দেখতে দেখতে খ্যাঁটি মুক্তমনা ওরফে খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানীরা অনেক কিছুই আবিষ্কার করে ফেলেছেন। অথচ বৈজ্ঞানিক জার্নালে সেগুলোর কিছুই প্রকাশ করা হচ্ছে না! সবার অবগতির জন্য খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা সূত্র-সহ এখানে প্রকাশ করা হলো।
#খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী ও হাইকোর্টের বিচারক চন্দ্র শর্মার আবিষ্কার- "গোমূত্র যৌবন ধরে রাখে, ময়ূরের জন্ম চোখের জল থেকে।" [সূত্র: ১, ২, ৩]
#খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানীরা গরুর মলমূত্র থেকে বিভিন্ন ওষুধ-প্রসাধন তৈরি করেছেন। [সূত্র]
#খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক রজিত কুমারের আবিষ্কার- "মেয়েরা জিন্স পরলে সন্তান হিজড়া হতে পারে।" [সূত্র]
#খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী ও অবসরপ্রাপ্ত পাইলট আনন্দ বোডাসের আবিষ্কার- "কয়েক হাজার বছর আগে অন্য গ্রহেও বিমান পাঠিয়েছিলেন ভারতীয়রা, সঙ্গে এখনকার থেকে অনেক উন্নত রেডার ব্যবস্থাও ছিল।" [সূত্র]
#খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের আবিষ্কার- "ইন্টারনেট আবিষ্কার হয়েছে মহাভারতের যুগে।" [সূত্র: ১, ২]
#খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী ও স্বামী শঙ্করাচার্যের আবিষ্কার- "কম্পিউটারের উৎপত্তি বেদ থেকে।" [সূত্র]
#খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী, মুক্তমনাদের গুরুজী, ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আবিষ্কার- "প্রাচীন ভারতে কসমেটিক সার্জারির প্রচলন ছিল।" [সূত্র]
#খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী ও শিক্ষা মন্ত্রী (বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য) বাসুদেব দেবনানীর আবিষ্কার- "পৃথিবীতে গরুই একমাত্র প্রাণী, যারা অক্সিজেন প্রশ্বাস নেয়, আবার নিঃশ্বাস ছাড়ার সময়েও অক্সিজেনই ফিরিয়ে দেয় প্রকৃতিতে।" [সূত্র]
#খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী ও অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্রাহ্মণ পুরোহিত শ্রী শ্রী রবি শঙ্করের দাবি- "বিপথগামী কাশ্মীরিদের ডিএনএ পরিবর্তন করা প্রয়োজন।" [সূত্র]
#খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী ও মানবসম্পদ উন্নয়ন দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সত্যপাল সিংহ-এর আবিষ্কার- "বিমানের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় হিন্দু পুরাণ রামায়ণে; আর আধুনিক যুগের বিমানের আবিষ্কারক শিবাকর বাবুজি তালপাঢ়ে।" [সূত্র]
#অবশেষে ২০১৮ সালে এসে সত্যপাল সিংহের আরো দাবি- "মানুষের বিবর্তন নিয়ে ডারউইনের তথ্য ভুল। বানর থেকে নয়, মানুষ প্রথম থেকেই পৃথিবীতে মানুষ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল। আমাদের পূর্বপুরুষরা কখনও বলেননি বা লিখে যাননি যে বানর থেকে মানুষে পরিবর্তন হতে দেখেছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, কোনও বই বা আমাদের ঠাকুরদাদের মুখে শোনা গল্পেও এমন কোনও কথার উল্লেখ পাওয়া যায়নি। কোনও ভিত্তি ছাড়া মন্তব্য করি না। আমি বিজ্ঞানের মানুষ। আর্টস ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে আসিনি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি করেছি।" [সূত্র]
#খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী হর্ষবর্ধনের আবিষ্কার- "আইনস্টাইনের চেয়ে বেদ এগিয়ে; স্টিফেন হকিং বলেছিলেন, আইনস্টাইনের বিখ্যাত e=mc2 সূত্রটির চেয়েও উন্নততর তত্ত্ব থাকতে পারে বেদে।" [সূত্র] (লেখকের নোট: স্টিফেন হকিং-এর নামে এইটা একটা মিথ্যা দাবি।)
#একজন খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী পিঠে হাঁটলেই 'অন্তঃসত্ত্বা' হচ্ছেন ভারতীয় নারীরা। [সূত্র]
#খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের তালিকায় কিছু আকর্ষণীয় জিনিসও আছে। যেমন: ভ্যাটিক্যান সিটি দেখতে শিব লিঙ্গের মতো! [সূত্র] তাজ মহলের আসল নাম 'তেজো মহালয়া' এবং সেটি ছিল একটি শিব মন্দির! [সূত্র] কাবা ঘর ছিল হিন্দুদের প্রধান মন্দির। [সূত্র] জেরুজালেমে মুসলিমদের কোন দাবীই খাটে না। ইত্যাদি।
(অভিনব পন্থায় নিজেকে 'মুসলিম নাস্তিক' (ছ্যাঃ!ছ্যাঃ!ছ্যাঃ!) দাবিদার এই ছদ্মবেশী খ্যাঁটিমনার পোস্টগুলোকে খ্যাঁটিমনা ওরফে বিজেপি-আরএসএস-শিবসেনা মৌলবাদীরা দলে দলে লাইক-মন্তব্য-শেয়ার দিয়ে সমর্থন দেয়।)
#খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী বিভাস মন্ডলের দাবি- সহি নাস্তিক হতে হলে বিজেপি-আরএসএস-শিবসেনাদের মতো 'অক্ষত শিবদন্ড' থাকতে হবে, হুমায়ুন আজাদ-আহমেদ শরীফদের মতো 'কাটা ইমানদন্ড' থাকলে হবে নাহ্!
(তাদের খৎনাধারী ডাসেরা বলেছে- "একদম খ্যাঁটি কথা, গুরুজী। কাটা ইমানদন্ড ওরফে আগা মুটা গুরা চিকন হলে কখনোই সহি নাস্তিক হওয়া যাবে না!")
এছাড়াও চারখণ্ড বেদ (Vedas) থেকে খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত অসংখ্য বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের প্রমাণ বিখ্যাত এই সাইটে পাওয়া যাবে। একজন মুসলিম হয়েও খ্যাঁটিমনাদের সবচেয়ে বড় ও মুসলিম-বিরোধী সাইটকে সদালাপে প্রমোট করা হলো।
এতক্ষণ ধরে মূলতঃ ভারতীয় খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারের খবর বলা হলো। তালিকা আরো লম্বা হতে পারতো। যেমন, এখানে আরো কিছু আবিষ্কারের প্রমাণ পাওয়া যাবে। এই খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানীদের সকলেই সেক্যুলার শিক্ষায় শিক্ষিত- প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বড় বড় পদে আসীন। সারা বিশ্বের দ্বিতীয় কোনো দেশে অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে থেকে সম-মানের শিক্ষিত ও পদধারী লোকজনকে বিজ্ঞানের নামে এতো বেশি মিথ্যাচার আর হাস্যকর রকমের কথাবার্তা বলতে দেখা যায় না। এদেশীয় খ্যাঁটিমনা আর তাদের খৎনাধারী ডাসেরা ভারতীয় খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানীদের 'আবিষ্কার'গুলোকে নীরবে সমর্থন দিয়ে আসছে। তার প্রমাণ হচ্ছে আজ পর্যন্ত তাদের ব্লগে 'বিজ্ঞান-রক্ষা'র নামে সেই ধর্ম ও তার অনুসারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়া হয়নি। এমনকি এগুলো নিয়ে তাদের মধ্যে কোথাও কোনো রকম হাসি-ঠাট্টা বা উপহাস-বিদ্রূপ জাতীয়ও কিছু দেখা যায়নি।
