ঢাকার কঠিন অবস্থা - জলের শহর - এর ফলে রাস্তাগুলো নষ্ট হবে - পরবর্তীতে রাস্তা মেরামত করার জন্যে আবার ভোগান্তি - তারমানে নগরবাসীদের জন্যে দুর্ভোগের শেষ আপাতত হচ্ছে না।
দেখলাম ঢাকার মেয়ররা দৌড়িদৌড়ি করছেন - কিন্তু অনেকে হয়তো জানেন না - এই পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। টিভিতে দেখলাম ওয়াসার এমডি সাহেব ইতিহাস চর্চা করছেন - কিন্তু গত ৬-৭ বছর উনি এই চেয়ারে বসে কি করলেন তা কিন্তু বললেন না।
প্রকৃত পক্ষে গনতন্ত্রের মুল যে ভিত্তি তা হলো জবাবদিহীতা - সরকাকে জবাব দিতে হয় জনগনের কাছে - সরকারের কাছে জবাবদিহী করতে হয় ওয়াসার এমডিকে - আর এমডির দায়িত্ব তার অধীনে কর্মকর্তাদের কাজের জবাব নেওয়া। বলা যায় এই এমডি পুরোপুরি ব্যর্থ - উনার পদত্যাগ করা অথবা সরকারের উচিত উনাকে বিদায় দিয়ে একজন যোগ্যলোক বসানো। অতীতে কি হয়েছে তা আমরা সবাই জানি - ভবিষ্যতে কি হবে তা নিয়েই কাজ করা জরুরী।
পৃথিবীর সকল বড় বড় শহরের সব দায়দায়িত্ব থাকে মেয়রের - কিন্তু বাংলাদেশে তা নেই - সেখানে মন্ত্রনালয় মানে আমলারা সব কিছুর কর্তৃত্বে থাকে। একটা সিটি গভর্নমেন্ট তৈরী করে ওয়াসাকে নির্বাচিত মেয়রের অধীনে দিয়ে দেওয়ার পর দেখা যাবে কাজ দ্রুত এগুবো - কারন আমলারা মুলত ভাগাভাগিতে বিশ্বাসী - এরা ওয়াসার সাথে ভাগে কাজ করে - ফলে সমস্যা আরো জটিল হচ্ছে।
(২)
আগের যেমনটা বললাম - ঢাকাবাসীর ভোগান্তির মাত্র শুরু - বৃষ্টির পানিতে জলজট - তারপর রাস্তা মেরামত - এই দুর্ভোগের পিছনে যারা তারা মেঘের আড়ালে সূর্যের মতো হাসছে। কারন সরকার নিজেদের বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে জলের মতো টাকা ঢালবে - আর কিছু মানুষ টরন্টো আর সিডনিতে বাড়ি কেনার মতো মুলধন যোগাড় করবে। আগামী বছর আবারো একই পরিস্থিতি হবে। এইটা চক্রাকারে চলবে - যেমন সূর্যের সাথে পৃথিবীর সম্পর্ক।
কিন্তু আসল কথা হওয়ার কথা ছিলো ভিন্ন। প্রকৌশলীরা হলেন একটা সমাজের নিরাপদ এবং সহজজীবন যাপনের নিশ্চয়তার কাষ্টোডিয়ান - উনারা এখন হয়েছেন পলিটিশিয়ান। রাজনীতিও এখন বিপথে - না হলে ওয়াসার এমডি নিজের ব্যর্থতা ঢাকা জন্যে কিভাবে তার অধীনের কর্মরত লোকজনের সমিতিগুলো প্রধানদের পাশে বসিয়ে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সংবাদ সন্মেলন করার সাহস পায়। কারন উনার খুঁটির জোর অনেক বেশী - সাঈদ খোকন হয়তো আগামীতে নমিনেশন পাবেন না - কিন্তু ওয়াসা এমডির সেই ভয় নেই - আর আখের গুছানোর কাজ শেষ - চুক্তি শেষ হলে হয়তো টরন্টো বা নিউইয়র্কবাসী হবেন।
অনেক আগের একটা ঘটনা বলি। যখন চাকুরীর শুরুর দিক - চিফ ইঞ্জিয়ার স্যার একদিন পত্রিকায় একটা খবর দেখতে বললেন - দেখলাম জাপানের কোবে শহরের চীফ ইঞ্জিনিয়ার আত্নহত্যা করেছে - কারন ভূমিকম্পে প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া শহরকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চালু করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন উনি।
