সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোর সবগুলোতেই ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ পরাজিত হয়েছে। এই ব্লগে আসুন আমরা সবাই এই নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ সহ দল ও দেশের সামনের দিকের সম্ভাব্য গতি-প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করি। আলোচনার বিষয় -
১. আওয়ামীলীগ কেন নির্বাচনে হারলো? কারণ(গুলো) বলুন।
২. সামনের দিনগুলোতে আওয়ামীলীগ কি করতে পারে যাতে সরকার বিরোধী এই সেন্টিমেন্টকে কমিয়ে নিজেদের দিকে ভোট বাড়াতে পারে?
৩. এই নির্বাচন গুলোতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থির জয়ের কারণ কি কেবল আওয়ামীলীগের ব্যর্থতা? অর্থাৎ কোনও আসনে কি বিএনপি মূলত ভালো প্রার্থী দেয়ার কারণে জিতেছে?
৪. জয়ের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে বিএনপি'র কি করা উচিত?
৫. বিএনপি বলছে নির্বাচনগুলোতে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকারের' পক্ষে জনমত প্রকাশিত হয়েছে - পক্ষান্তরে আওয়ামীলীগ বলছে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলো স্বাক্ষী দিচ্ছে যে আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব। আপনার নিজের মতামত কি? আপনি কি মনে করেন সামনের জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া উচিত? নাকি মনে করেন অন্যান্য দেশের মতই ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া দরকার? যাই মনে করুন না কেন - কেন তা মনে করেন?
৬. অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।

এস. এম. রায়হান
জুলাই ৮, ২০১৩ at ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
রাজনীতি নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামাইনা। দেখি অন্যরা কী বলেন।
Rafi
জুলাই ৮, ২০১৩ at ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কারণ গুলো একত্রে করলে নিম্নরুপঃ ১। মতিঝিলে হেফাজতিদের হত্যা। ২। পদ্মাসেতু দুর্নীতি। ৩। শেয়ার বাজার লুট। ৪। ডেস্টিনি/হলমারক/ব্যাংক লুট। ৫। ছাত্রলীগের/যুবলীগের টেন্ডার বাণিজ্য,রামদা/চাপাতি দিয়ে কুপাকুপি, তান্ডব। ৬। সুরঞ্জিতের বস্তাভরতি টাকা ঘুস হাতেনাতে ধরা। ৭। অসহনীয় দুর্ণীতি বিদ্যুতখাতসহ বিভিন্ন খাতে। ৮। খুন, গুমসহ, বিরধি মত দমণে সরকার যন্ত্রের সবকিছু ব্যবহার। ৯। যুদ্ধপরাধ বিচার রাজনিতি করণ। ১০। বিডিআর হত্যাকান্ড। আপনার ২য় প্রশ্নে মনে হচ্ছে আপনি আওয়ামি শুভাকাঙ্ক্ষী।
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ৮, ২০১৩ at ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে।
আপনার দেয়া কারণ গুলোর লিস্টি কি গুরুত্বের ক্রমানুসারে করা। অর্থাৎ, আপনি কি মনে করছেন যে 'মতিঝিলের হত্যাকান্ড' এই পরাজয়ের প্রধান কারণ।
দ্বিতীয় প্রশ্ন এসেছে মূলতঃ প্রথম প্রশ্নের সম্পূরক হিসেবে। প্রথম প্রশ্ন যেহেতু 'পরাজয়ের হেতু' বিষয়ক -- তাই স্বভাবতই দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে এখন আওয়ামীলীগের কি করা উচিত যাতে এই সমর্থন এর ধ্বস কমানো যায়। আর এটা আসলে সব দলেরই 'চালিকা নিয়ন্ত্রক' হওয়া উচিত -- অর্থাত নিজেদের ভুলগুলো বের করে নিয়ে এর সংশোধনে এগুনো। বিএনপি কিংবা অন্যান্য দল গুলোও যদি আত্মসমালোচনামুলক এই ধারাগুলো অনুসরন করত তাহলে দেশের গনতন্ত্র অনেকটা শক্ত ভিত্তি পেতো। হ্যাঁ সেই অর্থে বলতে পারেন আমি আওয়ামি শুভাকাঙ্ক্ষী -- আমি চাই আওয়ামীলীগ নিজের ভুলগুলো বুঝে নিয়ে 'পজিটিভ এ্যটিচুড' নিয়ে সামনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।
যাইহোক, পরিপূর্ণতার স্বার্থে আরো দু'টো প্রশ্ন যোগ করা হলো।
৩. এই নির্বাচন গুলোতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থির জয়ের কারণ কি কেবল আওয়ামীলীগের ব্যর্থতা? অর্থাৎ কোনও আসনে কি বিএনপি মূলত ভালো প্রার্থী দেয়ার কারণে জিতেছে?
৪. জয়ের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে বিএনপি'র কি করা উচিত?
নতুন প্রশ্ন দুটো সহ বাকী প্রশ্নগুলো সম্পর্কে আপনার মতামত জানালে খুশি হবো।
মোঃ তাজুল ইসলাম
জুলাই ৮, ২০১৩ at ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@শাহবাজ ভাই,
সালাম।
আপনার লিখা আমি সবসময় আগ্রহ নিয়া পড়ি। ভাল লাগে আপনার বিশ্লেষণী লিখা ও মন্তব্য। কিন্তু আপনি রাজনীতির নির্বাচন এবং পাঠকদের মতামত জানতে নিয়ে লিখায় অবাক হলাম। আওয়ামীলীগ, বি এন পি, জামাত… রাজনীতিবিদদের কি আপনি স্বাভাবিক মানুষ মনে করেন? আপনি কি ইবলিস ও তার বংশদর-দের সচক্ষে দেখতে পান না? তারা তো বাংলাদেশের সকল রাজনীতিবিদদের অন্তরে কঠিন ও শক্ত শিকড় গেড়ে অবস্থান করে নিয়েছে। ভাই, আমি আপনাকে অনেক উপরের স্তরে স্থান দেই।
ভাল থাকুন।
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ৮, ২০১৩ at ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তাজুল ইসলাম ভাই,
ওয়া লাইকুম আস সালাম।
আপনার মন্তব্য থেকে বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির উপর জমে থাকা আপনার আক্ষেপ কিংবা হতাশা বেরিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের কর্ম কারবার নিয়ে আপনার মতো আমাদের সবারই কমবেশি আক্ষেপ আছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে -- অবস্থা খারাপ বলে কি হালই ছেড়ে দেব? আর ইচ্ছে করলেও কি আপনি বা আমি রাজনীতির বাইরে থাকতে পারবো? তাই আলাপ আলোচনা করে কি দেখা যায় না জনগণ আসলে কি ভাবে!! আর সেইমতে আমাদের রাজনীতিবিদগণ যদি তাদের পথচলা কিছুটা হলেও পরিমার্জন করেন অসুবিধা কি? আর যদি কিছুই না পাওয়াও যায় তাতেও ক্ষতি কি -- এখানে ব্রেন স্টর্মিং এর জন্যে যতটা উপকার হলো তাই বা কম কিসে? সিস্টেম তোএকদিনেই বদলানো সম্ভব নয়।
ভালো থাকবেন।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
জুলাই ৮, ২০১৩ at ৯:০২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
নির্মোহ বিশ্লেষন খুবই কঠিন কাজ। অপেক্ষায় থাকলাম সবার মন্তব্য দেখার জন্যে। তবে আমি এই নির্বাচনকে আওয়ামীলীগের পরাজয় হিসাবে না দেখে বিএনপি এবং তার মিত্র শক্তির বিজয় হিসাবে দেখতে পেলে ভাল বোধ করতাম। নেতিবাচক রাজনীতি থেকে বাংলাদেশ বেড়িয়ে আসার আশু সম্ভাবনা না দেখে কিছুটা হতাশ।
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ৮, ২০১৩ at ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জিয়া ভাই,
সালাম নেবেন।
আপনি বসে আছেন সবার মন্তব্য দেখার জন্যে, আর আমি বসে আছি আপনার মতামত শোনার জন্যে। শুরু করুন ইনশাল্লাহ। সমান্তরালে অন্যদের কথাও দেখা যাবে খন।
মুনিম সিদ্দিকী
জুলাই ৮, ২০১৩ at ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
১. আওয়ামীলীগ কেন নির্বাচনে হারলো? কারণ(গুলো) বলুন।
আমার ধারণা- বাংলাদেশে যারা রাজনীতির মাধ্যমে নিজের ভাগ্য গড়ে থাকেন সেই মৌ লোভী ব্যক্তিরা ভাল করে জানে যে ক্ষমতার রাজনীতিতে যত বেশী অদল বদল হবে তাতে তাদের কায়েমী স্বার্থ তত বেশী লাভ হবে। সে কারণে তারা আওয়ামী বলেন আর বিএনপি কাউকে এক টার্মের বেশী ক্ষমতায় রাখতে চায়না। কারণ তারা জানে গাই থেকে ৫ বছরের বেশী দুধ পাওয়া যাবেনা। আর এরাই নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের সব বিভাগকে। তাদের ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বারা তারা জনগণকে দিয়েপুতুল নাচ নাচিয়ে যাচ্ছে। জনগণ হচ্ছে গড্ডালিকা প্রবাহের মত একবার ছুটে শুরু করলেই হলো!!! তাই হারার কারণ মূখ্য নয়, কারণ কারণ তো তারা সৃষ্টি করে থাকে।
২. সামনের দিনগুলোতে আওয়ামীলীগ কি করতে পারে যাতে সরকার বিরোধী এই সেন্টিমেন্টকে কমিয়ে নিজেদের দিকে ভোট বাড়াতে পারে?
আমার ধারণা- আওয়ামীলীগ তারা তাদের ঠিকুজী পড়ে নিতে পেরেছে, আমাদের দেশের মানুষের ট্রেন্ড এই যে, হারু পার্টির সাথে কেউ থাকেনা, একবার যদি জনগণের মগজে বসে যায় এই দল গেছে! তাহলে শত চেস্টায়ও বিরোধী সেন্টিমেন্টকে রিকভার করতে পারবেনা, বালির বাঁধে পর্যবেশিত হবে। কাজেই তাদের উচিত হবে এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা, নতুবা যদি এই নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় চলে আসে তাহলে আওয়ামীলীগের ফাঁদে তাদেরকে ২০১৯ সালের নির্বাচন করতে হবে।
৩. এই নির্বাচন গুলোতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থির জয়ের কারণ কি কেবল আওয়ামীলীগের ব্যর্থতা? অর্থাৎ কোনও আসনে কি বিএনপি মূলত ভালো প্রার্থী দেয়ার কারণে জিতেছে?
আমার ধারণা- ১ নং প্রশ্নের জবাবে যা বলেছি, তাতে এমনিতে আওয়ামীলীগের প্রার্থিকে হারতে হত, তবে গো হারা হতে হতনা, গোহারা হবার কারণ হেফাজত এবং জামাত।
৪. জয়ের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে বিএনপি'র কি করা উচিত?
