ইসলামে কুরানই বিধি-বিধানের একমাত্র উৎস নয়। মুহাম্মদ (সাঃ) জীবন কালে এবং তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর কথা ও কাজের মধ্যে বিধিমূলক সম্পূরক তথ্যের অনুসন্ধান করা হয়েছে।
শুরু থেকেই হাদীস লিখিত আকারে আসার প্রচুন থাকলেও বহু হাদীস মৌখিক বর্ণনার মাধ্যমেও এসেছে। যারা হাদীস সংগ্রহ করে একত্রিত করেছেন তারা কাগজে-কলামে লিপিবদ্ধ করার আগে অতীত ঘটনাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে তদন্ত করেছেন এবং নির্ভুল তথ্য নির্ণয়ের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। নবীর কথার সকল নির্ভরযোগ্য সংকলনেই প্রথমে যিনি তাঁর পরিবারের সদদ্য বা তাঁর সাহাবী অর্থাৎ সঙ্গীর কাছ থেকে ঐ উক্তি শুনেছেন তাঁর নাম থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল বর্ণনাকারীর নামই লাগাতার ভাবে পাওয়া যায় এবং একমাত্র এ ঘটনা থেকেই সংগ্রহকারীর নিষ্ঠা, সততা ও পরিশ্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এভাবে মুহাম্মদের (সাঃ) বহু কথা ও কাজের বিবরণ সংগৃহীত হয়েছে। এগুলি হাদীস নামে পরিচিত। হাদীস শব্দের অর্থ”উক্তি” কিন্তু তাঁর কাজের বিবরণও হাদীস নামে অভিহিত করার রেওয়াজ আছে।
মুহাম্মদের (সাঃ) ইন্তেকালের পরবর্তী কয়েক দশকে এরূপ কিছু সংগ্রহ প্রকাশিত হয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ দুশো বছর পরেও প্রকাশিত হয়। সর্বাধিক নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও বর্ণনা পাওয়া যায় আল-বুখারী ও মুসলিম নামক সংগ্রহে এবং এ দুখানি সংগ্রহও মুয়াহ্মমদের (সাঃ) ইন্তেকালের দুশো বছর পরে প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডক্টর মুহাম্মদ মুহসিন খান এ সংগ্রহের আরবী-ইংরেজী প্রভাষক সংকলন প্রস্তুত করেছেন (প্রকাশক-শোঠি ষ্ট্র বোর্ড মিলস (কনভার্সন) লিমিটেড এবং তালিম-উল-কুরান ট্রাস্ট, গুজরানওয়ালা ক্যান্টনমেন্ট, পাকিস্তান। সহি আল-বুখারী, প্রথম সংস্করণ, ১৯৭১) । কুরআনের পর বুখারীর সংগ্রহই সাধারণত সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হয়। হৌদাস ও মারকাইস এ সংগ্রহটি ‘লেস ট্রাডিশনস ইসলামিকস’ (ইসলামিক ট্রাডিশনস) নামে ফরাসী ভাষায় তরজমা (১৯০৩-১৯১৪) করেন। ফলে যারা আরবী জানেন না তাদের কাছে এখন হাদীস বোধগম্য হয়েছে। তবে এ ফরাসী তরজমাসহ ইউরোপীয়দের করা কতিপয় তরজমা সম্পর্কে কিছু সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন আছে। কারণ তাতে এমন কিছু ভুল ও অসত্য আছে যা তরজমাগত কারণে না হয়ে ব্যাখ্যাগত কারণে ঘটেছে। ক্ষেত্র বিশেষে সংশ্লিষ্ট হাদীসের অর্থ এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে যে, মূল হাদীসে যা নেই তরজমায় সেই ধারণা আরোপ করা হয়েছে।
উৎসের ব্যাপারে কতিপয় হাদীস ও গসপেলের ক্ষেত্রে একটি সাদৃশ্য দেখা যায়। তা হচ্ছে এই যে, সংগ্রাহকদের কেউ বর্ণিত প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন না এবং ঘটনা ঘটে যাওয়ার অনেক দিন পরে তারা তাঁর বর্ণনা লিখেছেন। গসপেলের মতই সকল হাদীস নির্ভুল বলে গ্রহণ করা হয়নি। কেবল অল্প সংখ্যক হাদীস মোটামুটিভাবে বিশেষজ্ঞদের অনুমোদন লাভ হয়েছে। ফলে আল-মুয়াত্তা, সহি মুসলিম ও সহি আলবুখারী ছাড়া অন্যত্র দেখা যায় যে, একই গ্রন্থে নির্ভুল বলে অনুমদিত হাদীসের পাশাপাশি এমন হাদিসও স্থান পেয়েছে যা সন্দেহজনক অথবা এমন কি সরাসরি বাতিলযোগ্য।
ক্যানোনিক গসপেলের ক্ষেত্রে আধুনিক অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করলেও উর্ধতন খৃষ্টধর্মীয় কর্তৃপক্ষ কখনও তাঁর নির্ভুলতা বিষয়ে প্রশ্ন করেননি। পক্ষান্তরে ইসলামের আদি যুগেই বিশেষজ্ঞগণ সর্বাধিক নির্ভুল বলে বিবেচিত হাদীসেরও বিস্তারিত সমালোচনা করেছেন। অবশ্য বিচারের কষ্টিপাথর মূল গ্রন্থ কুরআন সম্পর্কে কেউ কখনও কোন প্রশ্ন করেননি।
যে সকল বিষয়ে পরবর্তীকালে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির কারণে ব্যাখ্যা ও তথ্য পাওয়া গিয়েছে, সেই সকল বিষয় মুহাম্মদ (সঃ) লিখিত অহির বাইরে কিভাবে প্রকাশ করেছেন, তা দেখার জন্য আমি নিজে হাদীস সাহিত্যের গভীরে প্রবেশের চেষ্টা করেছি। সহি মুসলিম নির্ভুল হলেও আমি আমার পরীক্ষায় সর্বাধিক নির্ভুল বলে বিবেচিত আল-বুখারী বেছে নিয়েছি। আমি সর্বদা স্মরণ রাখতে চেষ্টা করেছি যে, হাদিস যারা সংগ্রহ করেছেন, তাদের অপরের মৌখিক বর্ণনার উপরে আংশিকভাবে নির্ভর করতে হয়েছে এবং বর্ণনাকারীর ভুল বা নির্ভুলতাসহ তারা ঐ বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন। এভাবে লিখিত হাদীস একই বিষয়ে বহুলোকের বর্ণিত হাদীস নিঃসন্দেহে নির্ভুল। (সহি মুসলিম গ্রন্থে প্রথম শ্রেণীর হাদীসকে জান্নি বা সন্দেহজক এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর হাদীসকে কাতি বা নির্ভুল বলা হয়েছে)।
