শুরুতেই মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর একটি হাদিস পড়ে নেওয়া যাক-
Miqdam bin Madikarib said:
“I heard the Messenger of Allah (Peace be upon him) say: ‘A human being fills no worse vessel than his stomach. It is sufficient for a human being to eat a few mouthfuls to keep his spine straight. But if he must (fill it), then one third of food, one third for drink and one third for air.’” — [Sunan Ibn Majah Vol. 4, Book 29, Hadith 3349]
অনুবাদ: একজন মানুষ তার পেটের তুলনায় অন্য কোনো পাত্র অতটা খারাপভাবে ভর্তি করে না। একজন মানুষের ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিবেলা কয়েক লোকমা খাবারই যথেষ্ট। তথাপি কেউ যদি সত্যি সত্যি তার পেট ভর্তি করতে চায়, তাহলে সে যেন তার পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবার দিয়ে এবং এক-তৃতীয়াংশ পানি দিয়ে ভর্তি করে বাকি এক-তৃতীয়াংশ বাতাস নেওয়ার জন্য খালি রেখে দেয়।
সম্প্রতি এই হাদিস'টা পড়ার পর চোখের কোণে জল এসে গিয়েছিল। কেননা একটা পর্যায়ে আর দশ জনের মতো আমারো কিছুটা মেদ-ভুঁড়ি হয়েছিল। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে কোনো হুজুরের মুখ থেকে কখনো এই হাদিস শুনি নাই! অথচ কথায় কথায় কতো আবোল-তাবোল ফতোয়া আর হাদিস শোনা যায়!
নোট: অনেকেই না জেনে বুকে শ্বাস নেয়। এটাকে বলে অগভীর শ্বাস (Shallow breathing or chest breathing)। কিন্তু সঠিক নিয়ম হচ্ছে পেটে শ্বাস নেওয়া- যাকে বলা হয় ডায়াফ্র্যাগম্যাটিক শ্বাস বা গভীর শ্বাস (Diaphragmatic breathing or deep breathing)। আগ্রহী পাঠক গুগল ও ইউটিউব সার্চ দিয়ে ডায়াফ্র্যাগম্যাটিক শ্বাসের বিভিন্ন উপকারীতা সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। এজন্য রাসূল (সাঃ) পেটের এক-তৃতীয়াংশ বাতাস নেওয়ার জন্য খালি রাখতে বলেছেন। পেটে কিছু জায়গা খালি না থাকলে তো ঠিকমতো শ্বাস নেওয়া যাবে না, তাই না?
যাইহোক- সারা বিশ্ব জুড়ে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত (Excessive) ও ছাইপাশ খাবার (Junk food) খেয়ে মেদ-ভুঁড়ি বাড়িয়ে বিভিন্ন ধরণের রোগে ভুগছে। সেই রোগ থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রতি মাসে আবার হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে ঔষধ খাচ্ছে! তাদের মধ্যে অনেকেই আবার প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা ও মূল্যবান সময় ব্যয় করে জিমে যেয়ে সেই মেদ-ভুঁড়ি কমাচ্ছে! এদিক দিয়ে বিচার করলে মানুষের চেয়ে নির্বোধ প্রজাতি আর দ্বিতীয়টি আছে বলে মনে হয় না!
আগামীকাল থেকে সারা বিশ্বের মানুষ যদি রাসূল (সাঃ)-এঁর এই একটিমাত্র নির্দেশ পালন করা শুরু করে দেয়, তাহলে মাস কয়েকের মধ্যে:
১. মেদ-ভুঁড়িওয়ালা কাউকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না, এবং
২. কেউ অনাহারে দিন কাটাবে না।
আমি শুরু করে দিয়েছি। আপনিও শুরু করে দেন। সাথে হালকা শরীরচর্চা ও হাঁটাহাঁটি করুন। এ বিষয়ে আগের একটি লেখাও দেখে নিতে পারেন। আর যতটা সম্ভব মেদ-ভুঁড়িওয়ালা হুজুরদের কাছে এই হাদিস'টা পৌঁছে দেন। সবার আগে হুজুরদের এই হাদিস'টা জানার কথা। অথচ হুজুরদের অনেকের মেদ-ভুঁড়ি দেখে কেন জানি সন্দেহ হয়!