আমার ধারণা- পালে হাওয়া অনুকূল আছে কাজেই এমন কোন আত্মগাতি কর্মসুচি না নিয়ে পালে আরো হাওয়া দেবার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
৫. বিএনপি বলছে নির্বাচনগুলোতে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকারের' পক্ষে জনমত প্রকাশিত হয়েছে – পক্ষান্তরে আওয়ামীলীগ বলছে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলো স্বাক্ষী দিচ্ছে যে আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব। আপনার নিজের মতামত কি? আপনি কি মনে করেন সামনের জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া উচিত? নাকি মনে করেন অন্যান্য দেশের মতই ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া দরকার? যাই মনে করুন না কেন – কেন তা মনে করেন?
আমার মত- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে হোক।
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ৮, ২০১৩ at ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এরা কারা? আমার তো ধারণা ছিল এরা আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপি'র লোকজনই। এরাই তো শুনি আসল মৌ লোভী -- ক্ষমতায় এসে নিজের আখের গোছান। তাহলে কেন তারা কেবল এক টার্মই ক্ষমতায় থাকবেন? দু'টার্ম থাকলে তো দ্বিগুন লাভ। তাহলে এই যারা আসলে কারা?
মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলোনা, আর আওয়ামীলীগের অধীনে নির্বাচন করে বিএনপি'ই ইলেকশান জিতলো। ভালোভাবে আ'লীগের কাছে থেকে বিএনপি'র হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হলো। যদি আসলেই এমন হয় তবে সমস্যা কোথায়? এটা কি সবার জন্যে ভালো নয়? যদি দলীয় সরকারের অধীনে মোটামুটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায় -- তবে এটা কি গণতন্ত্রের পথে একটা ধনাত্মক উত্তোরণ নয়? সিটি কর্পরেশনের নির্বাচন গুলোতে কি আমরা বড় মাপের কারচুপি দেখেছি?
Jubaer
জুলাই ৮, ২০১৩ at ১২:৩২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আওয়ামীলীগের অধীনে নির্বাচন করে বিএনপি কখনই জাতীয় ইলেকশন জিতবে না বলেই আমার ধারণা। আপনি আকাশ কুসুম কল্পনা করছেন। সিটি করপোরেশনের ইলেকশন আর জাতীয় ইলেকশন এক নয়। ভোট কারচুপির জন্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামিলীগ দিচ্ছে না। অথচ এই আওয়ামিলীগই তত্ত্বাবধায়ক সরকার তো বটে- পছন্দমত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান না হলে ইলেকশনে যাইনি। আমার মনে হচ্ছে আপনি আমাদের দেশের দলগুলোকে খুব সহজেই সাধু ভাবছেন। এরা চোর বাটপার- সবকিছুই করা সম্ভব এদের দ্বারা। ইলেকশনে হেরে কোন দলই রেজাল্ট মেনে নেয়না। জাতীয় ইলেকশনের গুরুত্ব অনেক বেশি। তখন যে কারচুপি হবে না- তার নিশ্চয়তা কে দিবে? আওয়ামীলীগকে কি আপনি ততটা সাধু ভাবেন? এদের কাজ কারবারে কি তাই মনে হয়? সিটি করপোরেশনের ইলেকশন ফেয়ার করে জাতীয় ইলেকশনের ফাঁদ যে আওয়ামীলীগ পাতবে না- তার গ্যারান্টি কি?
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ৯, ২০১৩ at ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এমন ধারনার বিপরীতেই স্বাক্ষ্য প্রমাণ যায়। গত সাড়ে চার বছরের বেশীরভাগ বড় মাপের ইলেকশনেই বিএনপি জিতেছে। এছাড়া আ'লীগের অতীত থেকেও নির্বাচনে কারচুপি করার বড় প্রমাণ পাওয়া যায়না। বিএনপির ক্ষেত্রে অবশ্য কারচুপি আমরা একাধিক বার দেখেছি। যেমন জিয়ার অধীনে হ্যাঁ/না ভোটে ৯৮% ভোট পাওয়া কিংবা ঐ সময়কার অন্যান্য নির্বাচন নিয়েও ছিল অনেক প্রশ্ন। এরশাদের '৮৬ এর নির্বাচনের মিডিয়া ক্যু সর্বজনবিদিত। '৯১ এর সরকারের সময়কালেও মাগুরার নির্বাচন বিতর্কিত ছিল। তাই আপনার আশংকা থাকতেই পারে -- এমনকি সত্য হতেও পারে -- তবে অতীত ইতিহাস ও হালের মিডিয়া ওভারসাইটের যুগে ভোটকেন্দ্র দখল করে আর প্রশাসন যন্ত্র ব্যবহার করে ভোটের ফল নিজের ঘরে তুলবে -- এমন কথা বিশ্বাস হয়না। এমনটা সম্ভবও নয়। কেন্দ্রে যদি ভোটগ্রহন ও গননা ঠিকমতো হয় তবে কারচুপির চেষ্টা করা হলেও সেটা সফল হবেনা। তাছাড়া ইলেকশান মনিটরিং এজেন্ট তো থাকছেনই -- আর সবচাইতে বড় কথা জনগণ থাকছেন মাঠে। তাদের ভোটের ফলাফল চুরি করা সহজ নয়।
পার্থক্যটা কেমন একটু বুঝিয়ে বলুন তো। আর সেই পার্থক্যটা কীভাবে ভোট কারচুপিতে প্রভাব ফেলতে পারে তাও বলুন। আবেগী কথা বাদ দিয়ে substantive evidence দিন।
হতে পারে কারচুপির স্বপ্ন হয়তো তারা দেখছে -- কিংবা কোনো অলৌকিক উপায়ে প্রশাসন যন্ত্রকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার চিন্তা করছে। কিন্তু এগুলো কেবল দিবাস্বপ্ন। মানুষ আগে থেকেই জানে ইলেকশানের ফলাফল কোন দিকে যাচ্ছে। জনগণের ভোটের রায় ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হলে জনগণই তা রুখে দেবে। প্রশাসন আর লীগের ক্যাডার দিয়ে কাজ হবেনা। '৯৫ এর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনেও কারচুপির চেষ্টা বিএনপি করেছিল। রিটার্নিং অফিসার ফল প্রকাশে যথাসম্ভব বিলম্ব করেন -- যতদুর মনে পড়ে পুরো ফলাফল প্রকাশ করা হয় পরদিন দুপুরে, যেখানে ভোটের সার্বিক ফলাফল আগের দিন মধ্যরাতের আগেই সবার জানা হয়ে গেছে। কিন্তু জনগনের ভোটের রায় ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা তখন জনগণই রুখে দিয়েছিল। রিটার্নিং অফিসার শেষতক বাধ্য হয় ফলাফলে মহিউদ্দিন চৌধুরিকে বিজয়ী ঘোষনা করতে। দিন অনেক পাল্টেছে। হাজার হাজার মিডিয়া আর "আইজ এন্ড ইয়ারস" এর সামনে কারচুপি করে কেউ পার পাবে না।
সাধু না হলেও নির্বাচন ব্যবস্থা অনেক এগিয়ে গেছে। ভোটার তালিকা হয়েছে সুষ্ঠু। ছবি ছাড়া ভোট দেয়া যায়না। তাই অসাধু লোকের পক্ষেও বর্তমানের ইলেকশান ও তার মনিটোরিং সিস্টেমকে ট্রাম্প করা দুরুহ বলেই প্রতীয়মান হয়। বাকী জবাব উপরের অংশেই আছে।
মুনিম সিদ্দিকী
জুলাই ৮, ২০১৩ at ১২:৪১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শাহবাজ ভাই, এই কারার মধ্যে বিদেশীরা যেমন আছেন তেমন আছেন, সামরিক বাহিনীর উপরের স্তরের হর্তাকর্তা, প্রশাসনের হর্তাকর্তা আমলা, আর স্বদেশী অধুনা শিল্পপতি গোষ্ঠী। মাছের পচন লেজ থেকে শুরু হলেও সমাজের পতন শুরু হয় মাথা থেকে। এই প্রধাণরা ঘুষ দাও আর কাজ আদায় করও আর ঘুষে কাজ না হলে তাকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাধ্য হয় সে ব্যবস্থা শুরু করেছিলেন আজ তার প্রভাব সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আগে গরু তার লেজ নাড়াতো এখন লেজ গরু নাড়ায়। মানে একসময় রাজনীতিবিসরা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করলেও এখন কিন্তু রাজনীতিবিদদেরকে অন্যরা নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশেষ গোষ্ঠীর আর্শিবাদ না থাকলে রাজা উজির তো দূরের কথা এমপিও হওয়া যায়না। দলের কোন পদ পাওয়া যায়না। এখন রাজনীতিতে দলিয়পদপদবী যারা পাচ্ছেন তারা তাদের কর্ম বলে লাভ করছেন না, তাদেরকে পদপ্রদান করা হয়ে থাকে। কাজেই যারা তাকে পদ দিবেন তাদের হয়ে উনাকে তো ফায়ার করতে হবে।
আমরা নিজকে ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করিনা সেখানে এই ধরণের আশা করা যায় কি? আপনার কথা মত আওয়ামীলীগের সরকারের অধীনে নির্বাচন হলো, নির্বাচন আওয়ামীলীগ সরকার নিরপেক্ষ ভাবে সম্পাদন করল, তারপর যদি বিএনপি নির্বাচনে জিতে আসে, তারপরের নির্বাচনে কি আওয়ামীলীগ বিএনপির অধীনে নির্বাচনে যেতে রাজী হবে?
মহিউদ্দিন
জুলাই ৮, ২০১৩ at ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই, অনেকে কিন্তু এখনও তা বিশ্বাস করেন। রাজনীতির কথা বলতে গেলে কে কি ভাববে সে চিন্তায় অনেকেই অস্থির ও বিব্রত বোধ করেন বলেই আমার বিশ্বাস। এরা আল্লাহকেও খুশী রাখতে চায় আবার বান্দাকেও খুশী রাখতে চায়। এরা মনে করেন কূটনীতি (diplomacy) আল্লাহর সাথে করতে পারলে ক্ষতি কি?
যাক আপনার প্রশ্নগুলার একটা অরাজনৈতিক জবাব আছে। তা হল বাংলাদেশ জোয়ার ভাটার দেশ। এ দেশে সমস্যা অনেক সবাইকে খুশি রাখা কোন দলের পক্ষে সম্ভব নয়। এ দেশে এক সাথে দুই মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার চিন্তা করা বোকামী। দেশের মানুষকে এত মহানুভব ভাবা একমাত্র বোকরাই করতে পারে। আমাদের রাজনীতিবিদরা এত বোকা নয়। তাঁরা এটা ভাল ভাবে জানে। তাই তারা চায় নিজের দলের অধীনে নির্বাচন করে যদি কোন উপায়ে জিতা চায় চেষ্টা করতে ক্ষতি কি?