কুরআনের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের তুলনা করে আমি যে ফলাফলে উপনীত হয়েছি, তার সঙ্গে হাদীসের বর্ণনা মিলিয়ে দেখেছি। তাঁর ফল খুবই নৈরাশ্যজনক। বিজ্ঞানের মুকাবিলায় কুরআনের বর্ণনা সর্বদাই নির্ভুল পাওয়া যায়। কিন্তু মূলত বিজ্ঞান বিষয়ক হাদীসের বর্ণনা বৈজ্ঞানিক তথ্যের মুকাবিলায় সন্দেহজনক বলে দেখা যায়। এখানে আমি অবশ্য কেবলমাত্র বিজ্ঞান বিষয়ক হাদীসই পরীক্ষা করে দেখেছি।
কুরআনের কোন কোন আয়াতের ব্যাখ্যামূলক হাদীসের বেলায় ক্ষেত্রবিশেষে এমন ভাষ্য দেয়া হয়েছে যা বর্তমান যুগে আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়।
সূরা ইয়াসিনের ৩৮ আয়াতে সূর্য সম্পর্কে যে বর্ণনা আছে তাঁর গুরুত্ব ও সবিশেষ তাৎপর্য আমরা আগেই লক্ষ্য করেছি। ঐ আয়াতে বলা হয়েছে-”সূর্য আবর্তন করে তাঁর নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে।” অথচ একটি হাদীসে এ ব্যাপারটি এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে-”অস্ত গিয়ে সূর্য ……আরশের নিচে পৌছে সিজদা করে এবং পুনরায় উদিত হওয়ার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেওয়া হয় এবং তারপর এমন একদিন আসবে যখন সে সিজদার উপক্রম করবে…। । পুনরায় তাঁর নিজস্ব পথে চলার (উদিত হওয়ার) অনুমতি চাইবে …তখন যে পথে এসেছে সেই পথে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হবে এবং সে তখন পশ্চিম উদিত হবে…” (সহি আল বুখারী, কিতাবু বাদউল খালক বা আদি সৃষ্টির গ্রন্থ, চতুর্থ খন্ড, ২৮৩ পৃষ্ঠা, ৫৪ অংশ, চতুর্থ অধ্যায়, ৪২১ নম্বর) । মূল পাঠতি অস্পষ্ট এবং তাঁর অনুবাদ করা কঠিন। তবে এ বর্ণনায় যে উপমামূলক কাহিনী আছে তাতে সূর্যের পৃথিবী পরিক্রমার একটি ধারণা পাওয়া যায়। এ ধারণা আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পরিপন্থী। সুতরাং এ হাদীসটির সঠিকতা সন্দেহজনক।
ঐ একই গ্রন্থে (সহি আল বুখারী, কিতাবু বাদউল খালক বা আদি সৃষ্টির গ্রন্থ, চতুর্থ খন্ড, ২৮৩ পৃষ্ঠা, ৫৪ অংশ, ষষ্ঠ অধ্যায়, ৪৩০ নম্বর) মাতৃগর্ভে ভ্রুণের ক্রমবিকাশের পর্যায়গুলি সময়ের হিসাবে প্রকাশ করা হয়েছে। মানব দেহের উপাদানগুলি শ্রেণীবদ্ধ হওয়ার জন্য চল্লিশ দিন, ‘যাহা লাগিয়া থাকে’ পর্যায়ের জন্য আরও চল্লিশ দিন, এবং ‘চর্বিত গোশত’ পর্যায়ের জন্য তৃতীয় চল্লিশ দিন। তারপর ফেরেশতাদের মধ্যস্থতায় তাঁর তকদির নির্ধারিত হওয়ার পর তাঁর মধ্যে রুহ ফুঁকে দেয়া হয়। ভ্রুণের ক্রমবিকাশের এ বিবরণ বৈজ্ঞানিক তথ্যের সঙ্গে মেলে না।
আরোগ্যের সহায়ক হিসেবে (রোগের নাম উল্লেখ না করে) মধুর সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে একটি মাত্র মন্তব্য (সূরা নাহল, আয়াত ৬৯) ছাড়া কুরআনে রোগের প্রতিকার সম্পর্কে আদৌ কোন উপদেশ দেয়া হয়নি। অথচ হাদীসে এ বিষয়ে বিস্তারিত উপদেশ ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সহি আল-বুখারীর একটি সম্পূর্ণ অংশই (৭৬ অংশ) ঔষধ বিষয়ক। এ অংশটি হৌদাস ও মারকাইসের ফরাসী তরজমায় চতুর্থ খন্ডের ৬২ থেকে ৯১ পৃষ্ঠা পর্যন্ত এবং ডক্টর মুহাম্মদ মুহসিন খানের দ্বিভাষিক আরবী-ইংরেজী সংস্করনে সপ্তম খন্ডের ৩৯৫ থেকে ৪৫২ পৃষ্ঠা বিস্তৃত। এ দীর্ঘ বিবরণে যে অনেক অনুমানভিত্তিক হাদীস আছে সে সম্পর্কে কোনই সন্দেহ নেই। তবে এ বিবরণের একটি গুরুত্ব আছে-তৎকালে চিকিৎসা বিষয়ক বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে ধারণা পোষণ করা সম্ভব ছিল তাঁর একটি পরিচয় এখানে পাওয়া যায়। এ সঙ্গে আল-বুখারীর অন্যান্য অধ্যায়ে চিকিৎসার প্রাসঙ্গিক যে সকল হাদীসে আছে তাও যোগ করা যায়।
এভাবেই আমরা কুনজর, ভূতে-ধরা ও ভারণ-তাড়ন বিষয়ক বিবরণ পাই। অবশ্য এ ব্যাপারে পয়সার বিনিময়ে কুরআনের ব্যবহার নিষেধ আছে। একটি হাদীসে বলা হয়েছে যে, এক শ্রেণীর দিন-তারিখ যাদুর বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে এবং বিষধর সাপের বিরুদ্ধে যাদু প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে এ প্রসঙ্গে একটি বিষয়ে স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, ঔষধ এবং তাঁর সঙ্গত ব্যবহারের সম্ভাবনা যখন ছিল না তখন সেই মলে স্বাভাবিক ভাবেই নানাপ্রকার টটকার প্রচলন ছিল। রক্ত ঝরানো, আগুনে সেক দেয়া, উকুনের উৎপাতে মাথা কামানো, উটের দুধ ও নানাবিধ জীব ও গাছ গাছড়ার ব্যবহার যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল। রক্ত পড়া বন্ধ করার জন্য তালপাতার মাদুর পুড়িয়ে সেই ছাই ক্ষতস্থানে লাগানো হয়। জরুরী পরিস্থিতিতে তৎকালীন বুদ্ধিবৃত্তি ও অভিজ্ঞতার আলোকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হত। তবে উটের পেশাব পান করতে বলা বোধহয় খুব একটা ভালো কাজ ছিল না।
বিভিন্ন রোগের ব্যাপারে হাদিসে যে ব্যাথাপাওয়া যায় আজকের দিনে তা সঠিক বলে মেনে নেয়া দুষ্কর। কয়েকটি উদাহরন দেয়া যাতে পারেঃ
জ্বরের উৎসঃ”দোযখের উত্তাপ থেকেই জ্বর হয়” এ বক্তব্যের সমর্থনে চারটি বর্ণনা আছে (আল-বুখারী, কিতাবুল তিব, সপ্তম খন্ড, ২৮ অধ্যায়, ৪১৬ পৃষ্ঠা) ।
-প্রত্যেক রোগের প্রতিকার আছেঃ”আল্লাহ এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেন নি যার প্রতিকারও তিনি সৃষ্টি করেননি” (ঐ, প্রথম অধ্যায়, ৩৯৫ পৃষ্ঠা) ।