আজ বাংলাদেশে দেখি ভিন্ন চিত্র - হাজার কোটি টাকা খরচ করা ড্রেনেজ সিস্টেম দিয়ে পানি যায় না - কারন ওয়াসার লোকজন সেই ড্রেনেজ সিস্টেমকে নষ্ট করেছে সেখানে ডোমেস্টিক সুয়ারেজ (পায়খানার বর্জ্য) কানেকশান দিয়ে - আর তা পরিষ্কারের নামে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে কিছূ কর্মকর্তা বিদেশে পরিবার পরিজন পোষছেন - বাড়ী কিনছেন - কানাডার আমেরিকায় তাদের সন্তানদের । এই মহা দূর্নীতিকে আড়াল করছেন আরেকজন এমডি - যিনি এতোই ক্ষমতাবান যে - মন্ত্রী তাকে ডেকে সালিশ করে মেয়রের সাথে মিটমাট করতে বাধ্য হয়। আর “টাকা কোন বিষয় না” - এই ধরনের একটা অংগীকার মন্ত্রীর কাছ থেকে আদায় করে এমডি বুক ফুঁলিয়ে ফিরে যান। যদি সামান্য আত্নসন্মান বোধ থাকতো বা বিবেক বোধ থাকতো - তবে উনারা ঢাকাবাসীর কাছে লজ্জিত হতেন - বিগত ২০ বছরে হাজার কোটি টাকা লুটপাটের দায়ে কিছু লোকের শাস্তি হতো।
যাই হোক - এখানেই শেষ না - পত্রিকায় দেখলাম - ঢাকা ওয়াসা আরেকটা লুটপাটের পরিকল্পনা করছে - একটা “পরীক্ষামুলক” প্রযুক্তি ব্যবহার করে (হরিজন্টাল বোরিং)র মাধ্যমে পানির পাইপ প্রতিস্থপানের একটা পরিকল্পনা (হয়তো চুক্তি) করে ফেলেছে। যে কোম্পানীকে কাজ দিয়েছে - ওরা পরীক্ষামূলক ভাবে আমেরিকার একটা ছোট্ট শহরে একটা কাজ করেছে - কিন্তু ব্যয়বহুল এবং অকার্যকর বলে সেই প্রকল্প বাদ দেওয়া হয়েছিলো। মাটির নীচের কাজে হরিলূটের সমস্যা নেই - এই কারনে কাজ শুরুর আগে পর্যাপ্ত সমীক্ষা দরকার। সরকারের উচ্চপদের সাথে সখ্যতার সুযোগে এমডি এখন মোস্ট পাওয়ারফুল মানুষ - সমীক্ষা না করেই এই ( যতটুকু দেখলাম - চারহাজার কোটি টাকার প্রকল্প) অকার্যকর প্রকল্প ঢাকা শহরকে বসবাসের জন্যে আরো কঠিন করে তুলবে বলাই বাহুল্য। যেমনটা এরশাদ আর নাজিউর রহমানের বক্স কালভার্ট আর ঢাকার বন্যা বাঁধ করেছে এবং সহায়তা করেছে একদল প্রকৌশলী - যা কোন সমীক্ষা ছাড়াই লুটপাটের জন্যে করা হয়েছিলো। তখন সমীক্ষার কথা বলে একজন শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিবিদকে জেলে যাওয়া এড়াতে দেশ ত্যাগ করতে হয়েছিলো। আজও কি সেই স্বৈরাচার ক্ষমতায়? আসল ঘটনা হলো - যারা এই ধরনের প্রকল্প শুরু করে - তারা তাদের ভাগের অর্থ নিয়ে চলে যায় -পরের জন এসে শুধু আগের জনকে দোষারোপ করে - আবার নতুন প্রকল্প নেয় - এইটা চলতে থাকে চেইন রিএ্যাকশানের মতো - যার ফলাফল জনগনকে টানতে হয়। আর জনগন অতি রাজনীতি সচতেনতার কারনে বিষয়গুলো রাজনৈতিক সমালোচনায় পরিনত করে - এতে মুল হোতারা আড়ালেই থেকে যায়।
এই চক্র থেকে বের হতে না পারলে বাংলাদেশ একটা বসবাস অনুপযোগী দেশে পরিনত হবে - তাই সময় থাকতে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এই জন্যে পেশাভিত্তিক দায়বদ্ধতার বিষয়টা কার্যকর ভাবে চালু করতে হবে। প্রকৌশলীরা দায়বদ্ধ থাকবে তাদের রেগুলেটারী প্রতিষ্টানের কাছে - তাদের লাইসেন্স নিয়ন্ত্রন করবে একটা প্রতিষ্ঠান (যেমন আইইবি - অবশ্য আইইবিকে পেশাজীবিদের প্রতিষ্টানে পরিনত করতে হবে - রাজনৈতিক দলে ব্রাঞ্চ অফিস হিসাবে থাকা