এটাও ঠিক কেউ হরে গেছে বললে সেটা তার কাছে অপমান মনে হয়। অন্যরা জয়ী হয়েছে তাদের কুচক্রান্তে আমাদের ভুলের জন্য নয়। এ কথা বলতে পারলে মনে প্রশান্তি আসে এবং নিজেদেরকে পরিবর্তনেরও প্রয়োজনবোধ হয়না।
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ৮, ২০১৩ at ১২:০৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
মহি ভাই,
ধন্যবাদ অংশগ্রহনের জন্যে। আমার মন্তব্য --
কিন্তু বিগত সাড়ে ৪ বছরের নির্বাচনে তো বড় মাপের কারচুপির অভিযোগ আসেনি। প্রশাসন তো আ'লীগেরই সাজানো। এরা তো ফলাফল পরিবর্তন করতে পারেনি -- মনে হচ্ছে তেমন কোনো চেষ্টাও দেখিনি। তাহলে ব্যপার কি এই যে মিডিয়ার স্ক্রুটিনির এই যুগে আসলেই কারচুপি করা সম্ভব না। করলেই প্রশ্ন উঠবে। গতকাল দেখলাম রিটার্নিং অফিসার 'অফিসিয়াল' কাউন্ট দেবার অনেক আগেই মিডিয়া নিজেদের কাছে আসা ফলাফলের উপর ভিত্তি করে বেশ আগেই বিজয়ী ঘোষণা করে দিয়েছে। মিডিয়া তো প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে আসা ফলাফলকে কেবল স্প্রেডশিটে বসিয়ে যোগ করেছে। তাই সবাই একই রেজাল্টে এসে পৌঁছিয়েছে। এক্ষেত্রে কি আসলেই মিডিয়া ক্যূ করা সম্ভব? কীভাবে সম্ভব? রিটার্নিং অফিসার হয়তো ধীরলয়ে ফলাফলে ঘোষণা করতে পারেন -- কিন্তু কীভাবে তারা ফলাফলে পাল্টাবেন? হাজার হাজার 'আইস এন্ড ইয়ারস' তো আছে। চুরি করলে ওরা কি চুপ করে বসে থাকবে?
তাই আমার নিজের মতামত হচ্ছে এই জমানায় কেউ যদি ভাবেন যে ক্ষমতায় থেকে অন্য উপায়ে নির্বাচন জিতবেন -- সেটা আসলে 'অলীক সুখস্বপ্ন।'
এই স্ট্যাটাস কো থেকে বেরুতে না পারলে গণতন্ত্রের পথে সামনে এগুনো যাবেনা। অবশ্য একটা জিনিস খেয়াল করেছেন নিশ্চয়ই -- নিজেদের অধীনে নির্বাচন করে হেরে যাওয়াতে আ'লীগ অন্য কাউকে দোষারোপও করতে পারছেনা। এটা বেশ এঞ্জয় করেছি…:D। আগে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন হলে তারা বলেছিল 'সূক্ষ্ম কারচুপি'র কথা কিংবা জাস্টিস শাহাবুদ্দিনের চক্রান্তের কথা। এখন এমনটা বলার সুযোগ নেই। তাই আমি নিজে চাই আ'লীগের অধীনেই নির্বাচন হোক। আর দেশের অবস্থা মোটামুটি আজকের মতো থাকলে সেই নির্বাচনে জিতবে বিএনপি। এতে দলীয় সরকার একে অন্যের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। যদি এমন আসলেই হয় তবে তা হবে গণতন্ত্রের পথে একটা বিশাল উত্তোরন।
সরোয়ার
জুলাই ৮, ২০১৩ at ৪:২২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সাধারনত সবসময় রাজনৈতিক মন্তব্য এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। গত ৫ই মে'র ঘটনা নিঃসন্দেহে প্র্যাক্টিসিং মুসলিমদের অন্তরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যদিও মিডিয়াতে এসব তেমনভাবে প্রচারিত হয় না। সিটি কর্পোরেশনের পরাজিত মেয়রগুলো অনেক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পরও ভোটারা তাদেরকে প্রত্যাখান করেছে। শুধুমাত্র উন্নয়ন করেই দেশের সাধারণ মানুষের অন্তরকে জয় করা যায় না। এখনও আমাদের সমাজে ব্যক্তিগত ধর্ম-বিশ্বাস সবকিছুর উর্ধে। মসজিদের ঈমাম ও তাবলীগ জমাতের অনুসারীদেরকে সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা করে। আমাদের দেশে তাবলীগ জামাত ও আলেম-ওলেমাদের ভিত্তিই হচ্ছে কওমী মাদ্রাসা। তাই মিডিয়া ৫ই মে'র নির্লজ্জ হত্যাকান্ডকে প্রপাগান্ডা বলে প্রচার করলেও সাধারণ মানুষ তা বিশ্বাস করে না। আমার পর্যবেক্ষন অনুযায়ী জামাতের কারণে তাবলীগ ও কওমীপন্থীরা মূলত আওয়ামী লীগকেই তুলনামূলকভাবে পছন্দ করত। কিন্তু ৫ই মে'র পর থেকে সে অবস্থা একেবারে উল্টে গেছে। তার মানে এই নয় যে তারা বিএনপিকে সমর্থন করে।
লীগ তার পূর্বের আসন ফিরে পেতে হলে ইসলাম বিরোধী ট্যাগিং থেকে মুক্তি পেতে হবে। দেশের সাধারণ মানূষের মতামত ভোটের রাজনীতিতে পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু প্র্যাক্টিসিং মুসলিমদের মনোভাব সহজে পরিবর্তন হবে না। মনে-প্রাণে ইসলাম ধর্ম পালনকারীরা এককভাবে ইলেকশন করলে পাশ করতে পারবে না, কিন্তু তারা ভোটের হিসেব-নিকাশে চরমভাবে প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তাই এরা সামনের ইলেকশনে এবং অদূর ভবিষ্যতে একটি ভোট ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে, যেমনি ভাবে সংখ্যালঘু ভোটাররা ভোট ব্যংক হিসেবে কাজ করে।
৫ই মে'র ক্ষত শুকাতে যে কতদিন লাগবে তা বলা মশকিল। ইংরেজরা আলেমদেরকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল। সেই ইস্যু থেকে এ উপমহাদেশে প্রথাগতভাবে কওমী মাদ্রাসার আবির্ভাব ঘটে। সে সময়কার ঘটনা শুনা কথা। তারপরও তা যুগ যুগ ধরে আলেমদের মধ্যে প্রচারিত হচ্ছে। ছোট বেলা থেকেই আমরা সেসব ঘটনা শুনে আসছি। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্ষতের ঘা শুকাতে অনেক বেগ পেতে হবে, কেননা নেটে ও মোবাইল ফোনে সেই কালো রাতের ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখামাত্র পুরাতন ক্ষত থেকে রক্ত ঝরা শুরু হবে। যারা ছেলে, বাবা বা ভাইকে হারিয়েছেন বা চিরতরে পংগু বা অন্ধ হয়ে গেছেন, তাদের পরিবারের ইমোশন বা ক্ষতের গভীরতা অকল্পনীয় যা কিনা যুগ যুগ ধরে জেনারেশন আফটার জেনারেশন প্রবাহিত হতে থাকবে।
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ৯, ২০১৩ at ১:২৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সরোয়ার ভাই, আপনার বিশ্লেষণের সাথে পুরোপুরি সহমত জানাতে হলো। দ্বিমত করার মতো তেমন কিছু পেলাম না। আমারো মনে হয় লীগ হারার সবচেয়ে বড় কারণ হেফাযতের সাথে তাদের ব্যবহার। দেউলিয়া রাজনীতির জমানায় -বলতে গেলে মোটাদাগে অরাজনৈতিক ও প্রাণের দাবি নিয়ে আসা 'হেফাযতের' সাথে সরকারের অন্যায্য ব্যবহার লীগের এই পতনের মূল কারণ বলে আমিও মনে করি। রাম, বাম ও সেক্যুলার এলিটদের প্ররোচনায় আ'লীগ যে ফাঁদে পা দিয়েছে সেখান থেকে আর বেরুতে পারবে কিনা জানিনা। যেভাবেই হোক মানুষের বিশ্বাস হয়ে গেছে যে এই সরকারের অধীনে ধর্ম নিরাপদ নয়। আর কোন বেকুবের পরামর্শ শুনে যে লীগ তাদের নিরব 'কওমী' ভোটব্যাংক কে শ্ত্রু বানালো বোধগম্য নয়। এরা ছিলো যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের পক্ষেও। এখনো সেদিকেই আছে বলেই আমার বিশ্বাস। তবে যদি যুদ্ধঅপরাধ কিংবা নবি/রাসুলের অপমান -- এর মধ্যে একটাকে বেশী গুরুত্ব দিতে বলা হয় তবে কোনো সন্দেহ নাই যে তারা নবী/রাসুলের অপমানের বিরুদ্ধেই তারা আগে দাঁড়াবে। কীভাবে এই বিশাল ভোট ব্যাংক কে আ'লীগ লাল কার্ড দেখালো বুঝে আসেনা। বরং সরকারের প্রথম থেকেই উচিত ছিল হেফাযতের সাথে জোট করার -- তাদের দাবীগুলোর মূল দাবিগুলোকে অন্তত মেনে নেয়া। কিন্তু বিধি বাম। সরকারের মধ্যে ঘাপ্টি মেরে থাকা তথাকথিত সেক্যুলার নারীবাদিরা কী আস্ফালনই না করলেন। মাওলানা শাফিকে 'রাজাকার' বানালেন। প্রমাণ করতে চাইলেন হেফাযত কোরান পুড়িয়েছে। মানুষ তো এত বোকা না। ২ আর ২ সবাই যোগ করতে পারে। তাকে তো যা খুশি তা বোঝানো যায়না। আর সে কারণেই লীগের অনেক ভালো প্রার্থী থাকার পরেও সার্বিক নির্বাচনে লীগ হারলো। কেননা যে কওমি ও তাব্লিগিরা হয়তো কখনো ভোটো দেননি তিনিও এবার নিশ্চিত করেছেন ভোট যাতে লীগের বিরূদ্ধে যায় -- যেটা ছিল প্রতিবাদের ভোট -- প্রার্থী দেখে ভোট নয়। আশাকরি লীগ তাদের এই মূল দূর্বলতাটিকে বুঝে নেবে। তবে জনিনা যে তলানিতে তাদের সমর্থন নেমেছে সেখান থেকে বেরুবার আর কোনো উপায় আছে কিনা। নিজের করা ভুলগুলো স্বীকার করে প্রয়োজনীয় কারেক্টিভ এ্যকশন নিয়ে আবার জনগণের কাছে ফিরে গিয়ে ভোট চেয়ে দেখা যেতে পারে। এতে হয়তো কিছুটা ক্ষতি পূষিয়ে নেয়া যাবে।
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ৯, ২০১৩ at ১:০৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@মুনিম ভাই,
কথাগুলোকে আমি অর্ধসত্যের কাতারে ফেললাম। সামরিক বাহিনি এখন বেসামরিক সরকারের কব্জায়। মইন উ চৌধুরি, জেনারেল মাসুদ এরা কেউই নিজেদের বেইলই রাখতে পারেন নাই। উনারাই ছিলেন ১/১১ এর হর্তাকর্তা। প্রশাসনের উপরের স্তরের সবাই সরকার বদলের সাথে সাথেই ওএসডি আতঙ্কে থাকেন। আর বিদেশীদের প্রভাব আমার কাছে জুজুর ভয়ের মতোই মনে হয়। ভারত অন্তত কোনভাবেই আ'লীগের চাইতে বড় মিত্র পাবেনা। কৈ তারা ইলেকশনে কি প্রভাবে ফেলেছে? আমি তো দেখছি ভারতের অনৈতিক বাড়াবাডী আ'লীগের পরাজয়ের অন্যতম বড় কারণ। তাই আপনার এ্যনালাইসিস পুরোটা মানা গেলোনা।
হ্যা করতে রাজী হবে, যদিনা সর্বজন স্বীকৃত কোনো রকমের মিস এ্যডভেঞ্চার বিএনপি না করে ফেলে। আমার মতে আ"লীগের অধীনে নির্বাচন ও তাতে বিএনপির জয় ও অতঃপর শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর এর মাধ্যমে দেশ গণতন্ত্রের পথে অনেক দূর এগুবে। এতে অন্তত পারষ্পরিক অবিশ্বাস ও অনাস্থা অনেকাংশে কমে আসবে। পারষ্পরিক হিংসা ও অযথা শ্লেষের মাত্রাও কমে আসবে। সর্বোপরি দেশের মঙ্গল হবে।
শামিমা
জুলাই ৯, ২০১৩ at ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তো কে পুড়াইছে কোরান? rel="nofollow"> হুজুর তো উত্তর দিতে পারলোনা।
rel="nofollow">এই পার্ভারটের সাথে?