এ ধারণাটি মাছি বিষয়ক হাদীসে উদাহরণ দিয়ে বুঝানো হয়েছে-”কোন পাত্রে মাছি পড়লে সম্পূর্ণ মাছিটি ডুবিয়ে ফেলে দাও, কারণ তাঁর এক পাখায় রোগ এবং অপর পাখায় রোগের প্রতিকার আছে (ঐ, ১৫-১৬অধ্যায়, ৪৫২-৪৫৩ পৃষ্ঠা, এবং কিতাবুল বাদউল খালক, ৫৪ অংশ, ১৫-১৬ অধ্যায়)
-সাপের নজরে গর্ভপাত হয় (অন্ধও হতে পারে) । (ঐ, কিতাবু বাদউল খালক, চতুর্থ খন্ড, ১৩-১৪ অধ্যায়, ৩৩৩-৩৩৪ পৃষ্ঠা)
-দুই ঋতুকালের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তপাতঃ এ বিষয়ে হাদীসে আছে (ঐ, কিতাবুল হায়েজ, ষষ্ঠ খন্ড, ৬ অংশ, ২১ ও ২৮ অধ্যায়, ৪৯০পৃষ্ঠা) । একটি হাদীসে রক্তক্ষরণের সংক্ষিপ্ত বর্ণনাদিয়ে বলা হয়েছে যে, রক্তনালীথেকে রক্তপাত হয়। অপর হাদীসে একজন নারীর সাত বছর যাবৎ ঐ রোগ ভোগের বিষয় উল্লেখ করে ঐভাবে কারণ নির্ণয়ের অনুকূলে যে কি যুক্তি ছিল তা জানা সম্ভব নয়। তবে কারণটি হয়ত সঠিক ছিল। এ রোগ রক্তপ্রদর নামে পরিচিত।
-রোগ সংক্রামক নয়ঃ এ বিষয়ে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ বর্ণনা ছাড়াও (ঐ, কিতাবুল তিব, সপ্তম খন্ড, ৭৬ অংশ, ১৯, ২৫, ৩০, ৩১, ৫৩ ও ৪৫ অধ্যায়) কয়েকটি নির্দিষ্ট রোগের কথা বলা আছে- কুষ্ঠ (৪০৮পৃষ্ঠা), প্লেগ (৪১৮ ও ৪২২) । ও উটের পাচড়া (৪৪৭পৃষ্ঠা) । কিন্তু সংক্রামক নয় বলা হলেও তাঁর পাশাপাশি আবার প্লেগ রোগের এলাকায় না যাওয়া এবং কুষ্ঠরোগীর কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এ অবস্থার কারণে এসিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব যে এমন কিছু হাদীস আছে যা বৈজ্ঞানিক দিক থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। এ জাতীয় হাদীসের আসল হওয়া সম্পর্কেও সন্দেহের অবকাশ আছে। তথাপি এ হাদীসগুলির উল্লেখ করার একটি প্রয়োজনীয়তা আছে। উপরে কুরআনের যে আয়াতগুলির উল্লেখ করা হয়েছে তাঁর মুকাবিলায় এগুলি মিলিয়ে দেখা গেল এবং দেখা গেল যে, কুরআনের আয়াতে একটি কথাও ভুল নেই, একটি বিবরণও বেঠিক নেই। স্পষ্টতই এ মন্তব্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসঙ্গত স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, নবীর ইন্তিকালের পর তাঁর শিক্ষা থেকে পথ নির্দেশের জন্য দুটি উৎস ছিল-কুরআন ও হাদীস।
-প্রথম উৎস কুরআন। বহু মুসলমানের সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্ত ছিল এবং নবীর মতই তারা অসংখ্য বার তা আবৃত্তি করতেন। তাছাড়া কুরআন তখন লিখিত আকারেও ছিল। কেননা নবীর আমলেই, এমন কি হিজরতের (৬২২ খৃষ্টাব্দে অর্থাৎ নবীর ইন্তিকালের দশ বছর আগে) আগেই কুরআন লিপিবদ্ধ করা শুরু হয়েছিল।
-দ্বিতীয় উৎস হাদীস। নবীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীগণ (সাহাবীগণ) এবং অন্যান্য মুসলমানগণ যারা তাঁর কাজের কথার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তাদের ঐসব বিষয় মনে ছিল এবং নতুন আদর্শ প্রচারের সময় কুরআন ছাড়াও তারা নিজ নিজ স্মৃতির সহায়তা পেতেন।
নবীর ইন্তিকালের পর কুরআন ও হাদীস সংগ্রহ করে সংকলিত করা হয়। হিজরতের প্রায় চল্লিশ বছর পর প্রথমবার হাদিস সংগ্রহ করা হয়। কিছু কুরআনের প্রথম সংগ্রহ সম্পন্ন হয় আগেই খলিফা আবু বকরের আমলে এবং বিশেষত খলিফা উসমানের আমলে। খলিফা উসমান তাঁর খিলাফাতের আমল (নবীর ইন্তিকালের বার থেকে চব্বিশ বছরের মধ্যে) কুরআনের একটি সুনির্দিষ্ট পাঠ প্রকাশ করেন।
বিষয়বস্তুগত এবং সাহিত্যিক বৈশিষ্টের দিক থেকে কুরআন ও হাদীসের মধ্যে যে বৈষম্য আছে তাঁর উপর আমরা সবিশেষ জোর দিতে এবং গুরুত্ব আরোপ করতে চাই। কুরআনের স্টাইলের সঙ্গে হাদীসের স্টাইলের তুলনা করার কথা কল্পনাও করা যায় না। অধিকন্তু আধুনিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের আলোকে বিষয়বস্তু বিবেচনা করা হলে উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য ও বিরোধিতায় হতবাক হয়ে যেতে হয়। আমি আশা করি আমি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যেঃ
-একদিকে কুরআনের বর্ণনা প্রায়শ অতি সাধারণ বলে মনে হলেও তাঁর মধ্যে এমন অর্থ ও তথ্য নিহিত আছে যা পরবর্তীকালে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আবিষ্কৃত হয়েছে বা হবে।
-অপরদিকে হাদীসের কোন কোন বর্ণনা তৎকালীন সময়ের ধ্যানধারণার সঙ্গে পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ হলেও বর্তমানে তা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে সাব্যস্ত হয়েছে। ইসলামী নীতি ও বিধান বিষয়ক যে সকল হাদীসের আসল হওয়া সম্পর্কে কোনই সন্দেহ নেই সেই সকল ক্ষেত্রে এ অবস্থা দেখা যায় না।
