবেলের গড নন!
এস. এম. রায়হান
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮ at ১২:১১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অ্যান্টি-বাম অভিরায়ের পদতলে মস্তক সঁপে দেয়া এক খৎনাধারী বামমনা পূজারী দু'জন 'মডারেট মুসলমান'-এর নামে বানোয়াট কাহিনী ফেঁদে ইসলাম, কুরআন, ও সারা বিশ্বের মুসলিমদের নামে দিনের আলোয় ডাহা মিথ্যাচার করছে-
এস. এম. রায়হান
মার্চ ২, ২০১৮ at ৩:০২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
'মুক্তমনা' অভিগ্যাং বিবর্তনবাদকে ডিফেন্ড করার নামে বুয়েটের বিরুদ্ধে চরম বিষোদগার করছে। একই সাথে ইসলামের নবীর নাম বিকৃতি করে মুসলিমদের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। [সূত্র]
বাংলাদেশে একক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বুয়েটে সবচে' বেশি ভালো ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হয়। সেই বুয়েটকেই অভিগ্যাং 'জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কারিগর' প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। অভিরায় নিজেও বুয়েট ও ঢাবি-র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদেরকে 'ধর্মান্ধ' বলেছিল। তাহলে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কথা তো বলাই বাহুল্য।
এস. এম. রায়হান
মার্চ ২, ২০১৮ at ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পৌত্তলিক পন্থায় কাউকে পৈশাচিকভাবে হত্যার অতি সাম্প্রতিক একটি নমুনা-
গুজরাটে প্রকাশ্যে দলিত যুবককে পুড়িয়ে হত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদন : দলিত যুবককে জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এবার রাজকোটে। ভরত গোয়েল নামে বছর ২৩-এর ওই যুবককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজকোট সিভিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেশ কয়েকদিন চিকিত্সার পর, বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয় ওই যুবকের। ওই খবর ছড়াতেই জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। নিন্দার ঝড় উঠতে শ্রুউ করেছে বিভিন্ন মহলে।
রিপোর্টে প্রকাশ, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজকোটের বেরাভাল তালুকা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। ২৩ ফেব্রুয়ারি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ভরত গোয়েল নামে ওই যুবক। কিন্তু, মাঝ রাস্তায় ভরতের পথ আটকায় আহির সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন। গাড়ির ভিতর থেকে জোর করে টেনে নিয়ে গিয়ে তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। গাড়ির মধ্যে থেকে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করলেও, প্রথমে নিস্তার পাননি ভরত। কিন্তু, ভরত সেখান থেকে কোনওক্রমে পালিয়ে গেলে, তাঁকে লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা ছোঁড়া হয়। বোমার আঘাতে ভরত মাটিতে পড়ে গেলে, দেশলাই দিয়ে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে খবর।
ওই সময় ৪ জন একযোগে ভরতের গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। কোনওক্রমে ভরতকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বেরাভাল হাসপতালে ভর্তি করেন বাড়ির লোকজন। কিন্তু, বেরাভাল হাসপতালে অবস্থার অবনতি হওয়ায়, ভরতকে স্থানান্তরিত করা হয় রাজকোট সিভিক হাসপতালে। কিন্তু, শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয় ওই যুবকের। এরপর থেকেই জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কিন্তু, দোষীরা ধরা না পড়া পর্যন্ত, ভরতের দেহ সত্কার করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে তাঁর পরিবার। পাশাপাশি ভরতের চিকিত্সায় হাসপাতাল গাফিলতি করেছে বলেও অভিযোগে সরব হয়েছে তাঁর পরিবার।
এস. এম. রায়হান
মার্চ ৩, ২০১৮ at ১:১৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মুসলিমদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক-বর্ণবাদী অভিগ্যাং-এর ঘৃণাবাদ চর্চার নমুনা-