http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=aC8pwnRda7I#at=286
rel="nofollow">
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ৯, ২০১৩ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
হেফাযতের লোক সজ্ঞানে কীভাবে কোরান পোড়াতে পারে মাথায় আসেনা। যারা দিনরাত কোরানকে জীবন বিধান মেনে নিয়ে চলেছে -- যারা কোরান সুন্নাহের অপমানের প্রতিবাদ করতে ঢাকায় এসেছে -- তারা কেন কোরান পোড়াবে তার যৌক্তিক কারণ দেখান। এমন কোনো সুষ্পস্ট ও ফার্স্টহ্যান্ড প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে হেফাযতের লোকজন কোরান পুড়িয়েছে। কিছু পরোক্ষ প্রমানের লেখা/ক্লিপ দেখেছি যা কনক্লুসিভ নয়। এমন ছবি ক্লিপও দেখছি যেখান থেকে এটা পরিষ্কার মনে হচ্ছে যে লিগের মিছিল থেকে আগুন ছুড়ে মারা হয়েছে দোকান গুলোর দিকে। তাই ধোয়াসা প্রমাণ হাতে নিয়ে যদি বলে অব্যার্থ প্রমাণ আছে -- সেটা হালে পানি পাবে না।
আর কোরান আর সুন্নাহের সাথে যাদের সম্পর্কই নেই এমন লোকদের কোরানের প্রতি দরদ দেখলে 'মাসির দরদের' কথাই মনে পড়ে যায়।
এই বিষয়ে আহমেদ শরীফ ভাই বিস্তারিত বলেছেন এখানে জনাব মুখতারের সাথে। এর চাইতে বেশী কিছু বলার নেই।
আহমেদ শরীফ
জুলাই ৯, ২০১৩ at ১২:৫০ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সংখ্যালঘু নির্যাতনে যুবলীগ-ছাত্রলীগ যে অনেক ধর্মান্ধ গোষ্ঠিকেই হারিয়ে দিয়েছে তার চিত্র আমরা দেখতে পাই বিশ্বজিৎ হত্যায়, বিভিন্ন স্থানে মন্দির পোড়ানো-ভাঙচুর নির্যাতনে, পেশিশক্তির জোরে ভূমি দখলে। রানা প্লাজার জমি ও পাশের জমিটির আসল মালিক শ্রী রবীন্দ্রনাথ সরকার সাংবাদিকদের জানান তাঁর জায়গা দখল করেই রানা প্লাজা গড়ে তোলে সরকারদলীয় সাংসদ মুরাদ জং এমপির স্নেহধন্য যুবলীগ নেতা রানা। যে ধ্বসের পর 'যুবলীগের কেউ নয়' বলে ঘোষণা দেয়া হয় সংসদে। তাও ভাল যে মুরাদ জং কেউ নয় বলা হয় নি, নির্বাচিত না হলে বা কোন উপায় থাকলে সেটাও বলা হত।
আমরা যারা অনলাইনে আছি, বিভিন্ন ব্লগের পুরনো ভার্চুয়াল মুজাহিদগণ ও সদালাপের মূল লেখক যারা যেমন রায়হান ভাই, আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন ভাই, শাহবাজ নজরুল ভাই, শামস ভাই, সারওয়ার ভাই, সাদাত ভাই, মুনিম ভাই _ এক কথায় যাঁরা শুরু থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে আসছেন তাঁরা ইসলামবিদ্বেষীদের কর্মকান্ডের পরিধি সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা রাখেন। 'থাবা বাবা' ওরফে রাজীব হায়দার শোভন, আকাশ মালিক, মুক্তমনা এ্যাডমিন অভিজিৎ রায়, আবুল কাশেম, আমারব্লগ এ্যাডমিন সুশান্ত দাশগুপ্ত, চ্যালাইনা, হোরাস, আদিল মাহমুদ, রুশদি, মহসিনা খাতুন, মগাচিপ ওরফে আসিফ মহিউদ্দিন _ ইত্যাদি যত শত পুরনো ইসলামবিদ্বেষী আছে তাদের সম্মন্ধে ভালভাবে জানেন। বাস্তবের মাটিতে ব্লগিং জীবন্ত হয়ে উঠল হেফাজতের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ বা সরকার দলীয় ইসলামবিদ্বেষীদের যে চেহারা সেটি অনলাইনের ইসলামবিদ্বেষীদের থেকে খুব 'ভিন্ন' কিছু নয়। কাজেই অনলাইনে যারা আল্লাহ-রাসূল(সাঃ)-কোরআন-হাদিস-ইসলাম-মুসলিমের জঘন্য ভার্চুয়াল আক্রমণ চালাতে পারে, যেমন থাবা বাবার পবিত্র কোরআন শরিফের বীভৎস প্যারডি করে 'নূরাণী চাপাসমগ্র' রচনা ইত্যাদি _ বাস্তবে কোরআন পোড়ানো তো তাদের জন্য খুবই মামুলি ব্যাপার ! কোরআনে শুরুতেই বলা হয়েছে এটি 'খোদাভীরুদের জন্য পথনির্দেশ', যারা কোরআনকে বিশ্বাসই করে না তাদের হাতে কোরআন পোড়াতে অসুবিধা কোথায় ?
যারা 'জীবন্ত কোরআন' হাফেজ-আলেমদের প্রকাশ্য রাজপথে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে গুলি করে হত্যা করতে পারে, পশুর মত কুকুরের মত পিটিয়ে আলেমওলামাদের হত্যা করতে পারে _ সেইসব পাষাণহৃদয় সীমারদের পক্ষে কাগজের কোরআন পোড়ানো কি খুবই অনায়াসসাধ্য নয় ! শুনেছি, ফেসবুকে, ব্লগে দাবি উঠেছে যুবলীগ ক্যাডার রাজেশের নেতৃত্বে কোরআন পোড়ানো হয়েছে, কিছু ভিডিও ফুটেজও দেখা গেছে, যেটাই হয়ে থাকুক একদিন প্রমাণ হবে ইন-শা-আল্লাহ। হেফাজত হত্যাকান্ডের জাস্টিফিকেশন তৈরি করার জন্য ভারতীয় চাণক্য আর দেশি রাম বামরা যদি কোরআন পুড়িয়ে দায় চাপানোর বুদ্ধি দেয় সেটা খুবই স্বাভাবিক-স্বভাবজাত আচরণ করেছে বলতে হবে। চিন্তা করবেন না একটু ধৈর্য ধরেন, ধরা খাওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতাদের পেট থেকেই বের হবে কোরআন 'কারা পুড়িয়েছে'। অল্প কিছুদিন ধৈর্য ধরেন।
যারা অতি মাত্রায় বায়াসড সরকারদলীয় সমর্থক তারা ছাড়া আর কোন সুস্থ কান্ডজ্ঞানসম্পন্ন লোক, এমনকি বিধর্মীরাও এ কথা বিশ্বাস করবে না যে যারা শৈশব থেকে আমৃত্যু, আজীবন ত্যাগতীতিক্ষা অনটন সহ্য করেও কোরআন নিয়েই ডুবে থাকে তারা কোরআন পোড়াবে। এটা খুবই অসত্য, জঘন্য, মূর্খতাসুলভ, ভিত্তিহীন অভিযোগ। সরকারদলীয় বামপন্থিরা হত্যাকান্ডের পর নিজেদের পরিণামের ভয়ে অতিমাত্রায় আতঙ্কিত হয়ে এ ধরণের হাস্যকর অভিযোগ তুলেছে। এটি একটি অসম্ভব অসাধ্য ব্যাপার, পেশাদার গঞ্জিকাসেবী ও মস্তিষ্কে গোবরের পরিমাণ ঘিলুর চেয়ে বেশি না হলে এই উচ্চস্তরের কাল্পনিক উপাখ্যানটি বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। এটি মহাকবি এরশাদের বিভিন্ন মসজিদে জুমা পড়ার অজুহাত হিসেবে 'স্বপ্নে দেখেছি এখানে নামাজ পড়ছি' চেয়েও উচ্চস্তরের উদ্ভট কল্পনা।
‘হেফাজত কোরআন পুড়িয়েছে’ এ ধরণের আশ্চর্য উদ্ভট গাঁজাখুরি তত্বের চেয়ে বরং _
“রবিশঙ্কর সেতার ভেঙেছেন”
“ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংক কার্যালয় পুড়িয়েছেন”
“ছায়ানটের অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথের ছবি পুড়িয়েছেন”
“বঙ্গবন্ধুকন্যা বঙ্গবন্ধুর ছবি পুড়িয়েছেন”
“ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পুড়িয়েছেন”
_ এইসব আরো সহজে গলধঃকরণযোগ্য।
হুজুর তো আর খোদা নন যে সব প্রশ্নের উত্তর ওনাকেই দিতে হবে। লক্ষ লক্ষ লোকের মাইল কে মাইলব্যাপী পরিব্যপ্ত সমাবেশের প্রতি বর্গগজে কোথায় কোথায় কি কি ঘটেছে সব খবর রাখা তো আল্লাহ ছাড়া আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারদলীয়রা হাজারটা কষ্টকল্পিত উদ্ভট অভিযোগ হেফাজতের সর্বজনগ্রাহ্য ধর্মজ্ঞানী কোরআন-হাদিস বিশেষজ্ঞ আলেমওলামা ও বাংলার তাওহীদি মুসলমানদের বিরুদ্ধে তুললেও এখনো পর্যন্ত ১টা সিঙ্গেল ‘তথ্যপ্রমাণ’ ও উপস্থাপন করতে পারেনি কেন আর ভিত্তিহীন অভিযোগগুলি জনবিচ্ছিন্ন সুশীলসমাজও কেন বিশ্বাস করল সেগুলোর সমর্থনে গলাবাজি করছে সেটাই এক রহস্য। এতে জনবিচ্ছিন্নতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে যার প্রতিফলন সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে দেখা যাচ্ছে। সঙ্গত কারণেই বাংলার সাধারণ মানুষ এইসব গাঁজাখুরি অপপ্রচারের এক বর্ণও বিশ্বাস করে নি। এটির প্রমাণ দেখাতে পারলে সরকারদলীয়রা এই মূহুর্তে কয়েক মিলিয়ন ডলার পুরষ্কার দিতেও পেছপা হবে না, কাজেই যদি একটি প্রমাণও থাকে তা পেশ করা হবে খুবই লাভজনক !