এ প্রসঙ্গে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, মুহাম্মদ (সঃ) নিজে কুরআন সম্পর্কে যে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন তাঁর নিজের উক্তি সম্পর্কে ঠিক সেই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন না। কুরআনকে তিনি আল্লাহর কালাম বলে ঘোষণা করেন। আমরা আগেই দেখেছি সুদীর্ঘ বিশ বৎসর যাবত সর্বাধিক যত্ন ও সতর্কতা সহকারে কুরআনের সূরা ও আয়াত শ্রেণীবদ্ধ করেছেন। তাঁর জীবিতকালেই কুরআন লিপিবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল, বহু লোকে মুখস্ত করে ফেলেছিল এবং নামাযে তা প্রতিনিয়ত আবৃত্তি করা হত। পক্ষান্তরে হাদীস মূলত তাঁর কাজের ও ব্যক্তিগত অভিমতের বিবরণ বলে কথিত। এ ব্যাপারে তিনি নিজে কোন নির্দেশ দিয়ে যাননি- তাঁর কথা ও কাজের মধ্যে যে কেউ ইচ্ছে করলে তাঁর ব্যক্তিগত আচরণের জন্য নজির খুজে নিতে পারেন এবং তা প্রচারও করতে পারেন। তিনি নিজে এ ব্যাপারে কিছু বলে যাননি।
যেহেতু অতি অল্পসংখ্যক হাদীসেই মুহাম্মদের (সঃ) নিজের চিন্তাধারা প্রতিফলিত হয়েছে, সেহেতু অন্যান্য হাদীসে, বিশেষত এখানে উল্লেখিত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কিত হাদীসে স্পষ্টতই তাঁর আমলের লোকদের চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটেছে। কুরআনের সঙ্গে তুলনা করলেই এ সন্দেহজনক বা জাল হাদিসগুলি যে কত দূরে অবস্থিত তা সহজেই বুঝা যায়। এ তুলনায় একটি পার্থক্য খুবই স্পষ্ট হয়ে ওঠে (তাঁর যদি আদৌ কোন প্রয়োজন থেকে থাকে) হাদীসে অর্থাৎ ঐ আমলের রচনায় অনেক বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল তথ্য ও বিবরণ আছে; এবং লিখিত আহির গ্রন্থ কুরআনে এমন কোনই ভুল নেই।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে হাদিসের সত্যতা সন্দেহাতীত। কিন্তু বৈষয়িক বিষয়ক হাদীসের ক্ষেত্রে নবীর সঙ্গে অন্য কোন পার্থক্য নেই। একটি হাদীসে মুহাম্মদে (সাঃ) নিজের উক্তি এভাবে বর্ণিত হয়েছে -”ধর্ম বিষয়ে আমি যদি কোন হুকুম দিই তা পালন কর, কিন্তু আমি যদি আমার নিজের বিবেচনায় কোন হুকুম দিই তাহলে মনে রেখ আমি একজন মানুষ মাত্র।” আল সারাকসি তাঁর নীতিমালা’য় (আল উসুল) এ বিবরণটি এভাবে লিখেছেনঃ”আমি যদি তোমাদের ধর্ম বিষয়ে কোন কিছু তোমাদের নজরে আনি তাহলে তোমরা সেইভাবে কাজ কর, আর আমি যদি এ দুনিয়া বিষয়ক কোন কিছু তোমাদের নজরে আনি তাহলে তোমাদের নিজের দুনিয়াবী সম্পর্কে তোমদের তো অনেক ভালো জ্ঞান আছে।”
(কপি পেস্ট: কুরঅান বাইবেল ও বিজ্ঞান)

shahriar
আগস্ট ১৬, ২০১৫ at ৪:৪৫ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
waiting for more write for this topic
Momtaz Begum
আগস্ট ১৬, ২০১৫ at ১০:৫৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
এ এক অদ্ভুত বিষয়। আধুনিক বিজ্ঞানের বিবেচনায় যুতসই মনে হলে সেটি সহিহ! গরবর হলেই জাল হাদীস? এমন বড় সুবিধাবাদ অন্য কোন ধর্মে আছে বলে আমার মনে হয় না।
তবে, "অতি চালাকের গলায় দড়ি" বলে একটা কথা আছে। আশা করি আমাদের মুসলিম ভাইরা এ বিষয়টি মাথায় রাখবেন।
ধন্যবাদ।
সুলতান মাহমুদ
আগস্ট ১৭, ২০১৫ at ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিজ্ঞানের তত্ত্ব, যে গুলো পরিবর্তনশীল; সে গুলো না হয় বাদ দিলাম৷ অার বিজ্ঞানের তথ্য, যে গুলো চিরন্তন সত্য এবং কুরঅানের সাথে সামঁজস্যপূর্ণ কিন্তু হাদীস এর সাথে সু-সামঁজস্যপূর্ণ নয়; তখন অাপনি কোনটি কে অধিক গুরুত্ব দিবেন! কারণ এ ধরনের পরিস্থিতিতে কুরঅান ও হাদীস পরস্পর প্রতিদ্বন্দী হয়ে যায়, অামাদের উচিৎ এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় গুলো সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা৷
আগস্ট ১৭, ২০১৫ at ৯:৫৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
"বিজ্ঞানের তত্ত্ব, যে গুলো পরিবর্তনশীল; সে গুলো না হয় বাদ দিলাম৷ অার বিজ্ঞানের তথ্য, যে গুলো চিরন্তন সত্য এবং কুরঅানের সাথে সামঁজস্যপূর্ণ কিন্তু হাদীস এর সাথে সু-সামঁজস্যপূর্ণ নয়; তখন অাপনি কোনটি কে অধিক গুরুত্ব দিবেন! কারণ এ ধরনের পরিস্থিতিতে কুরঅান ও হাদীস পরস্পর প্রতিদ্বন্দী হয়ে যায়, অামাদের উচিৎ এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় গুলো সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা।"
আপনি বেজায় বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ, কোরাণের বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ, ধন্যবাদ।
তো ভাইজান, আল কোরাণে জিজ্ঞানের আর কী কী সরঞ্জাম লুকিয়ে আছে যা ভবিষ্যতে বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করবে, একটু বলেন তো, শুনি @ জনাব সুলতান মাহমুদ??
সুলতান মাহমুদ
আগস্ট ১৯, ২০১৫ at ৪:২৩ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
অপেক্ষায় থাকুন……
মাহফুজ
আগস্ট ১৭, ২০১৫ at ১২:০৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আসুন, আর দেরি না করে 'আহলে হাদিছ বা আহলে কোরআন' নামক দলাদলি দূর করার প্রয়াশ নেই। অযথা কটুক্তি, বাড়াবাড়ি ও বিদ্বেষ ছেড়ে আল্লাহর রজ্জু আল--কোরআন এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হাদিছ/ সুন্নাহ অর্থাৎ রাসূলের (সাঃ) আদর্শকে চিনে ও বুঝে পালন করার জন্য দৃপ্ত অঙ্গীকার গ্রহণ করি।
এখানে আমন্ত্রণ- আপনি কি ভ্রান্ত 'আহলে-কুরআন'?