সূত্র-বিহীন কোনো এক স্ট্যাটাসকে পুঁজি করে কোনো প্রমাণ ছাড়াই মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে অভিযোগ করা হয়েছে এই বলে যে, তারা ইউরোপে আশ্রয় নিয়ে সোশ্যাল বেনিফিট খেয়ে বেঁচে আছে! এই ধরণের পোস্টে বর্ণবাদীদের লাইক-মন্তব্য লক্ষণীয়। অভিরায়ের এই খৎনাধারী পূজারী কিন্তু জার্মানিতে নাৎসীদের আশ্রয়ে থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। অভিরায়ের মস্তকধোলাই পূজারীদের প্রায় সকলেই একই কাজে নিয়জিত আছে।
এস. এম. রায়হান
মার্চ ৩, ২০১৮ at ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মনাব্লগে ভূয়া আইডি থেকে নিচের পোস্টদাতা একজন শিবসেনা মৌলবাদী। অভিরায়ের মানসিকতার স্বগোত্রীয় মৌলবাদীরা যখন ব্রুনো-গ্যালিলিওর জন্য মায়াকান্না করে তখন তারা কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে, তার একটি নমুনা দেখুন।
এস. এম. রায়হান
মার্চ ৯, ২০১৮ at ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইতোমধ্যে অনেকেরই জানার কথা যে, বাংলাদেশের হিন্দু নারীরা আজ পর্যন্তও তাদের পিতা ও স্বামীর সম্পত্তির কোনো অংশ পায় না। প্রয়োজনে বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকারও তাদের নেই। এমনকি তাদের বিয়ের কোনো আইনি ভিত্তিও থাকে না। যার কারণে তারা স্বামীর পরিবারে নির্যাতিত-নিপীড়িত হলেও মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া স্বামীকে তালাক দিতে পারে না কিংবা নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয়ও নিতে পারে না।
এই অবস্থায় অভিজিৎ রায়ের সামনে বাংলাদেশের বিদ্যাসাগর বা রামমোহন হওয়ার খুব সহজ একটা সুযোগ ছিল। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অভিজিৎ রায় হিন্দু নারীদের এই মৌলিক অধিকারগুলো নিয়ে একটি লাইনও ব্যয় করেনি! তার পরিবর্তে সে 'নাস্তিক-মুক্তমনা' সেজে ইসলাম নিয়ে এন্তার গোবেষণা করেছে — ইসলামে নারীদের অধিকার নিয়ে মায়াকান্না করেছে, ইসলাম ও ইসলামের নবীকে 'নারী-বিদ্বেষী' প্রমাণ করার চেষ্টা করছে, ইসলামের সাথে গোবর-গোমূত্র মিশিয়ে মিশন্যারী স্ট্যাইলে প্রচার করেছে, বিজ্ঞানের নামে খৎনাধারী বাম-কম্যুনিস্ট-নাস্তিকদেরকে ধর্মান্তরিত করে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে গেছে, ইত্যাদি।
মাঝখানে থেকে বাংলাদেশের হিন্দু নারীরা সেই সনাতন যুগেই পড়ে আছে! তাদের পক্ষে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। এ নিয়ে মুসলিমরা কিছু বলতে গেলে তাদেরকে হয়তো 'সাম্প্রদায়িক' ট্যাগ দেয়া হবে। এমনকি কাগজে-কলমে কিছু আইন, বলিউডের নায়িকাদের বাহ্যিক চাকচিক্য, আর কতিপয় উচ্চ বর্ণের নারীদের বাদ দিলে ভারতেও হিন্দু নারীদের সার্বিক অবস্থা বেশ শোচনীয়ই বলা চলে। শিক্ষার দিক দিয়েও হিন্দু নারীরা সবচে' পিছিয়ে আছে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশের হিন্দু নারীদের পক্ষে অন্য কোনো 'মুক্তমনা' এগিয়ে আসবেন কি? হিন্দু নারীদের এই মৌলিক অধিকারগুলো নিয়ে ক্যাম্পেইন করার মতো সাহস তাদের কারো আছে কি?
নোট: বিদ্যাসাগর-রামমোহনেরা হিন্দু ধর্মের যে সকল অমানবিক প্রথার সংস্কারে অবদান রেখেছেন, সেগুলো ইসলামের নবী আজ থেকে চৌদ্দশ' বছর আগেই সংস্কার করেছেন। এজন্য মুসলিমদের সংস্পর্শে আসার পর হিন্দু পরিবার থেকে বিদ্যাসাগর-রামমোহনদের সৃষ্টি হয়েছে। এইটা প্রমাণিত সত্য।
এস. এম. রায়হান
মার্চ ২৩, ২০১৮ at ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই পোস্ট দেওয়ার পর থেকে মাত্র কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কয়েকটি ভয়াবহ শূটিং ও বোমা হামলা হয়েছে। তাতে বেশ কিছু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। অথচ বর্ণমনারা না-দেখার না-শোনার ভান করে গোবরের মধ্যে মাথা গুঁজে আছে। কেন? কারণ এই হামলাগুলোর কোনোটার সাথেই কোনো মুসলিম নামধারী জড়িত ছিল না। বর্ণমনা মিডিয়াতে এভাবেই ১০০% সন্ত্রাসী হামলার সাথে মুসলিমদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এস. এম. রায়হান
মার্চ ২৫, ২০১৮ at ৯:২১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বোমা ফাটিয়ে নিজেকে উড়িয়ে দেয়ার পরও সে জঙ্গি বা সন্ত্রাসী হয়ে যায়নি! কারণ, তার নাম মার্ক অ্যান্থোনি কনডিট (Mark Anthony Conditt), এবং সে একজন শ্বেতাঙ্গ অমুসলিম। এজন্য বর্ণমনারা না-দেখার না-শোনার ভান করে গোবরের মধ্যে মাথা গুঁজে আছে!