জুলাই ১০, ২০১৩ at ২:৩৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
'মুজাহিদ' লিস্টে আমার নাম দেখে লজ্জা পেলাম। ভাই, আমি স্রেফ মুসলিম ছাড়া অন্য কোনো বিশেষণে বিশেষায়িত হতে চাই না। কারণ বিশেষণ বা ট্যাগ বাড়া মানে দল বাড়া, আর দল বাড়া মানে বিভ্রান্তি বাড়া।
আহমেদ শরীফ
জুলাই ১০, ২০১৩ at ২:৪৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই ইতিহাস যার যার প্রাপ্য তাকে দিয়ে দেয় এটাই স্বাভাবিক। 'ভার্চুয়াল মুজাহিদ' তো বটেই, আপনার ও সদালাপের মূল লেখকদের(অবশ্যই আমি বাদে অন্যরা) ঈমানদীপ্ত কিবোর্ড ভার্চুয়াল জ্ঞানের জগতে একে ৪৭ এর চেয়েও শক্তিশালী মারণাস্ত্রের মত।
আহমেদ শরীফ
জুলাই ৯, ২০১৩ at ১:২১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
'পারভারশন' এর ডেফিনেশন যদি মুখের কথা দিয়ে করতে হয় তাহলে সরকারদলীয় সমর্থক-শাহবাগি মঞ্চ সমর্থক যারা তাদের ফেসবুক-ব্লগের কমেন্টে যে পরিমাণ বীভৎস অশ্লীলতা মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়েছে তার তুলনা জগৎ সংসারে পাওয়া যাবে না। তারপরেও তারা অন্ধ সমর্থকদের কাছে পারভার্ট না। অন্তহীন সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার পরও ছাত্রলীগ-যুবলীগ যেমন 'সোনার ছেলে', তাদেরটা সন্ত্রাস নয় 'বীরত্ব', কখনো মাত্রা ছাড়ালে বড়জোর 'দুষ্টুমি' _ লীগের নেতারা শত অপকর্ম করলেও তারা 'মুক্তিযোদ্ধা'।
সুশীল সমাজের ভন্ডামির চিত্র এখানেই সুস্পষ্ট। তারা গাছেরও খাবে তলারও কুড়োবে। ফেসবুকে ব্লগে অশ্লীলতা তুবড়ি ছোটাবে কিন্তু গণমাধ্যমে শুদ্ধ বাংলা ভাষায় মুখে সুন্দর 'বিবৃতি' দেবে, ব্যক্তিজীবনে করবে লিভটুগেদার ও যথেচ্ছ ফ্লার্ট-পরকিয়া, তারপরও তারা 'সুশীল' 'সভ্য'। এরশাদ অশ্লীল কথা বলেন না, কিন্তু ব্যক্তিজীবনে উনি পারভার্ট শিরোমণি। গণজাগরণের ২য় উদ্যোক্তা গোলাম রসুল মারুফ ওরফে 'শনিবারের চিঠি' র অসংখ্য নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে মিথ্যাচার ও প্রতারণার কাহিনী নিয়ে প্রতারিত মেয়েরাই এখন ব্লগ ফেসবুকে শনিবারের চিঠিকে নগ্ন করে পোস্ট দিচ্ছে। এই শনিবারের চিঠি শুদ্ধ শান্তিনিকেতনী ভাষায় সুললিত ভঙ্গিতে রাবীন্দ্রিক ঢঙে কথা বলেন, ঐসব বলেই মুন্ডু চিবিয়ে-পটিয়ে সর্বনাশ করেন মেয়েদের, পরে আর চিনতে পারেন না। দীপুমণি সমকামিতাকে দলীয় নৈতিক সমর্থন দিয়ে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্বল করে আসেন। জনমনে আল্লামা শফিদের পায়ের ধূলোর যে মর্যাদা সেটাও কোনদিন এসব সুশীলদের ভাগ্যে জুটবে না। মদ্যপায়ী, খুনি, লুটেরা, মিথ্যাচারিতায়, চাটুকারিতায় অভ্যস্ত রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আল্লামা শফির তুলনা করা যায় না। মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানিও গ্রামবাংলার সাধারণ জনসভাগুলোতে কথাবার্তায় সহজ-সরল, সাদাসিধা বক্তব্য রাখতেন। ব্যক্তিজীবনে ছিলেন অনাড়ম্বর, সদা অনটনক্লিষ্ট। বাংলাদেশের মানুষ পারভারশন বিবেচনা করে 'ব্যক্তিজীবন' দিয়ে, মুখের ২/১ টা কথায় কেউ পারভার্ট হয় না।
এই হল সুশীলতার পারভারশন। সব কথা 'সদালাপ' বলেই বলা যাচ্ছে না। না হলে শিউরে ওঠার 'পারভারশন' পরিংসখ্যান তথ্যউপাত্ত ভন্ড সুশীলদের আছে যা মাত্র ৭ কান্ডে শেষ হবে না।
আহমেদ শরীফ
জুলাই ৯, ২০১৩ at ২:১৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সুত্র : http://ctgtimes.com/archives/44001?fb_source=pubv1
আজ যদি সরকারদলীয়দের নির্বাচনী রাজনীতির হিসেবে ক্ষতি হয়ে থাকে তার জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। এজন্য এখন বিএনপি-জামাত বা হেফাজত কাউকে দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। ৯০% মুসলমানের দেশে ইসলামবিদ্বেষীদের মাথায় তুলে নাচার আগে তাদের এর পরিণাম চিন্তা করা উচিত ছিল।
সাইফুল ইসলাম
জুলাই ৯, ২০১৩ at ১০:১২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাই, আসসালামু আলাইকুম। এগুলোর সাথে আমি আরো দুটি প্রশ্ন রাখতে চাই। ১। লীগ আর বিএনপি বাদে অন্য কোন দল ক্ষমতায় আসতে পারে না? ২। জনগন কেন "না ভোট"-এর জন্য আন্দোলন করবে না? ধন্যবাদ।
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ১০, ২০১৩ at ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ভাল প্রশ্ন করেছেন।
আমার মতে এটা গণতন্ত্রের মৌলিক দূর্বলতা। গণতন্ত্রে অনেক দল/উপদল থাকলেও দিনশেষে বড় দুটি দল কিংবা দল কেন্দ্রিক জোট দাঁড়িয়ে যায়। যখন দু'টো চয়েসই খারাপ হয় -- তখন জনগণের অবস্থা হচ্ছে Catch 22 এর মতো। বাংলাদেশে বিষয়টা এরকমই হয়ে দাঁড়িয়েছে। আ'লীগের বিকল্প একমাত্র বিএনপি -- কিংবা vice versa -- কিন্তু যখন দু'দলই জনগনের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন আর তৃতীয় চয়েস থাকেনা। বৃটেন ও ভারত ছাড়া আর তেমন কোনো দেশের কথা আমার জানা নেই যেখানে formidable third choice কাজ করেছে।
এটাও গনতন্ত্রের একটা মৌলিক দূর্বলতা ও সেসাথে শিক্ষার অভাবের ফল। জনগন যখন ৫ বছরে একবারই ভোটের সুযোগ পায় তখন সে সেটা tangible entity কে দিতে চায়। তাছাড়া 'না ভোট' এর ক্যাম্পেইন কে করবে? মূল প্রার্থীরা তো কোটি কোটি টাকা খরচ করে। 'না ভোট' এর পক্ষে এমনটা কে করবে?