মাহফুজ
আগস্ট ১৭, ২০১৫ at ১২:০৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
শুধু বিজ্ঞানর নয়, বরং আল্লাহর রজ্জু আল--কোরআন এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হাদিছ/ সুন্নাহ অর্থাৎ রাসূলের (সাঃ) আদর্শকে চিনে ও বুঝে পালন করার জন্য দৃপ্ত অঙ্গীকার গ্রহণ করি।
এখানে আমন্ত্রণ- আপনি কি ভ্রান্ত 'আহলে-কুরআন'?
Milon
আগস্ট ১৮, ২০১৫ at ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সত্য কথা বলা বর্তমান সময়ে মহা পাপ, যদি সেটা হয় ধর্মের ব্যাপারে। কারন, যুক্তি আর তর্কের উত্তর যেখানে চা পাতি, সেখানে নীরব থাকাটাই শ্রেয় মনে করি। তা না হলে, বিজ্ঞানের সাথে শুধু কোরান নয়, সমস্ত ধর্ম গ্রন্থেরই কোথায় সাদৃশ্য আর কোথায় বৈশাদৃশ্য আছে, তা একবার ভালো করেই যাচাই করতাম। কোরানে ভুল থাকবে কি করে, যেখানে মিল করার জন্য স্বয়ং জাকির নায়েক ই যথেষ্ট। সৌদি বাদশা কর্তৃক কোরানের যে ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে, জাকির নায়েকের নিকট সেখানেও ভুল ধরা পরেছে।
ধর্মের মূল ভিত্তি প্রমানে নয়, অতিন্দ্রিয়ে বিশ্বাস। আর বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি অতিন্দ্রয়ে অবিশ্বাস পূর্বক প্রমানে বিশ্বাস। ধর্ম আর বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি ই যেখানে একে অন্যের বিপরীত, সেখানে বিজ্ঞানকে দিয়ে ধর্মের সত্যতা প্রমান করার চেষ্টা কতটা বুদ্ধিমানের কাজ, তা আরেকবার চিন্তা করা দরকার।
কোরানের বানী, “আল্লাহ আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষন করান।” বৃষ্টি কি আসমান থেকে হয়, নাকি মেঘ থেকে? ঐ মেঘটাকেই যদি আসমান ধরি, তাহলে ৭ আসমানের কথা ভ্রান্ত স্বীকার করতে বাধ্য। কারন, এক আসমান থেকে আরেক আসমানের দূরত্ব ৭০ হাজার বছরের পথ। মেঘের দূরত্ব কি তাহলে ৭০ হাজার বছরের পথ? কোনটাকে সঠিক মানবেন?
সূরা বাকারায়, সূর্যের উদয় অস্তের দ্বারা পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্যের প্রদক্ষিন বোঝানো হয়েছে। কতখানি সত্য এটা?
আপনি নিজেই বলেছেন, গর্ভাবস্থায় একটা সময় পরে আল্লাহ রুহ ফুঁকে দেন। রুহ দেবার পূর্ব পর্যন্ত কি তবে কোষ এবং মৃত ছিল? তাহলে কোষ বিভাজন কেমনে হয়? যদি জীবিতই থাকে, তাহলে আল্লাহর রুহ প্রদানের দরকার কি?
আল্লাহ দয়াময়, এটা কোরানের কথা। কিন্তু খাদ্য খাদকের এই চক্রে সাপ যখন ব্যং ধরে খেতে থাকে, তখন সাপের নিকট স্রষ্টা না হয় দয়াময় হল, কিন্তু ব্যাং এর নিকট কি করেরে দয়াময় হয়?
Shahriar
আগস্ট ১৮, ২০১৫ at ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Read Qur’an and remember this book not only for this time.. It travel thorough any time in any condition.
Allah will help us and u (if u want help)
এম_আহমদ
আগস্ট ২৫, ২০১৫ at ৬:০৬ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ওদের কখনো জ্ঞান হবে না। কারণ ওদের চিন্তায় কোন স্থিতি নেই –দোয়েল (magpie) পাখির মত, অস্থির। আগের এক মন্তব্যে বলেছিল আকাশ নাকি তার দৃষ্টিতে ‘দৃষ্টির সীমানা’। বিজ্ঞানী বটে! সেই মূর্খামির উত্তর দিয়েছিলাম। এখন তার আগের কথাতে সামান্য পরিবর্তন করে আবার হাজির হয়েছে।
এই মূর্খের ধারণা মেঘ আর বৃষ্টি সম্পর্কে (৫৬:৬৯, ৭৮:১৪, ২৪:৪৩, ৩৫:৯) কোরান অনবিহিত। কারণ সে কোরান পড়েনি। রাস্তার অপদার্থ। ভাষিক ব্যবহার হচ্ছে সামাজিক। সব ভাষায় আকাশ থেকে বৃষ্টি ঝরার ব্যবহারিক রূপ রয়েছে। আমরা ইংরেজিতেও বলি the sky is pouring with rain, বাংলায় বলি, আকাশ থেকে বারি বর্ষিত হচ্ছে। কোরান আরবি ভাষার এক প্রাঞ্জল গ্রন্থ। ভাষার ব্যবহারিক সৌন্দর্য এখানে চরম রূপ লাভ করেছে। এখানে বিভিন্ন শব্দ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
এবারে তার আগের প্রশ্ন দেখুন, Link to previous comment. এরা নাকি বিজ্ঞানী! তাদের আকাশ হচ্ছে ‘দৃষ্টির সীমানা’। জিজ্ঞেস করে দেখুন কোন বিজ্ঞানী সে; বিজ্ঞানে কি অবদান রেখেছে -দেখবেন কি বলে। এরা ফাজিলের জাত! তার সূর্য উদয়-অস্তের বিষয়টি অন্য মন্তব্যে উত্তর দিয়েছি, কোন মন্তব্যে দিয়ে সেটা স্মরণ করতে পারছি না, কেউ পারলে লিঙ্ক করতে পারেন। কোরানে অপরাপর অনেক লোকের বক্তব্য ও যুক্তির বর্ণনা (narrative)উদাহরণ হিসেবে এসেছে। তা বক্তাদেরই যুক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি বহন করে। যেমন যুল-কারনাইন কীভাবে সূর্যাস্ত দেখেছেন তারও একটি বিবরণ রয়েছে। কিন্তু মিলন মূর্খদের পার্থক্য বুঝার শক্তি নেই। তাছাড়া মানুষ দৈনন্দিন জীবনে যে রেফরেন্স, ভাষা, যুক্তি ও ভাবার্থে কথা বলে সেগুলো সব সময় ‘যান্ত্রিক’ দেখা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে বর্জিত হয় না –সেই সত্য থেকেই যায়। আমাদের মানবিক রেফরেন্স-পয়েন্ট থেকে সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উঠতে দেখি। এটা চর্ম-চোখের সত্য ও বাস্তবতা। আজও বিশ্বের সকল দেশের দৈনিক কাগজে Sunrise ও Sunset সময় লিখে। সব দেশের লোক এখনো সূর্য পূর্ব দিকে উঠে বলে। এই মিলন মূর্খ সূরা বাকারায় কোথায় সূর্য পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার কথা দেখল? এই মালুদের সাধারণ ভাষা জ্ঞান নেই, কিন্তু বিজ্ঞান বিজ্ঞান করে মূখে ফেনা তুলে।
Lutfunnesa
আগস্ট ১৮, ২০১৫ at ৪:২৯ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
@ Milon
"সত্য কথা বলা বর্তমান সময়ে মহা পাপ, যদি সেটা হয় ধর্মের ব্যাপারে। কারন, যুক্তি আর তর্কের উত্তর যেখানে চা পাতি"
এত সহজ সরল কারনে মানুষ আঘাত করে? শুধুমাএ যুক্তি তর্কের কারনে? জোকস্টার কথা মনে পড়ে গেল-কিরে মাথা ফাটল কি করে? ফুলের আঘাতে। মানে? না, মানে ফুলের সাথে ফুলদানীটাও ছিল।আপনাদের চোখে সমালোচনার ঐ সুন্দর ফুলগুলো শুধু ধরা পরে, নীচে লুকিয়ে থাকা তীব্্র ঘৃনা বিদ্বেশের শক্ত ফুলদানীটা না। সত্য কথা সবার কাছে সবসময়ই আদরনীয়।
Milon
আগস্ট ২৪, ২০১৫ at ১১:৪২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
Lutfunnesa
আপনার জোকস পড়ে আমার একটা জোকস মনে পড়ে গেল। আমি পল্লী গ্রামের মানুষ। গ্রামের এক বন্ধুকে বলেছিলাম, "তুই কি ভূত পেতনি এসবে বিশ্বাস করিস?