https://www.cnn.com/2018/03/21/us/austin-explosions/index.html
এর আগেও মাত্র কয়েকদিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কয়েকটি শূটিং ও বোমা হামলা হয়েছে। অথচ বর্ণমনারা না-দেখার না-শোনার ভান করে গোবরের মধ্যে মাথা গুঁজে ছিল। কিন্তু যেইমাত্র ফ্রান্সে একটি হামলার সাথে একজন মুসলিম নামধারীর নাম এসেছে (তার দায় স্বীকার করার জন্য আইসিস এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে), সাথে সাথে বর্ণমনারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে! এভাবে আজ ১৬-১৮ বছর ধরে বর্ণমনারা বেছে বেছে রক্তের হোলি খেলে আসছে।
এস. এম. রায়হান
মার্চ ২৬, ২০১৮ at ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভারতের গুজরাটে প্রকাশ্যে দলিত যুবককে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ 'নাস্তিক-মুক্তমনা'রূপী সাম্প্রদায়িক-বর্ণবাদী অভিগ্যাং গোবরের মধ্যে মাথা গুঁজে আছে!
http://zeenews.india.com/bengali/nation/dalit-man-set-ablaze-by-four-succumbs-in-rajkot_188811.html
এস. এম. রায়হান
মার্চ ৩০, ২০১৮ at ৮:২১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
পৌত্তলিক ওরফে হিন্দু (মুক্তমনাদের ভাষায়) পন্থায় কাউকে নির্মম ও পৈশাচিকভাবে হত্যার অতি সাম্প্রতিক একটি প্রমাণ-
ছেলেকে কলজে চিরে হত্যার পরও ইমামের কণ্ঠে সম্প্রীতির বাণী
যুগান্তর ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আসানসোলে রামনবমীর শোভাযাত্রার সময় এক ইমামের কিশোর ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদীরা।
হত্যার সময় ১৬ বছরের কিশোর সিবতুল্লাহ রাশিদির বুক চিরে কলজে বের করে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলেছে দাঙ্গাবাজরা।
তবে এ ঘটনার পরও কিশোরটির বাবা মাওলানা ইমদাদুল্লাহ্ রাশিদি সম্প্রীতি রক্ষার অনন্য নজির তৈরি করেছেন।
ছেলের লাশ সামনে রেখে তিনি বলেন, আল্লাহ্ আমার সন্তানের যতদিন আয়ু রেখেছিলেন, ততদিন সে বেঁচেছে। আল্লাহর ইচ্ছায় তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে যারা হত্যা করেছে, আল্লাহ্ তাদের কেয়ামতের ময়দানে শাস্তি দেবেন।
কিন্তু আমার সন্তানের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়ার অধিকার আপনাদের কারও নেই। আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য একটিও মানুষের ওপর আক্রমণ করা চলবে না। একটিও মানুষকে হত্যা করা যাবে না। বাড়িঘর, দোকানপাট কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা লুটপাট করা চলবে না।
ইসলাম আমাদের নিরীহ কোনো মানুষকে হত্যা করতে শেখায় না। ইসলাম আমাদের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে বসবাস করতে শেখায়। আমাদের আসানসোলে আজ শান্তিশৃঙ্খলার প্রয়োজন। আপনারা যদি আমায় আপন মনে করেন, তা হলে ইসলাম নির্দেশিত শান্তি বজায় রাখবেন। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব আপনাদের।
ছেলেহারা ইমাম রাশিদি আরও বলেন, যদি আপনারা শান্তি বজায় রাখতে না পারেন, তা হলে ভাবব- আমি আপনাদের আপন নই। আমি আসানসোল ছেড়ে চিরতরে চলে যাব।
জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ আসানসোলে কিশোর সিবতুল্লাহকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তার বাবা মাওলানা ইমদাদুল্লাহ রাশিদি আসানসোলের নুরানি মসজিদের ইমাম।
লাশের ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার আসর নামাজের আগে সিবতুল্লাহর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। সিবতুল্লাহর বুক চিরে কলজে বের করার মতো নৃশংসতার কারণে মুসল্লিরা ছিলেন প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।