শামিমা
জুলাই ৯, ২০১৩ at ৪:২৭ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এতগুলো কথা এত তুলনা মূলক প্রমানাদি উপস্থাপন করলেন একজন পার্ভার্ট মাইন্ডেড মানুষকে নির্দোষ প্রমাণ করতে। যে লোকটি সমাবেশ করে মানুষের সামনে সাক্ষী দেয় আর একসাথে তিনবার বলে- মেয়েরা তেঁতুল তেঁতুল তেঁতুল। যে বলে- মেয়ে দেখলে যার লালা ঝরেনা বুঝতে হবে সে ধ্বজভঙ্গ বিমারী, আপনি তার পক্ষে করছেন ওকালতি। সারমর্ম হলো অন্যান্যরা বা ব্লগাররা অশ্লীল কথা ব্লগে লিখে, শাফি সাহেব সমাবেশে কেন পারবেন না।
শাফি সাহেবের উপর থেকে পাঠকের দৃষ্টি ভিন্নদিকে ডাইভার্ট করতে গিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে সাতখন্ড রামায়ন শুনানোর প্রয়োজন ছিলনা, আপনি যা কিছু বলেছেন সব মানুষের চোখের সামনেই ঘটেছে।
আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করি, সদালাপের ভার্চুয়াল মুজাহিদীনদের নাম থেকে জিয়াউদ্দীনের নাম ইচ্ছে করেই বাদ দিয়েছেন নাকি অন্য কোন কারণে? জাষ্ট এ কিউরিসিটি মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো।
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ৯, ২০১৩ at ১০:৩৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এই ব্যাপারটি যথেষ্ট কাভার করা হয়েছে। আপনি আপনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, আহমেদ শরীফ ভাই অন্য দিককার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একমত হতে হবে কথা নেই। আপনার পয়েন্ট ইস নোটেড। আর এই ব্লগ মূলত সিটি কর্পোরেশনের ফলাফল বিশ্লেষণ বিষয়ক -- শাফি সাহেব পার্ভার্টেড কিনা সেই বিষয়ে নয়। এটা সম্পূরক ইস্যু হিসেবে এসেছে এবং এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এখন সিটি কর্পোরেশন এর নির্বাচন নিয়ে যদি কিছু বলার থাকে বলুন।
জিয়া ভাই নেট মুজাহিদদের অন্যতম পুরোধা। উনার অবদান সব সময়ই শিরোধার্য ও অনস্বীকার্য। ইদানিং উনার সাথে বাকী অনেকের মতানৈক্য দেখতে পাচ্ছি। সব বিষয়ে সবাইকে একমত হতে হবে এমন কথা নেই। যতটুকু সাযুয্য আছে তাকে শক্তি হিসেবে ধরে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
ধন্যবাদ।
আহমেদ শরীফ
জুলাই ১০, ২০১৩ at ১২:০০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শফি সাহেবকে নির্দোষ প্রমাণ করার প্রয়োজন অনুভব করছি না কারণ সেটি আপনারই বোঝার ভুল, আপনার মত আর যারা শহুরে আধুনিক রুচি-শিক্ষায় দীক্ষিত হয়ে নিজেদের সমাজবদ্ধ গণবিচ্ছিন্ন সংকীর্ণ গন্ডির মাঝেই চুড়ান্ত সার্থকতা খুঁজে পায় তাদেরই বোঝার ভুল। সেটি আমি মুখতারের সাথে লিংকের পোস্টে ইঙ্গিত করলেও অনেকে হয়তো বোঝেন নি।
আগের যুগে পুঁথি পড়া হত, নামতার সুরে গ্রামবাংলার অজ পাড়াগেঁয়ে মানুষের কথ্য 'প্রাকৃত' ভাষায় যেসব অপভ্রংশনির্ভর পালাগান রচনা করা হত _ যার প্রতিফলন যাত্রা-পালাগানেও আমরা এখনো দেখতে পাই, সেটি আবহমান বাংলার গ্রামীণ লোকায়ত সংষ্কৃতির আবহের সাথে যতটা সাযুজ্যপূর্ণ, উপভোগ্য, ইন্টারএ্যাকটিভ _ শহুরে আধুনিক নগরসভ্যতার ঘুণচক্করের পাঁচমিশালি মিশ্রশংকর বাকপটু জটিল সংষ্কৃতি প্লাস কোলকাতার বাবুসংষ্কৃতির কুটিল মিশ্রণে 'গোছানো' কথাবার্তায় অভ্যস্ত শহরবাসীদের মানসিক গঠনের কাছে ততটাই দূর্বোধ্য, বিরক্তিকর। এখন শহুরে ভাষায় ওয়াজ করলে তা হবে গ্রাম্য মানুষদের কাছে দূর্বোধ্য _ তাদের জীবনযাপন-রঙ্গরসিকতা-বোধগম্যতা কিছুই শহরের মানুষদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এখন পালাগান গায়কই হোক বা ধর্মজ্ঞানী আল্লামা শফিই হন _ যার যার যে মেসেজ গ্রাম্য মানুষদের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন সেটি তাদের মত করেই তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। আমার ধারণা আল্লামা শফি এই ক্ষেত্রে মূল বক্তব্যটি পৌঁছাতে পেরেছেন।
বলা বাহুল্য আজকের দিনে পুঁথিপাঠ-পালাগান গ্রামের সহজিয়া সংষ্কৃতির ধারক কৃষক-শ্রমিকদের কাছে এখনো যে আবেদন রাখে, রাত জেগে পরম আগ্রহ নিয়ে সরলমনে যেভাবে তারা শোনে _ শহরের মানুষ পাঁচ মিনিট শুনলেই হাই তুলতে শুরু করবে, বিরক্তি প্রকাশ করবে। পুঁথিপাঠ-পালাগানের মতই সহজিয়া সংষ্কৃতির আরেকটি অনুসঙ্গ হচ্ছে 'ওয়াজ মাহফিল', যে লিংকটি দিয়েছেন সেটি গ্রামের ওয়াজ মাহফিল যাতে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করে সাধারণ গ্রামবাংলার মানুষের কাছে সহজ সরল ভাষায় কিন্তু ‘তাদের মত করে’ 'উপভোগ্য' করে 'সহজবোধ্য' করে ধর্মের বাণী পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এখন এই গ্রাম্য অডিয়েন্সের সামনে আঞ্চলিক ওয়াজকে যদি আপনি 'আধুনিক শহুরে রুচির' পাল্লায় মাপেন তাহলে সেটি ‘অবিচার’ হবে।
এই ব্যাখ্যার পর আর আমার বলার কিছু নেই। কারণ আরো প্রাঞ্জল করে আবারো একই বিষয়ে বলার কোন প্রয়োজন দেখছি না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার তাওফিক দান করুন। আমিন।
বিঃ দ্রঃ- জিয়াভাইয়ের নামটি ইসলামের পক্ষের একেবারে গোড়ার দিকের পুরনো ক্লাসিক ব্লগারদের প্রথম সারির অগ্রভাগেই আসবে। ভুলক্রমে আসলে সেই নামটি দূর্ভাগ্যবশতঃ বাদ পড়েছে। এটি 'ইচ্ছাকৃত' নয়।
ইসলামের পক্ষের মুজাহিদদের মাঝে জিয়াভাইয়ের অবস্থান সৈনিক নয়, প্রবল পরাক্রান্ত আস্থাভাজন সেনাপতির মত _ যিনি নিজে ইসলামের পক্ষে সর্বশক্তি দিয়ে শুধু যুদ্ধই চালিয়ে যান নি, একইসঙ্গে অক্লান্তভাবে বাকিদেরও সাধ্যমত আগলে রেখে একটি গোষ্ঠিবদ্ধ সম্মিলিত প্রতিরোধের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। বাংলা ভাষায় ইসলামের পক্ষে ব্লগিং এর ইতিহাসে অবশ্যই ইসলামপক্ষীয় লেখকদের সর্বজনশ্রদ্ধেয় অবিসংবাদিত অভিভাবক হিসেবে আমাদের অগ্রজ জিয়াভাইয়ের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমি জিয়াভাই ও অন্যান্যদের কাছেও অপরাধী, ক্ষমাপ্রার্থী। আমি সম্মানিত সদালাপ এ্যাডমিন/মডারেটরদের সর্নিবন্ধ অনুরোধ করব এই ভুলটি সংশোধন করে অভাজন এই আমাকে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করার।
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ১০, ২০১৩ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অসাধারণ!!!
এই বিষয়ে একটা লেখা আশা করছি আহমেদ ভাই। যে কমেন্ট গুলো করেছেন তা এক করে কেটে ছেঁটে একটা লেখা তাড়াতাড়ি ছাড়েন। বিশেষত এই কমেন্ট টাতে দেয়া ব্যাখ্যা অপূর্ব। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্যে সুশীলরা নেমে পড়েছে। নিজের সমালোচনা নাই -- সারা জীবন ব্যস্ত আছে 'ইসলাম' নামটা থাকলেই তাকে কীভাবে নিচে নামানো যায় এই ধান্ধায়। একটা লেখা দিয়ে বিষয়টা ক্ল্যারিফাই করা দরকার। কমেন্ট অনেকে পড়েন না। তাই ফর্মাল পোস্ট দেন।
সরোয়ার
জুলাই ১০, ২০১৩ at ২:২৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সহমত। ইসলাম বিদেষীদের বিরুদ্ধে কলম যুদ্ধে জিয়া ভাইয়ের অবদান অনস্বীকার্য। উনার অনুপ্রেরণাতেই আমি ব্লগিং জগতে পদার্পন করে জীবনকে দুঃবিষহ করে তুলি! বিদ্বেষীদের গালি স্বনামে হজম করা অত্যন্ত কঠিন। জিয়া ভাইকে আল্লাহ দীর্ঘজীবি করুন।
শামস
জুলাই ৯, ২০১৩ at ৯:৫৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
কেন লীগ হারছে বা আরো সঠিকভাবে বললে হারা ধরছে সেটা বিশ্লেষণ করার লোকের অভাব দেশে এখন নাই। শেয়ারবাজারে যে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর টাকা মারা হয়েছে তারা হয়তো বলবে শেয়ার বাজারের কারণে অনেক ভোটার বিপক্ষে গেছে, ইউনুস এর সমর্থকদের কাছে মনে হতে পারে ইউনুস এর কারণে অনেক শিক্ষিত লোকের ভোট হারাইছে, পুলিশকে অতিমাত্রায় রাজনৈতিককরণের ফলে তাদের দ্বারা গ্রেফতার বাণিজ্যের ভুক্তভোগীরা বলবে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক দূরবত্তায়ণ এর কারণে ভোট হারাইছে, তাছাড়া আছে ডেসটিনি, সোনালী ব্যাঙ্ক, পদ্মাসেতুর দুর্নীতি ও মূল হোতা দেশপ্রেমিক (!) এর পক্ষাবলম্বন, সুরঞ্জিত (!) এর চুরি ও অতপর কালোবিড়াল তত্ত্ব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাড়াচাড়াতত্ত্ব, লীগ (সব ধরণের!) এর টেন্ডারবাজী, দলীয় কোন্দলে নিজেরা মরা ওঁ সাধারণ মানুষকে মারা, বিচার চেয়ে বিচার না পাওয়া (বিশ্বজিত একটা উদাহরণ কেবল!), গুম হওয়া ও আটচল্লিশ ঘন্টার তামাশা! …………………………………………বিরোধীদল বিশেষত বিএনপি’র কার্যালয়ে যেভাবে অভিযান চালানো হয়েছে সেটা যেকোন সাধারণ মানুষের কাছেই দৃষ্টিকটূ লাগার কথা………… ( এছাড়া এড করে নিবেন)…………………………………………..লীগের জোটের ইসলামবিদ্বেষীদের পক্ষ নেওয়া ও এর প্রতিবাদকারী হেফাজত এর প্রতি হত্যাসহ অমানবিক আচরণ করা।
এখানে কোন একটা না, সবগুলোই প্রভাব বিস্তার করছে। হেফাজত এর কারণ ছাড়াও লীগের হারটা অসম্ভব কিছু ছিল না। তবে হেফাজতের বিরুদ্ধে করা আচরণ লীগকে তলানীতে নিয়ে গেছে, সেটাই আমার কাছে মনে হয়।
আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় টার্মে আসার মত যোগ্যতা রাখে না। কারণ প্রথাগত রাজনীতি যা অনেকটা বন্ধ্যা রাজনীতির মতোই, তাদের এই যোগ্যতাহীন করেছে! লীগের কিছু ভালো বা উন্নয়নমূলক কাজ তারা প্রচার করছে! এটা মিথ্যা নয়। কারণ তারা যে উন্নয়ন করেছে সেটা পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে কিছুটা ভালো। যদি গতটার্ম এর বিএনপি'র শাসনের দিকে তাকানো হয় তাহলেও দেখা যাবে তারাও এর পূর্ববর্তীদের চেয়ে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভালো কিছু করেছে। কিন্তু এসব ভালো কাজ তাদের খারাপ কাজকে ছাপাতে পারে না, কারণ এসব উন্নয়ন সিগনিফিকেন্ট না! আসল কথা হলো এই ধরণের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এর চেয়ে বেশী কিছু করা সম্ভব নয়! এখানে রাজনীতি হলো অনেকের কাছে পেশা'র মতো। আর রাজনৈতিক দলগুলোকে এদের ছাড়া চলাও সম্ভব না। যে টেন্ডারবাজী করে, ব্যাঙ্ক লুট করে, চুরি করে তারাই পার্টির অর্থের যোগানদাতা!