সে উত্তরে বলেছিল, "আরে নাহ। এসব হয় নাকি? সব কুসংস্কার।
তখন আবারো বললাম, " জিন পরী বিশ্বাস করিস?"
সে বলল, "হ্যাঁ করি তো। কারন কোরানে জিনের কথা বলা আছে।"
বাঁকিটা বুঝে নিতে পারবেন আশাকরি।
নির্ভীক আস্তিক
আগস্ট ২৬, ২০১৫ at ২:২২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি আসলেই একটা আস্ত রকমের বেহায়া। "যুক্তি আর তর্কের উত্তরে চাপাতি আসে" এই কথার বিপরীতে আপনাকে "Lutfunnesa" যে উদহারন দিয়েছেন তাতে আপনার একটু হলেও লজ্জা হওয়ার কথা। সেখানে আপনি আরেকটু ফালতু প্রসঙ্গ টেনেছেন যেখানে আপনার দেয়া কৌতুককেই আরেকটু বর্ধিত করে আপনাকে একটি ওম-নারায়নে বিশ্বাসী গঙ্গারজ্বলের পবিত্র করানো বাছুর ছানা অথাব বানরের আদিজাত Ape বানিয়ে দেয়া যাবে। আপনাদের মত নাস্তিক প্যাগানদের সমস্যাই এটা। প্রায় প্রত্যেকেই মূল্যবোধ হীন বিধায় অতিরিক্ত মাত্রায় নির্লজ্জ এবং নূন্যতম সাধারন নাস্তিক/প্যাগান রাও অন্যান্য Religeous Extrimist দের তুলনায় ভয়ঙ্কর রকম মিথ্যাবাদী, ত্যানাপেচানো ও একমুখে দুই কথা বলা স্বভাবের ইতরজাত প্রানি বিশেষ ।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ২৮, ২০১৫ at ১:১৬ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ইসলাম বিশ্বের একটি প্রধানতম ধর্ম যার ভিত্তি হাজার হাজার বছরের এবং অনুসারীদের সংখ্যাও এই হাজার হাজার বছরে হাজার হাজার কোটি। প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি অনেক গভীরে। সুশৃঙ্খল নিয়মের মধ্যে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে সুগভীর শ্রদ্ধা-একনিষ্ঠতায় অনুসৃত হয়ে চলেছে। ইসলাম নামক এই বৃহত্তম ধর্মের মূল ভিত্তি ক্বুরআন। কাজেই সেই ক্বুরআনে যদি কিছু বলা হয় অবশ্যই মানবজাতির বিশালতম একটি অংশের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকবে। হাজার হাজার বছর ধরে অসংখ্য ব্যক্তির 'জ্বিন' সম্পর্কিত ব্যক্তিগত-সমষ্টিগত অভিজ্ঞতার ইতিহাসেরও নেপথ্য ভূমিকা রয়েছে যা প্রজন্ম পরম্পরায় কথিত হয়েছে।
* পক্ষান্তরে ভূত-প্রেত ইত্যাদির কোন শক্ত বিশ্বাসযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই।
Milon
আগস্ট ২৫, ২০১৫ at ৯:১৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আপনি তো দেখছি অসাম ধার্মিক। টুনটুনির মত স্থীর মস্তিষ্কের অধিকারী। আমি বিজ্ঞানী আপনাকে কে বলেছে? মানুষের জানার মাঝে কমতি থাকতে পারে, তার জন্য আপনি কি তার মুখটাকে বন্ধ করতে চান? অবশ্য আপনাদের মত ধার্মিক এছাড়া আর কিই বা পারে।
অনেক কথাই আমরা মুখে বলি এমনকি বই পুস্তকেও দেখি। যেমন, ঘোড়ার ডিম, পঙ্খিরাজ ঘোড়া ইত্যাদি, এসবের অস্তিত্ত আছে নাকি? আপনি কোরান পড়ার কথা বলছেন, কার অনুবাদ পড়া উচিত? ভাই গীরিস চন্দ্র সেনের? আখতারুজ্জামানের? নাকি আধুনিক অনুবাদক জাকির নায়েকের? নাকি এরপরে যে নতুন রুপে অনুবাদ করবে, তার অপেক্ষায় থাকবো?