এদিকে আমগো দেশীয় ও জগদ্বিখ্যাত খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী অভিরায়ের আবিষ্কারের তালিকা এতটাই লম্বা যে, তার সঠিক হিসাব সে নিজেও হয়তো জানতো না! তার অসংখ্য আবিষ্কারের মধ্যে অন্যতম কিছু হচ্ছে: কুরআনে হাজারো ভুল-ভ্রান্তি ও অবৈজ্ঞানিক তথ্য আছে; কুরআনের পৃথিবী 'স্থীর' ও 'থালার লাহান চ্যাপ্টা'; কুরআনে ধর্ষণ প্রমাণ করার জন্য চার জন চাক্ষুস সাক্ষীর কথা বলা আছে; শারিয়া আইনে ধর্ষণ প্রমাণ না করতে পারলে উলটে ধর্ষিতাকেই শাস্তি দেওয়া হয়; ইত্যাদি; ইত্যাদি। তবে তার জগদ্বিখ্যাত আবিষ্কারটি হচ্ছে 'বিশ্বাসের ভাইরাস'- যে ভাইরাসে বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত। (নোট: ১৯৯১ সালে রিচার্ড ডকিন্স "Viruses of the Mind" নামে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। আমগো খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী সেটিকে বাংলায় 'বিশ্বাসের ভাইরাস' বানিয়ে দিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচার করেছে! তার আবিষ্কৃত বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত খৎনাধারী পূজারীরা চোখ-কান বন্ধ করে সেটিকে 'খ্যাঁটি বিজ্ঞান' হিসেবে প্রচার করে স্বর্গ নিশ্চিত করছে!)
যাইহোক, সেই মহা-আবিষ্কারের পক্ষে খ্যাঁটিমনাদের মডারেটমনা বডিগার্ড ড. আজীম মাহমুদ সাক্ষী দিয়েছে এভাবে- "আপনার আবিষ্কৃত বিশ্বাসের ভাইরাসকে আমি নিজ চোখে দেখেছি, গুরুজী! আমি নিজেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলাম। পরবর্তীতে আপনার মূত্রপড়া খেয়ে তা থেকে মুক্তিলাভ করেছি। একদম খ্যাঁটি কথা, গুরুজী! তথাপি বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত মুসলমান নামের আগা মুটা গুরা চিকন রুগী-জঙ্গি-সন্ত্রাসী-ভণ্ডরা আপনার মতো একজন খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানীকে 'ইসলাম-বিদ্বেষী' বলে গালি দেয়! অন্যদিকে আমি চোখের সামনে আপনার একের-পর-এক মিথ্যাচার-প্রতারণা-ভণ্ডামী-সাম্প্রদায়িকতা দেখেও আপনাকে 'সকল প্রকার বিতর্কের ঊর্ধে ঈশ্বর' হিসেবে মেনে নিয়ে আপনাদের দাসত্বপনা করছি। তাছাড়াও আমি রবীন্দ্র সাহিত্য থেকে অনেক বিজ্ঞান আবিষ্কার করে মুসলমানদের কোরআনে বিজ্ঞান খোঁজার বিরুদ্ধে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিলাম। আমি কত্ত ভালো একজন ডাস, তাই না গুরুজী?"

Md Amir
মে ৩০, ২০১৮ at ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি হাসতে হাসতে বেহুঁশ।
Ivan
জুন ৩, ২০১৮ at ৮:০৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিমানের আবিস্কারক "তালপাঢ়ে" ————-- ।
এস. এম. রায়হান
জুলাই ২, ২০১৮ at ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
খ্যাঁটিমনা বিজ্ঞানী জাজ্ঞী বাসুদেব ওরফে সাধগুরুর আবিষ্কার- মহাবিশ্বের শুরু থেকে সকল গ্যালাক্সির মৌলিক গঠন লিঙ্গের মতো!
https://www.youtube.com/watch?v=q8N_G0txNL4&t=59s
বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তমনারা সমস্বরে বলেছে, "জ্বী গুরুজী! আমরা নিজ চোখে দেখেছি, গুরুজী! এর পরও মুসলমানরা শিব লিঙ্গের অস্তিত্বে বিশ্বাস করবে না!"