তবে লীগের জন্য সবচেয়ে বেশী ক্ষতিকারক হয়েছে সেটা হলো ইসলামবিদ্বেষীদের পক্ষ নেয়াটা। স্বাভাবিক অবস্থায় লীগের পক্ষে সেটা করা সম্ভব ছিল না। আমি নিজে অনেক লীগের বন্ধুকে জানি তারা ধর্মের ব্যাপারে কি পরিমাণ সেন্সেটিভ। কিন্তু যেখানে নতুন ওঁ পুরাতন বাম, উগ্র সেক্যুলারিস্টরা (আসল লীগারদের সাথে!) দলের মূখপাত্রের ভুমিকা নেয় সেখানে লীগের এই ইসলামবিদ্বেষীদের পক্ষাবলম্বন অসম্ভব কিছু না। কারণ তারা ইসলাম তথা ধর্মকে বুঝতেই পারে না, অথবা ইসলামবিদ্বেষীদের মতোই মনের গহীনে বিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করে! এদের দ্বারা প্রভাবতি হয়ে বা ব্যবহৃত হয়ে সাধারণ লীগাররাও হাস্যকরভাবে প্রচার চালায় 'হেফাজতিরা কোরান পুড়িয়েছে'! এদের কিছু মূলত অন্ধ সমর্থক। তারা এসব করতে পারে কারণ তাদের খুটি যেখানে সেখান থেকে যখন বলা হয় ৬ই মে কিছু হয় নাই, হুজুরেরা গায়ে রং মেখে পড়ে ছিল। ঔদ্ধত্য, মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য, অপমান করা- এর সীমাটা তারা এর আগেই অতিক্রম করেছিল! ৭১’ এ রং সাইডে থেকে (তাদের গণহত্যার সহযোগিতার কথা বাদ দিলেও!) কেবল ঔদ্ধত্যের জন্য জামাত এখনো দেশে সাধারণ মানুষের কাছে কোন অপশন নয়। একই ঔদ্ধত্যের (ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ইত্যাদিও আছে!) কারণে বিএনপি গতটার্মে চরম লজ্জাজনকভাবে জনগণ দ্বারা শাস্তি ভোগ করেছিল যার রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। নয়তো জনগণের এখন লীগকে দেয়া শাস্তি বিএনপি’র বিজয় হিসেবে সেভাব পরিগণিত হচ্ছে না। সাম্প্রতিক পাচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন লীগকে শাস্তি দেয়ার জন্য যথেষ্ট না! একটা ফ্লো শুরু হয়েছে, প্রথম চারটি সিটির নির্বাচনের কোনটাই দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ ছিল না, সবচেয়ে বড় গো-হারা দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ গাজীপুরে হয়েছে। হারার ট্রেন্ড ঊর্ধ্বমূখী! মানুষের ক্ষোভ, হতাশা, রাগ কি পরিমাণ সেটা অনেক স্পষ্টভাবেই বুঝা যায়। তবে অনেকের মতে গাজীপুরে হেফাজতের ভোট তুলনামূলকভাবে বেশী। যেখানে জয়ের কথা সেখানে ১ লাখেরওঁ বেশি ভোটে ফেল করা, তারউপর এরশাদের দল বলে দুইলাখ তাদের! সঠিক হলেতো জামানত হারানো অবস্থা! যোগ্য প্রার্থী এখানে কোন ফ্যাক্টর না, আমাদের দেশের এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যোগ্য প্রাথী কি পাবলিকের বুঝা আছে! আর সামান্য একটা স্থানীয় নির্বাচনে যে পরিমাণ খাটা খাটনি লীগ করছে, সেখানে যোগ্য প্রাথ্রীর জয় মানে লীগের পরাজয় না! শাস্তিটা প্রার্থীকে না, প্রার্থীর দলের জন্য বরাদ্ধ!
আর হেফাজতের প্রসঙ্গ বললে খুব সংক্ষেপে বলা যায়, ‘সাউন্ড বাট লিথ্যলা’! হেফাজতের দেনাপাওনা লীগের সাথে তাই লীগকেই এর খেসারত দিতে হবে। লীগের শুভবুদ্ধির উদয় হলে হয়তো কিছুটা সন্মানজনক অবস্থায় তারা আসতেও পারে, কিন্তু বাম ও উগ্র সেক্যুলারদের সাথে নিয়ে সে সম্ভাবনা আপাতত দেখছি না! আমাদের কওমী মাদ্রাসা সিভিল সোসাইটি থেকে অনেকটাই দূরে। সেটা তারা যেমন নিজেদের গুটিয়ে রাখে, তেমনি সিভিল সোসাইটিও তাদের লাইমলাইটে আসতে দিতে অপরাগ। হেফাজতের ঢাকার লংমার্চ-এ এই সিভিল সোসাইটির অনেককে যে প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখেছি তা্তে একটু বাড়িয়ে বলা হয় নাই। আমাদের নাটিক, সিনেমা ওঁ সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে তাদের যেভাবে ভিলেন হিসেবে চিত্রায়িত করা হয় সেখানে আপামর মানুষের কাছে তাদের অবস্থানও খুব একটা ভালো না। তাদের যে কিছু ভুল নাই সেটা নয়। আবার এ সমাজের আপামর লোকই হুজুররা দেশ চালাক সেটা যদিও চাইবে না, কিন্তু তাদের অপমানটাও সহজভাবে মেনে নিবে না। এটা একটু জটিল সমীকরণ বলেই মনে হয়।
বিএনপি অনেক সৌভাগ্যবান দল বলা যায়। যদিও বিএনপির সমর্থকরা দাবী করছে যে তারা নিজ যোগ্যতায় জিতেছে কিন্তু আমার ধারণা বেশীরভাগ সাধারণ মানুষ সেরকম মনে করবে না। ‘৯১ তে বিএনপি ক্ষমতায় আসে নিজেদের যোগ্যতাকে ডিঙ্গিয়ে, এবারও এর পুনরাবৃত্তি হচ্ছে! অবশ্য গতটার্মে লীগও এই সোভাগ্যের আচ কিছুটা পেয়েছিল। এখন বিএনপির পাল তুলে দিলেই হাওয়ার সমর্থনে লক্ষ্যে পৌচ্ছে যাবে বলেই ধারণা। এখানে পাল তুলা মানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আনা!
তত্ত্বাবধায়ক এর দাবী নিয়ে খুব স্পেসিফিকলি বললে, আমাদের এখন পর্যন্ত যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন বিকল্প নেই। যে কারণে প্রতিটি জরিপেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী সমর্থন পেয়েছে। এর উত্তর খুব সোজা, লীগের একজন নেতাকে জিজ্ঞেস করা হোক সে বিএনপির কোন নেতাকে বিশ্বাস করে কিনা (তার আন্ডারে নির্বাচনে যাওয়াটা দূরের কথা), আবার বিএনপি’র কোন নেতাকে জিজ্ঞেস করা হোক লীগের কোন নেতাকে বিশ্বাস করে কি না। আমার ধারণা উত্তরটা সবার জানা! তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে এর বেশী কিছু এড করার কিছু নেই।
ধন্যবাদ।
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ১০, ২০১৩ at ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
যাথারীতি দুর্দান্ত একখানা কমেন্ট। মোহাবিষ্ট হয়েই পড়লাম!!! বিশ্লেষণ চমৎকার।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
জুলাই ১৩, ২০১৩ at ৬:২২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
প্রথম প্রশ্নের উত্তর --
আওয়ামীলীগ হেরেছে স্বাভাবিক নিয়মে -- কথাটার অর্থ হলো বাংলাদেশের দুই দল -- আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি -- তাদের ভোটার ফিক্সড -- আর তার মাঝে আছে একদল ফ্লোটিং ভোটার -- এরা হলো সুবিধাবাদী। মুনিম ভাই এর সাথে একমত। এই সুবিধাবাদীরা সরকার বদলানোটাকে তাদের জন্যে একটা গুরুত্বপূর্ন কাজ বানিয়ে নিয়েছে।
আওয়ামীলীগ সরকার বদলের ধারা থেকে বেড়িয়ে আসার জন্যে প্রচুর কাজ করেছে। অর্থনীতির দিকে তাকান -- শিক্ষার দিকে তাকান -- বিচার ব্যবস্থার দিকে তাকান -- প্রচুর সংস্কার করেছে। আজকের বিদ্যুৎ উৎপাদন রেকর্ড ছাড়িয়েছে। দারিদ্র বিমোচন ম্যালেনিয়াম টার্গেট অতিক্রম করেছে -- অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে -- বাংলাদেশের ব্যাংকের রিজার্ভ রেকর্ড পরিমানে বেড়েছে।
কিন্তু যারা চায়না একটা সরকার পরপর দুইবার থাকুক -- তারা সব সময় নেতিবাচক দিকগুলোর দিকে ফোকাস রাখে। সেই বিষয়গুলোই সরকারের জন্যে বিপদ ঢেকে আনে।
আর হেফাযত ফ্যাক্টর খুব বেশী একটা ভুমিকা রেখেছে বলে মনে করছি না। কারন যদি ভোটের পরিসংখ্যান দেখি দেখবো -- ফ্লোটিং ভোট বিএনপির প্রার্থীর দিকে গেছে -- সেইটা যে কোন কারনেই যেতে পারতো। তবে রাজনীতি দাবা খেলায় হেফাযত বিএনপিকে একটা বড় বুষ্ট দিয়েছে। সেইটা হলো কনফিডেন্স -- মুলত হেফাযত এপিসোটের এসেছেই বিএনপি জামাতকে বুষ্ট দিতে। হয়তো অনেকেই কথাগুলো মানতে পারবে না -- কিন্তু বাস্তবতাই হলো হেফাযত তাদের সমাবেশে বিএনপির নেতাদের মঞ্চে নিয়ে এসেছে কোন শর্ত ছাড়াই।
অন্যদিকে জামাতে ডু অর ডাই এফোর্টও বিএনপিকে কমফোর্ট জোনে নিয়ে গেছে। নয়তো ভোটের মার্জিনটা আরো কম হতো।
প্রকৃত পক্ষে এই নির্বাচনগুলো্ প্রমান দিচ্ছে বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক নীতি আদর্শ ভিত্তিক নির্বাচনের ধারা থেকে সরে গিয়ে গোষ্ঠী এবং ব্যক্তি স্বার্থের প্রতিফলন হিসাবে কাজ করছে। কারনটাও পরিষ্কার -- পুঁজিবাদের সমর্থক দুই দলই -- এরা ব্যবসায়ীদেএ স্বার্থে একমত -- মালিকপক্ষে বিষয়ে একমত। সুতরাং ধর্ম আর আঞ্চলিকতা ছাড়া রাজনীতিতে দুই দলের প্রকৃত পার্থক্য নেই। সেই বিবচনায় বিএনপি বা আওয়ামীলীগ যেই ক্ষমতায় আসুক -- ক্ষমতার খেলোয়ারদের জন্যো একই। শুধু পার্থক্যটা উপরি স্থরেই।
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ১৩, ২০১৩ at ৭:০৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
তার মানে ইলেকশনে হারার জন্যে অ'লীগের নিজস্ব কোনো কর্মকান্ড দায়ী নয়?