চর্ম চোখে সূর্যকে দেখা ভুল নয়, কিন্তু তাই বলে সূর্যকে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ করার কথা মানতে হবে নাকি? অবশ্য আপনাদের মত ধার্মিক গন মানতে পারেন, কারন দিন শেষে আপনাদের ধরমের সূর্য তো আবার আল্লাহর আরশের নিচে অবস্থান করে।
নির্ভীক আস্তিক
আগস্ট ২৬, ২০১৫ at ২:৫০ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
না, আপনি আসলে একটা গণ্ডমূর্খ। অইযে একদিন আপনাকে মুর্খামি আর অজ্ঞতা এর সংজ্ঞা বুঝিয়েছিলাম উদহারন দিয়ে মনে আছে ? আপনি এখানে মুর্খামি করছেন। অজ্ঞকে জানানো যায়, আর মূর্খকে "অ আ" থেকে শুরু করতে হয়, পড়তে না পারলে পাছায় একটু দুটো আলত বেতের বাড়ি। নাহয় শিখবেন কেমনে ? মাষ্টার মশায়দের তো আগে পেন্নাম, তারপর অন্যকিছু। জনক-জননী রা শিখায়নি কিছু ? আগে হাততুলে তারপর জিজ্ঞাস করে তারপর চুপচাপ বসে থাকতে হয়। মাষ্টার মশায়রা যখন উত্তর দিতে মন চাবে দিবেন। বেশি দেরী হলে চোখ নামিয়ে আদবের সহিত আবারো জিজ্ঞাস করতে হয়। এর অন্যথায় নিজেই জিজ্ঞাস করে নিজেই উত্তর দিতে চাইলে বয়স কমে বেয়াদবী, আর বুড়ো ভাম হলে মুর্খামি।
এখন যেহেতু আপনি আবারো কথা গুজে দিতে চাইছেনঃ তাই আপনি মূর্খ বেয়াদব কিন্তু অজ্ঞ নন, তাই বলছিঃ "এই মিলন, আবার বেয়াদবী করেনা সোনা। তুমি তো এখানে বলছ না, তুমি লিখছ। 'বলা'- কে 'লিখা' বলার মত মুর্খামি কেন? ধার্মিক বাবা-মার আদরে বড় হওয়া এই নাস্তিক/প্যাগানরা যে আজাকল কিসব বলে। বাবা-মাদের আর কি দোষ। তারা কি জানত তাদের ছেলেপেলেরা এত মিথ্যাবাদী হবে, কথার যচ্চোরি করবে, যা তাদেরকে বলা হয়নি, তাও বানিয়ে বলবে পুরোনো গ্রাম বাংলার লম্পট তালুকদারদের চামচাদের মত। এখানে সেখানে ছাগল ছানার মত তিড়িং বিরিং করবে আসলে হয়েছে কি এগুলি গ্রাম বাংলার নাস্তিকতা-পোউত্তিলিকতার বহমান চরিত্র, হাজার বছরের "।
হুম তবে নাস্তিকতা আবার বিশ্বাসের বস্তু হলেও বিজ্ঞানের ভাইরা ভাই। নাস্তিকতা ছারা বিজ্ঞান অন্ধ, ওটা ছারা বিজ্ঞান পঙ্গু। তাই বিজ্ঞান দিয়ে নাস্তিকতা প্রমানের কোন মানে নেই। উহুম। নাস্তিকতাই যেখানে বিজ্ঞানের আদিজাত, নাস্তিকরাই যেখানে দিয়েছে বিজ্ঞানকে পয়দা, সেখানে নাস্তিকতাকে বিজ্ঞান দিয়ে সত্যতা প্রমানের মানে নেই। যারা করে তারা বেকুব। বিবর্তনবাদের যে অংশ নাস্তিকতাকে একটু আশার আলো দেয় তাই আসল বিজ্ঞান, বাকি সব নকল। ধর্মের সাথে বিজ্ঞান এ অন্যায় কিন্তু নাস্তিকতার বিজ্ঞান তাই ন্যায়। ২০০ বছর আগে তাগোরা অন্ধকারের প্রানী হলেও আসলে নাস্তিকরাই করেছে বিজ্ঞানের যাবতীয় উন্নতি সাধন, দিয়েছে একে সুমহান মর্যাদা। আর তারই চুরান্ত ফলাফল হবে আচার্য, সমকামিতা, ব্যাধশাবৃত্তি এসবকে সামাজিক সংস্কৃতির বৈজ্ঞানিক মূল উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। যেসকল ধার্মিক বিজ্ঞানের জন্য যা কিছু একটা করছে তাও আবার আসলে তারা ভিতরে নাস্তিক-প্যাগানই ছিল। বর্তমান নাস্তিকরাও Time machine দিয়া বৈজ্ঞানিক ভাবে সেটা জাইনা লইছে। ঠেকা সামলাও।
আরে না, কিন্তু ঐ যে নাস্তিকতার বৈজ্ঞানিক বিবর্তনবাদ আমাগোরে যা কয় বেবাক আছে। সব দেখি। খালি চোখেই দেখন যায়। ফের মুর্খামি। জানতে চাওয়ার পরে আবার নিজেই উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা। আসলেকি কুকুরের পেটা ঘি সয় না। কই একটু ভদ্র আচরণ করে কিছু শিখবে তা না, বার বার মুর্খামি। এই খারাপ বিশেষণ টা আপনার কাল্পনিক কুৎসিত চরিত্রের উপর বার বার আপনার নিজের লেখা থেকেই উদহারন দিতে দিতে আমার হাত ব্যথা হয়ে যাচ্ছে। এবার একটু থামুন না ভাই। দোহাই আপনার। আর পাঠামো কইরেন না। ভাই না ভাল আমার
এম_আহমদ
আগস্ট ২৬, ২০১৫ at ৩:৫৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
[১] শুনেন, আপনি একটা নিরেট অপদার্থ, এবং পরধর্ম অসহিষ্ণু গোয়ার। আপনার বিশ্বাস নেই কিন্তু অপরের আল্লাহ বিশ্বাস, ফেরেশতা বিশ্বাস, পরকাল বিশ্বাস -এগুলোই আপনার ক্যাচ-ক্যাচির বিষয়।
[২] আপনার কাছে আকাশ হচ্ছে দৃষ্টির সীমানা! টুনটুনি পাখি ‘স্থির মস্তিষ্কের অধিকারী’ –মূর্খ কোথাকার! কোরানের উপর কোন পড়াশুনা নেই। আবার কি পড়বেন এবং কার অনুবাদ পড়বেন তাও জানা নেই। জাকির নায়েক কোন দিন কোরানের অনুবাদ করল? এত চরম মূর্খ আবার বেহায়াও!
[৩] আপনার নিজ স্বীকৃতিতে আপনি বিজ্ঞানীও না, ধার্মিকও না। তো কোন বিদ্যা নিয়ে এত ক্যাচ-ক্যাচ, এত অসহিষ্ণুতা? কেন এই মুর্খামি, “আকাশকে ছাদ করেছেন আল্লাহ। প্রশ্ন হল, আদৌ কি আকাশ বলে কিছু আছে ভাই? মাথার উপরে ছাদের মত যা দেখি, তা কি আকাশ? নাকি দৃষ্টির একটা সীমানা? অনন্ত মহাশূন্যতার মাঝে আপনি আকাশ পেলেন কোথায় ভাই। কোরানের বাকারা সূরাতে এটাও বলা আছে যে, আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষন করান। আয়াত নাম্বারটা মনে নেই, নাই বলতে পারলাম না। প্রশ্ন হল, বৃষ্টি কি আকাশ থেকে হয়, নাকি মেঘ থেকে? মেঘ আর আকাশ কি এক? … আল্লাহ যদি অবহাওয়ার এই সিস্টেম জানত, তবে কি আবহাওয়া পরিচালনার দায়ভাব মিকাইল ফেরেসতার ঘাড়ে চাপাতো?” Link to this comment কত্তবড় বিজ্ঞানী! কেউ টুটি চেপে ধরলে বলে, ‘আমি বিজ্ঞানী আপনাকে কে বলেছে? মানুষের জানার মাঝে কমতি থাকতে পারে, তার জন্য আপনি কি তার মুখটাকে বন্ধ করতে চান?’ ফাজিল কোথাকার!