Tahseen Noor
জুলাই ২৫, ২০১৮ at ২:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অসাধারণ !!
ফজলে হাসান সিদ্দিকী
আগস্ট ১৫, ২০১৮ at ৩:১৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে কোনো হুজুরের মুখ থেকে কখনো এই হাদিস শুনি নাই! অথচ কথায় কথায় কতো আবোল-তাবোল ফতোয়া আর হাদিস শোনা যায়!
আমার কাছে মনে হল আপনার এই লেখার অংশটুকু একটু শ্লেষাত্মক, যা লেখার উদ্দেশ্য ও মানকে দুর্বল করে দিয়েছে। কোন হুজুর যদি এই হাদিস না বলে থাকে তাইলে এই হাদিস বলেছে কে? তাহলে আসবে প্রশ্ন হুজুর কারা।
সবার আগে হুজুরদের এই হাদিস'টা জানার কথা। অথচ হুজুরদের অনেকের মেদ-ভুঁড়ি দেখে কেন জানি সন্দেহ হয়!
লেখার এই অংশ আরও ব্যাক্তিগত আক্রমণ। একজনের মেদভূড়ি থাকতেই পারে, এর জন্য তাকে আপনি ব্যাঙ্গ করতে পারেন না। আমি বলতে চাচ্ছি আপনার পরিচিত ব্যাক্তির সাথে আলাপচারিতায় করতে পারেন, কিন্তু সাধারণভাবে করতে পারেন না বা করা উচিত না।
এস. এম. রায়হান
আগস্ট ১৬, ২০১৮ at ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
১মত- এখানে কারো নাম ধরে কিছু বলা হয়নি। কাজেই এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রশ্ন আসবে না। ২য়ত- আমি কখনোই কোনো হুজুরের মুখ থেকে এই হাদিস শুনি নাই (আপনার জানা থাকলে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন)। তারা মূলত নিজেদের পক্ষে যায় এমন হাদিসগুলোই বলেন। সাথে নিজেদের মনগড়া কথাবার্তা তো আছেই। তারা যেহেতু 'ইসলামের মুখপাত্র' হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকেন সেহেতু তাদের প্রতি আমার কিঞ্চিত চাপা ক্ষোভ থাকতেই পারে এবং সেটি প্রকাশ করার অধিকারও আমার আছে, নাকি নেই?
এই হাদিস বলেছেন রাসূল (সাঃ), আর এটি হাদিসগ্রন্থে লিখা আছে!
পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
Hidatherhabib
আগস্ট ২১, ২০১৮ at ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার প্রতি যথার্থ সম্মান রেখে বিনয়ের সাথে বলছি, আপনার জানার ভুল হতে পারে,কিন্তু তার মানে এই নয় যে উলামায়ে কেরাম এই হাদিছটি গোপন করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রেখে যাওয়া অসংখ্য হাদিসের মধ্যে এই হাদীসটি দৈনন্দিন আমলের অন্তর্ভুক্ত করে ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের পর্যায়ে শিক্ষা দেয়া হয়। আর বর্তমান সময়ে এর প্রমাণ আপনি দুই জায়গায় পাবেন, প্রথমত নূরানী মাদ্রাসার ক্লাসগুলোতে বিতীয়তঃ দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের মাধ্যমে যারা তিন দিন অথবা এক চিল্লা তিন চিল্লা এতটুকু সময় আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেছেন তারাও জানেন প্রাথমিক পর্যায়ে এগুলোই তাদেরকে শিক্ষা দেওয়া হয়। আর তাই বলব,আমার কোন কিছু অজানা থাকতেই পারে,তার মানে এই নয় যে সেই বিষয়টি দুনিয়াতে অস্তিত্বহীন। ধন্যবাদ