চলবে না - যা বর্তমানে আছে) - যেমনটা আছে টেলিকম অথরিটি - যারা সেলফোন কোম্পানীগুলো নিয়ন্ত্রন করে। কোন প্রকোশলীরা কোন আনইথিক্যাল কাজে জড়িত হলে তার লাইসেন্স স্থগিত হবে - প্রমানিত হলে বাতিল হবে। আইন অনুসারে লাইসেন্স ছাড়া কেউ প্রকৌশল পেশায় কাজ করতে পারবে না - এই জন্যে পর্যাপ্ত এবং কার্যকর আইন তৈরী করে তা দেখভালে জন্যে রেগুলেটরী বডি তৈরী করতে হবে। প্রকৌশল পেশা এবং তাদের কাজকে নিয়ন্ত্রন না করা গেলে একটা সমাজ উন্নয়নের নামে একটা বিপজ্জনক জনপদে পরিনত হবে - কারন প্রকৌশলীদের অনৈতিক এবং অসৎ কাজ সাধারন অপরাধের চেয়ে বিপজ্জনক ও পরিনতিও ভয়ংকর- কারন একজন প্রকৌশলী হাজার হাজার মানুষের নিরাপত্তার কাষ্টডিয়ান(আমানতদার) - উদাহরন হিসাবে বলা যায় - সাম্প্রতিক যে নৌযান প্রকৌশলী দূর্নীতির দায়ে গ্রেফতার হয়েছেন - তার অনুমোদিত জাহাজগুলোতে হাজার হাজার মানুষ চলাফেরা করছে - যদি কোন জাহাজকে নিরাপত্তার বিষয়টা উপেক্ষা করে অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে (হয়েছে বলে মনে হয়) - তার ক্ষতির পরিমান হবে অপরিসীম (শত শত মানুষ ডুবে মারা যাবে)। যেমনটা হয়েছে ঢাকার জলযট - কিছু প্রকৌশলীর অনৈতিক এবং দূর্নীতির ফল ভোগ করছে ঢাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ - নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার শ্রমঘন্টা আর অপচয় হচ্ছে অনেক টাকা।
আশা করছি - বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার স্বার্থে - এই দূর্নীতি আর অনৈতিকতার শিকল ভাংগবে এবং বাংলাদেশকে একটা নিরাপদ দেশে পরিনত করবে। এই ক্ষেত্রে একটা কথা না বললেই নয় - বিদেশী কনসালটেন্ট এনে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না - কারন কনসালটেন্টরা তাদের রিপোর্টে আরেকটা কনসালটেন্সীর জন্যে সুপারিশ করে চলে যায়। এই কাজ বাংলাদেশের মানুষকেই করতে হবে। নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটা বসবাসযোগ্য জনপদ তৈরী জন্যে এই চক্র থেকে বের হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই।

আবদুল আউয়াল
আগস্ট ৬, ২০১৭ at ৫:৪৮ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সরকারী একটা প্রকল্পে আড়াই বছর চাকরি করেছিলাম। প্রকল্পের অর্ধেক টাকাই লুটপাট হয়ে যায়। কর্মকর্তারা বিদেশে প্রশিক্ষণের নামে কিভাবে দুর্নীতি করেন কিছুদিন আগে পত্রিকায় লেখালেখি হয়েছে। এদেশের দুর্নীতির কথা সবাই জানে, সমাধান কি সেটা জানা নেই।
মালয়েশিয়াতে ছিলাম কয়েক বছর। সেখানেও দুর্নীতি হয় কিন্তু তার কুফল জনগনকে তেমন ভোগ করতে হয় না। সেখানে কাজের অভাব নেই, আছে কাজের লোকের অভাব। একবার মাহাথির মোহাম্মদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল একটা দেশ কিভাবে দ্রুত উন্নতি করতে পারে? তিনি বলেছিলেন, শিল্পের মাধ্যমে। দশ শতাংশ জমিতে কৃষির মাধ্যমে যতজন লোকের খাদ্যসংস্থান হবে শিল্পের মাধ্যমে তার পাঁচগুন লোকের খাদ্যসংস্থান হওয়া সম্ভব। মালয়েশিয়া শিল্পপ্রধান দেশ, কলকারখানার বর্জ্যের কারণে সেখানে পরিবেশ দূষণ হয় না, লোকজনও যেখানে সেখানে ময়লা, আবর্জনা ফেলে না।