কিন্তু ছেলের লাশের সামনে মাওলানা ইমদাদুল্লাহ উর্দুতে যে বক্তব্য দেন, তা সবাইকে রীতিমতো চমকে দেয়। সবাই ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণীকে নতুন করে অনুধাবন করেন। ইমামের বক্তৃতা ভারতের বহু সংবাদমাধ্যমেও স্থান পায়।
ইমামের বক্তৃতার বিষয়ে আসানসোলের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাসিম আনসারী বলেন, জানাজার ময়দানকে কারবালার ময়দান বলে মনে হচ্ছিল। যুবকদের চোখেমুখে ফুটে উঠছিল প্রতিশোধগ্রহণের প্রতিজ্ঞা। আমি প্রায় হাল ছেড়েই দিয়েছিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম, না আর আসানসোলকে রক্ষা করা গেল না।
কাউন্সিলর আরও বলেন, জানাজা শুরুর আগে নিহত কিশোরের বাবা ইমাম ইমদাদুল্লাহ্ রাশিদি খুতবা দিতে উঠলেন। তার উর্দু বক্তব্য শুনে সঙ্গে সঙ্গেই পরিবেশ অদ্ভুতভাবে অত্যন্ত ঠাণ্ডা হয়ে যায়। জানাজার শেষ হয়। প্রত্যেকেই নিজের নিজের বাড়ি ফিরে যান। মাওলানা ফিরে যান মসজিদে।
কাউন্সিলর নাসিম আনসারী বলেন, না আসানসোলের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে শান্ত করার জন্য একজন পুলিশ বা একজন প্রশাসনিক লোকের দরকার পড়েনি। মাওলানার মোহিত করার বক্তব্যই পুরো পরিস্থিতিকে শান্ত করে দেয়।
এস. এম. রায়হান
এপ্রিল ১৭, ২০১৮ at ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
"নাস্তিক-মুক্তমনা"রূপী সাম্প্রদায়িক অভিগ্যাং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই ধরণের খবরগুলো এড়িয়ে যায়। কেননা তাদের উদ্দেশ্যে হচ্ছে মুসলিমদেরকে কথায় কথায় 'ইভিল' প্রমাণ করা।
একজন শিশুকে আট দিন ধরে মন্দিরে আটকে রেখে মন্দিরের পুরোহিত ও পুলিশ-সহ ৭-৮ জন মিলে পৈশাচিকভাবে গণ-ধর্ষণ ও অবশেষে হত্যা করে। সেই ধর্ষকদের সমর্থনে আবার বিক্ষোভ করা একমাত্র হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষেই সম্ভব।
কাশ্মীরে ধর্ষকদের সমর্থনে বিজেপির বিক্ষোভ -- যুগান্তর
http://www.bbc.com/news/world-asia-india-43722714 https://www.facebook.com/sumona.rahmanchoudhury/posts/1615498288565280?hc_location=ufi
যাজকের যৌন নির্যাতনের কথা বললেন তাঁরা
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ছয়টি রোমান ক্যাথলিক গির্জা এলাকায় যাজকদের যৌন নিগ্রহ ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে এক হাজারের বেশি শিশু। তাদেরই দুজন রবার্ট ও ক্যারোলাইন।
রবার্টের বয়স এখন ৮৩ বছর। ক্যারোলাইনের ৩৭। সিএনএনের খবরে তাঁরা জানিয়েছেন ভয়ংকর নির্যাতনের কথা।
রবার্ট বলেন, যাজক তাঁকে যৌন নির্যাতন করতেন। নির্যাতনে তিনি এতটাই দুঃসহ জীবযাপন করতেন যে স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটাতে পারতেন না। সন্তানদের প্রাণভরে কাছেও টানতে পারতেন না।
ক্যারোলাইন বললেন, শিশু বয়সে তিনি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যৌন নির্যাতন বেড়েছে। যখনই 'গড' শব্দটি শুনতেন, তারপরই যৌন নির্যাতন চলত। জীবনের সবটাই তাঁর মিথ্যে বলে মনে হতো।
গ্র্যান্ড জুরির একটি তদন্ত প্রতিবেদন ১৪ আগস্ট প্রকাশিত হয়েছে। যাজকদের ধর্ষণ, উৎপীড়ন, মদ খাইয়ে যৌনতার কাজে ব্যবহারের শিকার ছেলে ও মেয়ে উভয় শিশুরা হলেও সবচেয়ে বেশি শিকার ছেলেশিশুরা।
তদন্তে দেখা গেছে, কয়েক দশক ধরে তিন শতাধিক খ্রিষ্টান যাজক এসব ছেলে ও মেয়েশিশুর ওপর ভয়াবহ যৌন নির্যাতন চালান।
গ্র্যান্ড জুরির ৮৮৭ পাতার প্রতিবেদন বলছে, নির্যাতিত শিশুর সংখ্যা প্রকৃতপক্ষে আরও অনেক বেশি হতে পারে।