ফ্লোটিং ভোট হচ্ছে জাতির বিবেক। তারা অন্তত তালগাছ মার্কায় ভোট দেয়না। তারা নিজের বিবেক বিবেচনা থেকে ভোট দেয়।
মুনিম সিদ্দিকী
জুলাই ১৩, ২০১৩ at ১:৫১ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনার সাথে একমত হতে পারিনি ভাই। এরা জাতির বিবেক নয় এরা জাতির বোঝা!!! গড্ডালিকা প্রবাহের মত এদের যাত্রা!! এরা বিচার বিবেচনার ধারে কাছে যায়না, সস্তাপ্রাপ্তির আশায় ভেড়াপালের মত আগুনে ঝাপ দেয়।
আমার মুজিব কিসিঞ্জার সাক্ষাতকার পড়ে দেখুন সেখানে মুজিব আক্ষেপ করে বলে ছিলেন- এত অধিক ভোট যদি তিনি না পেতেন তাহলে তাকে এত বিপদে ফেলত না বা ইতিহাস অন্য রকম হত। আপনি আমাদের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের ইতিহাস দেখুন সেখানে জনতার আত্মঘাতী বিজয় এসেছিল। কিন্তু ফল কোন কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনি।
মুনিম সিদ্দিকী
জুলাই ১৩, ২০১৩ at ১:৫৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমিও স্বীকার করছি আওয়ামীলীগ প্রচুর ভাল ভাল কাজ করেছে, তবে আওয়ামীলীগের অতিবাম তোষণ, ভারত তোষণ এবং হালে নাস্তিকদের সাথে মিলন যা আমাকে আওয়ামীলীগ থেকে দুরের রাখছে।
আহমেদ শরীফ
জুলাই ১৫, ২০১৩ at ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
জিয়াভাই একদিকে বলছেন,
আবার ঠিক পরের লাইনেই বলছেন,
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
জুলাই ১৫, ২০১৩ at ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আহমেদ শরীফ
বিষয়টা পরিষ্কার করি -- কাদের মোল্লার রায়ের আগ পর্যণ্ত আওয়ামীলীগ রাজপথে পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছিলো -- হিমশিম খাচ্ছিলো -- কিন্তু শাহবাগের গনজাগরন আওয়ামীলীগের জন্যে একটা রিলিভ এনে দিয়েছিলো -- কারন একসময় মনে হচ্ছিলো আওয়ামীলীগ একাই যুদ্ধাপরাধের বিচার চাই। ঠিক তেমনি বিএনপি-জামাত আওয়ামী বিরোধী রাজনীতি যখন মনোটোনাস হয়ে পড়ছিলো -- এক ঘেয়ে হরতাল আর কমূর্সচী বিরক্তিকর পর্যায়ে চলে যাচ্ছিলো তণ হেফাযত এসে বিএনপি-জামাতের জন্যে একটা রিলিভার হিসাবে কাজ করে। ভোটের রাজনীতি শাহবাগ আর হেফাযত একই। কিন্তু রাজনৈতিক ময়দানে এরা একই ভাবে দুইপক্ষের জন্যে মোরাল বুষ্টার হিসাবে কাজ করছে।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
জুলাই ১৫, ২০১৩ at ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
২. সামনের দিনগুলোতে আওয়ামীলীগ কি করতে পারে যাতে সরকার বিরোধী এই সেন্টিমেন্টকে কমিয়ে নিজেদের দিকে ভোট বাড়াতে পারে?
>>> আপাতত মনে হচ্ছে না। নেতিবাচক চিন্তার থেকে বের হয়ে সরকারে সাফল্যগুলোকে ব্যর্থতার সাথে তুলনা করে ভোট দেবার মতো মেধার এখন চর্চা এখনও হয়নি দেশে। যেমন ধরুন -- বিএনপিকে ভোট দিচ্ছি -- কিন্তু ক্ষমতায় গেলে তাদের অর্থনৈতিক কর্মসূচি কি হবে -- অথবা হেফাযতে ১৩ দফার কি হবে -- সামান্য এই ভাবনাটুকু ভাবতে রাজী না। মুলত ক্ষমতা বদলে মাধ্যমে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার আর ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার যে রাজনৈতিক দর্শণ -- তাকে চার মাসে পক্ষে আনা কঠিন হবে।
৩. এই নির্বাচন গুলোতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থির জয়ের কারণ কি কেবল আওয়ামীলীগের ব্যর্থতা? অর্থাৎ কোনও আসনে কি বিএনপি মূলত ভালো প্রার্থী দেয়ার কারণে জিতেছে?
>>>না। কারন ব্যর্থতা বলতে আমরা কি বুঝাচ্ছি -- যদি সরকারের ৫ বছরে স্কোরকার্ড তৈরী করেন দেখবেন -- সব গুলো সেক্টর মিলিয়ে সরকার পাশ মার্কের চেয়ে বেশী পাবে। যেমন বিগত সরকারগুলো আমলে মানবসম্পদ রপ্তানীতে যে অনিয়ম চলছিলো তার একটা সুন্দর সমাধান করেছে সরকার ( প্রবাসী মন্ত্রনালয়), সমুদ্রসীমা নিয়ে একটা বড় সাফল্য এসেছে ( পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়), শিক্ষা,কৃষির কথা আগেই বলেছি। এভাবে যদি আপনি মন্ত্রনালয় ধরে হিসাব করেন দেখবেন সরকারে সাফল্যই বেশী। কিন্তু মিডিয়ার একটা বড় অংশ দেশের তৃতীয় শক্তির ধারনাকে প্রমোট করে -- এরা তাই বিরোধী দলের কাছে ইস্যু তুলে দেয়। নেতিবাচক প্রচারনাই মুলত আওয়ামীলীগ থেকে ভোট সরিয়েছে।
যদি সিটি নির্বাচনে প্রার্থী বিবেচনা করি -- তবে সিলেটের বিএনপি প্রার্থির দূর্নীতির কথা সবচেয়ে বেশী আলোচিত হয়েছে, গাজীপুরের প্রার্থী ছিলো দূর্নীতির দায়ে মন্ত্রীত্ব হারানো লোক, খুলনার মেয়র খালেকের বিরুদ্ধে কোন দূর্নীতির অভিযোগ ছিলো না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ভোটরা প্রার্থীর বিষয়টি বিবেচনা করে নি। মুলত প্রি -- কনসিভড আইডিয়া থেকে ডিটারমাইনড হয়েই ভোট দিয়েছে।
বিগত জাতীয় নির্বাচনের বিষয়টিও ছিলো তেমনি -- যেমন মীরপুরের দুই প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লা, আর আসলামুল হক দুই জন আওয়ামীলীগের এমপি হয়েছে -- তাদের কোন যোগ্যতাই নেই এমপি হওয়ার মতো -- কিন্তু ভোটারদের বিএনপি বিরোধী ভোটের জোয়ারে এদের মতো অনেক অযোগ্য লোকও এমপি হয়েছে। মুনিম ভাই এর সাথে একমত -- এই ৩০ ভাগ তথাকথিত সুবিধাবাদী ভোটার দেশের রাজনৈতিক চর্চাকে নষ্ট করছে শুধু মাত্র ভোটের মাধ্যমে সরকার বদল করার মানসিকতা থেকেই।
৪. জয়ের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে বিএনপি'র কি করা উচিত?
>>> বিএনপির যদি অতিরঞ্চিত কিছু না করে আর তারেককে নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে তবেই এদের ক্ষমতায় যাওয়াটা অনেকটা নিশ্চিত। বিএনপির জন্যে তারেক হলো শাখের কড়াতে মতো -- দলের কর্মীদের জন্যে বুষ্টার আর বিরোধীদের জন্যে রাজনৈতিক সুবিধা।
৫. বিএনপি বলছে নির্বাচনগুলোতে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকারের' পক্ষে জনমত প্রকাশিত হয়েছে – পক্ষান্তরে আওয়ামীলীগ বলছে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলো স্বাক্ষী দিচ্ছে যে আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব। আপনার নিজের মতামত কি?
>>> এখানে আমি শেখ হাসিনাকে একটা ধন্যবাদ দিতে চাই। তত্ত্বাবধায়কের মতো একটা কিম্ভুতকিমাকার পদ্ধতি যতদ্রুত মানুষের মাথা থেকে সরানো যাবে তত ভাল। বিগত জোট সরকারের বিদ্যুৎ খাতের ব্যর্থতার ভিত তৈরী করেছিলো লতিফুর রহমানের সরকারের উপদেষ্টা হাফিজুর রহমান। বিষয়টা অনেকে জানে না। যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক সরকারে কোন জবাবদিহীতা নেই -- তাই হাফিজুর রহমান এখন সুশিল হিসাবে সরকার এবং বিরোধী দলকে নসিহত করে যাচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারে কোন দরকার নেই যদি দেশে রাজনৈতিক সুস্থতা ফিরে আসে। ব্যন্ডেইড সলিউশান বেশী দিন চলে না। শেখ হাসিনা কথা রেখেছেন -- উনার সরকারের আমলে মোটামুটি সকল নির্বাচন সুষ্ট এবং নিরপেক্ষ হয়েছে -- যা প্রমান করে তত্ত্বাবধায়ক নামক একটা অদ্ভুদ পদ্ধতির মাধ্যমে দেশকে গনতন্ত্রহীন করার যে অসুস্থ পদ্ধতি অনুসরন করা হয়েছে তার দরকার নেই -- বিশেষ করে যদি মাগুরার নির্বাচন ( যার থেকে তত্ত্বাবায়কের দাবী উঠেছিলো) থেকে গাজীপুরের নির্বাচন পর্যন্ত যদি নির্বাচন ব্যবস্থা, ভোট লিস্টি, মিডিয়ার ব্যপ্তি এবং ভূমিকা মূল্যায়ন কি -- তবে বলা যায় -- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়ার মতো অবস্থা তৈরী হয়েছে।
আপনি কি মনে করেন সামনের জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হওয়া উচিত? নাকি মনে করেন অন্যান্য দেশের মতই ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া দরকার? যাই মনে করুন না কেন – কেন তা মনে করেন?
>>> উপরেই বলেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলো শিয়ালের কাছে মুরগী বর্গা দেওয়ার মতো। রাজনৈতিক নেতাদের দমন পীড়নের আড়ালে সেনাবাহিনী এবং কিছু সুশীলের বানিজ্যের রমরমা ব্যবসা হলো গনতন্ত্রকে ভ্যাকেশানে পাঠিয়ে একদল অনির্বাচিত লোকের হাতে ক্ষমতা দেওয়া -- যারা কারো কাছে দায় বদ্ধ না। গনতন্ত্রকে স্থায়ী কাঠামোতে রূপ দিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটা বাজে কনসেপ্ট। রাজনৈতিক দলগুলো গনতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে গনতন্ত্রকে স্থায়ী ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করা যাবে।
ধন্যবাদ।
শাহবাজ নজরুল
জুলাই ২১, ২০১৩ at ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ কমেন্টের জন্যে। মোটামুটি একমত আপনার অবজারভেশনের সাথে। তত্ত্ববধায়ক সরকার বিষয়টিতে আপনার সাথে পুরোপুরি সহমত। তবে সার্বিক অর্থে দ্বিমত রইলো ফ্লোটিং ভোটারদের সুবিধাবাদী বলে চিহ্নিত করার জন্যে। মানুষ যদি পারফরমেন্স এর পারসেপশন অনুসারে সরকার বদল না করে তবে গণতন্ত্রের মানে কি?
বলন কাঁইজি
জুন ২৭, ২০১৪ at ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অনেক চমৎকার হয়েছে।