আমার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা শহরের দক্ষিণে। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ছোট নদী, বর্ষাকালে মাছের অভাব হতো না কিন্তু এখন কোন মাছ নেই। কুমিল্লা ইপিজেডের বর্জ্য এই নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়, পানি খুবই কালো, শীতকালে পানি যখন কম থাকে তখন প্রচন্ড দুর্গন্ধ হয়, নদীর আশ পাশের বাড়ির লোকজনের খুবই অসুবিধা হয়। এসব দেখার কেউ নেই।
রাসূল (সাঃ) মুনাফিককে নেতা নির্বাচন করতে নিষেধ করেছেন। আমাদের প্রয়োজন সৎ দেশপ্রেমিক নেতার।
Atiq
আগস্ট ৭, ২০১৭ at ১২:৩৪ অপরাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
বাংলাদেশে সরকারের সাথে জড়িত সবাই চোর নয় বরং মহা ডাকাত। আর এখন এই সরকারের আমলে শাসক রাজনৈতিক দলের নেতারাই সব চেয়ে বেশি মহাডাকাত- যা আমার এলাকার এমপিকে দেখলেই বুঝতে পারি। বিনা ভোটে এমপি হয়ে যে পরিমান সম্পদ বানিয়েছে তার হিসাব করতে ক্যালকুলেটর হিমশিম খাবে। সারা বাংলাদেশে একই চিত্র। জিয়া ভাইয়ের লেখাই ইদানিং ইন্জিনিয়ারদের দোষারোপ করতে দেখা যাচ্ছে। আর সরকারকে অনেকটা সাধু হিসাবে দেখানোর চেষ্টা চলছে। যেহেতু উনি এই সরকারের- বিশেষ করে হাসিনার অতি ভক্ত- সেই হিসাবে উনার লিখা ঠিক আছে- এমনকি অবাক হবার কিছু নাই। কিন্তু ইন্জিনিয়াররা মুল দোষী- না যারা সরকার চালাচ্ছেন তারা? ইন্জিনিয়াররা পারসেন্টেজ পান সন্দেহ নাই-কিন্তু তাদের জন্যই এ অবস্থা এটা একেবারেই সঠিক নয়।
আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন
আগস্ট ১৩, ২০১৭ at ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
ধন্যবাদ!
জিন্নুরাইন
আগস্ট ২৩, ২০১৭ at ১০:০২ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতি যেভাবে আমাদের সমাজকে ক্ষত বিক্ষত করছে, তাতে সাধারন লোক দিশেহারা, আপনি চাকুরি খুঁজতে যাবেন আওয়ামী লীগের সার্টিফিকেট লাগবে তার উপর মোটা অঙ্কের ঘুষতো আছেই। সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলি কিছু চোর বাটপারের দখলে, ঢাকা ওয়াসায় তাকসিম এ খান নামক এক চোর প্রধানমন্ত্রীর দোহাই দিয়ে আজ প্রায় ১০(দশ) বৎসর যাবৎ এমডি পদে বহাল আছে, কোন নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করে না সে, সরকার দুর্নীতির সুবিধার জন্য নিয়ম বহির্ভূতভাবে একের পর এক তাকে এক্সটেনশন দিয়ে যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও নাকি কোন লাভ হয় না, কারন সে নাকি প্রধানমন্ত্রীর খুব আস্থাভাজন লোক। দেশের সর্বত্রই আজ প্রায় একই অবস্থা, এর প্রধান কারন দেশে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক ও কার্যকর সংসদ ও সরকার নেই।
Hidatherhabib
অক্টোবর ৮, ২০১৭ at ৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ (UTC 6) Link to this comment
সরকারের জবাবদিহীতা?
জনগনের কাছে? তাও আবার বর্তমান বাংলাদেশে?
আপনি পারেনও ভাই!