[৪] সূরা বাকারায় কোথায় বলা হল সূর্য পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে? মিথ্যা বলতে লজ্জা করে না? অপরের বিশ্বাস দেখে গায়ে আগুন লাগে? অমানুষ কোথাকার! ‘আরশ’ বলতে আপনি কি বুঝেন? পড়া নাই, শুনা নাই, গণ্ডমূর্খ, তাও আবার ‘চেত’ দেখায়! আপনাকে বিশ্বাস করতে কে বাধ্য করছে? আপনার মূর্খতা নিয়ে আপনি থাকবেন, অন্যরা তাদের বিশ্বাস থাকবে, তা হোক আল্লাহতে, পরকালে, ফেরেশতায়, অথবা যদি পঙ্খিরাজ ঘোড়ার কিছু থাকে আর তাতে বিশ্বাস করে, তবে আপনার কি আসে যায়? মহাজ্ঞান চাপিয়ে রাখা দুষ্কর হয়ে পড়ে?
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ২৮, ২০১৫ at ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আমি ভাবছি অন্য কথা।
সনাতনধর্মীদের আধ্যাত্মিক দেউলিয়াপনা গত ১/২ শতাব্দি ধরে বিশেষতঃ গত কয়েক দশক ধরে এতটা করুণ রুপ ধারণ করেছে তা প্রত্যক্ষ করতেও বেদনা বোধ হয়। চুড়ান্ত হতাশাগ্রস্ত ছিন্নমূল যাযাবরের মত তারা হাতড়ে বেড়াচ্ছে অন্ধকারে এতটুকু আলোর প্রত্যাশায়। নিজেদের দর্শনকে বহু আগেই আস্তাকূঁড়ে নিক্ষেপ করে নিজ ঘরে পরবাসী হয়েছে তারা। কিন্তু আত্মাভিমানের আবেগে স্বেচ্ছা-অন্ধত্বের শিকার হতে হতে এক পর্যায়ে সেটি স্থায়ী অন্ধত্বে পর্যবসিত হয়েছে। সাম্প্রদায়িকতাপ্রসূত আত্মাভিমান-গোঁয়ার্তুমি তাদের অন্তরের অন্দরমহলে পুরনো ছত্রাকের মত এক ধরণের আলগা ছদ্ম 'আত্মমর্যাদাবোধ' এর স্যাঁতস্যাঁতে পিচ্ছিল দেয়াল তৈরি করেছে। সেই দেয়াল বেয়ে তৈলাক্ত বাঁশের বাঁদরের মত তারা প্রাণপণ চেষ্টাতেও আর উঠে আসতে পারছে না। নিজেদের বিশ্বের দরবারে ক্রমাগত নিন্দিত হাস্যাস্পদ করা ছাড়া কাজের কাজ কিছু হচ্ছেও না। তবুও সেই দেয়াল যেন তাদের প্রাণাধিক প্রিয়। প্রত্নতাত্বিক সেই ধ্বংসস্তুপের মাঝে গুবরে পোকার মত ডুবে থাকাতেই যেন তবু জগতের সব সুখ।
পরম সত্যকে জানতে হলে অনেক ত্যাগতীতিক্ষা স্বীকার করতে হয়। অনেক কষ্ট করতে হয়।
ঘরে বসে কম্বলমুড়ি দিয়ে মুখ গুঁজে থেকে সেটা সম্ভব নয়।
আহমেদ শরীফ
আগস্ট ২৮, ২০১৫ at ৫:৩৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
আর আপনি একটা হাস্যকর ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে আছেন নিজেকে 'বিজ্ঞানমনষ্ক' ভেবে। আপনি মোটেই বিজ্ঞানমনষ্ক নন। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য থেকে কিছু উধৃতি দিলেই বিজ্ঞানমনষ্ক হয় না। বিজ্ঞানের নিয়মই হল সতত পরীক্ষা নীরিক্ষার মাঝে থাকা ও এই সত্যকে মেনে নেয়া যে কোন কিছুই ধ্রুব, অপরিবর্তনশীল, চুড়ান্ত নয় _ স্থান-কাল-পাত্র-ক্ষেত্রবিশেষে রুপান্তর-পরিবর্তন ঘটতেও পারে। এখনো পর্যন্ত যা প্রমাণ হয়নি তা কখনো হবে না বা হতে পারেই না _ এ ধরণের চিন্তা মোটেই বৈজ্ঞানিকসুলভ নয়। বৈজ্ঞানিক মন সদা কৌতূহলি, অনুসন্ধিৎসু, সারল্যে ভরা জিজ্ঞাসার ধারাবাহিকতার মাঝেই সতত বহমান থাকে।
কিংশুক
আগস্ট ২৬, ২০১৫ at ৫:৩২ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বিজেপি হিন্দুরা বেঁচেই থাকে ইসলামকে শেষ করার আশায়। ওরা ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ/কথা বলতে না পারলে দম ফেটে মরে যাবে । আজব এক মানসিক রোগী হিন্দু জাতীয়তাবাদী কুমার! যে কেউ মুসলমান নির্যাতন করবে বা ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ করবে ওরা তাকেই দেবতা বানিয়ে মাথায় তুলে নাচবে। যেমন দখলদার ইসরাইল ওদের নমস্য ভগবানের জাত। অথচ ইহুদি বা খ্রিস্টানরা হিন্দুদের মূর্তি পুজারী নেংটি শয়তানের চাইতে ব্ড় কিছু ভাবেনা। হিন্দু জাতিয়তাবাদী নাকউঁচু হে দু রাজনীতিবিদ বুদ্ধিজীবীদের কারনে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়েছিল । হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের অধীনে মুসলমানদের পক্ষে 3 য় শ্রেণীর নাগরিক হওয়া মানা যাচ্ছিল না। দাংগা লাগিয়ে ওরাই বেশী মুসলমান মেরেছিল । অথচ সব দোষ মুসলমানদের ঘাড়ে চাপিয়ে সাধু সাজে। বিজেপি হিন্দুরা সব সময়ের বাটপাড়। বাংলাদেশ এর ঐক্য পরিষদও গোয়েবলেসিয় বাটপাড়।হাজার হাজার বছরের ইতিহাসে এমন মা কাল ফল অধঃপতিত অন্য জাতিদের ক্রীতদাস জাতি আর নাই। মুসলমান খ্রিস্টান রাজা সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিজ্ঞান শিল্পকলা শিক্ষা আবিষ্কার অনেক কিছু হয়েছে । আর হিন্দুরা গাজা সিদ্ধি খেয়ে নিজেদের বিষয়ে চাপাবাজি করা ছাড়া আর কিছুই করে নাই। ওরা দুনিয়ার আবর্জনা ।